ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৩১তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-৩১♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🍂

.

-- ভাইইইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া...........!😱

.

নিত্যর এক চিল্লানিতে ধড়ফড়িয়ে উঠে নীবিড়। হঠাৎ এমন চিৎকারের কোনো মানে না খুঁজে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে বলে ওঠে সে,

.

-- এই মেয়ে চেঁচাচ্ছিস কেনো? উফফফ আমার কানটা গেল.....! (কান চেপে ধরে)

.

নিত্য নীবিড়ের গলার লিপস্টিকের দাগটা খুব সূক্ষ্ম ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে করতে বলে উঠলো,

-- চেঁচাচ্ছি কি আর সাধে? তলে তলে এতোকিছু করে বেড়োচ্ছিস আর আমরা কিচ্ছু জানলাম না? আর আমরা লুকানো মাত্রই বকে দিলি?

.

নীবিড় নিত্য কথার কোনো আগা-মাথাই বুঝে উঠতে পারছে না। বোকার মতো চেয়ে রয়েছে সে। অনেক চেষ্টা করেও যখন কিছুই বুঝতে পারলো না, তখন আবারও ধমকে উঠলো নীবিড়,

.

-- নিত্য কি আজেবাজে বকছিস বলতো? অগ্নির প্রেমে পড়ে পুরো মাথাটাই গিয়েছে তোর নাকি?

.

নিত্য মুখ ফুলিয়ে আঙুলের ইশারায় নীবিড়ের গলায় দেখিয়ে বলে উঠলো,

-- কার মাথা গেছে আর কার আছে তা আয়নায় গিয়ে দেখে নে।

.

এবার নীবিড় কিছুটা ভরকে যায়। গলায় আবার কি হলো যাতে নিত্য এসব বলছে তা দেখতে বসা থেকে উঠে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো নীবিড়। আয়নার খুব কাছে গিয়ে গলার দিকে ভ্রু উঁচু করে তাকাতেই জোড়ে জোড়ে কাশতে লাগলো সে।

নীবিড়কে এভাবে কাশতে দেখে নিত্য কোমড়ে হাত দিয়ে ডিডেকটিভদের মতো প্রশ্ন করতে লাগলো,

.

--- কিইই মি. সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়? কবে থেকে চলছে এসব হুম...? আড়ালে আড়ালে এতোকিছু? কিসমিস পর্যন্ত চলে গিয়েছেন! বাহ!

.

নিত্যর কথায় চোখ বড়বড় করে তাকায় নীবিড়। অনেকটা থতমত খেয়ে আমতাআমতা করে বলে ওঠে,

-- দেখ নিত্য! তুই যা ভাবছিস আসলে তা না! লেট মি এক্সপ্লেইন!

.

-- রাখ তোর এক্সপ্লেইন! আগে বল ভাবী কে?

.

নীবিড়ের এবার রাগ উঠে গেলো৷ ওকে কিছু বলার সুযোগটাই যে দিচ্ছে না নিত্য।

তাই আগের ফ্লেবারে কনভার্ট হয়ে আবারও ধমকে উঠলো,

.

-- ওই থাপ্পড় চিনিস? এক থাপ্পড়ে সব কটা দাঁত ফেলায় দিবো। যেটা জানিস না সেটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করিস না! এটা জাস্ট একটা এক্সিডেন্ট। নাথিং এলস। তখন অন্যনার সাথে ধাক্কা লেগে হয়ে গিয়েছিলো...আরকি!

.

নিত্য এবার আসল ব্যাপারটা বুঝে আনমনেই বলে উঠলো,

-- আহা! কি রোমান্টিক এক্সিডেন্ট।

.

নীবিড় এবার রেগেমেগে বোম্ব হয়ে "তবে রে" বলে উঠতে নিলেই নিত্য ঝড়ের বেগে পালিয়ে নিমিষেই হাওয়া হয়ে গেল।

নীবিড় নিত্যর পালানো দেখে হাসতে হাসতে আবারও আয়ানার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। অনন্যার লিপস্টিক লেগে থাকা জায়গায় আলতো করে হাত বুলিয়ে, সেই হাতটা নিজের ঠোঁটে ছুঁইয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে উঠলো!

.

🍁

.

ক্যাম্পাসে বটগাছটার নিচে গাল ফুলিয়ে বসে আছি আমি। সকাল বেলা রাত্রি নিজের বাড়িতে গিয়ে কিছুক্ষণ বাদেই ফোন করে জানায় তার নাকি জ্বর এসে গেছে। অবশ্য তা অস্বাভাবিক কিছুই না। এতোক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর বাধানো টা নিতান্তই স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যাটা তো হচ্ছে আমার। এভাবে একা একা কি করবো আমি? ভীষণ বোরিং লাগছে আমার।

আর কিছু করারও তো নেই ভেবেই পাশে থাকা চিপসের প্যাকেট খুলে আনমনেই আস্তে আস্তে চিপস চিবুতে লাগলাম।

.

আমার খাওয়ার মাঝে আজ আবারও বাঁধ সাজলো সেই সিফাত নামের ছেলেটি! মেজাজটা নিমিষেই আরোও বিগড়ে গেল আমার। মুখে থাকা চিপসটা চিবিয়ে খেয়ে পানির পট থেকে পানি খেয়ে নিলাম। উদ্দেশ্য শুকনো গলায় ঝাড়ি মারলে ঝাড়িটাও শুকনো শুকনো নিঃষ্প্রাণ বলে মনে হবে।

তাই গলা ভিজিয়ে নিয়ে মুখটা গম্ভীর করে বলে উঠলাম,

.

-- কি চাই?

.

-- আপনাকে..!

.

-- হোয়াট???

.

--- না মানে আপু, আপনাকে সেদিনের জন্য সরি বলতে এসেছিলাম। আসলে ভাইকে দেখে সেদিন ভয়ে মিথ্যে বলে ফেলেছিলাম। মাফ করে দিয়েন আপু। সরি এগেইন।

.

ভেবেছিলাম ভাব নিয়ে দু-চারটে ধমক দিয়ে ছেড়ে দেবো। কিন্তু বেচারার অসহায় ফেইস দেখে ধমকটা পেট থেকে মুখে আসার পূর্বেই ভ্যানিশ হয়ে গেল। আম্মু সবসময় বলতো কেউ কোনো ভুল করে যদি ক্ষমা চায় তবে তাকে মাফ করে দেওয়া উচিত। আম্মুর সেখানো গুণে গুণান্বিত হয়ে আমিও মাফ করে দেবো ভেবে নিলাম। তবে একটু ভাব তো নেওয়াই যায়।

ভেবেই পায়ের ওপর পা উঠিয়ে ড্যাশিং মুড নিয়ে বলে উঠলাম,

.

--- ঠিক আছে ঠিক আছে। মাফ করে দিলাম যান। নেক্সট টাইম আর যেনো এমন ভুল না হয়।

.

নিমিষেই ছেলেটির চোখ খুশিতে চিকচিক করে উঠলো।

"আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ!" বলেই লাফাতে লাফাতে চলে গেলো সিফাত।

বুঝলাম না এতো খুশি হওয়ার কি আছে! কে জানে বাবা!

ছেলেটির কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আবারও চিপস খাওয়ায় মনোযোগ দিলাম!

.

হুট করে কেউ ঝড়ের গতিতে এসে পাশে বসে যাওয়ায় হকচকিয়ে উঠলাম আমি। ভয়ে এক লাফ মেরে উঠে যেতে নিলেই আমার চোখ যায় হুট করে আসা আগুন্তকের দিকে। উনাকে দেখেই আবারও আমার বুকের ভেতর কেউ ড্রাম বাজাতে শুরু করে দিলো যেনো। কেমন যেনো ধুকপুক ধুকপুক করে উঠছে বুকের বাম পাশটা।

ভয়টা আরোও বেরে গেলো যখন কালকের ঘটনা মনে পড়লো, আচ্ছা উনি আদৌ খেয়াল করেছিলেন? নাকি না দেখেই শাওয়ার নিয়ে ফেলেছেন!

.

আমি যখন আনমনেই এসব কথা ভাবতে ব্যস্ত উনি তার মধ্যে বেশ কয়েকবার ডেকেছেন আমায়। তবে আমার ধ্যান অন্য দিকে থাকায় উনার কোনো ডাকই কান পর্যন্ত পৌঁছায় নি আমার। আমি ভাবনার জগতে ভাসতে ভাসতে হঠাৎ অনুভব করলাম কেউ আমার হাত চেপে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সাথেসাথেই হুশ ফিরে পেলাম আমি। নীবিড় ভাইয়া আমাকে টানতে টানতে একটা ফাঁকা রুমে নিয়ে গেলেন। আমি হাত ছাড়ানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারলাম না। উনি আমায় রুমের মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়ে গিয়ে দরজা আটকে দিলেন।

.

এদিকে আমার বুকের সিস্টোল-ডায়াস্টোল রেট বেড়েই চলেছে। উনি আমার কাছে এসে দুদিকের চুল কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে ভালো করে আমার কান দেখে নিলেন। আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছিনা। হঠাৎ কান দেখতে ব্যস্ত কেনো হলেন উনি?

উনি এবার আমার থেকে কিছুটা ডিস্টান্স বজায় রেখে বলে উঠলেন,

.

--- আহহা! কানে তো তুলো গুঁজা নেই। তাহলে আমার ডাক শুনতে পেলে না কেনো হুম?

.

উনার এতো শীতল কন্ঠ আমার ঠিক সুবিধের ঠেঁকছে না। উনার রাগী গলা শুনেই আমি অভ্যস্ত। হুট হাট উনার এমন পাল্টি খাওয়া আমি ঠিক মেনে নিতে পারিনা। উনার পাল্টি খাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমার ঠিক কি রিয়াকশন দেওয়া উচিত তাও আমি বুঝতে পারিনা।

.

উনি আমার নীরবতা দেখে আস্তে আস্তে আমার কাছে এগোতে লাগলেন। উনার আমার দিকে আগানো দেখে আমি ভয়ে ঢোক গিলতে গিলতে পেছাতে লাগলাম। একসময় পেছাতে পেছাতে আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলো। সাথে আমি আরোও একরাশ ভয়ে আঁতকে উঠলাম।

উনি আমার একদম কাছে এসে দুহাতে কোমড় জড়িয়ে উনার কাছে টেনে নিলেন। আমি ভয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম। আমার শ্বাসঃপ্রশ্বাস আরোও দ্রুত চলতে লাগলো। উনি আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে ধীর কন্ঠে বলে উঠলেন,

.

--- এখন ভয় পাচ্ছো কেনো হুম? আমাকে পোড়ানোর আগে ভয় করে নি তোমার?

.

উনার কথার কোনো অর্থ খুঁজে পেলাম না আমি। বোকার মতো চেয়ে রইলাম শুধু উনার দিকে, যার অর্থ "কি বলছেন এসব! আমি তো বুঝতে পারছিনা!" উনি আমার জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দেখে মুচকি হেসে ফুউউ দিয়ে আমার কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিলেন। সাথেসাথেই কেঁপে উঠলাম আমি। উনার শার্টের কলার খাঁমচে ধরে চোখ বন্ধ করে নিলাম।

উনি আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে আরোও কাছে টেনে নিলেন নিজের। উনার ঘনঘন নিঃশ্বাস সোজা এসে পড়ছে আমার কপালে। এদিকে আমি ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছি।

.

উনি কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে আমার গলায় চেয়ে থেকে হুট করেই আলতো করে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ালেন। সাথে-সাথেই চোখ বড়বড় হয়ে গেলো আমার।

আমার গলায় ঠোঁট ছুঁইয়েই আমাকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান উনি। পকেটে দুহাত গুঁজে ভাবলেশহীন ভাবে বলে উঠেন,

.

- শোধবোধ!

যাই হোক। ক্লাস শেষ হলে অপেক্ষা করো।

.

বলেই দরজা খুলে শিটি বাজাতে বাজাতে চলে গেলেন নিজ গন্তব্যে। আর এদিকে আমি হ্যাবলার মতো চেয়ে রইলাম উনার যাওয়ার দিকে। উনার ভাবখানা এমন যেনো এতোক্ষণ যা যা ঘটে গেলো তার কিছুই ঘটে নি।কিচ্ছুটি না।

.

.

.

চলবে....................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন