#জটিল_প্রেম
#পর্ব:২
---------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ। লিংক শেয়ার করলে সরাসরি আমার পেজ থেকে শেয়ার করবেন।
গল্প'টি রোমান্টিক ধর্মী।)
.
নব প্রভাত কে স্বাগতম জানাচ্ছে পাখিরা নিজের সুরেলা কণ্ঠে। সূর্যি মামা উঁকি দিচ্ছে নিয়ম মাফিক। কক্ষ জুড়ে অন্ধকার। এসি'র শীতল বাতাসে জর্জরিত বিশাল কক্ষ। জানালা,ব্যালকনির মোটা পর্দা সূর্য রশ্মি'কে কক্ষের ভেতর প্রবেশ হতে বাধা দিচ্ছে। বিস্তীর্ণ বিছানার ধারে কোমর পর্যন্ত চাদর টেনে নিদ্রায় মগ্ন এক সুপুরুষ। তার পেশীবহুল বাহু দৃশ্যমান। হঠাৎ কটু শব্দে বেজে ওঠে বেড সাইট টেবিলে রাখা মুঠো ফোনটি। সামান্য ভ্রু কুঞ্চিত করে, হলুদ বালির মত রং এর অবয়বী পুরুষের কপালে ভাঁজ পড়ে। কোনো রকম টেবিল হাতড়ে এলার্ম অফ করে উঠে বসে। ঘাড় হাত মোলে বিছানা থেকে নামে। স্লিপার পরে হেঁটে যায় ওয়াশরুমের দিকে।
একটা ইম্পর্টেন্ট মিটিং আজ। মিটিং এর দায়ভার তার চাচ্চু তাকে দিয়েছে। লেট হওয়া তার পছন্দ নয়। ইভেন,,,তার কারোরই কর্ম ক্ষেত্রে দেরি করা অপছন্দ। ড্রেসিং টেবিল ক্রস করে ওয়াশরুমে প্রবেশ করার আগে কি মনে করে সে আবার ড্রেসিং টেবিলের সামনে আসে দাঁড়ায়। কিছু মুহূর্ত হতবাক হয়ে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে চেয়ে থাকে। এটা সে? যখন বোঝে আসলেই এটা সে তখনই দেয় একটা বাড়ি ঘর কাঁপিয়ে চিৎকার।
"রুমিইইইইইইইই।"
তাওয়াল দিয়ে ভেজা মুখ মুছতে মুছতে, বড়ো বড়ো কদম ফেলে সে এসে দাঁড়ায় আপন আদরের বোনের রুমের সামনে। দরজায় বারংবার নিজের বৃহৎ হাতের থাবা বসাতে থাকে। রাগে লাল হয়ে বলে,,,
"রুমি,,, ওপেন দ্যা ডোর। তোর এক দিন কি আমার দশ দিন। তোকে একবার হাতের সামনে পাই! দরজা খোল,,,এক্ষুনি।"
ওইপাশে'র উত্তর শূন্য। যেনো আয়াজ এর কন্ঠ শুনতে পারছে না। এইবার আয়াজ জেদী কন্ঠে বলল,,,
"আজকে মিটিং থেকে আসি,,, তারপর তোর ব্যবস্থা করবো।"
কথাটি বলেই আয়াজ প্রস্থান করে। এদিকে নরম বিছানায় আরমোড় ভাঙতে থাকে রুমি। সূর্যের আলো কোনো রকম ভাবে হাতের আড়াল করার চেষ্টা করে। কিন্তু করে কি লাভ? তার গুণে ভরপুর ভাইয়া তার স্বাধের ঘুমের বারোটা বাজিয়ে গেলো। লম্বা শ্বাস টেনে উঠে বসে। শুভ্র চেহারায়,শান্ত শিষ্ট ভাব মেয়েটার। মোলায়েম কন্ঠে নিজেকেই বলে,,,"a very good morning Rumi."
বিছানার পাশে পড়ে আছে তার মেকআপ এর সামগ্রী। ইসস,,,কত মেহেনত করলো সে। ভোরে ওঠে,,, আপন ভাইয়ার রুমে চুপিচুপি গিয়ে, তার সুদর্শন ভাইয়ের মুখে মেকআর্ট করা কি চারটিখানি কথা! উম হুঁ একদম না। তার সতর্ক ভাই যদি উঠে যেতো তাহলে কি হতো? রুমি এইবার বিছানা ছেড়ে নেমে দাঁড়ায়। কিছু মনে করে মনে মনে হেসে বলে,,,
"মাই ডিয়ার ব্রাদার, পিকচার তো আভি বাকি হেয়।"
দুষ্টুমি ভরা হাসি দিলো সে। শান্ত শিষ্ট রুমি সবার কাছেই। কথা কম বলা নরম স্বভাবের কারণে সবাই তাকে পছন্দ করে। কিন্তু তার দুষ্টুমিতে ভরা এই দিক একান্তই কাছের মানুষদের জন্য।
-----------
ওদিকে খান বাড়ির সবাই উপস্থিত ডাইনিং টেবিলে। বাড়ির দুই বউ সবাইকে সকালের নাস্তা সার্ভ করছে। আনোয়ারা বেগম নিজ বড়ো ছেলে জুলফিকার খানের দিকে তাকিয়ে বললেন,,,
"দাদুভাই কে নিয়ে কিছু ভেবেছিস ফিকার?"
জুলফিকার খান খাওয়া রেখে মায়ের দিকে অনিমেষ চেয়ে বললেন,,,"কি নিয়ে ভাবার কথা বলছো আম্মা!"
আনোয়ারা বেগম বলেন,,,"উপযুক্ত বয়স হয়েছে ছেলের,,,বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবলি?"
জুলফিকার খান দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে,হতাশ কন্ঠে বললেন,,,"বিয়ের কথা বললে এড়িয়ে যায় আম্মা।"
"এড়িয়ে যায় বললেই হলো! বিয়ে উপযুক্ত বয়সে না দিলে পরে আর বিয়েই দেওয়া যায় না। মানুষ তো আর বোঝে না, বিয়ে বিহীন বাঁচা কত কষ্টকর। হাতে পায়ের তেজ আছে এখন তাই ভালো লাগছে,,,শেষ কালে কাউকে পাশে না পেয়ে আফসোস ছাড়া কিছুই হবে না।"
জারিন এর হাত থেমে গেলো। তার গলার মাঝে রুটির টুকরা আটকে পড়েছে যেনো। কাঁপা হাতে পানির গ্লাস তুলে কোনো রকম পানি খেয়ে নিজেকে সংযত রাখলো। আনোয়ারা বেগম এর এক একটা কথা যেনো তাকেই ঘিরে। আনোয়ারা বেগম এর ছোটো ছেলে আমান খান বিষয়টি বুঝলো। বোনের কষ্ট যে বড় পিড়া দেয় তাকে। আমান খান বিষয় ঘুরিয়ে জারিন এর দিকে তাকিয়ে বললেন,,,
"জারিন আজ এনজিও যাবি না?"
জারিন ফিরে তাকায় আমান খান এর দিকে। মলিন হেসে বলে,,," যাবো দাভাই।"
জুলফিকার খান ও বললেন,,,"কোনো অসুবিধে হলে জানাবি কিন্তু।"
"আচ্ছা"
জারিন আবার খাওয়ায় মন দেয়। সে একটা এনজিও চালায়। যেখানে নিম্নবিত্ত বাচ্চাদের এইট পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ানো হয়। আর স্বামীহারা মহিলাদের বিভিন্ন কাপড়ের উপর ফুলকারী করা শেখানো হয়,যাতে তারা এই কাজ করে স্বাবলম্বী ভাবে কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারে। তাদের বানানো ফুরকারী বেচাকেনা করে সামান্য অর্থ তাদের হাতেও দেওয়া হয়। ছয় বছরের অধিক হয়েছে জারিন'কে এই এনজিও প্রতিষ্ঠা করার।
ভাগে পাওয়া সম্পত্তির বেশিরভাগ অংশ বিক্রি করে এই এনজিও দাড় করিয়েছে জারিন। দুই ভাইয়ের সমর্থন ছাড়া জারিন আর কিছুই চাইনি।
জারিন সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। তার চিত্ত কোণে পড়ে রইলো ব্যর্থতা আর দীর্ঘশ্বাস। একটা রিক্সা ডেকে জারিন উঠে বসল। রিক্সা এগাতে নিলেই জারিন বলে ওঠে,,,
"চাচা সামনের রাস্তা থেকে যাবেন না ঘুরে চলুন।"
"কেনো মা! রাস্তা কি খারাপ সামনে?"
"নাহ,,,"
"তাহলে? ঘুরে গেলে যে অনেক রাস্তা!"
"আপনি চলুন,,,আমি আপনার প্রাপ্য টাকাই দেবো।"
আর কথা এগালো না রিক্সাওয়ালা চাচা। ঘুরিয়ে নিল রিক্সা। চলতে আরম্ভ করলো আপন গতিতে।
জারিন একবার তার নির্মল দৃষ্টিতে পিছন ঘুরে তাকালো। জারিনের মনে নেই সে শেষ বার ওই রাস্তা থেকে কবে হেঁটেছিল!
------------
"ও দাদু ভালো আছো!"
"হ্যাঁ,,,ভালো আছি মা। তুমি কেমন আছো?"
"বিন্দাস,,,,"
কথাটি বলে একপ্রকার নেচে কুদে হেঁটে চলে যায় আসিফা। চঞ্চল,প্রাণবন্ত একটা মেয়ে সে। সবার মনকে জয় করে নেওয়ার মতো এক অসীম শক্তি আছে তার মাঝে। কথা আর হাসি দ্বারা মানুষকে খুব দ্রুত আপন করে নিতে পারে। এই যেমন দাদু'টা, যতবার রাস্তা দিয়ে যাবে ততবার দাদুটাকে জিজ্ঞাসা করবে ভালো মন্দ। শুধু ইনিই নয়, দোকানদার থেকে শুরু করে রিক্সাওয়ালা চাচাদের পর্যন্ত আসিফা ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা করে। তার মনে হয় পৃথিবীর সবার সাথে বন্ধুত্ব করতে পারলে খুব ভালো হতো।
আজ আসমানের মত তার মেজাজটাও ফুরফুরে। আশেপাশের ব্যস্ত মানুষের ভিড়ে আসিফা যেন চড়ুই পাখি। বাড়িতে আজ মেহমান আসবে তাই তো তার মা তাকে কিছু জিনিস কেনার জন্য পাঠিয়েছে। চনঞ্চলিত পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে কিন্তু হঠাৎ ঘটে এক বিপত্তি। রাস্তার পাশে কাদা জামা পানি ছিটকে পড়ে আসিফার গায়ে। চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে এবং মুহূর্তেই তা খুলে চিৎকার করে ওঠে,,,,
"আআআআআআআ,,,,এই অন্ধের ঘরের মোমবাতি। দাঁড়া বলছি,,,রাস্তা'কি তোর বাপের! শালা,,, পঁচা পানির পোকা।"
আসিফার চিৎকারে মুখরিত হয় আশপাশের পরিবেশ। তারা সবাই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু সেদিকে আসিফার কোন লক্ষ নেই। তার লক্ষ্য চলন্ত গাড়ির দিকে ঢিল ছোড়ার। রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া আদলা'ইট এক ছুড়ে মারে গাড়ির দিকে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি থেমে যায়। আসিফা রাগে ফুঁসছে যদি গাড়ির মালিককে হাতের সামনে পায় যেন তার চুল সবকটা উপড়ে ফেলে।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষের দৃষ্টি তখন গাড়ির দিকে। তারা খুব তীব্র আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। এরপরে কি হতে চলেছে। সবার চোখের শীতলতা বাড়িয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসে এক সুঠাম দেহি পুরুষ। অ্যাটিটিউড'এ ছড়িয়ে আছে আভিজাত্য। পরনের ফরমাল ড্রেস। চোখে সানগ্লাস। সবমিলিয়ে ছেলেটিকে একদম ড্রিম বয় লাগছে। নাম তার আয়াজ। শেখ আয়াজ। আসিফা এই বার বড় বড় কদম ফেলে এগিয়ে আসে তার দিকে। তীব্র আক্রোশ নিয়ে,কোমরে হাত রেখে বলে,,,
"অন্ধ নাকি! চোখে দেখতে পান না! রাস্তা থেকে কি উড়ে উড়ে যাওয়ার ইচ্ছা! আশেপাশের মানুষজনকে দেখবেন না! দেখেছেন আমার কি অবস্থা করেছেন!"
আয়াজ এর চোয়াল দৃঢ় হয়। মেয়েটি এক নম্বরের বাঁচাল। খান বাড়ির বাগানের বিচুটি পাতা। আয়াজ গমগমে সুরে আওড়ায়,,,
"রাস্তায় যখন নাচতে নাচতে যাও তখন আশেপাশে চোখে পড়ে না! মানুষ তোমার দিকে কিভাবে তাকিয়ে থাকে সেটা জানো?"
আসিফা ফুঁসে ওঠে বলে,,,"আমার ইচ্ছা, আমি যেভাবে ইচ্ছা রাস্তা দিয়ে হাঁটবো তাতে আপনার কি! রাস্তা কি আপনার বাপের?"
আয়াজ দাঁত কিড়মিড় করে বললো,,,"ইউ! তোমাকে তো আমি!"
"কি করবেন!"
"ড্রেস খারাপ হয়েছে তো কি হয়েছে! টাকা দিচ্ছি কিনে নাও।"
বলেই পকেট থেকে দুই হাজার টাকা বের করে আসিফা'র দিকে বাড়িয়ে দেয়। আসিফা চোখ মুখ খিঁচিয়ে প্রচন্ড উত্তেজিত কন্ঠে বলে,,,,
"টাকার গরম দেখান হ্যাঁ! আমায় টাকার গরম দেখান! এখানে,,, এখানেই দাঁড়ান।"
আসিফা ধপ ধপ পা ফেলে এগিয়ে গেল সেই রাস্তায় জমাট বাধা কাদা পানির দিকে। অতি ক্রোধের সহিত দুই হাত দিয়ে সেই নোংরা পানি সমেত এক মুঠো কাদা তুলে ধরল হাতের মাঝে। অতঃপর সেকেন্ড অপেক্ষা না করে আয়াজের কাছে এসে তার দামি ফরমাল ড্রেসের ওপর ছিটিয়ে, মাখিয়ে দেয় সেই নোংরা কাদামাটি।
আয়াজ হা হয়ে রয়। মেজাজ উঠেছে তার তুঙ্গে, সে পারে না মেয়েটিকে মাথায় তুলে আচার মারতে। রাগে থরথর করে কাঁপছে সে, ফুঁসছে তার শরীর।
ভারিক্কি নিঃশ্বাসের শব্দ আসিফা ও শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু সেদিকে তার কোন গুরুত্ব নেই। তার মনে এখন ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেছে, শান্তি লাগছে। নিজের ব্যাগ থেকে দশ টাকার নোট বের করে আয়াজ এর ধরে রাখা টাকার ওপর দিয়ে মৃদু হেসে বলে,,,
"এই টাকা দিয়ে আপনার দামি সুট তো কেনা হবে না কিন্তু ডিটারজেন্ট কিনতে পারবেন,,,এটা ধোয়ার জন্য! ওকে, বাই।"
ঠিক যেভাবে কিছুক্ষণ আগে আসিফা প্রাণবন্ত হয়ে রাস্তায় হাঁটছিল ঠিক সেই ভাবে আবার উড়ে উড়ে চলে গেল অন্যদিকে। এদিকে আয়াজ সবার দৃষ্টি উপেক্ষা করে গাড়িতে উঠে বসে। জোরদার একটা পাঞ্চ করে স্টেয়ারিংয়ে। আজ সকাল থেকেই তার দিন খারাপ যাচ্ছে। আজ ইম্পরট্যান্ট মিটিং এর দিনেই এই বাচাল মেয়েটার সাথে দেখা হতে হল!
-------------
অফিসের বরাদ্দ করা একটা কামরা আছে। সেখানে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা থাকে। আয়াজ আগে অফিসে ঢুকে নিজের ড্রেস চেঞ্জ করে, শাওয়ার নেয় আবারো। মনে মনে উদ্ধার করতে ভুলে যায় না আসিফা কে।
সিঙ্গাপুরের ক্লায়েন্ট দের সাথে খুবই গুরুত্বপুর্ণ মিটিং চলছে। নিস্তব্ধতা বিরাজমান পুরো কক্ষ জুড়ে। যাকে ইংলিশে বলে পিন ড্রপ সাইলেন্ট। মাঝেমধ্যে খুবই সিরিয়াস এবং সৌজন্যতার সাথে সবাই নিজের নিজের বক্তব্য পেশ করছে। লিড চেয়ারে বসে আছে আয়াজ।। সুগঠিত পুরুষালি দেহে পরিহিত ফরমাল ড্রেস। কোর্ট খুলে পাশে রাখা, শার্টের ওপরে পড়া টাই সাথে গম্ভীর মনোভাব দেখলে যে কেউ এই ছেলের প্রতি আকৃষ্ট হবে।
আয়াজ সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে বসে আছে। সবাই অপেক্ষা করছে তার কথার। আয়াজ লম্বা শ্বাস টেনে কিছু বলতে যাবে তার আগেই বেজে উঠলো তার ফোন। থমথমে কক্ষ কাঁপিয়ে ছড়িয়ে পড়ল রিংটোন,,,,"বাবা আমার কি বিয়ে হবে না!
বাবা আমার কি বিয়ে হবে না!"
আয়াজ এর ব্যক্তিত্বের থেকে একদম বিপরীত কলার'টোন শুনে অবস্থিত প্রতিটি ব্যক্তি অবাক হয়। একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে আয়াজ। দ্রুততার সাথে নিজের ফোনটি চেপে ধরে বৃহৎ হাতের মুঠোয়। সবার দিকে একবার তাকিয়ে ফোন সাইলেন্ট করে। ক্ষিপ্ত কন্ঠে বিড়বিড় করে বলে,,"রুমিইইই"
চোখ পিটপিট করে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। সবার দিকে তাকিয়ে গমগমে সুরে বলে,,," We hope to enjoy working with your company. It will be a good experience."
ওপর পক্ষের মানুষের মুখে ফুটে ওঠে হাসি। তারা আয়াজে'র সাথে হ্যান্ডশেক করে ধীরে ধীরে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। বিশাল মিটিং রুমের শেষ কিনারে কাঁচের দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এক পুরুষ। সবাই বেরিয়ে যেতেই ধীরে ধীরে সে হেটে আসে আয়াজ এর কাছে।
দৃঢ় চোয়াল নিয়ে বসে থাকা আয়াজ এর কাঁধে হাত রেখে পুরুষটি মশকরা সুরে বলে উঠে,,,
"ভাইপো,,,বিয়ে বিয়ে পাচ্ছে সেটা আমায় বলবে না! এইবার তোমার বিয়ে দিতেই হবে। রিংটোন এর মাধ্যমে যে ইশারা আমাকে দিয়েছো তা শুনে আর কি আমি বসে থাকতে পারি!?"
আয়াজ তাকায় তার এভার গ্রিন চাচুর দিকে। বয়স তাঁর একচলল্লিশ। ফিট, ফাইন তার লম্বা চওড়া দেহ । আয়াজ নিজের চাচু কে যতবার দেখে ততবার মুদ্ধ হয়। ভাইপো আর চাচু যেনো দুই বন্ধু। আয়াজ হাহ্ শব্দ করে,চোখ উল্টায়। তার হ্যান্ডসাম চাচুর পেটে হালকা পাঞ্চ মেরে বলে,,,
"মিস্টার শেখ রাফাজ,,,তোমাকে বিয়ে না দিয়ে যদি আমি বিয়ে করি তাহলে পাপ হবে। দেখা গেলো আমার বউও আমার ড্যাশিং চাচুর প্রেমে পড়ে গেল!"
হেসে উঠলো রাফাজ। অতপর আয়াজ কে চিয়ারে বসিয়ে নিজেও বসলো। গর্বের সাথে বললো,,,
"আই এম ইম্প্রেসড ভাইপো। আজকের এত গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এত সহজে ক্লিয়ার করা,,ইটস নট ভেরি ইজি,,, বাট ইউ ডু ইট।"
"থ্যাংক চাচু। তোমার কাছ থেকেই সব শেখা।"
"কি চাই আমার ভাইপোর?"
আয়াজ কিছুক্ষন মাথা নিচু করে তৎক্ষণা তাকায় তার চাচুর দিকে। অনিমেষ চেয়ে থেকে দৃঢ় কণ্ঠে বলে উঠলো,,,"সত্য,,,"
রাফাজ এর হাস্যউজ্জ্বল চেহারা মুহূর্তেই গম্ভীর রূপ ধারণ করে। কিছু কথা মনে পরতেই ঝপ করে চোখ বন্ধ করে নেয়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে এগিয়ে আসে আয়াজ দিকে। ভাইপোর কাঁধে হাত রেখে বলে,,,
"যে মিথ্যা মানুষের ক্ষতি করে না সে মিথ্যা ছড়িয়ে যাক,,,তাতে কি!"
"কিন্তু ওরা,,,"
"ভাবুক, ঘৃণা করুক! যেখানে আমার কোন অসুবিধা নেই সেখানে এত প্রশ্ন কিসের আয়াজ!"
আয়াজ কিছুক্ষন চুপ থাকে। তার মনে অনেক প্রশ্ন। তার চাচুর দিকে তাকালে এটা বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হয় যে,তার চাচু এমন এক কাজ করেছে যার দাগ বয়ে বেড়াচ্ছে গত তেরো বছর ধরে। আয়াজ আর কথা এগোই না। চাচুর দিকে মলিন হেসে বলে,,,,
"চলো,,,"
রাফাজ চোঁখ ছোটো ছোটো করে বলে,,,"তুই সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিস তাই না!"
"নাহ চাচু,,,ওটা তো শেখ রাফাজ এর উড়ানো সিগারেট এর ধোঁয়া ইনহেল করার জন্য বাহিরে যাচ্ছি।"
"তুই বাপ কা বেটা না,,,তুই হলি চাচু কা বেটা।"
---------------
কলেজ গেটের সামনে এসে রুমি দাঁড়াতেই তার মুখের সামনে ভাউ করে ওঠে আসিফা। ভয়ে বুকে থুতু দেয় রুমি,,,দেয় এক চাপড় আসিফার বাহুতে।
✍️:আসিফা খান।
ক্রমশ
-----------------(রোমান্টিক গল্প। প্রতিটা চরিত্র ধীরে ধীরে বুঝতে পারবেন।)