#পর্ব_৪০
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ। রোমান্টিক পর্ব নিজ দায়িত্বে পড়বেন।)
.
জায়ান চোখ মেলে সাতটার দিকে।। সে কাল রাত তার এপার্টমেন্ট এ কাটিয়েছে। কিছু কাজ করতে করতে ক্লান্ত দেহ যেইনা বিছানা ছুঁয়েছে অমনি ঘুমে তলিয়ে যায় ছেলেটা। সারারাত বাড়ি ফেরেনি সে।। সকাল ঘুম ভাঙ্গার পর সাথে সাথে যেটা তার মাথায় এলো সেটা হলো,,, রুমি। হ্যাঁ রুমি,,,মেয়েটাকে সে নিজের কক্ষে কাল শুইয়ে রেখে এসেছিলো।। ক্লোরোফর্ম এর একশন বেশ দেরি পর্যন্ত থাকে।। মেয়েটাকে কেউ যদি ওর রুমে দেখে ফেলে তাহলে কেলেঙ্কারি বেঁধে যাবে।। জায়ান নিজের বদনাম এর ভয় করে না,,,কিন্তু কেউ যদি রুমির দিকে আঙুল তোলে তাহলে সে সেটা মোটেও বরদাস্ত করবে না।। জায়ান দ্রুত বিছানা ছেড়ে শার্ট শরীরে জড়াতে জড়াতে পকেটে ফোন এবং বাইকের চাবি নিয়ে বেরিয়ে যায় এপারমেন্ট ছেড়ে। তাকে যত দ্রুত পৌঁছাতে হবে।।
.
এদিকে রুমি বিছানা ছেড়ে দৌড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে নিলেই সম্মুখীন হয় আনোয়ারা বেগমের।। পরিস্থিতি হয় গুমোট। আনোয়ারা বেগম এর তীক্ষ্ম দৃষ্টি রুমিকে আশঙ্কায় ফেলছে।। মেয়েটা ভয়াতুর চোখে তাকিয়ে আছে,,,দুই হাত কচলাতে থাকে মেয়েটা।। কি করবে! কি বলবে সে? সে দুরুদুরু বুকে মিহি পা ফেলে এগিয়ে আসতে আসতে জড়ানো সুরে বলে,,,
"দা...দাদি মা....আসলে আমি...আপনি ভুল ভাবছেন....মানে আমি ওনার রুমে....কি ভাবে কি!?'
আনোয়ারা বেগম তখনও একই ভাবে তাকিয়ে।। এদিকে রুমি এবার কেঁদে দেবে এমন একটা ভাব।।
দাদিমা কি তাকে খারাপ ভাবছে!! ভেবেই বুক ধক করে উঠল।। রুমি কাপা ঠোটে বলে,,,
"দাদিমা,,,আমি সত্যিই জানি না যে,,,ওই রুমে মানে ওনার রুমে আমি,,,কি ভাবে গে...লাম,,,"
তার কথা শেষ হবার সাথে সাথেই মেইন ডোর থেকে বড় বড় পা ফেলে প্রবেশ করলো জায়ান।। ছেলেটা মাথা উঁচু করে করে করিডোর এর দিকে তাকাতেই যা বোঝার বুঝলো।। যেটার ভয় ছিল সেটাই হলো,,, জায়ান একবার রুমি অপরদিকে নিজের দাদী'মায়ের দিকে তাকাতে তাকাতে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগলো।। রুমি টলমল চোখে জায়ান এর দিকে তাকালো,,,রাগ লাগলো মেয়েটার।। এই ছেলের জন্যই আজ তাকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।।
জায়ান লম্বা শ্বাস টেনে সোজা আনোয়ারা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলল,,,"দাদীমা, তুমি ভুল ভাবছো কাল রুমি,,,মাঝরাতে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। ওকে মেডিসিন দিতে আমি নিজের রুমে নিয়ে আসি আর তারপর আমি রুম থেকে বেরিয়ে যাই,,,তখন ও আমার রুমেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।।"
পরপর সাফাই দেয় জায়ান।। এদিকে এই দুই নর'নারী জানেই না যে আনোয়ারা বেগম মনে মনে কতটা খুশি ছিলেন,,, কিন্তু যেই জায়ানের কথা শুনলেন অমনি তার সমস্ত খুশি হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।। কোথায় তিনি ভেবেছিলেন যে এই দুই ছেলে মেয়ের মাঝে সবকিছু ঠিক হয়ে গিয়েছে।। আনোয়ারা বেগম রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে জায়ান এর দিকে তাকিয়ে বলল,,,,
"তুমি সারারাত কোথায় ছিলে দাদু ভাই!?"
একদম পরিস্থিতির বিপক্ষে প্রশ্ন।। জায়ান একবার রুমির দিকে তাকালো। অতপর বললো,,,"কাজ ছিলো দাদিমা"
"রাতের বেলায় বাড়ির ছেলেদের বাহিরে থাকা আমার পছন্দ নয় জায়ু"
জায়ান মাথা নাড়িয়ে বলে,,,"জ্বী দাদিমা"
আনোয়ারা বেগম এবার এগিয়ে আসলেন রুমির দিকে।। রুমি কিছুটা ভীত হলো কিন্তু ওকে অবাক করে দিয়ে আনোয়ারা বেগম ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,,,
"আসুর রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসো দিভাই,,,নাস্তা এক সাথে করবো। ঠিক আছে!"
রুমি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে আসিফার রুমের দিকে চলে গেলো।। আনোয়ারা বেগম জায়ান কেও একই কথা বলে এবং ধীরে ধীরে সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে নেমে আসে।।
জায়ান দাদীর নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকে ,,, যেই দেখে আনোয়ারা বেগম নেমে কিচেনে প্রবেশ করেছে ওমনি ছেলেটা দৌড়ে আসিফার রুমে ঢুকে পড়ে। দরোজা বন্ধ করে দেয়।।
দেখে রুমি সবে মাত্র ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসছে ওয়াশরুম থেকে।। সিক্ত শুভ্র মুখশ্রী। জায়ান এর হৃদয় থমকে যায়।। কিন্তু তার সমস্ত ঘোর কাটে রুমির কিল ঘুষিতে।। মেয়েটা তার দিকে তেড়ে এসেই তার বুকে পেটে মারতে লাগলো।। জায়ান ব্যাথায় কঁকিয়ে ওঠে,,,বলে,,,
"আরেহ,,, আরে,,,কি হচ্ছে! মারছ কেনো! আহ লাগছে,,,রুমি,,,আল্লাহ,,,লাগছে তো,,, মারছ কেনো!?"
রুমি শেষ ঘুষিটা জায়ানের বুকের বাম পাশে মেরে বলে,,,"মারবো না তো কি করব! আপনার জন্য আমি কতটা লজ্জায় এবং বিপাকে পড়েছিলাম আপনার কোন ধারনা আছে!!"
জায়ান নিজের বুকের বামপাশ ঘষে বললো,,,"একদম বুকে আঘাত করলে, যেমনটা সবসময় করো"
রুমি ছোটো ছোটো চোখ করে বলে,,,"আপনার এই রোমিও মার্কা ফিল্মি ডায়লগ পরে শুনব,, আগে বলুন কাল রাতে কি হয়েছিল?"
জায়ান কিছু চিন্তা করার ভঙ্গি করে বললো,,,"কিছু হওয়ার ছিলো কি? "
কথাটি বলে জায়ান সোজা দৃষ্টি ফেলল রুমির ভেজা অধরের দিকে।। মেয়েটি তা সহজেই বুঝে ফেলে,, অতঃপর বালিশ ছুড়ে মারে ছেলেটার দিকে । জায়ান তা ক্যাচ করে দুষ্টু হেসে বলে,,,
"আরে এবার কি করালাম?"
রুমি তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলে,,," ডোন্ট বি সো স্মার্ট!"
জায়ান খানিক অ্যাটিটিউড নিয়ে বলে,,,"I am always smart... Sunflower."
"ফালতু না বকে বলুন আগে, কালকে আমি অজ্ঞান কি করে হলাম?"
জায়ান নির্দ্বিধায় বলে,,,"সাপের ভয়ে"
"মোটেও না,,, আমার মনে আছে আমি ভয়ে একদমে জ্ঞান হারাইনি,,, আমি ধীরে ধীরে অজ্ঞান হয়েছি। এটার কারন কি?"
জায়ান মেয়েটার ইন্টেলিজেন্স দেখে মনে মনেই ভীষণ ইমপ্রেস হয়।। কিন্তু এখন এই কথা এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়।। তাই ছেলেটা রুমির মুখের সামনে পড়ে থাকা অবাধ্য চুল ওর কানের পাশে গুজে দিয়ে বলল,,,
"অনেক ভাবছো তুমি সূর্যমুখী,,, এতটা ভাবতে হবে না।। তুমি ভয়েই অজ্ঞান হয়েছিলে,,, এরপর আমি তোমাকে,,,"
"আমাকে?"
"তোমাকে,,,,"
"আমাকে কি জায়ান??"
জায়ান এবার কুটিল হেসে মেয়েটার দিকে ঝুঁকে চোখে চোখে রেখে ঘন ঘণ্ঠে বললো,,,"তোমাকে নিজের কোলে নিয়ে,,, এখানে ,,,এখানে,,, এখানে চুমু দিয়েছিলাম,,,"
জায়ান নিজের ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল রুমির কপালে, নাকে এবং অবশেষে ঠোটে ছুঁয়ে কথাটি বলে ওঠে।। এদিকে রুমির হাড় কাঁপছে,, বৃহৎ আঁখি মেলে জায়ানকে দেখে চলেছে। বেশ কিছুক্ষণ পর ভারিক্কি নিশ্বাস ফেলে রুমি জায়ানের সেই আঙ্গুল কামড়িয়ে লাল করে দেয়।। জায়ান কিছুই বলে না। সে চুপচাপ রুমিকে দেখে চলেছে।। রুমি কামড়িয়ে খ্যান্ত হয়নি। ফুঁসে ওঠে জায়ানের চুল দুই হাতে মুঠো করে ধরে বলে,,,
"আপনাকে তো আমি,,, একদম শেষ করে ফেলব,,,"
জায়ান টুক করে মেয়েটার গালে চুমু দিয়েই বাঘিনী রুমি পুরাই বিড়াল বনে যায়।। শুকনো ঢুক গিলে ধীরে ধীরে ওর হাত সরিয়ে নেয় জায়ানের চুল থেকে।। কেমন নিরব হয়ে তাকিয়ে রইল সে।। এদিকে জায়ান রুমির গালে হাত বুলিয়ে বলল,,,
"My dear kitten. Save some of your energy, it will come in handy later.
মনে রাখবে,, তোমার কাছে এসে, তোমাকে কিস করার জন্য তোমার অজ্ঞান হওয়ার প্রয়োজন নেই,,, আমি সেটা এমনি পারি।। দেখবো!?"
কথাগুলি বলে জায়ান যেই না রুমির দিকে এগিয়ে আসবে অমনি মেয়েটা জায়ানকে ঠেলে রুম থেকে বের করে দেয়।। জায়ান হেসে ফেলে,,,দরজা লাগানোর আগেই রুমির দিকে তাকিয়ে বলে,,,
"এই যে তুমি আমাকে কামড় দিলে,, এটার রিভেঞ্জ কিন্তু আমি নেব,,, মন রাখবে,,,"
শেষে রুমি ওর কথায় জিভ ভাঙ্গায় অতঃপর দরজা ধরম করে বন্ধ করে দেয়।। রুমি দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে ভারী নিশ্বাস টানে।। চোখ বন্ধ করে ঠোট কামড়ে মেয়েটা লাজুক হেসে ফেলে।।
-------
আয়াজ গোসল শেষে বেরিয়ে দেখলো তার ছোট বউ বিছানায় শুয়ে কাপছে। চোখ বন্ধ করে বালিশে মাথা রেখে আছে মেয়েটা,,,ভেজা চুল বালিশ ভিজিয়ে দিচ্ছে।। আয়াজ নিজেও সদ্য গোসল করে এসেছে।। হঠাৎ রুমের বেল বেজে ওঠে।। আয়াজ বাথরপ এর ফিতা বাঁধতে বাঁধতে দরোজা খোলে।
রুম সার্ভিস দাড়িয়ে,,,সে প্রথমে ব্যাগ এগিয়ে দিলো যেখানে ওদের কাপড়, অতপর খাওয়ার দুটো ট্রে।।
আয়াজ সব কিছু নিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়।। অতপর ধীরে সুস্থে এগিয়ে আসে আসিফার দিকে।। মেয়েটাকে দেখে তার মায়া লাগলো,,,কিন্তু কি করবে! মেয়েটার কাছে আসলে ওর মাথা ঠিক থাকে না।। কাল রাতে মেয়েটার উপর থেকে সে এক প্রকার ঝড় বইয়েছে।। তাও মেয়েটা তাকে বাঁধা দেয়নি বরং খুবই সূক্ষ্মতার সহিত তাকে সামলে ছিলো।। উত্তেজনার শীর্ষে যখন আয়াজ তখন মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করে ছিলো মেয়েটা।।
আয়াজ আসিফার পাশে বসে।। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর দিয়ে বলে,,,"পাখি,,,উঠবে না!"
আসিফা চোখ খুলে তাকালো। ওর দেহের কোনায় কোনায় ব্যাথা। আয়াজ এর দিকে তাকাতেই ওর কান্না পেলো।। আয়াজ ওকে বাচ্চাদের মত কোলে তুলে বসালো। আবারো মিঠা সুরে বলে,,,"
"পাখি আমার,,,"
আসিফা টলমলে চোখে ওর দিকে চেয়ে থেকে আয়াজ এর হাত টেনে নিজের তলপেটের উপর রেখে ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,,,
"টনটন করে,,,"
আয়াজ নিস্তেজ চোখে তাকিয়ে রইলো।। মেয়েটার হাতে চুমু এঁকে বলে,,,"আর কি হচ্ছে?"
আসিফা ফুঁপিয়ে উঠে বলে,,,"পেন হচ্ছে,,,"
আয়াজ মেয়েটার কথায় স্নেহ ভরা একটা চুমু দিল ওর ঠোঁটে।। বোঝানোর সুরে বলে,,,"এটা স্বাভাবিক আসু।। প্রথম প্রথম এমন হয়। তোমার এই টুকু শরীরে আমার ভার সয়েছো সারা রাত,,, আই এম প্রাউড অফ ইউ ডার্লিং।"
আয়াজ নিজের প্রাণ ভোমরা স্ত্রির চুলে নাক ঠেকিয়ে গভির সুরে বলে,,,"অভ্যাস করো জান,,,আমাকে এত কাছাকাছি দেখার অভ্যাস করো।"
আসিফা আয়াজ এর কথা শোনে চুপচাপ। সে কাল রাত থেকেই আয়াজ এর লাগাম ছাড়া কথায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে।। আয়াজ ওকে বালিসে ঠেক দিয়ে বসায়। অতঃপর খাওয়ার প্লেট হাতে তুলে নেয়। এক চামচ পাস্তা মেয়েটার গালে তুলে দিলো।।
"মজা?"
"হুম"
আসিফা উপর নিচ মাথা নাড়ায়।। আয়াজ হেসে ওর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা সস মুছে দিলো। মেয়েটা চোখ বন্ধ করে ব্যাথায়। আয়াজ এর দাঁতের ছোয়া লেগে আছে সেথায়।। আসিফা একটা সময় মাথা নাড়িয়ে বোঝায় সে আর খাবে না।। আয়াজ ও আর জোর করে না।।
"ড্রেস চেঞ্জ করে নাও আসু"
আসিফা মিহি সুরে বলে,,,"রুমি পরিয়ে দিয়েছিল শাড়ি,,,আমি ঠিক ভাবে পারি না"
আয়াজ কপাল কুঁচকে বলে,,,"তাহলে এখন!"
আসিফা কাঁধ নাচায়।। আয়াজ ঝটফট ফোন বের করে।।ছেলেটা বেশ কিছুক্ষণ ফোন কিছু দেখে উঠে দাঁড়ায়। আসিফা কে বলে,,,
"আসো,,,আমি পরিয়ে দিচ্ছি"
মেয়েটা চোখ ছোটো ছোটো করে বলে,,"আপনি পারেন!?'
"এই যে এখনই শিখলাম,,,"
"এত তাড়াতাড়ি শিখেও গেলেন?"
"অনেক কিছুই আমরা প্রথম প্রথম পারি না কিন্তু করতে করতে শিখে যাই।"
কথাটি বলেই আয়াজ আসিফার দিকে চোঁখ টিপ দিলো।। এদিকে মেয়েটা লজ্জা অস্থির। সে কোনো রকম ব্যাগ নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে যেতে নিলেই আয়াজ ওর হাত ধরে ভ্রু কুঞ্চিত করে বলল,,,
"এখানেই চেঞ্জ করো"
আসিফা আঁতকে উঠে দ্রুত গতিতে বলে,,,"না না না,,,"
"কেনো!?"
আসিফা মাথা নিচু করে নিলো। আয়াজ বোঝে মেয়েটার লাজ কিন্তু দুষ্টু হেসে আসিফার দিকে ঝুঁকে মেয়েটাকে আরো লাজে ফেলতে এমন কথা বলে যা শুনে আসিফা বৃহৎ আঁখি মেলে তাকায়।। শরমে তিরতির করে কাঁপতে লাগলো।। এদিকে আয়াজ মেয়েটার মুভমেন্ট লক্ষ্য করে।। আসিফা আর এক মুহুর্ত দাঁড়ায় না দৌড়ে চলে যায় ওয়াশরুমে।।
কিছুক্ষণ পর ব্লাউজ, পেটিকোট পরে বেরিয়ে আসে। শাড়ি কোনো রকম পেঁচানো।। আয়াজ ওর হাত ধরে নিজের সামনে দাঁড় করায়।। অতঃপর ধীরে সুস্থে মেয়েটাকে শাড়ি পরিয়ে দিতে থাকে।।
দেখতে থাকে রমণীর গলায়, কাঁধে,বুকে লাল চাকা চাকা দাগ।। এদিকে আসিফা স্ট্যাচু হয়ে দাড়িয়ে।।
কুচি গুঁজে আয়াজ মেয়েটার গলার নিচে একটা চুমু দিল। হাস্কি কন্ঠে বলল,,,
"Thank you so much for making last night so special for me, Asu. That was the best gift of my life."
আসিফা চোখ তুলে তাকায়।। কি উত্তর দেবে বুঝলো না মেয়েটা।। আয়াজ ওর কপালে চুমু এঁকে দিলো।। আসিফা চোখ মুদে তাহ ফিল করে।।
আয়াজ ড্রেস চেঞ্জ করে নিলো। শার্ট পড়ার সময় যখন আয়াজ নিজের বাথরপ খলে,, ওমনি আসিফের চোখ ছানা বড়া হয়ে যায়।। সে জানে এটা তার কাজ।। আসিফা ঠোঁট কামড়ে আসামির ন্যায় দাড়িয়ে থাকে।। প্রশস্থ পিঠে অগণিত আচড়ের দাগ যা লাল হয়ে আছে।।
এদিকে আয়াজ আয়না দিয়ে মেয়েটাকে দেখে। অতপর ওর সামনে দাড়িয়ে ইশারা করে বোতাম গুলি লাগিয়ে দিতে।। আসিফা তাই করে। আয়াজ ওর কোমড় জড়িয়ে টেনে আনে নিজের দিকে।।
"Don't worry Darling... রজনী মুধুর কাটাতে গেলে এরকম কোটি কোটি আচরের দাগ নিয়ে ঘুরতে রাজি।"
আসিফা লজ্জায় আধমরা হয়ে যায়।। আয়াজ আবারও ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,,,"আলেক্সা কে আমাদের রুমে আনতে হবে আসু,,, ওই সময় উঠে লাইট অফ করা! সো ডিফিকেন্ট"
আসিফার কান থেকে এবার গরম ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে।। সে চুপচাপ ছেলেটার বুকে মুখ গুঁজে দিলো।। আয়াজ ওকে জড়িয়ে নিলো।। ভালোবাসা এত শান্তি দায়ক কেনো!!
--------------
দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ।। জারিন সব কিছু গুছিয়ে রুমে এলো।। রাফাজ তখন ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে।। জারিন কে দেখেই সে কোনা চোখে তাকালো।। এই মেয়েটাকে তাকে দিনে দিনে আরো অভিভূত করছে।। রাফাজ এর আর কাজে মন বসবে!! জারিন ওয়াশরুম থেকে ফিরে ফোন হাতে নিলো। এনজিওর কিছু কাজ আছে তার।। এদিকে রাফাজ আর কাজে মন নিবেশ করতে পারলো না।।
সে রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে ক্লান্ত স্বরে বলে ওঠে,,,
"জারিন,,,মনে হচ্ছে ডিলটা আমরা পাবো না।"
জারিন ফট করে মাথা তুলে তাকালো।। ভ্রু কুঁচকে রাফাজ এর দিকে এগিয়ে এসে বলে,,,"কেনো কি হয়েছে?"
রাফাজ বাচ্চাদের মত বলে,,,"কারণ প্রেজেন্টেশন রেডি করতে পারব না।।"
"কেনো? কোনো অসুবিধে?"
"হ্যাঁ তুমি।"
"আমি!?"
সহসা রাফাজ জারিন এর হাত টেনে নিজের কোলে বসিয়ে নিলো। জারিন কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাফাজ নিজের ঠোটের মিঠে ছোঁয়া দিলো স্ত্রীর গোলাপী অধরে।। বলল,,,
"হ্যাঁ তুমি। এই যে এত মিষ্টি মিষ্টি হয়ে আমার সামনে ঘুরঘুর করো,আমার কাজে মন বসবে কি করে!! শুধুই মনে চায় মিষ্টি খাই,,,,"
জারিন ওর মুখের উপর হাত চেপে ধরলো। লাজ হলেও চোখ রঙ্গালো। বকা দেওয়ার সুরে বলল,,,
"কি হচ্ছে রাফাজ! বাচ্চা হয়ে গেলেন,,, নাকি প্রেমিক!?"
রাফাজ ওর হাত সরিয়ে জারিন এর কপালে চুমু এঁকে বলে,,,"প্রেমিক আমি ছিলাম,আছি,থাকবো। তোমার প্রেমিক আমি জারিন,,,আর প্রেমিকরা সব সময় প্রেমিকার নিকট বাচ্চা হয়ে যায়।"
জারিন রাফাজ এর গাল টিপে দিয়ে বলে,,,"তাই নাকি!?"
"জ্বী ম্যাম"
"তাহলে,,,এবার!!"
"এবার এই বাচ্চা প্যাম্পারিং চায়।।"
রাফাজ যেইনা জারিন এর কাঁধে চুমু দিতে যায় অমনি জারিন হইহই করে ওঠে। রাফাজ কে সরিয়ে উঠে দাঁড়ায়,বলে,,,
"নো নো নো,,, নো ওয়ে।"
রাফাজ উঠে চট করে জারিন কে টেনে সোজা বিছানার দিকে নিয়ে যেতে যেতে বলল,,,
"তোমার না বলা মানেই হ্যাঁ বলা!"
জারিন হেসে ওঠে, কিন্তু মুখে বলে,
"রাফাজ!,,, ছাড়ুন"
রাফাজ কানে কানে ফিসফিস করে,
"শান্ত হয়ে যাও ম্যাম। তোমার হাসব্যান্ড কিছু সময় চায় তোমার কাছ থেকে। এত কিপটা কেনো!"
জারিন ওর বুক ঠেলে দেয় আলতো করে, তবু চোখে বিরক্তি নেই। বরং মিষ্টি একটা রঙ ছড়িয়ে পড়ে ওর গাল জুড়ে। তাও জারিন মুখ গম্ভীর করে বলল,
"তোমার প্রেজেন্টেশন বানাও আগে"
"তুমি পাশে থাকলে আমার প্রেজেন্টেশন এমনিতেই উইন হবে। আপাতত প্রেজেন্টেশন বানানোর জন্য আমার মোটিভেশন প্রয়োজন।।"
বলেই জারিন এর ঘাড়ে চুমু দেয় পরপর অনেক গুলি। জারিন চোখ বন্ধ করে হেসে দিলো। হাত বাড়িয়ে রাফাজ এর গালে হাত রেখে বলল,,,
"আপনি খুবই দুষ্টু একটা বাচ্চা !"
"আর তুমি?"
"আমি?"
"আর তুমি আমার রূপকথার প্রিন্সেস।"
রাফাজ আবারও ওর কপালে চুমু দিলো জারিন হাসলো নিঃশব্দে। অতপর কাটলো সাহচর্যে ভরপুর এক দুপুর। যেখানে প্রেম লুকোচুরি খেলা করে
কখনো চুমুর মাঝে, কখনো কথার মাঝে। হারিয়ে যায় মাতোয়ারা স্পর্শে।।
----------------
কেটেছে দুই দিন। এই দুই দিন কেটেছে যেন এক স্বপ্নের মধ্যে। সকালগুলো ছিলো কমল। সন্ধ্যাগুলো রঙিন আভায় ছড়ানো। সেদিন বিকালে আয়াজ আসিফা কে ড্রপ করে দেয়। সাথে দুই ধরনের ওষুধ ধরায় মেয়েটার হাতে। আদেশ সুরে বলে দেয় বাড়ি গিয়ে খেয়ে নিতে।। অতপর বিদায় চুমু।। রুমিও সেদিন নাস্তা শেষ বাড়ি ফিরে যায়।। কিন্তু চার নরনারীর হৃদয়েই বয়ে যায় উত্তাল তরঙ্গ।
আজ কলেজ হাফ ডে। তাই তো ক্যান্টিন এ খাওয়ার পর আসিফা, রুমি, শান্ত আর সোনিয়া গিয়ে ক্যাম্পাসের গাছের নিচে।। শান্ত ব্যাগের উপর মাথা দিয়ে শুয়ে আছে ঘাসের উপর। ছেলেটা হুট করেই বলে ওঠে,,,
"তোরা কি একটা জিনিস ভেবে দেখেছিস?"
তিন বান্ধবি গল্পে মেতে ছিলো কিন্তু শান্তর কথা শুনে তারা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল,,,"কী?
শান্ত আবারও ভাবুক হয়ে বলে,,,"দই দিয়ে আমরা দই জমাই কিন্তু পৃথিবীর প্রথম দই কি দিয়ে জমেছিল? ব্যাপারটা কিন্তু চিন্তার,,, তোরা ভাব"
শান্তর কথায় তিন মেয়ে ভ্রূ কুচকে ফেলে।। আসিফা নাক সিটকে দুম করে বোতলের বারি মারল শান্ত কে। অতপর বলতে লাগলো,,,
"গাধা কোথাকার,,,,প্রথম দই জমেছিল একদম প্রাকৃতিক ভাবেই।। আগে মানুষ দুধ রাখত প্রাণীর চামড়ার থলেতে বা মাটির জিনিসে,,,আবার পরিবেশও গরম। ওই পাত্রগুলিতে বা পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে থাকা ব্যাকটেরিয়ারা দুধে গাঁজন ঘটিয়ে দই বানিয়ে ফেলত।। বুঝেছিস বুদ্ধু!!"
আসিফার নলেজ দেখে শান্ত সহ রুমি , সনিয়া ও বাকরুদ্ধ রয়ে যায়।। শান্ত তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠে তালি বাজাতে লাগলো,,,বললো,,,
"ওরে আসিফা,,,তুই তো ছুপা রুস্তাম। কি ব্যাপার বলতো,,,বিয়ে করে আইকিউ লেভেল বেড়ে গেছে তোর।।"
আসিফা চোখ গরম করে তাকালো। এদিকে রুমি দুষ্টু হেসে আসিফার বাহুতে ঠেলা দিয়ে বলল,,,
"কি রে,,সেই দিন ভাইয়া তোকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে কি পড়িয়েছিল!!"
আসিফা এইবার লজ্জা পেলো। শান্ত এইবার হতাশার নিশ্বাস ত্যাগ করে বললো,,,"আসিফার বিয়ে হয়ে গেলো,,,কিছু দিন পর রুমির ও হয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।"
রুমি ভ্রূ কুচকে বলে,,,," কেনো?"
"আরে এমনি,,,,হতেই পারে। যাক সে কথা,,,,কথা হলো আমার বিয়ে কবে হবে!!"
তিন বান্ধবি ফিক করে হেসে দিলো তাহ দেখে শান্ত মিছে রাগ দেখিয়ে বলে,,,,"হেসে নে তোরা।। এই কেমন বন্ধু হয়েছিস!! এই আমার জন্য একটা মেয়ে জোগাড় করে দিতে পারিস না! ছিঃ।। মেয়ে পটিয়ে দিবি না ঠিক আছে,,,কিন্তু দোয়া তো দিতেই পারিস।।"
রুমি এইবার কিছুটা সিরিয়াস হলো। বলল,,,
"যা তোরে দোয়া কইরা দিলাম,,, তুই রাস্তার মধ্যে কুত্তার দৌড়ানি খা, পাগলের লাঠির বাড়ি খা। শুকনা স্থানে উষ্টা খাইয়া পইরা যা। টয়লেটে গেলে যেনো তোর টাংকির পানি শেষ হয়ে যাক। খেতে বসলে তোর এমার্জেন্সি পাক যেনো তোকে খাবার ছেড়ে উঠতে হয়।। থাক থাক,,,ধন্যবাদ দিয়ে উপকার করতে হবে না,,, আমি আবার দোয়া দিতে কৃপণতা করি না।।"
শান্ত সব কিছু শুনে পুরোই থ। এদিকে তিন মেয়ে দৌড় দিয়ে গায়েব।। শান্ত রাগে তিরতির করে,,,চিৎকার করে উঠে বলে,,,,
" তোদের মত যেনো কেউ শত্রুও না পাক,,, বন্ধু তো দূরের কথা।।"
(আমার লাইফের হাজারো ব্যস্ততার মাঝে আমি গল্প লিখি চার, সাড়ে চার হাজারের শব্দ দিয়ে,,,,আর আপনারা লাইক করার বেলায়, কমেন্ট করার বেলায় পিছিয়ে যান!)
-----------------
আয়াজ অপেক্ষায় কলেজের বাহিরে।। আসিফা আর রুমি কে খিলখিল করে হাসতে হাসতে,দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখে ছেলেটা সিধা হয়ে দাঁড়ায়। নিজ স্ত্রির দিকে থেকে নজর ফিরাতে ভুলে যায় আয়াজ।। এই দুই দিন ফোনে কথা হলেও তাদের দেখা হয়নি ঠিক ভাবে।। এদিকে আসিফাও আয়াজ কে দেখে ধাতস্ত হল। হাসি থামিয়ে ঠোঁট কামড়িয়ে ধরে,,,মাথা সামান্য নিচু করে ধীরে কদমে এগিয়ে এলো।।
রুমি আয়াজ কে দেখে ভ্রু কুঞ্চিত করে বলল,,,"কি ব্যাপার কাকে চাই?"
আয়াজ পিচে দাড়িয়ে থাকা আসিফার দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়,,,"যাকে চাই তাকে আপাতত পাওয়া যাবে না"
রুমি দুষ্টু হেসে গাড়ির পিছন সিটের দরোজা খুলে বসে বলে,,,"তাহলে নিয়ে চলো একেবারে"
আয়াজ রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে বললো,,,"নিয়ে যাবো খুব তাড়াতাড়ি,,, পার্মানেন্টলি।।"
"কী অদ্ভুত পরিকল্পনা। যারা আগে একে অপর কে দেখতেই পারত না,,,তারাই এখন একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারে না,,,এটাই মোজেজা।।"
রুমির কথায় আয়াজ আর আসিফা দুই জনেই মাথা চুলকে হাসে।। আয়াজ গাড়ি স্টার্ট দিলো। পাশে আসিফা চুপচাপ বোসে। সে রুমির সাথে পিছনে বসতে চাইলে দুই ভাই বোন তাকে দুই রকম ভাবেই চোখ রাঙায়।। একটা সময় গাড়ি শেখ বাড়ির সামনে দাঁড়ায়। রুমি আগে আগেই নেমে যায়। আয়াজ আসিফার দিকে এগিয়ে ওর সিট বেল্ট খুলে দিয়ে বললো,,,
"দাদি আম্মা দেখতে চেয়েছে তোমায়। চলো"
আসিফা কথা না বলেই নেমে আসে। আয়াজ মেয়েটার হাত ধরে। আসিফা ত্বরিত বলে,,,
"আরে কেউ দেখবে!?"
"দেখুক,,,, আমি কি পর নারীর হাত ধরেছি!!"
আসিফা জানে এই ছেলেটার সাথে পেরে উঠবে না।। আয়াজ আসিফা কে নিয়ে সোজা রাজিয়া বেগমের রুমে ঢোকে বলে,,,
"দাদি আম্মা নাও তোমার নাতবউ কে।"
রাজিয়া বেগম হাসি মুখে এগিয়ে আসিফা কে জড়িয়ে ধরে। মেয়েটাকে মিঠে সুরে সালাম দিলো।।
রাজিয়া বেগম আয়াজ কে বলে,,,
"আমার নাতবউ আর তোমার কে?"
"আমার শুধু বউ,,,,তোমাদের কথা শেষ হলে ওকে আমার রুমে পাঠাবে,,,দরকার আছে"
"কি দরকার!!"
"ওহহ তুমি বুঝবে না দাদি"
আয়াজ চলে যাওয়ার আগে আসিফাকে চোখের ইশারায় বলে, যেন সে তার রুমে অবশ্যই যায়।। আসিফা এইদিকে লজ্জায় লাল।। ইসস,,,!! ইতিমধ্যে হাজির হলো আসমা সুলতানা ও। ছেলের বউ কে দেখেই তিনি খুশিতে গদগদ সাথে জারিন। আসিফা নিজের ফুমাকে জড়িয়ে ধরলো। অতপর তাদের সাথে যোগ দিলো রুমি।। একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হলো।। নাস্তা আনা হলো সাথে।। সবাই খোসগল্পে মেতে উঠল।।
রাজিয়া বেগম আসিফা কে একটা ছোট্ট নাকফুল পরিয়ে দিলো।। কপালে চুমু এঁকে বললো,,,"এটা বিয়ের চিহ্ন,,,খুলবে না কেমন!"
"জ্বী দাদি"
অপর দিকে আয়াজ একবার হাক ছেড়ে আসিফা কে ডাকলো।। আসিফা শরমে কাহিল।। শাশুড়ি,ফুপি,বান্ধবী,দাদীর সামনে মেয়েটার অবস্থা নাজেহাল।। কোন কপাল করে যে এমন নির্লজ্জ হাজব্যান্ড পেয়েছে মেয়েটা জানা নেই।। এদিকে সবাই মিটি মিটি হাসছে।। আসমা সুলতানা এবং জারিন চলে গেলেন মেয়েটার বেগতি দেখে। এদিকে রুমি গলা ছেড়ে গান গেয়ে উঠলো,,,
"কালো মানিক হাত পেতেছে
চাঁদ ধরিতে চায়...."
বাকি টুকু শোনার আগে আসিফা দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।। মাথা তুলে করিডোরের দিকে তাকাতেই দেখলো আয়াজ দাড়িয়ে।। আসিফা ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলো।। আয়াজ এর সামনে দাঁড়াতেই ছেলেটা ওর হাত টেনে নিজের রুমে নিয়ে দরোজা বন্ধ করে দিলো।। আসিফা কেঁপে উঠলো। আয়াজ ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে নিলো। ঘাড় থেকে কাঁধে নাকের ঘষা দিয়ে মাতাল স্বরে বলল,,,,
"I miss you so much,,,Asu"
আসিফার দম আটকে আসার পথে। তাও কোনো রকম বললো,,,"আমি...আমিও আয়াজ"
"কী?"
"মি..মিস করেছি।"
"কাকে?"
"আপনাকে"
আয়াজ আলতো হেসে মেয়েটা কে ঘুরিয়ে নিজের সামনা সামনি করে।। অতপর সময় ব্যায় না করেই মেয়েটার ঠোঁটের মালিকানা আয়ত্তে আনতে।। হাত রাখে নারী দেহের গভীরে। মেয়েটা পীড়ায় অস্পষ্ট শব্দ করে।। আয়াজ ওর চোখে চোখ রেখে বলল,,,
"নাকফুলে তোমায় একদম বউ বউ লাগছে আসু। আমার বউ।।"
আসিফা লাজুক হাসে। অতপর মিহি স্বরে বলল,,,"আপনি এই ভাবে ডাকলেন কেনো! সবার সামনে আমি লজ্জা পেলাম,,,কি ভাবছে সবাই?"
আয়াজ ভাবলেশহীন কণ্ঠে জবাব দেয়,,,"তারা জানে যে আমারা নেউলি ম্যারিড,,,আমাদের স্পেস দরকার।"
আসিফা চোখ ছোটো ছোটো করে বলে,,,"আপনার মধ্যে একটুও লজ্জা নেই না!"
"দুইজনেই লজ্জা পেলে কি ভাবে হবে ডার্লিং!! তুমি লজ্জা পাও আর আমি ভাঙ্গাই।"
আসিফা রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ে।। আয়াজ এবার মেয়েটার দিকে এগিয়ে গেলো। এই সান্নিধ্য মনেপ্রানে উপভোগ করছে আয়াজ।। আসিফা ওর বুকের বাপ পাশে হাত রাখলো।। দ্রুত চলছে হৃদস্পন্দন। আয়াজ মেয়েটার কপালের সিঁথিতে আদুরে ছোঁয়া দিয়ে বলল,,,
"সেইদিন বেস্ট ঘুম দিয়েছিলাম,,,ওরকম ঘুমের সুযোগ আবার কবে পাবো?"
"অপেক্ষার শেষে।।"
"কবে এই অপেক্ষা শেষ হবে?"
"জানি না।"
আয়াজ হতাশ হলো । সে মেয়েটাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে,,, গালের সাথে গাল ঠেকিয়ে,,বলল,,,"আচ্ছা তুমি বলো এই রুমে আর কি কি চেঞ্জেস আনবো! ওয়াড্রপ,বেড,ওয়াশরুম,এনিথিং,,,,তুমি যেরকম বলবে ওরকম অরগানাইজ করবো।"
আসিফা চারি পাশে তাকালো। বিশাল বড় কক্ষ,,একদম গুছানো। মেয়েটা না ইশারায় মাথা নাড়িয়ে বলে,,,"সব পারফেক্ট,,, কিছু চেঞ্জ করতে লাগবে না।।"
"কিছুই না!?"
"নাহ,,,"
"বেশ,,,"
"এবার যাই!?"
আয়াজ ওকে ছেড়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,,,"খালি আমার থেকে পালাই পালাই,,,তাই না!!"
আসিফা সহসা মাথা নাড়িয়ে বলে,,,"না,,,নাহ"
ঠিক সেই সময়েই রুমি দরজায় টোকা দেয় বলে,,,"ভাইয়া আসু কে দাও মাম্মা ডাকে"
আয়াজ বিড়বিড় করে বলে,,,"আমার রোমান্সের শত্রু সবাই"
আসিফা তাহ শুনে ফিক করে হেসে দিলো। আয়াজ তাহ দেখে বলে,,,"খুব হাসি লাগছে না!!"
আসিফা হাসি চেপে বললো,,,"কোই,,,হাসছি!!"
আসিফা রুমির ডাকে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে গিয়েও থেমে যায়। দেখে ছেলেটা মনমরা হয়ে তাকিয়ে আছে।। আসিফা কিছুটা ছুটে ছেলেটার নিকটে যায়,,,মুহূর্তেই মধ্যেই আয়াজ এর কলার টেনে ওকে ঝুঁকিয়ে ওর গালে আলতো একটা চুমু দিয়েই দৌড়ে পালায়। আয়াজ স্তব্ধ,,,গালে হাত ছোঁয়ায়।। মেয়েটা কি করলো মাত্র!?
(৫০০+ লাইক/ রিএক্ট কমপ্লিট না হলে আমি পরের পর্ব দেবো না।। আমার ফলোয়ার হিসাবে কিংবা গল্প পড়ার পাঠক/পাঠিকার সংখ্যা হিসাবে আমার ৫০০+ রিয়েক্ট আপনাদের কাছ থেকে এক্সপেক্ট করা ভুল কিছু না।)
--------------
তিন দিন পরের কথা।। সময়টা তখন সকাল নয়টা নাগাদ।। রান্নার ধারবারে ও না ঘেঁষা মেয়েটা আজ কিচেনে ঢুকেছে।। সে নাকি আজ নিজের হাতে সকালের নাস্তা বানাবে, তাই তো কাল রাত থেকে রান্নার ভিডিও দেখছে মেয়েটা।। আসিফা শুকনো ঢোক গিলে,,,সে শুনেছে পুরুষ মানুষের মনের রাস্তা পেটের উপর থেকে যায়।।
আসিফার এই কথাটা খুব হিট করেছে। সে রান্না করতে পারে না ,,,তাহলে কি আয়াজ তাকে অনেক ভালোবাসবে না!! অদ্ভুত চিন্তা ভাবনা।। আসিফা ভিডিও প্লে করে এক জায়গায় রাখে।। অতপর শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি।। মেয়েটা এক হাতে সব করে।।
চিলি চিকেন সাথে ফ্রাইরাইস,বিফ বল,পায়েস। এই চারটে জিনিস বানাতেই আসিফা লাগায় সময় তিন ঘণ্টা।।
বারোটা বাজতে সমস্ত রান্না শেষ। আসিফা ভীষণ খুশি। সে চট জলদি গোসল শেষে একটা সবুজ থ্রি পিস্ পড়ে নেয়। সমস্ত খাবার প্যাক করে, রুমি কে জোরাজুরি করে সাথে নেয়।
"বাবা গো,,,,যে মেয়ে রান্না থেকে পালায় সে কিনা আজ নিজের হাতে রান্না করেছে!! ব্যাপার কি!"
আসিফা রুমির কাঁধে মেরে বলে,,,"একদম লেগপুল করবি না"
রুমি হাসে। খুনসুটি করতে করতে তাদের গাড়ি থামে অফিসের সামনে। আসিফা রুমি সোজা লিফটে করে দুই তলায় গিয়ে পৌছায়।। আসিফা কোনো দিকেই না তাকিয়ে মিটিং রুমে ঢুকে পড়ে।
এদিকে আসিফা আর রুমি কে দেখে আয়াজ জায়ান দুই জনেই অবাক হয় সাথে খুশিও। রাফাজ বিস্তার হেসে বলে,,,,"আর আমার প্রিন্সেস যে,,,"
মিটিং রুমে বসা সবার দিকে তাকিয়ে আয়াজ বলে,,,"Sorry guys, this meeting has stopped here. We will continue with this later."
"Okay sir."
বলে সবাই এক এক করে বেরিয়ে গেলো।। রইলো আয়াজ, জায়ান আর রাফাজ।। দুই প্রেমিক পুরুষ উঠে তাদের জায়গা তাদের প্রেয়সী দের দিলো।।
রাফাজ বলে,,,,"তো আমাদের এহেন সারপ্রাইজ দেওয়ার কারণ কি মা!"
রুমি বলে,,,"আসু আজ প্রথমবার নিজের হাতে রান্না করেছে চাচু,,,সেটাই তোমাদের টেস্ট করাতে নিয়ে এসেছে।।"
আয়াজ এক ভ্রু নাচিয়ে আসিফার দিকে তাকিয়ে বলে,,,"তাই নাকি!?"
জায়ান বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,,,"ইমপ্রেসিভ আসু"
অতপর প্লেট আনানো হলো।। আসিফা ছাড়া সবার সামনেই খাবার সার্ভ করা হলো।। আসিফা খুশি মনে সবাইকেই খাবার দিলো। মেয়েটা গালে হাত রেখে চেয়ে রইলো সবার দিকে।। ধীরে ধীরে খাওয়া শুরু করে সবাই। তারপর! তারপর সবার চোখ ধীরে ধীরে বড় হয়ে গেলো।। রাফাজ কোনো রকম বলে,
" আমি তো ডায়েটিং করছি আসু মা,,,কিন্তু রান্না ভালো হয়েছে,,,আমি,,,আমি আসছি এখনই।"
বলেই আয়াজ এর পিঠ থাপিয়ে চলে গেলেন তিনি। আসিফা কিছুটা চিন্তিত হলেও গায়ে মাখেনি।জায়ান আস্তে করে রুমির কানে ফিসফিসিয়ে বলে,,,
"তোমার দোষ রুমি,,,নিজে রান্না শিখলে কিন্তু বান্ধবী কে শেখালে না,,,নট ফ্যার"
"চ্যালেঞ্জ দিলাম,,,খাওয়া টা পুরো শেষ করে উঠুন"
"নট এক্সসেপ্টেড সানফ্লার,,, আই লাভ আসু,,,,But I love my stomach too."
রুমি চোয়াল শক্ত করে হাসি চেপে রাখে।
জায়ান কথা টি বলে পকেট থেকে ফোন বের করে কারো সাথে কথা বলার ভান করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পূর্বে আয়াজ এর পিঠ থাপিয়ে যায়।।
এবার রুমি একা পড়ে যায়।। মেয়েটা বেশ কিছুক্ষণ পর বলে,,,"কাবাব মে হাড্ডি লাগছে আমাকে,,, ইউ গাইজ ক্যারি অন"
বলেই রুমি আয়াজ এর কাঁধে হাত রেখে চলে যায় রুম ছেড়ে।। এবার আসিফার মুখটা ছোট হয়ে আসে।।
আয়াজ খাওয়ার ভঙ্গি করছে বটে, কিন্তু মুখে একটাও শব্দ নেই। গাল দুটো একটু ফুলে গেছে, চোখ ছোট হয়ে এসেছে,,,যেন কোনো কিছুর সাথে লড়ছে। আয়াজ থেমে যায়। চামচ নামিয়ে রাখে টেবিলের উপর। আসিফা ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,,,
"ভালো হয়নি তাই না!! সবাই উঠে চলে গেলো"
আয়াজ এবার কিছুটা কেশে উঠে বলে,,,
"উহহাম! মানে, ফ্লেভার... ইউনিক!"
আসিফা নাক টেনে বলে,,,,"মিথ্যা বলছেন,,,জানি।"
আয়াজ একটু থেমে, একটু হাসি মুখে, ওর হাত ধরে বলে,,,"প্রথমবার রান্না করেছো,,,একদম পারফেক্ট না হলেও,,খুব একটা খারাপ হয়নি"
আসিফা অসহায় স্বরে বলে,,,"তার মানেই খারাপ হয়েছে,,,আমি বুঝেছি। সত্যি বলুন,,,"
আয়াজ এইবার রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে বললো,,,"সত্যিই বলবো!?"
"হুমম"
"আসলে,,,ফ্রেইরাইস তিতা লাগছে,হয়তো সোয়া সস বেশি পড়ে গেছে,,,বিফ বল ভিতর থেকে কাঁচা, পায়েসে নুন বেশি,মিষ্টি কম।।"
"আর চিলি চিকেন!?"
"ওতে লবণই হয়নি।"
বলেই আয়াজ ফিক করে হাসলো।আসিফা এইবার হুহু করে কেঁদে উঠলো। ঠোঁট ভেঙ্গে বললো,,,,"আমি কিছুই পারি না।"
বলেই আরো কাদতেঁ লাগলো মেয়েটা। আয়াজ ওকে টেনে নিজের কোলে বসিয়ে মেয়েটার চোখের জল মুছিয়ে দিলো। নরম দুই গালে হাত বুলিয়ে আদর দিয়ে বলল,,,,
"আমাকে ইমপ্রেস করতে হবে না পাখি,,,আমি এমনিতেই তোমার উপর ফিদা।। রান্না না পারলে আমি রান্না করে খাওয়াবে, শেখাবো।। আসু,,,ভালোবাসার জন্য হৃদয়ের প্রয়োজন। তাই না!!"
আসিফা মাথা নাড়ায়।। আয়াজ ওর কপালে চুমু এঁকে বলে,,,,"কান্না থামাও,,,,তোমার এত কষ্ট করে আমার জন্য রান্না করাই আমার জন্য অনেক আসু।।"
আসিফা মাথা নিচু করে রইল। আয়াজ মেয়েটার কাঁধে চুমু দিয়ে বলে,,,"আগামী চার দিন নিজের খেয়াল রাখবে আসু,,,কোনো কিছুতে গাফিলতি চাই না"
আসিফা অবাক হয়ে বলল,,,"কেনো! আপনি কোথাও যাবেন!?"
"হ্যাঁ,,আজ রাতের ফ্লাইটে আমি আর জায়ান আউট অফ কান্ট্রি যাচ্ছি"
আসিফা বিস্মিত সুরে বলে,,,"হঠাৎ!?"
"বিজনেস ট্যুর আসু,,,"
আসিফা উদাস মনে ঠোঁট বাঁকায় বলে,,,," শনি বার কলেজে ফেস্ট আছে,,,আপনি আসবেন না তাহলে!"
"আসার চেষ্টা করবো,,,আসু"
অতপর একটা সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করে আয়াজ। মেয়েটাকে আর কথা বলতে দেয় না।।
. করিডোরের একপাশে দাড়িয়ে রুমি।। জায়ান নিঃশব্দে ওর পাশে এসে দাঁড়ায়।।
"কী দেখছো?"
"ব্যাস্ত নগরী,,,কিন্তু তাও সবাই একা।"
জায়ান দুই পকেটে হাত পুরে টানটান হয়ে দাঁড়ালো।।
"হয়তো একাকীত্বের মাঝেই নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায়"
"হয়তো,,,,"
"কিন্তু আমি নিজেকে খুঁজে পাই তোমার সান্নিধ্যে।"
রুমি ফট করে জায়ান এর দিকে তাকালো।। চোখ ছোটো ছোটো করে বলে,,,
"তাই নাকি!"
"ইয়েস,,,"
রুমি হাসে। জায়ান সেই হাসি দেখে।। সময়টা থেমে যায়না যেখানেই,,,কিন্তু তাও এই সময়ের মাঝেই অনুভূতির বাতাস বইলো।। প্রেম এক্কা দোক্কা খেলল অন্তর মহলে।।
সেই রাতেই আয়াজ আর জায়ান বিদায় নিলো।। বিজনেস এর কাজে কিছু দিনের জন্য তারা ছাড়লো পরিবার,,,প্রেয়সী।। কিন্তু পরিবারের অগচরে তারা দৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখে যায়।।
---------------
হাসপাতালের করিডোরে এলোমেলো হয়ে ছুটে চলছে দুই যুবক। একজন নিজের বোনের প্রাণ বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে ডক্টর ডাকছে। এবং অপর জন আপন প্রেয়সীর এহেন অবস্থায় পাগল প্রায়। করিডোরে তখন এক উত্তাল দৃশ্য। সময় যেন দম বন্ধ করে থেমে গেছে চারদিকে।। তাদের চোখে ভয়, মুখে আতঙ্ক, আর কণ্ঠে চিৎকার।
— “ডক্টর! ডক্টরকে ডাকুন!”
চিৎকার করে উঠলো একজন, কণ্ঠে কাঁপন। বুক ফেটে কান্না আসে কিন্তুএখন কাঁদার সুযোগে নেই।
পাশেই আরেকজন ছুটে চলছে নিঃশব্দে, কিন্তু চোখে তার জ্বলছে রক্তিম অগ্নিশিখা। চোখ ফেটে পানি আসতে চায় তার,,,চিৎকার করে আহাজারি করতে ইচ্ছে করছে,,,কেন করলো সে ওই ভুল কাজ! কি ভাবে করতে পারলো।। সে এক হাত ধরে রেখেছে মেয়েটার শীতল আঙুল, আরেক হাত মুঠো করে শক্ত করে রেখেছে।।
(যতক্ষণ না পর্যন্ত এই পর্বে ৫০০+ লাইক/রিঅ্যাক্ট কমপ্লিট হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি গল্প লিখবো না।
আমার লাইফের হাজারো ব্যস্ততার মাঝে আমি গল্প লিখি চার, সাড়ে চার হাজারের শব্দ দিয়ে,,,,আর আপনারা লাইক করার বেলায়, কমেন্ট করার বেলায় পিছিয়ে যান!)
জা....য়ান"
"হুম"
"ব্যাথা পাই..."
জায়ান মাথা তুলে তাকালো। ছেলেটা ঘামছে ও হাঁফাচ্ছে রীতিমত। রুমির ব্যাথায় জর্জরিত মুখটা দেখে জায়ান মোটেও পিছিয়ে আসবে না। আসতে পারবে না। সে এখন এমন পর্যায়ে, যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। ও রুমির নরম গালে নাক দাবিয়ে গম্ভীর কিন্তু শিতল কণ্ঠে বলে,,,
"তুমি আমাকে এই পর্যায়ে এনে,থেমে যাওয়ার কথা বলতে পারো না ডারলিং। যেমন তুমি মাতাল না হয়েও মাতালের অভিনয় করতে পারো,তেমনি আমি সব কিছু বুঝেও চুপ থাকতে পারি।
সো লম্বা শ্বাস টানো, আই উইল নোট লেট ইউ গো, সানফ্লাওয়ার।"
রুমি অবাক হয়ে চেয়ে থাকে ওর হাসবেন্ড এর দিকে। কিন্তু ওকে অবাক হয়ে থাকার সময় দিলো না জায়ান। হঠাৎ প্রচন্ড পীড়ায় চোখ মুখ খিঁচে এলো রুমির। মুহূর্তেই হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলো ও। নিজের নাজুক হাতের মুঠো দিয়ে মারতে লাগলো জায়ান কে। কিন্তু এই মার জায়ান এর কোথাও লাগে না। উপরন্তু নিজের বুকের তলায় মেয়েটাকে পিষে ফেলতে ফেলতে হেসে বলে,,,
"কি ম্যাম! আমি পারি! নাকি আরো প্রুভ লাগবে?"
বিশেষ সংবাদ👇
#জটিল_প্রেম_দ্বিতীয়_খন্ড পড়ুন বইটই এ্যাপ এ।
#জটিল_প্রেম সমস্ত পর্বের লিংক একসাথে কমেন্টে।
ক্রমশ
---------------(আপনারা সবাই বেশি বেশি কমেন্ট করুন,,,এক এক জন 10 করে করুন।। গল্প সবার কাছে পৌঁছে দিন। আমায় অনুপ্রানিত করুন আপনার।। গল্প গ্রুপে ছাড়ুন,,,ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করুন।।)