ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৪২তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-৪২♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🌺

.

নিজের ভেতরে এক তীব্র পেট ফাটা হাসি দমিয়ে রেখে চুপচাপ খাবার খাওয়াটা যে কতোটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার তা আজ হারে হারে টের পাচ্ছি আমি। হাসির ঠ্যালায় গলা দিয়ে খাবার নামা তো দূর চিবুতেই পারছি না ঠিকমতো। নিত্য আপু আর রাত্রির অবস্থা বর্তমানে ঠিক কিরকম তা দেখার বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই আমার। নিজেকেই সামলিয়ে উঠতে পারছিনা আমি আর ওদের দিকে কিভাবে তাকাবো? হয়তো ওদেরও আমার মতোই অবস্থা অথবা তার থেকেও করুন।

.

আমাদের ওপর পাশের পাটিতে গুটিশুটি মেরে ভাইয়ারা মাথা নিচু করে প্যারার চরম সীমায় পৌঁছে ভাতের একটা একটা করে লোকমা মুখে তুলছে। অগ্নি ভাইয়া আগেও মেঝেতে পাটি বিছিয়ে বসে এখানে এসে খেয়েছে তাই খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না ভাইয়ার। কিন্তু বিপত্তি ঘটছে নীবিড় ভাইয়া আর রুশো ভাইয়াকে নিয়ে।

নীবিড় ভাইয়া বসার ধরণটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। একটু পর পর নড়াচড়া করছেন আর বসার ধরণ বদলে চলেছেন। আর এদিকে রুশো ভাইয়া লুঙ্গির সাথে বোধহয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। রুশো ভাইয়ার বর্তমান ফিলিংস কিছুটা এরকম যে "শালার কাপড় পড়েও ফাঁকা ফাঁকা লাগে! যেই সেই দিক থেকে বাতাস ঢুকে ক্যারে!"

.

আসলে লুঙ্গি পোশাক টাই এরকম। আমার কাছে এটা নিতান্তই রিস্কি একটা পোশাক , যেটা আন্ডি (আন্ডারওয়্যার) ছাড়া পড়লে ৯০% চান্স থাকে পুরো ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাওয়ার। সামান্য কয়েকটা প্যাচ দিয়ে নিলেই পড়া হয়ে যায় আবার যাদের প্যাচ একটু ঢিল অথবা প্যাচ দেওয়াই এক্সাক্টলি হয় না তাদের জন্য এই লুঙ্গি নামক পোশাকটা হার্ট এটাকের কারণ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

যারা এটা সামলাতে পারে তারা তো আমার মতে লিজেন্ড! তবুও এমন অনেক পুরুষই রয়েছে যারা এই লুঙ্গি পরে সারাদিন ফিটফাট হয়ে ঘুরে বেরোলেও ঘুমোনোর সময় লুঙ্গিটার অবস্থান হয় তাদের পায়ের শেষ প্রান্তে! আবার কারো কারো তো শরীর থেকেই হাওয়া হয়ে যায়।

.

🌸

.

---- দিদুন সবটা কি খেতেই হবে? আসলে পেট ভরে গিয়েছে আর খেতে পারছিনা!

.

দিদুন কপাল কুঁচকে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠলো,

---- ঠিক আছে উঠো!

.

দিদুনের সম্মতি পেতেই খুশিতে চোখ চিকচিক করে উঠলো আমার। খুশি মনে প্লেট সরিয়ে রেখে উঠতে নিলেই নিত্য আপু আর রাত্রি করুন চোখে তাকালো আমার দিকে। যার অর্থ "আমাদের একা ফেলে যাইস না রে বইন! আমাদেরও নিয়ে যা, যেথায় দু চোখ যায় তাও প্লিজ এইখান থেকে নিয়ে যা! "

ওদের অবস্থা বুঝতে পেরে আমি একটা শুকনো ঢোক গিলে জিব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে ভয়ে ভয়ে দিদুনকে বললাম,

.

---- দিদুন, আপু আর রাত্রিও আর খেতে পারছে না! ওরাও উঠুক প্লিজ!

.

দিদুন তার কুঁচকে যাওয়া কপালটা আরোও দ্বিগুণ কুচকে গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,

---- খাবার অপচয় আমি পছন্দ করি না। মাসুম.....মামুন....লালু ভলু কে বেঁচে যাওয়া খাবার গুলো দিয়ে আয় তো।

.

দিদুনের কথা শেষ হতেই নিত্য আপু আর রাত্রি লাফ মেরে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো৷ দিদুনের দিকে সৌজন্যের হাসি হেসে দুজনেই মাথা নিচু করে বললো "ধন্যবাদ দিদুন!"

.

আমি নিত্য আপু আর রাত্রি হাত ধুয়ে তৎক্ষণাত ঘরে ঢুকে দরজার ছিটকানি লাগিয়ে দিলাম।

একটা দীর্ঘশ্বাস টেনে তিনজন তিনজনের দিকে একপলক তাকিয়েই পর মুহূর্তে হু হা করে ঘর কাঁপিয়ে হাসতে শুরু করে দিলাম। হাসতে হাসতে এক পর্যায়ে বিছানায় শুয়ে গড়াগড়ি খাওয়া শুরু করলাম আমি।

.

---- সিরিয়াসলি লুঙ্গি! কি ছিলো ওসব?

.

হাসতে হাসতে নিত্য আপু বলে উঠলো।

আমি আর রাত্রি হাসতে হাসতেই জবাব দিলাম "বিনোদন!" বলেই আবারও হাসতে লাগলাম তিনজন মিলে।

ইশশ কতোক্ষণব্যাপী যে হাসিগুলো পেটে চেপে রেখেছিলাম। ভাগ্যিস লালু ভলু ছিলো। (পালিত গরু) নয়তো পুরো খাবার শেষ করেই উঠতে হতো। কিন্তু তার আগেই যা হওয়ার তাই হয়ে যেতো। আমি হাসির সাথে যুদ্ধে নির্মমভাবে পরাজিত হয়ে ফেটে পড়তাম আর তারপর যা হতো তা শুধুই ইতিহাস মাত্র। সেসব কল্পনাও করতে চাইনা আমি কোনোমতেই।

.

🍂

.

---- হেই গাইস, দ্যটস নট ফ্যায়ার ইয়ার! দেখলি তোরা ওরা কিভাবে আমাদের মজা নিলো! নিশ্চয় এতোক্ষণ ঘরে গিয়ে হাসির বন্যা বইয়ে দিয়েছে।

.

---- এক্সাক্টলি তাই ব্রো! এটা জাস্ট নাইনসাফি।

.

নীবিড় পায়েচারী থামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বাম সাইডের ঠোঁট কামড়ে বলে উঠলো,

---- আগে এই লুঙ্গি সামলাই তারপর নাহয় দেখা যাবে! টেনশন নট। আপনা টাইম আয়েগা।

.

---- বাট এখন কি করবো? ফিলিং টু মাচ বোরিং ব্রোস।

.

---- হেই শুন! এখন তো রাত। রাতে তো দিদুন আবার বেরোতে দেবে না। দিনের বেলায় নাহয় বেরোবো। স্কুল পার করে ক্লাবের ওদিকটায় যাবো নি ভালো লাগবে তোদের।

.

রুশো মুখ কালো করে ঠোঁট উল্টে বললো,

---- তো রাতে কি করবো? ওয়াইফাই নাই, নেটওয়ার্ক ও স্লো। আমার 4G সিম 2G স্পিডে চলছে। তখন টিউটোরিয়াল তো বহু কষ্টে একটু দেখেছিলাম তাও আটকে আটকে যাচ্ছিলো৷ নাও হোয়াট টু ডু ?

.

নীবিড় আর অগ্নি দুজনেই কিছুক্ষণ গালে হাত দিয়ে ভাবার ভান করে পর মুহুর্তে দুজন দুজনের দিকে এক পলক চেয়েই একসাথে ঠোঁট উল্টে কাধ উঁচু করলো।

যার অর্থ এই যে, বর্তামনে তাদেরও এই সম্পর্কে জ্ঞানের ভান্ডার শূণ্য! রুশো আবারও হতাশ হয়ে ধপ করে গাল ফুলিয়ে বিছানায় বসে পড়লো।

কিছুক্ষণ গাল ফুলিয়ে নিজের পড়নের লুঙ্গির দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে হঠাৎ এক লাফ মেরে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো রুশো। একসাথে ৩২ পাটি দাঁত কেলিয়ে ভ্রু নাচিয়ে সে বললো,

.

---- হেই ব্রো, আই হ্যাভ এন ব্রিলিয়ান্ট আইডিয়া! এই লুঙ্গিই আমাদের বিপদে ফেলেছে এন্ড নাও এই লুঙ্গিই আমাদের বোরিংনেস দূর করবে।

.

অগ্নি আর নীবিড় রুশোর এমন আইডিয়ায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে অবাক হয়ে একসাথে জিজ্ঞেস করলো "কিভাবে?"

ওমনি রুশো আরাম করে বিছানায় আরাম করে বসতে বসতে বলে উঠলো,

.

---- দেখো ব্রো! বোরিংনেস থেকে মুক্তি পাওয়ার ওনলি ওয়ান ওয়ে হলো ড্যান্স! আর যেহেতু লুঙ্গি আছে তাই ড্যান্সের সাথে এড হয়ে, হয়ে যাবে লুঙ্গি ড্যান্স!

সাথে আমার ফোনে শাহরুখ খান আর দীপিকা "পাদুকোন..." উপপসস সরি আই মিন পাড়ুকোনের লুঙ্গি ড্যান্স সং তো আছেই। তো হয়ে গেলো না নাইট ঝাকানাক? 😎

.

অগ্নি আর নীবিড় নিজেদের লুঙ্গির দিকে এক পলক চেয়ে পর মুহূর্তে বিশ্বজয়ের হাসি দিয়ে "সাব্বাস ব্যাট্টা!" বলে বিছনায় বসতে বসতে রুশোর কাধে গিয়ে দুজনে হাত রাখলো।

.

🍁

.

(রাত ১০ টা বেজে ১২ মিনিট)

Mucho ko thora round ghumake,

Andha ke jaisa chashma lagake,

Coconut mein lacchi milake,

Ajao sare mood banake......!

.

---- এই রাত্রি তুই কি কিছু শুনতে পাচ্ছিস? ওই উঠ!

.

রাত্রি চোখ বন্ধ রেখেই খানিকটা বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকে ক্ষীণ কন্ঠে বললো,

---- কি শুনবো? বিরক্ত করিস না, ঘুমোতে দে প্লিজ! তুই তো পুরো রাস্তা ঘুমিয়েছিস!

.

বলে আবারও হা করে ঘুমোতে লাগলো রাত্রি! উফফ.....! আমি তো ৪ ঘন্টা ঘুমিয়েছি৷ আমার তো ঘুমও আসবে না এখন। কিন্তু কিসের আওয়াজ আসছে সেটাই তো বুঝতে পারছি না। স্পষ্ট শুনাও যাচ্ছে না।

কিন্তু কিছু তো একটা গন্ডগোল ঘটছেই। আর ঠিক কি হচ্ছে সেটার রহস্য উদঘাটন না করা অবদি আমার শান্তিও হবে না। যদি ভূতও বের হয় তাও আমি এই আওয়াজের রহস্য উদঘাটন করেই ছাড়বো।

তাই রাত্রিকে ছেড়ে নিত্য আপুকে ডাকতে লাগলাম। টানা ৪ ঘন্টার জার্নি করে সবাই ক্লান্ত তাই খুব তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়েছে। তাছাড়া গ্রাম এলাকা। এখানকার মানুষ ৯ টার আগেই ঘুমিয়ে পরে আবার ঘুম থেকে ওঠে ভোর ৪ টা অথবা সাড়ে ৪ টায়।

.

---- নিত্য আপু.....! উঠো....! আপুউ...!

.

নিত্য আপুকে জাগাতে বেশি বেগ পেতে হলো না। একবার ডাকেই আপু ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো। নিজের বাম চোখ বা হাত দিয়ে ডলতে ডলতে আমাকে উদ্দেশ্য করে ঘুমু ঘুমু কন্ঠে আপু বলে উঠলো,

.

---- কি হয়েছে অনন্যা? ঘুমোও নি এখনোও? ওয়াশরুমে যাবা? চলো নিয়ে যাচ্ছি।

.

বলেই আপু আমার হাত ধরে বিছানা থেকে নামতে নিলেই আমি আপুকে আটকিয়ে বিস্ময়ে বলে উঠলাম,

---- বাথরুমে যাবো না আপু!

আচ্ছা তুমি কি কোনো আওয়াজ শুনতে পাচ্ছো? আমার মনে হয় আওয়াজ টা পাশের ঘর থেকে আসছে। মনে হচ্ছে ভূতেরা রাতের বেলায় লাফালাফি করছে।

.

নিত্য আপু আমার কথায় চোখ বড়বড় করে কান খাড়া করলো। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আওয়াজটা শুনার চেষ্টা করে আপু বলে উঠলো,

.

---- ভাইয়াদের রুম থেকে সাউন্ড টা আসছে! আই থিংক কোনো ভূত টুত না বরং ওরাই কিছু ঘুটুরমুটুর করছে। চলো গিয়ে দেখে আসি।

.

আমি নিত্য আপু কথা চট করে দাঁড়িয়ে গেলাম। রাত্রির দিকে এক পলক চেয়ে ওকে উঠানোর সর্বত্তোম উপায় অবলম্বন করার জন্য জোড়ে একটা চিমটি বসিয়ে দিলাম রাত্রির পায়ে। রাত্রি ব্যাথায় কুঁকরে উঠে লাফ মেরে শুয়া থেকে উঠে বসে পড়লো। আমার দিকে রাগান্বিত লুক নিক্ষেপ করে রাত্রি বললো,

.

---- ওই তোর কি ক্ষতি করেছি আমি বলতো? একটু শান্তিমতো ঘুমোতে দিস না কেনো....

.

বলতে বলতে রাত্রি নিজেই থেমে গিয়ে কান খাড়া করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে বলে উঠলো,

---- হচ্ছে টা কি? এই দুমদাম আওয়াজ কিসের?

.

---- আরে সেটার রহস্যই তো উদঘাটন করতে যাচ্ছি। উঠ তাড়াতাড়ি।

.

রাত্রি আর কথা না বাডিয়ে চট করে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো।

এরপর আমরা তিন ডিটেকটিভ পা টিপেটিপে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লাম সেই ধুমধাম আওয়াজের উৎসের পানে।

.

🌹

.

All the Rajni fan.....

Don't miss the chance.....(!!)

LUNGI DANCE LUNGI DANCE LUNDI DANCE LUNGI DANCE....(!!!!)

.

ভাইয়াদের ঘরের কাঠের দরজায় ফাঁকে চোখ লাগাতেই আমার চোখ ছানাবাড়া!

আমি কয়েক সেকেন্ড ওভাবে থেকেই চোখ সরিয়ে নিলাম। আমার মুখ এখনোও হা হয়ে আছে! নিত্য আপু আর রাত্রি আমাকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছে যে কি দেখলাম, এভাবে হা করে আছি কেনো! কিন্তু আমি তাদের কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারছিনা। কি করে বলবো ওদের যে আমি কি দেখলাম!

আমি নিজেই এখনো শকড! কথাই বের হচ্ছেনা মুখ থেকে আমার।

.

আমার থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ায় গাল ফুলিয়ে নিজেই দরজার ফাঁকে চোখ লাগিয়ে দিলো রাত্রি! কয়েক সেকেন্ডে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রাত্রিও আমার মতো চোখ সরিয়ে সোজা হয়ে হা করে দাঁড়িয়ে পড়লো।

নিত্য আপু রাত্রিকে ঝাকিয়ে প্রশ্ন করায় রাত্রি আঙুল এর ইশারায় বললো নিজেকেই দেখে নিতে।

শেষমেশ নিত্য আপুও বাধ্য হয়ে ডান চোখ বন্ধ করে বাম চোখ ছোট করে দরজার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো!

খানিক বাদে আপুও চোখ সরিয়ে আমাদের সাথে হা করে সটানভাবে দাঁড়িয়ে পড়লো।

.

এভাবে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে আমরা একে ওপরের হা করা মুখ থুতনিতে ধরে উঁচু করে বন্ধ করে দিলাম।

একে অপরের দিকে কিছুক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তিনজন একসাথেই জিজ্ঞেস করলাম,

.

---- আমি যা দেখেছি, তোমরাও কি তাই দেখেছো?

.

বিনিময়ে তিনজনই চোখের ইশারায় সম্মতি জানিয়ে মাথা নিচু করে দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম।

বর্তমানে আমাদের অবস্থা কিছুটা এরকম "না পারছি হাসতে আর না পারছি চেপে রাখতে!"

এক কথায় ভীষণ নাজেহাল অবস্থা আমাদের।

.

ভাইয়াদের ঘরে লুঙ্গি ড্যান্স গান বাজছে। অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া চোখে সানগ্লাস, গায়ে শুধু গেঞ্জি আর লুঙ্গি।

দুজনেই গানের সাথে তাল মিলিয়ে উড়াধুরা লুঙ্গি হাটু পর্যন্ত উঠিয়ে ধরে নাচছে কম লাফাচ্ছে বেশি। আর রুশো ভাইয়া?

হাহ! ভাইয়া তো খাটের ওপর উঠে লুঙ্গি খুলে হাতে ধরে ঘুরিয়ে চলেছে সাথে ধুমধাম লাফিয়ে চলেছে। রুশো ভাইয়ার পড়নে শুধু গেঞ্জি আর আন্ডারওয়্যার!🙈

যেহেতু পড়নের লুঙ্গিটা বর্তমানে ভাইয়ার হাতে ঘুর্ণায়মান। হায়রে এর নামই কি তবে লুঙ্গি ড্যান্স!

.

নাহ! আর পারলাম না আমরা। যেখানে নিত্য আপুর মতো পরিস্থিতি বুঝে রিয়াক্ট করা মানুষও হাসি কন্ট্রোল করতে পারছে না সেখানে আমি আর রাত্রি নিতান্তই তুচ্ছ মাত্র!

হাসতে হাসতে এক পর্যায়ে ভাইয়াদের ঘরের দরজার সামনে ধপ করে বসে পড়লাম আমরা! মুখ হাত দিয়ে যথাসম্ভব চেপে ধরে রয়েছি যাতে হাসির আওয়াজে কারোও ঘুম না ভেঙে যায় আর আমাদের ওপর ঠাডা না পরে!

আমি ভাবছি সাদা বিলাইয়ের কথা! অগ্নি ভাইয়া আর রুশো ভাইয়া যদিও এরকম টা করতে পারে তাই বলে উনিও? উনার মতো এতো গম্ভীর মানুষ এভাবে লুঙ্গি ধরে উড়াধুরা নাচছে ভাবা যায়?

.

গান শেষ হতেই ভাইয়ারা হকচকিয়ে উঠলো। কারণ দরজার বাইরে থেকে আমাদের চাপা হাসির শব্দ গান বন্ধ হওয়ার পর বেশ ভালো করেই শুনা যাচ্ছে। এতোক্ষণ গান চলাকালীন সাথে এমন উটপটাং নাচের ধারামধুরুম আওয়াজে আমাদের হাসির আওয়াজ কান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে নি তাদের।

রুশো ভাইয়া তৎক্ষণাৎ লুঙ্গি পরে গায়ে টি-শার্ট ঢুকিয়ে নিলো। এদিকে অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া সানগ্লাস খুলে গায়ে টি-শার্ট পরে নিয়ে ফট করে দরজা খুলে বেরিয়ে আসলো।

.

---- অ...অনন্যা.....! তোরা এ..এ...এখানে কি করছিস? আর এভাবে পাগলের মতো গড়াগড়ি খাচ্ছিস কেনো?

.

---- নিত্য তোরা ঘুমোস নি এখনো? যা ঘরে যা! আমাদের দরজার সামনে কি করছিস?

.

ভাইয়াদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারলাম না আমরা। বরং আগের থেকেও হাসির বেগ আরোও কয়েকগুন বাড়িয়ে দিলাম।

এদিকে রুশো ভাইয়া লজ্জায় লাল হয়ে অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়ার পেছনে মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রুশো ভাইয়ার মতে যদি আমরা কেউ কিছু দেখে থাকি তবে সবথেকে বেশি ইজ্জতের ফালুদা হবে তারই।

আমাদের আরোও হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়তে দেখে অগ্নি ভাইয়া আমাকে আর নিত্য আপুকে টেনে উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে রুশো ভাইয়াকে ইশারা করলো রাত্রিকে তোলার জন্য।

রুশো ভাইয়া নিজের শুকনো মুখটা আরোও বেশি শুকনো করে রাত্রিকে টেনে উঠিয়ে দাঁড় করালো।

কিন্তু আমার হাসি আরও বাড়ছে বৈ কমছে না৷ হাসতে হাসতে নীবিড় ভাইয়ার গায়ে ঢলে পড়তে লাগলাম আমি। উনি তৎক্ষনাৎ আমার কোমড় জড়িয়ে ধরে আটকিয়ে নিলেন নিজের বাহুডোরে।

.

নিত্য আপু খুব কষ্টে হাসি থামিয়ে বলে উঠলো,

---- আমরা কিছু দেখিনি কিন্তু...!

.

বলে আবারও ফিক করে হেসে ফেললো নিত্য আপু। আপুর এই কথাটার মানে ভাইয়ারা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরে গেলো। কথাটার অর্থ সামহাউ "ঠাকুর ঘরে কে?

আমি তো কলা খাইনি টাইপ!" রুশো ভাইয়া লজ্জায় পুরো টমেটো হয়ে মুখ দুহাতে চেপে মিনমিন করে বললো,

.

---- প্লিজ এখন এটা বলিও না যে তোমরা গানের মাঝামাঝি সময়ে এসেছো!

.

রাত্রি ফিক করে হেসে দিয়ে হাত উঠিয়ে বললো,

---- আচ্ছা বলবো না কিন্তু এটাই সত্যি!

.

রাত্রি কথা শুনে রুশো ভাইয়া মুখ ঢেকেই "ওহ নোউউ...!" বলে উল্টো দিকে ফিরে এক ছুটে ঘরে ঢুকে হাওয়া হয়ে গেলো। এদিকে নীবিড় ভাইয়া আর অগ্নি ভাইয়াও পালাতে চাইছে কিন্তু আমাকে এমন হাস্যকর রোগে আক্রান্ত অবস্থায় একলা ফেলে যেতেও পারছেনা!

আমারই বা কি করার আছে? বারবার চোখের সামনে সেই সিনটাই ভেসে উঠছে! হাসি থামানো একদম দায় হয়ে গেছে আমার। নীবিড় ভাইয়া পরিস্থিতি বুঝে কি করবে ভেবে না পেয়ে শেষমেশ আমায় কোলে তুলে নিয়ে আমাদের ঘরের দিকে হাটা ধরলেন। আমাদের পেছন পেছন বাকি সবাইও হাটা ধরলো। নিত্য আপু আর রাত্রি এখনো ঠোঁট চেপে হাসছে, অগ্নি ভাইয়া ধমক দিতেই চুপ করে গিয়ে পর মুহূর্তে আবারও হেসে উঠছে।

.

নীবিড় ভাইয়া আমায় ঘরে নিয়ে এসে শুইয়ে দিয়ে বাকিদের বললেন " একটু বাইরে থাক তো তোরা! জাস্ট টু মিনিটস!" বলেই ঠাস করে দরজা লাগিয়ে আমার কাছে এলেন। আমি এখনো উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে হেসে চলেছি।

.

উনি এগোতে এগোতে একদম আমার কাছে এসে ঝুঁকে পড়তেই আমি চুপ করে গেলাম। অন্ধকার ঘরে চাঁদের আলোর প্রবেশে ঘরটা অনেকটাই আলোকিত হয়ে রয়েছে। জানালা থেকে আসা আলোগুলো সোজা এসে পড়ছে উনার মুখে।

কি মারাত্মক মায়াবী লাগছে উনাকে এই চাঁদের আলোয়! আমার চোখ যেনো উনাতেই আটকে গিয়েছে। এতোক্ষণ হেসে গড়াগড়ি খাওয়ায় উনাকে এভাবে এতোটা কাছ থেকে লক্ষ্যই করি নি আমি। উনি আরোও একটু ঝুকে একেবারে আমার ঠোঁটের কাছে নিজের মুখ নিয়ে এসে শীতল কণ্ঠে বলে উঠলেন,

.

---- কি হলো? এখন হাসছো না কেনো?

.

উনার এমন শীতল কন্ঠে পুরো শরীর জুড়ে এক অজানা শিহরণ বয়ে গেলো আমার। শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রমান্বয়ে ঘোড়ার বেগে ছুটতে শুরু দিলো আমার।

আমি ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিতেই উনি মুচকি হেসে আমার নাকে সাথে নিজের নাকে ডগা স্পর্শ করে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন।

আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আবারও বলে উঠলেন,

.

---- জানি না কি দেখেছো বা কিভাবে দেখেছো বাট যাই দেখোনা কেনো ভুলে যাও!

.

বলেই দরজার ছিটকানি খুলে তৎক্ষনাৎ বেরিয়ে গেলেন। আর আমি এখনো বোকার মতো চেয়ে রয়েছি উনার যাওয়ার দিকে।

.

.

.

চলবে.............💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন