#পর্ব_৩৫
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ।)
.
রাত তখন গভীর নয় ঘড়ির কাঁটা এগারোটার দিকে।। রাতের ডিনার শেষ। রান্না ঘরে এঠোঁ থালাবাসন এর দিকে হাত বাড়াতে গেলেই আসমা সুলতানা মিঠে ধমক দিয়ে জারিন কে বলে,,,
"এই মেয়ে যাও রুমে যাও,,,"
জারিন কেঁপে উঠলো। চমকে উঠে বললো,,,"ভাবি!"
"আমি জানি আমি তোমার ভাবি কিন্তু এখন তোমার বড়ো জা,,,আমার আদেশ এখন রুমে যাও।"
"এগুলো ধুয়ে নিয়েই চলে যাবো।"
আসমা সুলতানা কোনো কথাই শুনলেন না,,, জারিন এর হাত টেনে সোজা সিঁড়ির দিকে এনে নিচু স্বরে বলে,,,
"দেখো মেয়ে, আমার আর কিছু হওয়ার নেই,,, কম বয়সে বিয়ে করে দুই বাচ্চার মা হয়ে গেছি। এখন তাদের বিয়ে দেওয়ার সময়ও চলে এসেছে,,,কিন্তু আমি এখনো বড়মা ডাক শুনতে পারলাম না।।
তুমি রুমে যাও,,,আমি একদম চাইনা একটুর জন্যও তোমাদের সুন্দর মুহূর্ত গুলি থেমে যাক,,,,এখনও তোমাদের অনেক কিছু একসাথে করা বাকি,,,স্ত্রির জীবন উপভোগ করা বাকি।। নতুন বিয়ের মানে দিন যায় স্বপ্নের মত,,, তোমাদের এতদিনের অপেক্ষা,,,তোমাদের পরিণয়ে একচিলতেও ব্যাঘাত আমি চাই না।।"
আসমা প্রথম কথা গুলি খানিক রোসিকতার সহিত বললেও শেষের কথা গুলি আবেগি হয়ে বলে।এদিকে জারিন কিছুক্ষন আসমা সুলতানার দিকে চেয়ে রইল। সত্যি এই মানুষটা অতুলনীয়।। জারিন বিস্তার হেসে আসমা সুলতানা কে জড়িয়ে ধরে বলল,,,,
"এত ভালো হওয়া ভালো না ভাবি,,,আমি যদি পেয়ে বসি!?"
আসমা জারিন কে সিঁড়ির দিকে ঠেলে দিয়ে নিজে রান্না ঘরের দিকে যেতে যেতে বলল,,,"পেয়ে বসলেই হবে নাকি,,,আমি কিন্তু বড় ভুলে যেও না।"
জারিন ঠোঁট চেপে হেসে সোজা রুমে প্রবেশ করে। ঢুকতেই দেখে রাফাজ বারান্দায় দাড়িয়ে।। জারিন চুপচাপ প্রথমে ফ্রেশ হয়ে আসে অতঃপর সোজা গিয়ে রাফাজ এর পাশে দাড়াতেই দেখে মানুষটা সিগারেট এর শেষ টান দিয়ে সেটা ফেলে দিলো। জারিন ভ্রু কুঁচকে বলে,,,
"আপনি এটা খান কবে থেকে?"
রাফাজ মৃদু হেসে জারিন কে টেনে ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর কাঁধে থুতনি রেখে বলে,,,
"যেদিন থেকে আমি একা হলাম।"
জারিন ঢোক চিপে বলে,,,"পুরানো কথা সে গুলো।"
"কোথায় পুরানো জারিন! সেগুলো এখনও তাজা। জানো, তোমাকে পেয়ে যাওয়ার পরেও আমার ভয় কাটে না।। মনে হয়,, কখন না কেউ ছিনিয়ে নিতে চায় তোমাকে আমার থেকে।।"
"আমি আছি,,,আর কোথাও যাচ্ছি না।"
রাফাজ জারিন কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বিড়বিড় করে আওড়ায়,,,"যেতে দেবো না।"
"কিন্তু এই সব খাওয়া তো ছাড়তে হবে।"
"ছেড়ে দেবো কিন্তু এত সহজে পারবো না,,,অনেক দিন এর হ্যাবিট এটা,,,এখন আমি বলতে গেলে চেইন স্মোকার।। গত দুই দিন তোমার থেকে লুকিয়ে খেয়েছি,,,আজ ভাবলাম আর কত লুকাবো।"
জারিন এই বার ঘুরে দাঁড়ালো। গভীর দৃষ্টিতে চাইলো ওর দিকে,,অতপর রাফাজ এর দাড়ি যুক্ত গালে নিজের নরম হাত ঘষে বললো,,,"লুকাবেন না আর কিছু,,,আর কোনো গোপনীয়তা জানার সাহস আমার নেই।।( চুপ থেকে) রাফাজ,,,"
"হুমম"
"আমি কি কারোর জায়গা নিয়েছি?"
"মোটেও না,,,তোমার জায়গা অনেক আগে থেকেই ছিলো... আমার বুকের বাম পাশে"
"যদি আমি আপনার জীবনে আগে থেকে না হতাম তাহলে তো সব কিছুই ঠিক থাকতো। সে আপনার হতো,,,আপনার জীবনের এত গুলো বছর বৃথা যেতো না,সব কিছুই পারফেক্ট হতো,,,"
কথা গুলি বলতে বলতেই জারিন এর চোখের কোন বেয়ে পানি গড়িয়ে পরলো,গলা ভেঙ্গে এলো ওর। রাফাজ ওর দুই গালে হাত রেখে ওর কপালে দীর্ঘ চুমু খায়। চোখের পানি মুছে বলে,,,,
"তুমি আমার কাছে কি,,,সেটা যদি আমি মুখে বলতে পারতাম জারিন।। বিশ্বাস করো,পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নারীও যদি এসে আমার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করে তবুও আমি এই মায়াবী,লাজুক,মিষ্টি মেয়েকে ভুলতে পারবো না।।
ভালোবাসার শেষ সীমানায় এসে তোমায় ভালোবেসেছি,,,এদিক সেদিক হলেই মৃত্যু বৈ এর কিছু না।।
তুমি আমার কাছে পারফেক্ট,,,আর আমার জীবনের এত গুলি বছর মোটেও বৃথা না বরং পরীক্ষা,,,তোমাকে পাওয়ার পরীক্ষা।। আর রইলো কথা, সে আমার হতো!! তাহলে বলব,ওর কপালের রেখায় আমি ছিলাম না। আর বাদ বাকি ওপরওয়ালার ইচ্ছে,,,,কিন্তু এখন দেখো আমরা এক। আর কি কিছু লাগবে!"
জারিন মনোহর নজরে তাকিয়ে রইল রাফাজ এর দিকে।। মাথা নেড়ে না বোঝালো। আর কিছুই লাগবে না।। এত ভালোবাসা জারিন কোথায় রাখবে? এই ছেড়ে যাওয়ার যুগে,কেউ কারোর জন্য এক যুগ অপেক্ষা করে!! এত অনুগত্য! আল্লাহ,,,তোমার কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া।।
জারিন রাফাজ এর বুকে মথা রেখে বলে,,,
"আপনি এত ভালো কেন? এতটুকু ভালোবাসাও তো কেউ দেয় না, আর আপনি আমাকে দিয়ে দিচ্ছেন পুরোটা...অবাক লাগে, জানেন?"
রাফাজ হালকা হাসে, কিছু বলতে যাবে...তার আগেই জারিন ওর ঠোঁটের ওপর আঙুল রাখে।
"না, কিছু বলবেন না এখন। আমায় বলতে দিন।"
একটু থেমে চোখ সরাসরি রাফাজের চোখে রেখে বলে....
"আপনাকে দেখে আমার মাঝে মাঝে ভয় হয়... আমি যেন কোনো রূপকথার ভেতর ঢুকে পড়েছি। অথচ জীবন তো রূপকথা না, তাই না!? কিন্তু, এত নিঃস্বার্থ, এত গভীর ভালোবাসা শুধুই রূপকথায় সম্ভব।। রাফাজ, আপনি কি আসলেই কেউ,বাস্তব কেউ?"
রাফাজ হতবাক। জারিন এর কথায় সে কিছুটা বিভ্রান্তের মাঝে পড়ে অতপর ওকে নিজের একদম কাছে টেনে নিয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলে,,,
"বাস্তব কি না ছুঁয়ে দেখো।"
জারিন চোখ বন্ধ করে মিলিয়ে যাওয়া সুরে বলে,,,
"আপনার এই ভালোবাসা পেতে আমি জারিন যুগের পর যুগ অপেক্ষা করতে রাজি।।"
রাফাজ ধীরে ধীরে বলে,,,"আর আমি তোমাকে নিজের করে নিতে অপেক্ষার প্রহর গুনতে রাজি।"
এই মুহূর্তে তারা কেউ আর কোনো কিছু বলেনা। শুধু দুজনেই বুঝতে পারে, ভালোবাসা শব্দে হয় না, অনুভবে জন্ম নেয়।। আজ তাদের এক সাথে চাঁদ দেখার স্বপ্ন পূরণ হয়,,,যে স্বপ্ন তাদের চোখের মাঝে বন্দী ছিল অনেক গুলি জোছনা ধরে।।
-----------
"কাল ঠিক সূর্য ডোবার আগে আমি তোমাকে নদীর পাড়ে দেখতে চাই,,,আমি অপেক্ষা করবো।।
কিছু উত্তর শব্দে শুনতে চাচ্ছি না,,,সোজা অনুভব করতে চাইছি।"
স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে এই কাঙ্ক্ষিত ম্যাসেজ।। আসিফা সবেই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেলো ঠিক সেই সময়েই ফোন বেজে ওঠে,,,ওপেন করতেই দেখে ড্রাগেন নামে সেভ করা কন্টেক থেকে আসা ম্যাসেজ।। এদিকে ম্যাসেজ পড়ে আসিফার অবস্থা কাহিল। মানুষটা তাকে দেখা করতে ডাকছে!!
আসিফার বুকের ভিতরটা ধকধক করে উঠলো। ম্যাসেজটা যেনো কোনো গম্ভীর আহ্বান।। মোবাইলটা হাতে ধরে রেখেই সে বিছানার এক কোণে চুপ করে বসে রইলো। বুকের ভেতর হাসফাঁস করছে ওর।
তবুও…
“আমি অপেক্ষা করবো…”
এই ছয়টি শব্দের ওজন তার হৃদয়ে অনুনাদ তুলছে। সে ধীরে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়।। ঘুম আর ধরা দেবে কি? জানা নেই তার।
-----------
নতুন সকাল এর সূচনা। ঠিক সকাল না এখন বেলা।। ধরণীর বুকে মানুষ ব্যাস্ত নিজ নিজ কর্মে।।
দুই টা ক্লাস পরপর করেছে আসিফা,রুমি আর শান্ত।। ক্লাস শেষে বেড়িয়ে তিন জন ক্যাম্পাসের মাঠে বড় গাছটার নিচে বসলো।।
মনটা একটু ক্লান্ত, শরীরটাও ভারী লাগছে।
আসিফা আজ চুপচাপ। তার চোখে আজ কেমন এক অদ্ভুত নিরবতা। ক্লাসে সে ঠিকমতো মন দিতে পারেনি। গতরাতের সেই ম্যাসেজটা এখনো তার বুকের গভীরে আলোড়ন তুলছে।।
রুমি অনেকক্ষণ ধরেই মেয়েটাকে পরখ করছে।
হঠাৎ একপাশে বসে তার দিকে তাকিয়ে বললো,,,
"আসু, তুই ঠিক আছিস তো? সকাল থেকে তোর মুখটা দেখি কেমন , একটা কথাও বলিসনি ভালো করে।"
শান্ত পাশ থেকে যোগ করলো সহমত,,,
"হুম, ঠিক বলেছে রুমি। তোকে আজ কেমন চিন্তিত লাগছে।"
আসিফা হালকা একটা হাসি দিলো, কিন্তু সেটা মুখে যতটা ফুটলো, চোখে ততটাই অস্পষ্ট রয়ে গেলো। জীবনের প্রথম ভালোবাসা আর সেই ভালোবাসার সাথে প্রথম আলাদা এবং অন্য রকম ভাবে দেখা করার কথা ভেবেই নার্ভাস মেয়েটা।।সে আস্তে বললো,
"ঠিক আছি আমি ইয়ার,,,একটু ঘুম ঠিকমতো হয়নি কাল রাতে, তাই ওরকম দেখাচ্ছে।"
রুমি সন্দিহান নজরে তাকিয়ে বললো,,,"কিছু লুকাচ্ছিস?
আসিফা এবার মুখ তুলে তাকালো রুমির দিকে। মনে মনে সে ভাবলো, বলবে কি বলবে না। দ্বিধায় পড়লো মেয়েটা।
এদিকে,,শান্ত এবার মাটি থেকে একটা পাতা তুলে বললো,,,,"আজ বৃষ্টি হবে মনে হচ্ছে।"
তাদের কথার মাঝে হালকা বাতাস বয়ে যায়।
গাছের পাতাগুলো কাঁপে, আর ঠিক তেমনি করে কাঁপে আসিফার বুকের ভেতর জমে থাকা অনুভবগুলো। সে শুধু মনে মনে আওড়ায়,,,
"আজ সন্ধ্যা, নদীর পাড়,,,"
তাদের কথার মাঝেই হাজির হয় সোনিয়া। রুমি আর আসিফার বান্ধবী আর ক্লাস মেট।। সেও এসে তাদের সাথে যোগ দেয়।। রুমি বলে,,,
"কিরে বইয়ের পোকা এখানে কি?'
সোনিয়া নাক কুঁচকে বলে,,"আর বলিস না,,,গরম হচ্ছে যা,,,ক্লাসে বসাই যাচ্ছে না।।"
শান্ত বলে,,,"ঠিক বলেছিস,,,প্রেশার কুকার ছাড়াই সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছি।"
সবাই হেসে উঠলো।। সোনিয়া হাসতে হাসতেই পাশের একটা বিরাট গাছের দিকে আঙুল তাক করে বললো,,,
"এই গাছটার ফল খেয়েছিস কোনোদিন? দারুণ মিষ্টি।"
আসিফা বলে,,,"ধুর,,,ওটা জংলি ফল।"
সোনিয়া দ্বিমত করে বলে,,,"আরে না,,,সেদিন আমি কাফিল স্যার কে এই ফল খেতে দেখেছি তাও গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল,,,আমি জিজ্ঞাসা করতে আমাকেও দিলো,,,নাম বলেছে কিন্তু ভুলে গেছি।।"
রুমি বেশ আগ্রহ নিয়ে বললো,,,"তাহলে খাওয়া যায়,,,দেখেই লোভনীয় লাগছে।।"
সোনিয়া শান্তর দিকে তাকিয়ে বলল,,,"শান্ত একটা কাজ কর তো,,,"
শান্ত হালকা হেসে বললো,,,
"বল বল। তোরা যেমন অভুক্তের মত তাকিয়ে আছিস তাতে তোদের কথা না শুনলে তোরা আমাকেই খেয়ে ফেলবি।"
তিন মেয়েই ওর দিকে সরু চোখে তাকালো। সোনিয়া আবার বললো,,,
"ওই গাছে ওঠ,,,হাতের নাগালের ফল গুলো পেড়ে আমাদের দিকে ছুঁড়ে দে।"
শান্ত গাছের দিকে তাকিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত। সহসা গাছে উঠে গেলো ধীরে ধীরে। দুই মোটা ডালে পা রাখে ভালো মত। পাঁচটা ফল পাড়ে,, সেগুলো ছুঁড়ে দিলো ওদের দিকে। এদিকে সোনিয়া একটা ফলের দিকে ইশারা করেই যাচ্ছে শান্ত ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"কোনটা! অনেক গুলোই তো আছে,,,"
সোনিয়া বিরক্তভাবে বললো,
"ওই যে! ওই পেছন দিকটায়! অন্ধ নাকি রে তুই!"
শান্ত আরো এদিক সেদিক তাকালো।
"বুঝতে পারছি না,,,কিছু দিয়ে ইশারা কর তাহলে বুঝতে পারবো,,,"
শান্তর কথাটি বলা শেষ হলো ঠিক তখনই হঠাৎ করে সোনিয়া নিজের হাতে থাকা একটা ফল ছুঁড়ে মারলো ওর দিকে।। ইশারায় কাঙ্ক্ষিত ফল দেখানোর জন্য মেয়েটা এমন করে।। কিন্তু ঘটে বিপত্তি।
ঠাস!
ফলটা সরাসরি গিয়ে শান্তর মেন পয়েন্টে লাগলো! মুহূর্তেই শান্ত কুঁকড়ে উঠলো। গাছে ব্যালেন্স নিয়ে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় নিজের দুই হাত চেপে ধরলো সেখানে।। চোখ মুখ খিঁচে,,,মুখে আর্তনাদ কোরে উঠলো ছেলেটা,,,
"ও মা গো ! আমার তো ভবিষ্যৎই নষ্ট হয়ে গেলো,,,খোদা বাঁচাও আমাকে,,সাথে আমার ভবিষ্যৎ আন্ডা বাচ্চা কেও!"
রুমি আর আসিফা হেসে গড়িয়ে পড়লো।
সোনিয়া বেচারি মুখ হা হয়ে গেছে। সে মোটেও কাজটা ইচ্ছে করে করেনি।। শান্ত এবার কোনো রকম গাছ থেকে নেমে এলো। মাঠে চিৎপটাং হয়ে শুয়ে গেলো। সাথে সাথেই তিন বান্ধবি দৌড়ে ওর কাছে এলো। রুমি হাসি চেপে রেখে বলল,,,
"শান্ত তুই একটা ফলেই ক্লান্ত!!"
রুমির কথা শুনে শান্ত সহ সোনিয়া আর আসিফা ওর দিকে তাকালো। রুমি থমথমে খেয়ে এবার শান্ত কে ধরে ওঠাতে ওঠাতে বললো,,,
"মানে,,,আসলে আমি জানি তোর বেশি লেগেছে।। ওঠ ভাই ওঠ,,,এই ভাবে শুয়ে থাকিস না। দেখ সবাই দেখছে।"
সোনিয়া ও ওর হাত ধরে টেনে তুলে বলে,,,"আম সো সরি শান্ত। বিশ্বাস কর আমি কিছুই ইচ্ছে করে করিনি।"
আসিফা দুঃখ প্রকাশ করে বললো,,,"শান্ত,,,আমার কিছু বলার নেই। তোর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক এটাই কামনা করি।"
শান্তর সেই সব দিকে খেয়াল নেই। সে এক ক্রুদ্ধ নজরে তাকিয়েই আছে সোনিয়ার দিকে। যেনো ও সোনিয়া কে কাঁচা চিবিয়ে খাবে।। সোনিয়া শান্তর চেহারা দেখেই ভয়ে শুকনো ঢুক গেলে,,,অতপর সে ধীরে ধীরে উঠে পালানোর চেষ্টা করে কিন্তু তার আগেই শান্ত উঠে দাড়িয়ে ওর পিছনে ধাওয়া দেয়,,,শান্ত রাগে গর্জে ওঠে,,,
"সোনিয়ার বাচ্চা,,,তুই আমার লাইফলাইন-এ আঘাত করলি! তোকে আমি ছাড়বো না।"
সোনিয়া ভয়ে একটু পিছিয়ে যায়, তারপর থেমে থেমে বলে,
" শান্ত, আমি তো শুধু ইশারা করতে গিয়ে,,,"
শান্ত রাগে লাল হয়ে বলে,,,
"ইশারা না, এটা ছিলো সরাসরি পারমাণবিক হামলা!"
এদিকে রুমি আর আসিফা পেছন থেকে আবার হেসে কুটি কুটি।। রুমি বলে,,,
"শান্ত, এতো অভিনয় করলে তো টেলিফিল্মের অফার আসবে।"
আসিফা যোগ করে,,,
"হ্যাঁ,,,আর তার নাম হবে— ভবিষ্যতের শেষ ফল!"
শান্ত এবার দাঁত কিঁচিয়ে বলে,,,
"আজ তোরা কেউ রেহাই পাবি না।"
সবাই আবার হেসে ওঠে। সোনিয়া ছুটে পালায়, শান্ত পেছনে পেছনে দৌড়ায়, আর পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে একটা সহজ-সরল দুপুরের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের হাসি।
--------
তখন বিকাল সাড়ে চারটা।। সমস্ত ক্লাস আজ এই পর্যন্তই। কিছু প্র্যাকটিকাল এবং লাইব্রেরীতে সময় কাটানোর ফলে আজ এত দেরি।। রুমি,শান্ত, সোনিয়া, আসিফা কলেজ গেটের সামনে এসে দাঁড়ালে,, ধীরে ধীরে সবাই যে যার মত বিদায় নিয়ে চলে যায়।। এদিকে আসিফা চনমন করতে থাকে।। রুমি ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,,,
"কি হয়েছে বলত তোর,,, বাঙাচির মত করছিস কেনো?"
আসিফা নার্ভাস হেসে বলে,,,"কিছু না,,,আচ্ছা তুই বাড়ি যা,,,আমার দেরি হবে।"
রুমি চোখ ছোটো ছোটো করে বললো,,,"কেনো তুই কোথাও যাবি?"
"নাহ,,,কোথাও না। হ্যাঁ হ্যাঁ,,,যাবো,,, যাবো তো। আমার,,,আমার খালার বাড়ি।।"
"হঠাৎ?"
আসিফা কপালের ঘাম মুছে বললো,,,"আসলে,,,খালার পেটে ব্যাথা হচ্ছে তাই,,,"
"তো! তুই গিয়ে কি মেডিসিন দিবি?"
আসিফা এইবার বিরক্ত হলো। একে তো সে রুমির থেকে কিছু লুকায় না। তাই এখন মিথ্যা বলতেও পারছে না সে ঠিক মত।। আসিফা এইবার বিরক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে বলে,,,
"বরের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।। যাবি আমার সাথে,,,"
রুমি কথাটি মাছির মত উড়িয়ে দিয়ে বলল,,,"কেনো! আমাকে কি হাড্ডি মনে হয়,,,যা ভাগ"
আসিফা জিভ ভাঙ্গিয়ে রিক্সায় চড়ে বসলো। অতঃপর টাটা বাইবাই দিলো একে অপরকে।। রুমি চলে যেতে নিলে কারোর ডাকে থেমে যায়। পিছন ফিরে দেখে ওটা কাফিল। রুমি সামান্য অপ্রস্তুত হয়ে হেসে বলে,,,
"আসসালামু আলাইকুম স্যার।"
কাফিল মনে মনে সালাম গ্রহণ করে বলে,,,"কেমন আছো রুমি!"
"জ্বী ভালো,,,আপনি?"
"আমিও,,,তোমার সাথে অনেক দিন পরেই দেখা। সব ঠিক আছে?"
"আলহামদুলিল্লাহ স্যার,,,"
"বাড়ি যাচ্ছো বুঝি।"
"জ্বী স্যার,,, আসি তাহলে আল্লাহ হাফিজ।"
রুমি চলে যেতে নিলে কাফিল তড়িঘড়ি করে বললো,,,"আসলে তোমার বাড়ির রাস্তা থেকেই আজ ফিরবো,,,আমি ড্রপ করেদি তোমাকে?"
রুমি এবার কিছুটা সংশয়ে পড়ে। কি বলবে ভেবে পায় না।। মুখের উপর না করে দিতেও দ্বিধা কাজ করে তাও বলে,,
"নাহ স্যার ,,আমি চলে যেতে পারবো।"
"আমি জানি তুমি চলে যেতে পারবে,,,কিন্তু যেহেতু একই রাস্তায় যাবো তাই বললাম,,,আসো রুমি ডোন্ট ওয়ারি,,, ইউ ক্যান ট্রাস্ট মি।"
রুমি এক ঝলক কাফিলের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে। তারপর নিঃশব্দে ছোট্ট শ্বাস ছেড়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়।
কিন্তু কেউ জানে না, দূর থেকে একজোড়া চোখ জ্বলছে আগুনের মতো। সেই চোখে আছে আগুন, অভিমান, আর এক অদ্ভুত অধিকারবোধ।
জায়ান। গাড়ির জানালার বাহিরে হাত রাখা, সেই হাতে ধরা কোল্ড ড্রিংকসের ক্যান চ্যাপ্টা হয়ে গেছে।। রাগ যেন সব গেয়ে পড়েছে সেই ক্যান এর উপর।। ওর বুকের কালো শার্টের ওপরের বোতাম দুটো খোলা, চোয়াল শক্ত, চোখে রক্তচক্ষু।
গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে সে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না।আর পারবেও না।।
কাফিলের গাড়ি যখন চোখের সামনে থেকে বেরিয়ে যায়, তখন জায়ান ওর পেছনে নিজের গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে। মাত্র তিন মিনিট।
তিন মিনিটেই জায়ান তার গাড়ি শব্দ করে কাফিলের গাড়ির সামনে ব্রেক কষে দাঁড় করায়।
হঠাৎ এমন শব্দে কাফিল আর রুমি,,,দুজনেই চমকে উঠে।
জায়ান লৌহমানব হয়ে গাড়ি থেকে নেমে সোজা রুমির দিকের দরজা খুলে ওকে টেনে বের করলো।। কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই জায়ান ছটফট করতে থাকা রুমি'কে টেনে নিয়ে এসে।। সিটে ওকে বসিয়ে দরোজা বন্ধ করে দিলো।। নিজের ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিলো ভাবলেশহীন ভাবে।
এদিকে মুহূর্তেই ঘটে যাওয়া ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব রুমি।। কি হলো এটা।। রুমি মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ।। অতপর রাগে ফেটে পড়ে,,, জায়ান এর বাম বাহু চেপে চিৎকার করে বলল,,,
"কি করলেন কি আপনি? স্যার কি ভাবলো?"
জায়ান ভাবলেশহীন কণ্ঠে বলে,,,"আই ডোন্ট কেয়ার।"
রুমি তেজি কন্ঠে বলল,,,
"জায়ান পাগল হয়ে গেছেন নাকি!!"
জায়ান চোয়াল শক্ত করে সামনের দিকে তাকিয়ে থেকেই বললো,,,"হ্যাঁ,,,তুমি বাধ্য করেছো পাগল হতে,,,পাগলামি করতে। কেনো ভালো লাগছে না!?"
রুমি দাঁতে দাঁত পিষে বললো,,,"কি প্রমাণ করতে চান এই সব করে?
জায়ান তেরছা হেসে বললো,,,
"প্রমাণ করতে চাই যে, তোমার উপর অধিকার কেবল আমার।।
রুমি চোখ বড় করে তাকিয়ে থাকে জায়ানের দিকে। কি বলবে সে এই মানুষটাকে! এই জেদি, একখরা ছেলেটা কি আদো কারোর কথা শোনার ছেলে??
রুমি শুনেছে যে জায়ান রাফাজ চাচুর থেকে ক্ষমা চেয়েছে ভুল বোঝাবুঝির জন্য,,, কিন্তু রুমি!! সে কি এত তাড়াতাড়ি এই মানুষটাকে ক্ষমা করতে পারবে!! তার দেওয়া ছোট ছোট আঘাত গুলি যে মনের মধ্যে জমিয়ে রেখেছে সেগুলো এত সহজে সরিয়ে ফেলতে পারবে! রুমি জানে কখনোই নিজের হৃদয় থেকে মিটিয়ে ফেলতে পারবে না এই পুরুষকে। এক না একদিন এই ছেলেটা তাকে নিজের করেই ছাড়বে। কিন্তু এত সহজে নয়। এত সহজে রুমি নিজের অভিমান মিলিয়ে যেতে দেবে না। রুমি চোখ কঠিন করে বললো,,,
"আপনাকে এই অধিকার কে দিয়েছে?? আমি আপনার কে?"
জায়ানের গলা ভারী হয়ে আসে, চোখে কাঁচের মতো স্বচ্ছ আগুন,,,
"আমি তোমার কিছু না হলেও, তুমি তোমার সব।"
রুমি ভাষা হারায়। এত অধিকারবোধ!! রুমি এবার চোখ সরিয়ে জানালার দিকে তাকায়। চুপচাপ। সেই এই ঘাড় ত্যাড়া মানুষের সাথে পারে উঠতে পারবে না। সেই নীরবতায় ভর করে জায়ান আবার বলে ওঠে
" আমি সত্যিই পাগল। না হলে পাগল হয়ে যাচ্ছি।"
রুমি ধীরে ধীরে বলে,
"আমাকে নিয়ে আপনার পাগলামি!! ব্যাপারটা হাস্যকর।। আমি এমন একটা মেয়ে যাকে আপনি কখনো নিজের চোখের সামনেও ঠিক ভাবে দেখতে চাননি।।"
জায়ান এবার গাড়ি একপাশে থামিয়ে মুখ ঘুরিয়ে রুমির চোখে চোখ রেখে বলে—
"তোমার চোখে তাকাইনি বলে যদি মনে করো আমি তোমায় দেখিনি—তবে তা ভুল। তোমার থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু আমার চোখের পাতায়, মনজুড়ে, প্রতিটি দৃষ্টিতে ছিলে কেবল তুমিই।"
রুমি এক মুহূর্ত চুপ করে থাকে। এত গভীর আর আবেগঘন কথায় চিত্ত কেমন আকুল হয়ে যায়।। ভ্রু কুঁচকে জায়ানের চোখের গভীরে তাকায়। এই ছেলেটা আগে কখনো এভাবে কথা বলেনি। এমন নরম স্বর, এমন আত্মসমর্পণ যেন ওর সঙ্গে বেমানান।। রুমি জানে জায়ান তার সাথে যেমনই ব্যবহার করত না কেন সেটা পুরোটাই প্রত্যাহত হয়ে।। ছেলেটা যে পরিস্থিতির মধ্যে ছিল সেখানে সে বুঝে উঠতে পারছিলো না সে কোনটা বেছে নেবে।। কিন্তু সবকিছুর শেষে জায়ানের কথায় দেওয়া আঘাত! সেটা কি করে ভুলবে রুমি?
জায়ান এবার একটু থেমে আবার বলে,,,
"তুমি জানো রুমি, আমি ভীষণ শক্ত মনের একটা ছেলে কিন্তু যখনই তোমার সামনে এসে দাঁড়াতাম সবকিছু কেমন হাওয়ায় মিলিয়ে যেত।। আমি একবারও বলবো না তোমার সাথে আমি যা করেছি সবটা ঠিক কিন্তু আমি সেই পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম না যেখানে আমি যে কোন একটা কিছু বেছে নিতে পারব।।
তোমার পরিবারের ওপর উপর আমার অন্ধ একটা রাগ ছিল, ঘৃণা ছিল সেই রাগ আর ঘৃণা বারবার জলসে পড়তো তোমার উপর।"
জায়ান এর গলা কেঁপে ওঠ।। সে কিভাবে সবটা ঠিক করবে, জটিলতা কাটাবে কিছুই বুঝতে পারছে না ।। তারপরেও সে চেষ্টা করে যাবে।। বারবার,, বারংবার এই রমণীর হৃদয় জিতে নেওয়ার চেষ্টা করবে।।
রুমি এবার চোখ নামিয়ে নেয়। বুকটা কেমন যেন ভারী হয়ে আসে। কিন্তু তবু ঠোঁট শক্ত করে বলে,
" আমি কি খেলনা জায়ান? আপনি চাইলেই আমায় আঘাত করে ফেলে দেবেন,,, আবার যখন মন চাইবে তখন তুলে নেবেন।।
জায়ান ত্বরিত তাকায়,,,দুই দিকে মাথা নাড়িয়ে সাথে সাথে বলে ওঠে,,,
"তুমি খেলনা নও রুমি, আমি কখনোই তোমাকে সেই ভাবে দেখিনি।। তুমি আমার শান্তির জায়গা,,, যাকে হারিয়ে ফেলার কথা ভাবলেই ম*রে যেতে ইচ্ছা করে,,,"
রুমির ঠোঁট কাঁপে। চোখে জল আসতে চায়, কিন্তু সে চেপে ধরে। নিজেকে প্রবলভাবে সামলে নিয়ে বলে,,,
"আপনি আমাকে বারবার ভেঙেছেন জায়ান।"
জায়ান গভীর শ্বাস নিয়ে বলে,
"তুমি একবার ফিরে তাকাও আমার দিকে।। সব ঠিক করে দেব,,, নিজের সবটা দিয়ে দেব তোমায়।
রুমি ধীরে ধীরে জায়ানের চোখের দিকে তাকায়। একটা অসহায়তা, একটা পাগলামি, একটা ভয়… সবকিছু মিলিয়ে সেই চোখ দুটো যেন অনুরোধ জানাচ্ছে।
জায়ানের কণ্ঠ নিচু হয়ে আসে,
"আমাকে আর একবার সুযোগ দেবে রুমি? একবার আমাকে বোঝার চেষ্টা করবে!!!
তুমি বলো,,, আমি কি করলে সবটা ঠিক হবে!?"
গাড়ির ভিতর নেমে আসে এক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা। বাতাস থেমে যায় যেন। সেই নীরবতায় রুমির চোখের কোনে জমে ওঠে একফোঁটা জল।
সে নিচু স্বরে বলে,,,
"বিয়ে করে নিন।"
জায়ান যেন আকাশ থেকে পড়ল।। সে যেন কিছু শুনতে পাইনি এমন একটা ভাব করে রুমির দিকে তাকিয়ে বলল,,,,"সরি! আমি কি কিছু ভুল শুনলাম?"
রুমি শুকনো ঢোক গিলে বলে,,"আপনি ঠিক শুনেছেন জায়ান ,,,আপনি বিয়ে করে নিন।"
"কাকে?"
রুমি এইবার ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে বলে,,,"নিদাহ কে?"
জায়ান এর চোখ মুখ লাল হয়ে আসে।। ললাটে ভাঁজ পড়ে। নিজের শক্ত পক্ত হাত রুমির চোয়াল ছুঁয়ে যায়।। ওর মুখটা নিজের দিকে টেনে এনে বলে,,,"are you kidding with me! তুমি জানো তুমি কি বলছো?"
রুমি চোখে চোখ রেখে বলে,,,"হ্যাঁ জানি,,,"
"মানে তুমি বলতে চাইছ যে, আমি নিদাহ কে বিয়ে করে নি!? রাইট!"
"অ্যাবসলীউটলি রাইট।"
স্পস্ট কথা।এইবার জায়ান এর মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম। গাড়ির মধ্যে এসি চলার পরেও ও ঘেমে যাচ্ছে।। এইবার ও রুমির গালে নিজের দুই হাত রেখে অনেকটা ওর মুখের দিকে ঝুঁকে হাস্কি কন্ঠে বললো,,
"মজা করছো আমার সাথে?? এতটা দূর করে দিতে চাও আমায়!!"
রুমির গলা কেঁপে উঠলো তাও কোনো রকম বলে,,,"আপনি হয়তো জানেন না নিদাহ'র বাবা আপনার আব্বুর কাছে তার মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব রেখেছে,,, আপনার সাথে।।"
জায়ান অবাক হয়ে বলে,,,"তুমি কি ভাবে জানো?"
রুমি এইবার নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।।
"জানি কোনো ভাবে।।
জায়ান,,, এমনিতে আমি থার্ড ক্লাস মেয়ে আমার সাথে আপনার যায় না।"
বলেই ও গাড়ির দরজা খুলে নেমে গেলো।। জায়ান তাকিয়ে রইল অপলক।। ওকে চোখের সামনে থেকেই হেঁটে চলে যেতে দেখে জায়ান দুই হাত দিয়ে স্টিয়ারিং চেপে ধরে,,, কপাল ঠেকায় সেখানে।। নিজের কথা এই ভেবে ফিরে পাবে তাহ চেতনার বাহিরে ছিলো। জায়ান চোয়াল শক্ত করে,,মাথায় হাত দিয়ে বসে রইলো।। ভারী নিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ল বাতাসে।। জটিল সবটা। এতটা জটিল_প্রেম ও হয়!?
------------
শান্ত পড়ন্ত বিকেল। চারিদিকে কেমন মৃদু মন্দ বাতাস বইছে। আসিফার মনে জমে আছে অদ্ভুত একটা অনুভুতির রেশ। কিছুটা লাজুক,কিছুটা অস্থির ভাব তার মাঝে।। মনটা যেন উড়ছে হালকা হাওয়ায়।।
মেন রোডে নেমে গেলো রিক্সা থেকে। এখান থেকে একটা ক্যাব বুক করবে। অতঃপর মাত্র দশ মিনিটের মাঝে সে গিয়ে দাঁড়াবে তার হৃদয় পুরুষের সামনে।। যে তার জন্য অপেক্ষা করছে।। আসিফা ঠোঁট কামড়ে হেসে দিল,,, ফোন বের করে ক্যাব বুক করবে এমন সময় হঠাৎ রাস্তার ওইপাশে একটা ছোট ক্যাফের কাচের মধ্যে থেকে দেখা গেল,,, ক্যাফের মধ্যে সামনা সামনি দুই চেয়ারে বসে আয়াজ সাথেই সেই,সেইদিনের অফিসের মেয়েটা।।
হাসিটা আসিফার ঠোঁটে জমেই শুকিয়ে গেল।
হৃদপিণ্ডটা যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।
তাহলে কি সবটা মরীচিকা ছিলো,,, আয়াজ ওর সাথে এত বড় একটা মজা করতে পারল!! এতটা জটিল প্রেমের খেলা খেললো তার সাথে!!
ক্রমশ
--------------(সবাই মতামত জানাবেন। বেশি বেশি কমেন্ট করবেন। খুবই ব্যস্ত সময় পার করছি। আশা করি আপনারা আমাকে বুঝবেন অনেক কমেন্ট করে পেজের রিচ বাড়িয়ে দিন,,,গল্প যাতে সবার কাছে পৌঁছে যায়।।)