#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-৬০♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
.
🌺
.
মুখ কালো করে ঠোঁট উল্টে বসে আছে রুশো ভাইয়া। সামনেই অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়া হাসার প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হওয়ার তাগিদে ঘর কাঁপিয়ে হাসতে হাসতে একপ্রকার গড়াগড়ি খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। মাঝখান থেকে নিত্য আপু বেচারি! দেবরের পাশে যখন কেউ থাকে না তখন ভাবি নামক ছায়াটি সর্বদাই ঢাল হিসেবে সামনে থাকে। কিন্তু বর্তমানে নিত্য আপুর পক্ষে ব্যাপারটা বাস্তবে এপ্লাই করাটা কষ্টকর হলেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আপু। যার দরুন পেটে হাসির মস্ত বড় বড় বোম্ব ফুটলেও মুখ ফুটে হাসতে পারছে না সে। এদিকে রুশো ভাইয়ার সামনে হাসতে পারবো না বলে পিলারের পেছনে এসে চাপা শব্দে হেসে চলেছি আমি। চোখের সামনে বারবার শুধু একটা সিনই ভেসে উঠছে আমার!
.
রাত্রিদের বাসায় থাকাকালীন বিয়ের পাকা কথা সেরে ফেলে দু পরিবারেই! বাড়ির সকলেরই কথা একটাই, "জুটি যেহেতু তিনটে, একসাথে বিয়েও তিনটে হওয়া চাই!" সেই কথার রেশ ধরেই আগামী সপ্তাহে আমাদের বিয়ের ডেইটেই রাত্রি-রুশো ভাইয়ার বিয়ের ডেইট ফাইনাল করা হয়। রাত্রি তো পারে না সবার সামনে নেচে ফ্লোর ভেঙে ফেলে! মাঝখান থেকে খুশিতে লাফাতে চেয়েও নিজের মনের অদম্য কামনাটা দমিয়ে রেখেই রাত্রির দিকে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে ছিল রুশো ভাইয়া। যেখানে তার নিজেরই খুশিতে আত্মহারা হবার কথা আর রাত্রির রুশো ভাইয়াকে দেখে খিল্লি উড়ানোর কথা সেখানে হচ্ছে তার উল্টো। যদিও রুশো ভাইয়া রাত্রির খিল্লি উড়ায় নি, অবাক চোখে তাকিয়েই থেকে স্রেফ!
.
যেহেতু ওদের বিয়েও আমাদের সাথেই সেহেতু আজই আংটি বদল করিয়ে ফেলে দু পরিবারই। খালামুনি অনেক আগেই রুশো ভাইয়ার বউয়ের জন্য ভবিষ্যতে পরাবার আহ্লাদ স্বরূপ আংটি বানিয়ে রেখেছিলো। আবার এদিকে রাত্রির বরের জন্যও যেহেতু আংটি আগে থেকেই রেডি ছিলো তাই সেই সময়েই রাত্রি-রুশো ভাইয়ার আংটিবদল করানো হয়। সবই স্বাভাবিক হলেও অদ্ভুতভাবে দুটো আংটিই দুজনের হাতে একদম ফিট হয়ে যায়, কোনো মাপ ছাড়াই শুধু আন্দাজে বানানো রিং এতো নিখুঁত ভাবে খাপ খেয়ে যাবে কেউ ভাবতেই পারে নি।
.
এরপরে এলো খাওয়া দাওয়ার পালা। সবাই না করছিলাম যেহেতু দুপুরের খাবারের পর সবার পেটই ভরা ছিলো। কিন্তু আংকেল-আন্টি নাছোড়বান্দা। যেনো ভালো-মন্দ না খাওয়ালে মান-ইজ্জত সব ধুলোয় মিশে একাকার হয়ে যাবে। অবশেষে তাদের জেদের সামনে হার মেনে হরেক রকম খাবারের আইটেম পেশ করা হয় আমাদের সামনে। যা দেখেই ভরা পেট আরো ভরে যায় আমার! অর্থাৎ পাকস্থলীর ধারণ ক্ষমতার শুণ্যের কাছাকাছি চলে আসে।
খাবারের আইটেমের বেশির ভাগই ছিলো মিষ্টান্ন! যেহেতু রুশো ভাইয়ার সুইটস ভীষণ পছন্দ তা জানার দরুন রাত্রি আন্টিকে বলে,
.
---- আম্মুউউ তোমার হবু জামাইয়ের মিষ্টি খুব পছন্দ! একেবারে ২০ টার মতো মিষ্টিও খেয়ে নিতে পারে অনায়াসেই! দাও দাও বেশি করে দাও!
.
রাত্রির কথায় চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে আন্টির। "এই জন্যেই এতো মিষ্টি দেখতে হয়েছে জামাই!" বলেই রুশো ভাইয়ার প্লেটটাকে মিষ্টির পাহাড় বানিয়ে ফেলেন আন্টি! এদিকে রুশো ভাইয়ার প্রাণ যায় যায় অবস্থা! হ্যা এটা ঠিক রুশো ভাইয়ার মিষ্টি খুব পছন্দ কিন্তু তার মানে এই না যে একসাথে কুড়ি পিস মিষ্টি সাবার করে ফেলতে পারবে। যেখানে হাইয়েস্ট ৫ পিসই রুশো ভাইয়ার কাছে একবারের জন্য খাওয়া কষ্টসাধ্য সেখানে তার সামনে এতোগুলো মিষ্টি দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো অবস্থা হয় রুশো ভাইয়ার।
.
এদিকে পুরোপুরি জামাই হবার পূর্বেই হবু জামাই হয়েই এতো আদর দেখে খাবার গলায় আটকে যায় অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়ার। পানি খেয়ে গলা ক্লিয়ার করে নিয়ে টেবিল কাঁপিয়ে যথাসম্ভব কম আওয়াজে হাসা শুরু করে তারা। রুশো ভাইয়া এতোগুলো খেতে পারবে না বলে বলে হাঁপিয়ে গেলেও, মিষ্টির পাহাড় বানাতে হাঁপিয়ে যান নি আন্টি।
অবশেষে আন্টিকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে রাত্রির দিকে করুন চোখে তাকায় রুশো ভাইয়া। রুশো ভাইয়াকে নিজের দিকে তাকাতে দেখে সেকেন্ডে ৩ বার করে পলক ফেলে লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে মিষ্টি হাসে রাত্রি! অন্য সময় রাত্রির এমন চাহনি দেখে খুন হয়ে গেলেও তখন রুশো ভাইয়ার মুখে এসে ভর করে আরো একফালি অসহায়ত্ব!
.
ভরা পেটে ৪ পিস মিষ্টি খেয়েই চোখ মুখ উল্টে তোলে রুশো ভাইয়া। আন্টি এই দেখে ভাবে হয়তো কালোজাম আর রসগোল্লা ভালো লাগছে না ভাইয়ার, যার দরুন ব্যস্ত হয়ে সন্দেশ এগিয়ে দেয় রুশো ভাইয়ার দিকে। আবারও চোখের সামনে আরো একপ্রকার মিষ্টান্ন আসায় কেঁদে বন্যা বইয়ে দেবার মতো অবস্থা হয় রুশো ভাইয়ার। "না না না না......! করতে করতে অবশেষে ব্যর্থ হয়েই আন্টির হাতের সন্দেশ মুখে পুরে নেয় সে।
এভাবে জোড় করে করে ৮ পিস মিষ্টি খাওয়ানোর পর ক্ষান্ত হয় আন্টি। তবুও তার মুখ ভার কারণ হবু জামাইকে গুনেগুনে ২০ পিস খাওয়াতে পারেন নি তিনি।
রুশো ভাইয়ার এমন করুন পরিস্থিতিতে পাশে থাকার বদলে হেসেই পাড় করে যায় সবাই। খাওয়া শেষে আন্টি-আংকেলের সাথে কুশল বিনিময় করে বাড়ি ফিরি সকলে। বাসায় এসে খাটে ধুপ করে চিটপটাং হয়ে শুয়ে পড়ে রুশো ভাইয়া। একটু পরপরই উল্টি উল্টি ভাব এলেও সম্পূর্ণভাবে উল্টি আসছে না যার দরুন চরম বিরক্ত সে। এদিকে রুশো ভাইয়ার এরকম অবস্থায় অগ্নি ভাইয়ার হাসি যেনো আগের তুলনায়ও কয়েকগুণ বেড়েই চলে। নীবিড় ভাইয়াও কম নন, সমান তালে তাল মিলিয়ে হেসে চলেছেন উনিও।
.
🍂
.
বর্তমানে রুশো ভাইয়া শুয়া থেকে উঠে গাল ফুলিয়ে বসে আছে। অগ্নি ভাইয়া-নীবিড় ভাইয়া হাসতে হাসতে হাঁপিয়ে পড়ে বিছানায় শুয়ে পড়েছে।
রুশো ভাইয়ার এমন অসহায়ত্বে বড্ড খারাপ লাগছে আমার। তাই পিলারর পেছন থেকে বেড়িয়ে রুশো ভাইয়ার পাশে টুপ করে বসে পড়লাম আমি। আমায় দেখে ভ্রু যুগলে ঢেউ ফেলে ঠোঁট উল্টালো রুশো ভাইয়া। আমি মিষ্টি হেসে বললাম,
.
---- তোমার এটম বোম্বের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে, এতে তো তোমার খুশি হওয়ার কথা, এমন স্যাড মুড করে বসে আছো কেনো রুশো ভাইয়া?
.
রুশো ভাইয়ার নিজের উল্টে রাখা ঠোঁটটা আরো একটু উল্টে ভাইয়াদের দিকে চোখের ইশারায় তাকাতে বললো আমায়। যার অর্থ অগ্নি ভাইয়া আর নীবিড় ভাইয়ার নিজেকে নিয়ে খিল্লি উড়ানোটা মোটেও পছন্দ হচ্ছে না তার। আমি আবারও মিষ্টি হেসে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললাম,
---- আরে ছাড়ো তো ওদের। লাফিং গ্যাস খেয়ে এসেছে বোধহয়। চলো তুমি আর আমি ডিস্কো ডিস্কো নাচি!
.
আমার প্রস্তাবটা বেশ পছন্দ হলো রুশো ভাইয়ার। চট করে দাঁড়িয়ে পড়ে দাঁত বের করে ভাইয়া বললো,
---- চাল মেরে ছুটকি, টিক টিক টিক.....!
.
🍂
.
দেখতে দেখতে কেটে গেলো আরো দু দুটো দিন। আমাদের বিয়ের শপিং ইতিমধ্যে প্রায় হয়ে যাওয়ায় গা ছাড়া দিয়ে রয়েছি আমি। তবে তোড়জোড় চলছে রাত্রি-রুশো ভাইয়ার বিয়ের কেনাকাটা নিয়ে। বাড়ির সকলেই শপিং মলে গিয়েছেন, যেহেতু নিত্য আপুর সামান্য কেনাকাটা বাদ পড়েছিলো বিধায় কথা ছিলো নীবিড় ভাইয়া আর নিত্য আপুও নিজেদের বাড়ি থেকে শপিং মলে গিয়ে সবার সাথে মিলিত হবেন।
কিন্তু মাঝখান থেকে বাধ সাজলো আমার হ্যাংলা পাতলা শরীরটা। কেনো যেনো বড্ড বেশি ক্লান্ত লাগছে আমার। যার ফলশ্রুতিতে আমায় বাসায় রেখেই সবাই বেড়িয়ে পড়েছে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে। অবশ্য আমি যে একা রয়েছি তা নয় সাথে সালমা আন্টিও (সার্ভেন্ট) রয়েছেন।
.
মনটাও আজ কেমন যেনো আনচান আনচান করছে। অগ্নি ভাইয়া আর রুশো ভাইয়ার বিয়ের এক্সাইটমেন্টে লাফালাফি করেই পাড় করে দিয়েছি দিনগুলো। একটু রিল্যাক্স করে শরীরটাকে রেস্ট দেওয়াও হয়ে ওঠে নি। অথচ এদিকে যে আমারও বিয়ে হবে সে কথা মাথাতেই নেই আমার। দিব্যি ভাইয়াদের বিয়ের এক্সাটমেন্টেই মত্ত আমি।
.
আজ আকাশের বুক একদম নীল! সচরাচর আকাশ এতোটা নীল হয় না, হাল্কা আসমানী যাকে বলে ঠিক সেধরনের বর্ণ ধারণ করেই দিব্যি মাথার ওপর বিচরণ করে ওই আকাশ।
নীল আকাশের দূর সীমানায় সাদাটে মেঘমালা জমাট বেধে অনেকটা আইসক্রিমের রূপ ধারণ করেছে। ছোটতে যখন আব্বু কোলে করে মাঠে হাটতে নিয়ে যেতো তখন আমি আব্বুকে বলতাম,
.
---- আব্বু দেখো, আকাশে ওটা আইসক্রিম না?
.
আব্বু হেসে বলতো,
---- হুম আমার ছোট্ট পরী, তুমি তাকে যেভাবেই দেখতে চাইবে তা ঠিক সেরকমই আকৃতিতে দৃশ্যমান হবে।
.
ছোটতে আব্বুর ভারী অর্থবহ কথাটার মানে বুঝতামনা আমি। অগ্নি ভাইয়া যখন বলতো "আরে অনু, ওটা আইসক্রিম না ওটা তো ডাইনোসরের মতো লাগছে!" তখন সেই মেঘের আইসক্রিমটাকে ডাগরডাগর চোখে ডাইনোসরের রূপে দেখবার চেষ্টা চালাতাম আমি। কিন্তু আফসোস তখন ডাইনোসর কেমন দেখতে হয় তার আনুমানিক চিত্রটাও আমার স্মৃতির পাতায় ঘোলাটে ছিল।
ঠিক তখনই পাশ থেকে রুশো ভাইয়া মেঘপুঞ্জটাকে খুঁটিয়ে খু্ঁটিয়ে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলতো,
.
---- ওহ নো ব্রো, ওটা তো হাতি! তুমি ডাইনোসর পেলে কোথায়?
.
অতঃপর আম্মু আব্বুর খিলখিল করে হেসে ওঠার শব্দ মিলেমিশে সুমধুর ধ্বনির রূপ নিয়ে ভেসে আসতো আমার ছোট্ট ছোট্ট কানদুটোয়।
রুশো ভাইয়া আব্বুর কোল থেকে আমায় নামিয়ে নিজের কোলে বসিয়ে গালদুটো টেনে দিয়ে বলতো,
.
---- "তুই কি সব জায়গাতেই আইসক্রিমই দেখতে পাস রে ছুটকি?"
.
🍁
.
নিচ থেকে কলিং বেলের চিনচিনে আওয়াজ কানে আঘাত করতেই ভাবনার মধ্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলো আমার। এই সময় আবার কে এলো? সবাই তো আধঘন্টাও হয়নি বেড়িয়েছে, এতো জলদি তো ফেরার কথা নয়। তাই কৌতুহলের দৃষ্টিতে ঘর থেকে বেড়িয়ে সদর দরজা বরাবর তাকালাম আমি। সালমা আন্টি দরজা খুলে দিতেই চমকে উঠলাম আমি। নীবিড় ভাইয়া! উনার তো সবার সাথে শপিং মলেই থাকার কথা ছিলো! তাহলে বাসায় কেউ নেই জানা সত্ত্বেও এলেন কেনো উনি?
.
নীবিড় ভাইয়া সালমা আন্টিকে সালাম দিয়ে আন্টি সরে দাঁড়িয়ে ভেতরে আসতে বলতেই হাল্কা হেসে দরজার ওপার থেকে ধাপ ফেলে প্রবেশ করলেন উনি। দোতলায় আমায় বিস্মিত চোখে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বাম গালে টোল ফেলে মিষ্টি হেসে চোখ থেকে সানগ্লাসটা খুললেন। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে ভাইয়ার ঘরে যেতে যেতে আমায় উদ্দেশ্য করে বললেন,
.
---- চটপট রেডি হয়ে নাও! সময় মাত্র ৫ মিনিট!
.
উনার কথায় বোকা বনে গেলাম আমি। উনি কি জানেন না আমার শরীরটা ভালো লাগছে না তাই আমি শপিং এ যাই নি? নাকি জেনে শুনেই শরীরটা আরোও খারাপ করবার জন্য লেগে পড়েছেন উনি?
.
---- কি হলো? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ভাবছো? গো ফাস্ট...!
.
উনার ধমক খেয়ে ভাবনায় ছেদ ঘটলো আমার, চোখে মুখে বিরক্তির রেশ ফুটিয়ে ঘরে ঢুকে পড়লাম আমি। আমি যেতেই মুচকি হেসে উঠলেন উনি।
.
পাঁচ মিনিটের জায়গায় চার মিনিটেই ঠোঁট উল্টে ঘর থেকে বেড়িয়ে এলাম আমি। যেহেতু রাত্রির মতো সাজগোজ তো দূরে থাক সামান্য পাউডার দেওয়াতেও এলার্জি আমার! তাই শুধু জামা পাল্টে একটা শার্ট-ফ্রক আর গলায় ওড়না জড়িয়ে চুলগুলো উঁচু করে বেধে রেডি হয়ে নিয়েছি স্রেফ।
আমায় দেখে হাত ঘড়ির দিকে একবার নজর ফেলে আবারও আমার দিকে তাকালেন উনি। "গুড" বলেই বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত গুঁজে বড় বড় পায়ে এগোতে এগোতে বলে উঠলেন,
.
---- ফলো মি.....!
.
আমিও উনার অগোচরে ভেংচি কেটে মুখ বাঁকালাম। গাল ফুলিয়ে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে উনার পেছন পেছন যেতে লাগলাম নিঃশব্দে।
.
সাথে করে আনা বাইকে উঠার বদলে মেইন রোডের উদ্দেশ্যে উনাকে হেটে যেতে দেখে ভ্রু কুঁচকালাম আমি। পেছন থেকে দৌড়ে উনার পাশাপাশি গিয়ে দাঁড়িয়ে হাটতে হাটতে জিজ্ঞেস করলাম,
---- একি বাইক নিলেন না যে? কিসে করে যাবো?
.
উনি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে ছোট্ট করে বললেন,
---- রিক্সায়!
.
উনি রিক্সায় উঠবেন শুনে চোখ বড়বড় হয়ে এলো আমার। এই একটা বছরে কোনোদিনই বাইক বা কার ব্যতীত অন্য কোনো ভেহিকল এ উনাকে চড়তে দেখি নি আমি। অবশ্য বগুড়া যাওয়ার পথে ট্রেন আর সিএনজি তে উঠেছিলেন বাধ্য হয়েই। তবে উনার মুখে বিরক্তি রেশ থাকবে ভেবে পরে বোকা বনেছিলাম আমি। দিব্যি স্বাভাবিক অঙ্গ-ভঙ্গিতেই যাওয়া-আসা করেছিলেন উনি। কিন্তু এবার তো বাধ্য হয়ে রিক্সায় ওঠার মতো কোনো পরিস্থিতি হয় নি, তবে?
প্রশ্নটা করতে ইচ্ছে হলো না আর। যদি অাবার প্রশ্ন করায় রেগে গিয়ে আবারও বাইকে উঠতে বলেন উনি! তাই মুখে তালা মেরেই চুপ করে রইলাম আমি।এতোদিন পর রিক্সায় উঠবো ভেবেই মনটা ভালো হয়ে গেলো আমার।
.
রোডের সামনে আগে থেকেই একটা রিক্সা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বেশ অবাক হলাম আমি।
যেখানে ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেও রিক্সার টিকিটিরও দেখা মেলে না সেখানে আজ আগে থেকেই রিক্সা দাঁড়িয়ে আছে, যা নিতান্তই ৭৬ বছর পর পর হ্যালীর ধূমকেতু দেখার মতোই নগন্য। আজ সূর্য ঠিক কোন দিকে উঠেছে ভাবতে ভাবতেই রিক্সা আরো একটু এগিয়ে আমদের সামনে এসে দাঁড়ালো। সাথে সাথেই টুপ করে উঠে পড়লাম আমি। উনি আমার এক্সাটমেন্ট দেখে ভ্রু কুঁচকালেন। অতঃপর মুচকি হেসে আমার পাশে রিক্সায় চড়ে "মামা চলেন" বলতেই রিক্সা ওয়ালা মামা সম্মতি পেয়ে প্যাডেল চালাতে শুরু করলেন।
আর আমি মত্ত হলাম প্রকৃতির হিমেল হাওয়ায় গা ভাসাতে।
.
.
.
চলবে...............💕