ফন্ট সাইজ:
থিম:
জটিল প্রেম

১২তম পর্ব

লেখক: আসিফা খান

#পর্ব_১২

#জটিল_প্রেম

----------------------☞

(গল্প কপি করা নিষেধ)

.

সকালের পরিবেশ স্নিগ্ধ ও মনোরম।। মসজিদে রাশি রাশি দাড়িয়ে সব মুসুল্লী। নামাজ আদায় করে আয়াজ বেরিয়ে আসে। সাথে সাথে দেখা হয় মসজিদের ইমাম এর সাথে। হাত মুসাফা করে ইমাম সবেহ আয়াজ এর দিকে তাকিয়ে সুন্দর হেসে বললো,,,,

"শুনলাম তোমার দাদীর শরীর খারাপ,,,এখন তিনি কেমন আছেন?"

"জ্বী আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে। আর আপনার শরীর কেমন!! শুনলাম মসজিদের উপরের তলার এ.সি খারাপ হয়ে গেছে!"

"হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন,,,আর আমিও ভালই আছি আল্লাহ ভালো রেখেছে।"

"আমি এ.সি ঠিক করিয়ে দেবো,,,সেটার চিন্তা করতে হবে না। আর কোনো অসুবিধে থাকলে আমাকে নির্দিধায় জানাবেন।"

"আপনার অনেক শুকরিয়া কিন্তু এ.সির জিম্মা খান বাড়ির ছেলে জায়ান,,,তিনি নিয়েছেন।"

আয়াজ জায়ান এর নাম শুনে চুপ রইলো। এই বিষয়ে আর কথা এগালো না। সামান্য হেসে ইমাম সাহেব থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলো। কিন্তু কি একটা মনে করে আবারও মসজিদে প্রবেশ করে ইমাম সাহেব এর সামনে দাঁড়ায়।কিছুটা ইতস্তত করে,গলা কেশে বললো,,,

"একটা প্রশ্ন ছিলো?"

ইমাম সাহেব মৃদু হেসে বলল,,,"অবশ্যই।"

"আসলে আমি আজ একটা স্বপ্ন দেখি,,,চোখ খুলেই ফজরের আজান শুনতে পাই,,, আব মানে স্বপ্নটা পূরণ হওয়ার চান্স কত পার্সেন্ট!?"

বাচ্চাদের মত একটা প্রশ্ন। এত বড় একটা ছেলে কিনা সামান্য স্বপ্নেই কাহিল।। ইমাম সাহেব আয়াজ এর কথায় বিস্তার হাসে। তত্পর বলে,,,

"কিছু স্বপ্ন শয়তান হতে আসে কিন্তু কিছু সময় স্বপ্ন দেখেলে তার মানে হয়। আপনি কি দেখেছেন আমি জানি না,,,শুধু বলতে পারি আল্লাহ যা করবেন ভালোর জন্যই করবেন।। চিন্তা করিয়েন না,,,"

আয়াজ ঠিক সন্তুষ্ট হলো না, তাও কথা না বাড়িয়ে চলল বাড়ির দিকে।। মাথা থেকে একটুও সরেনি স্বপ্ন। হঠাৎ মনের মধ্যে হাজির হলো সেই দিনের কথা,,,সে দিন আসিফা নামক মেয়েটা তার রুমে এসেছিল।। সব মিলিয়ে আয়াজ এর মাথা ভারী।।

---------------

মেন রাস্তার কাছেই রয়েছে একটা লাইব্রেরি। সেখানে মেম্বারশিপ নেওয়া আসিফা আর রুমির দুইজনেরই। আজ রুমির এমনিতেও লেট হয়েছে কলেজ যাওয়ার জন্য,তারউপর আজ বই জমা দেওয়ার ডেট। আজ জমা না দিলে ফাইন কাটবে।।

