ধ্রুবতারা....
পর্ব ১৫..
লেখিকা.. আঁখি শেখ..
......
*তুই তো আমার সব রে পাগল তুই তো আমার সব *
*তুই তো আমার বেঁচে থাকার বড় অনুভব *
নিস্তব্ধ হয়ে গেল ধ্রুব'তারা। ধ্রুব যা বলার জন্য মুখ খুলতে গিয়েছিল তা আর বলা হলো না। তারা নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল ধ্রুব'র ধূসর বাদামী রঙের চোখের দিকে। ধ্রুব ও তাকিয়ে ছিল তারার চোখের দিকে। কিছু সময়ের জন্য হয়তো ধ্রুব তারা ভুলে গিয়েছিল স্থান-কাল-পাত্র। ডুবে গিয়েছিল দুজনার চোখে যেন ওই চোখে নিজস্ব পৃথিবী খুঁজে পেয়েছে দুজনে।
তারা'র এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, তারার করা প্রশ্নের উত্তর হয়তো ধ্রুব তার ফোনের রিংটোন এর মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছে । হয়তো তারাই ধ্রুব'র জীবনের সব।বেঁচে থাকার সবথেকে বড় অবলম্বন।
"কেউ না তুই আমার বুঝেছিস তুই কেউ না না আমার। জাস্ট চৌধুরী বাড়ির কন্যা!"
তারা'র ভাবনার উপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল ধ্রুবর ওই কথাটা।
কথাটা বলে ধ্রুব আর দেরি করেনি সঙ্গে সঙ্গে ঝটকা মেরে ঝেড়ে ফেলে দেওয়ার মত করে ধ্রুব তারা কে ছেড়ে দিল।
পকেট থেকে ফোন বের করে রিসিভ করে কানে ধরল। ওপাশ থেকে কি বলল শোনা গেল না। শুধু ধ্রুব বলল,
"কাছাকাছি চলে আসছি জাস্ট ফাইভ মিনিট! "
কল কেটে দিয়ে ফোন আবার পকেটে ভরলো। জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে করল নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণের বৃথা চেষ্টা।
কিছু সময় পর তারার দিকে তাকালো। কেঁদে কেটে অস্থির তারা। কান্নার দরুন ফুপিয়ে ফুপিয়ে উঠছে। ফোপানোর কারণে নাকের পাটা লাল হয়ে বারবার ফুলে উঠছে। গাল দুটো পাকা টমেটোর আকার ধারণ করেছে। চোখ দুটো লাল হয়ে ফুলে গেছে।
গালের দুপাশে পাঁচটা পাঁচটা করে পুরো দশটা আঙুলের ছাপ বসে গেছে। গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁট দুটো তীর করে কাঁপছে। ঠোঁটের দুঃখ নাই সামান্য ফেটে গেছে। কান্না আটকানোর জন্য বারবার নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরছে তারা।
তারার এই অবস্থা দেখে ধ্রুব'র মনে এক অন্যরকম নেশা ধরিয়ে দিচ্ছিল। এই মেয়েকে কান্না করলে কত সুন্দর লাগে। মায়াবী রাজকন্যা। এইটুকুতে কেঁদে কেটে অস্থির করেছে। আচ্ছা হাত দুটো কি বেশি একটু রুড হয়ে গেছিল। কিন্তু ধ্রুব তো আস্তেই মারল। যতটা তারা সহ্য করতে পারবে ততটাই।
এইটুকুতে এই অবস্থা। ননীর পুতুল একটা একটু ছুলেই দাগ বসে যায়।
রাগের মাথায় থাপ্পড় তো মেরে দিল এখন মানাবে কি করে? এই মেয়ে যা জেদি! এখন না আবার গো ধরে সারা রাত এখানেই বসে থাকতে চাই। কিন্তু ধ্রুব কি ইচ্ছা করে মেরেছে? মার খাওয়ার মত কাজ করলে তো মার খাবেই। কে বলেছিল ওকে এভাবে পোজ দিতে? ওকে খানের সিনেমা করতে এসেছে? যদি কিছু হয়ে যে ওর? এরপর তো ধ্রুব আর ভাবতেই পারে না।
ধ্রুব কন্ঠ যতটা সম্ভব নিচু আর নরম করে বলল,
" আমার রাগ উঠে গেছিল। তার জন্য থাপ্পড় মেরে দিয়েছি সরি! আর কান্না করিস না। "
........."
"তুই দুষ্টুমি করলি বলেই তো মারলাম। "
...…...!"
" আচ্ছা বাবা সরি এই দেখ কান ধরছি আর কখনো মারব না! "
ধ্রুব এত কিছু বলছে তবু তারা একদম নিশ্চুপ। কেঁদে চলেছে কেঁদেই চলেছে। থামার নামই নেই।
ধ্রুব পকেট থেকে রুমাল বের করে তারার দিকে এগিয়ে দিল। তারাও বিনা বাক্যে রুমালটা হাতে নিল। রুমালটা নিয়ে নাক ঝেড়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করছিল। ধ্রুবনাক মুখ সিটকে দেখল, কি অবস্থা করেছে তার রুমালটার। অন্য সময় হলে হয়তো তারা কে এক্ষুনি একটা গুলি খাইয়ে দিত রুমাল টার অবস্থা বারোটা বাজানোর জন্য । কিন্তু এখন কিছু বলা যাবে না। ম্যাডাম এমনি ফুলে ফেঁপে আছে।
" তুই কি সারারাত এখানেই দাঁড়িয়ে কান্না করার চিন্তা করেছিস? নাকি যাবি আমার সাথে? এমনিতে অনেক রাত হয়ে গেছে। একটু পরে তেনারা( জ্বিন) আবার বেরোবেন মাঠে। যদি আমার সাথে না যেতে না চাষ চাস তাহলে এখানে থাক তেনাদের সাথে ডিনার করিস। অপশন আমার চয়েজ তোর!দেখ তুই কি করবি? "
ধ্রুবা কথাগুলো বলে আর দাঁড়ালো না হেলমেটটা পরে আবার বাইকে উঠে বসলো। তারা বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে চিন্তা করলো। আসলেই তো অনেক রাত হয়ে গেছে প্রায় দশটা বাজে। এখন ধ্রুব যদি এখান থেকে চলে যায় সে বাড়ি ফিরবে কিভাবে?
জায়গাটা খুব একটা সেভ নয়। কেমন জানি একটা গা ছমছমে পরিবেশ।
কিরে কিছু ভাবলি, যাবি আমার সাথে, নাকি থাকবি"!
ধ্রুবার কথায় তারা কিছু না বলে বাইকে উঠে বসলো। ধ্রুব একটু ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো তবে নিঃশব্দে।
কিছু সময় পর বাইকটি সোজা এসে থামলো" রেড লাইট নাইট" ক্লাবের সামনে।
তারা বাইরে থেকেই বুঝতে পারছিল ভেতরে কি চলছে। পুরো দমে মিউজিক বাজছে। চারপাশের লাল নীল হলুদ আলোর ফোয়ারা। রাত যত বাড়ে এই সমস্ত ক্লাবে উন্মাদনা ও তত বাড়ে।
এই অসহ্য পুরুষটা এরকম একটা জায়গায় কেন আসলো। অবশ্য এতকাল বিদেশে থেকেছে একটু আধটু খারাপ বদ অভ্যাস তো হয়েছেই।
ধ্রুব গাড়িটি পার্ক করে ভিতরে চলে যাচ্ছিল। তারা তখনও সেভাবে ওখানেই দাঁড়িয়ে ছিল।
ধ্রুব পিছে ফিরে দেখল তারা বেশ দূরে দাঁড়িয়ে আছে। এবার ধ্রুব রেগে গিয়ে বলল,
" তোকে কি ভেতরে আসার জন্য নতুন করে নিমন্ত্রণ পাঠাতে হবে? "
তারা যাবে কি যাবে না ভাবছে। এরকম জায়গায় এই প্রথম আসা। তাছাড়া বড় আব্বুরা যদি জানতে পারে তাহলে তো জানেই মেরে দেবে।
তারপর মনে মনে একটা ছক কষে তারা ভিতরে চলে গেল।
ভেতরে গিয়ে তারা যা দেখলো রীতিমতো হতবাক হতভম্ব। ছেলেমেয়েরা সব একসাথে নাচানাচি করছে। মেয়েদের পরনের সব ওয়েস্টার্ন ড্রেস। ছি! এসব মেয়েদের কি লজ্জা করে না। এত ছোট ছোট পোশাক পরে কিভাবে। নাকি বড় পোশাক কেনার টাকা নেই। ফকিন্নির জাত সব।
ধ্রুব ভিতরে ঢুকে তার বন্ধুদের খুঁজতে লাগলো।
দেখলে একটু ভেতরে ওরা সবাই একসাথে বসে ড্রিঙ্ক করছে।
ধ্রুব ওদেরকে ডাকার জন্য ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেল। তারা সেখানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে ছিল। গা গুলিয়ে উঠছে তারার। চারদিকে মদের কি বিশ্রী গন্ধ। আরেকটু সময় থাকলে হয়তো তারা এক্ষুনি বমি করে দেবে। এরকম একটা জায়গায় অসহ্যপুরুষটা আসে। তার আর ভাবতে একটু বেক পোহাতে হল। বাড়িতে তো খুব ভদ্র সেজে থাকে। যেন মেয়েদের ছোয়াই তার এলার্জি আছে। আর এখানেই ছি "
তারা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল ঠাই ঠিক তার পেছনে কিছু বখাটে পোলাপান ড্রিংক করছিল। তারাকে খুবই বাজে নজরে দেখছিল। তারা ওদের এই ভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে একটু অস্বস্তিতে অস্বস্তিতে পড়ে গেল।
ধ্রুব একটু সময় পর তার বন্ধুদের নিয়ে ফিরল।
ধ্রুব'র ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে দুটো মেয়ে ফ্রেন্ড ও আছে। তাদের একজনের বিয়ে হয়ে গেছে। আর একজন এখনো বিয়ে করেনি। হয়তো কারো অপেক্ষা করছে। তাকে নিজের মনের কথাটা জানাতে পারলে হয়তো সেও বিয়ে করবে।
সাথী আর রুমিনা তারাকে দেখে বলল,
" তাহলে এই তোর সেই কাজিন, কি কিউট দেখতে, পুরাই তো বেবি বার্বি ডল।! "
"এই আমার লিটল বার্ডের দিকে নজর দিবি না। ও আমার কিউটি পাই! "
অর্ণব কথাটি বলে তারার গাল টিপে দিল। ধ্রুব বিরক্তির সাথে দেখছিল। কিছু বলল না। শুধু অর্ণবের দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো। ব্যস তাতেই অর্ণবের মুখটা ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেল।
"তোর কিউটি পাই!"
নীরব ভ্রু কুচকে কে জানতে চাইলে অর্ণবের কাছে।
"না না আমার ছোট বোন। আমার মেলায় হারিয়ে যাওয়া ছোট বোন! "
অর্ণব এবার তাড়াহুড়ো করে উত্তর দিল।
ধ্রুব আর দাঁড়ালো না সেখান থেকে গটগট পায়ে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেল। মূলত তাদের পার্টিটা থ্রো করা হয়েছে এই বিল্ডিং এর ছাদে। ওরা সবাই ধ্রুব'র জন্য নিচে ওয়েট করছিল। চলে যাওয়ার পরে সবাই ধ্রুব'র পিছে পিছে চলে গেল।
ছাদেও খুব সুন্দর করে ডেকোরেশন করা হয়েছে। মূলত তাদের পার্টির জন্যই পুরো ছাদটা বুক করা হয়েছে।
একটা বড় গোল টেবিল এবং তার চারপাশের চেয়ার রাখা।
ওরা সবাই এক এক করে বসে পড়ল। রুবিনা আর সাথীর মাঝে তারাকে বসালো।
"কচু বনে হেগে গেল কালো কুকুরে এ এ এএএএ!"""
"শালা তালপাতার সিপাই, তোর গান শুনে তো আমার হাগা পেয়ে গেল! "
অর্ণবের গান শুনে নিরব বলল। অর্ণব নীরবের কথার প্রতুত্তরে বলল,
"শালা কসাই তুই কি করে বুঝবি আমার এসব গানের মূল্য! আমার গান শুনতে হলে কানের পাঠা লাগে "
"এতদিন জানতাম বুকের পাটা লাগে এখন তো দেখছি তোর কান গান শুনতে কানের পাঠা লাগবে।"
সাথির কথায় নিরব আবার বলল,
"শালা তাল পাতার সিপাই এর কাছে এর থেকে ভালো গান আশা করাটাই বোকামো। "
"এই তুই তালপাতার সিপাই কাকে বলছিস হ্যাঁ?
ভুলে যাস না আমি একজন এসআই। তোর নামে একটা মামলা ঠুকে দিলে জীবনে শ্বশুরবাড়ি থেকে আর বেরোতে পারবে না। "
"তুইও হয়তো ভুলে যাচ্ছিস আমি হলাম হার্ট সার্জন।অপারেশন করে যদি তোর ওই হার্ট কে বের করে আনি তাহলে কেমন হবে! "
আসলে নীরব একজন হার্ট সার্জন। তাই অর্ণব তাকে কসাই বলে ডাকে। আর অর্ণব হলো এস আই তাই ওকে নিরব তাল পাতার সিপাই বল।
অর্ণব চাকরি করছে প্রায় এক বছর হল।
কিন্তু ধ্রুবতো এখনো জয়েন করিনি। তবুও অর্ণব ধ্রুব'র আন্ডারে কাজ করবে।
রুবিনার বিয়ে হয়ে গেছে। তার হাজবেন্ড একজন বিজনেসম্যান। সে খুবই বন্ধুসুলভ। তাইতো রবিনা এত রাতে বন্ধুদের সাথে পার্টি করতে এসেছে তবু কিছু বলেনি। স্ত্রীকে সব ধরনের ফ্রিডম দিয়ে থাকে একেবারে পারফেক্ট হাসবেন্ড।
আর সাথী সে এখনো বিয়ে করেনি। কাউকে ভালোবাসে কিন্তু এখনো মন বলতে পারিনি। তবে সাথি জানে সে কখনোই তাকে পাবে না। তবুও আশায় বাঁচে চাষা।
সাথী বলল,
"এই তোদের ড্রামা শেষ হয়ে থাকলে চল একটা গেম খেলি! "
তারা উৎকণ্ঠের সাথে বলে উঠল,
"কি গেম খেলবে গো তোমরা? "
"ট্রুথ অর ডেয়ার! "
তারা এবার লাফিয়ে বলে উঠলো,
"ওয়াও হেব্বি মজা হবে আমার পছন্দের খেলা! "
"তো তাহলে শুরু করা যাক! "
ওরা সবাই ক্লোজ হয়ে বসে পড়ল। টেবিলের ঠিক মাঝখানে একটা বিয়ারের বোতল রাখল। তারা বিয়ারের বোতলটা ঘুরিয়ে দিল। ঘুরতে ঘুরতে বিয়ারের বোতল টা ঠিক অর্ণবের সামনে এসে থামলো। তারা এবার বলল,
" অর্ণব ভাইয়া প্রথমে আপনার পালা,আপনি ট্রুথ অর ডেয়ার? "
"আমি সব সময় ডেয়ার নেই, বুঝলে লিটিল বার্ড। "
" ওকে আপনার ডেয়ার হলো এখন সবার মধ্যে একটা নাচ পরিবেশন করে দেখান! "
তারা এই ডেয়ার দেওয়ার জন্য রুবিনা বলল,
"কিউটি পাই তুই কি ডেয়ার দিলে! দিলে যখন ভাল্লুকের ডান্স দেখার জন্য রেডি হও! "
অর্ণ সাথীর মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলল,
" নাচ হল আমার প্রতিভা আর তুই আমার প্রতিভাকে আন্ডারএস্টিমেট করছিস? দেখ আমি কিভাবে নাচি চোখ ফেরাতে পারবি না। "
এই বলে অর্ণব ফোনে একটা মিউজিক বাজিয়ে দিল।
আপা লাপ্পা লাপ্পা লাপ্পা লা রে লাপ্পা লা বন্ধুরে তোর মুখের হাসি লাগে রে ভোলা।
মানব এই গানে উরাধুরা ডান্স শুরু করলো, একবার লাফাই তো একবার ডিগবাজি মারে, । ওর এই উদ্ভট নাচ দেখে তারা তো হেসে গড়িয়ে পরল । ধ্রুব হয়তো মুচকি মুচকি হাসছিল।
আর্নবের ডান্স শেষ হলে আবার বোতল ঘোরানো হয়। এবার বোতল গিয়ে থামে সাথীর বরাবর।
এবার অর্ণব বলে ওঠে,
"সাথী এবার তুই বল ট্রুথ আর ডেয়ার ? "
সাথী বলল আমি ট্রুথ!
অর্ণব প্রশ্ন করল,
" তাহলে তুই সত্যি সত্যি বল বিয়ে করবি কবে? আমরা কি মামা চাচা হবো না? "
অর্ণবের প্রশ্নের উত্তরে সাথে কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না। অর্ণব সবটাই জানে তারপরও সাথীকে বিব্রত করার জন্য প্রশ্নটা করল। ধ্রুব হয়তো বুঝতে পেরেছিল সাথে সিচুয়েশনটা। তাই সে ও অর্ণবের মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলল,
" শালা ভালো প্রশ্ন করলে কর না করলে না কর। কারোর পার্সোনাল মেটার নিয়ে ঘাটার অধিকার তোর নাই! "
অর্ণব মাথা ডলতে ডলতে বলল,
" সম্বন্ধি আমার তাহলে তুমি প্রশ্ন করো! "
" ওকে ফাইন! সাথী বল স্কুল লাইফে তোর কি কোন ক্লাস ছিল! "
ধ্রুবের প্রশ্নে সাথী এবার মাথা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়। তারমানে ছিল। অর্ণব কে ছিল তাই জানতে চাইলো । ধ্রুব বলল শর্তে কিন্তু একটা প্রশ্ন করাই উল্লেখ আছে। সো নো মোর কোশ্চেন!
এবার বোতলটা আবারও ঘোরানো হলো,
এবার থামলো নিরবের সামনে,
রুমিনা বলল নিরব কে আমি জিজ্ঞেস করবো,
অর্ণব ডেয়ার নিল।
"তাহলে তোর ডেয়ার হল, এরপর বোতলটা যার সামনে তাক হবে তার সাথে গিয়ে সব রকমের চকলেট এখানে নিয়ে আসতে হবে। "
নিরব নাকোচ করে বলল,
"এটা কি ধরনের ডেয়ার? এত রাতে আমি চকলেট কই পাব। "
"ডেয়ার ইজ ডেয়ার যা দেয়া হয়েছে তাই পূরণ করতে হবে। "
নিরবের আর কি করার মেনে নিল।
বোতলটি আবারো ঘুরানো হলো। এবার গিয়ে থামল ধ্রুবর সামনে। তারমানে নিরব আর ধ্রুবকে গিয়ে এখন চকলেট নিয়ে আসতে হবে। এটা কি ধরনের প্যাচে পরলো ধ্রুব? ওতো জীবনে কোনদিনও চকলেট খায় না। এখন আবার সব রকমের চকলেট এখানে নিয়ে আসতে হবে? ধ্রুব বিরক্তিতে চ সূচক উচ্চারণ করল।
কি আর করার যেতেই হবে। ধ্রুব আর অর্ণব চলে গেল চকলেট আনতে। এখানে ছিল শুধু অর্ণব সাথি রুমিনা আর তারা ।
তারার পানি পিপাসা পেয়েছিল। পাশে তাকিয়ে দেখল অর্ণব একটা বোতল থেকে পানি খাচ্ছে।
তারা অর্ণবের উদ্দেশ্যে বলল,
" ভাইয়া আমাকে একটু পানি দিন না খুব পিপাসা পেয়েছে। "
অর্ণব তারার কথায় আমতা আমতা করে বলল,
" লিটিল বার্ড এটা পানি নয় তো তুমি খেওনা। খেতে পারবে না তুমি। "
কিন্তু তারা তো তারাই। একবার যেটা জেদ ধরে সেটা নিয়েই তবে ছাড়ে। সে জানিয়ে দিল ওই বোতলের পানিই খাবে।
অর্ণব তো দিবে না কিন্তু তারা জোর করেই নিল। অর্ণব কি করে বোঝাবে এটা তো পানি না।
তারা বোতলটা হাতে নিয়ে কিছুটা খেল। কি বিশ্রী একটা গন্ধ। তারা নাক মুখ সিটকে খেতে লাগলো। অর্ণব সাথি রুমিনা বাধা দেয়ার সত্বেও ছাড়ল না। খেতে খেতে পুরো বোতল সাফ করে দিল ।
একি মাথাটা এরকম ঝিমঝিম করছে কেন। সবকিছু মনে হচ্ছে ঘুরছে। তারা ধপ করে একটা চেয়ারে বসে পড়ল। মাথাটা ধরে নিরব হয়ে আছে।
এরকম কেন লাগছে।
তারপর তারা উঠে দাঁড়ালো। টলছিল ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছিল না। তবুও দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করতে লাগলো। টেবিলের ওপর ভর দিয়ে দাড়ালো। তারপর পাগলের প্রলাপ বলতে শুরু করলো,
" কোথায় গেল সে অসহ্য পুরুষটা। নিয়ে এসো তাকে আমার সামনে। আজ আমি তাকে গুলি করে খুলি উড়িয়ে দেব। কত বড় সাহস আমাকে থাপ্পর মারে। জায়গা বরাবর একটা লাথি দেবো ভবিষ্যৎ বাত্তি নিভে যাবে। কো কো কোথায় ওই অসহ্যপুরুষ কোথায় গেলেন আপনি সামনে আসো আমার!"
অর্ণব তো ভয়ে ছিটিয়ে গেল। ওই এসপি এসে এক্ষুনি ওর চাকরি বারোটা বাজাবে। কি করবে অর্ণব ভেবে পাচ্ছে না। এদিকে শুধু সাঁথি আর রমিনার অবস্থাও তাই।
কিছু সময় পর ধ্রুব আর নীরব ফিরে আসলো। ধ্রুব এসে তারার পাগলামো দেখে ভুরু কুঁচকে ফেলল।
অর্ণবের দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো। অর্ণব ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বললো,
" দেখ ভাই আমার কোন দোষ নাই। আমি তো খাচ্ছিলাম কিন্তু তোর বোন আমার হাত থেকে জোর করে নিয়ে নিজে খেতে শুরু করল। আমার কি দোষ বল তোর বোনের জেদের সাথে তো আমি পারিনি। আমি কিছু করি না ভাই আমার দিকে এভাবে তাকাস না আমার প্যান্টি ভিজে যাবে। "
ধ্রুব আবার তারার দিকে তাকালো। তারা এতক্ষণে ধ্রুবকে দেখলো। তারপর উঠে এসে ধ্রুব'র কাছে গেল। নিজেকে সামলাতে না পেরে পড়েই যাচ্ছিল কিন্তু ধ্রুব ওকে কোমর পেচিয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। তারপর বলল,
" ড্রামা কুইন এর বাচ্চা এসব কি খেয়েছিস তুই? তোকে এই অবস্থায় আমি বাড়ি নিয়ে যাব কি করে?"
" আমি তো বাইক নিয়ে আসছি তুই তো বাইকে বসার মত অবস্থাতেই নাই। "
তারা ধ্রুবড় শার্টের কলার চেপে ধরে বলল,
" ওই অসহ্য পুরুষ আপনি আমাকে ভালবাসেন না কেন। সারাক্ষণ শুধু ধমকান আমাকে মারেন কেন। আমার মত একটা সুন্দরী মেয়েকে কি ভালবাসতে আপনার জাত চলে যায়। ?
তারা কথাগুলো বলে ধ্রুব সাথে একদম মিশে গেছিল। ওদের দুজনের মাঝে দূরত্ব বলতে কিছুই ছিল না। তারা এবার একটা অপ্রত্যাশিত কাজ করে বসলো। ধ্রুব'র দুই পায়ের উপর পা তুলে দিয়ে গলা পেঁচিয়ে জড়িয়ে ধরল। ধ্রুব ভারসাম্য ধরে রাখার জন্য তারার কোমর আরো শক্ত করে ধরল। তারার ধ্রুব এত কাছে আসায় ধ্রুব অস্বস্তিতে ভুগছিল। না পারছে তারাকে ছিটকে দূরে সরিয়ে দিতে আর না পারছে তারার এই ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে। এখন যদি ধ্রুব কিছু করে দেয় তাহলে তো বাবা ধ্রুব'রই দোষ হবে। কিন্তু কোন পুরুষ কি পারেন নিজেকে এই অবস্থায় কন্ট্রোল করতে।
তারা ধ্রুবর এক হাত দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরে সার্টের ওপরের বোতাম ৩ টা খুলে দিল এক হাত দিয়ে।
তারপর দুপুরের লোমহীন ফর্সা শক্ত বুকে একটা কামড় বসিয়ে দিল জোরে করে। যতক্ষণ না দাঁত বসে রক্ত বেরিয়ে আসছিল ততক্ষণ ছাড়লো না। গালে নোনতা ক্ষারিয় কিছু স্বাদ পেতেই তারা ধ্রুবকে ছেড়ে দিল। তারপর তাকিয়ে দেখল উপরে এবং নিচে মিলে ছয়টা দাঁত বসে গেছে। সামান্য একটু রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তারা এবার রক্ত দেখে দূরে সরে আসলো। ধ্রুব 'তারা কে দূরে সরে যেতে দেখি সেও ছেড়ে দিয়েছিল।
তারপরে শুনতে পারলো তারার আচ্ছা গলার অস্পষ্ট কথা,
" সমান সমান আপনি আমার থাপ্পর দিয়ে রক্ত বের করে দিয়েছেন আমি আপনাকে কামড় দিয়ে রক্ত বের করে দিলাম। "
(চলবে.....)