#পর্ব_৯
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ)
.
আসিফা দাড়িয়ে আছে শেখ বাড়ির বিশাল গেটের সামনে। কত দিন পর এই বাড়ির দর্শন পেলো সেটা আসিফা'র ঠিক মনে পড়ছে না। আসিফা একা কোথাও গেলে এই রাস্তা ধরে যায়। কিন্তু বাড়ির কারো সাথে কোথাও বেড়ালে কেউই এই রাস্তা ধরে না। সবাই যেন এক প্রকার এই দিকের রাস্তাকে ভুলতে চলেছে। উপেক্ষা করতে করতে একদিন এই রাস্তা যেন সবার স্মরণ থেকে বেরিয়ে যাবে, এটা আসিফার ভাবনা।
আসিফা'র মাঝেমধ্যে খারাপ লাগে। সে দেখে সবার বান্ধবী একে অপরের বাড়ি যাতায়াত করে। নানান মজা মস্তি করে। কিন্তু সেটা রুমি আর আসিফা দুইজনের ভাগ্যেই যেন, ' নেই'।
শেখ বাড়ির দিকে তাকালে দেখা যায়,সেটা অনেকটা খান বাড়ির মতই ডিজাইন করা। দুই বন্ধু যখন দুই দিকে বাড়ি বানাচ্ছিল তখন একে অপরের মনোভাব এর সাথে বাড়ির স্ট্রাকচার ও ভাগাভাগি করে নেয়।
আসিফা লম্বা একটা নিঃশ্বাস টানে তার বুক দূর দূর করছে। ভেতরে যাবে কি যাবে না ভাবছে। কত বছর এই আঙিনায় আসা হয় না, সেটা হাতে গণা ও অসম্ভব প্রায়।। আসিফার মনে পড়ে সেই পুরনো স্মৃতি। কত খেলেছে এই উঠানে,,,এই আঙিনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাদের শৈশব। আসিফা হাতে ধরে রাখা ব্যাগটা আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরে। আজকে যা হয়েছে সেটা একদমই উচিত হয়নি। রুমির সাথে কথা বলা তার জরুরী। আজকের ঘটনার পর রুমি দুই দিন তার ফোন তুলবে না। হয়তো কিছু জড়তার কারণে কিংবা মন খারাপের কারণে। আসিফা জানে রুমি কেমন,,, মেয়েটা অল্পতে আঘাত পায় আবার অল্পতে খুশি হয়ে যায়। আসিফার কথা বলা উচিত তার বাঁধাকপির সাথে।
আসিফা এগিয়ে চেয়ারে ঝিমিয়ে পড়ে থাকা দারোয়ান কে বলে,,,,"আঙ্কেল গেট খুলে দিন।"
ঝিমিয়ে থাকা দারোয়ান আগন্তুকের আওয়াজে ধর''ফরিয়ে ওঠে। যখন দেখে সামনে শেখ বাড়ির কেউ নেই, তখন যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। আসিফার দিকে তাকায় সূক্ষ্ম নজরে। কিছু পল পর সন্দিহান কন্ঠে বলে ওঠে,,,
"তুমি খান বাড়ির মেয়ে না!?"
আসিফা গম্ভীর মুখে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়। দারোয়ান আমতা আমতা করে বলল,,,"কিন্তু এই বাড়ির তো কেউ খান বাড়ির,,,,"
আসিফা আর বলতে দেয় না। হাতের মুঠোয় ধরে থাকা ফোন দারোয়ান এর দিকে ইশারা করে,শয়তানি হাসি দিয়ে বলল,,,,"এত বড় বাড়ির দারোয়ান কিনা ঝিমায়!! কাজের প্রতি তো খুব উদাসীন আপনি দারোয়ান আঙ্কেল,,,ঠিকঠাক বেতন দেয় না এই বাড়ির মানুষ!!
চিন্তা নেই,আমার এই ফোনে আপনার ঝিমুনি আমি রেকর্ড করে রেখেছি। এই বাড়ির কারো সাথে দেখা হলে আমি দেখিয়ে দেব।।"
দারোয়ান এইবার বড় বড় চোখ করে তাকায় আসিফার দিকে। এই মাসুম চেহারার মেয়ে কে দেখলে কে বলবে,এই মেয়ের পেটে এত বদমাইশি!!
দারোয়ান এইবার শুকনো ঢোক গেলে। প্রতিমাসের শেষে হাতে আসা মোটা অংকের বেতন চোখের সামনে ভেসে উঠলো। তাই কোন দিকে না তাকিয়ে গেট খুলে হে হে করে হেসে বলল,,,,
"আসো আসো না মামুনি,,,"
আসিফা কুটিল হেসে ভেতরে প্রবেশ করল।বাড়ির দিকে এগিয়ে যেতেই শুনতে পায় দারোয়ানের ভীতী কন্ঠ,,,,"বলছিলাম কি মামনি? ভিডিওটা ডিলিট করে দিও হ্যাঁ!"
আসিফা মেকি হেসে বলে,,,"ভেবে দেখতে হবে আঙ্কেল।"
আসিফা আর কথা না বাড়িয়ে বাড়ির মেন ডোরের সামনে দাঁড়ায়। ঠোঁট গোল করে লম্বা এক শাস ছাড়ে আসিফা। তার অন্তর কেমন হাঁসফাঁস করছে, হাত নিশপিশ করছে। কি করবে! কি না করবে ভেবে না পেরে,,এক কাজ করেই বসলো। কলিং বেলে চাপ দিতেই কিছু মুহূর্তে পর দরজা খুলে দেয় আসমা সুলতানা। তিনি দরজা খুলেই চলে যেতে নেয় কিন্তু পর মুহুর্তেই অবাক দৃষ্টিতে আসিফার দিকে ফিরে তাকায়। তার বিশ্বাস হচ্ছে না তার সামনে আসিফা দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আসিফা'কে এমন ভাবে দেখছেন, যেন পৃথিবীর অষ্টম'তম আশ্চর্য দেখছেন তিনি।
চমকের শীর্ষে গিয়ে মুখে হাত চেপে ধরে আসমা সুলতানা,,,অস্পষ্ট স্বরে বলে,,,"আসিফা!!"
আসিফা মুচকি হেসে ফেললো।
"আমায় চিনতে পারছো না আন্টি!"
আসমা সুলতানা আবেগের সহিত বলে,,,"এমা! চিনবো না কেনো? এই যে আমার আরেক মেয়ে। ভিতরে আয় আসু,,,"
স্ব'আদরে আসিফা'কে ভিতরে নিয়ে আসে। দরজা বন্ধ করে আসিফা'র হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে। মাথায়,গালে আলতো হাত বুলিয়ে আদর করে দেয়।
"কেমন আছিস! বাড়ির সবাই কেমন আছে?"
"সবাই ভালো আছে আন্টি। তুমি বলো,,, তুমি কেমন আছো।"
"ভালো আছিস,,,অনেক ভালো আছি। জ...জারিন কেমন আছে?"
শেষের কথাটি অনেক ধীর লয়ে বললো। আবেগ পূর্ণ হলো আসমা সুলতানা। জারিন এর সাথে ছিল তার বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ। দুজনে একসাথে কত সময় কাটিয়েছে, আসমা সুলতানা অপেক্ষায় ছিল সেই মেয়েটিকে কবে তার বাড়িতে তার জা নয় ছোট বোন হিসেবে নিয়ে আসবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন স্বপ্নই রয়ে গেল। আসিফা আসমা সুলতানা'র হাতের উপর হাত রেখে বলল,,,
"ফুমা ভালো আছে আন্টি।"
" বিয়ে করেনি মেয়েটা এখনও,,," কথাটি আনমনেই ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে ধিমে স্বরে বলে আসমা সুলতানা। পরক্ষনেই কিছু একটা মনে করে তড়াক করে উঠে। চট কন্ঠে বলে,,,
"তুই যেখানে এসেছিস, তোর বাড়ির লোক জানে!? রাস্তায় কেউ দেখেছে তোকে এখানে আসতে?"
আসিফা মুখের থেকে মাছি উড়ানোর মত করে হাত নাড়ায়। ভাবলেশহীন কন্ঠে বলল,,,,"না বাড়ির কেউ জানে না। আর জানলেও কি? আমি ভয় করি নাকি!! আর রাস্তায় আমায় এখানে আসতে পাঁচ ছয় জন মানুষ দেখেছে।"
"কিন্তু জায়ান জানলে রাগ করবে তোর উপর।"
"বয়ে গেছে (ভাব নিয়ে),,,,আন্টি এতদিন পর তোমাদের বাড়ি এসছি। কোথায় একটু ভালো মন্দ আমাকে খাওয়াবে তা না,তুমি এটা সেটা নিয়ে পরে আছো।"
বলেই ঠোঁট উল্টে ফেলল আসিফা। আসমা সুলতানা হেসে ওঠে আসিফার আচরণে। গাল টেনে দেয় মেয়েটার। বলে,,,
"সত্যি আমি ও কি সব নিয়ে পড়লাম। বল, কি খাবে? এতদিন পর এসেছিস। তোর মনে আছে,, তুই আমার হাতের পুডিং খেতে কত ভালো'বাসটিস্।
তুই বস আমি পুডিং বানিয়ে আনছি।"
আসিফা দাত বের করে মাথা নাড়ায়। অতপর বলে,,,"আন্টি রুমির রুম উপরে?"
"হ্যাঁ,,, ডান দিকের দ্বিতীয় রুম টা।"
আসিফা একপ্রকার লাফাতে লাফাতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। গিয়ে দাঁড়ালো রুমির রুমের সামনে। আসিফা ভাবছে রুমি তাকে দেখে কেমন রিয়েক্ট করবে। আসিফা নক করে না সিধা ঢুকে যায় রুমের ভিতরে। ঢুকেই আসিফা অবাক হয় কিছুটা। সারা রুম অন্ধকারে নিমজ্জিত। পর্দা লাগানো, আলো আঁধার ছেয়ে আছে রুম। এসির ঠান্ডা বাতাসে শিরশির করে উঠলো আসিফা'র বদন। যতটা বোঝা যাচ্ছে,রুমটি অনেক বড়ো। আসিফা ধীর আওয়াজে রুমি বলে দুই বার ডাকে। বিশাল রুমের নিস্তব্ধ পরিবেশে আসিফা'র দেওয়া ডাক কিছুটা ভূতুড়ে শোনালো। আসিফা এই বার শুকনো ঢোক চিপে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলেই তার হাতের কনুই গেলে কিছু জিনিষ ফ্লোরে পড়ে যায়,,,হয় বিকট শব্দ। হয়তো কাঁচের কিছু ছিল। সাথে সাথেই ছড়িয়ে পড়ে ভারী ঘ্রাণ। আসিফা চমকে উঠলো। সহসা শোনা গেলো পুরুষ কণ্ঠ,,,,
"কে,,,,?"
আসিফা'র এইবার যেনো মরি মরি অবস্থা। তড়িঘড়ি করে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলেই কেউ তাকে চেপে ধরে নিজের সাথে। আসিফা'র হাত মুড়িয়ে পিঠের সাথে চেপে ধরে,,নিজের পুরুষালি প্রশস্থ বুকের সহিত মিশিয়ে নিলো কেউ। আসিফা ভারী নিশ্বাস টানে। এ সে কার কবলে পড়লো!
"কে! রুমি না তাহলে কে তুমি? আমার রুমে কি করছো?"
আসিফা'র চোখ বড় বড় হয়ে যায়। তার বুঝতে বাকি নেই সে কার হাতে পড়েছে। আয়াজ,,,এটা আয়াজ ই। আসিফা শুকনো ঢোক চিপে। তার অন্তর কেমন ছলাৎ ছলাৎ করছে। আয়াজ এর এত সান্নিধ্য তাকে কাঁপিয়ে তুলছে। মানুষটি হয়তো সবে মাত্র শাওয়ার নিয়েছে। ঠাণ্ডার মাঝেও আয়াজ হতে ভেসে আসা শীতল আবোহ আসিফা কে আলুথালু করে দিচ্ছে। আসিফা অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে,,,,
"ঠান্ডা ড্রাগন,,,,"
আসিফার বলা মৃদু কথা আয়াজ'র কর্ণ কুহরে গিয়ে আঘাত হানলে ছেলেটা ভুরু কুঁচকে ফেলে।। ঝটপট হাত বাড়িয়ে লাইট অন করতেই আয়াজ আসিফা কে ঘুরিয়ে সামনে আনে।
আসিফা কে দেখেই আয়াজ বকবাকুম বনে যায়। এইটা সে কাকে দেখছে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় আয়াজ যেন বিশ্বাস করতেই পারছে না খান বাড়ির মেয়ে, আসিফা কে নিজের চোখের সামনে, তারই রুমের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছে। আশ্চর্যের সহিত আয়াজ বলে ওঠে,,,,
"তুমি,,,!?"
আসিফা ঠোঁট কামড়ায়,হাত কচলায়। মাথা নিচু থাকলেও চোখ তুলে তুলে দেখে আয়াজ কে,দেখে বিশাল রুম। উদাম সুঠাম দেহের অধিকারী আয়াজ আবারও ভরাট কন্ঠে বলে,,,,
"তুমি এখানে কি করছো? সত্যি করে বলো,,, কোন শয়তানি বুদ্ধি মাথায় নিয়ে এখানে এসেছো! দারোয়ান,,,সে কি করছিল! আর বাড়িতে ঢুকলে কি ভাবে?"
আসিফা তাও কথা বলে না। আয়াজ একবার বিরক্তির সুরে বলে,,,,"কিছু জিজ্ঞাসা করছি তো নাকি,,,উত্তর কোথায়?"
"আপনার টি শার্ট কোথায়?"
আয়াজ চোখ ছোটো ছোটো করে বলে,,,"ওয়াট?"
"আপনার বডি দেখে আমার কোনো লাভ নেই।। লাভ থাকতো যদি আপনি আমার!"
আয়াজ ভ্রু কুঁচকে সরু চোখে বলে,,,"যদি তোমার!?"
আসিফা কিছুটা লজ্জার ভান ধরে বলল,,,"যদি আপনি আমার মিস্টার.উনি,ওগো,, হতেন।।
"উনি,ওগো!?"
আসিফা এইবার লাজুক হেসে,,, নিচু কন্ঠে বলল,,," আরে...হাসবেন্ড! ইসস. হাসবেন্ড শব্দটাই কত মধুর।। আপনি শার্ট পড়ুন,,,"
আয়াজ হা হয়ে রয়। ভ্রু কুঁচকে, কোমরে হাত রেখে,ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,,,," আর ইউ কিডিং উইথ মি?,,,, আমার বাড়িতে, আমার রুমে, আমার সামনের দাঁড়িয়েই আমাকে অর্ডার দিচ্ছ! পড়বো না টি-শার্ট কি করবে?"
কথাটি বলেই আয়াজ দরজা বন্ধ করে দিলো। অতঃপর আসিফার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে একদম মুখোমুখি দাঁড়াল। দূরত্ব নেই ইঞ্চি পরিমাণও। আসিফা ঘাবড়ে গেল যেনো। আয়াজ আসিফা'র দুই দিকে হাত রেখে গভীর স্বরে বলল,,,,
"এখানে কেনো?,,,সত্যি কথা বলবে। নাহলে আমি এই মুহূর্তে তোমার বাবা কে কল করবো। ভেবো না ফাকা হুমকি দিচ্ছে! নাম্বার কিন্তু আমার কাছে আছে।"
আসিফা এইবার চকিত চাহনি নিক্ষেপ করল। আব্বু কে সে মান্য করে চলে। ভয় পায় মনে মনে। তাও আয়াজ এর সাথে হুশিয়ারি করলো না আসিফা। ছেলেটার কথা শুনে মনে হচ্ছে না যে সে মিথ্যা বলছে। আয়াজ এর এত নিকট আশ্রয় আসিফা কে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। আয়াজ ট্রাউজারের পকেট এ হাত পুরে বলে,,,,
"ফোন করি তাহলে,,,"
আসিফা বড়ো বড়ো চোখ করে তাকায়। তড়িৎ গতিতে বলে,,,,"এই না না,,,আমি বলছি। বলছি,,,, আসলে আমি রুমির ব্যাগ দিতে এসেছি। ওর ব্যাগ আমার কাছে রয়ে গেছিল সেটা দিতেই এসেছি। এই দেখুন ওর ব্যাগ আমার হাতে।"
আয়াজ বাঁকা চোখে তাকালো আসিফা'র হাতের দিকে। সত্যি রুমির ব্যাগ আছে। আয়াজ সন্দিহান স্বরে বলে,,,"ওর ব্যাগ তোমার কাছে কি করছে?"
আসিফা আমতা করে বলল,,,,"আসলে,,,আসলে ওর একটু অসুবিধের কারণে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসে,,,ব্যাগ আমার কাছেই রাখা ছিলো,,,"
আয়াজ বলে,,,"কি অসুবিধে? ওর ব্যাগ তোমার কাছে থাকবে কেনো?"
"ব্যাগ আমি লুকিয়ে দিয়েছিলাম। ও..ওর খুজেঁ পাওয়ার আগেই বাড়ি ফিরে আসে। আর অসুবিধে,,,মানে ঐযে,,,মেয়ে,,,,"
"থাক আর বলতে হবে না। আমার রুমে কেনো?"
"ভুল করে। বিশ্বাস করুন ভুলে করে এসে পড়েছি। এর আগে তো আমি কখনো আপনাদের বাড়ি আসিনি তাই রুমির রুম ও চিনে উঠতে পারিনি।"
"এর আগে কখনোই আসনি?"
"না মানে সেই ছোট...বেলায়।"
আয়াজ এইবার সামান্য দূরে সরে আসে। আপন উদাম ও প্রশস্ত বুকের উপর হাত আড়াআড়িভাবে রেখে ডান ভুরু নাচিয়ে বলে,,,
"তোমার নাক উঁচু দাভাই জানে! যে তুমি এই মুহূর্তে কোথায়?"
আসিফা এইবার চকিত তাকালো। তার তাকানো দেখে আয়াজ বুঝে গেল যা বোঝার। রুদ্ধশ্বাস ফেলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা কাচের টুকরোর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,,,
"অকাজ কি তোমার পিছন পিছনে ঘুরে বেড়ায়? এসেই আমার পারফিউম এর বোতল ভাঙলে।"
আসিফা নতজানু হয়ে বলে,,,"ইচ্ছে করে ফেলেনি।"
"সেইদিন আমাকে দেখে কি গান গাইলে? শেষে আবার মুখ ভেংচি ও দিলে? এখন তো তুমি আমার বাড়িতে, আমার ঘরে , আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছো, কি করা যায় তোমার সাথে,,, বলত?"
আসিফা'র মনে মনে জিভ কাটে। ইস্ রে,,,আজ কি তার আনলাকি ডে? এ কি হচ্ছে তার সাথে! আসিফা এইবার কাদো কাঁদো মুখ করে তাকালো আয়াজ এর দিকে। যে কিনা তীক্ষ্ম চোখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আসিফা শুকনো ঢোক চিপে,ইনোসেন্ট কন্ঠে বলে,,,,
"ওই গানটা তো স্লিপ অফ টাং ছিলো। ইচ্ছে করে গাইনি তো,,,আর ভেংচি!! আমি আপনাকে ভেংচি দিতে পারি? আমার মুখটাই তো ওরকম।"
বলেই আসিফা চোখ ট্যারা করে আবারো জিভ বের করে ভেংচি কাটে, আয়াজ চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে আসিফা'কে।। একটা মেয়ে এত চঞ্চল কি করে হতে পারে? আয়াজ রুক্ষ কন্ঠে,চোখ মিহি করে বলে,,,,
"তাই নাকি?"
"জ্বী দেখুন না,,,,"
বলে মুখ বিকৃতি করে আবারও। এই গম্ভীর আয়াজ ফিক করে হেসে দেয়। আজিব মেয়ে। আয়াজ নিজেকে সংযত করে ভরাট কন্ঠে বলে,,,
"উম হুঁ,,,,এই সব করলে হবে না। এই যে,,, আমার পারফিউম টা নষ্ট করেছ এটার বদলে আমাকে পারফিউম কিনে দিতে হবে,,,"
"কেন আপনার কাছে টাকা নেই?"
বলেই মুখে হাত চেপে ধরলো আসিফা। আয়াজ বাঁকা হেসে মেয়েটির দিকে ঝুঁকে বললো,,,,
"জিনিস ভেঙ্গে পার পেয়ে যাবে! তাহ তো হয় না,,,,জিনিসের বদলে জিনিস।।"
আসিফা ঢোক গিলে মাথা ঝাঁকায়। আয়াজ বলে,,,"গুড,,,,ডানদিকের রুম'টি রুমির,,,,গো।"
আসিফা যেনো এই অপেক্ষায় ছিল। আয়াজ দরজা খুলে দিতেই আসিফা একপ্রকার দৌড়ে পালায়। আয়াজ দুই পকেটে হাত পুরে সেদিকে তাকিয়ে রয় আনমনে বলে,,,
"খান বাড়ির বাগানের বিচুটি পাতা।"
-----------------
ধারাম করে দরজা খোলার শব্দ শুনে রুমি চমকে তাকালো সেই দিকে। দেখে আসিফা দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে জোরে জোরে নিশ্বাস ত্যাগ করছে। রুমি যেনো পড়লো আসমান থেকে। উদাসীন চোখে মুখে ফুটে উঠল হতবাক দৃষ্টান্ত। সে কি চোখে বেশি দেখছে! নাকি কম দেখছে? রুমি ভ্রু কুঁচকে,চোখ কচলায়। নাহ এটা তো আসিফা'ই। মুহূর্তেই রুমি চোখ বড় বড় তাকায়,দেয় এক চিৎকার।
রুমের চিৎকারে আসিফার বুক ধরাস করে ওঠে, এই মেয়ে কি পাগল হলো নাকি? আসিফা একপ্রকার দৌড়ে এসে রুমের মুখ চেপে ধরে দাতে দাঁত পিছে বলে,,,
"এই মেন্টাল মহিলা,,, চেচাস কেনো? সাপের পাঁচ পা দেখেছিস নাকি!"
রুমি হতবিরল কন্ঠে বলে,,,"ওরকমই কিছু দেখছি আমি। তুই! তুই আসিফা তো?"
আসিফা রুমির বাহুতে দেয় এক চাপড়। বলে,,,"নাহ আমি তোর নানি।"
রুমি আসিফা কে টেনে নিজের পাশে বসিয়ে দিয়ে বলে,,,"সত্যিই তুই আমাদের বাড়ি! আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না।"
আসিফা ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলে,,,"আসতে তো হতই। তোর ব্যাগ নিয়ে কি আমি নেচে বেড়াতাম? নে ধর তোর ব্যাগ। আর এমনিতেও,,,"
এইবার আসিফা কিছুটা টা অস্বস্তিবোধ করে। আসিফা একটা রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে বলে,,,
"আমি আমার দাভাই এর হয়ে সাফাই গাইতে আসিনি। উনি যা করেছে তাকে আমি মোটেও সাপোর্ট করিনা। কিন্তু আজ দাভাই এর উপর যতনা বেশি রাগ হয়েছে তার থেকে বেশি তোর উপর হয়েছে। রুমি তুই কোনো ছোট বাচ্চা না আর না তুই নিরীহ, প্রতিবন্ধী।
কেউ তোকে বিনা কারণে তোর সামনে দাঁড়িয়ে তোকেই অপমান করছে আর তুই কিছুই করবি না!?"
রুমি নিচ ঠোঁট কামড়িয়ে ধরে। তার কান্না পাচ্ছে। কিন্তু সে কিছুতেই কাঁদবে না। শুকনো ঢোক গিলে নিজেকে সংযত করে বলে,,,"তুই তো জানিস যে আমি জায়ান ভাইকে কতটা সম্মান করি,, কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারিনি আমি।"
"সম্মান করিস সেটা তো ভালো কথা,,,কিন্তু কেউ তোর এই সম্মান'কে তোর দুর্বলতা ভেবে নিচ্ছে। এটা কি ভালো?"
রুমি কিছুই বলে না চুপ করে থাকে। আসিফা ও এই বিষয়ে আর কথা বলতে চায় না। কিছু মুহূর্ত চুপ থেকে দুই জনেই এক অপরের দিকে তাকায়। আর তাকিয়েই হেসে ফেলে। রুমি বলে,,,
"যদি জায়ান ভাই জেনে যায় যে তুই এখানে এসেছিস তাহলে কি হবে?"
আসিফা ধপ করে বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে যায়। ভাবলেশহীন ভাবে বলে,,,"উনি যদি আমার দাভাই হয় আমিও ওনারই বোন।"
রুমিও আসিফা'র পাশে শুয়ে বলে,,,"আমার বিশ্বাস হচ্ছে না তুমি আমার বাড়িতে,আমার পাশে,,,আল্লাহ।"
আসিফা কুটিল হেসে রুমির চুল টেনে দিয়ে বলে,,,"হয়েছে এইবার বিশ্বাস।"
চলতে থাকে দুই বান্ধবীর মধ্যে খুনসুটি। এরই মাঝে রুমে ঠান্ডা ঠান্ডা পুডিং হাতে রুমে প্রবেশ করে আসমা সুলতানা। দুই চঞ্চল রমণী কে দেখে চোখ জুড়ায় তিনি।
ক্রমশ
-----------------(মতামত জানাবেন সবাই। আমার উৎসাহ বেরোনোর জন্য এগিয়ে আসবেন আশা কর। একজন তিনটে করে কমেন্ট করুন।)