তাড়াহুড়ায় রুমি আশেপাশের সব ভুলেছে। কোনো রকম বিরক্তি নিয়ে বই জমা দিলো। ডান হাতের কব্জিতে পরে থাকা লেডিস হ্যান্ড ওয়াচ এ একবার টাইম দেখলো রুমি।। লেট হচ্ছে,,,, নির্ঘাত আসু তাকে গালাগাল দিয়ে উদ্ধার করছে।। রুমি তপ্ত শাস ফেলে রিকশা খোঁজে। কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয় আরকি।। হাটা শুরু করে মেয়েটা।

কিছু দূর যেতেই খেয়াল করে জায়ান কে।। বিশাল বড় ইলেকট্রিক শপ এর সামনে দাড়িয়ে আছে। চোখে মুখে একরাশ বিরক্তি,কানে ফোন চেপে কথা বলছে ছেলেটা।। রোদ জায়ান এর মুখে এসে পড়ছে,,,তাতে ছেলেটাকে বেশি আকর্ষনীয় লাগছে।।রুমি শুকনো ঢোক গিলে। কেটে পড়তে হবে। নাহলে আরেক ঝামেলা। সেদিন এর পর আর মানুষটির সম্মুখে যেতে ইচ্ছে করছে না। সেদিন ডাক্তার দেখিয়ে রুমি কে সোজা বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়েছিল। রুমি হাসফাঁস করে উঠলো।কিন্তু অন্য রাস্তা নেই যে! রুমি যথা সম্ভব নিজেকে আড়াল করে এগিয়ে যায়।। কিন্তু বাজ পাখির মত নজর থেকে বাঁচতে পারে না রুমি। পাশ কেটে যেতে নিলেই আওয়াজ আসে।।

"খাটোদের ভীষণ কষ্ট হয় লম্বা মানুষদের দিকে চোখ তুলে তাকাতে। বেচারীদের ঘাড় আঁকড়ে যায় মাথা উঁচু করতে গিয়ে।।"

চলমান পা দুটো থেমে যায় রুমির। এই টিটকারী তার জন্যই। রুমি চোখ বন্ধ করে,মুখ শক্ত রেখে রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ে। মানুষটা চায় কি! রুমি এইবার পিছু হেঁটে সোজা জায়ান এর মুখমুখি দাড়ালো,,,

"সমস্যা কি! বখাটে ছেলেদের মত রাস্তায় দাঁড়িয়ে মেয়েদের টিজিং করছেন আজ কাল! ভালই তো উন্নতি হয়েছে আপনার।। সব মেয়েদের কি এই একই ভাবে উত্যক্ত করেন নাকি আরো উপায় আছে!?"

রুমির গলার স্বর বরফের থেকেও ঠান্ডা এবং নিরেট।। শান্ত তার শুভ্র মুখমন্ডল।। কথা গুলি একদম ধীরে ধীরে উচ্চারিত করলো। কিন্তু তার একেকটা শব্দে ছিলো রাগের আভাস।। জায়ান চোখ ছোটো ছোটো করে।। মেয়েটার এহেন রাগিণী রূপ তার অজান্তেই প্রিয়।। কিন্তু মেয়েটা কি বলে গেলো!! জায়ান বখাটে! মেয়েদের টিজ করে!! চোয়াল শক্ত হয় ছেলেটার। দাতে দাঁত পিষে হালকা ঝুঁকে পড়ল রুমির দিকে। মেয়েটা অনড়। জায়ান হিশহিশিয়ে বললো,,,

"হাউ ডেয়ার ইউ,,,"

"আই ডেয়ার ভেরি ইজিলি।"

ঠিক জায়ান এর মত করেই বললো রুমি। অনড়,নির্ভিক ভাবে।। জায়ান নিস্পলক চোখে চেয়ে রইলো।। মেয়েটার থেকে দূরে থাকতে চায় সে,ইগনোর করতে চায় কিন্তু রুমি নিজেই যখন তাকে উপেক্ষা করে তখন যেনো জায়ান এর চিত্ত জ্বলে।।

"কি ব্যাপার! সেই নাজুক রুমি আজ এত উত্তপ্ত কেনো?"

"লোহা পেটাতে পেটাতে সেটাও একটা সময় শক্ত হয়,,,আমি তো মানুষ জায়ান।। অপরাধ ছাড়াই শাস্তি পেতে পেতে আমি নিজেই কখন কঠিন হয়ে গেছি জানি না।"

রুমির কথা কোথাও একটা জায়গায় গিয়ে বিধলো জায়ান এর।। জায়ান সটান হয়ে দাঁড়ায়। সুঠাম দেহ যেনো এবার রূপ ফিরে পেলো। এদিক সেদিক তাকিয়ে, দৃঢ় কন্ঠে বলে,,,

"যাও,,,"

"আমিও আপনাকে আর দেখতে চাইনা জায়ান,,,আমার সামনে আর আসবেন না।।"

রুমি হাটা দিলো। তার বুক কাপছে।। কোনো রকম নিজেকে সামলে রাখে।। চোখ না চাইতেও ভরে উঠলো।। সময়ের চক্র কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছে তাদের। জটিলতা তাদের ঘিরে ধরেছে।। জায়ান রাগে লাল হয়। লাথি বসায় গাড়ির দরজায়। ঘন কন্ঠে বিড়বিড় করে,,,,

"হাজার বার সামনে যাবো,,,কি করো দেখে নেবো।"

------------

মনমরা আসিফা বসে আছে ক্যাম্পাসে। ঘাস ছিঁড়ছে বসে বসে। চোখে মুখে তার একরাশ আমর্ষ।। তার শ্যামলা মুখখানিতে নিরাশ একটা ভাব।। রুমির অপেক্ষায় তার বিরক্তি আসছে এবার। কোথায় মেয়েটা!! হঠাৎ করে আসিফার কাঁধে সজোড়ে থাপরানি পড়তেই আসিফা চড়াৎ করে। উফ করে কাঁধ চেপে ধরে আসিফা। রুমি বসতে বসতে বলে,,,,

"এই ছেমরি,এই এমনে বইসা আসোছ কেন'বে তোর কি জামাই মইরা গেছে নাকি!?"

আসিফা ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,,,"ভাই রে,,,সবার বিয়ে হচ্ছে শুধু আমার বাদে,,,আমার তো মনে হচ্ছে আমার বিয়ের ফুল ছাগলে খেয়ে ফেলেছে।।"

"আল্লাহ,,, বলস কি!! তাহলে এক্ষুনি চল সেই ছাগলকে খুজে বের করি।"

"কেনো কেনো!?"

"তোর বিয়ের ফুল খেয়েছে বলে কথা,,,বেচারা বেঁচে আছে কিনা দেখতে হবে না!!"

"হা*রামী।"

"থ্যাংক ইউ,,,সেম টু ইউ।"

আসিফা ঠোঁট বাকায় যা দেখে রুমি দাঁত কেলিয়ে বলে,,,,"আর টেনশান নিস কেনো! কাউকে না পেলে আমার ভাই তো আছে তার সাথে তোর বিয়ে দিয়ে দেবো।। আইডিয়া টা কেমন?"

"একদম ফালতু,,,তোর ভাই এই পৃথিবীর শেষ ছেলে হলেও তাকে আমি বিয়ে করবো না বুঝলি!"

"যাকে করো অবহেলা সেই আসে টানাটানির বেলায়,,,বুঝেছো জানু!!দেখা গেলো তুইই আমার ভাবি হলি,,,ইনশা আল্লাহ।"

সঙ্গে সঙ্গে রুমির পিঠে পড়ে কিল। রুমি উহঃ হা করে ওঠে,,এদিকে আসিফা রেগে বলে,,,

"ইনশা আল্লাহ বললি কেনো! জানিস না কোনো কাজের জন্য ইনশা আল্লাহ বললে সেই কাজের জিম্মা আল্লাহ নিজে নেয়।"

"তার জন্য তুই আমাকে মারবি,,,আজ তোর খবর খারাপ হবে দাঁড়া তুই।"

রুমির কথা শুনে দেয় আসিফা এক ছুট। পিছন থেকে রুমি ধাওয়া দেয়।। ক্যাম্পাসময় চক্কর কাটে তারা। এমন সময় ঠিক তাদের সামনে এসে হাজির হয় শান্ত।। ছেলেটাকে দেখেই তারা থামে।। শান্ত তাদের দিকে এগিয়ে আসে।। বলে,,,

"রুসিফা তদের সাথে কথা বলা যাবে?"

"যাবে,,, কিন্তু আগে বল রুসিফা কে?"

"রুমি+আসিফা=রুসিফা।। সারাক্ষণ একে অপরের সাথেই চিপকে থাকিস তাই তোদের আলাদা আলাদা ভাবে ডেকে কি লাভ,,,তাই রুসিফা। ভালো না!?"

"অনেক ভালো,,,তাহ কি বলবি বল।"

"তোদের ধন্যবাদ জানিয়ে ছোটো করবো না,,কিন্তু তাও,,,তোদের অনেক অনেক শুকরিয়া। টাকা ঠিক সময় না দিলে আমার বোন আজ সুস্থ থাকতো না। আল্লাহ তদের ওসিলা বানিয়েছে,,,,আমার ভাষা নেই তোদের থ্যাংকস জানানোর।"

শান্ত কথা বলছে একদম নিরেট,স্পষ্ট।। ছেলেটার মধ্যে কোনো মেয়েলি ভাব এর দেখা মিলল না। তাহ দেখে অবশ্যই আসিফা আর রুমি দুই জনেই অবাক হয়। সেই অবাকতা কাটিয়ে রুমি বলে,,

"তুই কি ভাবে জানলি?"

"তোর ডিটেলস ছিলো,,,হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে জেনেছি।"

*রুমির মনে পড়ে দুই দিন আগের কথা।। সেদিন তারা দুই জনে একসাথে কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিল।। বেশ কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘোরা ফেরার পর রুমি আর আসিফা দুই জন মিলে একটা ছোট রেস্তোরাঁয় ঢোকে।। তাদের খাওয়ার এক পর্যায়ে তারা লক্ষ্য করে শান্ত কে।। ছেলেটা কেমন অস্থির ,অশান্ত হয়ে রাস্তা ক্রোশ করছে। দুই খুরাফাতি বান্ধবীর কিছু গণ্ডগোল এর গন্ধ পায়।। দ্রুত বিল মিটিয়ে তারা পিছু করে শান্তর।।

পিছু করতে করতে একটা সময় শান্ত প্রবেশ করে একটা হাসপাতালে।। রুমী আর আসিফা দুইজনেই ঘাবরায় শান্ত কে হাসপাতালে যেতে দেখে।। একটা সময় শান্ত একটা কেবিনে প্রবেশ।। দুর থেকেই দেখতে পায় সেই কক্ষের শেষ বিছানায় শুয়ে আছে একটা বারো তেরো বছরের মেয়ে।। মলিন মুখে চেয়ে আছে শান্তর দিকে।। ছেলেটাও মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। কিছুক্ষন পর শান্ত বেরিয়ে আসে,,, কোথায় যায় যেনো সে।। এদিকে রুমি আর আসিফা একে অপরের দিকে তাকালো।। তারা নিজে যায় সেই মেয়েটির কাছে।। মেয়েটি তাদের দেখে ভ্রু কুঞ্চিত করে।।

আসিফা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করে,,,"একটু আগে যে ছেলেটা এসেছিল ও তোমার কে হয় বাবু?"

"ওটা আমার ভাইয়া। তোমরা কে?"

"আমরা তোমার ভাইয়ার বান্ধবী।"(রুমি)

"তাই,,,তোমাদের আমি কি ডাকবো?"

"আপি ডেকো কেমন! তোমার নাম কি কিউটিপাই?"(আসিফা)

"শামীমা।"

"বাহ্ খুব সুন্দর নাম,,,একদম তোমার মত।"(রুমি)

"আমি সুন্দর নোই আপি,,,,আমি অসুস্থ। অসুস্থ মেয়েরা সুন্দর হয় না।"(শামীমা)

"ভুল কথা,,,আল্লাহ যাদের অনেক ভালোবাসে তাদের পরীক্ষা করার জন্য একটু অসুখ দেয়।। আর আমি জানি তুমি সুস্থ হয়ে যাবে।"(রুমি)

"সত্যিই!"

"সত্যিই কিউটিপাই।"

রুমি আর আসিফা বেরিয়ে আসে।। শামীমা কে ইনজেকশন দেওয়া একজন নার্স কে প্রশ্ন করলে জানা যায় যে শামীমার রয়েছে কিডনিতে পাথর।। যার সমস্যা ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে।। যার অপারেশন এর জন্য লাগবে মোট দেড়লাখ খানেক টাকার ও বেশি।। শান্ত দের পরিবার হলো নিম্নবিত্ত। দিন আনে দিন খায় তারা। এত টাকা তাদের স্বার্থের বাহিরে। তারপরেও নিজেদের সবটুকু চেষ্টা করছে তারা।। শান্ত তাদের একটাই ছেলে। তাকে পড়া লেখা করাচ্ছে কষ্টে।। সব কিছু শুনে রুমি আর আসিফা দুই জনেই অবাক সাথে খারাপ লাগা ছেয়ে যায়।।

দুই বান্ধবী হাসপাতালের একটা বেঞ্চে বসে।। রুমি বলে,,,"আমি দেবো টাকা আসু।এই ভাবে কাউকে মরতে অবস্থায় দেখতে পারি না।"

"আমি ও দেবো,,,মিলিয়ে দিই দুই জন।"

"নাহ আমার কথা শোন,,,অপারেশন এর টাকা আমি দিচ্ছি,,,তারপর মেডিসিন এর খরচ তুই দিবি এটা বেস্ট হবে।।"

"হ্যাঁ এটা করলেও হয়।"

রুমি সময় ব্যয় না করেই সোজা কল করে আয়াজ এর কাছে।। রিসিভ হতেই রুমি ঠান্ডা স্বরে বলল,,,

"ভাই এই মুহূর্তে আমার একাউন্ট এ দুই লাখ টাকা পাঠাও তো।"

"ওকে,,,পাঁচ মিনিটের মধ্যে পাঠাচ্ছি। হবে?"

"হ্যাঁ ভাই,,,"

"আচ্ছা"

"থ্যাংক ইউ সো মাচ ভাই।"

"মাই প্লেজার,,,পাঁচ মিনিট অপেক্ষা কর।"

আয়াজ নিজের বোন কে ভালো করেই চেনে।। এই টাকা নিয়ে যে রুমি কোনো খারাপ কাজ করবে না তাহ সে খুব ভালো করেই জানে। তাই কোনো প্রশ্ন করলো না।। রুমি নিজে থেকেই সব টা বলবে এটা তার জানা।। সেদিন রুমি অপারেশন এর জন্য টাকা পে করে দেয়।। তার পরের দিনই শামীমার অপারেশন হয়।। তার যাবতীয় মেডিসিন,ইনজেকশন ও একদম ফ্রিতে পাওয়া যায় । সব কিছুই যেনো মিরাকেল।।

----

"শামীমা এখন কেমন আছে?"(আসিফা)

"ভালই আছে,,, আলহামদুলিললাহ।"(শান্ত)

"আচ্ছা শান্ত,,,তুই তো ওরকম না যেমনটা তুই দেখাস। তাহলে সেই আচরণের মানে কি ছিলো!?"(রুমি)

"কি আর বলব! মানুষ যখন অসহায় হয় তখন সবাই তার ফায়দা নেয় যেমন জাহিদ নিতো।। সে যখন আমার পরিস্থিতির কথা শোনে তখন আমাকে বলে,সে আমার হেল্প করবে। ইনজেকশন এর টাকা সে দেবে কিন্তু তার বদলে জাহিদ এর ইশারায় আমাকে চলতে হবে। মানে আমি পোষা হবো,,,ওর চামচা গিরি করবো।। ওর বলাতেই আমি মেয়ে মেয়ে ভাব ধরতাম,,,মজার পত্র হতাম।। কিন্তু এখন আমি ওরকম কিছুই করবো না যার কারণ তোরা,,,আমাকে সাহায্য করে আমার অসহায়ত্ব মুছে ফেলেছিস।"

"উম হুঁ,,,এত ঠান্ডা শুকরিয়া নেবো না তো।। তুই এখন থেকে আমাদের দলে।। আমরা হবো ছাগলের তিন মাথা।"(আসিফা)

ফাজিল শান্ত যেনো নিজের রূপে ফিরে এলো।। বিস্তার হেঁসে দুই হাতে মেলে টাইটানিক পোজ দিলো। রুমি আর আসিফার দিকে যেতে যেতে বলে,,,

"আরে দোস্ত এই আর বলতে!

আয় দোস্তো খাই গোস্ত,,,বুকে এসে ঢুকে যা।"

আসিফা আর রুমি দুই জনেই শান্তর আসা দেখে দুই দিকে সরে যায়। আর বেচারা শান্ত মুখ থুবড়ে পড়ে মাঠে।।

দুই জনেই হেসে উঠলো।। তাদের কথা বাত্রা,হাসি ইয়ার্কির মাতোয়ারা মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হয় জাহিদ। যার প্রতি কারর লক্ষ নেই । ছেলেটার অশালীন দৃষ্টি রুমির দিকে।। ধির পায় এগিয়ে সে রুমির পিছে দাঁড়ালো। সে হাত বাড়িয়ে রুমির কোমরে হাত দিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তেই রুমির চোখ পড়ে বিল্ডিং এর ব্লু জানালার দিকে।। যেখানে স্পষ্ট সে জাহিদ কে দেখতে পায়।। জাহিদ এর হাত রুমির কোমর টাচ্ হওয়ার আগেই রুমি ঘুরেই জাহিদ এর হাত মুচড়ে ধরে এক লাথি দিয়ে ফেলে।। সবকিছুই ঘটে চোখের পলকে।। জাহিদ রাগে লাল হয়। আশেপাশের সবাই তাকে দেখছে।। রুমি রক্তিম চোখে জাহিদ এর দিকে তাকালো। বললো,,,

"কি ভাবিস নিজেকে! ছ্যাঁচরামি করে পার পেয়ে যাবি! আমার বাবা বাঘিনী পেলেছে বিড়াল না।। নোংরা হাত বাড়াবি তো ঝলসে যাবি।।"

🎶ঝলসে যাব জানি

মানছে না মন খানি

পাবো না জেনে মিছিমিছি কেন!

তোমাকেই পেতে চাই আমি।🎶

গানটি শুনে সবাই পিছন ফিরে তাকালো। রুমির যখনই তাঁর গম্ভির মুখ ,কঠিন লাল চোখ নিয়ে ছেলেটির দিকে তাকালো অমনি গান গাওয়া মানুষটি শুকনো ঢোক চিপে চুপ হয়ে গেলো।। ছেলেটি আর কেউ নয় রুবেল। যে ছেলেটি রুমিকে দেখতে গিয়েছিল পরিবার সহ আর রুমি তাকে সোজা না বলে দেয়।। কিন্তু এই ব্যাটা রুবেল রুমিকে ইমপ্রেস করেই ছাড়বে বলে পন করেছে। তাই তো আজ নিজেই এসে হাজির কলেজে।। কিন্তু এসেই যে রুমির এহেন রাগিণী রূপ দেখবে তার আসার বাহিরে।।

এদিকে জায়ান আর আয়াজ দুই জনেই এসে হাজির।। আয়াজ এসেছিল রুমি কে নিতে আর জায়ান আসিফা কে।। কিন্তু দুই জনেরই মনের মধ্যে কিছু গুপ্ত কিছু বাসনা।। দুর থেকে তারা দুইজনেই দেখতে পায় যে জাহিদ রুমির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তাদের যাওয়ার আগেই রুমি নিজেই সাহসিকতার পরিচয় দেয়।।

রুবেল এর দিকে তাকিয়ে আসিফা দাঁত কেলিয়ে বলে,,,,"জোকার।।"

"তুই ঠিক আছিস তো পুতুল?"

আয়াজ এগিয়ে এসে রুমি কে জড়িয়ে ধরে।। না চাইতেও রুমি বারংবার কেপে কেপে উঠছে।। আয়াজ কিছু বোঝে।। বোনের প্যানিক বাড়ার আগেই আয়াজ রুমির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।। তার নজর যায় আসিফা'র দিকে।। মেয়েটা ভ্রু কুঁচকে রুমিকে দেখছে।। আয়াজ এর দৃষ্টি পড়তেই আসিফা চোখ ছোটো ছোটো করে তাকালো তার দিকেই।। আয়াজ খানিক অপ্রস্তুত হয়।। এই মেয়েটা আজ তার পিছন ছাড়ছে না,,,সেই সকাল থেকে মাথায় কব্জা করে আছে।।

জায়ান শান্ত।। তীক্ষ্ণ চোখের পরখ করল রুবেল আর জাহিদ কে।। অতপর কোনো দিকে না তাকিয়ে আসিফার হাত টেনে ধরে নিয়ে গেলো।। আসিফা রুমিকে চিৎকার করে বাই জানালো।।

এদিকে জাহিদ অপমানে নিশ্চুপ। আজ রুমি তাকে অপমান করল, তার বদলা জাহিদ নেবে।। আয়াজ আর জায়ান কে দেখেই জাহিদ কেটে পড়ে। এখানে আরও কিছুক্ষণ থাকলে তার অবস্থার অবনতি হবে।।

----------------------

আকাশের চাঁদ আজ অর্ধ।। তাও নিজের জ্যোতি ছড়াতে কিপটামি করে না।। চাঁদ দুর থেকেই সুন্দর। কারণ কাছে আসলে পাষাণ মানুষ তার কালো দাগ দেখে নাক সিটকাবে।। মানুষ যে বড়ই অদ্ভুত।। তাই কিছু জিনিস দূরে থাকাই ভালো।। ভালোবাসা,প্রিয় মানুষ, আশা এই গুলো দূরেই থাক আর কাছে থাক আমাদের কমতি।।

ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে রুমি।। না চাইতেও চোখের কোনে পানি জমে তার।। বোনের তল্লাশি করতে করতে আয়াজ ছাদে আসে। রুমি কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যায়।। ভাই এর আভাস পেয়েই রুমি দ্রুত চোখ মুছে ফেলে।

আয়াজ বোঝে। রুমির গালে হাত রেখে বলে,

"কি হয়েছে পুতুল আমার।"

"আমাদের স্মৃতি শক্তি এমন কেনো ভাইয়া। যা ভুলতে চাই সেটা ভুলতে পারিনা আর যেটা ভুলতে চাইনা সেটা ভুলে যাই।।"

আয়াজ চুপ চাপ রুমির কথা শোনে।। বোনের মনভাব বোঝে সে।।তাই কথা ঘুরাতে আয়াজ রুমির নাক টেনে দিয়ে বলে,,,

"ছাড় এই সব,,,,তুই আজ রুবেল কে দেখেছিলি! ছেলেটার মুখ চুপসে যাওয়া বেলুন হয়ে গিয়েছিল।।"

বলেই আয়াজ হাসে কিছুটা,,, রুমিও খানিক হেসে বলে,,,"রাখো তো ওই জোকার এর কথা।"

"আচ্ছা রাখলাম।"

"আচ্ছা ভাইয়া তোমার আসিফা কে কেমন লাগে?"

"ছোট বেলায় ঠিক ছিলো এখন পুরোই ধানি লঙ্কা।"

"হ্যাঁ ও এরকমই,,,পাটাকা।। ওর সাথে তোমাকে মানাবে।"

"মানাবে মানে?"

"তুমিই তো বলো যে ওকে পার্মানেন্ট নিজের কাছে রাখতে,,,,তোমার সাথে ওর বিয়ে দিলো পার্মানেন্ট হয়ে যাবে।। আইডিয়া কেমন,,,"

"একদম ফালতু,,, ওকে আর আমি বিয়ে করবো!! নো নো নো,,,নেভার"

ক্রমশ

----------------(নিজেদের মতামত জানাবেন। সঠিন এবং যথাযথ কমেন্ট করবেন। আমার উৎসাহ বাড়ানোর জন্য এগিয়ে আসবেন আশা করছি। লাইক কমেন্ট দেখে পরের পর্ব দেবো।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন