ফন্ট সাইজ:
থিম:
জটিল প্রেম

৮ম পর্ব

লেখক: আসিফা খান

#পর্ব_৮

#জটিল_প্রেম

----------------------☞

(গল্প কপি করা নিষেধ)

.

হয়তো কোনদিন তুই চাইবি আমাকে

সেদিনও তুই অন্য কারো,আমি আকাশে🎶

তারার মতো জ্বলবো না হলে জোনাকি

তবুও তো তোর মত, হায় দেবোনা ফাঁকি 🎶

একদিনও কি ভালোবাসা ছিল না রে মনে

দারুন খেলা খেলি গেলি আমার গোপনে 🎶

আমায় কাঁদাস না আর কাঁদাস না রে তুই

তোর স্মৃতি ছাড়া নেই আমার কিছুই🎶

আমায় কাঁদাস না আর কাঁদাস নারে তুই

তোর স্মৃতি ছাড়া নেই আমার কিছুই 🎶

প্রিয়া....ওরে ....প্রিয়া..... প্রিয়া.... ওরে ....প্রিয়া।🎵🎶

চারিদিকে মৃদু মন্দ বাতাসের হাতছানি। আকাশে জমছে কালো মেঘের দল। রাতের নিকষ কালো অন্ধকারের মাঝে নারী কণ্ঠী সুরে এই পঙ্ক্তি গুলো যে কারো মনে ঝড় তুলতে সক্ষম। অবাধ্য অশ্রু বিন্দু গড়িয়ে পড়ছে কোনো অনুমতি ছাড়া। চোখের সামনে হাজির হলো কিছু স্মৃতি। জারিন পারে না নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে। এই কষ্ট,দুঃখ থেকে কোষ দূর যেতে চায়। জীবনের এমন এক সীমারেখায় সে দাড়িয়ে যেখান থেকে যেদিকেই তাকানো যাক না কেনো,,,সবটাই বিষাদ পরিপূর্ণ।

জারিন এর গলা কাপছে। শরীর অসাড় হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। নিশ্বাস এর গতি বাড়ছে শুধুই।

যার ঘ্রাণ থেকেও নিজেকে দূরে রেখেছিল আজ সেই তার অতি নিকটে চলে এলো! কত দিন পর সেই মানুষটির কন্ঠস্বর শুনলো সে! ঠিক মনে নেই।

জারিন না চাইতেও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। আধারের জোয়ারে ভেসে আসা এহেন বেদনাদায়ক কান্নার সাক্ষী হলো এই নিস্তব্ধতা,নির্জনতা, হয়তো আরো কেউ। একদম নীরবে নিভৃতে।

আকাশে দেখা গেলো মৃদু বিজলীর ঝলকানি। হয়তো শাসিয়ে বলছে, ঘরে যাও নাহলে আমি এখনই বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বো। জারিন অনুভূতিহীন নয়নে তাকালো আসমানের দিকে। এক কাধ থেকে খসে পড়ল ওড়না,,,জারিন এর মনে হচ্ছে কোনো পাষাণ তার বুকে পাথর চাপিয়ে দিয়েছে। জোরে জোরে নিশ্বাস ত্যাগ করতে করতে একটা সময় চিৎকার করে উঠল জারিন। আহাজারি করে বলতে লাগলো,,,

"দেহের মৃ*ত্যু সবাই দেখে, কেউ'কি দেখে আত্মার ম*র*ণ!

সে আমাকে নিঃস্ব করে দিলো রব। ভালোবাসার শাস্তি এত ভয়ংকর ভাবে দিলো যে, যেখান থেকে বাঁচার উপায় নেই। যা আছে তাহ শুধুই আকুতি।"

ভারিক্কি নিঃশ্বাসের তালে তালে জারিন এর শরীর টলমল করছে। কাপতে থাকা দুই হাত নিজের চোখের সামনে তুলে ধরলো অতি কষ্টে।

"বউ সেজে,এই হাতে আমি মেহেন্দি লাগিয়ে অপেক্ষা করছিলাম তোমার জন্য। অনেক অপেক্ষা। কিন্তু তুমি আসোনি। আমার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দাওনি তুমি রাফাজ। তুমি এমনটা কেনো করলে! তাহলে কি সব মিথ্যা ছিলো? সব!

তোমার ভালোবাসার দাবিতে, পিচ্ছিল আমার হৃদয় তোমার আমানতে রেখেছিলাম। সেই আমানতের খিয়ানত করলে এত রুক্ষতার সহিত!?

এত বছরে কি একটু আমার কথা মনে পড়েনি! সেদিকে পর থেকে একটা খবরও দিলে না। তবে কি বুঝে নেবো,আমাদের মাঝে শুধুই তোমার ছলনা ছিলো! তুমি প্রতারক রাফাজ,,,তুমি আমার দীর্ঘশ্বাসে লুকিয়ে থাকা এক হৃদয় বিধারক বেদনা। আমি তোমায় পারিনা ভালবাসতে, আমি তোমায় পারিনা ক্ষমা করতে।"

ঝাপসা চোখে জারিন দূরে,শূন্যে তাকায়। ধীরে ধীরে রেলিং ঘেঁষে বসে পড়ল সে। নেতিয়ে যাচ্ছে শরীর।

জারিন কে কেউ আগলে নিতে চাইলো। মিশিয়ে নিতে চাইলো বুকের মাঝে। কিন্তু সেই সাধ্যি কি তার আছে! নেই বলেই তো সে দূরে। ছাদের সেই কোণে দাঁড়িয়ে থাকা রাফাজ এর মধ্যে বয়ে যাচ্ছে উত্তাল ঢেউ। রাশভারি হলো চিত্ত। লম্বা প্রশস্থ দেহ খানা কাপছে তার। চোখের পলক ফেলতেই গড়িয়ে পড়ল নোনা বারিকোণা।। তার জারিন ঐখানে! ওই যে রেলিং ঘেঁষে বসে হাঁফাচ্ছে যে মেয়েটা,,,,,,,,,,,,,,, সে তার। হ্যাঁ তারই,,, নিজের সর্বস্ব কবেই সেই মেয়েটাকে লিখে দিয়েছে। এই মেয়েটার থেকে দূরে থাকা যন্ত্রণার,,আর সেই যন্ত্রণাময় জীবন পার করছে রাফাজ অতি দক্ষতার সাথে।।

আজ বাড়ি ফেরার সময় অস্থির হয় রাফাজের অন্তর। কিছু না ভেবেই রেলিং বেয়ে উঠে আসে ছাদে। এই কাজে সে দক্ষ। প্রেম চলা কালীন প্রেয়সীর রাগ ভাঙ্গাতে কতই এসেছিল এই ভাবে।ভাগ্যিস আগেভাগে জারিনকে ছাদে দেখেছিল সে। রাফাজ চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে রয়। চোখ তার প্রেয়সির পানে। তাকে ছোঁয়ার অনুমতি নেই আছে শুধু দূর থেকে দেখার অনুমতি। সেই অনুমতি'ও রাফাজ কারোর কাছ থেকে নেয়নি। নিজেই সেই অনুমতি হাসিল করেছে।

রাফাজ এর চোখ জ্বলছে। মস্তিষ্ক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে তার। নিজের ফিছলে কন্ঠেই বলে ওঠে,,,

"এলোমেলো এই জীবনে,,,কিছু কথা আড়ালে থাকায় শ্রেও। আমি আজ বড়ই অসহায়। আমার ভালবাসা কখনোই ঠুনকো ছিল না আমার জারিন। যদি অতীতে ফিরে যাওয়া যেত,, যদি সব কিছু গুছিয়ে ফেলা যেত,, তাহলে কতই না ভালো হতো। আমার বুকের মাঝে তোমায় আগলে নিয়ে নিজের বাকিটা জীবন পার করে দিতাম।"

রাফাজ তাচ্ছিল্য হেসে বলে,,,"একদিন তোমার ভালোবাসা আমার সাথে ভাগাভাগি করে নিয়েছো, এখন তোমার ঘৃণার মাঝে ও নিজেকে দেখতে খুব ভালো লাগে। কারণ পৃথিবীতে মানুষ ঘৃণার ভাগ ও সহজে কাউকে দেয় না।।

কিন্তু কোন একদিন তোমার এই সমস্ত ভুল ভাঙবে। কোন একদিন তুমিই আমারই হবে। জারিন শুধুই রাফাজ এর। আমাদের এই জটিলতায় আক্রান্ত হৃদয় দ্রুত নীল আকাশ পাবে।"

রাফাজ দ্রুত চোখের পানি মুছে ফেলে টালমাটাল শরীর নিয়ে জায়গা ত্যাগ করে।

এদিকে সিড়ির নিকটে দাঁড়িয়ে রয়েছে জায়ান। সে এসেছিল নিজের ফুমার সাথে এনজিওর আজকের ঘটা ঘটনার বিষয়ে আলাপ করতে। কিন্তু এসে যে দৃশ্য জায়ান দেখলো সে দৃশ্যের জন্য সে মোটেই প্রস্তুত ছিল না।তার বুক জ্বলছে, তার মাথা ফেটে যাচ্ছে। চোখের সাদা অংশ লালিমায় ভরে উঠেছে। পারেনা সবকিছু ধ্বংস করে দিতে,সে পারেনা তার ফুপির সাথে প্রতারণা করা মানুষটার নিঃশ্বাস বন্ধ করে দিতে।।

তার ফুমার বলা এক একটা কথা জায়ান বুকের দহন বাড়িয়ে দিয়েছে। হাত মুঠো করে শক্ত করে ধরে। ফুলে ওঠে শিরা উপশিরা। আপন চোয়ালের মাঝে যেন পিষে ফেলতে চায় ফুপির সব বেদনার কারণ কে। ফোঁস ফোঁস নিশ্বাস ফেলে বলে,,,

"আই সোয়ের মিস্টার রাফাজ,, আই উইল নেভার লেট ইউ গো। আমার ফুপির একটা চোখের পানির হিসাব তোমায় দিতে হবে।"

কথাটি বলার পরপরই কুটিল হাসলো জায়ান।

"রুমি,,,, ওই বাড়ির মেয়ে হিসাবে কিছু হিসাব দেওয়া তোমারও প্রাপ্য।

জায়ান দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায় জারিন এর দিকে। এতক্ষণে জারিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। জায়ান সময় ব্যয় না করে আপন ফুমা'কে কোলে তুলে নেয় হাটা দেয় রুমের দিকে।

---------------

নতুন দিনের নতুন আগমনী বার্তা নিয়ে উদয় হয় সূর্য। ব্যাস্ত'তায় ভরপুর এই ধরনীর মানুষ নিজের জীবন কর্মতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সময় বহমান বয়ে যায় নিজের মতই।

সময়টা তখন বিকেল। কাল সারাদিন ঝড় বৃষ্টির কারণে আজকের ওয়েদার অতি ঝলমলে। চারিদিকে একটা সোদা গন্ধ। মৃদু কমলা রঙের রোদ এই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। এই রোদের তেজ অতি আরামদায়ক।।

কলেজ আওয়ার শেষ। বৃহৎ ক্যাম্পাস। সেই ক্যাম্পাসের শেষ সীমানায় রয়েছে বড়ো গ্রাউন্ড। অনেক গাছ গাছালি দ্বারা আবৃত সেই জায়গা। ঘাসের চাদরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে দুটো ব্যাগ। ছড়িয়েছে মেয়েলি হাসির গুঞ্জন। আসিফা আর রুমি একে অপরকে ধরতে ব্যস্ত। দুজনার হাতে আধ খাওয়া হাওয়ায় মিঠাই। একে অপরকে দেবে না কিন্তু একে অপরের''টাই কেড়ে খাবে এমন ভাবনা চিন্তা দুজনের।

"দাঁড়া রুমির বাচ্চা,,,"

"ধরে দেখা আসু খাসু ধাসু,,,,"

"তুই আজ শেষ,,,,"

বলেই আরো জোরে দৌড় দিল আসিফা রুমির দিকে। কিন্তু ঘটলো হঠাৎ এক বিপত্তি। রুমি কারো সাথে হুট করেই ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। প্রশস্ত শক্তপোক্ত বুকের ওপর রুমির নরম দেহটা গিয়ে পড়তেই বদন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তড়িৎ।। ঘটে অকাঙ্ক্ষিত এক অনুকাহিনী। পরিবেশ শীতল হয়ে ওঠে মুহূর্তেই। অসাবধানতার বসে রুমি আছাড় খেয়ে মানুষটির উপরে পড়ে তো পড়ে,,,আবার রুমির ঠোঁট গিয়ে সোজা স্পর্শ করে মানুষটির গলার কিনারে। সাহসা রুমি সহ সেই মানুষটির চিত্ত কুঁকড়ে ওঠে।

রুমি তড়িঘড়ি করে মাথা তুলে তাকাতেই তার হার হিম হয়ে যাওয়ার তাল। প্রাণ পাখি যেনো এখনই উড়াল দেবে দূরে। কারণ এ যে স্বয়ং জায়ান খান। নিজের রক্ত চক্ষু দিয়ে রুমি কে ভষ্ম করে দিচ্ছে।

রুমির অবয়বে স্পষ্ট ভীতি। চট জলদি নিজেকে সরিয়ে নিতে চাচ্ছে সে। কিন্তু এই তাড়াহুড়'র কারণে রুমি এই বার ফিচলে পড়ে জায়ান এর বুকে। রুমি পারে না কৃষ্ণচূড়া গাছের বুক ফাঁক করে সেখানে ঢুকে যেতে। তার সাথেই কেনো!

রুমি শুকনো ঢোক চিপে নিজের শরীর টেনে তুলে উঠে দাড়ায়। তার পা জোড়া কাপছে। জায়ান এর চোয়াল দৃঢ়। কিরমিড় করছে তার দেহ খানা। বিরাট,প্রশস্থ অযবয়ব নিতে মুহূর্তেই সটান হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে এই সব ঘটনা ফ্যালফ্যাল করে দেখছে আসিফা।

জায়ান খিঁচিয়ে রুমির দিকে তেড়ে যায়।

"ইউ,,,,,,তোমার সাহস কি করে হলো!"

কথাটি বলেই নিজের সংযত করে জায়ান। আশেপাশের কিছু মানুষ তাদের দেখছে। জায়ান লম্বা শ্বাস টেনে রুমির হাতের কব্জি নিজের দানবিয় হাতের মুঠোয় চেপে ধরে টেনে নিয়ে যায় বিল্ডিং এর শেষে। এদিকে রুমি ফুপিয়ে উঠছে। জায়ান তাকে টেনে নিজের সান্নিধ্যে দাঁড় করাতে রুমি কান্নারত ও ভীতু কন্ঠে বলতেই লাগলো,,,,

"বিশ্বাস করুন আমি কিছু ইচ্ছা করে করিনি। যা হয়েছে সবটাই আচানক। তারপরেও আমি সরি বলছি। আমি কিছুই ইচ্ছা করে করিনি,,,বিশ্বাস করুন। আমি বুঝতে পারিনি,,, হঠাৎ করে এভাবে পড়ে যাব আপনার উপর,,,,"

রুমি একনাগাড়ে কথা গুলি বলছে। কাদঁছে,,,রক্তিম হয়েছে তার শুভ্র চেহারা। জায়ান নির্নিমেষ তাকিয়ে রইল সেদিকে। আকস্মিকভাবে জায়ান এর হৃদস্পন্দন তেজী হয়ে ওঠে। তার ঘাড় বেয়ে নেমে আসে হিম অদৃশ সুতো। মেয়েটার এহেন আচরণে আনচান করে চিত্ত।

পর মুহূর্তেই চোখ খিঁচে বন্ধ করে জায়ান। শিশশিরে অনুভূতি মুহূর্তেই উবে যায়। এসে হাজির হয় আপন মানুষদের মলিন চেহারা,আহাজারি,কান্না। জায়ান নিজেকে দমাতে পারেনা। হুট করেই রুমির দুই কাধ ধরে ঝুঁকে পড়ে,চোখে চোখ রেখে,,,শান্ত কিন্তু বিদ্ধেষী কন্ঠে বলে,,,,

"এই রকম মাসুম চেহারা বানিয়ে আমায় সিডিউস করতে চাও? ভুলের নাম দিয়ে তখন যেই ঠোঁটের ছোঁয়া দিলে,সেটাতে কাজ হয়নি দেখে এখন এই পয়েতেরা সাজাচ্ছো!"

রুমি হঠাৎ করেই চুপ করে যায়।অর্নিমেশ তাকিয়ে রইল জায়ান এর দিকে। মস্তিষ্ক অচল হয়ে এলো তার। জায়ান তাচ্ছিল্য হেসে একই ভাবে বলে,,,,

"চোখ নামাও। নিজের শরীরের গঠনের আমেজ দাও মানুষদের,খবরদার তাদের মাঝে আমাকে ফেলবে না।। এই রকম চেহারা দেখিয়ে নিজেকে ভালো প্রমাণ করো!

তোমার বাড়িতে জানে যে, তাদের মেয়ে কি করছে বাইরে! অবশ্য কার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা বলছি! যারা কি না প্রতারণা করে,বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়।"

রুমি নীরবে অশ্রু ঝরায়। জায়ান সরে আসে।ক্রোধিত চোখে এখনো দেখে চলেছে রুমি কে। রুমি নত হয়ে আছে। কণ্ঠনালী সচল নয়,,, খড়া পড়েছে সেথায় যেনো। রুমি অনুভূতি শূন্য। সে চাইলেও জায়ান কে কিছু বলতে পারছে না। ভুল করে হলেও তার দ্বারা একটা ভুল হয়েছে। ঠোঁট আবারও ভেঙ্গে আসে রুমির। থেমে থেমে শাস নেয় সে। এরকম পাষাণ মানুষের সামনে আর দাঁড়াতে চাইলো না রুমি। এক পা দুই করে পিছিয়ে যেতে লাগলো। জায়ান পেষণ কন্ঠে বললো,,,,

"তোমাকে দেখলে আমার বুক জ্বলে রুমি। মনে হয় নিজের দহনে তোমাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে। তোমার চোখের পানি আমায় আরাম দেয়।"

রুমি শোনে সব কিছুই। অবশ্য এটা সে জানে।

রুমি ধরা কন্ঠে বলে,,,,"একদিন এই চোখের পানি শুকিয়ে যাক।"

বলেই ছুটে চলে যায় রুমি। চোখের পানি মুছতে মুছতে ব্যাগ না নিয়েই ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে যায় সে। আসিফা'র দিকেই ফিরে তাকায় না। নাহ তার রাগ নেই এই মেয়েটার প্রতি,,,শুধু মেয়েটার সামনে নিজেকে সামলে নিতে কষ্ট হবে। আসিফা সব দেখে দূরে দাঁড়িয়ে।

এদিকে জায়ান এর হৃদ মাঝারে প্রবাহমান হলো ঝড় বাতাস। মাথা চেপে ধরল জায়ান। তার অনুভূতি গুলি ঝাপসা। নিজের সামনে বোন কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে নিজের ভাবপ্রবণতা লুকিয়ে আসিফা'র দিকে চেয়ে রাগী কন্ঠে বলে,,,,

"তোকে বলেছিলাম না,,,,এই সব থার্ড ক্লাস মেয়ের সাথে মিশতে না!"

আসিফা ভিতর থেকে কাপছে। সব সময় প্রাণবন্ত থাকা মেয়েটা আজ খেই হারালো। রাগে ফেটে পড়তে চাইলো কিন্তু সেটা দমালো অতি কষ্টে। দাভাই কে সে স্নেহ করে চলে। কিন্তু ক্রধিত কন্ঠে বলতে ছাড়ে না। আসিফা জায়ান এর দিকে তাচ্ছিল্য ছুঁড়ে দেয়,,,কন্ঠে কাঠিন্যতা এনে বলে,,,,

"ঠিক বলেছ দাভাই,,, থার্ড ক্লাস মানুষদের সাথে কথা না বলাই ভালো। যেমন দেখো না! রুমিও বুঝে উঠতে পারেনা,,,ও বোঝেনা কাকে সম্মান দেওয়া উচিত আর কাকে দেওয়া উচিত নয়।।"

কথাটি একেবারে হিট করলো জায়ান'কে। আসিফা আর এক সেকেন্ড অপেক্ষা করে না। কথাটি বলেই নিজের আর রুমির ব্যাগ তুলে নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাস ছাড়ে।

জায়ান এর হুট করেই খারাপ লাগে। শরীর কেমন অচল লাগছে তার। রুমির এক একটা চোখের পানি তার চিত্তে আঘাত হানছে। কেনো! কেনো সে খুশি হতে পারে না মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে? সে তো এটাই চায়। তার পরেও কেনো এই অনুভূতি হয় বারংবার!

জায়ান কলেজে আসিফা'কে নিতেই আসে। ক্যাম্পাসের এদিকে এসে দেখতে পায় দুই রমনীর উচ্ছ্বাস অবয়ব। রুমির হাসি কিছুতেই জায়ান'কে অশান্তিতে ফেলে না। মনে পড়ে তার ফুমা'য়ের সেই দুঃখময় কান্না। তাইতো ইচ্ছাকৃত ভাবেই রুমির সাথে নিজের ধাক্কা লাগায়।

জায়ান গাছে পিঠ ঠেকায়। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে। গলার কিনারে হাত ঘসে? যেখানে ঠোঁট স্পর্শ হয় রুমি'র। জায়ান হাত চোখের সামনে নিলেই চটচটে কিছু অনুভব করে সেথায়। স্মরণে আসে,,,তার সাথে ধাক্কা লেগে পোড়ে যাওয়ার আগে রুমির ঠোঁট'র উপর লেগে ছিল হওয়াই মিঠাই এর টুকরা।

চোখ বন্ধ করে জায়ান। ভ্রু কুঁচকে মৃদু হাসে। বলে,,,

"তুমি বিষাক্ত রুমি। একবার যার অন্তরে প্রবেশ করো,,, তাকে মৃ*ত্যু*র আগ পর্যন্ত সুস্থ হতে দাও না।"

ক্রমশ

-------------☞(ইনশা আল্লাহ। কমেন্ট আর লাইক দেখে পরের পর্ব দেবো।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন