#পর্ব_১৪
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ)
.
বড় ঝিল পাড়ে ঘাসের আবরণের উপর বসে আছে রাফাজ ঠিক তার পাশেই লজ্জাশীল হয়ে বসা জারিন।। মেয়েটার দৃষ্টি ঝিলের স্বচ্ছ পানিতে স্থির ।। এখন পড়ন্ত বিকেল।। সূর্যের আলো খানিক ঝিমিয়ে এসেছে।। এই স্নিগ্ধ আলোয় রাফাজ অপলক দেখে চলেছে তার মনের রানি কে।। সতেরো বছর বয়সী মেয়েটাকে ছেড়ে যেতে হয়েছিল তাকে।। এখন সেই মেয়ে হয়েছে যুবতী।। রাফাজ এর অন্তর দুলে উঠল। সালোয়ার কামিজ পরনে ছিমছাম মেয়েটিকে রাফাজ অত্যাধিক ভালোবাসে।। যে ভালবাসা পরিমাপ করা নিষেধ,,,,কিংবা অসম্ভব।।
"বিদেশ মিস করেন?"
জারিন এর মৃদু স্বরে রাফাজ এর চেতনা ফেরে।। ক্ষীণ হেসে বলল,,,"বিদেশ,,,ওটা আমার দেশ না ওই দেশের কেউ আমার না,,,তাহলে মিস করব কাকে!"
জারিন এর ঠোঁটের কোণে আলতো হাসির রেখা ফুটলো।। পাশ ফিরে রাফাজ এর দিকে চেয়ে বলল,,,"আমাদের কথা মনে পড়েনি!?"
রাফাজ ভাবলেশহীন ভাবে রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে বলে,,,
"হ্যাঁ মনে তো পড়ত,,,যখন ক্যান্টিনের বিদেশী টেস্টলেস খাবার খেতাম তখন মা আর ভাবির কথা মনে পড়ত।। পার্কে ছোটো ছোটো বাচ্চাদের খেলতে দেখলে রুমি আর আসিফার কথা মনে পড়তো। যখন দেখতাম মাঝারি বয়সের ছেলেরা কাধে কাধ মিলিয়ে স্কুল থেকে ফিরে আসতে তখন আয়াজ আর জায়ান এর কথা মনে পড়তো।। আসলে আমি যেদিকেই তাকাতাম সেদিকেই আমি নিজের মানুষের কমতি পেতাম। কিন্তু কি আর করা! পড়াশোনা তো করতেই হবে।"
কথাগুলি বলে থামলো রাফাজ।। এদিকে জারিন তখনও আকুল হয়ে রাফাজ এর কথা শুনতে চাইছে।। শুনতে চাইছে বেহায়া কান,,, রাফাজ জারিনকে কখন মিস করত! নাকি করতই না? মেয়েটার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে এলো।। নিজের নাম প্রিয়তম এর মুখে না শুনে চিত্ত জ্বলে উঠলো।। শুকনো ঢোক চিপে রাফাজ এর দিকে আগ্রহী চোখে তাকিয়ে বলল,,,,
"আমার...আমার কথা মনে পড়েনি একবার ও!?"
রাফাজ ক্ষীণ হেসে মাথা না ভঙ্গিতে ঝাঁকালো।। জারিন আরও ব্যথিত হলো।। চোখে মুখে অন্ধকার নিয়ে বললো,,,"একবার...একবারও মনে পড়েনি?"
"নাহ"
রাফাজ এর স্পষ্ট বাক্য।। জারিন এর চোখ হতে অজান্তেই গড়িয়ে পড়ল নোনা জল।। অভিমানি মেয়ে উঠে চলে যেতে নিলেই রাফাজ তার কব্জি ধরে টেনে আনে নিজের দিকে।। মস্তকনত মেয়েটির দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে পুরুষালি কন্ঠে বলে,,,
"অভিমান হয়েছে?"
জারিন মাথা তোলে না।। রাফাজ ক্ষীণ হেসে বলে,,,"একটা সময় হতো যখন আমি তোমায় মিস করতাম জারিন।"
জারিন অশ্রু সিক্ত চোখে তাকালো রাফাজ এর দিকে।। কাপা অধরে বললো,,,,"কখন?"
রাফাজ আরো একটু এগিয়ে এসে বলল,,,"যখন যখন আমি নিশ্বাস নিতাম।"
জারিন অবাক নজরে তাকিয়ে থাকলো রাফাজ এর দিকে।। আরক্ত গাল হলো মেয়েটার।। হৃদস্পন্দন বাড়লো।। নিজেকে কোনো রকম রাফাজ হতে ছাড়িয়ে ছুটে চলে গেলো।। রাফাজ দেখলো গোধূলি বেলায় এক রমণীর ছুটে যাওয়া।। সবুজ ঘাসের উপর পা ফেলে,কোমর পর্যন্ত খোলা চুল,ওড়না উড়িয়ে ছুটে যাওয়া এক মেয়ে।।
-------------
"বাহ্ খুব সুন্দর পেন্টিং এঁকেছো তুমি চাচু! কি ভাবে এত সুন্দর আঁকতে পারো তুমি? আমি একটু দেখি?"
রুমির কথায় সম্বিত ফিরল রাফাজ এর।। এখন রাত এগারোটার কাছাকাছি বাজে।। জানালার পাশে সিঙ্গেল সোফায় বসে সে। সামনের ছোটো টি টেবিলে রাখা একটা মাঝারি আকারের ক্যানভাস।। রাফাজ খুব কম পেন্টিং করে।। খুবই সচরাচর,,,কিন্তু যখনই করে নজর কাড়ার মত করে।। পেন্টিং করা রাফাজ এর শখ। এই শখ আয়াজ ও পেয়েছে চাচু হতে।। রাফাজ মাঝে মাঝে ক্যানভাস, কালার,প্যান্ট ব্রাশ নিয়ে বসে পড়ে। কল্পনা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে।।
রাফাজ একবার নিজে তাকালো নিজের করা পেন্টিং এর দিকে।। সবুজ ঘাসের উপর পা ফেলে,কোমর পর্যন্ত খোলা চুল,ওড়না উড়িয়ে ছুটে যাওয়া এক মেয়ে।। বুকটা কেঁপে উঠলো রাফাজ এর।। নিজেকে সংযত রেখে রুমির দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ হাসে।। ভাতিজির গালে হাত বুলিয়ে আদর দিয়ে বলে,,,
"দেখো,,,"
রুমি বিস্তার হেসে ওপর পাশের সিঙ্গেল সোফায় বসে ক্যানভাস টি হাতে নিয়ে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলো।। এত সুন্দর রঙের কারিগরি, নিখুঁত পেন্টিং কার না মন ছুঁয়ে যাবে!। রুমি অবগাঢ স্বরে বলে,,,
"Marvellous painting....how could you do this চাচু?"
"থ্যাংকস এ লট মাই বার্বি।। তোমার পছন্দ হয়েছে?"
"ভীষণ,,,,এটা আর্ট গ্যালারিতে দিতে পারো।।"
রাফাজ শব্দ করে হেসে বলে,,,"তাই নাকি!"
"একদম।। বাট আই হ্যাভ কোশ্চেন।"
"কি?"
"এই মেয়েটা কে? কাকে ভেবে এঁকেছো এই সুন্দর পেন্টিং? আমি কি তাকে চিনি?"
রাফাজ রুমির কথায় অসাধারণ হাসি ফুটিয়ে তুলল।। উঠে দাড়িয়ে নিজের টি শার্ট ঠিক করে,,,যা কুচকে গেছে অনেকক্ষণ বসে থাকার জন্য।। কিছুটা অস্থির বোধ করলো নিজেকে রাফাজ।। খোলা জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"হয়তো চেনো।"
রুমি রাফাজ এর পাশে দাঁড়িয়ে চাচুর হাত ধরে বলল,,,"ডু ইউ স্টিল লাভ হার?"
"ভালোবাসা কখনো কমেনা, ভালোবাসা তো সময়ের সাথে সাথে আরো গভীর হয়।। কাউকে না পেলে তাকে ভালোবাসা ছেড়ে দেওয়া ভালোবাসা নয়।। না পেলে তো আরও বেশি ভালবাসতে ইচ্ছে করে।।"
চাচুর কথা শুনে রুমি মনটা উদাস হলো।। ফ্যাকাশে স্বরে বলে,,,,"তাহলে সেইদিন তুমি,,,,"
"যায়নি,,, ও বউ সেজে ছিল কিন্তু আমি যাইনি।"
"কেন চাচু?"
"সব কিছুর কারণ হয়,,,শুধু কিছু কারণ বলা যায় না।।"
রুমি চুপ করে গেলো।। এই একটা রাজ রাফাজ এর বুকের ভেতর তালা মারা।। রুমি আর ঘাটল না।। রাফাজ এর ডান বাহুতে মাথা রেখে বলে,,,
"লাভ ইউ চাচু।"
রাফাজ রুমির কপালে চুমু এঁকে বলে,,,"লাভ ইউ মাই বার্বি।। ডিনার এর জন্য আমায় ডাকতে এসেছিলে তাই না!"
রুমি দন্ত দিয়ে জীব কেটে বললো,,,"আল্লাহ,,,আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।। তাড়াতাড়ি আসো নিচে,,,"
"কলেজে সব ঠিক আছে তো?"
"জ্বী চাচু।"
"কোনো প্রবলেম হলে অবশ্যই আমায় বলবে,,,ওকে!?"
"ওকে চাচু।"
রুমি চলে যেতেই রাফাজ ক্যানভাসের দিকে একবার তাকাল।। আর তাকিয়েই রইলো।
--------------
we perdue ( নিবিড় অর্থ 'আমরা অদৃশ্য'). খবরের কাগজ,নিউজ চ্যানেল এর হেড লাইন। এই গ্যাং আড়াল থেকেই শেষ করে কিছু মানুষ রুপি পশুদের।। বছরের পর বছর তাদের খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অবশ্য পুলিশদের খুব একটা অসুবিধে নেই এই গ্যাং এর প্রতি বরং তাদের কাজ এরাই সহজ করে দিচ্ছে।। রেখে যাচ্ছে লাশ সহ তার কালো কর্মের প্রুভ।।
টিভিতে এমন নিউস নতুন না। খান বাড়ির মহিলারা খুবই বিরক্তির সাথে চ্যানেল পাল্টায়। এইসবে তাদের কি! এইসময় বাড়ির পুরুষেরা এহেন খবর দেখে নিশ্চই আলোচনা শুরু করতো।
------------------
নতুন দিনের সূচনা।। সময়ের কাটা এখন বিকেল।
আজ মাঠে নেমেছে দুই ফুটবল টিম।। বিশাল সেই মাঠের আসে পাশে অগুণিত মানুষজন।। এটা কোনো লোকাল ফুটবল গ্রাউন্ড নয়।। বড় মাপের ক্লাবের অংশ এই গ্রাউন্ড।। এই ক্লাবে আগে মেম্বারশিপ নিতে হয়।।ক্লাবে রয়েছে নানান স্পর্টস ফিড। বাস্কেটবল, টেনিস, টেবিল টেনিস ,ফুটবল ইভেন সুইমিং এর জন্য রয়েছে ব্যবস্থা।।
আজ এই ম্যাচ রাখে ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিজেই।। এই ক্লাবের ফুটবল টিমের লিডার হলো জায়ান।। স্কাই ব্লু জার্সি তার পরনে,,,মোজা, স্পোর্টস কেডস্ পড়ে ছেলেটা যখন মাঠে নামে তখন সবাই তার দিকে তাকিয়ে থাকে। সেটা ছেলে হোক কিংবা মেয়ে। মাঠের চারি পাশে নাইলন জাল দিয়ে ঘেরাও করা।। ধীরে ধীরে মাঠে আসে সমস্ত মেম্বার।। একবার কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ঝুঁকে স্ট্র্যাটেজি রিভাইস করে অতপর চিয়ার আপ করে তারা।। অপজিড টিম ও করে একই কাজ।।
খেলা শুরু হয়।। এত দিনের প্র্যাকটিস, এবং পারদর্শিতার সহিত খেলছে জায়ান এর টিম।। জিতার একটা নিয়ত সবার মধ্যে।। নিজেদের সবটুকু দিয়ে তারা খেলতে ব্যাস্ত।। কিন্তু জায়ান এর এম গোল না তার এম অন্য কেউ।। অপজিড টিমের সদস্য রুবেল তার মেন টার্গেট।। চোয়াল শক্ত করে চেপে খেলছে সে।। পায়ের মাঝে বল আসতেই জায়ান বাঁকা হাসলো।। সামনে তাকিয়ে এক সর্ট মারল সোজা রুলেব এর দিকে।। বেচারা উড়ে আসা বলের প্রভাবে সোজা গ্রাউন্ডে পড়ে গেলো।। রুবেল এর পরে যাওয়ায় তার টিম এম হারিয়ে যেই না তার দিকে তাকায় অমনি জায়ান এর টিম গোল করে।।
পুরো ম্যাচ চলে একই ভাবে।। শেষে বিজয়ী হলো জায়ান দের টিম।। এদিকে বেচারা রুবেল এর অবস্থা কাহিল।। ঠিক মত দাঁড়াতে পারছে না সে।। দুই জন ছেলে তাকে ধরে ক্লাবের চেয়ারে বসালো।।
কোল্ড ব্যাগ আনা হলো তিনটে।। মাথায়,গালে,পায়ের ব্যাথা স্থানে লাগানো হলো এগুলি।। রুবেল উহ আহ করে ওঠে।। জায়ান ক্লাবে যাওয়ার আগে একবার তার কাধে হাত রেখে বলে,,,
"বেটার লাক নেক্সট টাইম ব্রো।"
"আমার উপর কিসের রাগ তোমার?"
জায়ান হেসে বলল,,,,"তোমার গানের গলা আমার পছন্দ হয়নি,,, আই থিঙ্ক তোমাকে আরো বেশি রিয়াজ করা দরকার।। আর ফুটবলে তুমি এখন বাচ্চা,,, ইউ হ্যাভ টু মোর প্র্যাকটিস ইন ইট। টেক কেয়ার ব্রাদার।।"
বলেই চলে গেলো জায়ান,,,সে জানে আরেক জনের ব্যবস্থা একজন ঠিকই করবে,,,তারপরেও নাহয় জায়ান নিজের মত সাহেস্থ করবে কোনো এক দিন।। এদিকে রুবেল বাকবাকুম।। রাগ লাগলো তার সাথে ব্যাথায় অস্থির হলো ছেলেটা।।
-------------
"পুতুল আমি আসবো তোকে নিতে!সন্ধ্যা ছয়টা বাজতে চললো,,,মাম্মা ইস্ ওয়ারিড নাও।"
"নাহ ভাইয়া,,,আমি আসতে পারবো।। এখনই বেরাবো।"
"ওই বিচূটি পাতাকে সাথে নিসনি কেনো!! কোলগেট এর সাথে যেমন ব্রাশ ফ্রি দেয়,,,ওই ধানি টাও তো তোর সাথে ফ্রি।। ওকে সাথে নিয়ে যাসনি কেনো?"
"ভাইয়া প্লিজ,,,আসুকে নিয়ে এরকম বলো না। হ্যাঁ ও একটু চঞ্চল,,,কিন্তু ভালো। শি ইস এ সুইট গার্ল,,,
বুঝিনা তোমার কাছে ও এত তেতো কেনো!
আর ওর পেটে ব্যাথা করছিলো,,,তাই তো সাথে আসেনি।। নাহলে ও আসতো।"
রুমি তরফদারি করলো তার বাঁধাকপির।। আসিফা নামের মেয়েটার পেটে ব্যথা শুনে আয়াজ কিছুটা হলেও বিচলিত হলো কিন্তু তাহ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করল।। আয়াজ নিজেও অফিসে। রুমি গিয়েছে এক কলেজ ফ্রেন্ড এর বাড়িতে। কিছু প্রজেক্ট ডিসকাস এবং নোটস নিতে।। বোনকে নিয়ে চিন্তায় ছেলেটা। তাই তো কল করে খোঁজ নিতে ভুলে না।। আয়াজ বোনের কথায় ফোঁস করে শাস ছাড়ে। বোন তার বড় হয়েছে,,, তাও ছোটো এখনও আয়াজ এর কাছে।। ছেলেটা গলা কেশে বললো,,,
"সাবধানে আসিস,,,আর কোনো প্রবলেম হলে আমায় কল করবি। মনে থাকে যেন।"
"ওকে বাবা,,,এখন রাখি?'
"রাখ,,, টেক কেয়ার।"
কল কেটে দিতেই রুমি মৃদু হাসলো।। রুমি সমস্ত নোটস কপি ব্যাগে ভরে সোনিয়াকে বিদায় জানালো।। সোনিয়া মেয়েটা অতি চনমনে। সে রুমি কে জড়িয়ে ধরে বলল,,,
"আমার চাচুর ছেলে কে বলি তোকে ড্রপ করে দিতে?"
"নো ইয়ার,,,আমি পারবো।"
"বাড়ি গিয়ে একটা ম্যাসেজ করিস। আর আসু আসলে আরো মজা হতো। তুই আরও কিছুক্ষণ থাকতেও পারতি।"
"নেক্সট টাইম,,,ইনশা আল্লাহ।"
"গেট পর্যন্ত এগিয়ে দি।"
"আচ্ছা চল।"
রুমি আর সোনিয়া একসাথে গেট পর্যন্ত আসে। সোনিয়া দের এলাকা একদম নিরিবিলি।। আশেপাশের জমি গুলি একাকী পড়ে থেকে জঙ্গল হয়েছে।। রুমির কিছুটা ভয় হয়। বিকালের দিকে এসেছিল,,,তখন আলো ছিলো চারি দিকে। এখন অন্ধকার। লামপোস্ট এর আলোতে রাস্তা আলোকিত।। সোনিয়া দের বাড়ির পাশে পাশে অনেক গুলি বাড়ি আছে। সবগুলোই অনেক সুন্দর ডিজাইনে তৈরি করা।। রুমি আর সোনিয়া একে অপরকে আবারও বিদায় জানিয়ে চলে যেতে নিলে হঠাৎ কারোর কন্ঠে পাশ ফিরে তাকালো দুইজন।। ফর্মাল ড্রেসে দাড়িয়ে তাদের কলেজের নতুন টিচার কাফিল মির্জা।।
রুমি প্রচুর অবাক হয় কাফিল কে দেখে।। কিন্তু সোনিয়া প্রচুর স্বাভাবিকতার সহিত বলে,,,
"ভাইয়া... আই মিন স্যার।"
কাফিল অমায়িক হেসে তাদের দিকে এগিয়ে এসে বলল,,,"ভাইয়া ডাকো সমস্যা নেই সোনিয়া।। আর আমি যদি ভুল না হই.. ইউ আর,,, রুমি! তাই না!?'
রুমি অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে সালাম জানিয়ে বলে,,,
"জ্বী স্যার। কিন্তু আপনি মানে,,,"
রুমির মনের কথা বুঝে সোনিয়া ঝটপট বলে,,,"কাফিল ভাইয়া আমাদের নেবার।।"
"ওহহ আচ্ছা।"
"তো আউটিং প্ল্যান নাকি দুই জনের!"
কাফিল এর কথায় সোনিয়া সামান্য হেসে বললো,,,
"নাহ ভাইয়া,,,প্রজেক্ট এর জন্য এসেছিল রুমি এইবার চলে যাবে।।"
"গ্রেট,,,তোমাকে কেউ নিতে আসবে রুমি?"
"নো স্যার।"
কাফিল কিছুটা ভেবে , নম্র কন্ঠে বললো,,,
"ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড,,, ক্যান আই ড্রপ ইউ?
আসলে দেখতেই পাচ্ছ আমাদের এরিয়া অনেক নিঝুম। মেন রোড এখান থেকে দশ মিনিট। তোমার একা যাওয়া ঠিক নয়।।"
রুমি আমতা আমতা করতেই কাফিল আরও একবার আশ্বাস কন্ঠে বলল,,,
"হেজিটেড ফিল করলে হেঁটে যাই তোমার সাথে। গাড়ি'তে যেও না।। আমি বুঝি তোমাদের ফিলিংস। আমারও একটা বোন আছে।।"
সোনিয়াও বললো,,,"ভাইয়া ঠিকই বলছে একা যাসনা। মেন রাস্তা পর্যন্ত ছেড়ে দিক তোকে,,,তোর কি কোনো সমস্যা!?"
রুমি কিছুটা ইতস্ততঃ হয়েই বললো,,,
"নাহ নাহ সমস্যা নেই,,,আচ্ছা ঠিক আছে চলুন।"
সোনিয়া কে বিদায় জানিয়ে রুমি আর কাফিল হাঁটতে লাগলো।। রুমির সাথে বেশ দূরত্ব বজায় রেখেই হাঁটছে ছেলেটা। ভদ্রতা ছেলেটার কথায়, আচরণেই টের পাওয়া যায়। কলেজেও মাথা নিচু করে হাটে। ক্লাস অফ থাকলে তাকে লাইব্রেরিতে দেখা যায়। ঠোঁটের ভাঁজে সর্বদা হাসির এক চিলতে বিদ্যমান থাকে। সুন্দর কথার ধরন, শোভন ব্যবহার সবাইকেই মুগ্ধ করে।। রুমি প্রকাশ না করলেও কাফিল এর সাথে আসাতে সে মোটেও দ্বিধা বোধ করছে না।। তারও একা এই রাস্তায় যেতে ভয় হচ্ছিল।।
কাফিল দুই পকেটে হাত পুরে হাঁটছে। তার মনে বাজছে মিহি সুরে বীণা। পাশের মেয়েটার দেখা এই ভাবে মিলবে তাহ চিন্তার বাহিরে ছিলো। আজ সারাদিনের ব্যাস্ত শিডিউল যেনো এখন কাফিল কে ক্লান্ত করছে না।। সেই প্রথম দিনেই রুমি'কে তার চোখে পড়েছে।। ক্লাসে তার পাশের মেয়েটা থেকে থেকে যখন রুমিকে বিরক্ত করছিল তখনও মেয়েটা শান্ত,হাসি মাখা ঠোটে ছিলো। রুমির ধৈর্যশীল আচরণে না চাইতেও বিমুগ্ধ হয় কাফিল।। সেই আচরণেই মন উড়ে যায় কাফিল এর।। ক্যারিয়ার গড়তে ফোকাস ছিল ছেলেটার,,,তাই কখনো প্রেম ভালোবাসার পথে পা দেয়নি।। কিন্তু জীবনের প্রথম পিছলা যে ছাত্রীর রাস্তায় হবে তাহ কখনোই ভাবেনি সে।।
কাফিল এইবার কিছুটা গলা কেশে বললো,,,
"রুমি...বাড়িতে কে কে আছে তোমার? সরি টু আস্কিং ইউ,,,আসলে এরকম নীরব হাটা কিছুটা অকওয়ার্ড।"
রুমি মৃদু হেসে বলে,,,"ইটস ওকে। বাড়িতে,,,আমার দাদি,চাচু,মা,বাবা, বড় ভাই আর আমি।"
"বাহ্,,,বেশ বড় ফ্যামেলি।। তুমি সবার আদরের নিশ্চই।"
"হ্যাঁ,,,আদরের তো অবশ্যই।"
"হুমমম,,, ফিউচার নিয়ে প্ল্যান কি! কলেজ শেষে কি করতে চাচ্ছ?"
রুমি কিছু ভাবার ভঙ্গিমা করে বললো,,,"এখনও ভাবিনি বাট ইন্টিরিয়র ডিজাইন নিয়ে এগাতে পারি।"
"That's Nice..."
"থ্যাংক ইউ স্যার।"
কাফিল মৃদু হাসি উপহার দেয়।। আবারো নীরব হলো দুইজন।। চারিদিকের শীতল বাতাস ছুঁয়ে দিলো দুইজন কে।। তাদের এই নীরবতার মাঝেই পিছন থেকে গাড়ির কটু হির্ন শোনা গেলো। গাড়ির মালিক হর্ন দিচ্ছে তাদের কেই উদ্দেশ্য করে,, একদম বিরতিহীন ভাবে।। না চাইতেও তারা পিছন ফিরে তাকায়।। রুমি ভ্রু কুঁচকে ভালো করে তাকাতেই তার বুকটা কেঁপে উঠলো। বিরক্ত অবয়ব ভারী হয়ে ওঠে। গাড়িটা তার অতি চেনা।। গাড়ি ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো,,,রুমির নজর কাড়ে ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা কঠিন চোয়ালের পুরুষটি।। রুমির গলা শুকিয়ে যায়। চিত্তে দামামা বাজে। দেহের আনাচে কানাচে শিহরণ খেলে গেল মেয়েটার।।
তাদের সামনে গাড়িটি সজোরে ব্রেক কষে।। রুমির মনে হয় জায়ান গাড়িটা তার দেহের উপর থামিয়েছে।। মেয়েটা কাঁধের ব্যাগ খামচে ধরে দাঁড়ালো। জায়ান গাড়ির মধ্যে বসে থেকেই তার রক্তিম চোখ জোড়া স্থির করলো রুমির পানে।। যেনো সেই আঁখি জোড়া দিয়ে রুমি কে ছারখার করে ফেলবে সে। স্টিয়ারিং এ হাতের দৃঢ়তা বাড়লো।। ভারিক্কি শাস ছাড়তে বাঁধা দিলো জায়ান। কাফিল কে সে দুর থেকেই দেখেছে।। জায়ান গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে রুমির উদ্দেশে দৃঢ়,ঘন স্বরে আওড়ায়,,,
"উঠে এসো।"
জায়ান এর এহেন আচরণে কাফিল এগিয়ে এসে ভ্রু কুঁচকে,সন্দিহান কন্ঠে বলে,,,,"আপনি কে! রুমি... ডু ইউ নো হিম?"
রুমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে।। জায়ান এর দৃষ্টি তাকে ভিতর থেকে কাঁপিয়ে তুলছে।। কাফিল এর কথায় জায়ান তাচ্ছিল্য ভাবে বাঁকা হাসলো। এক ভ্রু নাচিয়ে রুমির দিকে কথার তির ছুঁড়ে বললো,,,
"তুমি আমাকে চেনো রুমি!? তোমার স্যার কে আনসার দাও।"
রুমি কোনো রকম দোলা পাকানো স্বরে কাফিল এর উদ্দেশ্যে বললো,,,"আমার রিলেটিভ তিনি।"
কাফিল রুমির কথায় কিছুটা আশ্বাস পেলো। অধরে খানিক হাসি ফুটিয়ে জায়ান এর উদ্দেশ্যে বললো,,,,"সরি,,,আসলে আমাদের বাড়ির পাশেই রুমি এক ফ্রেন্ডের বাড়ি এসেছিল,, আপনি জানেন আমাদের এলাকাটা কতটা নির্জন। তাই ওকে মেইন রোড পর্যন্ত এগিয়ে দিচ্ছিলাম।"
জায়ান সব শুনে কাফিল এর উদ্দেশ্যে বলে,,,"আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ মিস্টার,,,আমার আমানতকে এত আগলে রাখার জন্য।। বাট নাও শি ডোন্ট নিড ইওর হেল্প,,, তাইনা রুমি!?"
রুমি সামান্য মাথা তুলে তাকালো জায়ান এর দিকে।। আলতো করে মাথা নাড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসলো।। জায়ান আর সেকেন্ডও সময় অপচয় না করে গাড়ি ছোটাল হাওয়ার গতিতে।। রুমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে সিটে লেগে বসলো।। গাড়ির গতিবেগ বাড়লো বৈ কমলো।। জান শুকিয়ে গেলো নিমিষেই। সিট বেল্ট চেপে,থরথর করে কাঁপতে লাগলো মেয়েটা। বুকে হরতাল হলো। বাতাসের ঝাপটায় নিশ্বাস আটকে এলো রুমির। গাড়ির গতিবেগ মাপার মিটার একবার পরখ করতেই রুমি আঁতকে উঠলো।। সামনে তাকাতে পারলো না। গলায় পাকালো প্রাণ। অন্তর জমে গেলো। আতঙ্কে হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলো রুমি।।
ক্রমশ
----------------(মতামত জানাবেন সবাই নিজেদের। গল্পর সাথে কেউ বাস্তবতা কিংবা লজিক মেলানোর চেষ্টা করবেন না। প্লিজ সবাই বেশী বেশী কমেন্ট করুন।)