ফন্ট সাইজ:
থিম:
জটিল প্রেম

১০ম পর্ব

লেখক: আসিফা খান

#পর্ব_১০

#জটিল_প্রেম

----------------------☞

(গল্প কপি করা নিষেধ)

.

সময়টা তখন রাত আটটা প্রায়। চারিদিকে বইছে প্রবল বাতাস। আকাশের বুকে জমাট বেঁধেছে কালো মেঘের দল। পরিবেশ কিছুটা শান্ত,স্নিগ্ধ। রাফাজ আজ বাড়িতে ফিরেছে দ্রুত। কিছুটা অশান্ত মন তার,,,যেমন অশান্ত বাহিরে পরিবেশ।

বিশাল এক জানালা আছে রাফাজ এর রুমের দক্ষিণ পাশে। সেই জানালার সামনে আছে সিঙ্গেল দুই সোফা দুই দিকে,মাঝে সুন্দর টি-টেবিল। আধাঁরে ছেয়ে আছে কক্ষ। রাফাজ এর পরনে শুধুই একটা জগার। প্রশস্থ দেহ উদাম। তাকে দেখে বোঝা মুশকিল যে এই মানবের বয়স একচোল্লিশ।

রাফাজ চোখ বন্ধ করে সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে। হঠাৎ করেই তার চোখ মুখ কুঁচকে এলো। মস্তিষ্কে হানা দিল কিছু সুন্দর স্মৃতি। তার কানে কানে যেনো কেউ বলে গেলো,,,,"রাফাজ আপনার রুমের এই জায়গা টা আমার অতি প্রিয়। বিয়ের পর এই জানালার সামনে বসে চাঁদ দেখব আমরা।।"

ফোনের কটু শব্দ কানে আসতেই রাফাজ তড়াক করে উঠে। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে পুরো রুম জুড়ে কাউকে খোজার চেষ্টা করে। কিন্তু রাফাজ এতে ব্যর্থ হয়। শুকনো ঢোক চিপে চোখ খিঁচে বন্ধ করে রাফাজ। তার প্রেয়সীর কথায় রাফাজ রুমের ডিজাইন চেঞ্জ করায়। জানালার সামনে রাখে বসার সোফা। প্রেয়সীকে কোনো রকম অসুবিধেই রাখবে না। দুই দিকের সোফায় দুই জন বসবে। করবে দীর্ঘ আলাপ। দেখবে চাঁদ,আকাশ,তারা। কিন্তু কিছুই নেই আজ। সব যেনো থেকে গেলো,,,জটিল হলো।

আবারো ফোনের শব্দ আসে। সামনে টেবিলে রাখা ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে একটা বিদেশী নাম্বার। রাফাজ কাপা হাতে ফোন কানে ধরতেই ভেসে এসে ইংরেজি এক্সেন্ট এ ভাঙ্গা বাংলা পুরুষ কণ্ঠ,,,,

"কাউকে একা করে নিজে কি ভাবে সুখে থাকবে রাফাজ? কারোর ভালোবাসা পায়ে মাড়িয়ে গিয়েছিলে আজ নিজে ভালোবাসার ভিক্ষুক তুমি।"

রাফাজ এর চোয়াল দৃঢ় হয়। চোখ জ্বলে উঠলো তার। কঠিন কন্ঠে বলে,,,,"যেই না করা দোষের সাজা আমি পাচ্ছি,যে কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছি আমি তার এক পার্সেন্ট ও তোমার আপন জন পাচ্ছে না।।"

রাফাজ এর এহেন কথায় যেনো তেঁতে উঠলো ওই পাশের মানুষ টি। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে চেঁচিয়ে বলল,,," পাচ্ছে না! না মৃত না জীবিত,,,না হাসে না কাঁদে,,,আমার শেষ সম্বল শেষ হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আর তুমি বলছো সে কষ্ট পাচ্ছে না!!"

