ফন্ট সাইজ:
থিম:
জটিল প্রেম

৩১তম পর্ব

লেখক: আসিফা খান

#পর্ব_৩১

#জটিল_প্রেম

----------------------☞

(গল্প কপি করা নিষেধ।)

.

"জেনিলিয়া...একজন খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী।। সুন্দরী নিউ ইয়র্কার মেয়ে ছিলো জেনিলিয়া। ইংরেজি ভাষী, নিউইয়র্ক শহরের ঝলমলে আলোর মাঝে আধুনিকতায় বেড়ে ওঠা রমণী।। ইউনিভার্সিটিতে ওর নাম ডাক ছিল প্রচুর। কোনো ছেলে তার দিকে তাকাতে পর্যন্ত ভয় পেতো,,,কিন্তু আড়ালে, দূর থেকে ওকে দেখার লোভ কেউ সামলাতে পারতো না।। এর কারণ ছিল ওর বড় ভাই।।

নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম ক্ষমতাশালী মাফিয়া গ্যাং "Black Vultures"(কালো শকুন)। এই গ্যাংয়ের নেতা অলিভার স্মিথ।। ঠান্ডা মাথার এক ভয়ঙ্কর কৌশলী। তার একমাত্র বোন জেনেলিয়া স্মিথ।।

জেনেলিয়া জানতো তার সৌন্দর্য অনেক হৃদয়ে ঝড় তোলে, কিন্তু সে কখনো কাউকে ঘেঁষতে দেয়নি। ছোটবেলা থেকেই বড় ভাই অলিভারের প্রটেকশনে মানুষ হয়েছে সে।। জেনিলিয়া যা চায় সেটাই তার চোখের সামনে হাজির করতে সক্ষম তার বড় ভাই।। কিন্তু জেনিলিয়া একদিন এমন কিছু চেয়ে বসে যা সে কখনোই পেত না.....

সেই দিনের পর আমি জেনিলিয়া কে দ্বিতীয় বার দেখি ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে।।"

------------

জেনেলিয়া মনে মনেই রাফাজকে সেই প্রথম দিন,চোখাচুখি থেকেই পছন্দ করতে শুরু করেছিল। যাকে ইংরেজি সাহিত্যিক ভাষায় বলে "love at first sight". ব্যাপারটা যতটা কাব্যিক ততটাই হৃদয় বিদারক।। কারো জন্য নিজের মনে এমন আকর্ষণ অনুভব করা যার পরিবর্তে সামনের মানুষের থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না।।

রাফাজ ওর মতো শান্ত, আত্মবিশ্বাসী আর নির্লিপ্ত ছেলেকে আগে কখনো দেখেনি সে।। ছেলেটা অন্যান্য ছেলেদের মত না।। জেনিলিয়া এরকম ছেলে এর আগে দেখেনি।। নিউইয়র্কের সেই সমস্ত সস্তা টুস্কি মারা ছেলেদের মাঝে পড়ে না রাফাজ।

বাকি সব ছেলেরা হয়তো ওর সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে, ওর বড় ভাইয়ের ভয়ে দূরে থাকত, কিন্তু রাফাজ?সে যেন একদম নিঃস্পৃহ। এই অদ্ভুত উদাসীনতাই তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল জেনেলিয়ার চোখে।

((বি দ্রঃ-বলে রাখা বাহুল্য জেনিলিয়া কিন্তু ইংলিশ ভাষী। রাফাজ আর তার মধ্যে ইংলিশে কথা হবে। কিন্তু যেহেতু এটা বাংলা গল্প তাই এখানে অল্প কিছু ইংলিশ এবং বেশিরভাগ বাংলায় দেব। কেউ আবার ভাববেন না যে, জেনিলিয়া নিউ ইয়র্কের হয়ে বাংলা কিভাবে জানে।।))

সেদিন, ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে হঠাৎ করেই আবার দেখা হয়ে যায় তাদের। আদো হঠাৎ কি না বলা মুশকিল!! জেনেলিয়া দূর থেকে দেখেই চিনে ফেলে তাকে।

রাফাজ তখন একটা পুরনো ইতিহাসের বই নিয়ে ডুবে আছে পাতায় পাতায়।। ওর পড়াশোনার বিষয় আলাদা হলেও ইতিহাস চর্চার প্রতি তার ভিন্ন একটা নেশা।। জেনেলিয়া ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে, বুকের ভেতরে অজানা এক কাঁপুনি।

সাহস করে বসে পড়ে তার পাশের চেয়ারে।

রাফাজ চোখ তুলে তাকায় না,এতে জেনেলিয়ার কেমন রাগও লাগে, কৌতূহলও জাগে।।

"Are you a gay?"

নিজের সম্পর্কে এহেন অদ্ভুত কথা শুনে রাফাজ ভ্রু কুঁচকে এবার চোখ তুলে তাকায়। গভীর, অদ্ভুত শান্ত চোখ।

"Sorry... Are you talking to me?"

স্বভাবসুলভ ঠান্ডা ভঙ্গি ওর।জেনেলিয়া একটু থমকে যায়, তারপর আবার নার্ভাস হেসে বলে,

"ইয়েস...তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে এবং তার প্রতি তুমি লোয়াল,,, রাইট!?"

রাফাজ বই বন্ধ করে ওর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল,,,"ইটস টোটালি পার্সোনাল...এই গুলো আমি তোমায় বলব কেনো?

জেনিলিয়া খানিক থমথমে খেলো। সহসা গাল ফুলিয়ে বলল,

"কারণ তোমাকে সেই সাধারণ ছেলেদের মতো লাগে না, যারা মেয়েদের পিছনে ছুটতে থাকে। অথবা...হয়তো তুমি মানুষের চেয়ে বই বেশি পছন্দ করো?"

রাফাজ খানিক কিছু ভেবে ঠান্ডা গলায় বলল,

"That’s not a bad thing, is it?"

জেনিলিয়া একটু হেসে ফেলে,,,অতপর লো আওয়াজে বলে,,,,

"No. It’s actually very hot. I like it."

জেনিলিয়ার কথায় রাফাজ খানিক থমথমে খেয়ে যায়। ওদের চারপাশটা তখন একরকম চুপচাপ। লাইব্রেরির নিঃশব্দতা যেন তাদের কথোপকথনের গভীরতা বাড়িয়ে দেয়। জেনেলিয়া বোঝে সে কিছু ভুল বলেছে,,,তাই একটু নরম হয়ে বলে,

"I’m sorry… I didn’t mean to offend you."

রাফাজ এবার একটু তাকায় ওর দিকে। অতপর নিজের কব্জিতে চলতে থাকা টিকটিক ঘড়ির দিকে তাকিয়ে খানিক গম্ভীর কণ্ঠে বলে,,,

" জেনিলিয়া তোমাকে অ্যাটেনশন দেওয়ার মত ছেলেদের কমতি নেই এই ইউনিভার্সিটিতে কিন্তু আমাকে নিয়ে তোমার এত কৌতূহলের কারণ আমি বুঝতে পারছি না।। "

জেনেলিয়া এইবার কিছুটা সিরিয়াস হলো। একটু হেসে বলল,

"হয়তো আমি এমন একজন মানুষকে বুঝতে চাই যে আমাকে অন্যদের মতো দেখে না।"

রাফাজ বইটা আবার খুলে,,,দৃষ্টি সেখানেই সীমাবদ্ধ রেখে নিরেট কন্ঠে বলল,,,

"আমায় বুঝে তোমার কোনো লাভ হবে না জেনেলিয়া। মানুষটা আমি বোঝার মতোই নই..."

জেনেলিয়া চুপ করে বসে থাকে, নিজের অজান্তেই একটা গভীর শ্বাস ফেলে।। জেনিলিয়া বুঝেছে, সে পড়েছে একটা অদ্ভুত মায়ায়, অদ্ভুত বেড়াজালে।। যেখানে সে আগে কখনোই পা রাখেনি, যেটা কখনোই ওকে এর আগে ছুঁতে পারেনি, এটা তার সাথে কি হলো!?

এটা কি ভালোবাসা? নাকি শুধুই এক অদ্ভুত টান?

-------

"সেইদিন প্রথম আমি একটু অবাক হয়েছিলাম মনে মনেই। এতদিন যে মেয়েটাকে দূর থেকে দেখেছি অপ্রতিরোধ্য, untouchable, সেই মেয়েই আজ কথা বলছে,,,তাও এমন একটা ভঙ্গিতে যেন তার চোখ আমাকে পড়ে ফেলতে চায়।।

আমরা দুজনেই জানতাম না, সেই লাইব্রেরির সেদিনকার এই ছায়া-আলোয় মোড়ানো প্রথম কথাগুলো একদিন শুরু করবে এমন এক গল্প, যার পরিণতি কারও হাতে নেই।।

সময় কাটে,দিন আসে,মাস যায়। সব সময়ের মত পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকা আমি একইরকম রোই। কিন্তু আমার জীবনে এসে হাজির হয় জেনিলিয়া।।

আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা, বারবার আমার কাছে এসে নিজের অনুভূতি বোঝানোর চেষ্টা, সবটাই যেনো আমি বুঝেও বুঝি না।। এড়িয়ে যাই,উপেক্ষা করি তাও মেয়েটা হাল ছাড়ত না।

প্রতিদিন ঠিক একি সময়ে আমার ডেস্কের সামনে এসে দাঁড়াতো। কখনো একগুচ্ছ প্রশ্ন, কখনো নিঃশব্দে শুধু এক কাপ কফি বাড়িয়ে দিতো। আমি চোখ তুলেই দেখতাম না, দেখতাম না বলেই হয়তো নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছিলাম।।"

-------

কিন্তু একদিন... আমার আচরণে অতিষ্ঠ প্রায় জেনিলিয়া আমার সামনে এসে অশ্রু মিশ্রিত কন্ঠে বলে ওঠে,,,

"Why you ignore me... তুমি বোঝনা?"

তার কণ্ঠে কোনো রাগ নেই, কোনো অভিযোগ নেই। শুধু একরাশ ক্লান্তি ছিল।।আমি তাকালাম, আর চোখে পড়ল এক চিলতে ভাঙা আশা...তখনও আমি চুপ।।আমি হয়তো খুব ভালো করেই বুঝি ওর অনুভূতিগুলো।।

---------

"সেদিন আমার চুপ থাকা যেন জেনিলিয়া'কে আরও বেশি জেদি করে তোলে আমার প্রতি। শুরু করলো আমার ফ্ল্যাটের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকা। সময় অসময়ে আমাকে টেক্সট করা কল করা।। ব্লক করলে অন্য নাম্বার থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করো।। আমি যেখানে যাব আমাকে ফলো করা,, এগুলোতে আমি একদিন রেগে গেলাম ভীষণ। ধৈর্যচ্যুত হয়ে ইউনিভার্সিটি ক্লাস রুমে ওর উপর চিৎকার করে উঠলাম,,,যেখানে ও এসেছিল আমার সাথে শান্তভাবে কথা বলতে,,,"

-------------

"Stop this nonsense dam it.... Are you a crazy person or what!? Don't you see...আই এম ইগনোরিং ইউ।। সাবধান করছি জেনিলিয়া আমার থেকে দূরে থাকো।।"

সেই এক মুহূর্ত। রাফাজের কণ্ঠে হঠাৎ জেগে ওঠা ঝড় যেন থাপ্পর মারে লাইব্রেরির দেয়ালে দেয়ালে। জেনেলিয়ার মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হয় না। বড় বড় চোখে তাকিয়ে থাকে সে। তার চোখে ধীরে ধীরে ভিজে ওঠে। তার হাতের কফির কাপটা পড়ে যায় মাটিতে। ক্লাসরুম তখন স্তব্ধ। সবাই তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। জেনিলিয়া এতটা অপমানিত আর হয়তো কখনোই হয়নি।।

রাফাজ দাঁড়িয়ে থাকে নিশ্চল। মুখে কঠিন অভিব্যক্তি। এক অদ্ভুত অপরাধবোধ গিলে ফেলছে তার হৃদয়ের ভিতরটা। তবে সে নিজেকে বোঝাতে থাকে—এটা ঠিক ছিল। সে কোনো ছলনা করতে চায় না, কোনো আশা দিতে চায় না যা সে পূরণ করতে পারবে না।

"Yes Rafaz maybe am crazy....crazy for someone... যে বোঝেনা আমার এই পাগলামির কারণ সে নিজেই,,,"

কথা গুলি বলেই জেনিলিয়া চলে যায়।। এদিকে ক্লাসের প্রতিটা ছেলেমেয়েরা রাফাজের দিকে অদ্ভুত নজরে তাকিয়ে আছে। যে মেয়েটির দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে ভয় পায়, স্যার ম্যাডামরা যাকে অতি সমীহ করে চলে,,, সেই নারীকেই ধমক দিয়ে কথা বলার মানুষ রাফাজ প্রথম।।

-----------

"এবার নিশ্চয়ই ভাবছো যে সেদিনের পর থেকে জেনিলিয়ার আচরণে পরিবর্তন আসে! সে আর আগের মতো আমায় গুরুত্ব দেয় না,, কিংবা রাগে, অভিমানে আমার থেকে দূরে থাকে। তাহলে বলব তোমাদের সবার ধারণা সম্পন্ন ভুল সেদিনের পর থেকে জেনিলিয়ার পাগলামি শুরু হয়।

অনেক গুলি দিন পেরিয়ে যায়।। একদিন আমি ইউনিভার্সিটি শেষে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে আসি।লুকাস গিয়েছিল কোন এক ট্রিপে। ফ্ল্যাটে আমি একা। রাত তখন প্রায় আটটা কিংবা সাড়ে আটটা।। ক্লান্ত আমি,,,দরজা খুলেই অদ্ভুত কিছু মনে হলো। পুরো ফ্ল্যাট অন্ধকার! সাধারণত আমরা কখনোই সব বাতি নিভিয়ে বাইরে যাই না, অন্তত ড্রয়িং রুমের আলো তো জ্বলেই থাকে। কিন্তু আজ সবকিছুই যেন অন্যরকম।

------------

রাফাজ লক খুলে ফ্ল্যাটে ঢুকেই আলো জ্বালানোর জন্য সুইচ খুঁজছিল। হঠাৎ করেই তার চোখ পড়ল ড্রয়িং রুমের সোফার পাশের কর্নারের দিকে।

সেখানে জেনিলিয়া। সে দাঁড়িয়ে ছিল, লাল রঙের একটা সিল্কের ড্রেসে,,,যার দরুন তার মেয়েলি চিকন ওঠা নামা শরীর স্পষ্ট। সাথে খোলা চুল, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, চোখে গাঢ় কাজল।

অন্ধকারে হালকা আলো এসে পড়েছিল তার গায়ে।। যেন কোনও সিনেমার দৃশ্য। রাফাজ কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইল। এই মেয়েটাকে সে কোনভাবেই আশা করেনি এখানে।। রাফাজ কথা ভুলে গেলো। সে স্তব্ধ।

জেনিলিয়া ধীরে ধীরে রাফাজ এর দিকে এগিয়ে আসে। তার চোখে একরাশ প্রত্যাশা, ঠোঁটে অল্প হাসি।

“রাফাজ,,,How do I look?”

রাফাজ হতভম্ব! অপরূপ সুন্দরী জেনিলিয়া কে এখন ওর কাছে কুৎসিত লাগছে।। রাগে চোয়াল শক্ত করে রাফাজ বলল,,,

"ফ্ল্যাটের চাবি কোথা থেকে পেলে!? এখানে করছোটা কি তুমি!!"

জেনিলিয়া এক ধাপ এগিয়ে এসে বলল,

"ফ্ল্যাটের চাবি পাওয়া আমার জন্য হার্ড কিছু না।।আর তুমি তো কখনও আমার পাগলামি বোঝোনি, তাই ভাবলাম এবার একটু ভিন্নভাবে বোঝাই তোমায়…”

সেই মুহূর্তে রাফাজ এর রাগ যেন বিস্ফোরিত হলো। রাফাজ পেছন ফিরে সোজা দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

“জেনিলিয়া, গেট লস্ট। এখনি বেরিয়ে যাও।"

জেনিলিয়া থমকে দাঁড়ালো। তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।। এতক্ষণের আবেদনময়ী রমণী ধারণ করলো, জেদি,ঘাড় ত্যাড়া রূপ।। রাগে ভারিক্কি নিশ্বাস ফেলে নিজের বডি কর্ণ সিল্কের ড্রেসটা মুহূর্তেই খুলে ফেলল।।

উন্মুক্ত হলো নারী রহস্য। নারী শরীর,,, যা কঠিন থেকে কঠিন পুরুষ কেও ক্ষণেই নাস্তানাবুদ করে দিতে পারে।। রাফাজ এর দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম।।ওর শব্দ গলার মাঝে আটকে পড়লো যেনো।। জেনিলিয়া এইবার হেঁটে এসে রাফাজ এর ঘাড়ে ,কাঁধে আলতো হাত রেখে, ওর গালে নিজের নরম ঠোঁট ছোঁয়ায়।।

এদিকে রাফাজ শূন্য।। জেনিলিয়ার শরীর থেকে ধেয়ে আসা সুন্দর সুঘ্রাণে রাফাজ যেন হারিয়ে যায়। যুবক বয়সে তার পুরুষ সত্তা তাকে উস্কানি দিতে থাকে। সুন্দরী রমণী তার সামনে, যার উন্মুক্ত বদন তার হাতের মাঝেই, সে যখন চায় তখনই এখানে হারিয়ে যেতে পারে।। জেনিলিয়া রাফাজের গাল থেকে ঠোঁট সরিয়ে চোখে চোখ রেখে কামিনী রূপে বলে,,,

"Am all yours Rafaz... Just do what ever you want... কিন্তু আমার মনে জন্ম নেওয়া তোমার জন্য প্রথম অনুভূতিগুলো ফেলে দিও না।"

জেনিলিয়া রাফাজ এর ঠোঁট এর উপর যেই না নিজের অধর দুটির আধিপত্য জমাবে ঠিক তার আগেই রাফাজ ওকে ঠেলে সরিয়ে দেয়।।

ওর চোখের সামনে ভেসে ওঠে জারিনের স্নিগ্ধ শোভন চেহারা। যে অপেক্ষা করছে তার জন্য।। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা।।

রাফাজ এক পা এক পা করে পিছিয়ে গেলো।

তার চোখে জেনিলিয়ার রূপ, শরীরের আকর্ষণ সবকিছু অস্পষ্ট হয়ে গেল।

স্পষ্ট হয়ে উঠল কেবল একটাই মুখ...জারিন।

তার শান্ত, কোমল হাসি। চোখে ভালোবাসার দীপ্তি।

রাফাজ চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে নিল। আর তারপর জেনিলিয়াকে সরিয়ে দিয়ে বলল,,,

“তুমি আমাকে যা ভাবো, আমি তা না জেনিলিয়া।

তোমার পাগলামি বন্ধ করো দয়া করে।। তুমি বুঝতে পারছো না যে, তোমার উপর আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই... তোমার উন্মুক্ত শরীরও আমাকে টানতে পারছে না তোমার দিকে।।"

জেনিলিয়া এক মুহূর্তের জন্য দাঁড়িয়ে রইল,,,নির্বাক, হতবাক।তার চোখে জেদ মিলিয়ে গেল।সেখানে জন্ম নিল এক চিরন্তন পরাজয়ের ছায়া।। সে চট জলদি নিজের ড্রেস পরে ফেললো। ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে দিল মেয়েটা... আর কি করবে সেই মানুষটাকে পাওয়ার জন্য,, কি করবে!! রাফাজ এর কাছে গিয়ে ওর হাত ধরে আকুতি কন্ঠে বলে,,,

"কেন চাও না আমাকে তুমি রাফাজ!! আমি কি তোমার চোখে সুন্দর হতে পারিনি? আমার মধ্যে কি কমতি আছে! কি নেই আমার মাঝে! কেন তুমি আমাকে বারবার উপেক্ষা করছো? আমি তোমায় ভালোবাসি রাফাজ। আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা তুমি। এইভাবে তুমি আমায় ফিরিয়ে দিলে আমি ভেঙে যাব।"

রাফাজ দুই কদম পিছিয়ে গেলো।। ঠান্ডা স্বরে বলল,,,"এটা সম্ভব নয় জেনিলিয়া।"

"কেন সম্ভব নয়!! আমি... আমি তোমার ধর্মের নই বলে? তোমার কালচার এর নই বলে!! আমি নিজেকে পরিবর্তন করে ফেলব রাফাজ,,,তাও আমায় ফিরিয়ে দিও না।"

"আই লাভ সামওয়ান,,, আমার একটা ভালোবাসার মানুষ আছে,,যে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।"

রাফাজ এর এহেন কথায় যেনো জেনিলিয়ার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। নিশ্বাস ফেলতে কষ্ট হলো তার।জেনিলিয়ার চোখ জলে ভিজে উঠলো।

সে ধীরে ধীরে মেঝেতে,,রাফাজের পায়ের কাছে বসে পড়ল সে.. আকুতি কন্ঠে বলে,,

"তুমি যাকে ভালোবাসো, সে কি আমার মতো তোমায় এভাবে চেয়েছে? এভাবে কাঁদতে পারবে তোমার জন্য? সে কি আমার থেকেও বেশি সুন্দরী রাফাজ...আমি যদি মরেও যাই, তবুও কি একবার ফিরে তাকাবে না? আমার প্রতি কি তোমার হৃদয় একটুও গোলবে না!!"

রাফাজ থমকে গেল। তার বুকের মাঝে হঠাৎ হিমেল বাতাস বইল। কিন্তু না। এই সহানুভূতি ভালোবাসা নয়। সে জানে..যার জন্য তার হৃদয় কাঁপে, যে এক নিঃশ্বাসে তার সমস্ত ক্ষোভ আর ক্লান্তি মুছে দিতে পারে, সে জারিন।

রাফাজ চোখ নামিয়ে বলল,

"ভালোবাসা ভিক্ষা নয়, জেনিলিয়া। সেটা অনুভবের বিষয়। আর আমি সেই অনুভব খুঁজে পেয়েছি জারিনের মাঝে।। এভাবে কারও জীবনে জোর করে আসা যায় না জেনিলিয়া।। আমায় মাফ কোরো।"

একটা নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায় ঘরজুড়ে।

জেনিলিয়া আর কথা বলেনা। শুধু ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়, মাথা নিচু করে দরজার দিকে এগিয়ে যায়।

রাফাজ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে, চোখের সামনে ভেসে ওঠে জারিনের মায়াভরা মুখ।

----------

"ভালোবাসা কি অদ্ভুত তাই না! কোন কোন মানুষ মরণের আগ পর্যন্ত একটা শুদ্ধ ভালবাসা খুঁজে পায় না.. সেখানে আমি এমন এক নারীর ভালোবাসা পেয়েছি যে, আমায় কখনোই পায়নি। যাকে আমি কখনোই নিজের হতে দেইনি কারন আমার ভালোবাসা, আমার হৃদয় একজনের নামেই লিখে দিয়েছিলাম সে হলো জারিন।।

সেদিনের পর বেশ অনেকদিন আমি জেনিলিয়াকে ইউনিভার্সিটিতে দেখতে,, পাইনি আমি যেন তখন মুক্ত বাতাস অনুভব করি।। আমি জানতাম জেনিলিয়ার বড় ভাই শক্তিশালী। সে যখন তখন আমায় তুলে নিয়ে যেতে পারে,,, আমি যেন এগুলোর জন্য প্রস্তুত ছিলাম কিন্তু সেরকম কিছুই হয়নি যার কারণ রূপে আমি জেনেলিয়া'কেই খুঁজে পাই,,,"

-----------

খ্রিস্টধর্ম অবলম্বী মেয়ে জেনিলিয়া, নিজের ধর্ম নিয়ে তার কখনোই কোন সচেতনতা ছিলো না।।

চার্চ যেতো নিজের ইচ্ছে মত।। কিন্তু এখন এই মেয়ে মাঝে ভিন্ন কিছু লক্ষ করা যায়।। কানে শোনা যায় জেনিলিয়া লুকিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে।। ব্যাপারটা তখনই ওর বড় ভাইয়ের কাছে স্পষ্ট হয় যখন ওকে দেখে নিজের রুমে সালাত আদায় করতে।।

এই সবে অবশ্য অলিভার স্মিথ এর খুব একটা বেশি যায় আসে না,,,তার বোন কে সে সব ধরনের স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছে। জীবনটা জেনিলিয়ার সে যেভাবে ইচ্ছা তাকে গুছিয়ে নিক।। কিন্তু বোন কে অনেক দিন ধরেই গুমশুম,চুপচাপ দেখছে যেখানে জেনিলিয়া অতি চঞ্চল। এর কারণ অবশ্যই অলিভার জানে কারণ বোনের উপর নজরদারি তার সর্ব সময় কিন্তু জেনিলিযয়া নিজ থেকে কিছুই বলেনি। এখন তো ভায়োলেন এর শব্দ ও পাওয়া যায় না এই বাড়িতে।।

নিজের বড় ভাই'এর আচানক আগমনে জেনিলিয়া চমকে ওঠে।। পিছনে তাকাতেই দেখতে পায় অলিভার কে।। এদিকে অলিভার নিজের বোনকে দেখছে একদম অন্যরকম ভাবে,, বড় হিজাবে বোনকে একদম অন্যরকম লাগছে।। জেনিলিয়া ভাবলো অলিভার তাকে কিছু বলবে কিন্তু তার ভাবনা চিন্তা ঠেলে অলিভার বলে উঠলো,,,

"You looking beautiful my princess...

কিন্তু তোমার এই ভাই কি জানতে পারে যে এত বড় সিদ্ধান্ত ,এত পরিবর্তন এর কারণ কি?"

জেনিলিয়া চুপ থাকে। ওর চোখ থেকে নোনা পানির ধারা বেয়ে আসে। অলিভার এগিয়ে এসে বোনের মাথায় হাত রেখে বলে,,,

"টেল মি জেনি...am your big brother.

আমাকে সব বলো। আমি শুনবো,,,আমি আমার প্রিন্সেস এর চোখে পানি দেখতে পারি না।।"

জেনিলিয়া ঠোঁট কপিয়ে বলে,,,"I love him too much...he is my first love,my first filling.

কিন্তু সে আমাকে চায় না ভাই...ওর মনে অন্য কেউ। তুমি জানো আমি ওকে নিজের সব টুকু দিয়ে হাসিল করতে চেয়েছিলাম,, ও চাইলেই আমার ফায়দা নিতে পারত কিন্তু ও সবার থেকে আলাদা ভাইয়া,,,ওর সততা,আত্মসংযম আমায় বারবার মুগ্ধ করেছে,,,আমার এই পরিবর্তন শুধুই ওর ভিতরের আলো দেখার পর,,,আমি বুঝেছি সত্য টা।।"

অলিভার নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইলো বোনের দিকে।। এই আদরের বোন তার যেটাতেই আঙ্গুল রাখে সেটাই তার সামনে হাজির করে অলিভার আর আজ সেই বোন এত কষ্ট সহ্য করে চুপচাপ রয়েছে!! অলিভার ভারী কন্ঠে বলে,,,,

"তুমি বললে ওকে তোমার সামনে হাজির করবে তোমার ভাই।।"

জেনিলিয়া ত্বরিত বলে,,,"নাহ ভাইয়া...জোর করে ভালোবাসা পাওয়া যায় না,,,"

"তাহলে ওর লাভ ওয়ান কে সরিয়ে দি!! আমি আমার বোন কে এই ভাবে দেখতে পারবো না জেনি...তুমি একবার বল ওকে চাও কিনা!! তাহলে এখনি ওকে তোমার কাছে এনে হাজির করবো।"

জেনিলিয়া চেনে ওর ভাই কে,,,সে কিছুটা আঁতকে উঠে বলে,,,"নাহ ভাই,,,,তুমি কিছুই করবে না। ওর ছোটো থেকে ছোটো কষ্ট আমি বরদাস্ত করতে পারব না।। আমি চাইনা আমার জন্য ওর জীবনে কোনো অশান্তি আসুক।"

অলিভার এক নির্নিমেষ বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার কন্ঠ গম্ভীর হয়ে যায়,

"তুমি অনেক বড় হয়ে গেছো জেনি..."

জেনিলিয়া নীরবে কাঁদে। সে জানে,,,এই ভালোবাসা তার পাওয়ার নয়, কিন্তু সে চেষ্টা করে যাবে।।

------------

"জেনিলিয়ার আচরণে পরিবর্তন আসে। সে আমায় দেখতো,কথা বলতে আসতো,ফলো করত কিন্তু সেই গুলোর ভঙ্গিমায় তফাৎ পেতাম।। আমার অবহেলা উপেক্ষা পেয়ে চলে যেতো চুপচাপ অতঃপর আবার ফিরে আসতো।।

আমিও এই সবে অভ্যস্ত হয়ে পড়লাম।। ওকে ইগনোর করা আমার কাজ হয়ে দাড়ালো।। সময় যায়,,,,আমার ডিগ্রি শেষ হয়।। ইউনিভার্সিটি জীবনে শেষ হওয়ার ঠিক দুই মাস আগে আমি ফ্ল্যাট চেঞ্জ করি, লুকাস কে না বলে।। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করি সবার সাথে।। দুই মাস আমি এক প্রকার লুকিয়ে থাকি নিউইয়র্ক এ,,,কারণ আমি জানতাম আমার দেশে ফেরার খবর শুনে জেনিলিয়া ও আসবে,,,আমায় আটকানোর চেষ্টা করবে শেষ পর্যন্ত হয়তো ও ওর ভাই এর হেল্প নেবেই।।

আমার ভাবনা ঠিক ছিল,,,,আমায় নিখোঁজ পেয়ে জেনিলিয়া পাগল প্রায় হয়ে আমায় তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়াতে থাকে,,,কিন্তু যে মানুষ নিজ থেকে লুকিয়ে যায় তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন সেটা হয়তো জেনিলিয়া জানত না।। মাঝেই আমি দেশে ফেরার টিকিট কাটি,,,,এক প্রকার গা ঢাকা দিয়ে আমি নিউ ইয়র্ক ছাড়ি। প্লেনে বসেও ভাবছিলাম জেনিলিয়া কি এখনো খুঁজছে আমাকে? নাকি হাল ছেড়ে দিয়েছে?

দেশের মাটি স্পর্শ করতেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি ঘিরে ধরে। মনে হয় সব সাভাবিক এখন। কিন্তু সেই শান্তির সাথে সাথে বুকের ভেতর এক অচেনা ভারি কিছু নেমে আসে। আমি জানি, আমার পেছনের গল্পটা শেষ হয়নি এখনও।

দেশে ফিরেই আমি নিজের ইমেল,সিম কার্ড,ইডি সব চেঞ্জ করি।।

দেশের মাটিতে আপনজন,ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে বেশ ভালই দিন কাটে আমার।। আমিও একটা সময় নিশ্চিত হয়ে যাই। ভেবেনি সব শেষ,,,এখন আমার সুখের জীবন শুরু কারণ এখানে জেনিলিয়া নেই।।

কিন্তু দুই বছর পর ঠিক বিয়ের এক সপ্তাহ আগে আমার কাছে লুকাস এর কল আসে।। অবশ্যই ওর কল পেয়ে আমি হতচকিত হই। কারণ আমার এই নাম্বার নিউ ইয়র্ক এর চেনা কারোর কাছেই নেই।। এই দুই বছরে আমি নিউইয়র্কের কোন চেনা জানা বন্ধু-বান্ধবের সাথে কন্টাক্ট করিনি।।

তারপর ভাবলাম হয়তো পেয়েছে কোথাও থেকে,,, এই যুগে কারো নাম্বার জোগাড় করা খুব একটা কঠিন বিষয় নয়।,,,ব্যাপারটা আমি বেশি গুরুত্ব দিলাম না।। শুনলাম লুকাস অসুস্থ,,,ওর আমাকে প্রয়োজন,,,এই খবর শুনে আমি থাকতে পারলাম না।। সব কিছু ভুলে ঠিক দুই বছর পর আবারও পা রাখলাম সেই নগরীতে,,,,,"

---------------

রাফাজ আবারও সেই স্বপ্নের নগরীতে পা রাখে দুই বছর পর।। ওর হৃদয় আনচান করে ওঠে তারপরেও নিজের অস্বস্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে মাথায় শুধু ঘোরে তার বন্ধু লুকাস এর কথা।। এই অচেনা শহরে তার বন্ধু হিসাবে পাশে ছিল এই লুকাস।। তার অসুস্থতা রাফাজ কে ভাবাচ্ছে।।

রাফাজ দাড়িয়ে লুকাস এর দেওয়া ঠিকানায়।। এই বিল্ডিং এর সেভেন ফ্লোরে থাকে লুকাস।। কাধের ব্যাগ টা আর একটু উঠিয়ে সে সোজা হেঁটে যায় বিল্ডিং এর দিকে।। লিফ্ট নিয়ে সোজা সেভেন ফ্লোরে থামে।। ফ্ল্যাট নাম্বার 202 তে নক করার সাথে সাথেই দরোজা খুলে যায়। রাফাজ খানিক ভ্রু কুচকায়,,,দরোজা খোলা কেনো!! বেশী কিছু না ভেবেই ও লুকাস কে ডাকতে ডাকতে প্রবেশ করে ভিতরে।।

একটা সময় লুকাস কে দেখতে পায়। ছেলেটা অসহায় মুখে বসে আছে সোফার এক কোণে।।

পরিবেশ কেমন থমথমে।। রাফাজ কাধের ব্যাগ রেখে ওর দিকে এগিয়ে আসতে আসতে খানিক চিন্তিত কন্ঠে বলল,,,,

"লু... আর ইউ ওকে?"

লুকাস ওর দিকে তাকালো কিন্তু কিছু বলতে পারলো না। রাফাজ ওর কাঁধে হাত রেখে বলল,,,

"এভরিথিং ইজ ফাইন না!! হোয়াট হ্যাপেন টেল মি!! কোন ট্রাবল এর মধ্যে আছিস! কি প্রবলেম বল!"

লুকাস শুধুই চোখ তুলে ভাঙ্গা কন্ঠে বলে,,,"সরি ব্রাদার...আমি তোকে মিথ্যা বলেছিলাম, আমার কাছে আর কোন উপায় ছিল না,,,"

"হোয়াট"

লুকাস এইবার দূরে তাকালো। ঠিক তখন দরোজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজে রাফাজ ঘুরে তাকায়।। তখনই চোখে পড়লো বিদ্ধস্ত জেনিলিয়া কে।। হ্যাঁ জেনিলিয়া।।

এলোমেলো চুল,গভীর লাল চোখ। যেনো এই আঁখিতে কত দিন ঘুম ভর করেনি।। রাফাজ স্তব্ধ। ওর মস্তিষ্কের নিউরিন গুলি দপদপ করছে। দুই বছর পর যার থেকে পালিয়ে সে দেশে ফিরেছিল সেই আজ তার চোখের সামনে।। রাফাজ বোঝে অনেক কিছুই।। শুকনো ঢোক গিলে চোয়াল শক্ত করে বলে,,,

"জেনি...."

আর কিছুই বলার আগে জেনিলিয়া চিৎকার করে এসে রাফাজ এর বুকে আঁচড়ে পড়ে।। দাঁত দিয়ে কামড় বসিয়ে দিলো রাফাজ এর বাহুতে,,,নখের আঁচড় ওর গলার চামড়া কেটে ফেলে। রাফাজ ওকে নিজের থেকে দূরে সরাতে চায়। কিন্তু জেনিলিয়া যেনো উন্মাদ প্রায়।। সে উদ্ভ্রান্তের মতো চিৎকার করে আওড়াতে থাকে,,,,

"প্রতিদিন মরেছি আমি তোমার জন্য,,,, প্রতিদিন পাগলের মত খুঁজেছি তোমায়,,, একটা রাত শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি।। কেন করলে রাফাজ! কেন তুমি আমার সাথে এরকম করলে!! কেন দুই বছর আগে না জানিয়ে চলে গেলে!?"

রাফাজ নিজেকে ওর থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ওকে দূরে ঠেলে দিলো,,, নিজেও চিৎকার করে বলল,,,"কারণ আমি তোমায় কখনও চাইনি জেনি,,,তোমাকে আমার অসহ্য লাগে।। বারবার তোমায় না বলেছি,,,উপেক্ষা করেছি। কেনো বোঝোনা যে আমি তোমার হবো না কখনোই,,,,আমি ভালবাসি কাউকে।। আই লাভ সামওয়ান ড্যাম ইট।।"

জেনিলিয়া ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে আবার এগিয়ে এলো,,, রাফাজ এর গালে,মুখে হাত বুলিয়ে ওকে বোঝানো সুরে বলল,,,"দে... দেখো,,, দেখো রাফাজ,,, আই..আই চেঞ্জ মাই সেল্ফ।। পুরোপুরি আমি বদলে ফেলেছি তোমার জন্য নিজেকে, মাথা থেকে পা পর্যন্ত আমি তোমার পছন্দমত হয়ে উঠেছি... আমি বাংলা শিখেছি তোমার জন্য,,, লুক রাফাজ,,, আই ডিড এভরিথিং ফর ইউ।।

এই দু'বছর আমার জন্য দুই যুগের মত লেগেছে,,, আমি খেতে পারিনি,,, ঘুমাতে পারিনি,,, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না রাফাজ।। তুমি... তুমি জারিনকে ভুলে যাও। আমরা এখানে থাকবো,, একটা ছোট্ট পৃথিবী নিজেদের মতো গড়ে তুলবো,,, আমার ভাই ও আমাদের মাঝখানে আসবে না।। প্রমিজ রাফাজ,,,সব কিছু ঠিক করে দেবো,,,"

রাফাজ ওর হাত সরিয়ে দিলো।। নিজেকে এখন পৃথিবীর সব থেকে খারাপ মানুষ মনে হচ্ছে।। ভালবাসার দাবি নিয়ে একটা মেয়ের এত আকুতি, এত মিনতি ঠেলে দিতে যেন রাগ লাগছে। আর কিছুই ভালো লাগছে না ওর।। কিন্তু ও যে জারিনকে ভালোবাস ে,,, কত বছর আগে দিয়ে সেই মেয়েটার প্রতি তার ভালোবাসা তা কখনো হাতে গোনা হয়নি।। অবশেষে তাদের পূর্ণতার মাঝে মাত্র কিছু দিন,,,তাদের বিয়ে।।

চোখের সামনে বিদ্ধস্ত জেনিলিয়া কে দেখে রাফাজের বুকের মধ্যে যেন একেকটা শব্দ বোমা পড়ছে। তবুও ওর ঠোঁট কাঁপে না, কণ্ঠস্বর কঠোর থেকে কঠোরতর হয়....

“তুমি নিজেকে বদলেছো, ঠিক আছে। কিন্তু আমি কি বলেছিলাম নিজেকে বদলাতে? আমি কি কখনো বলেছিলাম তুমি আমার জন্য বদলাও? না, জেনি! তুমি নিজের ইচ্ছায় করেছো এসব। আমি তোমাকে আমার অনুভবের জায়গায় কখনোই রাখিনি। এটা তোমার ভালোবাসা নয়,,এটা তোমার একতরফা জেদ,,,একটা মানসিক শূন্যতা, যেখানে তুমি আমাকে বন্দি করতে চাও।”

জেনিলিয়া কেঁপে ওঠে।তার চোখে জলের ধারা গড়িয়ে পড়ে। তবুও সে বলার চেষ্টা করে,,,

“ তুমি জানো না কাউকে পাগলের মতো ভালোবাসা কাকে বলে... আমি শুধু তোমাকে চেয়েছি, শুধু তোমায়...”

"তোমার ভালোবাসা, তোমার চাওয়া এটা ভুল নয় কিন্তু যাকে চেয়েছো, ভালবেসেছো সেই মানুষটা ভুল।। সে তোমার নয়,,,"

জেনিলিয়া ধীরে ধীরে বসে পড়ে মেঝেতে। এক নাগাড়ে ফিসফিস করে বলে,

“তাহলে আমি কি একদমই কিছু না তোমার কাছে?আমি কি করলে তোমায় পাবো রাফাজ! কি করলে?"

বিড়বিড় করতে করতে জেনিলিয়া একটা সময় একদম শান্ত হয়ে যায়। পরিবেশ নিস্তব্ধ।। লুকাস অপরাধী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো রাফাজ এর দিকে। জেনেলিয়া তাকে এক প্রকার ব্ল্যাকমেল করে রাফাজ কে এখানে ডাকার কথা বলেছে।। লুকাস জানে জেনিলিয়া জেদি একটা মেয়ে,,, তার দ্বারা সব কিছুই সম্ভব,,,তার ওপর ওর বড় ভাই একজন মাফিয়া লিডার।।

জেনিলিয়া কে নিরূপদ্রব দেখে রাফাজ ওর দিকে এগিয়ে গেলো।। খারাপ লাগছে মেয়েটার জন্য।

রাফাজ ' জেনি ' বলে ডেকে যেইনা ওর মাথায় হাত রাখতে যাবে অমনি জেনিলিয়া মুখ তুলে তাকালো।।

চোখের পানিতে ওর পুরো মুখ সিক্ত,,, চোখ লাল।। চুল এলোমেলো যা কপালে ,গালে সেটে রয়েছে।। জেনিলিয়া অপলক কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল রাফাজ এর দিকে অতঃপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ানো। এক পা এক পা করে পিছিয়ে যেতে লাগলো।। রাফাজ ভ্রু কুঞ্চিত করে দেখছে শুধুই।।

একটা সময় জেনিলিয়া ছোঁ মেরে ফল কাটার ছুরি হাতে তুলে নিলো এবং সেটা অন্য হাতের উপর বসিয়ে চেপে ধরলো।। অস্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,,,

"আমি মরে গেলে তখন নিশ্চই তুমি আমার হবে!?"

রাফাজ চোখ বড় বড় করে ওঠে,,,লুকাস এর কপাল ঘামে।। কি হচ্ছে এই গুলি!! রাফাজ সচকিত স্বরে বলে,,,,

"জেনি,,, জেনি প্লিজ কাম ডাউন।। আমার কাছে আসো,,,, গিভ মি দ্যা নাইফ,,,,"

জেনিলিয়া আরো পিছনে সরে যেতে যেতে বলল,,,"নো নো,,,, রাফাজ ম্যারি মি...."

"ওকে"

রাফাজ নিজেকে শান্ত করে।। হাতের ইশারায় ওকে নিজের কাছে আসতে বলে।। সুধীর কন্ঠে আবারো আওড়ায়,,,

"তুমি এরকম করলে তোমায় বিয়ে করবো কি করে??,,,, ছুরি ফেলে আমার কাছে এসো,,,"

"সত্যিই!?'

"সত্যিই"

"লু,,,, গো।। Bring an Imam."

জেনিলিয়ার কথায় লুকাস শুকনো ঢোক গিলে রাফাজ এদিকে তাকায়।। রাফাজ কিছু ইশারা করতেই লুকাস হাওয়ার গতিতে বেরিয়ে যায়।।

জেনিলিয়া ধীরে ধীরে দেয়াল ঘেঁষে বসে। ক্লান্ত সে। কিন্তু ছুরি ফেলে না হাত থেকে।। জেনিলিয়া কে শান্ত ভাবে বসে যেতে দেখে রাফাজ ও দূরে ফ্লোরে বসে যায়।।

সময় যেতে থেকে,,,দুপুর থেকে রাত হয় কিন্তু জেনিলিয়া একই রকম ভাবেই বসে।। মাঝে মধ্যেই সে রাফাজ এর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে।। রাফাজ ও ওকে হাসি ফিরিয়ে দিচ্ছে।। একটা সময় জেনিলিয়া বলে ওঠে,,,,

"রাফাজ কল করো লুকাস কে,,,,ইমাম আনতে এত দেরি!!"

রাফাজ নার্ভাস হেসে ধীরে ধীরে মেয়েটার কাছে গেলো।। ওর চোখে চোখ রেখে মৃদু স্বরে বলল,,,"আমি কথা বলেছি,,, ও আসছে কিন্তু দেরি হবে।। এই ভাবে ইমাম কে আসতে বললেই তো চলে আসবে না,,,, কনভেন্স করতে হবে আগে,,,বুঝেছো!?"

জেনিলিয়া মাথা নাড়িয়ে বোঝায় সে বুঝেছে।। কথার ফাঁকে রাফাজ ওর হাত থেকে ছুরি নিয়ে নিলো।। রাফাজ আবার বলে,,,

"লেটস্ স্লিপ,,,"

"তুমি চলে যাবে"

"কোথাও যাবো না,,, আমি জার্নি করে এসেছি ,,,আই এম ভেরি টায়ার্ড... তুমি না ঘুমালে আমিও ঘুমাতে পারবো না,,,"

রাফাজ ওর সাথে একদম শান্ত, স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে যেন তারা ভীষণ আপনজন।। জেনিলিয়া রাফাজ এর কথায় উদ্বিঘ্ন হলো। নিজে উঠে রাফাজ এর হাত টেনে বেড রুমে নিয়ে গেল।। রাফাজ কে বিছানায় শুইয়ে নিজে ডান পাশে ওর বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল।।

রাফাজ দেহ,চোয়াল শক্ত করে রইলো। নিজের রাগ,বিতৃষ্ণা সবটা সাইডে রাখলো।। এখন কোনো রকম কিছু বলা বা করা ঠিক হবে না।।

"কাল বিয়ে করবো,,,, রাফাজ"

"ওকে,,,,"

একটা সময় কথা বলতে বলতে জেনিলিয়া ঘুমের অতল গভীরে তলিয়ে গেলো।। মেয়েটা জানতেই পারলো না এটাই তার জীবনের শেষ সুন্দর ঘুম।।

.

ভোরের আলো তখন ফুটছে সবে। কারো অনুপস্থিতিতে জেনিলিয়ার ঘুম ভেংগে যায়।। ত্বরিত উঠে দেখে রাফাজ নেই।। সে একা।। নিস্তব্ধ এই পরিবেশে জেনিলিয়া হঠাৎ শুনতে পায় গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার শব্দ।। সে হাওয়ার বেগে বিছানা থেকে নেমে জানালার কাছে দাড়িয়ে দেখে রাফাজ এর গাড়ি যা পলকেই ওর চোখ সীমানা অতিক্রম করে।।

.

উদ্ভ্রান্তের মতো গাড়ি চালাচ্ছে জেনিলিয়া। চোখের পানিতে ঝাপসা হয়ে আসছে চারপাশ।। জিপিএস অনুযায়ী সে রাফাজ এর গাড়ির পিছন নিচ্ছে।। নিজের ভালোবাসা কে বাঁচানোর চেষ্টার পর চেষ্টা করছে মেয়েটা।পৃথিবীর সব যুক্তিকে তুচ্ছ করে, সে ছুটে চলছে তার ভালোবাসার মানুষের কাছে।। এরকম ও ভালোবাসা হয়!!

কিন্তু প্রকৃতি যেনো ভিন্ন কিছুই লিখে রেখেছিলো।

হঠাৎ করে এক চলন্ত গাড়ি প্রবল বেগে এসে আঘাত হানে জেনিলিয়ার গাড়িতে। মুহূর্তেই গাড়িটি শূন্যে উড়ে গিয়ে রাস্তার ওপারে ছিটকে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিস্তব্ধ হয়ে যায় সবকিছু। বাতাস ভারী হয়ে ওঠে এক যন্ত্রণাময় নিস্তব্ধতায়।

তবে অন্য প্রান্তে, রাফাজ জানেই না, তাকে একতরফা ভালোবেসে পাগলের মতো ছুটে আসা সেই মেয়েটিই নিজের জীবনের শেষ অধ্যায় লিখে লিখছে ,,,,চিরতরে।

https://www.facebook.com/share/p/19XFQkYmfW/

#জটিল_প্রেম সমস্ত পার্ট একত্রে

ক্রমশ

---------------(সবাই বেশি থেকে বেশি মতামত করবেন আমি সবার কমেন্ট দেখবো আর এখনো অতীত শেষ হয়নি। বাকি আছে কিছুটা।। আপনাদের জেনিলিয়াকে কেমন লাগলো অবশ্যই বলবেন।। লাইক এবং কমেন্ট এর মাধ্যমে আমায় অনুপ্রেরণা যোগাবেন,,,গল্প পড়ে অনেক অনেক মানুষ কিন্তু লাইক দেওয়ার বেলায় সবাই উধাও হয়ে যায় এবং কমেন্টে নেক্সট গুড এইসব না লিখে পর্ব অনুযায়ী গঠনমূলক কমেন্ট করুন।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন