ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৩২তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-৩২♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

আমি যেনো অনুভূতি শুণ্য হয়ে গিয়েছি। এতোক্ষণে গাল বেয়ে পড়তে থাকা নোনাজল গুলোও শুকিয়ে গিয়েছে। এমন একটা পরিস্থিতিতে আমার ঠিক কেমন আচরণ করা উচিত তা জানা নেই আমার। ভাবতেই শিউরে উঠছি, যে কিছুক্ষণ আগেই আমি কুমারী ছিলাম আর এখন কারো বিবাহিত স্ত্রী! এখন থেকে আমার নামের সামনে মিস নয় মিসেস বসবে। একটা মেয়ের বিয়ে নিয়ে কতো স্বপ্ন থাকে। থাকে কতো কল্পনা জল্পনা! অথচ আমি সেই কল্পনা করবার সময়টুকুও পেলাম না। হায় রে নিয়তি! মানুষকে কোথায় থেকে কোথায় নিয়ে গিয়ে ফেলে তা বলা মুশকিল।

.

আমার সামনে থাকা নিস্তব্ধতায় ঘেরা ব্যক্তিটি মাথা নিচু করে স্রেফ বসেই রয়েছেন। উনাকেও ভাবলেশহীনই লাগছে। নিজের জায়গা থেকে বিন্দুমাত্র নড়ছেন না উনি। ঠাঁয় বসে আছেন একইভাবে।

.

--- কি হয়ে গেলো এটা! কি করবো এখন আমরা? মানলাম এটা এক্সিডেন্ট বাট এটা বিয়ে। কোনো ছেলেখেলা না। এটা কোনো শারীরিক ইঞ্জুরিও না যে অপারেশন করে ঠিক করানো যাবে। জাস্ট ইমাজিন রুশো! এটা বিয়ে.....!

.

--- কিন্তু এরকম ভাবে বিয়ে কি করে মেনে নেওয়া যেতে পারে ব্রো? বাসায় কি বলবো আমরা? যে এক্সিডেন্টলি বিয়ে হয়ে গিয়েছে? মনি কে কি জবাব দেবো? তুমি জানো মনির হাই প্রেশার! এসব শুনলে সামলাতে পারবে না মনি নিজেকে।

.

রুশোর কথার আর কোনো জবাব দিতে পারলো না অগ্নি। সবার মাঝেই পূণরায় নিস্তব্ধতা ছেয়ে গেল।

.

🍂

#Flashback

.

ক্লাস শেষ হয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। আজ ইফতেখার স্যার আসেন নি তাই লাস্ট ক্লাস আর হয়নি। ছেড়ে দিয়েছে ফার্স্ট ইয়ার। কিন্তু সাদা বিলাই তো অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। কি করবো আমি? আজ যা করলেন তাতে উনার সামনে দাঁড়াতেও তো পারবো না। ভিষণ টেনশনে পড়ে গেলাম যেনো। ওরে রাত্রি তোর নাম রাত কে ঘিরে, যা করবি রাতে করবি। জ্বর বাধাবি রাতেই বাধাবি। দিনে কেনো জ্বর বাধলি রে....! এসব বকবক করছি আর নিজের কপাল নিজে চাপড়াচ্ছি। রুশো ভাইয়ার তো আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু সেটা আরোও ৪৫ মিনিট পর। ভাইয়া আংকেলের বিজনেসে জয়েন করেছে। কাজ কর্ম তো কম থাকে না। এতো জলদি আসতে বলতেও ইচ্ছে করছেনা।

হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি এলো রাত্রি! হ্যা রাত্রিই তো। ওর বাড়িতেই নাহয় যাই। আমাদের বাসায় যাওয়ার অনেকটা আগেই পড়ে ওদের বাড়ি। ভার্সিটি থেকে এক কথায় কাছেই। রিকশায় গেলে ও আগে নামে তার খানিক বাদে নামি আমি।

রাত্রির বাসায় গেলে ওকে দেখেও আসা যাবে। সাথে আজকের নোটস ও দিয়ে আসা যাবে। ক্লাস ছুটির সময় নাহয় রুশো ভাইয়ার সাথে চলে যাওয়া যাবে।

সেই ভেবেই ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে রোডে রিকশার অপেক্ষা করতে লাগলাম।

.

আমার অপেক্ষা করার মুহূর্তেই হুট করে কোথা থেকে একটা কালো গাড়ি এসে আমার ঠিক পাশ বরাবর ঘেঁষে দাঁড়ায়। হঠাৎ এমন আকস্মিক ঘটনায় আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি।

এভাবে কারোও সামনে গাড়ির ব্রেক কষে কেউ? আমি রোডের আরো একটু কাছে থাকলে তো লেগে যেতো আমার। ভেতরে কোনো গাধা ড্রাইভার আছে দেখতে গাড়ির গ্লাসে নক করলাম। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে পেছনের গেট খুলে দুজন মুখশ পরিহিত কালো পোষাকে মোড়ানো লোক বের হলো। যাদের দেখে আমার মনে কেমন যেনো একটা ভয় কাজ করতে থাকলো। আমি এক পা ফেলে উল্টো দিকে ঘুরবো তার আগেই তারা আমার মুখের ওপর কিছু একটা দিয়ে স্প্রে করে দিলো। না চাইতেই শ্বাস নিয়ে ফেলায় স্প্রের ইফেক্ট পড়তে শুরু করলো আমার শরীরে। পা দুটো যেনো আসার হয়ে আসছে আমার। শক্তি হারিয়ে ফেলছি ক্রমাগত। সাথে চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করলাম আমি। বুঝতে পারছি আমি ধীরেধীরে জ্ঞান হারাচ্ছি। তবে জ্ঞান সম্পূর্ণ রূপে চলে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে এটুকু বুঝতে পারছি যে তারা আমায় ধরে গাড়ির ভেতরে নিয়ে বসাচ্ছে। তারপর আর কি হয়েছে কিচ্ছু মনে নেই আমার।

.

🌹

.

মাস্টার্স ফাইনাল ইয়ারের ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ নীবিড়ের চোখ যায় বাইরের দিকে। জানালা দিয়ে ফার্স্ট ইয়ারের কিছু স্টুডেন্ট দের দেখতে পেয়ে আবারও ক্লাসে মনোযোগ দেয় নীবিড়। কিছুক্ষণ বাদে হুট করেই তার মনে পড়ে এখন তো ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস চলার কথা। এরা বাইরে কি করছে? এনিহাও ছুটি দিয়ে দেয় নি তো? অনন্যা কোথায় তাহলে? ও কি বাইরে অপেক্ষা করছে?

এসব ভেবেই অগ্নিকে ক্লাস করতে বলে স্যারের পারমিশন নিয়ে বেরিয়ে যায় নীবিড়। ক্যাম্পাসের এদিক ওদিক চোখ বুলিয়েও কোথাও অনন্যাকে দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে সে। তার মানে কি অনন্যা একা বাসায় চলে গেলো?

নীবিড়দের আরোও দুটো ক্লাস বাকি ছিলো। ভেবেছিলো অনন্যাকে এগিয়ে দিয়ে ক্লাসে চলে আসবে কিন্তু তা তো আর হলো না। ভেবেই মুখ কালো করে ফিরে আসছিলো তার আগেই রনি নামের একটা ছেলে দৌড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে তার সামনে থামে।

.

--- ভাই ভাই, অনেক বড়ো ঝামেলা হয়ে গেছে।

.

ঝামেলার কথা শুনেই বুকে অজানা ভয় এসে জমা হলো নীবিড়ের। বিপদের আশংকায় প্রথমেই অনন্যার কথা মাথায় আসে তার। চোখেমুখে অস্থিরতার ছাঁপ ফেলে জিজ্ঞেস করে সে,

.

--- কি বলছিস? কিসের ঝামেলা!

.

ছেলেটা আরোও একটু দম নিয়ে এক নাগারে বলতে শুরু করে,

--- আমি বাইরে নোটের কয়েকটা কপি আনাইতে গিয়েছিলাম। তখন দূর থেকে দেখি অনন্যা ভাবী রোডের সাইডে দাঁড়িয়ে আছে। তখন হুট করেই একটা কালো গাড়ি থেকে দুজন নেমে আপুকে অজ্ঞান করে ধরে নিয়ে চলে গেছে। আমি দৌড়ে আটকানোর জন্য গিয়েছিলাম কিন্তু তার আগেই ওরা ভাবীকে নিয়ে চলে গেছে। ওই যে পূর্ব দিকের রোড দিয়ে গেছে ওরা।

.

নীবিড় আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না। হন্তদন্ত হয়ে ছুট লাগালো গ্যারেজের দিকে। ছুটতে ছুটতেই ছেলেটিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

--- অগ্নিকে বলে লোকেশন ট্রাক করে পুরো গ্যাং নিয়ে আয়। জলদি...!

.

বলেই অদৃশ্য হয়ে গেলো নীবিড়। অনন্যার ফোনের লোকেশন ট্রাক করে বাইক নিয়ে ছুট লাগালো সেই পথে। ওদিকে অগ্নিদের ক্লাসে স্যার থাকায় রনি বলতেও পারছেনা৷ স্যার খানিক বাদে বেড়িয়ে যাওয়া মাত্রই রনি ক্লাসে ঢুকে অগ্নিকে সবটা খুলে বলে। সবটা শুনে অগ্নির পায়ের তলা থেকে যেনো মাটি সরে যায়। তাড়াহুড়ো করে ওদের ১৫ জনের পুরো গ্যাং নিয়ে ক্লাস থেকে বেড়িয়ে পরে অগ্নিরা।

গেট থেকে বের হবে সেই সময় রুশোর গাড়ি এসে থামে অগ্নির সামনে। অগ্নিকে দেখে রুশো মুখে হাসির রেশ টেনে বের হয়ে কিছু বলবে তার আগেই অগ্নির সাথে থাকা 3 জন ছেলে অগ্নির ইশারায় এসে রুশোর গাড়িতে বসে পড়ে। অগ্নি শুধু রুশোকে এটুকু বলে "অনু ইজ ইন ডেঞ্জার রুশো!" বলেই বাইক স্টার্ট দিয়ে "ফলো মি" বলে ছুট লাগায়। অগ্নির পেছনে ছুট লাগায় আরোও ৫ টা বাইক সাথে রুশোর গাড়িও।

.

🌸

.

নীবিড় ফুল স্পিডে বাইক চালিয়ে পৌঁছে যায় অনন্যার ফোনের লোকেশন অনুযায়ী জায়গাটায়। জায়গাটা শহর থেকে একটু দূরে এবং ভেতরে। সারি সারি টিন সেট এর বাড়ি। অদ্ভুত রকম ভাবে সবগুলো বাড়িই একই রকম। নীবিড় খুবই সাবধানে প্রায় প্রত্যেকটি বাড়ি সার্চ করা শুরু করে দিলো কিন্তু কোনো বাড়িতেই অনন্যাকে পেলো না। আর মাত্র দুটো বাড়ি বাকি। এই দুটোই শেষ আশা। যেকোনো একটায় অনন্যাকে পাবেই বলে নীবিড়ের দৃঢ় বিশ্বাস।

.

--- পি..প্লিজ...আমার কাছে আসবেন না। কে আপনারা? কেনো এনেছেন আমায় এখানে? প্লিজ আমায় যেতে দিন। বাসায় আম্মু আব্বু টেনশন করছে।

.

আমার কাকুতিমিনতি শুনে ভিলেনের মতো হাসতে থাকে দুজন মুখশ পরিহিত মানব। এর মধ্যে একজন অপরজনকে বাইরে গিয়ে পাহারা দিতে ইশারা করায় লোকটি বাইরে বেড়িয়ে যায়। যে ইশারা করেছিলো সে দরজার কাছে গিয়ে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দেয়। যার ফলে ভয়টা আরোও তীব্র ভাবে গ্রাস করতে থাকে আমায়।

এতোক্ষণ আমি জ্ঞানহীন ছিলাম। তাই মাথাটা কেমন যেনো ঝিমঝিম করছে।

জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে এই আধাপাকা ঘরে আবিষ্কার করলাম। হয়তো লোক দুটো আমার জ্ঞান ফেরারই অপেক্ষা করছিলো বলে এতোক্ষণ কিছুই করে নি। কিন্তু এখন তো জ্ঞান ফিরেছে আমার। কি করবে এই লোকটা আমার সাথে? আমি তো শক্তিতে পারবো না।

লোকটা আমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে নিজের মুখশ এক টান মেরে খুলে ফেলে দিলো। যা দেখে আমার চোখ নিমিষেই বড়বড় হয়ে গেলো। কারণ ইনি আর কেউ নন, ইনি তো সেই সিফাত নামের ছেলেটা। যে আজ সকালে আমার থেকে ক্ষমা পাবার জন্য পায়ে পড়তে পর্যন্ত প্রস্তুত ছিলো সেই কি না আমায় কিডন্যাপ করলো?

.

--- আপনি...!

--- হুম আমি! কেনো চিনতে পারছো না জানেমান? সমস্যা নেই। বিয়েটা হয়ে যাক তারপর ঠিকই চিনতে পারবে।

--- মা..মা...মানে? কিসব বলছেন আপনি কার বিয়ে? কিসের বিয়ে?

--- ওহ বুঝতে পারছো না সোনা? ওয়েট বুঝাচ্ছি৷ জাস্ট ৫ মিনিট ওয়েট করো এরপর তুমি আমার বউ হবে আর বউ হলে তারপর কি হবে এটা তো জানো?

বাসর করবো আমরা দুজনে মিলে। উফফফ আমার তো আর তরই সইছে না। (জ্বিব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে)

.

ছেলেটার কথায় ঘিনঘিন করে উঠলো আমার পুরো শরীর! ছিঃ মানুষ এতোটাও খারাপ হয়? নাহ! প্রাণ থাকতে আমি কিছুতেই এই শয়তানকে বিয়ে করবো না। তাই ঝাঁঝালো কন্ঠে চিৎকার করে বলে উঠলাম,

.

--- তুই যা ইচ্ছা কর প্রাণ থাকতে আমি তোর মতো কাপুরুষ কে বিয়ে করবো না।

.

ছেলেটার যেনো তাতে কোনো রিয়াকশই হলো না। ৩২ পাটি দাঁত বের করে হাসতে হাসতে এসে আমার ওড়নাটা এক টান মেরে ফেলে দিলো। আমি সাথেসাথেই দু হাত দিয়ে নিজেকে ঢাকার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলাম। ছেলেটা আবারও আমার গায়ে টাচ করার জন্য হাত বাড়ানো মাত্রই বিকট এক শব্দে কাঠের দরজাটা ভেঙ্গে আমাদের সামনে পড়ে গেলো। দরজার সাথে সাথে রক্তেমাখা মুখশধারী মানুষটাও ছিটকে পড়ে গেল।

মাথা উঁচু করে ভাঙ্গা দরজার ফাঁকে যাকে দেখতে পেলাম তাকে দেখেই আমার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো।

.

নীবিড় ভাইয়া হাতের মুঠো শক্ত করে চেপে ধরে অগ্নিদৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছেন সিফাতের দিকে। কপালের রগগুলো ফুলে উঠেছে উনার। শার্টের সবকটা বোতাম খোলা। ভেতরে হোয়াই কালারের একটা টি-শার্ট পড়া। সিল্কি চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। তাতেও যেনো অদ্ভুত রকমের ভয়ংকর সুন্দর লাগছে উনাকে।

নীবিড় ভাইয়াকে এই মুহূর্তে এখানে দেখে চোখ বেড়িয়ে আসার উপক্রম সিফাতের। তার এখন একমাত্র ধান্দা এখান থেকে পালানোর কিন্তু সে তো জানে সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়ের থেকে পালানো শুধু মুশকিলই নয় অসম্ভব ও।

.

নীবিড় ভাইয়া চোখমুখ শক্ত করে ঘরে ঢুকেই সিফাতের বুক বরাবর লাথি মেরে তাকে খাটের ওপর ফেলে দিলো। সাথেসাথে মড়মড় করে খাটটা ভেঙ্গে গেলো। সিফাত ব্যথায় এক প্রকান্ড চিৎকার করে উঠলো।

নীবিড় ভাইয়ার চোখে মনে হচ্ছে দপদপ করে আগুন জ্বলছে। উনি খাট থেকে সিফাতকে তুলে আবারও এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে দিলেন। মারতে মারতে রক্তাক্ত করে দিলেন ছেলেটিকে। এদিকে এসব মারামারি দেখে আবারোও মাথায় চিনচিনে ব্যথা অনুভব হলো আমার। আমি দুহাতে কান চেপে ধরে চিৎকার করে বলে উঠলাম,

.

--- থামুন প্লিজ! আমি সহ্য করতে পারছিনা আর!

.

নীবিড় ভাইয়া আমার কথায় থেমে গিয়ে সিফাত কে ছেড়ে আমার কাছে এসে নিজের শার্ট খুলে আমার গায়ে জড়িয়ে দেন। দিয়েই শক্ত করে চেপে ধরেন নিজের বুকে।

উনার হৃদস্পন্দন এতোটাই তীব্র যে আমি তা স্পষ্ট অনুভব করতে পারছি। উনি আমায় নিজের বুকে জড়িয়েই কাঁপাকাঁপা গলায় বলতে শুরু করেন,

.

--- ঠিক আছো তুমি? কোথাও আঘাত পাও নি তো? জানো আমি কতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।

.

বলেই আমায় ছেড়ে দিয়ে আমার পুরো মুখ ভরিয়ে দিতে থাকেন নিজের ঠোঁটের ছোট্ট ছোট্ট ছোঁয়ায়!

কিন্তু অদ্ভুত ভাবে আমার খারাপ লাগছেনা। উনার ছোঁয়া গুলোয় প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছি আমি। নিজেকে সব থেকে বেশি সুরক্ষিত লাগছে উনার বাহুডোরে আবদ্ধ হয়ে। এবার আমি নিজেও উনাকে জড়িয়ে ধরলাম। আর উনি আমার কপালে নিজের ঠোঁট বুলাতে লাগলেন।

.

নীবিড় ভাইয়ার আমার প্রতি মনোযোগ দিয়ে দেওয়ায় ছেলেদুটো খোঁড়াতে খোঁড়াতে পালিয়ে যায় ঘর থেকে। তার কিছুক্ষণ পড়ই একদল লোক হুড়মুড় করে প্রবেশ করে আমাদের অবস্থানরত ঘরে। এসেই আজেবাজে মন্তব্য শুরু করতে থাকেন তারা।

.

--- ছিঃ ছিঃ আমাগো মহল্লায় এমন নষ্টামি করো? সাহস হয় কেমনে তোমাগো? এদের মান সম্মান কিছুই নাই নাকি।

.

--- ঠিক কইছেন। বড়লোকেরা গরিবদের ঘরে আইসা এইসবই করে। কিন্তু এগুলো তো হইতে দেওয়ন যাইবোনা।

.

--- একদম তাই। বিয়ে দিয়ে দেও ওগো! এই মিয়া কাজিরে ডাকেন তাড়াতাড়ি!

.

লোকগুলোর কথায় আমার মুখ থেকে কোনো কথাই বের হচ্ছেনা। নিজেকে কেমন রোবট রোবট লাগছে আমার। কোনো এক ধাঁধায় হাড়িয়ে গিয়েছি যেনো। শুধু চোখ থেকে নিঃশব্দে নোনাজল গুলো গড়িয়ে পড়ছে আমার। নীবিড় ভাইয়া উনাদের বোঝানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছেন কিন্তু কিছুইতেই তারা বুঝতে চাইছেনা। উনাদের কথা কাটাকাটির মাঝেই ঘরে প্রবেশ করে লম্বা পাঞ্জাবি আর টুপি পরিহিত এক দাড়িওয়ালা লোক। উনাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে উনি কোনো হুজুর নয়তো কাজী। সবার জোড়াজুড়িতে শেষমেশ বিয়ে করতে বাধ্যহয়ে পড়লাম আমরা। নাহলে এখান থেকে যেতে দেবেন না কেউ এটা স্পষ্ট। সাথে বাইরে ভূয়া খবরও ছড়াতে পারেন তারা।

.

মুখ ফুটে শুধু কবুলই উচ্চারণ করেছি আমি। তারপর আবারোও নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছি। মাথা কাজ করছে না আমার। নীবিড় ভাইয়া রেগেমেগেই কবুল বলে হুট করেই একদম শান্ত হয়ে পড়লেন। চেয়ারে বসে মাথা নিচু করে থম মেরে রইলেন উনি।

তখনও লোকগুলো আজেবাজে কথা বলায় ব্যস্ত।

এমন সময় হুড়মুড় করে প্রবেশ করে অগ্নি ভাইয়া, রুশো ভাইয়া সাথে আরোও অনেকগুলোন ছেলে। আমি হিসেব করিনি তবে ১০-১৫ জনের মতো হবে নির্ঘাত।

.

--- অনন্যা! নীবিড়.........! তোরা ঠিক আছিস? (হন্তদন্ত হয়ে বললো অগ্নি)

.

গ্রামের লোকগুলোনের মধ্যে একজন জিজ্ঞেস করে উঠলেন,

--- আপনে কিডা! হেই ছ্যামড়া ছেমরী কি আপনাগো কিছু হয়?

.

--- হয় না মানে? শি ইজ আওয়ার সিসটার! আমাদের বোন হয়। আর ওই ছেলেটা আমাদের বড় ভাই। ছুটকিকে কিডন্যাপ করে এনেছিলো কেউ। ওকেই বাঁচাতে এসেছে ব্রো! সাথে আমরাও।

.

রুশো ভাইয়ার কথায় ভরকে গেলো লোকগুলো। তারপর আমাদের এখানে একলা পাওয়া থেকে শুরু করে বিয়ে দেওয়া পর্যন্ত সব বললো ভাইয়াদের উনারা। সবকিছু শুনে ধপ করে বসে পড়লো ভাইয়া। রুশো ভাইয়া মাথা চেপে ধরে বসে পড়লো ভাইয়ার পাশে। পেছনে থাকা ছেলেগুলো ইচ্ছে মতো কথা শুনিয়ে যেতে লাগলো গ্রামের লোকগুলোকে। উনারা এখন শুধু মাথা নিচু করে রয়েছেন। এতোক্ষণ ধরে আজেবাজে বলা লোকগুলোও অপরাধীর বেশে দাড়িয়ে আছেন শুধুই।

.

--- আপনারা প্লিজ যান এখান থেকে। আর আসিফ তোরাও চলে যা। আমাদের একা ছেড়ে দে। অনু এখন সেইফ!

.

--- কিন্তু ভাই......

.

--- কোনো কিন্তু না আর। যা তোরা প্লিজ। আর আপনারাও চলে যান। যা সর্বনাশ করার তা তো করেই ফেলেছেন এখন আর কি করবেন? যান এখান থেকে।

.

ভাইয়ার কথার পরিপ্রেক্ষিতে আর কেউ কিছু বললো না। চুপচাপ মাথা নিচু করে বেড়িয়ে গেলো সবাই।

.

#Flashback_Ends.....🍁

.

--- ব্রো আমার মনে হয় ওদের দুজনকে একটু নিজেরদের মধ্যে কথা বলতে দেওয়া উচিত। ওরা যদি মানিয়ে নিতে পারে তাহলে........

.

রুশো ভাইয়ার কথা কেড়ে নিয়ে অগ্নি ভাইয়া বলে উঠলো,

--- ঠিক বলেছিস। হয়তো আমরা সবটা গোপনে রাখবো তবে ওদের নিজেদের মাঝে কিছু বোঝাপড়া করে নেওয়া দরকার।

.

বলেই নীবিড় ভাইয়ার কাঁধে হাত রেখে অগ্নি ভাইয়া রুশো ভাইয়াকে নিয়ে বেড়িয়ে গেলো।

নীবিড় ভাইয়া ধীর পায়ে আমার সামনে এসে হাটু গেড়ে বসে পড়লেন। আমার ডান হাত নিজের মুঠোয় আঁকড়ে ধরে নিঃশব্দে ঠোঁট বুলাতে লেগে পড়লেন! কিন্তু আমি তখনও ভাবলেশহীন।

.

.

.

চলবে............................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন