ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৪১তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-৪১♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

---- এটা একটা পুকুর? লাইক সিরিয়াসলি!

.

রুশোর প্রশ্নে মামুন হাল্কা হেসে বলে উঠলো,

---- এটা পুকুরও না আবার দীঘিও না। আবার যদি পুকুর বলো তো পুকুর অথবা দীঘি বলো তো দীঘি।

.

নীবিড় কপাল কুঁচকে ঠোঁটের এক সাইডে কামড়ে ধরে জিজ্ঞেস করলো,

---- পুকুরও না আবার দীঘিও না। তবে কি এর মাঝামাঝি কিছু?

.

---- হুম ঠিক তাই! কেউ বলে দীঘি তো কেউ বলে পুকুর। এক কথায় ছোট দীঘিও বলতে পারেন। একসময় আরোও বড় ছিলো দীঘিটা তবে এর পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করে ঘর-বাড়ী তোলায় আকারে বেশ খানিকটা ছোট হয়ে গিয়েছে। ওদিকটায় দেখো! একটা ডিঙি নৌকো বাঁধা। বর্ষায় দীঘি ভরে উঠলে ছেলেপেলেরা নৌকো অথবা ভ্যালা বানিয়ে এপার থেকে ওপারে ঘুরে বেড়ায়।

.

---- সত্যিই মনোমুগ্ধকর! আচ্ছা এখানে আসার পথে আরো কয়েকটা ছোট ছোট পুকুর দেখলাম। ওগুলো ছেড়ে এখানে গোসল করতে আসো কেনো?

.

---- ওহ হ্যাঁ! তোমাদের বলা হয় নি।

ওগুলোতে আসলে মাছ চাষ করা হয়। আর তাছাড়া পুকুরের পানি ভীষণ ঘোলাটে ধরনের হয়। এখানকার পানি অনেক স্বচ্ছ!

আমাদের আদমদিঘী উপজেলার প্রধান উৎসই হলো মৎস ব্যবসা। এখানে রেনু পোনা বিক্রয়ের জন্য নামকরা। এখানে সব মিলে ৭-৮ টা মৎস খামার আছে। আর পুকুরগুলো মৎস ব্যবসায়ীদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানেই থাকে। সেখান থেকে ডিম ওয়ালা মাছ ধরে কৃত্রিম উপায়ে বিভিন্ন মাছের রেনু পোনা উৎপাদন করা হয়।

একটু থেমে মামুন আবারও বলতে শুরু করলো,

---- এখানকার প্রায় ৭৫% মানুষই মাছের ব্যবসার সাথে সংযুক্ত। এমন কি আমরাও।

আর বাকি ২৫% মানুষ কৃষি কাজ, চাকুরী অথবা অন্যান্য পেশায় নিযুক্ত।

.

অগ্নি চিন্তিত হয়ে বলে উঠলো,

---- সবি বুঝলাম তবে দিদুন এমন একটা পদ্ধতি চালু করলো কেনো যে ছেলেরা এখানে এসে গোসল করবে, আর মেয়েরা বাড়ির বাথরুমে?

.

মামুন হাসলো। আবারও মুচকি হেসে বলে উঠলো,

---- আগে থেকেই এমন পদ্ধতি চালু ছিলো। কিন্তু তোমরা তো দাদুবাড়ি বেশি আসোই নি। বছর খানিক পরপর এসেছো তাও দু-তিন দিনের জন্য।

তাছাড়া আগে বাড়িতে মেয়েদের জনসংখ্যা কম ছিলো। তাই তোমরা এলে বাড়ির বাথরুমই ব্যবহার করতে দিতো। অবশ্য চাচা-চাচি আসে বছরে ২ বার করে। তোমরা তো আবার নানুবাড়ি বলতে পাগল৷ নওগাঁ আমাদের পার্শ্ববর্তী জেলা হবার পরও বগুড়া আসতে চাওনা তোমরা। এইতো মাত্র দু ঘন্টার রাস্তা, সান্তাহার এর পরেই নওগাঁ!

.

অগ্নি মুখটা মলিন করে বললো,

---- আসলে ছোটবেলা থেকেই নানুবাড়িতে বেশি থাকা হয়েছে তাই আর এদিকটায় বেশি আসা হয়নি।

.

হঠাৎ ওদের কথা বলার মাঝেই নীবিড় খেয়াল করলো পাশে রুশো নেই।

---- আরে রুশো গেলো কই?

.

নীবিড়ের কথায় অগ্নি আর মামুনও ঘাড় ঘুরিয়ে রুশোকে খুঁজতে লাগলো। নীবিড় পেছন ফিরে তাকাতেই দেখলো রুশো ওদের থেকে অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

.

---- হেই ড্রিমার ওখানে কি করছো? বিকেল গড়িয়ে পড়ছে তো। কাম ফাস্ট।

.

নীবিড়ের ডাক সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে রুশো আরো দুধাপ পিছিয়ে কাঁপাকাঁপা গলায় বললো,

---- নো নো নো.....! আ...আমি ওই পুচকু হোক আর বড় হোক। কোনো দীঘি ফিগি তে গোসল করতে পারবো না। তোমরা করো আমি গেলাম বাবা!

.

বলেই রুশো উল্টো দিকে ঘুরে পালাতে উদ্যত হওয়া মাত্রই অগ্নি নীবিড়কে ইশারায় "ধর ওটাকে!" বলেই দৌড় লাগালো সাথে নীবিড়ও ছুটলো রুশোকে ধরে আনতে। এদিকে মামুন হাতে তিনটে গামছা ধরে বোকার মতো চেয়ে রইলো ওদের ছোটাছুটির দিকে।

.

অগ্নি দৌড়ে গিয়ে রুশোর শার্টের কলার পেছন থেকে ধরে ফেলায় রুশো আর এগোতে পারলো না। কিন্তু তার দৌড়ানো এখনোও চালুই রয়েছে। দৌড়ানো সত্ত্বেও এগোতে না পারায় রুশো বিস্ময়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই দাঁত কেলিয়ে ভ্রু নাচানো অগ্নিকে দেখে খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো।

.

---- কোথায় পালাচ্ছিস? গোসল না করে গেলে দিদুন বাড়িতে ঢুকতে দেবে না ভুলে যাস না।

.

রুশো ঠোঁট উল্টে কপাল কুঁচকে করুন চোখে বলে উঠলো,

---- ব্রো প্লিজ! আমি পারবোনা। কোথায় সুইমিংপুল আর কোথায় এই মিনি দীঘি না পিগি! এটা মিনি হলে বিগার কেমন হবে ভাবলেই ভয় করছে আমার। আমি ডুবে যাবো ব্রো, ডুবে যাবো আমি।

.

নীবিড় এসে রুশোর কাঁধে হাত রেখে বললো,

---- আরে কিচ্ছু হবে না। আমরা আছি তো।

.

অগ্নি বুঝলো রুশোকে কিছু বলে কোনো লাভ হবে না তাই চোখের ইশারায় নীবিড়কে রুশোর বাম দিক ধরে উঠাতে বললো৷ নীবিড় চোখের পলক ঝাপটিয়ে সম্মতি জানিয়ে রুশোর বা হাত ধরলো। এদিকে অগ্নি রুশোর ডান দিকে ধরে দুজনে মিলে ওকে শূন্যে তুলে এগোতে লাগলো।

.

----- হেই ব্রোস প্লিজ লিভ মি! আ...আমি মরে যাবো! আমার স্টোরি গুলো ইনকামপ্লিট থেকে যাবে, আমার বউ বিয়ের আগেই বিধবা হয়ে বসে থাকবে, আমার বেবি আর্থে আসার আগেই পাপ্পাকে হারাবে।

.

---- শাট আপ রুশো! সামান্য দীঘিতে গোসল করলে কেউ মরে যায় না। ডাফার।

.

অগ্নি রুশোকে ধমকাতে ধমকাতে আনতে লাগলো কিন্তু রুশো অগ্নির একটা কথাও কানে নিচ্ছেনা। বাচ্চাদের মতো হাত-পা ছোটাছুটি করেই যাচ্ছে।

.

নীবিড় আর অগ্নি মিলে রুশোকে বহুকষ্টে দীঘির পাড়ে নিয়ে এসে থামলো, তবে এখনো ছেড়ে দেয় নি ওকে৷ শূণ্যে ভাসিয়েই রেখেছে।

অগ্নি দীঘির পানে চেয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নীবিড় কে ইশারা করে কিছু একটা বলতেই নীবিড় ঠোঁট কামড়িয়ে একটু চিন্তা করে সম্মতি জানালো।

.

---- থ্রি.....! (অগ্নি)

---- টু.....! (নীবিড়)

---- ওয়ান........! (দুজনে একসাথে)

.

বলেই দুজনে একসাথে রুশোকে দীঘির পানিতে ছুড়ে ফেলে দিলো।

"ইয়ায়ায়ায়া আমি মরে গেলাম!" বলে চেঁচিয়ে ঝপাৎ করে পানিতে গিয়ে পড়লো রুশো৷ সাথেসাথেই রুশোর কর্তৃক দীঘিতে ঘনত্বের ফলে অপসারিকৃত পানি এসে ছিটকে পড়লো অগ্নি আর নীবিড়ের গায়ে।

.

----- আ...আ...আ....হেই ব্রো আমাকে বাঁচাও! আমি ডুবে যাচ্ছি বলেই পানিতে হাত পা ছাড়িয়ে ছোটাছুটি করতে লাগলো রুশো। আর এদিকে অগ্নি আর নীবিড় ভ্রু কুঁচকে একে ওপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে। মামুন এতোক্ষণে এতোসব কান্ড-কারখানা দেখে ধপ করে মাটিতে বসে মাথায় হাত চেপে ধরেছে।

.

এভাবে অনেক্ষণ ছোটাছুটির পর যখন রুশো বুঝলো ও ডুবে যাচ্ছে না তখনই অনুভব করলো পায়ের গোড়ালি পাড় করে উপরে ওঠা কাদার স্পর্শ!

রুশো খুশি হয়ে পানিতে থেকেই লাফাতে লাফাতে চেঁচিয়ে বলে উঠলো,

---- হেই ব্রোস! আম ফাইন! এই দীঘি তো আমার হাইটের থেকেও কম গভীর! হাহাহা!

.

অগ্নি কপাল কুঁচকে চোখ ছোটছোট করে হাত উঠিয়ে বলে উঠলো,

---- এতো লাফাস না! আর একটু পাছালেই তলিয়ে যাবি। ওখান থেকেই গভীরতা শুরু হয়েছে বলা যায়। সাঁতরে এগিয়ে আয় ফাস্ট।

.

রুশো অগ্নির কথায় অনেকটা ভয় পেয়ে চটজলদি সাঁতরে এগিয়ে আসলো।

রুশো এগিয়ে আসতেই অগ্নি আর নীবিড় দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে "চল শালা!" বলেই গা থেকে প্যান্ট আর শার্ট খুলে ঝাঁপ দিলো পানিতে। সাথেসাথেই দীঘির পাড়ে আছড়ে পড়লো ছিটকে আসা জলগুলো।

.

🍂

.

বিরক্তির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে আমি, রাত্রি আর নিতু আপু দাঁতে দাঁত চেপে মেঝেতে স্থির দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বসে অাছি।

বিরক্তি আমাদের পুরোপুরি গ্রাস করে চলেছে। তাও এমনি এমনি নয় তার উল্লেখযোগ্য কারণও রয়েছে।

আর তার কারণ খানা এই যে আমাদের গোসলের আগে চুলে তেল দিতে বসানো হয়েছে। চাচিমনি, বড় চাচি আর মাসুম ভাইয়ের বউ মিলে আমাদের তিনজনের মাথাকে ফসলের মাঠ ভেবে চাষ করে যাচ্ছে।

.

আমার এখন ইচ্ছে করছে হাত-পা ছেড়ে দিয়ে ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে! কালকেই শ্যাম্পু করে চুলগুলোকে কতো সুন্দর করে ওয়াশ করিয়েছিলাম। আর আজই আমার ওয়াশ করা স্মুথ এন্ড সিল্কি চুলগুলোকে তেলে চুবিয়ে লুটুপুটু করে ছাডলো এরা।

দিদুনের ভয়ে কিছু বলতেও পারছিনা। চুপচাপ এই নির্মম অত্যাচার সহ্য করে যেতে হচ্ছে আমাদের।

.

প্রায় ১৫ মিনিট পর আমাদের তিনজনকে ছেড়ে দিয়ে বড় চাচি বললো,

---- এখন গিয়ে গোসল করে এসো।

.

বড় চাচির কথাটা বলতে দেরি হলেও আমাদের বসা থেকে লাফিয়ে উঠতে দেরি হয় নি। আমি মুখে জোড়পূর্বক হাসি ফুটিয়ে "আচ্ছা!" বলেই রাত্রি আর নিত্য আপুকে নিয়ে এক ছুটে বাথরুমে গিয়ে ঢুকে পড়লাম। যেহেতু এক এক করে গোসল করলে সন্ধ্যে নেমে আসতো তাই সবাই একসাথে গোসল সেরে ফেলাই ভালো। যেহেতু বাথরুমও বেশ বড়।

.

বাথরুমে ঢুকতেই রাত্রি আর নিত্য আপুর চুপসে যাওয়া মুখটা আগের থেকেও আরোও বেশি চুপসে গেলো। কারণ এতো বড় গোসলখানায় না আছে কোনো ট্যাপ আর না আছে কোনো ঝড়না। যা আছে তা শুধুমাত্র টিউবওয়েল। আগে গোসল করতে এসে এই টিউবওয়েল ঝাঁকিয়ে বালতি ভরতেই আমার আধা ঘন্টা লেগে যেতো। তাই আমার গোসলের সময় আম্মু সবসময় পানি ভরিয়ে দিয়ে যেতো।

.

---- অনু...রে...! বাড়িতে মোটর লাগানো নেই?

.

আমি ঠোঁট উল্টে দু কাধ উঁচু করে বলে উঠলাম,

---- আছে তবে সেটা সেচ দেওয়ার জন্য শুধু। বাথরুমে পানির লাইন দেওয়া হয় নি। টিউবওয়েল চেপে বালতি ভরিয়ে গোসল করা ছাড়া উপায় নেই আর।

.

আমার জবাবে নিত্য আপু আর রাত্রি দুজন দুজনের দিকে অসহায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আবারও আমার দিকে তাকালো। ততক্ষণে আমি সাথে করে আনা কাপড় আর গামছা তারে রেখে আবারো ওদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।

.

---- শুনো আমি বলি কি! এক এক করে তিন জনই একবার একবার করে বালতি ভরিয়ে নেই। তাহলেই হয়ে যাচ্ছে!

.

আমার আইডিয়াটা বোধহয় নিত্য আপু আর রাত্রির পছন্দ হলো। তাই কেউ আর কথা না বাড়িয়ে সম্মতি জানালো।

প্রথমে আমি এক বালতি পানি ভরিয়ে নিলাম। ৩ জনই ৩ টে মগে পানি নিয়ে গায়ে ঢেলে গোসল করতে লাগলাম। পানি শেষ হলে এরপর নিত্য আপু পানি ভরিয়ে নিলো। এভাবেই এক এক করে তিনজনই টিউবওয়েল চেপে পানি ভরিয়ে গোসল সারতে লাগলাম।

.

🍁

.

অগ্নি, নীবিড় আর রুশো পানি ছিটাছিটি করে হাসতে হাসতে গোসল করছে। অগ্নি আর নীবিড় একটু পর পর পানিতে ডুব দিয়ে আবারও মাথা বের করে হেসে চলেছে। শুধুমাত্র রুশো এখন পর্যন্ত একবারও সাহস করে ডুব দেয় নি।

.

---- ওই তুই ডুব দিচ্ছিস না কেনো?

.

---- আ..আরে ব্রো! ভ..ভ.. ভয় করছে! যদি ডুবে যাই।

.

অগ্নি রুশোর ভয় পাওয়া দেখে ভিলেনি হাসি দিয়ে নীবিড়কে ইশারা করলো রুশোর কাধে হাত রাখতে। নীবিড় অগ্নির ইশারা বুঝতে পেরে দাঁত কেলিয়ে রুশোর কাধে হাত রাখলো। এবার অগ্নি রুশোর গাল টেনে দিয়ে দুজনে মিলে একসাথে রুশোকে পানির ভেতরে চুবানি খাইয়ে ছাড়লো। রুশো একডুব দিয়ে ধরফড়িয়ে উঠে মাথা বের করতেই অগ্নি আর নীবিড়ের চোখ বড়বড় হয়ে গেলো। রুশো কাশতে কাশতে অগ্নি আর নীবিড়কে নিজের দিকে এভাবে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থাকতে দেখে চোখ ছোট ছোট করে বলে উঠলো,

.

---- হোয়াট হ্যাপেন্ড ব্রোস? তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? হুয়াই?

.

অগ্নি আর নীবিড় দুজন দুজনের দিকে একবার তাকিয়েই পর মুহূর্তে আবারও রুশোর দিকে তাকিয়ে হু হা করে হাসতে শুরু করলো!

অগ্নি হাসতে হাসতে রুশোর মাথার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করে হাসার বেগ আরোও বাড়িয়ে দিলো।

রুশো কিছু বুঝতে না পেরে মাথা ঝাঁকাতেই ওর মাথা থেকে টুস ওরে একটা ব্যাঙের বাচ্চা অর্থাৎ ব্যাঙাচি লাফ মেরে পানিতে পড়ে গেলো। যা দেখে নীবিড় আর অগ্নি আরোও তুমুল বেগে হাসতে শুরু করলো। রুশো ব্যাঙটাকে ওর মাথা থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়লো দেখে চোখ বড়বড় করে চেঁচিয়ে উঠলো,

.

----- ওহ নো.....! মেনডাক!

.

চেঁচিয়েই তাড়াহুড়ো করে সাঁতরে পাড়ে উঠে গেলো রুশো। অগ্নি আর নীবিড় রুশোর সামান্য ব্যাঙ দেখে ভয় পাওয়া নিয়ে আরোও জোড়ে হাসতে হাসতে দীঘির পাড়ে এসে উঠলো।

.

---- হুহ তোমরা হাসছো? ওই মেনডাকটা আমার মাথাটাকে খেলার মাঠ বানিয়ে দিলো, কোথায় তোমরা মেনডাকটাকে বোকবে তানা হাসছো! দ্যটস নট ফ্যায়ার ব্রোস।

.

অগ্নি হাসতে হাসতে রুশোর গাল টেনে ওর ঘাড়ে হাত রেখে বললো,

---- আস্ত জোঁকার একটা! বাড়ি চল নাহলে ঠান্ডা লেগে যাবে।

.

মামুন এগিয়ে এসে ওদের হাতে ৩ টে গামছা ধরিয়ে দিয়ে বললো,

---- গা মুছে নাও। বাড়িতে গিয়ে কাপড় দেওয়া হবে!

.

---- ওয়েট ওয়েট কাপড় দেওয়া হবে মানে? আমরা তো কাপড় এনেছি!

.

মামুন হাসলো। আবারও বললো,

---- বাড়িতে গেলেই বুঝতে পারবে।

.

বলেই হাটা ধরলো। নীবিড়, অগ্নি আর রুশোও যা হবে পরে দেখা যাবে ভেবে আর কিছু না বলে গামছা দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে মামুনকে ফলো করে এগোতে লাগলো।

.

🌹

.

কোনোরকমে গা-মাথা ভিজিয়ে কাপড় বদলে বের হলাম আমি, নিত্য আপু আর রাত্রি। নিজেকে কেমন ক্ষ্যাত ক্ষ্যাত লাগছে ভেবেই কান্না পাচ্ছে আমার। চুলগুলোর হাল বেহাল। কেনো যেনো তেল দিলে শুধু চুলই না হাত পা মুখ চোখ সবকিছুই কালো কালো লাগে। নিজেকে এখন তৈলাক্ত ভূতের মতো লাগছে আমার। যেটুকু পানি দিয়ে গোসল সারলাম তাতে তেলের ছিটেফোঁটাও ওঠে নি বরং তেলগুলো পুরো গা জুড়ে লেপ্টে গেছে আমাদের৷

তাই কারো মুখেই হাসি নেই। তিনজনই মুখ ফুলিয়ে রেখেছি আমরা।

.

গোসল থেকে বেরোতেই সামনে পড়লো দিদুন। আমাদের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে গম্ভীর গলায় দিদুন বললো,

---- ভালো করে চুল মুছে খেতে এসো। দুপুরে নিশ্চয় খাওনি।

.

আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাতেই দিদুন আমাদের পাশ কাটিয়ে গটগট করে চলে গেলেন। দিদুন যেতে আমরা তিনজনে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

.

---- আচ্ছা অনন্যা, দিদুন কি সব সময়ই এমন গোমড়ামুখে থাকেন?

.

আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নাড়িয়ে বলে উঠালাম,

---- ১০ বছর আগে যখন থেকে দাদুভাই গত হয়েছে তখন থেকেই দিদুন এমন গম্ভীর ও চুপচাপ! এই ১০ বছরে কখনোও হাসতে দেখি নি আমি দিদুন কে।

.

---- তারমানে তোর দাদুভাইকে দিদুন অনেক ভালোবাসতো তাইনা রে?

.

রাত্রির প্রশ্নে আমি আবারও হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ালাম।

কেউ আর কিছু বললো না। নিশ্চুপ হয়ে মাথা মুছায় মনোযোগ দিলো নিত্য আপু আর রাত্রি।

.

🌷

.

---- হোয়ায়ায়ায়াটট........!

.

অগ্নি, নীবিড় আর রুশোর একসাথে হোয়াট বলে চেঁচানোয় দু হাতে কান চেপে ধরলো মামুন! আস্তে আস্তে কান থেকে হাত সরিয়ে একবার গলা খাঁকারি দিয়ে মামুন বললো,

.

---- কিচ্ছু করার নেই। এটা পড়তে হবেই সন্ধ্যের পর। এ বাড়ির নিয়ম এটা।

.

---- তাই বলে লুঙ্গি........! (অগ্নি)

.

---- হুম! বড় হয়ে পড়াশুনার বাহানায় রাতে তো থাকতে না তাই জানো না। চাচ্চুকে জিজ্ঞেস করে দেখো, এখন বাড়ির সব পুরুষেরাই লুঙ্গি পড়বে।

.

---- এটা আবার কেমন নিয়ম রে ভাই? ম্যায় তো বখলা গেয়া রে বাবা! (রুশো)

.

---- আচ্ছা লুঙ্গি পড়াটা কি খুব বেশি জরুরী? না পড়লে কি খুব খারাপ হয়ে যাবে? (নীবিড়)

.

মামুন মুখটা অসহায়ের মতো করে বলে উঠলো,

---- শুধু খারাপ না, বহুত খারাপ হয়ে যাবে!

তোমরা পরে নিয়ে নিচে এসো আমি গেলাম।

.

বলেই মামুন ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। রুশো মাথায় হাত দিয়ে ধপ করে বিছানায় বসে গেলো। নীবিড় ভ্রু কুঁচকে লুঙ্গির দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে ঠোঁট উল্টে বলে উঠলো,

.

---- আচ্ছা এটাকে কিভাবে পরে রে অগ্নি?

.

নীবিড়ের প্রশ্ন শুনে এবার অগ্নিও মাথায় হাত দিয়ে ধপাস করে বিছানায় বসে পড়লো।

হঠাৎ রুশো মাথা চুলকে বলে উঠলো,

.

---- হেই ব্রোস আই হ্যাভ এন আইডিয়া। ইউটিউব মামু তো আছেই। টিউটোরিয়াল দেখে নাও!

.

---- হায়রে শেষমেশ লুঙ্গি পড়ার টিউটোরিয়াল দেখতে হবে?

বলেই আর কোনো উপায় না পেয়ে ইউটিউব দেখে কোনোমতে পেঁচিয়ে পুঁচিয়ে লুঙ্গি পড়ে নিলো রুশো, অগ্নি আর নীবিড়।

.

🌸

.

উঠানে পাটি বিছিয়ে খেতে বসিয়েছে দিদুন আমাদের। যেহেতু শুধু আমরাই দুপুর থেকে না খেয়ে রয়েছি তাই আমরা বাদে বাড়ির বাকিরা বসেনি খেতে। আম্মু আব্বু আমাদের সামনে পাটি বিছিয়ে বসেছে এদিকে আমরা তিন জন আরেকটা পাটি বিছিয়ে বসে আছি৷ অপেক্ষা শুধু ভাইয়াদের। ওরা এখনো আসছে না কেনো ভেবে পাচ্ছি না আমি। দিদুন আমাদের সামনের চেয়ারে বসে রয়েছে। ভাইয়াদের এখনো না আসায় দিদুনের কপালে বিরক্তির ভাঁজ ফুটে উঠেছে।

.

দিদুন মাসুম ভাইয়াকে ডেকে বললো "ছেলেরা এখনো আসছে না কেনো দেখতো!"

মাসুম ভাইয়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাতেই কারো পায়ের আওয়াজে মাথা উঁচু করে আড়চোখে আওয়াজটার উৎস বরাবর তাকালাম আমি।

.

অগ্নি ভাইয়া, রুশো ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া ওপরে টি-শার্ট আর নিচে লুঙ্গি পড়ে, লুঙ্গির গিট চেপে ধরে লজ্জায় মাথা নিচু করে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে। তাদের ভাবখানা এমন যেনো গিট থেকে হাত ছুটে গেলেই ফুসসস করে লুঙ্গিটা খুলে পরে যাবে।

ভাইয়াদের এক নজর দেখেই কাশি উঠে গেলো আমার। আমি কাশতে কাশতে জগ থেকে পানি ঢেলে খেয়ে নিলাম।

আমায় কাশতে দেখে নিত্য আপু আর রাত্রিও ভাইয়াদের দিকে তাকালো। নিত্য আপু ততক্ষণাৎ মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে ওরনাটা আরো একটু টেনে মুখ ঢেকে ঠোঁট চেপে ধরলো। আপুর উদ্দেশ্য যে করেই হোক হাসা যাবে না। হাসলেই মরণ নিশ্চিত। কিন্তু রাত্রি হাসি কন্ট্রোল করতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে একহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরেছে ও। এদিকে আমার অবস্থা এখন এমন যে না হাসতে পারলে পেট ফেটে শহীদ ই হয়ে যাবো আমি।

.

.

.

.

চলবে.............💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন