#পর্ব_৩৭
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ।)
.
কল কেটে গেছে অনেক আগেই। আয়াজ স্তব্ধ হয়ে বসে আছে। তার বুকের ভেতরটা যেন ছিঁড়ে গেলো মুহূর্তেই।। কি বললো মেয়েটা!! আয়াজ এর স্মরণে আসে জায়ান এর বলা কথা,,,তবে কি সত্যিই!!
শান্ত ছেলেটা এক নিমেষেই আগুন হয়ে উঠলো।
যে ছেলেটা এতক্ষণ ছিলো শান্ত, সংযত,,,
তার চোখেই এখন ঝড় জমে উঠছে।
চোখের কোণে রাগ ধিক ধিক করে উঠছে।।
আয়াজ চোয়াল শক্ত করে উঠে দাঁড়ায়।। বিহিত একটা হবে আজই,,এখনই।। মেয়েটা তাকে পেয়েছে কি? ফোঁস ফোঁস করতে করতে রুম থেকে সোজা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসলো।।
রাত বারোটার কাছাকাছি তখন।
ড্রইংরুমে আয়াজের পুরো পরিবার একত্রে।। আজ বাড়ির সবার গল্পের আসর যেনো শেষ হওয়ার নাম নেই।। সুন্দর সময়।জারিন ও বেশ ইনজয় করছে এই মুহূর্ত,রুমি বসে তার দাদির পাশে। কাল ছুটি,,,তাই এই দেরি রাত অবধি জমে উঠেছে সংসার আলোচিত আড্ডায়। ঠিক তখনই সবার কানে বেজে উঠল গমগমে কণ্ঠ,,,
"আমি বিয়ে করবো আজ,"
ধমকে উঠলো আয়াজ এর গলা। যেনো কেউ শান্ত পুকুরে পাথর ছুড়ে মারলো। সবার কণ্ঠ মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল। চমকে,ললাটে ভাঁজ ফেলে সবাই তাকিয়ে রইল লৌহমানব হয়ে দাড়িয়ে থাকা আয়াজ এর দিকে।গল্প থেমে গেল, এমনকি বাতাসের শব্দটাও যেন থেমে গেল কিছুটা সময়ের জন্য। জারিন বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো আয়াজের দিকে। রুমি চোখ ছোটো ছোটো করে নিজের ভাইয়াকে দেখে চলেছে।।
রাজিয়া বেগম এর কপালে ভাঁজ পড়ে,,,কন্ঠে বিস্ময় টেনে বললো,,,“কি বলছো তুমি দাদুভাই?"
আয়াজ সামনে এসে দাঁড়ালো সবার। চোখদুটো ঠিকরে বেরিয়ে আসছে, রাগ আর দৃঢ়তা মিশ্রিত এক অদ্ভুত আগুনে। তার কণ্ঠে কোনো কাঁপুনি নেই, কিন্তু কথাগুলো যেন ঠাস ঠাস করে আঘাত করছে দেয়ালের গায়ে গায়ে।
“আমি আজকেই বিয়ে করবো। এখনই।"
আসমা সুলতানা উঠে দাঁড়ালেন, তাঁর মুখে উদ্বেগের ছাপ।। তার শান্ত শিষ্ট ছেলের হঠাৎ এহেন অদ্ভুত কথায় বিচলিত হলেন তিনি।। আয়নাম সাহেন ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,,,
“কাকে বিয়ে করতে চাও তুমি!"
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে,চোখ বন্ধ করে আয়াজ শাণিত স্বরে বলে উঠলো,
“আসিফা…"
আরেকদফা পুরো ড্রয়িংরুম স্তব্ধ হয়ে পড়লো। জারিন তাকালো রাফাজ এর দিকে।। রাফাজ চোখের ইশারায় আশ্বাস দিলো ওকে।। একটা থমথমে নিঃস্তব্ধতা যেন কাঁপিয়ে দিচ্ছে পুরো ঘরটা।
রুমি চুপচাপ তাকিয়ে আছে আয়াজের মুখের দিকে।। আয়াজ কে মনে হচ্ছে নির্লিপ্ত বাতাস,,,চোখ কেমন লাল লাগছে ওর।। ছেলেটা এইবার ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে,শুকনো ঢোক গিলে বলে,,,
"আই লাভ হার,,,বিয়ে করবো ওকে! ওকে না পেলে আমি… আমি ঠিক থাকবো না।"
স্পস্ট স্বীকারোক্তি ছেলেটার,,,যেখানে নেই কোনো সংকোচ,লজ্জা।। একদম দৃঢ় মাননা। আসমা সুলতানা কোমল হাসলেন। আসিফা,, মেয়েটাকে তার আগাগোড়া পছন্দ। তিনি আগেই কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন।। কিন্তু এই ফয়েসেলা তিনি একা করতে পারেন না। তাই তিনি চুপ রইলেন। এদিকে রাজিয়া বেগম ও মনে মনে রাজী,,, তিনি অপেক্ষায় তার দুই ছেলের মতামত এর।।
রাফাজ বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে ওঠে,,, "হঠাৎ এই সময় এমন সিদ্ধান্তের কারণ কি! তার ওপর এত উত্তেজনা কেন? একটু বসে কথা বল,,,"
আয়াজ রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ে সচেতন ভাবে। ও যে নিজেকে কতটা সংযত করে এখানে দাঁড়িয়ে আছে সেটা শুধু সেই জানে,,, না হলে ওর ইচ্ছা করছে ছুটে যেতে মেয়েটার কাছে।। আয়াজ কপালে হাত ঘষে বলে,,,
"না চাচু! আমি এখনই যাবো তাদের বাড়ি। বিয়ে হবে, আজই হবে।"
এইবার আয়নাম সাহেব উঠে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,,,,
"পাগলামো করছো! বিয়ে কি ছেলেখেলা?"
আয়াজ রাগে এইবার নিজের সমস্ত সংযম হারিয়ে চিৎকার করে জবাব দিল,,,
"হ্যাঁ, ছেলেখেলা নয় বলেই তো বিয়ে করে নিজের স্ত্রী বানাতে চাইছি।। তোমরা কেন বুঝতে চাইছ না! ও যদি অন্য কারো হয়ে যায়,,, আমি নিজেকে শেষ,,,"
আয়াজের এমন বিক্ষিপ্ত আচরণে সবাই ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে।। যে ছেলে কখনো উঁচু গলায় কারো সাথে কথা বলে না সেখানে কিনা এই রাত দুপুরে একটা অবাঞ্ছিত আবদার নিয়ে এমন পাগলামি করছে!! আয়াজের কথা শেষ হওয়ার আগে রাফাজ উঠে আপন ভাতিজাকে টেনে এনে সোফায় বসার, পানি খাওয়ায়।। চুল ঠিক করে দিতে দিতে বলে,,,
"একটু শান্ত হ,, এমন পাগলামি করলে হবে!? ঘড়ি দেখেছিস কটা বাজে, একটা বাঁচতে যায়।। এই রাতের বেলায় কারোর বাড়ি গিয়ে এমন প্রস্তাব দিলে কি তারা রাজি হবে!! এরকম বেয়াদবি মানবে তারা!"
আয়াজ থেমে যায়। চোখ নামিয়ে নিলো ছেলেটা।। তার চাচুর কথা মোটেও ফেলে দেওয়ার মত না।। তাও যেনো মন সায় দিচ্ছে না।। রাগ,চিন্তা সব মিলিয়ে ছেলেটাকে একদম অশান্ত করে তুলছে।।
আয়াজ ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"আমি ওকে ভালোবাসি চাচু,,,"
"আর আসিফা?"
"সেও"
"তাহলে এত তাড়া কিসের!?"
"তাড়া নয় চাচু,,,ওর উপর আমার অধিকার চাই,,,হালাল ভাবে। ওকে আমি হারাতে পারবো না।আমার ওকে চাই চাচু এট এনি কস্ট।"
ঘরজুড়ে এক থমথমে নীরবতা। আয়াজের একেকটা কথা যেন ঘরের বাতাসকে ভারী করে তুলছে। সেই কথাগুলোর মধ্যে আছে ভালোবাসা, অধিকারবোধ, আকুলতা।
কি আবেগপ্রবণ, কি গভীর সেই স্বীকারোক্তি!
একটুও দ্বিধা নেই, নেই কোনো লজ্জা বা সংকোচ।
ভালোবাসা এমনই হওয়া উচিত।
যে ভালোবাসা বুক ভরে, উঁচু স্বরে সবার সামনে প্রকাশ করতে পারে না,,,,সেই ভালোবাসা কি আদৌ ভালোবাসা?
রাফাজ কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভাতিজার কাঁধে হাত রাখলেন। ছেলেটার চোখ কেমন টলমল করছে।। এই প্রথম, সে তার শান্ত ভাইপোর চোখে এমন দাবানল দেখছে।
"আয়াজ, ভালোবাসা যদি সত্যি হয়,, তাহলে আজ না হলেও কাল সেই মানুষটা তোমার হবেই। এই বিয়ে হবেই। আমরা সবাই পাশে আছি। কিন্তু আমাদের সম্মান রেখেই করতে হবে সব কিছু।"
আয়নাম সাহেব এবার সোফায় বসে মাথা নিচু করলেন। কিয়ৎকাল তিনি কিছু ভাবলেন অতপর চোয়াল শক্ত করে বললেন,,,
"ঠিক আছে, কাল সকালে যাবো ওদের বাড়ি। ওদের সঙ্গে কথা বলবো। যদি তারা রাজি থাকে, তাহলে বিয়ের আর্জি জানাবো,,,"
আয়াজ এবার যেন একটু নরম হলো।
তার চোখের রক্তিম আভা এখনও নিভেনি, কিন্তু শ্বাসে একটু স্থিরতা এসেছে। সে চুপচাপ মাথা ঝাঁকালো।
জারিন এবার মৃদু হেসে আয়াজ এর চুলে হাত বুলিয়ে বলল,,,"আমি তোমার ছোট মা হলেও কিন্তু আসিফার ফুপি... আমার সম্মতিও কিন্তু অনেক ম্যাটার করে,,,"
আয়াজ ফট করে তাকালো তার ছোট মায়ের দিকে।। কিছুটা হলেও ভয় পেল ছেলেটা।। যদি জারিন না করে তাহলে!! আয়াজ আকুল চোখে জারিনের দুই হাত ধরে বলল,,,
"ছোটমা,,, প্রমিস করছি নিজের সবটা দিয়ে ওকে আগলে রাখব,,, তাও না বলবে না।।
রুমি হালকা হাসল,,,"আমি কিন্তু আসুর বান্ধবী।"
আয়াজ এবার কটমট করে চাইল রুমির দিকে এইবার সবাই মজা নিচ্ছে... হেসে উঠলো রাজিয়া বেগম সহ রাফাজ সবাই।পরিবারের ঘোলাটে আবহাওয়াকে খানিকটা পরিষ্কার করে দিল।
আসমা সুলতানা এবার কাছে এসে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। তার কণ্ঠ নরম,
"আয়াজ, মেয়েটাকে আমার অনেক পছন্দ।"
রাজিয়া বেগমও বললেন,,,"আমার সম্মতি আছে দাদুভাই ,,মেয়েটাকে নিয়ে আসো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব... একটা চঞ্চল পাখি সে।"
আয়াজ হেসে ফেলল।। রাফাজ ধীরে ধীরে বলল,,,
"কাল সকালে আমরা সপরিবার যাবো ওদের বাড়ি,,,, আজ আর কিছু না। তুমি এখন উঠে যাও, মাথা ঠান্ডা করো। আমরা সবাই আছি, আয়াজ।"
ছেলেটা এবার মাথা নিচু করে চুপচাপ উঠে দাঁড়াল।
তার ভেতরের আগুনটা হয়তো পুরোপুরি ঠান্ডা হয়নি , কিন্তু পরিবারের ভালোবাসা আর গ্রহণযোগ্যতা তাকে আশ্বস্ত করেছে।। এবার শুধু অপেক্ষা কালকের সূর্য উদয়ের।
-------------
নতুন সকাল এর আগমন। আয়াজ এর রাত কেটেছে পুরো পুরি নির্ঘুম। সে ঘুমাতে পারেনি একটুও। যতবার দুই চোখের পাতা এক হতে গিয়েছে ততবার হৃদয় কেঁপে উঠেছিল,,,সে ঘুমালে যদি দিন কেটে যায়! যদি মেয়েটা দূরে চলে যায়! এই আতঙ্কে বুকটা ভার হয় ছেলেটার। ভোরের আজান কানে আসতেই আয়াজ উঠে ওযু করে ঘরেই নামাজ আদায় করে।। দোয়া চায়,,,সেই দোয়া তে মেয়েটাকে চেয়ে নিতে ভোলে না আয়াজ।।
নামাজ শেষ করতেই আয়াজ এর ফোন একটা কল আসে।। স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে জায়ান লেখা টি।। আয়াজ ফুঁসে উঠে,,,চোয়াল শক্ত করে কল রিসিভ করতেই ওর পাশ থেকে ভেসে আসে জায়ান এর কৌতুক সুর,,,,
"কিরে,, শুনলাম নাকি আমার আদরের বোন কে বিয়ে করার জন্য তুই পাগল হয়ে যাচ্ছিস!? তাহ আমি ওর বড় ভাই,,,আমার থেকে পারমিশন নিয়েছিস!?"
আয়াজ পারে না এই ছেলেকে ফোনের মধ্যে থেকে টেনে বের করে মারে।। শালা,,,খান এর বংশ। এই পরিবারের এক এক জন ত্যাড়া।। কাল রাতে জারিন ও এরকম কথা বলেছিল। এরা পেয়েছে কি আয়াজ কে। লেগ পুল করার একটা মওকা ও হাত ছাড়া করে না।। আয়াজ দাতে দাঁত পিষে বললো,,,
"তোর পারমিশন এর গুষ্টি কিলাই হারামজাদা।।
আগে নিজেকে ঠিক কর শালা,,,তুমি ঝা*টের বড় ভাই।। বোনের অনুমতি ছাড়া তার বিয়ে ঠিক করেছিস,,,তুমি আবার আসছো আমায় জ্ঞান মারা*তে,,, সুধরে যা নাহলে তোর কপালে দুঃখ।।
মনে রাখবি আমিও কারোর বড় ভাই,,,"
আয়াজের কণ্ঠে যেন বারুদের গন্ধ, বিরাট ক্ষেপেছে ছেলেটা।। ফোনের ওপাশে জায়ান হাসে,,,কিন্তু আয়াজের কিছু কথায় ভ্রু কুঁচকে ফেলে ছেলেটা। কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়াজ এক মুহূর্ত থেমে গলা নিচু করে, দাঁতে দাঁত চেপে বললো—
"শুনে রাখ আমি তোর বোনকে ভালোবাসি,, যেখানে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে বলবি সেখানে দাঁড়িয়ে বলবো। ফোনে চ্যাঁচাইস না,,,নইলে তোর দাঁত ঝালাই করে দিব।"
বলেই কল কেটে দিলো আয়াজ। ধপ করে বালিশে মুখ গুজে শুয়ে পড়ল বিছানায়।। মনে মনে আসিফা কে ইমাজিন করলো। মেয়েটাকে একবার সামনে পাক। সুদে আসলে সব অসুল করবে।।
এদিকে জায়ান কান থেকে ফোন নামিয়ে বিহ্বল হয়ে রইলো।। সে তো কাল বিয়ের কথাটি আয়াজ কে ক্ষেপানোর জন্য বলেছে,,সে চায় আয়াজ যাতে তাদের বিষয়টা খোলাসা করুক,,,তার উপর সত্যিই বাড়িতে আসুর বিয়ের জন্য সম্মন্ধ আসছে, অবশ্য সেটা ফাইনাল কিছু না তাও মেয়ে বড় হলে যা হয়।।
কিন্তু কথা হলো জায়ান এর সামান্য এই কথায় ছেলেটা এত বেশি চ্যাঁতালো কেনো!! ব্যাপার টা ঘটিয়ে দেখতে হবে।।
---------------
খান বাড়ি। নাস্তার টেবিল থেকে সমস্ত পুরুষেরা এসে ড্রয়িং রুমের সোফায় বসেছে।। ঠিক তখনই কারোর সালামের শব্দ ভেসে আসে। বাড়ির সবাই মেন ডোর এর দিকে তাকিয়ে দেখে, সেখান থেকে প্রবেশ করছে আয়াজ বাদে শেখ বাড়ির সমস্ত সদস্য।।
তাদের দেখেই খান বাড়ির সবাই আশ্চর্য প্রায়।। তারাও সামাল সহ উত্তর দিতে দিতে সবাইকে ভিতরে নিয়ে আসে।। জায়ান রুমির দিকে তাকিয়ে মেয়েটাকে দেখলো কিছুক্ষন। হালকা গোলাপি রঙের সালোয়ার কামিজে মেয়েটাকে মনোহর লাগছে।। কিন্তু পাষাণ মেয়ে তার দিকে তাকালো পর্যন্ত না। জায়ান সবাইকে বসার জায়গা করে দিলো,কুশল বিনিময় ঘটায় ছেলেটা।। খান বাড়ির সবাই আপ্যায়নে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। জারিন ছুটে আপন ভাবীদের কাছে এসে।। তারাও মেয়েটাকে জড়িয়ে নেয়।।
ধীরে ধীরে সবাই গল্প শুরু করে।। জুলফিকার সাহেব রাজিয়া বেগম এর দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"আম্মা আপনারা আসবেন একবার আমাদের আগে জানাতে পারতেন,,,নাস্তা করতাম এক সাথে। যাক,,,দুপুরে কিন্তু আমরা সবাই একত্রে খাওয়া দাওয়া করবো।"
রাজিয়া বেগম হেসে বলে,,,"ফিকর পরের বাড়ি মানুষ বলে যায়,,,আমরাতো আপন,,,"
জুলফিকার সাহেব খানিক লজ্জা পেয়ে বললেন,,,"অবশ্যই আম্মা আমরা আপন মানুষ,,,আমিতো শুধুই,,,,"
আয়নাম সাহেব মাঝ থেকে বলে,,,"ধুর রাখ তো এই সব কথা।।"
"আচ্ছা রাখলাম,,,রুমি মা তুমি কেমন আছো! সেই যে এলে আর তো এলে না,,,,"
জুলফিকার সাহেব এর কথায় রুমি সুন্দর হেসে বলে,,,"আসলে আঙ্কেল ছোটো মা কে পেয়ে আর কোনো দিকে মন নেই,,,,ছোটো মায়ের সাথেই সময় কেটে যায়,,,"
জুলফিকার সাহেব সহ পুরো খান পরিবার সন্তুষ্টির হাসি হাসলেন। যাক তাদের মেয়েকে এই পরিবার আপন করে নিয়েছে।। জারিন রুমির গালে হাত রেখে নরম হাসে।। অতপর নাস্তার টেবিল সাজানো হয়।। নানান গল্প চলতে থাকে,,, রাফাজ এই বাড়ির জামাই।। তাকে আদর যত্নের কমতি রাখছে না কেউ।। সবার কথার মাঝে এইবার আয়নাম সাহেব গলা কেশে উঠলো,,,সবাই থামলো বুঝলো তিনি কিছু বলবেন।। আয়নাম সাহেব গম্ভীর স্বরে আমান সাহেব মানে আসিফার বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"আমান আমাদের এখানে,এই সকাল বেলায় আসার কারণ কিন্তু বিশেষ কিছু। বলতে পারো,,,আমাদের চাওয়া শুধুই তুমি পূরণ করতে পারবে।"
আমান সাহেব বিভ্রান্ত নিয়ে এবং খানিক কৌতূহল নিয়ে আলতো হেসে বলল,,,"আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো ভাই,,,"
আয়নাম সাহেব, আমান সাহেব এর দুই হাত ধরে ফেললেন। এদিকে সমস্ত সদস্যের দৃষ্টি তাদের দিকেই।
"চেষ্টা না,,,তোমাকে মানতেই হবে। এটা আমার রিকোয়েস্ট।।"
আমান সাহেব সংকজ করে নিজের স্ত্রীর দিকে তাকালো। নার্ভাস হেসে বলে,,,"ভাই,,,তুমি আমার বড়। তোমাকে সব সময় আমি নিজের বড় ভাইয়ের মত দেখে এসেছি,,,এই ভাবে অনুরোধ করে আমায় পর করে দেবে না।। আমি অবশ্যই আপনার কথা রাখবো,,,ইনশা আল্লাহ।"
আয়নাম সাহেব বিস্তার হেসে বলে,,,"তোমার এক মাত্র মেয়েকে আমি চাইছি আমার ছেলের জন্য।।"
এইবার আমান সাহেব সহ খান পরিবারের সবাই বিস্মিত হলেন।। আসমা সুলতানা বলেন,,,"আমার ছেলেটা আপনার মেয়েকে অনেক পছন্দ করে ভাই সাহেব।।"
আমান সাহেব খানিক চুপ থেকে বলে,,,"আয়াজ কে আমি ভালো চিনি। ছেলে হিসাবে সে অবশ্যই উত্তম,,,কিন্তু,,,"
"কিন্তু কি আঙ্কেল? ছেলে হিসাবে ভালো হলে একজন হাসবেন্ড হিসাবেও ভালো হবো।"
সবার নজর কেড়ে আয়াজ সোজা এগিয়ে এসে আমান সাহেব এর সম্মুখে হাঁটু গেঁড়ে বসে।।
চারদিকে নিস্তব্ধতা নেমে এলো। আয়াজ এর গলা শুকিয়ে এসেছে, কিন্তু কণ্ঠে কাঁপন নেই,,,সাহস জড়ানো স্পষ্ট কণ্ঠে বলল,,,
"আঙ্কেল, আমি কিছু বলতে চাই।"
আমান সাহেব খানিকটা হতচকিত, কিন্তু বললেন, "বলো বাবা, বলো।"
আয়াজ গভীর নিশ্বাস নিয়ে শুরু করল,
"আমি জানিনা আমি আপনার চোখে সেরা পাত্র কিনা কিন্তু আমি এটুকু জানি যে আমি যদি আপনার মেয়েকে না পাই আমি ঠিক থাকবো না।।
আসিফা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া, সবচেয়ে পবিত্র অনুভব। আমি ওকে ভালোবাসি।। আমি চাই, এই ভালোবাসাকে আপনার দোয়ার সাথে পূর্ণতা দিতে। আপনার অনুমতি আমার একান্ত প্রয়োজন,,,নাহলে,,,"
"নাহলে!?"
"বিয়ে তো আমি ওকেই করব,, হয় আপনার ইচ্ছায় না হলে আপনার অনিচ্ছায়,,,"
আয়াজ শুধুই প্রেমিক নয়, একজন সাহসী পুরুষও।তার ভালোবাসায় আছে স্পষ্টতা, দৃঢ়তা, আর একটা গভীর দাবি। একজনকে নিজের করে পাওয়ার অধিকার, ভালোবাসার স্বীকৃতি নিয়ে।
ড্রয়িংরুম নিঃশব্দ। নিশ্বাস এর শব্দ পর্যন্ত যেন শোনা যাচ্ছে।। আয়াজের শেষের কথায় এতটাই দৃঢ়তা ছিল যে কেউ একটা কথাও উচ্চারিত করছে পারছে না।।
কিছু মুহূর্ত যেতেই আমান সাহেব ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি একদৃষ্টে ছেলেটার চোখে তাকালেন। তারপর তার কাঁধে হাত রাখলেন,,,
"তোমার চোখে আমি সত্য দেখছি আয়াজ। একজন বাবা তার মেয়ের জন্য এরকম একটা মানুষ চায়, যে তার মেয়ের পাশে দাঁড়াবে,তাকে নিজের বলে স্বীকৃতি দেবে,,, তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে সে মানুষ হয়তো তুমি-ই।"
চারপাশে একসাথে নিঃশ্বাস ছাড়ার শব্দ। খান বাড়িতে যেন একটা উষ্ণ আলোয় ছেয়ে গেল মুহূর্তে। রুমি, জারিন, রাজিয়া বেগম—সবাই হেসে ফেলল শান্তির প্রশ্বাসে।
আর আয়াজ? দাঁড়িয়ে পড়লো,,,ওর চিত্ত এখন হালকা লাগছে,,,সে যে আজ তার জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা জিতে ফেলেছে।
সমস্ত সদস্যরা নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময় করতে লাগলো। মিষ্টি আনা হলো, একে অপরকে খাওয়াতে লাগলো সবাই।। এদিকে যাকে নিয়ে এত কিছু সে কি আদেও জানে!! আয়নাম সাহেব বলে উঠলেন,,,
"তো ভাই আমান বিয়ে নিয়ে একটু আলোচনা করি?"
"হ্যাঁ অবশ্যই,,,কিন্তু আমার মেয়ের সম্মতিও আমার কাছে অনেক ম্যাটার করে।।"
ছোট আব্বুর মুখ থেকে এমন কথা শুনে জায়ান নিজে বলল,,,"আসুর দিক থেকে তুমি নিশ্চিন্ত থাকো ছোট বাবা,,, ও না করবে না আমি জানি,,,"
আমান সাহেব আশ্বাস কণ্ঠে বললেন,,,"তুমি নিজের বোনকে খুব ভালো করে চেনো,, তাই তোমার কথা মেনে নিলাম।। আপনি বলুন ভাই কিভাবে, কি এগানো যায়!?"
এইবার সমস্ত শেখ পরিবার কিছুটা নড়ে চড়ে বসলেন। আয়নাম সাহেব খানিক দ্বিধা নিয়ে বলে,,,
"ভাই চাইছিলাম যে বিয়েটা আজকেই হয়ে যাক।। মানে অনুষ্ঠানিক বিয়ে পরে হোক ,,,আজ শুধু আকদ সম্পন্ন করিয়ে রাখি। "
আমান সাহেব সহ সমস্ত খান পরিবার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলেন।। আজকে বিয়ের প্রস্তাব,, আর আজকেই কি না বিয়ে!! জুলফিকার সাহেব ভ্রু কুঞ্চিত করে বললেন,,,
"এত তাড়াহুড়োর কি আছে আয়নাম আজকে ডেট ফিক্স করে রাখি!?"
রাজিয়া বেগম বললেন,,,"ডেট ফিক্স করা, এনগেজমেন্ট এই সমস্ত কিছু না করাটাই ভালো,, কারণ এইগুলো হওয়ার পর ছেলেমেয়েরা একে অপরের সাথে দেখা করবে, কথা বলবে এইগুলো কিছুটা হারামের দিকে যাবে,, তাই আমরা চাইছিলাম যে আজকে আকদ করিয়ে রাখি।। যেখানে দুই পরিবারের সম্মতি আছে এবং ছেলে আর মেয়ে একে অপরকে পছন্দ করে তাহলে এই বিয়ে ফেলে রাখা ঠিক হবে না!! তাদের গার্ডিয়ান হিসেবে আমাদের উচিত তাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়া,,,"
রাজিয়া বেগমের এক একটা কথা ফেলার মত একদমই নয়।। আমরা শুধু সমাজ চিন্তা করি,, চিন্তা করি মানুষ কি বলবে কিন্তু আমাদের চিন্তা করা উচিত আমাদের ধর্ম কি বলে।। রাজিয়া বেগমের কথায় পুরো খান বাড়ি সম্মতি পোষণ করে।। কিভাবে কি হবে আজ সেগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।।
এদিকে সব কিছুর থেকে অজানা আসিফা একটা ওভার সাইজ হাঁটুর ওপর পর্যন্ত একটা টি-শার্ট আর জগারস পরে, চুল খোলা অবস্থায় সিঁড়ি থেকে হায় তুলতে তুলতে নেমে আসছে। দিন দুনিয়ার খেয়াল নেই। কোনো দিকে তার পাত্তা নেই।। আজ ছুটি তাই ঘুম থেকে উঠেছে দেরি করে।। আসিফা আরমোর ভেঙ্গে আশেপাশে না তাকিয়েই চিৎকার করে বলতে লাগলো,,,
"রুটি দাও গরম গরম,,,হবে সেটা নরম নরম
রুটি দাও গরম গ......র........ম"
আসিফার মুখের গান হুট করেই থেমে গেল।। মেয়েটা চোখ বড় বড় করে ড্রয়িং রুমের দিকে তাকাতেই হুঁশ হারালো,,, এতো মানুষ!! বেসম খেলো মেয়েটা।। সবার মাঝে একটা ক্রোধিত চোখ আসিফাকে দেখে চলেছে।। আসিফা আয়াজ এর দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢুক গিললো পর পর, কালকে রাতে তো সে মজা করেছিল।তাহলে কি আয়াজ তার নামে নালিশ জানাতে এসেছে!!
জায়ান আগেই জেনেছে আসিফা কি বলেছে আয়াজ কে। তাই সে চুপচাপ বোনের দিকে তাকিয়ে রইলো।। মনে মনে বলল,,,"আসু তুই গেছিস,,,"
আমান সাহেব মেয়েটাকে নিজের দিকে ডাকলেন। আসিফা সালাম দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে চকিতে রুমির দিকে তাকালো কিন্তু মেয়েটা কোনো রকম কিছু বলল না।। আমান সাহেব মেয়েকে পাশে বসিয়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন,,,
"মা তোমার কথাই হচ্ছে এখানে!!"
আসিফা ভয়ে জমে গেল ।। শুকনো ঢোক গিলতে গিলতে আয়াজের দিকে তাকালো, ছেলেটা ছোট ছোট,শাণিত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।। আসিফা কাঁপা কাঁপা কাঁনছে বলল,,,
"আ...আমি,,,,আমি কি করে... ছি আব্বু"
আমান সাহেব এইবার মেয়ের দুই হাত ধরে চোখে চোখ রেখে বলল,,,"একটা প্রশ্ন করব উত্তর দেবে আম্মা!?"
আসিফা এইবার নড়েচড়ে বসে। সবার দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নাড়ালো। হ্যাঁ।। আমান সাহেব নরম সুরে বলে,,,
"তুমি আয়াজ বাবা কে পছন্দ করো!?"
আসিফার চিত্ত ছলাত করে উঠলো।। সে ফট করে গোল গোল নজরে তাকালো বাবার দিকে।। পেট টা কেমন মুচড়ে উঠল তার।। তাহলে কি সবাই সবকিছু জেনে গেছে!! সবাই কি তাকে খারাপ ভাবছে!! আসিফার কান্না পেল।। ঠোঁট কাপলো মেয়েটার,,,,আমান সাহেব মেয়ের পরিস্থিতি দেখে আরো নরম সুরে বলল,,,,
"ভয় নেই আম্মা,,, কাউকে ভালোবাসা,,পছন্দ করা এটা তো দোষের কিছু নয়।। তুমি যদি সম্মতি দাও তাহলে আমরা এই বিষয়ে এগাবো।। আয়াজ তার পুরো পরিবার নিয়ে তোমাকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী করতে,বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। তুমি হ্যাঁ বললে সব হ্যাঁ হবে।।"
আসিফা যেন আসমান থেকে টুক করে পড়ল।। সকালবেলা উঠেই এমন এক পরিস্থিতির মাঝে নিজেকে পড়তে হবে তা সে কোনকালেই ভাবেনি।। আসিফা চোখ বড় বড় করে সবার দিকে তাকালো।। সবার উৎসব দৃষ্টি তার দিকে।। আয়াজ যেন আগুন চোখে ওকে হুমকি দিচ্ছে এক প্রকার।। সে যদি আজ হ্যাঁ না বলে তাহলে তাণ্ডব ঘটাবে ছেলেটা।। আসিফা ভয়,,সাথে লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে মিনমিন করে বললো,,,
"আমার আপত্তি নেই আব্বু"
আসিফার এইটুকু একটা বাক্য যেন পুরো পরিস্থিতি নরম স্নিগ্ধ করে তুলল।। আসিফার হ্যাঁ বলার সাথে সাথেই আয়াজ' কে ওর পাশে বসানো হলো।। আসিফের মা নিজের রুম থেকে একটা লাল দোপাট্টা নিয়ে এসে মেয়ের মাথায় চাপিয়ে দিল।। মেয়ে তার অনেক বড় হয়েছে তার নাকি বিয়ে হবে,, ভেবেই চোখ ছলছল করে উঠল তার মায়ের।।
এদিকে আসিফা সব কিছুতেই অবাকের চরম পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।। কি হচ্ছে এই গুলো!আসিফা এদিক সেদিক,সবার দিকেই তাকাচ্ছে।। জায়ান ইতিমধ্যে উকিল কে কল করেছে।। আকদ আমান সাহেব সম্পন্ন করবেন। মেয়ের বিয়ে বাবা পড়ানো সুন্নাহ।। সবাই নিজের নিজের জায়গা নিলো।। চুপচাপ হলো সবাই। এইসবের মধ্যে এসে হাজির হলো শান্ত,,, সে ভ্রূ কুচকে বিহ্বল হয়ে এক কোণে দাড়ালো। সবাই তাকে দেখলো কিন্তু আপাতত কিছু বলল না।।
আমান সাহেব এর গলা কেঁপে উঠলো।
"এত তাড়াতাড়ি তোমার বিয়ে দেওয়া মানে একদমই এটা নয় যে তুমি আমাদের পর হয়ে গেলে,,, মেয়ে কখনো পর হয় না। তারা সব সময় আপন থাকে।। আয়াজ উত্তম একটা ছেলে তোমায় ভালবাসে তোমাদের এক করে দেওয়া এখন আমাদের দায়িত্ব।। আর এমনিতেও ইসলাম বলে বিয়েকে সহজ করতে আর আমি সেই সহজ কাজটাই করতে চাই,,,
আমি আমান আহমেদ খান তোমাকে মানে আমার একমাত্র মেয়ে আসিফা'কে,,, শেখ আয়াজ এর সাথে বিবাহ দিতে চাই তুমি কি কবুল করো আম্মা!?"
এইবার আসিফা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।। মাথা নিচু করে হিঁচকি তুলে কাঁদতে লাগলো মেয়েটা।। জায়ান বোনকে আগলে নিলো। কানে কানে বলে,,,
"ওদের যেতে বলি!! বিয়ে করবি না! "
আসিফা অশ্রু সিক্ত নয়নে তার দাভাই এর দিকে তাকালো।। এদিকে আয়াজ সবার সামনেই মেয়েটার হাতের উপর হাত রাখে।। ধীরেধীরে আসিফা শান্ত হয়। মিনমিন করে বলে,,,
"কবুল করি আব্বু।"
আয়াজ চোখ বন্ধ করে ফেলে প্রাপ্তির অধিকারে।। অতপর আয়াজ কেও জিজ্ঞাসা করা হলে ছেলেটা ঝটফট কবুল বলে। দেন মোহর ফিক্স করে দুই লাখ।। সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে ওঠে।। জুলফিকার সাহেব মোনাজাত ধরে।। সবাই দোয়া করে দিলো নব দম্পতিদের জন্য।। তাদের পথ চলা হোক বরকতময়,ভালোবাসায় সিক্ত।।
বিয়ে হলো আসিফার,,,পরনে তার হলাগলা টি শার্ট আর প্লাজু।।
-----------------
আসিফা কে সবাই মিলে পেট পুরে খাওয়ালো। অতপর ওকে পাঠালো রুমে। ফ্রেশ হয়ে একটা শাড়ি পড়তে বললো সবাই যা আয়াজ এনেছে।। আসিফা চলে গেলো রুমে।। ওর মুখ বেজার। বিয়ে এটা!! ধুর।।
আয়াজ গেছিলো ব্যাংকে। দেন মোহর এর টাকা তুলে নিয়ে আসলো।। আসিফা কোথায় সেটা জিজ্ঞাসা করেই নিজেই ছুটলো মেয়েটার রুমে।।
দরোজা খোলা। মানে এমনি বন্ধ কিন্ত লক করা নেই।। আয়াজ প্রবেশ করে রুমে। লক করে দরোজা অতপর টাকা মেয়েটার আলমারিতে রেখে দিলো।।
কিয়তকাল পরেই খট করে কিছুর আওয়াজ পেতেই আয়াজ সেদিকে তাকালো।। সহসা আয়াজ এর মেরুদন্ড বেয়ে গড়িয়ে পড়ল শীতল শিহরণ।। বৃহৎ আঁখি মেলে তাকিয়ে রইল ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসা আসিফার দিকে।। ভেজা লম্বা চুল,,,জবজবে শরীরে, হাঁটু পর্যন্ত শুধুই একটা কার্টুন ছাপা টাওয়াল জড়ানো।। আয়াজ এর পুরুষ সত্তা উস্কানি দিচ্ছে,,,দামামা বাজচ্ছে অন্তরে।।
এদিকে আসিফা নিজের মত কিন্তু কারোর আভাস পেয়ে মেয়েটা আলমারির দিকে তাকাতেই ওর শরীর অবশ হয়ে আসার উপক্রম। সেকি ছিটকানি আটকাতে ভুলে গেছিলো!!
আসিফা একবার নিজের দিকে তাকায় তো একবার, অপলক তার দিকে তাকিয়ে থাকা আয়াজ এর দিকে।শুকনো ঢোক গিলে যেইনা চিৎকার করতে যাবে অমনি আয়াজ ছুটে এসে ওর কোমড় টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো,,, ত্বরিত মেয়েটার নরম, কোমল,সিক্ত অধর দুটি নিজের ঠোঁটের মাঝে আঁকড়ে ধরলো আবেশে।।
হুট করে আয়াজের আক্রমণে আসিফা কিছুটা বিচলিত।। নিজের ছোট্ট ঠোঁটের মাঝে আয়াজের রুক্ষ ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে মেয়েটা নিশ্বাস নিতে ভুললো।। স্তম্ভিত হয়ে রইলো সে। শরীর শিউরে উঠেছে তার। প্রতিটা শিরা উপশিরায় বইছে অদ্ভূত আলোড়ন।। পেটের ভিতরে কেমন ব্যাথা হচ্ছে। বুক কাপছে তার। জীবনের প্রথম কারোর স্পর্শ,,তাও এত গভীর,,আসিফা টালমাটাল।।
প্রথমে ধীর অতপর পাগলের মত মেয়েটাকে টেনে নিচ্ছে আয়াজ।। ঠোঁট দুটো ভিজে যাচ্ছে। এ যেনো চুমুর লড়াই চালাচ্ছে ছেলেটা। আর জিতবে সেই। তার বৃহৎ হাতের থাবা মেয়েটার চিকন শরীর সাপের মত জড়িয়ে রেখেছে।। এইবার ব্যাথা পাচ্ছে আসিফা।। চোখ তার বন্ধ ,ভ্রু কুঞ্চিত তার। দুই হাত আয়াজ এর কাঁধে,,,ছেলেটাকে দূরে সরানো অসম্ভব।। এক সময় ওকে দেওয়ালে ঠেসে দিল আয়াজ।। নিঃশ্বাসের ঘাটতি অনুভব হতেই আয়াজ ছাড়লো ওকে।। হাঁফিয়ে শ্বাস নিতে কেউ ভুললো না।
আয়াজ দেখলো মেয়েটার ঠোঁট রক্তিম,,,চোখ টলমল করছে।। ঘোর লাগা দৃষ্টিতে ও তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে।। আসিফা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে,,,অস্থির বুকের ওঠা নামা। সব খুঁটিয়ে দেখে ছেলেটা তৎপর ওর কান এর কাছে ফিসফিসিয়ে বললো,,,
"How was the kiss Baby?"
আসিফার থরথর করে ওঠে।। লজ্জায় নাস্তেনাবুদ মেয়েটা।। কিন্তু অভিমান আছে তার এই ছেলেটার উপর।। ও ধাক্কা দিয়ে আয়াজ কে সরিয়ে দিতে চাইলেই আয়াজ করে বসে অদ্ভুত একটা কাজ। সে মেয়েটার শরীরে জড়ানো টাওয়াল এর বুকের কাছের অংশ মুঠ করে,,অন্য হাত ওর কোমড়ে চাপ দিয়ে ধরে।। ঘাড় কাত করে কুটিল হেসে বলে,,,
"একটু দূরে যাওয়ায় ট্রায় করে দেখো আমি কি করি!! কাল রাত থেকে আমি যে পাগল হয়ে আছি সেটার দায় কে নেবে!! আমায় যে দুই দিন উন্মাদ করে রেখেছিল সেটার শাস্তি কে ভোগ করবে! আমি বলেছিলাম,,,আমার আরো একটা রুপ আছে। বলেছিলাম,,,দেখা হলে কাঁদিয়ে ছাড়বো।।"
আয়াজ দাঁতে দাঁত চেপে কোথা গুলি বললো। আসিফা আশঙ্কায় শেষ।। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে তার সদ্য বিবাহিত স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা গলা টেনে কোনো রকম বলে,,,
"আমি মজা করে ছিলাম কাল,,,আমি জানতাম না যে আপনি বিষয়টা এতো সিরিয়াস নেবেন।।"
আয়াজ ফট করে দাঁত দিয়ে মেয়েটার নিচের ঠোট কামড়ে ধরে।। আসিফা ছটফট করে উঠলো। ব্যথায় ব্যথিত শব্দ করে মেয়েটা। আয়াজ মাথা তুলে দেখে মেয়েটার চোখের কোন বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আয়াজ সেই পানি মুছে হাস্কি স্বরে বলে,,,,
"আমি তোমার প্রতি অবসেস্ট আসু।।"
আসিফা ভাবে সে কোন অকালে নিজের কাজিন এর কথা শুনতে গেলো!!ওর কাজিন বলেছিল,,,বয়ফ্রেন্ড দের একটু ইগনোর করলে, খোচালে ওরা নাকি প্রেমিকাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়।। আসিফা কিছু বলার মত সাহস পায় না।।
আয়াজ আবার ওর ঠোঁটে চুমু দিতে গেলে আসিফা মাথা অন্য দিকে ঘুরিয়ে কাঁপা কন্ঠে বলে,,,,
"ব্যাথা"
আয়াজ বাঁকা হেসে বলে,,,"এই টুকু ক্ষমতা নিয়ে আসো আমার সাথে মজা করতে!! ব্যাথা লাগছে তাই না!! দুই দিন ইগনোর করার সময় মনে ছিলো না যে আমার সামনে আসলে আমি তোমায় কি করবো!"
আসিফা কিছু বলে না। আয়াজ মাথা নামিয়ে ওর সফট ঘাড়ে নাম ঘষলো। আসিফা শিউরে উঠলো। চেপে ধরে আয়াজ এর শার্ট।। আয়াজ ধীরে ধীরে সেথায় নিজের ঠোঁট ডোবায়।। ব্যাথাতুর চুম্বন এবং বাইটে সেই নির্দিষ্ট জায়গায় লাল দাগ বসিয়ে দিলো।। আসিফা চোখ মুখ খিঁচে সহ্য করলো সবটা।। আয়াজ সর্ব শেষ মেয়েটার ললাটে চুমু দিয়ে বলল,,,
"দাগ বসিয়ে দিলাম,,,তুমি যে আমার সেটার চিহ্ন এটা।। ভালোবাসি তোমায় আসু,,, তোমার প্রতি আমার অধিকার,শুধুই আমার। আমার পাগলামি শুধুই তোমার জন্য। তোমার দুরত্ব আমায় পাগল করে আসু,,,বিশ্বাস কর যখন তুমি কাল ওই কথা বললে তখন আমার কেমন ফিল হচ্ছিলো।। "
আসিফা চোখে পানি নিয়ে তাকিয়ে রইল ওর দিকে।। আয়াজ ওর ঠোঁটে আলতো চুমু দিয়ে বলল,,,
"সরি এরকম ব্যাথা দিয়ে চাইনি,,,, কিন্তু রাগ লাগছিলো তাই_____
তোমার আলমারিতে দেন মোহর এর টাকার সাথে একটা জেল রাখা আছে। ওটা লাগিয়ে নাও ঠিক হয়ে যাবে,,,,এক ঘন্টা পর রুম থেকে বেরোবে।"
আসিফা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো।। আয়াজ ওর গালে হাত রেখে বলে,,,"রেগে?"
আসিফা চোখ তুলে তাকালো,,,"নাহ,,,একদিন আপনি আমায় বলেছিলেন,পাগলামি থামাতে আর এখন,,,,"
"এখন আমি পাগলামি করছি তাই তো!! আমাকে তুমি বাধ্য করেছো,,,এর দণ্ড কার্যকর হয়েছে আজ। আজীবন আমার হয়ে থাকার শাস্তি নিশ্চিত করলাম।"
আসিফা কে ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে রুম লক না করার জন্য ধমক দিয়েও যায়। তার জায়গায় যদি অন্যকেউ হতো,,,তখন।। আসিফা দরোজা বন্ধ করে। বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে।। ওর লজ্জা লাগছে,,,গাল ফুলে উঠছে বারবার।। আয়াজ ওকে চুমু খেয়েছে!! ভাবতেই দুই হাত মুখে চেপে ধরে।
--------------
রুমি আর শান্ত কথা বলছে বারান্দায় দাড়িয়ে। শান্ত এসেছিল আসিফা কে ওর নোটস ফিরত দিতে কিন্তু এখানে এসে বান্ধবীর বিয়েই দেখে ফেলবে সেটার আশা ছিল না।। তাদের কথার মাঝেই কারোর গলা কাশার শব্দে রুমি সহ শান্ত ঘুরে তাকালো। দেখে জায়ান দাড়িয়ে।। শান্ত চুপচাপ কেটে পড়লো।।
জায়ান নিঃশব্দে রুমির পাশে এসে দাঁড়ালো,,,
https://www.facebook.com/share/p/16Mw9qmusW/
#জটিল_প্রেম
ক্রমশ
---------------(সবাই মতামত জানান। কমেন্ট করবেন বেশি বেশি। আর শাদি মুবারক বলে যাবেন সবাই।। আসু আর আয়াজ বিবাহিত। নাও🍫চকলেট খাও😁)