রাফাজ এর কন্ঠ একই রকম। ভারী নিশ্বাস ফেলে বলে,,," সেই কষ্ট আমার দেওয়া নয়।"

কল কেটে যায়। রাফাজ ফোন দূরে বিছানায় ছুড়ে মারে। সোফায় এলিয়ে দেয় দেহ। এক যুগের ও বেশি সময় ধরে রাত দিন কাটে অনিশ্চিত। কাউকে কতটা ঘৃণা করলে,মানুষ অন্য এক মানুষের জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে!! সবটাই ক্ষমতা,সবটাই শক্তি। রাফাজ এর নেই সেই কাঙ্ক্ষিত ক্ষমতা।। থাকলে তার প্রিয়তমা তার বুকে হতো। লুকিয়ে চেষ্টা করেনি এমন ও তো না,,,কিন্তু সে সার্থক হয়নি। হতে দেয়নি।

----------------

রুমি খাওয়ার জন্য নিচে আসেনি আজ। তার খেতে ইচ্ছে করছে না। বুক ভারি ভারি লাগছে,,,মাঝে মধ্যেই কেমন রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ছে সে।। মনে পড়ছে জায়ান এর বলা সেই তিক্ত বুলি। এত রাগ,এত ক্ষোভ! রুমি পারেনা নিজের হৃদয় কে বেঁধে রাখতে। কিন্তু এই যে বেহায়া মন। মানেনা তার কথা।

দরজায় ঠক ঠক শব্দ হতেই রুমি ভিতরে আসার অনুমতি দিলো। প্লেট হাতে প্রবেশ করলো আয়াজ। বোন তার জানালার সামনে দাড়িয়ে। চোখ মুখে কেমন বিষন্নতা। আয়াজ এসে বোনের পাশে দাঁড়ায়। প্লেট রাখে টেবিলে। রুমির মাথায় হাত রেখে বলে,,,,

"শরীর খারাপ লাগছে?"

রুমি রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে মাথা নাড়িয়ে বলে,,,"নাহ ঠিক আছি।"

"খেতে আসলি'না যে।"

"ভালো লাগছিলনা ভাইয়া।"

"ওলে বাবা,,,বান্ধবী এসে চলে গেলো,তোর মন খারাপ নিয়ে গেলো না!"

রুমি ছোটো ছোটো চোখ করে তাকায় তার ভাইয়ার দিকে। বোঝে তাকে টিজ করছে। রুমি আয়াজ এর পেটে গুতা দিয়ে বলে,,," ওর সাথে থাকলেই মন ভালো হয়ে যায়,,,বুঝলে।"

আয়াজ হঠাৎ করেই সন্দিহান চিত্তে বলে,,,"এই তোরা আবার লেস****"

আয়াজ পুরোটা উচ্চারিত করতেই পাড়লো না তার আগেই তুমি ধুমা ধুম কিল ঘুষি মারতে লাগলো ভাইয়ে কে। চুল টেনে দিতে দিতে বলল,,,"আজ তোমাকে আমি কাঁচা চিবিয়ে খাবো! বাজে মানুষ।"

আয়াজ হো হো করে হেসে উঠলো। যাক বোনের মন টা একটু ভালো হয়েছে। আয়াজ নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বললো,,,,

"তাহলে ওকে পার্মানেন্টলি এখানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা কর।"

রুমি থাকে,, ভ্রু কুঁচকে বললো,,,"কি ভাবে?"

আয়াজ মাথা নাড়িয়ে বলে,,,"সেটা জানি না। এখন আয় খেয়ে নিবি।"

"খাবো না,,,"

"আমি খাইয়ে দেবো আমার দুষ্টু বোন কে। তারপরেও সে খাবে না!"

রুমি ঠোঁট ফুলিয়ে হাসে। এই মানুষটার সাথে তার ঝগড়া,মারামারি আবার স্নেহ,,সবটাই আছে। ভাই হিসাবে রুমির কাছে আয়াজ বেস্ট। সবটা খেয়াল রাখে তার। আয়াজ জানে তার বোনের কখন কি লাগে। আয়াজ রুমি কে খাইয়ে দিতে দিতে বলল,,,,

"লং ড্রাইভে যাবি পুতুল! অনেক দিন যাই না। চল আজ ভাই বোন জমিয়ে রাতের শহর দেখবো।"

রুমির চোখ চকচক করে উঠলো,,,উচ্ছাস কন্ঠে বলল,,,"সত্যিই?"

"হান্ড্রেড পার্সেন্ট।"

"আইস ক্রিম ও খাবো।"

আয়াজ হেসে বলল,,,"ডান,,,খেয়ে রেডি হয়ে নিবি ওকে!"

রুমি খাবার চিবুতে চিবুতে মাথা ঝাঁকালো। আয়াজ বোন কে খাইয়ে নিজে গিয়ে খেয়ে নিলো। সময় গোড়ায়। ঘড়িতে এগারোটা বাজতেই আয়াজ সুগঠিত দেহে জোরালো কালো টি শার্ট,,,ঘিয়া রঙের লাইমিও কার্গো প্যান্ট। রুমি দরজা খুলে উকি দিয়ে দেখে তার ভাইয়ে কে,,,দাত বের করে বলে,,,

"হয়েছে হয়েছে,,,এবার চলো জলদি। আম সো এক্সসাইটেড।"

আয়াজ বিস্তার হেসে গাড়ির চাবি নিয়ে বেড়িয়ে পরে। রুমি একটা কর্ড সেট পড়েছে মাথায় হিজাব টেনে একপ্রকার নাচতে নাচতে বেরিয়ে যায় আপন ভাইয়ার সহিত।

--------------

রাতের আকাশে আজ নেই চাদ এর রাজত্ব। কিন্তু পরিবেশ উপভোগ ময়। ইট বালুর শহর রাত হলে যেনো চমকায়। চাকিক্য,আলোয় উজ্জ্বল সারা সড়ক। গাড়ির জানালা খোলা,,,সেখান থেকেই ধেয়ে আসা বাতাসে রুমির হিজাব যায় উল্টে পাল্টে। অবশ্য এতে খুব একটা খারাপ তার লাগছে না। অন্তরে ভালোলাগার জোয়ার। নানান গল্প,হাসাহাসি করছে রুমি তার ভাইয়ের সাথে। রাতের শহর রুমির ভীষণ পছন্দ। তাই তো আয়াজ তাকে লং ড্রাইবে এনেছে। বোন থাকবে তার উচ্ছ্বাস,চঞ্চল, প্রাণবন্ত। বোনের উদাস চেহারা আয়াজ এর অপ্রিয়।

হঠাৎ করেই রুমি চেঁচিয়ে উঠলো,,,"ভাইয়া,,,ভাইয়া গাড়ি থামাও জলদি।"

আয়াজ দ্রুততার সঙ্গে গাড়ি থামায়। বলে,,,"কি হয়েছে?"

"ওখানে আইস ক্রিম এর দোকান। আমি খাবো।"

আয়াজ ঠোঁট গোল করে শাস ছেড়ে বলে,,,"সেটা বললেই হতো,,,এই ভাবে চেঁচালী কেনো?"

"না চেঁচালে তুমি শুনতেই না।"

রুমি গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। অতপর চপল পায়ে হেঁটে আইস ক্রিম এর দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে,,,চটপটে কন্ঠে বলে,,,,

"ওয়ান গিলাটো প্লিজ।"

"সরি ম্যাম নট এভালেইভেল। কুলফি হবে।"

রুমি কিছুক্ষন ঠোঁট কামড়িয়ে ভাবে। হতাশ স্বরে বলে,,,"তাহলে ওটাই দিন।"

"কয়টা দেবো ম্যাম!?'

"এক টা,,,না না দুটো,,,না সাত'টা দিন।"

পিছন থেকে আয়াজ ভ্রু কুঞ্চিত করে বলে,,,"এত গুলো কি করবি?"

রুমি চোখের ইশারায় দূরে দেখায়। আয়াজ সে দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পায়,,, আন্ডা বাচ্চা মিলিয়ে প্রায় পাঁচ জন পথ শিশু ফুটপাতের ঘাসের উপর বসে আছে। আয়াজ সামান্য হাসে। এরই মধ্যে রুমি হাতে সাত খানা আইস ক্রিম নিয়ে সেদিকে এগিয়ে যায়। আয়াজ বিল মিটিয়ে যায় বোনের পিছে পিছে। রুমি গিয়ে সোজা তাদের পাশে বসে পড়ে। সবার হাতে একটা করে আইস ক্রিম দিয়ে বলে,,,

"এক এক করে নাম বলো দেখি। কার নাম বেশি সুন্দর আমি বলবো।"

বাচ্চা গুলি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। কিন্তু রুমির মিশুখ বাক্যে সবাই একে অপরের দিকে চেয়ে নিজেদের নাম বলতে থাকে। নাম বলার শেষে বাচ্চাদের আগ্রহ হয় জানতে যে,তাদের মধ্যে কাদের নাম বেশি সুন্দর। রুমি সবার নাম শুনে বলে,,,

"আরে সবার নাম তো অনেক বেশি সুন্দর।"

বাচ্চারা হাসে। তাদের ভালো লেগেছে এই আপি'টাকে। গল্প জুড়ায় রুমি তাদের সাথে। এদিকে আয়াজ জেনে নেয় তাদের বাবা মায়ের সম্মন্ধে। দূরে একটা ঝুপড়ি ঘর,,, আয়াজ বোন কে ছেড়ে যায় না। তবে কাল সে এখানে আবার আসবে। যদি কোনো সাহায্য করতে পারে সে।

.

সিগন্যালে রেড লাইট। দাড়িয়ে কিছু হাতে গোনা গাড়ি,বাইক। ক্লান্ত শরীর নিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে আছে জায়ান। আজ একটা ইম্পর্টেন্ট মিটিং আটেন্ড করতে দেরি হয়েছে তার। ডিনার মিটিং গুলিতে এরকম ই দেরি হয়। ছেলেটার দেহে জড়ানো শার্ট,,,সামনের দুই টা বোতাম খোলা।স্লিভ গুটিয়ে রাখা কনুই পর্যন্ত। পেশী বহুল হাতের শিরা টান টান হয়ে ফুলে উঠেছে। মাঝে মাঝেই ঢোক গিলার সুবাদে তার এডামস অ্যাপেল ওঠা নামা করছে।

তার গাড়ির পাশা পাশী দাড়িয়ে আছে একটা বাইক। সেই বাইক পিছনে বসে থাকা মেয়ে টা রীতিমত চোখে গিলে খাচ্ছে জায়ান কে। বিষয় টি বুঝে আসতেই জায়ান বিড়বিড় করে কিছু আওড়ে জানালার কাঁচ উঠিয়ে নেয়।।

কি মনে করে জায়ান রাস্তার ওইপাশে তাকায়। সঙ্গে সঙ্গে ললাটে পরে গভীর ভাঁজ। অকাঙ্ক্ষিত সময়ে এবং অকাঙ্ক্ষিত জায়গায় তার হৃদয়ে পিড়া সৃষ্টি'কারি রমণীর দেখা পেয়ে জায়ান রীতিমত অবাক। তার পাশে বসে আছে কিছু বাচ্চা। জায়ান বোঝে এরা পথ শিশু। কি অমায়িক হাসি মেয়েটার ঠোঁটের কোণে। জায়ান এর বুক ধুক ধুক করছে। তাকিয়ে রইল তার দিকেই। যেনো কোনো ঘোরে ডুবে যাচ্ছে সে। পরক্ষনেই মনে হানা দিলো কিছু প্রশ্ন। মেয়েটা এত রাতে এখানে! কার সাথে?

জায়ান ঝট পট গাড়ি থেকে নামার উদ্যোগী হতেই দেখতে পায় আয়াজ কে। জায়ান হাঁফ ছাড়ে। তার চোখের মনিতে ভাসছে রুমির হাস্যোজ্জ্বল মায়াময় চেহারা। জায়ান যেনো ভুললো আশ পাশের সব।

এই মেয়েটা তাকে পাগল করে, রাগিয়ে তোলে, বিষন্নতায় ফেলে,বুকের ভেতর অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এরকম মিশ্র অনুভূতি নিয়ে জায়ান অশান্ত সর্বক্ষণ।

"তোমার নাম রাখা উচিত ছিল দহন,,,পুড়িয়ে দিচ্ছো এই বেহায়া চিত্তকে। পুড়িয়ে দাও,,,পুড়িয়ে ছাই করে দাও। যেনো কোনো অনুভূতি না সৃষ্টি হয়।"

হর্নের আওয়াজে চকিত হলো জায়ান। চোখ ফিরিয়ে ভারিক্কি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। হাওয়ার বুক চিরে গাড়ি ছোটায় সে।

------------

কেটেছে দুই দিন। সময় যায় পানির মত। মানব জাতির চোখ ফাঁকি দেয় না সময়,কিন্তু তাও নিজের প্রয়োজনীয়তা মুখে বলে না। যেই বোঝে এই সময় নামক বেঈমান কে,সেই বিজয়ী।।

আসিফা আজ কলেজ যাবে। যেতেই হবে। এই দুই দিন তার বাঁধাকপির সাথে তার দেখা হয়নি। রুমি কলেজ যায়নি বলে সেও যায়নি। পেটে জমেছে অনেক কথা,,,সেই কথা একপ্রকার বমি করবে বাঁধাকপির গায়ে। সিঁড়ি বেয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে নামছে আসিফা। দেখে সোফায় বসে এক মনে তাসবীহ পাঠ করছে তার দাদি আনোয়ারা বেগম।

মাথায় চাপলো শয়তানি বুদ্ধি। ঠোঁটের কোণে হাসি টানে,,,তবে সেটা গোপনে। রান্না ঘরে তার মা কাজ করছে। পায়ের গতি ধির করে চোখে মুখে সিরিয়াস একটা ভাব ফুটিয়ে তুলে জোরালো আওয়াজে বলতে থাকে,,,,

"মা আজ কাল এর জামানা কতই নিষ্ঠুর হয়েছে জানো!"

আসিফার মা মেয়ের কথায় সেরকম গুরুত্ব না দিলেও বলে,,,"কেনো কি হয়েছে?"

"কি আর বলবো!! কালকেই ফেসবুকে পড়ছিলাম,,, ছেলের বউকে দিয়ে ঘরের সমস্ত কাজ করানোর ক্ষোভে ছেলের বউ করলো শাশুড়িকে ইদুর মারার বি*ষ খাইয়ে হ**ত্যা।। ইসস,,,বেচারা বুড়ি! শেষ জীবনে কিনা ইদুরের বি"ষ খেয়ে ম'র'লো! আহারে,,, চূহ্ চূহ্ চূহ্।"

শেষে ঠোঁট গোল করে হতাশ হওয়ার ভান করল। আনোয়ারা বেগম এতক্ষণে ছোটো ছোটো চোখ করে তাকালেন নাতনির দিকে। আসিফা'র মা ভালো করেই বোঝে যে,তার মেয়ে দুষ্টামি করছে। পরমুহূর্তে আপন শাশুড়ি আনোয়ারা বেগমের দিকে তাকালেই দেখতে পায়,চোখে মুখে গম্ভীর ভাব ফুটিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন তিনি। এদিক ওদিক কিছু খুঁজতেই হাতে তুলে নেয় খুন্তি। ব্যাস আর আসিফা কে পায় কে!!

দৌড়ে দাদির গাল টেনে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে।

আনোয়ারা বেগম বিড়বিড় করে বলে,,,"বাঁচাল উড়নচণ্ডী মেয়ে।"

----------

রুমি আজ কারোর সাথেই যাবে না কলেজ। একাই যেতে আজ তার মন চাইছে। ওয়েদার আজ সুন্দর। অত্যাধিক রোদ এর চাপ নেই আজ। হাওয়া চলছে মৃদু মন্দ।। রাস্তার কিনারে এসে দাড়াতেই রুমি দেখে গাছের গোড়ায় আরামে বসে আছে তার নুরি। রুমি গিয়ে তার সন্নিকটে বসে। হাত বাড়িয়ে নরম স্পর্শ বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,,,

"নুরি,,,কতদিন পর দেখা আমাদের। অঅঅঅঅ মাই সুইটু,,,দুপুরে আসিস মাছ রান্না করছে মা আজ।"

মাছের নাম শুনেই লাফ দিয়ে উঠলো বিড়াল টি। কি বোঝে সে? মাছ বোঝে!! জানা নেই, তবে রুমির আদর পেয়ে আরো পায়ের সাথে লেগে গেলো সে।

রুমির আদর দীর্ঘ হতে পারল না হঠাৎ করেই চিত্ত নড়ে উঠলো। কারোর আভাস পেলো বোবা মন।ডান দিকে তাকিয়ে দূরে দেখতেই চোখে পড়ে জায়ান কে। হয়তো জগিং করে ফিরছে। বেলা হয়েছে,,,এত দেরিতে জগিং করে ফেরার কারণ ঠিক অনুমান করতে পারলো না রুমি। শুধু বোঝে তাকে এই মানুষটার নজর বাঁচিয়ে যেতে হবে। এই মানুষটার সামনে সে যেতে রাজি নয়। দুঃখে,অভিনামে হৃদয় আজ ভরপুর। এদিকে জায়ান অনেক আগেই লক্ষ্য করেছিল রুমিকে। তাইতো ইচ্ছাকৃতভাবেই অন্যপাশের রাস্তা থেকে না গিয়ে এই পাশ থেকেই সে ফিরে আসছে।

রুমি উঠে দাড়ায়। কোন দিক থেকে যাবে মাথা কাজ করছে না তার। তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে কিন্তু সেই দিক থেকে আসছে জায়ান। ফিরেও যেতে পারছে না,,, না হলে মানুষটা ভাববে সে তাকে দেখে পালাচ্ছে।। রুমি ব্যাগ শক্ত করে ধরে। সামনের দিকেই এগিয়ে যেতে থাকে,,,একটা সময় জায়ানের পাশ কেটে এক প্রকার উপেক্ষা করে এগিয়ে যায়।।

জায়ান এর চোয়াল শক্ত হয়। মেয়েটা তাকে ইগনোর করছে কথটি আয়ত্তে আসতেই তার ইগো তে লাগে। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে দাড়িয়ে পড়ে। রুমির দিকে তাকিয়ে গুরুগম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,,,,

"আজ কাল মানুষ চোখে দেখো না!! নাকি দেখেও না দেখার ভান ধরো?"

জায়ানের এহেন বাক্যে রুমির চলমান পা থেমে যায়। না চাইতেও ঘুরে তাকাই মেয়েটা। এদিক সেদিক তাকিয়ে এমন ভঙ্গিমা করে যেনো সত্যি কেউ নেই,,,অতপর রুমি নিজে নিজেই বলে ওঠে,,,

"কানে বেশি শুনছি নাকি!! কাউকেই দেখি না,,,কিন্তু কানে কারোর শব্দ আসে। সকালেও জ্বিনের অস্তিত্ব,,,,আল্লাহ,,,,"

জায়ান রুমির এমন কথায় দাঁতের দাঁত পিষে দুই পা তার দিকে এগিয়ে যায়। মেয়েটাকে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলতে পারলে জান ঠান্ডা হতো ছেলেটার। জায়ান চোখ মুখ কঠিন করে, তাচ্ছিল্য কন্ঠে বলে,,,,

"কথা ফুটেছে অনেক! ইগনোর করাও শিখেছো দেখছি। কি মনে করো নিজেকে!?"

রুমি গভীর চোখে জায়ান এর চোখের দিকে তাকায়। যে চোখে রয়েছে আক্রোশ। পুরুষ ইগো হার্ড হওয়ার একটা ঝলকানি। রুমি কন্ঠে ধীরতা এনে বলে,,,

"আমি নিজেকে যাই মনে করি কিন্তু এটুকু বলতে পারি আমি সেটা নোই যেটা আপনি আমাকে মনে করেন! কি ভাবেন আপনি নিজেকে!! এই তো লম্বায় জিরাফের মত, চওড়া চেহারা হাতির মত,কথা বলেন কুমিরের মত,হিরো আলম ও আপনার থেকে হাজার গুণ বেশি সুন্দর।।"

জায়ান এর তোতাপাখি উড়ে গেছে যেনো। রুমি'র করা এক একটা সুস্থ অপমান বুঝে নিতে তার সেকেন্ড দুয়েক সময় লাগলো। মেয়েটা তাকে কি বললো এই সব!! জায়ান হা হয়ে রয়। তার মুখশ্রী বলে দিচ্ছে যে সে রুমির কথা কতটা অবাক হয়েছে। যেখানে মেয়েরা তার দিকে একবার তাকালে নজর ফেরাতে ভুলে যায়,,সেখানে এই মেয়ে তাকে প্রাণীদের সাথে তুলনা করলো!! শান্ত নিরব পরিবেশে জায়ান হুট করেই চেঁচিয়ে উঠলো রুমির দিকে তেড়ে গিয়ে বলল,,,,,

"হাউ ডেয়ার ইউ টু টক টু মি লাইক দিস!?"

রুমি নিজেও জায়ান এর দিকে তেড়ে আসে,,,সেও তেতিয়ে বলে,,,"একদম রাস্তার সিন ক্রিয়েট করবেন না মিস্টার।"

"আমি সিন ক্রিয়েট করছি!?"

"হ্যাঁ করছেন। এইবার রাস্তা ছাড়ুন,,,উজবুক কোথাকার।"

কথাটি বলেই রুমি একপ্রকার দৌড়ে পালায়। সে যে এতক্ষণ নিজের আত্মা মুঠোতে রেখেছিল। কত সাহস সঞ্চয় করে জায়ান এর মুখে মুখে সে এতক্ষণ কথা বললো তাহ আয়ত্তের বাহিরে। রুমি ছুটে ছুটে অনেকটা দূর চলে আসে,,,গাছের আড়ালে দাড়িয়ে ভারিক্কি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। তার চিত্ত ছলাৎ ছলাৎ করছে। মনে মনে আল্লাহর নাম নেয়।

এদিকে জায়ান রীতিমত অবাক। থমথমে খেয়ে দাড়িয়ে আছে সে। মেয়েটা যেনো তাকে আসমান থেকে জমিনে ফেললো।

ক্রমশ

----------------(মতামত জানাবেন সবাই।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন