#পর্ব_৪১
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ। রোমান্টিক পর্ব নিজ দায়িত্বে পড়বেন।)
.
হাসপাতালের করিডোরে এলোমেলো হয়ে ছুটে চলছে দুই যুবক। একজন নিজের বোনের প্রাণ বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে ডক্টর ডাকছে। এবং অপর জন আপন প্রেয়সীর এহেন অবস্থায় পাগল প্রায়। করিডোরে তখন এক উত্তাল দৃশ্য। সময় যেন দম বন্ধ করে থেমে গেছে চারদিকে।। চোখে ভয়, মুখে আতঙ্ক, আর কণ্ঠে চিৎকার।
— “ডক্টর! ডক্টরকে ডাকুন!”
চিৎকার করে উঠলো একজন, কণ্ঠে কাঁপন। বুক ফেটে কান্না আসে কিন্তুএখন কাঁদার সুযোগে নেই।
পাশেই আরেকজন ছুটে চলছে নিঃশব্দে, কিন্তু চোখে তার জ্বলছে রক্তিম অগ্নিশিখা। চোখ ফেটে পানি আসতে চায় তার,,,চিৎকার করে আহাজারি করতে ইচ্ছে করছে,,,কেন করলো সে ওই ভুল কাজ! কি ভাবে করতে পারলো।। সে এক হাত ধরে রেখেছে মেয়েটার শীতল আঙুল, আরেক হাত মুঠো করে শক্ত করে রেখেছে।।
---------------
অতীত.
সময় যায় সময় আসে আর দিন কাটে নিজের মত।
চার দিন চোখের নিমিষেই কেটে যায়। কিন্তু প্রিয়তম কে চোখের সামনে না দেখার কষ্ট! সেটা কি মুখে প্রকাশ করা যায়!! আসিফা আর আয়াজ মুঠো ফোনে প্রেম আলাপ চালিয়েছে।। যেনো তারা সদ্য প্রেমিক।। ফোনের ঐপাশ থেকে যখন আয়াজ এর পুরুষলি কন্ঠ শুনতে মেয়েটা তখন যেনো ওর হৃদয় থমকে যেতো। এক দিন তো বলেই ফেললো,,,
"আপনার কন্ঠ এমন কেনো?"
"কেমন!"
"একদম মাতাল দের মত"
আয়াজ ঠোঁট কামড়িয়ে হাসে।। বলে,,,"তুমি মানেই আমার কাছে নেশা,,,তাই তো তোমার কাছে থাকলে,তোমার সাথে কথা বললে আমি মাতাল হয়ে যাই।"
আসিফা লজ্জায় লাল হলো সেদিন।। কিন্তু বিরহে দিন কাটলো জায়ান এর।। নিষ্ঠুর মেয়েটা তার কল রিসিভ করে না। আবার নিজ থেকেও কল দেয় না।। একদিন হোটেল রুমে যখন চুপচাপ বসে ছিল ঠিক ওর হৃদয়ের ঘন্টা বাজিয়ে কল ঢুকলো রুমির। জায়ান এক প্রকার হামলে পড়ে ফোন হাতে নিয়ে কল রিসিভ করে কানে দেয়।। যেনো তার বিশ্বাস হচ্ছে না যে,,ওই পাশের নিরেট মনের মেয়েটা তাকে কল করতে পারে।। এদিকে এই পাশে রুমি ঠোঁট কামড়িয়ে হাসে।। যেনো সে যে দেখছে জায়ান এর অবস্থা।। জায়ান ত্বরিত বলে,,,,
"হ্যাল্লো... হ্যালো....রুমি!!"
রুমি এবার কিছুটা সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে,,,"ওহহ কল টা বুঝি আপনার কাছে গেছে!! আমি তো সোনিয়া কে কল করতে যাচ্ছিলাম,,,,আচ্ছা রাখি"
"এই না না না,,, সানফ্লাওয়ার,,,প্লিজ কল কাটবে না।"
রুমির পেট ফেটে হাসি আসে।। তাও বলে,,,"কিছু বলবেন?"
জায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ট্রাউজারের পকেটে হাত গুঁজে রুমের মাঝে পায়চারি করতে থাকে।। বলে,,,
"ওয়েল বলার তো অনেক কিছুই আছে। কোথা থেকে শুরু করবো আর কি কি বলবো!! আমি জানি আমায় পোড়াতে ইচ্ছে করে আমার কল রিসিভ করনি।।
কি চাইছো তুমি মেয়ে!! আমি জায়ান কে পুরো পুরি তোমার দহনে ছারখার করবে!?"
রুমি ফিক করে হেসে উঠলো..."যদি বলি আমার ইচ্ছে এর থেকেও খাতারনাক তখন!?'
জায়ান দুষ্টু কন্ঠে বলে,,,"সানফ্লাওয়ার,,, তোমার মাঝে আমি কবেই হারিয়েছি,,,আর কিই বা করবে আমার সাথে!!"
রুমি লজ্জা পেয়ে গেলো। কোনো রকম কথা ঘোরাতে বললো,,,"পুরুষ মানুষদের বিশ্বাস নেই।"
জায়ান ললাট কুঁচকে বললো,,"হোয়াট ডু ইউ মিন বাই দিস!!"
"আরে আপনি দেখুন না! ঘরে সুন্দরী বউ, দুটো ছেলে মেয়ে থাকার শর্তেও তারা বাহিরে মেয়েদের প্রতি ইন্টারেস্ট দেখায়, পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। কিভাবে বিশ্বাস করি!!"
জায়ান এইবার গভীর নিঃশ্বাস ফেলল,,, আসমানের দিকে তাকিয়ে রুমিকে বোঝানোর সুরে বলল,,,"রুমি, এই বিশাল আকাশের ততটুকুই আমরা দেখতে পাই যতটুকু আমাদের আখি মেলে ধরে।। তার মানে কি আসমান এইটুকুই যতটুকু আমরা দেখি!! না,,, আকাশ ছড়িয়ে দূর-দূরান্ত।
ঠিক তেমনি আমাদের চোখের সামনেই যেটা থাকে সেটা নিয়ে পুরো পৃথিবী না।। পৃথিবীটা অনেক অনেক মানুষকে ঘিরে।। তুমি কিন্তু সবাইকে চেনো না।। তাই তুমি যাকে চেন তাকে নিজের মনের মত গড়ে তোল,,, আর আমি সেই চেনা ব্যক্তি যে, তোমার জন্য বদলাতে রাজি।।"
প্রেম, ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আর কি বললে সামনের মানুষটা তোমাকে বিশ্বাস করবে, তোমার ভালোবাসায় অভিভূত হবে,, জানা নেই।। রুমি শুধুই জায়ানের কথা শোনে।। নীরবতা নামলো। শুধু। দুইজনের মাঝে বয়ে গেল এক অদ্ভুত শিহরণ,,,না বলা কথা আর তাদের মৃদু হৃদস্পন্দন।।
------------
(এবার থেকে এরকমই হবে। 500+ লাইক। কমেন্ট এর শেয়ার যোগ তাড়াতাড়ি হবে আমি সেই বুঝেই নিজের হাতের ব্যাথা বাড়িয়ে গল্প লিখবো।।)
আজ কলেজ ফেস্ট। সমাহার লেগেছে ছাত্র-ছাত্রীদের। যাদের সারা বছর কলেজের বাউন্ডারির ধারেকাছেও দেখা যায় না তাদেরকেও আজ দেখা যাচ্ছে সুন্দর পোশাকে,,, উচ্ছ্বাস মনভাবে। আজ বিশেষ দিনে স্টুডেন্ট দের গার্ডিয়ান দেরও আমন্ত্রণ। স্টুডেন্ট লাইফ তারা এখন মন খুলে ইনজয় করছে।। এই জীবন একবার চলে গেলে দ্বীতিয় বার ফিরে আসবে না।।
আসিফা আর রুমি আজ দুইজনেই একই রঙে শাড়ি পড়েছে।। স্টাইল কিছুটা ভিন্ন হলেও শাড়ি পরার ধরনটা পুরোপুরি এক।। খোলা আঁচলে দুই জনকেই অসাধারণ লাগছে।। শাড়ীর রং মেহেরুন।।
আসিফা হিজাব ঠিক করে রুমির দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"কেমন লাগছে আমাকে!?"
রুমি এইবার বেশ বিরক্ত হয়ে বললো,,,"এই নিয়ে ৫০ বার জিজ্ঞাসা করেছিস কেমন লাগছে? আরে ভাই ভালো লাগছে তোকে।। বিশ্বাস না হলে এক্ষুনি আমি আয়াজ ভাইকে ভিডিও কল করে দেখাবো তোকে।"
আসিফা সহসা মাথা নাড়িয়ে বলে,,,," না না না,,,আমার শরম করে।"
রুমি নাক কুঁচকে বললো,,,"আহারে আমার শরমের রানী।।আমি মনে হয় জানি না যে, তুই কতটা লজ্জা পাস আর পাস না।"
"কিন্তু তোর ভাইয়ের সামনে আমি ঠিকই লজ্জা পাই।।"
আসিফার বলার ধরন দেখে রুমি হেসে উঠলো।। কোথাও একটু খারাপ ও লাগলো। দুই পুরুষ আজও এসে পৌঁছবে না বলেছে।
কলেজ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে অনেকক্ষন।। অডিটোরিয়াম তখন পূর্ণ।। ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে কলেজ পাস আউট সিনিয়র এবং স্যার ম্যাডামদের বক্তিতা সাথে উপহার বিতরণ থেকে শুরু করে সমস্ত রকমের আয়োজন চলছে জোড়েশোরে।। সবাই যে যার মতো ইনজয় করছে।।
অনেকক্ষণ সিটে বসে থাকতে থাকতে আসিফা অতিষ্ঠ।। মেয়েটা উঠে দাঁড়িয়ে বলে,,,
"আমি বাহিরে যাবো।"
রুমি ভ্রূ কুচকে বলে,,,"কোথায়!!"
"ক্যাম্পাসে চল,,,এখানে আর ভালো লাগছে না।"
রুমিও না করে না। আসিফা আর সে অডিটোরিয়াম ছাড়ে।। ক্যাম্পাসের মাঠে এসেই রুমি বলে,,,
"আসু আমি ওয়াশরুম থেকে আসছি। তুই এখানেই দাড়া।"
আসিফা মাথা নাড়ায়।। রুমি চলে যায়।। ঘুরতে ঘুরতে আসিফা দেখে একটা কাঠগোলাপ গাছ। গাছের নিচে পড়ে আছে অজস্র গোলাপী আভায় ছিটানো কাঠগোলাপ।। আসিফা সেদিকে আঁচল উড়িয়ে ছুটে যায়।। গাছের নিচে বসে হাঁটু গেঁড়ে,,,পরপর ফুল কুড়িয়ে হাতে নিলো।।
মেয়েটা হঠাৎ কারোর আভাস পেয়ে চমকে যায়।।
আচানক বুক ঢিপঢিপ করতে শুরু করে মেয়েটার।
অন্তরে কেমন চুইমুই হচ্ছে।। সে এলো কি!! আরে না না,,,সে তো সুদূরে।। তাহলে এরকম অনুভূতির কারণ কি!! আসিফা প্রজাপতি উড়িয়ে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো। কি এক অমোঘ আকর্ষণ মেয়েটার মাঝে।। নাহ তার ভাবনা ভুল নয়, এটা তার প্রণয় পুরুষ।।
আসিফা অস্থির হয়ে উঠলো।। আয়াজ প্যান্টের পকেটে এক হাত পুরে টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অন্য হাতে জারবেরা ফুল।। আসিফা কে দেখছে ছেলেটা চোখ জুড়িয়ে।। এই পাঁচদিন তার যে কি ভাবে কেটেছে আল্লাহ ভালো জানেন। আসিফা অবাকতা কাটে আয়াজ এর আলতো ছোঁয়ায়।। ছেলেটা মেয়েটার গাল ছুঁয়েছে।। আসিফা অমনি জড়িয়ে ধরলো তার স্বামী কে।।
আয়াজ হেসে ফেলে। ওর পিঠে হাত রেখে বলল,,,"এরকম করলে কিন্তু আমি এখানেই কিস করে ফেলব আসু। আই মিস ইউ এ লট।"
আসিফা লজ্জা পেয়ে সরে আসতে নিলেই আয়াজ ওকে আটকে বলে,,,"আরে চিল,,,করবো না কিছু। এই প্রথম আমায় নিজ থেকে জড়িয়ে ধরলে,, একটু উপভোগ করতে দাও।"
আসিফা সেভাবেই রইলো। বলল,,,"কেউ দেখে ফেলবে এটা কলেজ,,,"
আয়াজ রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে বললো,,,"হুমম কলেজ!! বেড রুম নয়।"
শেষের কথাটায় আফশোস ঝরে পড়ল। আসিফা লাজুক হেসে আয়াজ এর দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"আপনাদের না কাল আসার কথা ছিলো!!"
"কাল আসলে আজ তোমার এই চমক দেখতাম কি করে!"
আসিফা চোখ ছোটো ছোটো করে বলে,,,"তার মানে মিথ্যে বলেছিলেন!!"
আয়াজ মাথা নাড়ায়। আসিফা জারবেরা ফুল গুলো হাতে নিয়ে বললো,,,"দাভাই কোথায়?"
আয়াজ এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলো,,,"এখানে কোথাও আছে হয়তো।। আসু শোননা,,, খিদে পাচ্ছে।"
আসিফা ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,,,"ক্যান্টিন এর খাওয়া চলবে!"
