#পর্ব_১৩
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ)
.
জারিন অপেক্ষারত রিকশা বা অটোর জন্য।। একটু রাত হলেই এই রাস্তায় যানবাহন পাওয়া মরুভূমিতে আংটি খুজেঁ পাওয়ার মতো।। অতিরিক্ত বিরক্তি নিয়ে বারে বারে হাত উঁচিয়ে ঘড়ি পরখ করছে।। রাত নয়টার কাছাকাছি।। জায়ান এর কল এসেছিল দুই বার।। ফুমা'কে নিয়ে সে ওয়ারিড। আসতে চাইলে জারিন নিজেই না করে।। ছেলেটা সারাদিন অফিস করে,,,ফেরার পথে ফুটবল খেলে সে।। জায়ান এর এই স্পোর্টস মোমেন্ট সে খারাপ করতে চায় না।। এন.জি.ও কাল ক্লোজ থাকবে তাই আজ কিছু কাজ এগিয়ে রাখতে গিয়ে দেরি হলো। তাই এই সমস্যার সম্মুখীন।।
দূরে বৃতৎ গাছের আড়ালে দাড়িয়ে একটা কালো গাড়ি।। সেই গাড়ির ভিতর রাফাজ।। তার চোখ দুটো স্থীর জারিন এর দিকে।। মনের মধ্যে বইছে সুপ্ত বাসনা।। জারিন কে নিজের গাড়ি করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছে হচ্ছে তার। কিন্তু তাহ অসম্ভব।। রাফাজ রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে কল করে কাউকে।। কিছু একটা বলে বুঝিয়ে কল কাটে।। ঠিক তার দশ মিনিট পর জারিন এর সামনে হাজির হয় একটা রিকশা।। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো জারিন।। রিকশায় উঠে কি মনে করে একবার পিছে ফিরে তাকালো।। জারিন এর নজর এড়ালো না লুকিয়ে থাকা গাড়িটি।।
রিকশা চলতে আরম্ভ করলো।। জারিন তুচ্ছ হেসে মনে মনে বললো,,,,"মানুষ অদ্ভুত।। খু*ন করে লা*শের জন্য দোয়া চায়।"
--------------
সকাল তখন সাড়ে দশটার বেশি হবে হয়তো।। আজ ছুটির দিন সবাই বাড়িতেই।। আসিফা আজ ঘুম থেকে উঠেছে দেরি করেই।। উঠে ফ্রেশ হয়ে সোজা নিচে আসে। টেবিলে বসে ভ্রু কুঁচকে নিজের মা কে জিজ্ঞাসা করে,,,,
"আজ কি রমজান মাস,,,সবাই রোজা?"
"ফালতু কথা বলা কি তোর রক্তে?"
"এই একদম রক্ত নিয়ে কথা বলবে না,,,আমার রক্তে হিমোগ্লোবিন কম হতে পারে,,,কিন্তু তেজ এক পরিমাণ ও কম নেই।
খান বাড়ির মেয়ে আমি,,,বুঝেছো?"
আসিফার বেতুঁকি কথার কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বললেন,,,
"রুটি খাবি নাকি পরোটা!"
আসিফা চোখ উল্টে বললো,,,"কোনো ইজ্জত নেই আমার।। পরোটা দাও,,,আর কেউ খাবে না মা!?"
ভদ্র মহিলা আসিফার প্লেটে পরোটা তুলে দিয়ে বলে,,,"তোর মত সবাই!!
খাওয়া শেষ সবার,,,তুমি তো লাঠ সাহেব এর বেটি ।"
"এটা কি কমপ্লিমেন্ট ছিলো?"
ভদ্র মহিলা একবার চোখ গরম করে তাকাতেই একদম চুপ আসু।। খেয়ে দেয়ে লাফাতে লাফাতে উপর গেলো।। জায়ান এর রুম ক্রস করে যাওয়ার সময় পুরুষালি কন্ঠে থেমে গেল আসিফা।। তার দাভাই তাকে ডাকছে।। আসিফা কিউট হেসে ভিতরে প্রবেশ করে দেখে ছেলেটা একটা ইংলিশ থ্রিলার বই পড়ছে।। জায়ান বই পড়ার সময় চশমা ব্যবহার করে।। আসিফা কে দেখে তার দিকে তাকিয়েই চশমা খুলে হাতে নেয়।। অতপর মেয়েটার দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বললো,,,
"ঘুম থেকে এত দেরি করে ওঠা হচ্ছে কেনো আজ কাল?"
আসিফা নার্ভাস হেসে দাভাই এর দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,,,"কোই দেরি করে উঠলাম! সকাল দশটা নাগাদ তো আমি উঠে যাই,,,"
"দশটা তোর কাছে সকাল মনে হয়!"
"আরে দাভাই,,, সূর্য যতক্ষণ আলো দেয় ততক্ষন তো সকলই,,,তাই না!!"
"আজ থেকে রাতে ফোন আমার কাছে থাকবে। যত সকালে উঠবি তত সকালে ফোন পাবি।"
আসিফা তড়িঘড়ি করে বললো,,,"নাহ নাহ দাভাই এটা ঝুলুম,,,আমার সাথে তুমি এমন করতে পর না।। রাতে বাঁধাকপির সাথে কথা না বলে আমি ঘুমাই না,,,সারাদিনের দুঃখ কষ্ট ভাগাভাগি করে আমরা ঘুমাই,,,,এরকম করো না দাভাই প্লিজ।"
জায়ান ভ্রূ কুচকে,সন্দিহান চিত্তে বলে,,,"তোদের আবার কিসের দুঃখ কষ্ট!"
"আরে অন্য কিছু ভেবো না দাভাই,,,আমি তো এমনই বললাম।। আচ্ছা প্রমিজ আজ থেকে একদম এগারোটার মধ্যে ঘুমিয়ে যাবো।"
জায়ান মাথা নাড়িয়ে কিছুটা সিরিয়াস হয়ে আসিফার দিকে চেয়ে থেকে বললো,,,"কাল কলেজে কি হয়েছিল আসু।। আমায় সব খুলে বল।"
আসিফা এইবার সোজা জায়ান এর পাশে বসে।। বোনকে আগলে নিয়ে মাথায় চুমু দেয় জায়ান। অতপর মনোযোগী হয়ে সবটা শোনে।। আসিফা ও কিছুই লুকায় না। শান্তর বিষয় থেকে শুরু করে সবটা বলে,,,জাহিদ, রুবেল এর সমস্ত কথা বিস্তারের সাথে শেয়ার করে আসিফা।। জায়ান আগেই কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিল।। এখন বোনের কথা শুনে সে কনফার্ম।। কিছুটা রাগও হয়।। আসিফা কথা বলে হাঁফিয়ে ওঠে কিছুটা,,,
"জাহিদ ইজ্ এ ব্যাড গায় দাভাই,,,রুমিকে মাঝে মাঝেই উত্যক্ত করে।"
"এই বিষয়ে ওর বড় ভাই জানে না!?"
আসিফা দুই কাঁধ নাচিয়ে বলল,,,"ডোন্ট নো"
জায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,,,"ওকে,,,এরপর কলেজে কিংবা কোথাও কোনো রকমের প্রবলেম হলে যেনো আমি জানতে পারি,,,বুঝেছিস!"
"জ্বী দাভাই।"
"আমার ভালো বোনতু।"
আসিফা বিস্তার হাসে। যে হাসি চোখ ছুঁয়ে যায়।। তত্পর আরো কিছুক্ষণ গল্প করে জায়ান এর রুম থেকে বেরিয়ে যায়।। রুম এর বাহিরে পা রাখার আগেই আসিফার চোখ পড়ে জায়ানের গুছানো ড্রেসিং টেবিল এর দিকে।। জায়ান নানান ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করে। ব্র্যান্ডেড দামি পারফিউম থেকে আতর পর্যন্ত সব ধরনের সুগন্ধির কালেকশন আছে তার কাছে।। আসিফা চোখ ছোটো ছোটো করে কিছু ভাবার ট্রাই করে।। পরক্ষনেই মনে পড়ে সে আয়াজ এর একটা পারফিউমের বোতল ভেঙে ফেলেছিলো।।
আসিফা ছুটে বেরিয়ে যায়। জায়ান সেদিকে তাকিয়ে চাপা শাস ছাড়ে। চশমা চোখে দিয়ে বইয়ে মনোযোগ দেয়।। আসিফা নিজের রুমে প্রবেশ করে আগে রেডি হয়।। তাকে পারফিউম কিনতে যেতে হবে। নাহলে মানুষটা তাকে হেউ করবে।। আসিফা ঠোঁট বাঁকায়।। ফোন বের করে সোজা কল করে রুমি কে।।
"বাঁধাকপি ফুলকপি খাবি?"
রুমি আকাশ থেকে পড়ল যেনো,,,,"কিইইইই?"
"আরে মানে,,,সপিং মল যাবি?"
"কি করতে?"
"ঘুরতে। টাকা জমিয়েছিলাম সপিং করবো বলে,,,তাই ভাবলাম আজ যাই,,, চল আমার সাথে।"
"নাহ আসু,,, আজ তো হবে না।। আজ একটু কাজ আছে বাড়িতে।"
আসিফা ঠোঁট উল্টে বললো,,,"আচ্ছা,,,
কাজ কর কাজের মেয়ে জরিনা,আমি কাজ করিনা। তুই কাজ করিস,তাই খেটে খেটে মরিস।।
তুই ঘোরা জাঁতা, বাঁধাকপি আমার টাটা।"
বান্ধবীর এহেন অদ্ভুত কবিতায় হেসে ফেললো রুমি। অতঃপর বললো,,,
"আল্লাহ হাফিজ জানু,,,সাবধানে যা।"
কল কাটে রুমি।। আসিফা বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে বাঁধে বিপত্তি।। আনোয়ারা বেগম আসিফা কে বাড়ি থেকে বেড়াতে দেখেই ভ্রু কুঁচকে বলে,,,
"কোথায় যাচ্ছিস এখন?"
আসিফা চোখ বন্ধ করে রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ে। দাদীর দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হেসে,একদম আস্তে আস্তে দাদীর কানের কাছে বলে,,,"মাঠের কাছে অপেক্ষা করছে দাদি,,,"
"কে?"
আসিফা লজ্জা পাওয়ার ভান করে বলে,,,
"আমার... আমার উনি!"
"কিইইই!!"
"ইসস,,,কাউকে বলবে না কিন্তু। আমি এই যাবো আর এই আসবো।"
বলেই দাদীর গালে চুমু দিয়ে নয় দুই আগারো হয়ে গেলো আসু।। এইদিকে আনোয়ারা বেগম হা হয়ে তাকিয়েই রইলো।। নাতনি টা কার মত হয়েছে ভাবতে লাগলো।।
------------
শপিং মলে একা একা হাঁটছে আসিফা।। চোখ ঘুরিয়ে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে সে।। একা একা তার ভালো লাগে না কোথাও। তাও তাকে আসতে হলো।। আসিফা একটা পারফিউম স্টোরে প্রবেশ করে। নানান ধরনের সুগন্ধি দেখে আসিফা একবার চক্কর খেলো। সে তো জানে না আয়াজ কি সুগন্ধি ব্যবহার করে।। চিন্তায় পড়ে আসু।। কি করবে! রুমিকে জিজ্ঞাসা করবে? না না।। আসিফা একটা আইডিয়া বের করে। ঝট পট কল করে রুমি কে।। কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর রুমি কল রিসিভ করে। আসিফা ঝরঝরিয়ে বলে,,,
"রুমি,,,ভাবছি শান্তর জন্য একটা গিফট কিনি,,, ও আমাদের নিউ ফ্রেন্ড তার জন্য কিছু দিতে চাইছি তাকে।। টেল মিঃ শাম গিফট অপশান।"
"হঠাৎ কি হলো তোর?"
"আরে বল না,,,আচ্ছা পারফিউম দিলে কেমন হয়?"
"ভালো হয়,,,কিন্তু"
আসিফা রুমি কে বলতে না দিয়ে নিজেই বলে,,,"কোন পারফিউম,,,তাড়াতাড়ি বল।"
"আরে সেটা আমি ভাবে জানবো? আমি কি ছেলে!?"
"না তুই কেনো ছেলে হতে যাবি,,,তুই একটা পরিপূর্ণ মেয়ে। তোর বাড়িতে কেউ পারফিউম ব্যবহার করে না! মানে তোর চাচা কিংবা ভাই!"
"হ্যাঁ করে তো,,,"
আসিফার চোখ চিকচিক করে উঠলো। তড়িঘড়ি কন্ঠে বলে ওঠে,,,,"তাহলে জলদি বল তোর ভাই কোন পারফিউম ইউজ করে,,,,সেটাই নেবো শান্তর জন্য।"
রুমি কিছুক্ষন ভেবে একটা পারফিউম এর নাম নেয়।। নাম শুনেই আসিফা কল কেটে দিলো।। এদিকে রুমি অবাক। ঝড় যেনো এই মেয়ে।। আসিফা ত্বরিত সেই কাঙ্ক্ষিত সুগন্ধি খুজে পেয়ে যায়।। সেটা নিয়ে সোজা বিল করতে গেলে দাম শুনেই আসিফার চোখ কপালে। গাল হা করে, টেনে টেনে বলে,,,,
"আঠেরোশো টাকা,,,মানে এক হাজার আটশো!! তাও এইটুকু বোতল! সত্যি করে বলুন আমাকে বোকা বানাচ্ছেন তাই না!!"
কাউন্টারে থাকা ছেলেটি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে হয়ে বলে,,,"নো ম্যাম আপনাকে কেনো বোকা বানাবো!! এটার ব্র্যান্ড বিদেশী,,,তাই দাম টাও অনেক।"
"বুঝলাম,,,দিন প্যাক করে।।"
আসিফা ছোটো সপিং ব্যাগ নিয়ে স্টোর থেকে বেরিয়ে গেলো। মনে মনে বলে,,,"দেশী বাদর বিদেশী আদা খায়।"
চার তলার ফুড কোট থেকে একটা ভ্যানিলা কফি কেনে আসিফা।। পাইপ টেনে একবার কফি টেস্ট করে। সাথে সাথেই তৃপ্তিতে মন নেচে ওঠে।। হেলেদুলে পা বাড়ায়। ঠিক সেই সময়েই ফোন আসে জুলফিকার সাহেব এর। আসিফকে বাড়ি আসতে বলে কল কেটে দেয়।। এইবার যেনো আসিফা লাফিয়ে ওঠে,,,তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছানোর জন্য তাড়া লাগায় নিজেকে।। দৌড়ে লিফট ধরার জন্য উড়ে উড়ে যায় মেয়েটা।। লিফট বন্ধ হওয়া দেখেই আসিফা চিৎকার করে বলে,,,
"দাড়াও আমি আছি,,,লিফট খোলো।"
বন্ধ হয়ে আসা লিফট এর দরোজা আবার খুলে যায়।। আসিফা দৌড়ে ঢুকে পড়ে।। বেচারি হাঁফাতে থাকে।। একা একাই বলে,,,
"আমি ভাবতাম পৃথিবীতে আমি একাই ভালো মানুষ আছি,,,কিন্তু না আপনিও,,,"
বলেই আসিফা পিছন ফিরে মানুষটিকে ধন্যবাদ জানাতে যাবে ঠিক সেই সময়েই মেয়েটার চোখ বড় বড় হয়ে আসে।। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুঠাম দেহী পুরুষটিকে দেখেই বলে ওঠে,,,"আপনি,,,!!!"
হাতে ধরে রাখা কফি গিয়ে পড়ে আয়াজ এর কাপড়ে।। ছেলেটা চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো।। চোয়াল শক্ত করে আসিফা নামের মেয়েটির দিকে তাকালো কঠিন চোখে।। এদিকে আসু তো নিজের উপরই বিরক্ত।। ভুল করতে না চাইলেও হয়ে যায় তার দ্বারা। ভুল ও তার আলাদা একটা সম্পর্ক আছে। আয়াজ রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে, দাঁতে দাঁত চেপে বলে,,,
"যদি জানতাম তুমি! তাহলে কখনোই লিফট থামাতাম না। যখনই আমার সামনে আসো তখনই কোনো না কোনো ক্ষতি করো।"
আসিফা কাচুমাচু হয়ে বলে,,,"আমি কি ইচ্ছে করে করেছি! আপনাকে দেখেই তো আমি ঘাবড়ে গেছিলাম।"
"কেনো!! আমাকে দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কি আছে! আমি কি বাঘ!"
আসিফা ধির কন্ঠে বলে,,,"না ড্রাগেন!"
"কিইই! কি বললে!"
আয়াজ এগিয়ে আসে মেয়েটার দিকে।। আসিফা দুই পা পিছিয়ে গিয়ে নার্ভাস হেসে বলে,,,
"আমি...আমি তো সরি বললাম,,,আপনি হয়তো শুনতে পাননি।। আপনার কোর্ট খারাপ করে দিলাম। দাঁড়ান,,,"
বলেই ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে আয়াজ এর কোর্ট মুছে দিতে লাগলো আর একা একাই কি সব বলে যাচ্ছে।। এদিকে আয়াজ চোয়াল চেপে অপলক তাকিয়ে রইলো মেয়েটার দিকে।। না চাইতেও ভুলে,দুষ্টামিতে পরিপূর্ণ মেয়েটাকে দেখতে ভালই লাগছে। সেই স্বপ্নের পর থেকে মেয়েটা এমনিতেই মাথায় জেঁকে বসেছে। এই মেয়েটা এরকম আলাদা রকমের কেনো! আয়াজ এর মাঝে মধ্যে মনে হয় এই মেয়েটাকে তার মা বাবা মিউজিয়াম থেকে এনেছে।। পুরুষ চোখের তীক্ষ্ণ চাহনি দেখতে পেলো না আসিফা। তার মনে তো চলছে অন্য প্রশ্ন।।
আসিফা এইবার কিছুটা কৌতূহলী হলো যেনো,,,আমতা আমতা করে জিজ্ঞাসা করল,,,
"আম...মানে,,,আপনি এখানে কি করছেন! মানে মলে সপিং করতে এসেছিলেন,,,,কিন্তু আপনার হাতে কোনো ব্যাগ নেই... কেনো!?"
আয়াজ মেয়েটার কথায় ফট করে সরে আসে।। চেতনা ফিরে তার।। সোজা দাড়িয়ে নোংরা কোর্ট খুলে হাতের ভাঁজে রাখলো। চোখ মুখের ভাব চিরকালের মত গম্ভীর করে। লিফট এর দরজার দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"নিজে নিজেই সব ভেবে ফেলো কেনো! শপিং মলে শপিং ছাড়াও নানান কাজ হয়।"
আসিফা অভিজ্ঞদের মাথা নাড়িয়ে,,,দুষ্টু হেসে বলল,,,"ডেটিং সেটিং হা!!"
আয়াজ ফট করে নিরেট চোখে তাকালো আসিফার দিকে।। সাথে সাথেই মেয়েটা চুপ হয়ে গেলো।। আয়াজ ফোঁস করে শাস ছেড়ে বলে,,,,
"মিটিং ছিল মিস বিচুটি পাতা। আপনার আর কোনো প্রশ্ন আছে ম্যাম!"
আসিফা ফটাফট দুই দিকে মাথা নাড়ালো।। কিছু মুহূর্ত পরেই দরোজা খুলে গেলো।। আয়াজ কোনো দিকে না তাকিয়ে বড়ো বড়ো কদম ফেলে বেরিয়ে এলো। একা ব্ল্যাঙ্ক হয়ে রইলো আসিফা। এদিকে নিজের হাতে যখনই দেখলো পারফিউমের ছোট শপিং ব্যাগ তখনই হুস ফিরল,,,সময় ব্যয় না করে ঝটপট ছুট দেয়।।
"মিস্টার ড্রাগেন,,,প্লিজ দাড়ান,,,,এই শুনছেন।"
আয়াজ এর চলমান পা দুটি থেমে গেলো।। পিছন ফিরে দেখলো আসিফা দৌড়ে আসছে তার দিকেই।। তার ডাকা অদ্ভুত নামের জন্য আশেপাশের মানুষ তার দিকে তাকাচ্ছে।। আসিফা ফ্লোরে স্লিপ খেয়ে সুরুৎ করে আয়াজ এর উপর পড়ে যাওয়ার আগেই আয়াজ তাকে দুই হতে আগলে ধরে।। আসিফা হাঁফিয়ে নিশ্বাস টেনে বলে,,,
"এত তাড়াতাড়ি হাঁটেন কি করে!! আল্লাহ,,,আপনি তো ম্যারাথন যেতে পারবেন।"
"চিৎকার করছিলে কেনো স্টুপিট!"
"স্টুপিট বলবেন না প্লিজ,,,, বিচুতি পাতাই বলুন ওটাই যায় আমার সাথে।। আর এটা ধরুন,,,"
ছোট ব্যাগ আয়াজ এর দিকে বাড়িয়ে দিতেই ছেলেটা ভ্রু কুঁচকে বলে,,,"এটা কি?"
"হাতে নিয়ে খুলে দেখুন।"
আয়াজ সন্দিহান চোখে মেয়েটার দিকে তাকালো। আসিফা সেদিকে লক্ষ্য করে, আশ্বাস কন্ঠে বলে,,,
"আরে কোনো বদমাইশি নয়,,,ট্রাস্ট মিঃ। খুলে দেখুন।"
আয়াজ আসিফার দিকে চেয়ে থেকেই ব্যাগ খুলে পারফিউম এর সিসি বের করে।। চোখ ছোটো ছোটো করে একবার হাতে থাকা জিনিসটা দেখে তো একবার আসিফা কে।। মাথায় জোর দিতেই মনে পড়ল সেই দিনের কথা।। মেয়েটা ভুলিনি।।
আয়াজ কিছু পল চুপ থেকে,,,হেসে ফেলে। একদম মুচকি একটা হাসি।। চোখে মুখে আকর্ষণীয় একটা ভাব ফুটিয়ে বলে,,,
"তুমি ওয়ান পিস একটা মেয়ে,,, জানো তো!!
খান বাড়ির সবচেয়ে আজব একটা সদস্য।।"
"আপনার কথা গুলি কোপ্লিমেন্ট হিসেবেই নিলাম।
আপনার একটা পারফিউম ভেঙেছিলাম আর একটা দিয়ে দিলাম।। এই বার, নো মোর ফাইট।"
আয়াজ উত্তর দেয় না।। আসিফা কথাটি বলে মলের এন্ট্রি গেট থেকে বেরিয়ে যায়।। আয়াজ পার্কিং এরিয়া থেকে গাড়ি বের করে রাস্তায় ওঠার সময় দেখে আসিফা দাড়িয়ে আছে।। আয়াজ ওর সামনে গাড়ি ব্রেক করে বলে,,,
"উঠে এসো,,, আমি ড্রপ করে দিচ্ছি।।"
"নাহ,,,আমি পারবো যেতে।।"
"কিছু শুনতে চাচ্ছি না,,,উঠে এসো। দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে,,,।"
আসিফা দুই সেকেন্ড ভেবে গাড়িতে উঠে বসে।। গাড়ি চলতে শুরু করে।। আসিফা একদম চুপ চাপ বসে আছে।। আয়াজ নিজের দক্ষ হাতে স্টিয়ারিং ঘোরাচ্ছে।।
"তোমার বাড়ির সবাই কেমন আছে আসিফা!?"
আয়াজ এর সুন্দর বুলি শুনে মেয়েটা তার দিকে ফিরে তাকালো।। আয়াজ কখনোই এত ভালো করে কথা বলেনি তার সাথে। তাদের যখনই দেখা হয় ঝগড়া হয়।। মেয়েটা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়েই বলে,,,
"ভালো আছে।"
"জারিন ফুপি কেমন আছে?"
ফুমা'য়ের প্রসঙ্গ তুলতেই আসিফা কিছুটা শান্ত হলো।। একটা গম্ভীর ভাব ছেয়ে গেলো তার শ্যামাঙ্গিণী মুখায়ব জুড়ে।। সামনের দিকে তাকিয়ে কিছুটা গম্ভীর স্বরেই বললো,,,
"আপনি জেনে কি করবেন!!"
"পাস্ট,প্রেজেন্ট,ফিউচার কোনোটাই আমার হাতে ছিলো না আর নেই।। যদি থাকতো তাহলে নিশ্চয়ই কিছু করতাম।"
অতপর গাড়িতে পিন পতন নীরবতা।। গাড়ি আসিফাদের বাড়ির কাছা কাছি আসতেই আসিফা গাড়ি থামাতে বলে নেমে যায়।। আয়াজ তাকিয়ে রইলো মেয়েটার যাওয়ার পানে।। চোখের পলক পড়লো যখন জ্বলে উঠলো আঁখি জোড়া।। একটা মানুষের নেওয়া একটা পদক্ষেপ কত কিছুই বদলে দিতে পারে!!
ক্রমশ
---------------(মতামত জানাবেন সবাই নিজেদের। গল্পের মধ্যে বাস্তবতা কিংবা লজিক খুঁজে আমায় বিব্রত করবেন না। পার্ট আজকেই দিতাম কিন্তু লেট হয়ে গেলো। সবাই কমেন্ট এ মতামত জানাবেন। রমজান মাসে তাড়াতাড়ি গল্প দিতে অসুবিধে হয়,,,আপনারা একটু বুঝবেন বিষয় টি ।)