"দৌড়াবে"
আসিফা হেসে ওর হাত টেনে নিয়ে যেতে লাগলো ক্যান্টিং এর দিকে।। আয়াজ পুরো ক্যাম্পের ভালো করে পরখ করে দেখতে দেখতে বললো,,,
"বাহ্ তোমাদের কলেজ তো অনেক সুন্দর,,, এনভায়রনমেন্ট ভীষণ রুচিশীল। এত বড় গ্রাউন্ড,,,ঝিল,,,বসার জায়গা বাহ্।"
"কেনো আপনাদের কলেজে ছিল না এমন!?"
"নাহ,,,শুধু বড় বড় বিল্ডিং আর প্লে রুম ছিল,,, এখানে তিন বছর ইনজিয়ারিং স্টাডির পর দেশের বাহিরে হায়ার এডুকেশন এর জন্য গেলাম,,,পড়াশোনার চাপে কিছুই উপভোগ করা হয়নি।।"
"তাহলে আজ উপভোগ করে নিন,,,আমার সাথে।"
আয়াজ বেশ উচ্ছ্বাস ভঙ্গীতে বললো,,,"ওকে,,লেটস গো।"
অপরদিকে রুমি ওয়াশরুম শেষে ক্যাম্পাসের দিকে আসছিল। ঠিক তখনই দেখা হয় কাফিল স্যার এর সহিত।। রুমি মিষ্টি হাসি দিয়ে সালাম করে। কাফিল উত্তর দিয়ে বলল,,,
"রুমি,,,তুমি এখানে!!"
"আসলে স্যার,,,আমি ওয়াশরুম গিয়েছিলাম। এমনিতেও আমার বান্ধবী আসিফা আছে ক্যাম্পাসে।।"
কাফিল হালকা হেসে বলে,,,"ওহহ আচ্ছা,,,অনুষ্ঠান কেমন লাগছে!! নাকি বোরিং?"
রুমি বলে,,,"ভালো লাগছে স্যার,,,কিন্তু অনেকক্ষন বসে থাকার কারণে উঠে এসেছি।"
"ওহহ আচ্ছা,,,রুমি তোমায় কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারি!! মাইন্ড করবে না!"
রুমি ভ্রূ কুচকে বলে,,,"নাহ স্যার বলুন।"
কাফিল এইবার নড়েচড়ে দাঁড়ালো। ছেলেটা কিছুটা নার্ভাস। এই মেয়েটাকে তার পছন্দ অনেক দিন ধরেই। মেয়েটার সমস্ত মুভমেন্ট কাফিল কে আরো বেশি করে ওর প্রতি আকর্ষিত করে।। কিন্তু কাফিল কোনো রকম বাড়াবাড়ি করতে চায়। চায় না মেয়েটা তাকে ভুল বুঝুক।। কি ভাবে কথা শুরু করবে আর কি কি বলবে!! কাফিল সিদ্ধান্ত নেয় সে সোজা রুমির বাবার নিকট বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে যাবে।। তখন তো আর সে রুমির স্যার নয়।। কাফিল কিছুটা গলা কেশে উঠে বলে,,,
"আসলে...তোমার...তোমার বাবা..."
রুমি বুঝতে না পেরে ভ্রু কুঞ্চিত করে বলল,,,"আমার বাবা!"
"নাহ মানে তোমার বাবার...নাম্বার টা পেতে পারি।"
রুমি সামান্য হেসে বলে,,,"নাম্বার! অবশ্যই পেতে পারেন! কিন্তু কেনো?"
কাফিল এবার দ্বন্দ্বে পড়ে। কি বলবে!
"কেনো! মানে...ওই কাজ ছিলো কিছু। কন্ত্রাকশন বিষয়ে আর কি..."
রুমি ঠোঁট ঠোঁট গোল করে বলে,,,"ও ও বুঝেছি,,,আচ্ছা নিন স্যার নাম্বার।"
রুমি ফোন অন করে নাম্বার বের করে। কাফিল এই ফাঁকে রুমির কিছুটা সান্নিধ্যে আসে। সেও ফোনের দিকে তাকানোর ভঙ্গি করে রুমির দিকে তাকিয়ে রইলো।। ইসস,,,আজ মেয়েটা কে অপূর্ব সুন্দরী লাগছে।। কাফিল চোখ ভরে মেয়েটাকে দেখে।। রুমি নাম্বার পেয়ে যায়। মাথা তুলে কাফিল কে কাছাকাছি দেখে ভরকে গিয়ে দুই কদম পিছিয়ে হাসার চেষ্টা করে বলে,,,
"আসলে আব্বুর নতুন নাম্বার টা আমার মুখস্ত নেই তাই খুঁজলাম,,,,আপনি লিখুন।"
কাফিল তাড়াহুড়ো করে ফোন বের করে রুমির বলা নাম্বার লিখতে থাকে।। এদিকে তাদের এই সমস্ত দৃশ্য দূরে দাঁড়িয়ে থাকা জায়ান দেখছে। ছেলেটার চোখ লাল হয়ে গেছে। হাতের মুঠোয় থাকা সূর্যমুখী ফুলের গোছা পিষে ফেললো ছেলেটা। সে পারে না কাফিল এর গলা মুছড়ে নদীতে ছুঁড়ে ফেলতে।। চোয়াল শক্ত। তার প্রশস্থ দেহ রাগে থরথর করে কাপছে।। গরম প্রশ্বাস যেনো আঁচড়ে পড়ছে।। জায়ান ক্রোধে ফুলের তোড়া টা ছুঁড়ে ফেলে ডাস্টবিন এ। ঠিক সেই মুহূর্তেই রুমি জায়ান কে দেখে।।
মেয়েটা জায়ান কে দেখে যত না খুশি হয় তার থেকেও বেশি আতঙ্কিত হয় দেখেতার অগ্নিশর্মা রূপে।। রুমির বুক ঢিপঢিপ করতে শুরু করে।। দেখা যাচ্ছে ডাস্টবিনে পড়ে থাকা ফুল।। রুমি দেরি না করেই কাফিল এর থেকে বিদায় নিয়ে দৌড়ে জায়ান এর নিকট আসে।। জায়ান দেখে,,,এক উষসী নারী তার শাড়ীর আঁচল বাতাসে উড়িয়ে ছুটে আসছে তার দিকেই।। মেয়েটার মাসুম চেহারা দেখে কি আর রাগ করা যায়!! কিন্তু জায়ান তাও নিজের মাঝে ক্রোধ পুষে রাখে।। রুমি জায়ান এর সামনে দাড়িয়ে হাঁফিয়ে শ্বাস টেনে বললো,,,
"আপনি....আপনি কখন এলেন?"
জায়ান হিশহিশিয়ে বললো,,,"কেনো.. আমি এসে কি তোমাদের মাঝে ডিস্টার্ব ক্রিয়েট করলাম!!"
রুমি ভ্রূ কুচকে বলে,,,"জায়ান...ভুল ভাবছেন! স্যার তো শুধু,,,"
জায়ান এইবার রাগে ফেটে পড়ে। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে মেয়েটার দিকে ঝুঁকে সামান্য চিৎকার করে বলে,,,,
"স্যার স্যার স্যার!! যখনই দেখি ওই বা*লের স্যার এর সাথে চিপকে থাকো!! ও সাহস পায় কি করে তোমার ওতো কাছাকাছি আসার! স্যার,,, স্যার এর মত থাকতে পারে না! শা*লা হারা*মজাদা। আমায় বোঝাও তুমি! আমায় কি পাগল মনে হয়! কিছু বুঝি না!"
রুমি ও এইবার তেঁতে উঠলো।। এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখলো সেরকম কেউ নেই।। রুমি আর কথা বাড়ায় না শুধু বলে,,,
"আপনি কখনোই বদলাবেন না।"
বলেই রুমি বড় বড় পা ফেলে ক্যাম্পাসের দিকে যায়। জায়ান রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে রুমির পিছে পিছে আসে। একটা সময় ঝিল পাড়ে এসে জায়ান রুমির হাত ধরে টান মারে নিজের দিকে। চোখের পলকেই দুই পৃথক দেহ একে অপরের সহিত মিশে যায়। জায়ান নিজের ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজের দানবীয় হাত রুমির শাড়ীর আড়ালে উন্মুক্ত কোমড়ে চেপে ধরে।। রুমি ব্যাথা পেলেও নিজের আহত গভীর আঁখি জোড়া নিক্ষেপ করলো জায়ান এর উপর।। জায়ান এর সেদিকে লক্ষ্য কোথায়! সে নিজের রাগের আঙিনায়।। মেয়েটা আরো নিজের দিকে টেনে বলে,,,
"বোঝোনা কেনো তুমি! কেনো আমায় এই ভাবে তড়পাচ্ছো। তোমার ওই সো কোল্ড স্যার তোমাকে কোন নজরে দেখে তুমি জানো না!! আমি ওর চোখে সেই অনুভূতি দেখতে পাই যা আমি তোমার জন্য নিজের চোখে অনুভব করি।।"
রুমি জায়ান এর কথা চুপচাপ শোনে। সে এই বিষয়ে কথা বলতে চায় না। তাই নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলে,,,
"জায়ান এটা ক্যাম্পাস,,,কেউ দেখে ফেলবে।"
"দেখুক,,,"
"ব্যাথা পাচ্ছি আমি,,,লাগছে আমার"
"এই ব্যাথায় এমন অতিষ্ঠ!! আমি যে এই বুকের বাম পাশে ব্যাথা পাচ্ছি সেটা বুঝতে পারো না!!
কেনো আমায় দুটো সুখের মুহূর্ত উপহার দিয়ে কষ্টের পাহাড় আমার দিকে ঠেলে দাও!!
তোমার কি আমার সুখ সহ্য হয় না!!"
রুমি এইবার পূর্ণ দৃষ্টি মেলে দেখলো জায়ান কে। অতপর খুবই সূক্ষ্মতার সহিত বললো,,,
"মন থেকে চাই দুনিয়ার সকল সুখ যেন আল্লাহ আপনার নামে করে দেয় কিন্তু সেই সুখের মধ্যে কোথাও যেন আমি না থাকি।"
রুমির বলা এই কথা যেনো জায়ান এর অন্তর পর্যন্ত নাড়িয়ে তুলল। মেয়েটা এরকম বললো কেনো!! কেনো তার কথা দিয়ে জায়ান এর ভিতরটা ঝাঁঝরা করে দিলো। জায়ান এর রাগ যেন মুহূর্তেই মধ্যেই গোলে পানি হয়ে গেলো। তার হাতের ছোঁয়া এবার নরম হয়ে এলো।। দুই হাতে ওকে পেঁচিয়ে চোঁখে চোখ রেখে মিহিয়ে যাওয়া সুরে বলল,,,
"তুমি থাকবে না তো কে থাকবে!?"
রুমি নারাজ কন্ঠে বলে,,,"জানি না। যাকে ইচ্ছা রাখুন আপনার কাছে,,,আমায় ছাড়ুন।"
জায়ান এইবার ক্ষীণ হেসে বলল,,,"তোমাকে ছাড়বো বলে তো ধরিনি...সূর্যমুখী।।"
"আমি আপনার কেউ না,,,আপনার কাছে আপনার রাগ সবার উপরে।"
জায়ান দেখে মেয়েটার অভিমান।। ছেলেটা ঠোঁট কামড়িয়ে হেসে বলল,,,
"মোটেও না।। আমাকে রাগিয়ে দেওয়ার মত কাজ করো কেনো তুমি!"
রুমি ভেংচি কেটে বলে,,,"কি এমন করি! কাফিল স্যার উবজে কথা বলতে এসেছিল। কি করতাম! মুখ ফিরিয়ে চলে আসতাম!? ওটা আমাদের স্যার জায়ান।"
জায়ান চোখ বন্ধ করে রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে,,,রুমি কে বোঝানোর সুরে বললো,,,"কখনো ভেবে দেখেছো কাফিল তোমার সাথেই কেনো আগবাড়িয়ে কথা বলে! কেনো তোমার সাথেই কথা বললে ওই চোখ চমকায়।। রুমি,,,আমি একটা ছেলে হয়ে অন্য ছেলের অনুভূতি বুঝতে পারি।। ও তোমায় পছন্দ করে! এটাও বুঝোনো তুমি!"
রুমি এইবার চুপ। হ্যাঁ সে কাফিলের কিছু জিনিস খেয়াল করেছে কিন্তু কখনোই সে গুলি নিয়ে বেশি ভাবেনি।। কারণ কাফিল ভীষণ ডিসেন্ট একটা ছেলে।। কভু রুমির সাথে খারাপ আচরণ করেনি।।
জায়ান রুমি গালে হাত রাখে আদুরে ভাবে। বলে,,,
"ওর থেকে দূরে থাকবে,,,এটা আমার হুমকি ভাব বা আবদার। আই ডোন্ট কেয়ার।"
রুমি নীরব। জায়ান এইবার খানিক মাতাল হলো। আজ মেয়েটার আবেদনময়ী রূপ জায়ান এর মধ্যে কলরব সৃষ্টি করলো।। নিজের বৃদ্ধা আঙ্গুন রাখে রুমি হালকা গোলাপি অধরে। সেথায় আঙুলের ঘষা দিতে দিতে হাস্কি কন্ঠে বলল,,,
"এই ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে কথা বলো স্টুপিট। আমায় আর রাগীয় না।। কোথায় ভাবলাম হঠাৎ করে তোমার সামনে দাড়িয়ে সারপ্রাইজ দেবো। কিন্তু তুমি!!"
রুমির চিকন শরীর সাপের মত ঠান্ডা হয়ে এলো জায়ান এর এহেন ছোঁয়ায়।। বুকের ভিতর হরতাল হলো যেনো।। নিজেকে কোনো রকম সামলে জায়ান এর থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে গিয়ে বলে,,,
"মাথা গরম হলে এই ঝিলে ডুবে বসে থাকুন,,,মাথা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।"
জায়ান ছোটো ছোটো চোখ করে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার দিকে।। মাথায় খেলে গেলো দুষ্টু বুদ্ধি।
চোখের পলকে রুমির কে ঘুরিয়ে ওর হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ঝিলের কিনারে দাঁড় করায়। অবস্থা এমন যে,,, জায়ান রুমির হাত ছেড়ে দিলেই রুমি সোজা ঝিলে পড়বে।। এদিকে রুমি ভয়ে কাহিল। সে এক বার মাথা ঘুরিয়ে পিছে ঝিলের দিকে তাকিয়ে ত্বরিত জায়ান এর দিকে তাকালো।।ছেলেটা দুষ্টু হাসছে।। রুমির জান ঠান্ডা হয়ে এলো।। সে অতি কষ্টে তুতলিয়ে বললো,,,
"জা...জায়ান,,,ক...কি করছেন।। প্লিজ,,,হাত ছাড়বেন না!!"
জায়ান চ চ শব্দ তুলে বলে,,,"কেনো!! রুমি রানি ভয় পায় নাকি,,,আমি তো জানি রুমি সাহসী!"
"জা...জায়ান।"
"আচ্ছা আমার নাম ফোনে কি যেনো সেভ করে রেখেছো! হট টেমপার্ড,,,রাইট!! আরো মনে পড়ছে,,,আমি জিরাফ!! তারউপর এত দিন আমার কল রিসিভ করনি,,,আমায় বিরক্ত করতে তোমার খুব ভালো লাগে তাই না!!"
জায়ান সমস্ত কথা গুলি বলে মজার ছলে।। কিন্তু রুমির সেদিকে গুরুত্ব নেই,,, ও ভয়েই শেষ।। সে শুধুই জায়ান কে আকুতি স্বরে বলল,,,
"জায়ান এমন মজা করবেন না!! আমার হাত ছাড়বেন না,,,,আমি...আমি সাঁতার...."
রুমির বাক্য শেষ হওয়ায় পূর্বে জায়ান এর ফোন বেজে উঠলো।। জায়ান পকেট থেকে মোবাইল টা বের করে দেখে একবার। অতপর রুমির দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমি ভরা হাসি ফুটিয়ে তুলে বলে,,,
"তোমার হাত আমি কখনোই ছাড়বো না,,,কিন্তু আপাতত তুমি একটু এখানে সাঁতার কাটো,,,ততক্ষণ আমি তোমার সো কল্ড কাফিল স্যার কে ডেকে নিয়ে আসছি।"
বলেই জায়ান রুমির হাত ছেড়ে দেয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রুমি পড়ে ঝিলের পানিতে।। জায়ান কল এটেন্ট করতে চলে যায়।। ছেলেটা ভাবে কল শেষেই সে রুমি কে নিয়ে সোজা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবে।। মেয়েটা ভেজা শরীরে নিশ্চই এখানে আর থাকবে না।। আর না জায়ান ওকে আর এখানে থাকতে দেবে।।
-------------
পরপর তিনচারটি হিচকি উঠলো আয়াজ এর।। ছেলেটার কপাল মুহূর্তেই ঘেমে উঠলো।। অস্থির লাগছে তার। বুকের ভেতর কেমন একটা আনচান ভাব।। তারা এখন ক্যানটিং এ বসে। আসিফা আর সে বেশ অনেক্ষণ নিজেদের মাঝে সুন্দর সময় কাটিয়েছে।। আসিফা তার কলেজ স্যার ম্যাম দের সাথেও আয়াজ এর পরিচয় করিয়েছে।। তাদের সাথে কথা বলার শেষে আয়াজ এর কলেজের জন্য কিছু ডোনেশন ও দিয়েছে।। অতপর তারা প্লে রুমে ইনজয় করেছে।। আয়াজ আজ যেনো আবারো নিজের কলেজ জীবন উপভোগ করলো।। আর এখন তারা ক্যানটিং এ।। খাওয়ার মাঝেই ছেলেটার এমন আচরণে আসিফা ঘাবড়ে যায়।।
মেয়েটা উঠে আয়াজ এর পাশে দাঁড়িয়ে পানি এগিয়ে দেয়।। পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বলে,,,
"আপনি ঠিক আছেন!?"
আয়াজ ভারী নিশ্বাস টেনে বলে,,,"আসু,,,হঠাৎ কেমন অস্থির লাগছে।।"
আসিফা চিন্তিত হয়ে বললো,,,"চলুন আপনার রেস্ট এর প্রয়োজন। বাড়ি যাই আমরা।"
আয়াজ দ্বিরুক্তি করে না। দাড়াতেই ওর মাথায় আসে রুমির কথা। আসিফা কে প্রশ্ন করে,,,"বনু কোথায় আসু!"
"ক্যাম্পাসে ছিলো তো,,,চলুন খুঁজে আসি।।"
আয়াজ আর কথা বাড়ায় না। সে একপ্রকার ছুটে বেরিয়ে এল।। ওর মন টানছে খুব।। কেনো মনে হচ্ছে ওর কলিজার এক অংশে ব্যাথা হচ্ছে।।
°রুমি মেয়েটা সময় সাপেক্ষে সাহসী বটে।
হক কথা বলতে দ্বিধা নেই তার।।সে কারো মুখাপেক্ষী নয়। কিন্তু কিছু সীমাবদ্ধতা তারও আছে। সেই সীমাবদ্ধতার ভেতরেই আছে একটা গভীর, অস্পষ্ট ভয়... পানির ভয়।
ছোটো বেলায় একবার সে পুকুরে ডুবে গেছিল,,,সেটাই তার শেষ পুকুরের ধারে কাছে যাওয়া। সেদিন সে মৃত্যু কে একদম কাছ থেকে দেখেছিল। কেঁদেছিল ভয়ে,, জড়িয়ে ধরেছিল বাবা কে। তারপর সে আর কখনোই গভীর পানিতে নামেনি। তার বাড়ির মানুষ আর আপনজন এই কথা জানে।। কিন্তু জায়ান সে এব্যাপারে অজ্ঞ।।
পানিতে পড়ার মুহূর্তে, রুমি যেন পৃথিবীর সমস্ত শব্দ এক নিমিষে হারিয়ে ফেলল। চোখে জল, মুখে জল, নিশ্বাসে জল।পানিতে পড়ার পরপরই রুমি ঝাপাতে লাগলো।সে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছিল ভেসে থাকার। দুই হাত ছুঁড়ে, দুই পা নেড়ে সে চাইছিল উপরে উঠতে কিন্তু শরীর ভিজে শাড়ির ওজনে ভারী হয়ে গেছে। পায়ে জড়িয়ে পড়া কাপড় যেন এক নিষ্ঠুর শিকল। যা ধীরে ধীরে ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অতলে।।
নিজেকে ভাসিয়ে রাখার চেষ্টায় অটল হওয়ার চেষ্টা করলো মেয়েটা।। কিন্তু সেটা তার দ্বারা সম্ভব হয়নি। পানি মুখের ভেতর প্রবেশ করছে,,, শ্বাস আটকে আসছে।। চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে মেয়েটার। সে যেন চিৎকার দেয়ার ক্ষমতা টুকু হারিয়ে ফেলেছে।। তার ঝাপসা দৃষ্টি শুধু খুজ্জে কাউকে। কেউ আসুক,,,আর তাকে বাঁচিয়ে নিক। তাঁর বাবা কোথায়! তিনি তাকে ছোট বেলার মতন কেনো বাঁচিয়ে নিচ্ছেন না! কেনো আসছেন না তিনি?
কিন্তু কোথাও কেউ নেই। কেউ আসলো না রুমি কে বাঁচাতে।। আজ রুমি বুঝলো,,, বেঁচে থাকার ইচ্ছে কতটা মূল্যবান। এই প্রাণ কতটা কিমতি।।
রুমির শাড়ি ওর শরীর টাকে জড়িয়ে নিয়েছে। পায়ের সাথে শাড়ি আটকে যাওয়ার জন্য নিজেকে আর পানিতে ভাসিয়ে রাখতে পারছে না।। রুমি সেই মুহূর্তেই কেঁদে উঠলো। নিঃশব্দ কান্না। রুমি পানিতে ডুব দিয়ে নিজের পায়ের থেকে শাড়ি ছুটানোর চেষ্টা করলে ওর কপাল গিয়ে আঘাত লাগে পানির ভিতরে থাকা পাথরে। আচানক অকাঙ্খিত চোট রুমি হুস হারালো।পানির রং ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠছে। রক্তে রঞ্জিত হয় ঝিলের জল।
চোখ মুদে আসছে । রুমি ধীরে ধীরে নিজের চোখের সামনে দেখতে পায় জায়ান এর হাস্যোজ্জ্বল চেহারা। আসিফা আর আয়াজ এর চঞ্চলতা।। তাদের সাথে কাটানো সমস্ত মুহূর্ত গুলি যেনো আরশির মত ওর সামনে হাজির হয়।।
কপালের ব্যাথায় শরীর ছেড়ে আসছে আসছে।। পা নাড়াতে কষ্ট হচ্ছে। দেহ অবস হয়ে তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। পানি ও আজ অতি ভালবাসার সহিত ওই চিকন দেহ নিজের মাঝে টেনে নিতে চাইছে।। রুমি চোখ বন্ধ করার আগে মনে মনে শুনতে পায় নিজের অন্তিম স্বীকারোক্তি একটি অব্যক্ত প্রেমের শেষ ভাষ্য। যা শুধুই অনুভব করা যায়,,,মুখে প্রকাশ নয়।।
' মৃত্যু অনিবার্য জায়ান,,,কিন্তু আফসোস একটাই আমার এই মৃত্যুর জন্য আপনি আজীবন নিজেকে দায়ী করবেন।। আমি বলছি জায়ান আপনি নির্দোষ,,,,
এত ছোট জীবন কেনো পেলাম জায়ান!! এই জীবনে আপনার সাথে আমার সংসার হলো না। বলা হলো না,,, ভালোবাসি জায়ান।। একটা নীরব রাস্তায় হাঁটা হলো না,,,একটা প্রণয়ময় রজনী এলো না আমাদের!! এক প্রেমময় নিশি'তে আপনার বুকে মথা রাখা হলো না! কেনো জায়ান??
আমিও আপনার,,শুধুই আপনার।"
বাক্য গুলো কেঁউ শুনলো না। কেউ জানলো না।ধীরে ধীরে পানি নিস্তব্ধ হয়ে এলো।। এতক্ষণ কেউ এই পানির মাঝে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল তাহ যেনো মুহূর্তেই চুপ হয়ে গেলো।।
পৃথিবীর মানুষ মেহমান। তারা এখানে থাকতে আসে না।।
পানির নিচে এক নিঃশব্দ কান্না থেমে যায়।
রক্তে ভেসে থাকা শাড়ির আঁচলে জড়িয়ে থাকে রুমির সমস্ত অপূর্ণ প্রেম। একটা বেলাশেষের গল্প যেখানে চিঠি লেখা হয় না, কিন্তু হৃদয় বলে যায় সব কথা।
------------
আয়াজ আর আসিফা উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে চলেছে কলেজের এই মাথা থেকে ওই মাথা। রুমির খোঁজ মেলেনি এখনো। আয়াজ এর মধ্যে একটা অস্থির ভাব,,যা বেড়েই চলেছে।। যাকেই জিজ্ঞাসা করছে তারাই বলছে যে,তারা রুমিকে দেখেনি।। সব শেষে ওরা দুই জন কলেজ গেটের কাছে আসে, বুক পানি ফিরে পেয়ে দেখতে পায় জায়ান কে।। ছেলেটা ফোন কলে ব্যাস্ত। কোনো গুরুত্বপূর্ণ কোথায় মসগুল ছেলেটা।। আসিফা দৌড়ে জায়ান কে জাপটে ধরে। জায়ান মিষ্টি হেসে বলে,,,
"আসু,,,"
আসিফা সব কিছু বাদ দিয়ে একটাই প্রশ্ন করে,,,"দাভাই,,,রুমি কে দেখেছো?"
জায়ান বোনের স্কার্ফ ঠিক করে দিতে দিতে বলে,,,"দেখ কোথাও সাঁতার কাটছে হয়তো।"
আসিফা গোমরা মুখ করে বলে,,,"মজা করো না দাভাই,,,,রুমি সাঁতার কাটতে পারে না।। ইভেন ও পুকুরে পা ভিজানো ছাড়া গভীরেও যায় না।।"
কোথাও যেনো বিজলী চমকালো জোরদার।। কোথায়! জায়ান এর হৃদয়ে।। আসিফা কি বললো!! জায়ান এর হাত থেকে ফোন পড়ে সহসা। ছেলেটা আর নিজের মাঝে রইলো না।। তুফান বইলো যেনো জায়ান এর হৃদয় সাম্রাজ্যে। যেখানের রানি তার রুমি। জায়ান অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মাধ্যম। জায়ান এর প্রথম আবেগ,অনুভূতি। জায়ান এর ভালোবাসা।। জায়ান কেনো জানে না নিজের রুমির বিষয়ে সব কিছু! কেনো তাদের মাঝে বছরের পর বছর দুরত্ব ছিল! কেনো?
গলা তার শুকিয়ে কাঠ।
সে কি করলো এটা!! সে কি ভাবে পারল এমন একটা পাপ করতে!! নিজের হাতে সব শেষ করার পথ বানিয়ে দিলো!! রুমি তার রুমি কোথায়! যেখানে সে দুষ্টুমির ছলে তাকে ফেলে রেখে এসেছিলো! ভেবেছিল পরে মেয়েটার রাগ অভিমান ভাঙিয়ে দেবে,,,আলতো আদর দিয়ে দেবে সেই ভেজা ললাটে।।
জায়ান এর সর্ব দেহ কাপতে লাগলো।। সে উন্মাদ হয়ে ছুট লাগালো।। ইতি মধ্যে ঝিলের আশেপাশে কিছু ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় জমেছে।।
জায়ান চিৎকার করে রুমি রুমি ডাকতে ডাকতে পাগলের মত ছুটে গেলো।। চোখের পলকে পানিতে ঝাঁপ দিলো।। হায় আল্লাহ,,,পানিতে রক্ত! এটা কার রক্ত! তার রুমির!! নাহ নাহ,,,,তার রুমি বেঁচে আছে!
জায়ান আর ভাবতে পারছে না। ওর মস্তিষ্ক অচল হলো। পানি মধ্যে সাঁতার কেটে খুজতে লাগল রুমি কে।। একটা সময় সবার দৃষ্টি আকর্ষন হেনে জায়ান অবচেতন,নিথর,,,রক্তে রঞ্জিত রুমি কে তুলে নিয়ে আসলো।।
ঘাসের উপর ওকে শুইয়ে পাগলদের মত ডাকতে লাগলো রুমি কে।। গালে হাত রেখে,কখনও মাথায় হাত বুলিয়ে মেয়েটাকে ডাকতে লাগলো।। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আয়াজ ধপ করে মাটিতে বসে পড়ে। আসিফা কেঁদে উঠে দৌড়ে যায়।। তার বাঁধাকবি এটা,,,তার এক মাত্র বান্ধবী।
জায়ান এর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে। সে ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে শুধুই এক নাগারে ডেকে চলেছে অবচেতন রুমি কে। দুর থেকে কেউ দেখলে মনে হবে এই ছেলে মানসিক রোগী।। জায়ান সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটা ছাত্র ছাত্রীদের দিকে তাকিয়ে উন্মাদের মত বলে,,,
"ও তোমাদের ফ্রেন্ড না! ওকে বল উঠতে। ও শুধু ভিজে গেছে,,, এই আসু ওকে বল না উঠতে,,,এই ভাবে আমাকে কষ্ট দিচ্ছে কেনো ও!"
রুমির দুই কাঁধ ধরে ঝাকাতে ঝাকাতে জায়ান এইবার রুমির ঠোঁটের মাঝে ঠোঁট ছুঁইয়ে সিপিআর দিতে থাকে। প্রেয়সীর জীবন বাঁচানোর আখড়ি চেষ্টা।
কী আশ্চর্য!এতটা কাছাকাছি আসা, এতটা সান্নিধ্য...কিন্তু কী নির্মম পরিস্থিতি!যেখানে একজন উন্মাদপ্রায় ভালোবাসায় পাগল, আর অন্যজন নিথর নিস্পন্দ। জায়ান রুমির গালে আলতো চাপড় দিয়ে বলতে থাকে,,,,
"এই তুমি ওঠো না। প্লিজ ওঠো। মজা করছো তাই না!! আমি...আমি ভালোবাসি তো! কাকে বলব এটা! কে শুনবে!! এই রুমি,,,আমার সূর্যমুখী,,,তাকাও একবার তাকাও আমার দিকে,,,দেখো না একবার।।"
জায়ান এর পুরুষলী কান্নার মাঝে আপন প্রেয়সীকে এই ভাবে ডেকে তোলার মুহূর্ত দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই কেঁদে উঠলো।। জায়ান রুমিকে বুকে জড়িয়ে দূরে ঘাসের উপর বসে থাকা অস্তিত্ব হীন আয়াজ এর দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো,,,
" আয়াজ,,,রুমি কথা বলে না আয়াজ। ওকে বল কথা বলতে,,,, আয়াজ আমি মরে যাবো,,,ওকে বল না কিছু,,,,তোর কথা তো শোনে বল,,,,,"
দুনিয়া যেনো নিমিষেই পাল্টে গেলো সবার।। পৃথিবীর সমস্ত সুখ দূরে দাঁড়িয়ে তাদের দেখছে আর দুঃখ গুলি ওদের জড়িয়ে নিয়েছে।। আজ দুই ভালোবাসার মানুষ সবচেয়ে কাছে থেকেও যোজন দূরে। রুমির আশেপাশে নিশ্বাসের মেলা কিন্তু রুমি নিঃশ্বাস নিচ্ছে না।।
-------------
বর্তমান.....
হসপিলাটের পরিবেশ গুমোট।। চলছে কালের এক নিষ্ঠুর পরিহাস।শুষ্ক বাতাস, আর করিডোরে চাপা পদচারণার। যেখানে সময় থমকে গেছে, নিঃশ্বাস আটকে আছে, আর প্রার্থনাগুলো আকাশ ছুঁতে চেয়েও হোঁচট খাচ্ছে।
নির্বাক দেয়ালগুলো পর্যন্ত আজ শোক জানাচ্ছে।
মনের গভীরে জমে থাকা আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষা যেনো প্রতিটি হৃদয়কে চেপে ধরেছে।
কারো চোখে জল, কারো ঠোঁটে প্রার্থনার ফিসফাস।
একটা জীবন এখন মৃত্যুর কিনারায় দাঁড়িয়ে।
রুমিকে দ্রুত স্ট্রেচারে করে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ডাক্তারেরা চিৎকার করছে, নার্সেরা দৌড়াচ্ছে, টানা অক্সিজেন ও মনিটরিং চলছে।
রুমির নিথর শরীরের চারপাশে যেন যুদ্ধ চলছে একপ্রকার। জীবনকে মৃত্যুর কাছ থেকে ছিনিয়ে আনার যুদ্ধ।।
স্ট্রেচারের পাশে পাগলের মতো ছুটে চলেছে জায়ান। তার মুখে একটাই কথা...
"ওর কিছু হবে না, ওর কিছু হতে পারে না!"
আসিফার চোখে অশ্রু, ঠোঁটে শুধু ফিসফিসে দোয়া,,"ইয়া আল্লাহ্,,," এর পর রুদ্ধশ্বাস।
আয়াজ চুপচাপ। তার হাত থেকে সেই ছোটো রুমির হাত যেনো ছুটে যাচ্ছে। সে ধরতে চেয়েও পারছে না।। মাথা নিচু করে বসে আছে। ওর হাত সব পুরো দেহটাই কাঁপছে, বুক ফেঁটে কান্না আসছে, কিন্তু ছেলেটা নিজেকে শক্ত রাখছে। হঠাৎ সে মুখ তুলে বলে...
"আসু,,,আমায় একটু জড়িয়ে ধরো।।"
আসিফা এইবার ডুকরে কেঁদে উঠলো। দ্রুত আয়াজ কে জড়িয়ে ধরলো। আয়াজ অবচেতন মন আওরালো,,,,
"গাড়িতে ওর ফেভারিট চকলেট রাখা আছে আসু,,,সেটা এবার কে খাবে!?"
আসিফা ঠোঁট চেপে কান্না করে। আয়াজ এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে মেয়েটা।। সে দেখে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা তার ভাই জায়ান কে।। ছেলেটা একা একা কথা বলছে। মাথার চুল চেপে ধরে আছে সে। আসিফা চোখ বুজে ফেলে। সব কিছু স্বপ্ন হোক। একটা দুঃস্বপ্ন।।
অপারেশন থিয়েটারের লাল বাতিটা জ্বলছে।
সময় থেমে গেছে যেনো। জায়ান ওটির দরজার ঠিক সামনে মাথা ঠেকিয়ে বসে আছে।
তার ঠোঁট কাঁপছে, চোখ বুঁজে শুধু প্রার্থনা করছে।
" আল্লাহ…ওকে ফিরিয়া দাও। একবার,,,আমি ওকে বুকে জড়িয়ে রাখবো"
হাসপাতালের দেয়ালগুলোও যেনো সেই প্রার্থনা শুনতে পাচ্ছে। চারদিকের নিস্তব্ধতা ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে একটাই শব্দ"রুমি।"
খান এবং শেখ বাড়ির সবাই হাজির হয় হাসপাতালে।। রাফাজ দ্রুত পায়ে আয়াজ এর সামনে দাঁড়ায়।। রাফাজ এর চোখ লাল। যেনো অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে রেখেছে। তিনি আয়াজ দেখে বলল,,,
"কি ভাবে হলো এটা!?"
আয়াজ ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে বলে,,,"আমি জানি না চাচু"
আসমা সুলতানা অজ্ঞান। তার জ্ঞান ফেরার সাথে সাথেই রুমি কে খুঁজে,না পেয়ে আবার অজ্ঞান হয়।
আয়নাম সাহেব দূরে দাঁড়িয়ে।। তাঁর সমস্ত চিন্তা শক্তি যেনো গুম হয়ে গেছে কোথাও। হিমশীতল তার চেহারা। জীবনে কত ঝড় ঝাপটা সামলেছেন কিন্তু আজ মনে প্রাণে এক অজানা শূন্যতা। তাঁর আদরের মেয়ে রুমি। যোগ্য একটা সন্ততি। আয়নাম সাহেব হঠাৎ বুক চেপে ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়ে,,, তাকে ধরতে এগিয়ে আসে জুলফিকার সাহেব।।
দুই দাদি কেঁদে কুল পায়না।। কত প্রজন্ম তারা দেখলো। কোলে পিঠে মানুষ করলো আপন বাচ্চাদের।। চোখের সামনে তাদের বড় হয়ে ওঠা দেখলো। দেখলো তাদের দুষ্টুমি,,,ঠোঁটের হাসি। কিন্তু আজ সৃষ্টি কর্তা তাদের থেকে কোন পরীক্ষা নিচ্ছেন!!
চারি পাশে কান্নার ভারী শব্দ। হৃদয় গুলো যেনো তাদের ঘর হয়ে হালকা হওয়ায় ভেঙে যাচ্ছে।।
সবার নজর কেড়ে ডক্টর বেরিয়ে আসলো থিয়েটর থেকে।। ডক্টর দেখেই আয়াজ ছুটলো তার কাছে।।পাগল প্রায় হয়ে জিজ্ঞাসা করল,,,,
"আমার,,,আমার বোন। কেমন আছে ডাক্তার,,,আমি দেখা করতে পারি!!"
ডক্টর মাথা নিচু করে লম্বা শ্বাস টেনে বললো,,,"am very sorry mr Ayaz. আমরা আমাদের বেস্ট দিয়েছিলাম।"
ডক্টর এর এমন স্বীকারোক্তি তে পুরো করিডোরে চিৎকার ছাড়া কান্না ভেসে এলো।। রাফাজ বসে পড়ল,,শরীর ছেড়ে দিলো দেয়ালে।। জারিন কেঁদে উঠলো।। এ যেনো যন্ত্রণা। এমন যন্ত্রণা যার নিরাময় নেই।। আয়াজ রাগে ফেটে পড়ে। হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে ডক্টর এর কলার চেপে,,,ফিরে আসিফার দিকে তাকাতে তাকাতে বলে,,,
"শুনলে আসু এই বা*স্টার্ড কি বলে! এই ডাক্তার পাগল,,,আমি আমার বোন কে আরো বড় জায়গায় নিয়ে যাবো। এই শালা চিকিৎসা করতে পারে না।।
আসু তুমি রুমিকে নিয়ে আসো আমি,,,আমি গাড়িতে,,,,"
কথা বলতে বলতেই জ্ঞান হারায় আয়াজ। ফ্লোরে পরে যায় ছেলেটা।। আসিফা চিতকার করে উঠলো। ডক্টর নার্স দের টিম এলো দ্রুতই।। ছেলেটাকে তুলে কেবিনে সিফ্ট করা হলো।।
এদিকে জায়ান যেনো পাথর।। কথা বলে না কারোর সাথেই।। চুপচাপ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যায় এলোমেলো পায়ে একটা সময় পিচ ঢালা রাস্তায় হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ে। যেনো সে দুনিয়ার সব কিছু থেকে আলাদা হয়ে গেছে।
তার বুকের ভিতরটা যেনো ফাঁকা, ঠোঁট কাঁপে, নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসে। নিজের মাথার চুল চেপে ধরে, আবার নিজেই ছেড়ে দেয়। কখনো মাটির দিকে তাকায়,,,কখনো আকাশের দিকে।
একটা তীব্র অনুশোচনা, আত্মগ্লানি, আর ভালোবাসা এক হয়ে জায়ানকে পাথরের মতো ভারি করে তুলেছে। এই মুহূর্তে জায়ান আর জীবিত কোনো মানুষ নয়, সে যেনো নিজেই এক মৃত্যুপরবর্তী অবশিষ্ট প্রেম। একটা ছিন্নভিন্ন হৃদয়ের জ্যান্ত প্রতিচ্ছবি। জায়ান মাথা তুলে আসমানের দিকে তাকায়,,,,নীরব,নিস্তেজ পরিবেশে একটা গগন বিদারী চিৎকার,,,
"রুমিইইইই"
তারপর সব শান্ত।।
(লেখিকা দেরিতে গল্প দিলে রাগ হয়। কিন্তু লেখিকা 20,22 মিনিটের গল্প লিখে 4.500 শব্দের আর সেটা পড়ে কুরি হাজার কিংবা তার বেশি পাঠক পাঠিকা কিন্তু লাইক/কমেন্ট/ফলো/শেয়ার দেওয়ার বেলায় একটা কেউ এগিয়ে এগিয়ে আসেনা। সেটা দেখে আমার বুঝি রাগ হয় না!!
এবার থেকে এরকমই হবে। 500+ লাইক। কমেন্ট এর শেয়ার যোগ তাড়াতাড়ি হবে আমি সেই বুঝেই নিজের হাতের ব্যাথা বাড়িয়ে গল্প লিখবো।।)
ক্রমশ
_________________☝️(পড়ে নিন মন দিয়ে)