#পর্ব_৪৩
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ। ধামাকা পর্ব)
.
তখন সময় দুপুর দুটো। রুমি কে দেখার জন্য পুরো পরিবার একত্রে,,,সাথে শান্ত। মেয়ের সুস্থতা দেখে আয়নাম সাহেব আর আসমা সুলতানা যেনো প্রাণে প্রাণ ফিরে পায়। সন্তান হলো মা বাবার বেঁচে থাকার একটা কারণ।। রুমি সবার সাথেই দেখা করে,,,কথা বলে।। কিন্তু সবাইকে অবাক করে হাজির হয় কাফিল। কাফিল নিজের পরিচয় রাখে সবার সামনে। রুমি অবস্থা নিয়ে কাল রাত থেকেই অতি দুশ্চিন্তায় ছিলো। কাল এম্বুলেন্সে রুমিকে তোলার সময় যেনো কাফিল এর অন্তর খাঁমচে ধরেছিল কেউ।।
আজ সে রুমির সাথে দেখা করে।এদিকে রুমি ভিতর ভিতর থেকেই ঘাবড়ে যাচ্ছিল। বারবার জায়ান এর ভয় তাকে আঁকড়ে ধরছিল। এই ছেলের জন্যই তাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি,দুরত্ব। আজ যদি এখানে জায়ান কাফিল কে দেখে নেয় তাহলে ছেলেটা তুলকালাম ঘটাবে। কাফিল রুমির সাথে খুবই স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে। হালচাল জিজ্ঞাসা করে। রুমিও কোনো রকম উত্তর দিলো। অতপর ঘুম পাওয়ার ভাং ধরে কাফিল কে বিদায় করে। কিন্তু কাফিল এর উদ্দেশ্য আজ ভিন্ন। হসপিটালের ওয়েটিং রুমে থাকা খান ও শেখ পরিবারের সমস্ত সদস্যের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আয়নাম সাহেব এর দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,,,
"আঙ্কেল আমি,,,আমি....রুমি কে বিয়ে করতে চাই।।"
নিস্তব্ধ রুমে কাফিল এর কথা যেনো বেজে উঠলো।। খান এবং শেখ পরিবারের সদস্যরা একে অপরের দিকে তাকালো।। হঠাৎ এই মুহূর্তে এরকম কথা কারোর আশায় ছিলো না।। আয়নাম সাহেব কিছু বোলতে যাবি কি তার আগেই শোনা গেলো কারোর ফোঁস ফোঁস করতে থাকা শব্দ। চোখের দিশা দরজার দিকে যেতেই দেখা গেলো সেটা,,, জায়ান।
জায়ান শক্ত চোয়াল নিয়ে তাকিয়ে কাফিল এর দিকে।। এই ছেলেকে সে আজ মেরেই ফেলবে।। জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে আছে সে। আয়াজ সহ সবাই জায়ান এর অভিব্যক্তি বোঝে।। ছেলেটা ভারিক্কি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে তেড়ে আসতে নিলেই আয়াজ ওকে থামায়। দুর থেকে জুলফিকার সাহেব ইশারা করতে জায়ান কিছুটা শান্ত হলেও রক্ত চক্ষু তার সরলো না কাফিল হতে।।
আয়নাম সাহেব সামান্য হাসার চেষ্টা করে বলে,,,"বসে কথা বলি!? তোমার নাম কাফিল তো! কাল রাতে তুমিই কল করেছিল না! রুমির খবর নেওয়ার জন্য!?"
"জ্বী আঙ্কেল।"
কাফিল বসে। আয়নাম সাহেব বলে,,,"আসলে বাবা,,,তুমি যে প্রস্তাব নিয়ে এসেছো সেটা মেনে নেওয়া আমার জন্য অসম্ভব,,,"
কাফিল থতমত খেয়ে বলে,,,"কেনো আঙ্কেল! আমার,,,আমার ব্যাকগ্রাউন্ড আপনি খোঁজ লাগিয়ে দেখতে পারেন,,,ইভেন আমার মা বাবার সাথেও কথা বলতে পারেন,,,"
আয়নাম সাহেব কাফিল কে শান্ত করে বলে,,,"শান্ত হও বাবা,,,,তুমি নিঃসন্দেহে ভালো ছেলে হবে এতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু,,,তোমার প্রস্তাব আমি মানতে পারবো না,,, কারণ,,,"
"কারণ কি আঙ্কেল!"
"কারণ শুধু তুমিই না যে কেউই রুমির জন্য সম্মন্ধ আনলে আমি মানতে পারবো না,,,"
এই পর্যায়ে কাফিল সহ্ জায়ান, আয়াজ,শান্ত, আসিফা সবাই খুব বেশি বিস্মিত হয়।। আয়নাম সাহেব কি বলছে এই সব! জায়ান এইবার একটু নীরব হলো। সে বুঝতে চাইছে। আয়নাম সাহেব পরিস্থিতি বুঝে গলা কেশে উঠলো। সবার দৃষ্টি তার দিকেই। তিনি খুবই গম্ভির স্বরে বলল,,,,
"কারণ রুমি বিবাহিত,,,"
ব্যাস এই কক্ষের কিছু মানুষের মধ্যে যেনো বাজ পড়ল।। আশ্চর্য বনে গেলো অনেক গুলি চোখ।।
চমৎকারিত্ব দৃষ্টিতে দেখতে লাগলো তারা আয়নাম সাহেব কে।। এদিকে জায়ান এর হাঁটু ভেঙ্গে আসার পথে। ওর শরীর হিম হয়ে গেলো।। ও অবিশ্বাস্য নজরে আয়াজ এর দিকে তাকাতেই ছেলেটা শুকনো ঢোক গিলে দ্রুত দ্রুত মাথা নাড়িয়ে বোঝায় সে কিছুই জানে না।। আয়নাম সাহেব আবার বলে,,,
"হ্যাঁ ঠিক শুনেছ তোমরা,,,রুমি বিবাহিত,,,"
এইবার জায়ান এর গলার মাঝে কান্না পাকিয়ে আসে। আয়াজ এর কাঁধ চেপে ধরে নিজেকে সামলে বলে,,,
"কার...সা...সাথে"
আয়নাম সাহেব এবার উঠে এসে দাড়ালো জায়ান এর সামনে। পরিস্থিতি আরো বেশি উত্তেজিত করে দিতে তিনি জায়ান এর প্রশস্থ কাঁধ থাপিয়ে বলে,,,
"তোমার সাথে... জায়ান।"
জায়ান তাজ্জব হয়ে গেল। আশ্চর্যে যেনো আশেপাশের সমস্ত শব্দ গুলিয়ে মিলিয়ে শুধু কানের মধ্যে বেজে উঠলো,,, তোমার সাথে জায়ান। । হৃদস্পন্দন বেগবান হলো লামহায়। চোখ মুখে প্রকাশ পেলো বিভ্রান্ত।। চোখের পাতা পড়ে না ছেলেটার একবারও। হাসির মতো এক অদ্ভুত রেখা খেলে যায় ঠোঁটের কোণে, কিন্তু সেটাও এক মুহূর্তেই হারিয়ে যায়।তার ঠোঁট কাঁপছে, গলায় কান্না আটকে আছে। এরকম অনুভূতি তো কখনও হয়নি! নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছে। তার চোখ ছলছল করে উঠলো, কণ্ঠস্বর রুয়ে গেল। হঠাৎ কিছু পাওয়ার আনন্দে,,,,নাকি অন্য কিছু!!
বুক ফুলিয়ে নিঃশ্বাস টেনে,কোনো রূপ উচ্চারিত করলো,,,
"আমি...?! আমি রুমিকে...মানে...."
সবাই স্তব্ধ। আয়াজ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে নিজের বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। আসিফা যেনো আকাশ থেকে পড়ল। রুমি কে নিয়ে এত গোপন কথা সে এইভাবে জানতে পারবে তাহ আশার বাহিরে ছিলো।। এদিকে কাফিল যেনো হতবাক। বুকের মধ্যে যেনো কেউ ছুরি চালিয়ে দিলো। কন্ঠনালী ব্যথা করছে। কান্না পাচ্ছে কি তার! সে ঠাঁই বসে রইলো সোফায়।
আয়নাম সাহেব এইবার ঠাণ্ডা গলায় বলেন,,,
"ব্যাপারটা তুমি এইভাবে জানতে পারবে তা কখনোই আশা করিনি কিন্তু আজকে যদি আমি চুপ করে থাকতাম তাহলে হয়তো কখনোই বলতে পারতাম না।। আমি আর তোমার বাবা মিলে ঠিক করেছিলাম যে তোমাকে আর রুমি কে পাশাপাশি বসিয়ে এই কথাটি বলবো,,, বাকি ডিসিশন তোমাদের উপর ছেড়ে দেবো,,,কিন্তু...."
জায়ান দু'পা পিছিয়ে যায়। সে যেনো দাঁড়িয়ে আছে এক অচেনা ভূখণ্ডে, যেখানে সবকিছুই কুয়াশায় ঢাকা। আয়াজ ওকে ধরে বলে,,,
"জায়ান, বস,,,,আগে শোন সবটা।"
জায়ান পা দুটো টেনে নিয়ে বসে কোনো রকম। ছেলেটার মনের ভেতর অস্থিরতা বিরাজ করছে। আকাশে চাঁদ হাতের মাঝে নেমে এলে কেমন অনুভূতির হয়!! জায়ান এর জানা নেই। ধুকপুকানি বেড়েই চলেছে। এদিকে আসিফা মুখে হাত দিয়ে বসে পড়ে সোফায়। শান্ত চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে। কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।জুলফিকার সাহেব গম্ভীর হয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে আছেন।
আয়নাম সাহেব জায়ান এর হাত ধরে,এবার চোখ নামিয়ে বলেন,,,
"বয়স তোমাদের তখন অনেক কম,,,তুমি কিশোর আর রুমি তখন ছোট।। বাচ্চা বেলা থেকেই তোমার আর রুমির মাঝের বন্ধুক্ত অনেক গভীর। রুমির জন্য তোমার এক্সটা পোসেসিভ্নেস দেখে আসছি আমরা। ভালোই লাগতো তোমাদের দেখতে একত্রে। একদিন আমার মা,,,মানে রুমির দাদি তোমাদের বিয়ের কথা তোলেন। অবশ্যই আমি কিংবা জুলফিকার কেউই তখন রাজি হয়নি। তোমরা ছোটো,,,আমাদের নেওয়া সেই কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত তোমাদের উপর পরে এফেক্ট ফেলতে পারে।। কিন্তু আমার মা এর সাথে তোমার দাদিও একই আবদার করে বসলেন। এতে করে নাকি দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়বে।। তাদের অনুরোধে আমি আর জুলফিকার না চাইতেও সাই জানালাম। কথা হলো এখন শুধুই কবুল বলিয়ে রাখবো,,,তোমরা বড় হলে রেজেস্ট্রি।।
তোমার জন্মদিনের দুই দিন আগে আমি,জুলফিকার আর তোমাদের দুই দাদি বসি। তার কিছুদিন পর জারিন আর রাফাজ এর বিয়ে ছিলো।"
__________________
অতীত,,,,
"জানভাই,,,তোমার পেন্সিল আমি নিয়ে নি!?"
জায়ান মাথা নেড়ে বলে,,,"সব নিয়েনে কিছু বলব না।"
ছোট্টো রুমি সবকয়টা দাঁত বের করে হাসলো। কিন্তু পরক্ষণেই জায়ান সেই পেন্সিল রুমির হাত থেকে কেড়ে নিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বলল,,,
"তুই কেন রাকিব এর থেকে চকলেট নিয়েছিলি?"
জায়ান এর হঠাৎ এমন বিহেভিয়রে ছোটো রুমির চোখে পানি আসে। ঠোঁট ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলে,,,
"আমি নিতে চাইনি,,,রাকিব ভাই নিজে দিয়েছিল। পরে ওটা আসু খেয়ে নিয়েছে,,,আমি খাইনি,,,"
রুমির এহেন আদর মাখা স্বরে আর জলে টইটুম্বুর চোখ দেখে জায়ান এগিয়ে পেন্সিল টা আবার ওর হাতে ধরিয়ে দেয়।। মাথায় হাত বুলিয়ে সেথায় একটা চুমু দিয়ে বলে,,,
"আর নিবিনা। কারোর কাছ থেকে কিছু নিবি না। শুধু আসু,আমি আর আয়াজের থেকে নিবি।। আমি তোকে পৃথীর সব চকলেট এনে দেবো বাচ্চা,,,"
রুমি নাক টেনে, চোখ পিটপিট করে বলে,,,"সব চকলেট?"
"হ্যাঁ সব,,,আমি বড় হয়ে কাজ করে অনেক টাকা কামিয়ে তোর জন্য চকলেট নিয়ে আসবো,,,"
"তুমি ভালো জানভাই,,,"
রুমির কথায় জায়ান হাসে। এদিকে ছোটো আসিফা সব শুনে চিৎকার করে বলে,,,,"এ্যাঁ হ্যাঁ,,, দাভাই আমিও,,,আমিও খাবো চকলেট,,,"
জায়ান আসিফার মাথায়ও হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,,,"অবশ্যই বুড়ি তোর জন্যও নিয়ে আসবো,,,"
আয়াজ নাক সিটকে বলে,,,"হিংসুটে মেয়ে একটা,,,"
আসিফা নিজের হাতের পুতুল আয়াজ এর দিকে ছুড়ে মেরে বলে,,,"আর তুমি একটা ছাগল পাগল,,,"
"তবে রে,,,"
বলেই আয়াজ আসিফার পিছে দৌড় দেয়।। চার ছেলে মেয়ের এহেন খুনসুটি দেখে রাজিয়া বেগম বললেন,,,
"আসু আর আয়াজ দাদুভাই যেন সাপ বেজী,,,কি হবে এদের আল্লাহ ভালো জানে"
আনোয়ারা বেগম তাহ শুনে বলে,,,"বড় হলে ওদের মধ্যে মিল হবে কিনা সন্দেহ। দেখো কেমন ঝগড়া করছে। কিন্তু আমাদের জায়ান দাভাই আর রুমি দিভাই ওদের দেখলে চোখটা জুড়িয়ে যায়। আমাদের ফয়সালা অবশ্যই ওরা বড় হয়ে মেনে নেবে। তুমি দেখো।"
জুলফিকার সাহেব আর আয়নাম সাহেব একে অপরের দিকে তাকালেন। ড্রয়িং রুমে তাদের বাচ্চারা খেলছে তারা দেখছে,,, ব্যাপারটা সত্যিই সুন্দর।। জুলফিকার সাহেব জায়ানকে খুব ভালো করেই চেনেন।। রুমির প্রতি তার যত্ন, পজেসিবনেস, কেয়ার এগুলো ধীরে ধীরে বাড়ছে বৈ কমছে।। তিনিও মনে মনে এদের একত্রে দেখতে চান। কিন্তু ভয় একটাই যে তারা এখন অনেক ছোট।
জায়ান স্যানভিচ খাচ্ছে সাথে রুমি কেও দিচ্ছে। আসিফা খেতে গেলে আয়াজ ওর বেনি ধরে টেনে দেয়। তাতেই আবার ঝগড়া। আনোয়ারা বেগম জায়ান কে ডাক দেয় নিজের কাছে। জায়ান বাধ্য ছেলের মত এগিয়ে এসে পাশে বসে। আনোয়ারা বেগম বলেন,,,
"দাদুভাই সামনে তোমার জন্মদিন না কি চাও আমার কাছ থেকে!"
জায়ান বরাবরই গম্ভীর ছেলে। কথা বলে কম কম।।
দাদির কথায় ছেলেটা বলে ওঠে,,,
"একটা বার্বি হাউজ দিও দাদিমা,,,নাহ নাহ দুটো দিও,,,একটা রুমির আর একটা আসুর।"
আনোয়ারা বেগম জায়ান এর কথা শুনে অবাক হয়ে বললেন,,,"কিন্তু বার্থডে তো তোমার... আচ্ছা ওদের ওগুলো কিনে দেব কিন্তু তুমি নিজের জন্য কিছু চাও,,,"
জায়ান মাথা নাড়িয়ে বলে,,,"আমার কিছু লাগবে না দাদিমা।"
উপস্থিত সবাই জায়ান এর এমন কথায় অবাক হলেন। অবশ্য খুব একটা অবাক হলেন না কারণ তারা জানে যে জায়ান এর বার্থডে নিয়ে সেরকম মাতামাতি কখনোই থাকে না। কিন্তু আসু কিংবা রুমির বার্থডে হলে ছেলেটা ঠিক গিফট আনবে তাদের জন্য।। রাজিয়া বেগম জায়ান এর পিঠে হাত বুলিয়ে আদর দিয়ে বলে,,,
"বুঝদার ছেলে আমাদের,,, আচ্ছা দাদুভাই একটা কথা জিজ্ঞাসা করি!?"
জায়ান বলে,,,"বলুন দাদি,,,,"
রাজিয়া বেগম দূরে বসে পুতুল খেলা করা রুমি কে দেখিয়ে বলে,,,"রুমি কে কেমন লাগে!?"
জায়ান তাকায় সেদিকে সঙ্গে সঙ্গে কিশোর অন্তরে কেমন পুলক অনুভব করলো। মেয়েটা অদূরে,,, মন চায় মেয়েটাকে সামনে বসিয়ে দেখতেই থাকতে। জায়ান এর ঠোঁটে আচমকা মুচকি হাসি ফুটে উঠল,,,বললো,,,,
"অনেক ভালো লাগে দাদি,,,,ওকে দেখতে থাকি সব সময়, এমন ইচ্ছে করে।। কিন্তু অনেক দুষ্টু হয়ে যাচ্ছে দাদি আমার কথা শোনে না।"
আনোয়ারা বেগম ঠোঁট চেপে হেসে বলে,,,"তোমার কথাই শুনবে সব সময়,,,এমন ব্যবস্থা করে দেবো জায়ু!"
জায়ান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়।। আনোয়ারা বেগম আপন ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"ফিকার আমাদের ফয়সালা সঠিক,,,এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এক্ষুনি কাজী ডাক। এই দুই ফুলের টুকরা কখনোই আলাদা হবে না,,,,তাদের এক করার কাজ আমাদের,,,সেই কাজ তাড়াতাড়ি করলে গোনাহ নেই।।"
"সঠিক কথা,,, বিয়ের ব্যাপারটা এখন ভীষণ গোপন থাকবে। দুই পরিবারের কিছু সদস্য ছাড়া যেন আর কেউ না জানতে পারে।। ওরা যখন বড় হবে, একে অপরকে বুঝে নেবে ঠিক সেই সময়েই বিয়ের কথা বলব,,,অবশ্যই দেখবি তারা ওই বিষয়ে রাজি হবে। আমার মন বলছে,,, রুমি জায়ান এর জন্যই।"
রাজিয়া বেগম এর কথা শেষ। জুলফিকার সাহেব আর আয়নাম সাহেব এই দুই বুযুর্গের কথা মেনে নেয়। কাজী ডাকা হলো। জায়ান এর মা আর রুমির মা উপস্থিত হলেন। তাদের মতামত ভিন্ন হলেও আনোয়ারা বেগম আর রাজিয়া বেগমের এর কথার উপরে কেউ কথা বলতে পারলো না।। কাজি এলো। জায়ান রুমি বা আসিফা আয়াজ কারোরই বড়দের দিকে মন নেই তারা নিজেদের মত খেলতে ব্যাস্ত। কাজি সব ঠিক করে নিয়ে বললেন,,,
"মেয়ে আগে কবুল বলবে তারপর ছেলে।"
জুলফিকার সাহেব মাথা নাড়িয়ে জায়ান কে বলে,,,"জায়ু একটু এদিকে আসো আব্বু,,,"
জায়ান আর আয়াজ তখন ড্রয়িং রুমের মধ্যেই বল নিয়ে খেলা করছে। জায়ান বল পায়ে মেরে ব্যাস্ত কন্ঠে বলে,,,
"আব্বু এখানেই বলো,,,আমি শুনছি। আয়াজ,,, আমিই জিতব আজ,,,"
জুলফিকার সাহেব কাজী কে বলল,,,"আপনি একটু জোড়ে জোড়ে বলুন,,, ও শুনতে পাবে,,,"
কাজি তাই করলো। জোড়ে জোড়ে,পুরো ড্রয়িং জুড়ে ওনার কণ্ঠ বেজে উঠলো। সবাই নীরব কিন্তু আয়াজ আর জায়ান খুনসুটি করে বল খেলতেই ব্যাস্ত। সেই সন্ধিক্ষণে একশ এক টাকা দেন মোহর ধার্য করে রুমির সাথে জায়ান এর বিয়ে ঠিক করা হলো,,,"মেয়েকে আলহামদুলিল্লাহ কবুল বলতে বলুন,,,"
"রুমি আমার,,,বলো আলহামদুলিল্লাহ কবুল।"
বাচ্চা রুমি তখন মাটিতে বসে খেলায় ব্যস্ত, হাতে পুতুল জোড়া। চোখও তোলে না মেয়েটা, কিন্তু দাদির ইশারায় সবার দিকে চেয়ে হেসে বলে ওঠে,
"আলহামদুলিল্লাহ কবুল"
তারপর আবার খেলায় মগ্ন। সবাই হেসে ফেলে।
এরপর কণ্ঠ এল কাজির,,,,
"জায়ান আহমেদ খান কে আলহামদুলিল্লাহ বোলতে বলুন,,,"
জায়ান বল নিয়ে ছুটছিল আয়াজের পিছে। হঠাৎ জুলফিকার সাহেবের গম্ভীর ডাক—
"জায়ু, আলহামদুলিল্লাহ বলো!"
জায়ান সামান্য থেমে বলটা হাতে নিয়ে পাশের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,
"আচ্ছা আলহামদুলিল্লাহ।"
তারপর আবার খেলায় ফিরে যায়, যেন এ কথার কোনো গুরুত্বই নেই তার কাছে। বুঝলোই না কি হলো এই মুহূর্তে। জায়ান একটা গোল করে। আয়াজ ঠোঁট উল্টায়। এই সব কিছু দেখে আসিফা ছিঁচকাঁদুনে হয়ে বলে,,,
"আমিও রুমির মত কবুল বলবো,,,আমিও বলবো,,,"
ওর কান্না দেখে সবাই হেসে দিলো। আয়াজ ওকে ক্ষেপাতে আরো বলল,,,,
"তোর হয়ে আমি বলি কবুল,,,,, হা হা হা,,,,
আসু পাগলি,,,, কোরে দেবো টাকলি,,,মাথায় থাকবে না চুল,বলে আবার কবুল!! হা হা হা,,,,"
আয়াজ কথায় আরো জোড়ে কেঁদে উঠলো আসিফা। রুমি ওকে থামানোর চেষ্টা করে। পুতুল দেয়।। উপস্থিত সবাই তাদের দেখে।। সবাই দোয়া করে দিলো তাদের জন্য।
এদিকে দুই ছেলে মেয়ে জানতেই পারলো না তাদের ভাগ্য কেমন করে জুড়ে গেল একে অপরের সাথে। তারা বেঁধে গেল পবিত্র এই সম্পর্কের মধ্যে। অদৃশ্য সুতায় বাঁধা পড়লো তারা।যেখানে আছে শুধুই ভালোবাসার কবিতা। গভির অনুভূতির সুর,কখনোই ছেড়ে না যাওয়ার পথ। অঙ্গীকার একে অপরের পরিপূরক হওয়ায়। এই পথের শেষ নেই,,,,আছে শুধুই অনন্ত প্রতিশ্রুতি।।
--------------------
বর্তমানে…
আয়নাম সাহেবের কথা শেষ হতেই ঘরে এমন নীরবতা নেমে এলো, যেন কেউ নিঃশ্বাস ফেলার শব্দও শুনতে পাচ্ছে। সবার চোখে মুখে অবিশ্বাস, বিস্ময়, চমক।
জায়ান মাথা নিচু করে বসে আছে, দুই হাত সহ প্রতিটা আঙ্গুল কাঁপছে তার,,, সারা শরীর কেমন অবস হয়ে আসছে। ঝিম ধরে যাচ্ছে চোখ দুটো। মনের মাঝে কেউ শীতল পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে সাথে জড়তা। একটা মিশ্রিত অনুভূতি অন্তরে।। অনিয়মিত ভাবে চলছে হৃদস্পন্দন।। শক্ত পোক্ত ছেলেটা কেমন মিহিয়ে এলো। গলা শুকিয়ে কাঠ।জায়ানের নিঃশ্বাস ভারী হয়। সে হাত মুঠো করতে চাইলো কিন্তু হলো না,,,এলোমেলো ভাবে মনে মনে উচ্চারিত করলো,,,
"তাহলে… এতদিনের তিক্ততা, রাগ, অভিমান… সবই আমার নিজের স্ত্রীর সাথে?"
কথাটি ভেবেই কাহিল হলো ছেলেটা আরো বেশি। কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ল। চোখ লাল হয়ে এলো তার। এত বড় সত্য সে জানলো না কেন!! কেনো এই বিষয়ে সে অজানা ছিল।। রাগ নিজের উপরেরই এলো। এত এত অন্যায় করেছে সে মেয়েটার সাথে,,,তাও তার স্ত্রির সাথে। নিজেকে মাফ করবে সে কি ভাবে!! হাতের কাছে সব পেয়ে সে অন্ধের মত অন্য দিকে দৌড়াচ্ছিল!! জায়ান নিজের চুল খামচে ধরে বলে,,,
"ও জানে !?"
আয়নাম সাহেব বলে,,,"নাহ,,,,এখনও জানাইনি।"
"জানাবেন না,,,,আমি যখন বলবো তখন এই বিষয়ে কথা উঠবে। আপাতত ওকে জানানোর প্রয়োজন নেই,,,,"
আয়নাম সাহেব সম্মতি দিলেন।।আসিফার চোখে হতবুদ্ধি বিস্ময়, সে অবাকের শেষ সীমানায়। রুমি তার ভাবি! তাও কিনা সেই বাচ্চা বেলা থেকে!! আর আয়াজের কপালে গভীর ভাঁজ। বোন নাকি বিবাহিত আর ভাই এই সম্পর্কে কিছুই জানে না!! নাহ নাহ বিয়ে তো হয়েছিল তার সামনেই। কী এক অবস্থা!!
এদিকে কাফিলের মুখে হতাশা, ভঙ্গুর হৃদয়। কাফল কে শেষ করার জন্য একটাই বাক্য যথেষ্ট ছিলো যে,রুমি বিবাহিত। ছেলেটা কেমন নিস্তব্ধ।। এক রাশ আকাঙ্ক্ষার দেয়াল চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল। কাদতেঁ ইচ্ছে করলো কি? গলা ভারী লাগছে কেন!! আয়নাম সাহেব এবার কাফিল এর দিকে চেয়ে বললেন,,,
"তুমি নিঃসন্দেহে একটা ভালো ছেলে,,,,আমার অনুরোধ যে,আমাদের এই পারিবারিক কথা শুধুই তোমার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকুক।"
"চিন্তা করবেন না আঙ্কেল,,,,"
কাফিল উঠে দাঁড়ায়। অনেক কষ্টে। পা দুটো কেমন জমে গেলো মাটির সাথে। এক বার রুমি কে দেখতে ইচ্ছে করল। পরক্ষনেই মনে পড়লো,,,সে অন্য কারোর।। বুকের ব্যাথা হলো খানিক। কাফিল লাল আঁখি মেলে তাকালো জায়ান এর দিকে। ছেলেটার ঠোঁটের কোণে বিদ্রুপ সহ তেরছা হাসি। সেই হাসি যেনো কাফিল'কে অসুয়া করে তুললো। হিংসা কাজ করলো কোথাও একটা।। তাও জায়ান কে হিংসা করতে পারলো না,,,,ওই ছেলেটার কপালের রেখা তার কপালে নেই। কাফিল মাথা নিচু করে বেরিয়ে যেতে নিলে আয়নাম সাহেব ওকে থামিয়ে আলতো জড়িয়ে ধরে। বলে,,,
"তুমি উত্তম ছেলে,,,,আমার দোয়া রইলো।"
কাফিল মৃদু হেসে আয়নাম সাহেব কে সালাম দিলেন। অতপর সবাইকে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে আসে। বাহিরে এসে ছেলেটার হৃদয় ব্যাকুল হলো। না চাইতেও একটিবার দুর থেকে রুমি কে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে মন চাইলো না। পা বাড়ালো কেবিন এর দিকে। গোল কাঁচ থেকে রুমিকে দেখার চেষ্টা করতে গেলেই পিছন থেকে জায়ান বলে ওঠে,,,,
"অন্যের স্ত্রীকে লুকিয়ে দেখা ব্যাড ম্যানাস টিচার।"
কাফিল ফট করে ঘুরে দাড়ালো। দেখে জায়ান দুই পকেটে হাত পুরে সটাং দাড়িয়ে,,, ভ্রূ বাঁকানো। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে কাফিল বলে,,,
"নাহ ...মানে,,,মানে...."
"মানে এটাই যে,,,তুমি এতদিন যার মনে নিজের জন্য জায়গা করতে ব্যস্ত ছিলে তার ভাগ্যে অনেক আগেই জায়ান নামটা লেখা হয়ে গেছে।।"
জায়ান এর কথা শুনে কাফিল সামান্য হাসে। সেই হতাশার হাসি। কাফিল নিরস কন্ঠে বলে,,,
"You are so lucky jayan..... যাকে আমি সালাতে চেয়েও পেলাম না তাকে তুমি কত সহজেই পেয়ে গেলে।"
জায়ান কাফিল এর কথায় এক ভ্রু নাচিয়ে হেসে দিলো। কাফিল এর দিকে সামান্য ঝুঁকে ওর কলার ঠিক করে দিতে দিতে বলে,,,
"ওকে পাওয়া সহজ ছিলো না কখনোই,,,, ও হলো অমুল্য রত্ন।। তাকে পাওয়ার আশা তোমার ওকে দেখার পর থেকে,,,,আর ওর প্রতি আমার ভালোবাসা ওর জন্মের পর থেকে।। তাহলে কার চাওয়া বেশি শক্তিশালী টিচার!?"
কাফিল উত্তর দিতে পারে না। চুপ চাপ প্রস্থান করে।। জায়ান চোয়াল শক্ত করে দাড়িয়ে রইলো।
অতপর কাঁচের ভিতর থেকে ঘুমন্ত রুমি কে দেখেই অন্তর শিথিল হলো। খানিক বাঁকা হেসে বিড়বিড় করে বললো,,,
"এত দিন তুমি আমার শক্ত রূপটাই দেখেছো,,,এবার থেকে দেখবে আমার বেপরোয়া রূপ,,,তোমার অনেক কাছে এসে তোমায় চমকে দেবো.... ওয়াইফি...."
জায়ান এর পিঠে ধরাম করে মারল আয়াজ। জায়ান চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। মুখ থেকে গালি বের করার পূর্বেই আয়াজ বলে ওঠে,,,
"খবরদার,,,,তোর বউ এর বড় ভাই আমি,,,সন্মান দে,,,"
জায়ান ছোটো ছোটো চোখ করে বলে,,,"আমার ডায়লগ আমাকেই!!"
তাদের কথার মাঝে উপস্থিত হলো রাফাজ। জায়ান এর কাঁধ থাপিয়ে দিয়ে বিস্মিত সহ উদাস স্বরে বলে,,,,
"ভাবা যায়! যেখানে তোমার ফুপিকে বিয়ে করার জন্য আমাকে এক যুগ অপেক্ষা করতে হয়েছে। সেখানে তুমি ছোট থাকতেই ছক্কা মেরে দিয়েছো!!"
আয়াজ ও দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,,,,"আর তোর বোনকে বিয়ে করতে আমাকে পুরো গুষ্টি নিয়ে আসতে হয়েছে, রিকুয়েস্ট করতে হয়েছে।। আর সেখানে তুই,,,, ফুটবল খেলতে খেলতেই বিয়ে করে ফেলেছিস!!'
কথা শেষ আয়াজ আর রাফাজ দুই জনেই কাঁধ নাচিয়ে বলে,,,,"হতাশ,,,,ভীষণ হতাশ।"
এদিকে জায়ান তাদের সমস্ত কথা শুনে,,, তেরছা হেসে নিজের ঘাড় মোলে বলল,,,,
" তোমাদের ভালোবাসার পাওয়ার কম ছিল তাই জন্য তোমরা এত দেরি করে পেয়েছো কিন্তু আমার ভালবাসার পাওয়ার ছোটবেলা থেকেই অনেক বেশি ছিল,,,, তাই ছোট থাকতেই নিজের জিনিস নিজে বুঝে নিয়েছি!!"
রাফাজ বলে,,,"নাহ নাহ এগুলো আর নেওয়া যাচ্ছে না,,,,আমি শ্বশুর হয়ে গেলাম!! জাস্ট লুক অ্যাট মি,,,,এরকম হ্যান্ডসাম ইয়ং ম্যান কে কি শ্বশুর হিসাবে মানায়!"
রাফাজ এর কথায় জায়ান আর আয়াজ দুই জনেই হেসে দিলো।। আর সব কিছুর থেকে অজানা রুমি ঘুমিয়েই থাকলো। মেয়েটা জানলোই না যে, সে বিবাহিত,তার স্বামী জায়ান।।
-------------------
তিনদিন কেটে গেলো। আজ রুমিকে বাড়ি নিয়ে যাবার পালা।। আসিফা, জায়ান আর আয়াজ ওকে নিতে এলো।। এই তিন দিনে একটা বাস্তব বদলালেও আসিফার অভিমান গলেনি। মেয়েটা কোনো ভাবেই আয়াজ এর দিকে চেয়ে দেখে না। ভয়ংকর উপেক্ষা করে চলে। আয়াজ বারবার ওর সাথে কথা বলতে চেয়েও বিফল হয়েছে।। রুমিকে নিয়ে টেনশন,,,বাড়ি, হসপিটাল ,অফিস করে আয়াজের ও সেরকম সময় হচ্ছে না যে মেয়েটার কাছে গিয়ে ওকে মানানোর।। কিন্তু আজ রুমি বাড়ি আসছে। আসিফা নিশ্চই বান্ধবীর নিকট থাকতে আসবে তাদের বাড়ি। আয়াজ এই সুযোগেই আছে।। মেয়েটাকে আর তাকে উপেক্ষা করার সুযোগ দেবে না।।
রুমি আজ দেখলো আসিফা আর আয়াজ এর একটু বদলে যাওয়া ব্যবহার। তাকে এই দুই জন যেনো অতি সন্মান দিচ্ছে। গাড়িতে রুমি পিছে বসতে চাইলে আসিফা ওর হাত টেনে সামনে বসায়,,, জায়ান ড্রাইভ করবে।। এদিকে জায়ান শুধুই মনে মনে হেসেছে। আহারে তার বউ।।
(বি দ্রঃ-পরের পর্বে জায়ান রুমি এবং আয়াজ আসিফার রোমান্টিক পর্ব পেতে চাইলে 1k লাইক করে দাও,,,ফটাফট।। গল্প এত এত মানুষ পড়ে যখন লাইক করেনা কমেন্ট করে না তখন একটা লেখিকা হিসেবে লেখার আগ্রহটাও চলে যায়।))
------
এখন রাত। রুমির উপলক্ষে সমস্ত খান বাড়ি আজ সারাদিন কাটিয়েছে শেখ বাড়িতেই।। আসিফা নিজের বান্ধবীর সাথেই চিপকে ছিলো।। রুমি কারণ জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর দেয় না। চতুর রুমি বুঝতে পারে নিশ্চই এই লাভ বার্ডস দের মাঝে ঝগড়া হয়েছে। রুমি আর কিছুই বলে না। শুধু নিজের ভাইয়ের বলা কথা রাখে। জোর করে আসিফা কে নিজের সাথে থাকার জিদ ধরে।। সবাই রাজি হলেও আসিফা বলে,,,
"বনু আমি একদম সকাল সকাল আসবো,,,, সত্যি বলছি,,,ফজরের পরেই আসবো,,,কিন্তু রাতে থাকবো না,,,,"
রুমি ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,,,,"হ্যাঁ,,,পানিতে পড়ে আমাদের বন্ধুত্ব ধুয়ে গেছে,,,, যা চলে যা,,,"
"এই ভাবে বলিস না,,,"
"এই ভাবেই বলবো,,,,আমি ভাবলাম তুই আমার সাথেই থাকবি,,,আমি অসুস্থ হলে যে ভাবে থাকতি সব সময়।"
আসিফা মৃদু স্বরে বলল,,,"আচ্ছা থাকবো,,,"
রুমি বিস্তার হেসে ওকে জড়িয়ে ধরে। আয়াজ এর দিকে তাকিয়ে থামস্ আপ দেয়। আসিফা নিচে যায় তার পরিবার কে ছাড়তে। রাতের খাওয়া শেষে তারা চলে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে রুম খালি হলে রুমি দেখে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়িয়ে থাকা জায়ান কে।।
রুমি এক মুহূর্ত থমকে গেলো। জায়ান মুখে একটা হৃদয় ছুঁয়ে দেওয়া হাসি নিয়ে তাকিয়ে তার দিকেই কিন্তু চোখে অদ্ভুত এক গভীরতা। ওর দৃষ্টি যেন সোজা রুমির ভেতরটা ভেদ করে যাচ্ছে।।
এই কয়দিন জায়ান ছায়ার মত পাশে থেকেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রুমির সাথে সময় কাটিয়েছে। একটা মুহূর্তেই জন্যও তাকে বোর ফিল করায়নি ছেলেটা,,, বোঝায়নি সে অসুস্থ।। রুমি কে অবাক করে ছেলেটা মাঝে মধ্যেই তার দুই হাত ধরে ক্ষমা চেয়েছে।। রুমি এই জায়ান কে দেখেছে মন ভোরে। ছেলেটাকে কেমন যেন অন্যরকম লেগেছে এই কয়দিন।।
রুমি গলায় কেমন যেন দ্বিধা,,,ছেলেটার চাহনি ওকে লজ্জা দিচ্ছে খানিক। তাও ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
"কি দেখছেন ওই ভাবে!?"
জায়ান ঠোঁটের সেই হাসি বজায় রেখেই,,,ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো,,,
"দেখছি… আমার জিনিসটা ঠিক আছে কিনা।"
রুমি কপাল কুঁচকে বলল,
"জিনিস! আমি কি জিনিস নাকি!"
"হ্যাঁ,,,,আমার জিনিস,,,একদম বুকের ভেতর বন্ধি করে রাখার মত অমুল্য রত্ন তুমি।।"
রুমির গাল খানিক গরম হয়ে এলো। বলল,,,"পাগল হলেন নাকি?"
"ছোটো বেলা থেকেই,,,"
রুমি কথা খুঁজে পেলো না। কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল,,,,"সবাই চলে গেলো,,,আপনি কি যাবেন না!?"
জায়ান ওর চোখে চোখ রেখে বলল,,,"তোমার কাছে থাকবো,,,,তোমার পাশেই ঘুমবো। সমস্যা আছে!?"
রুমি চোখ বড়বড় করে বললো,,,"কিইইই!!'
জায়ান এবার ওর একদম সান্নিধ্যে এসে বসলো। নিজের এক হাতের থাবা ওর গালে রাখলো। বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে স্লাইড করতে লাগলো ওর নরম গাল,ঠোঁট।। রুমির বুক ভারী হয়ে এলো। ছেলেটার এরকম স্পর্শ ওকে নাড়িয়ে তুলছে।। জায়ান হাস্কি কন্ঠে বলল,,,,
"তোমার উপর ছোটো বেলায় আমার অবুঝ মালিকানা ভুল ছিলো না।সেই ভালোবাসার পাহারাদার হিসেবে নিযুক্ত ছিল স্বয়ং উপরওয়ালা। তাঁর পরিকল্পনা বুঝতে যুগ লেগে গেলো.... সূর্যমুখী।"
রুমি হকচকিয়ে গেলো। জায়ান এর ধাঁধা যুক্ত কথা বুঝতে বেশ বেগ পেতে হলো,,,তাও কিছু বুঝলো না মেয়েটা।। জায়ান এর ঘোর লাগা চোখে তাকিয়ে অবুঝ কন্ঠে বলল,,,
"আপনি কি বলছেন,,,,!!"
জায়ান ওর ঠোঁটের কাছে আঙুল রেখে থামিয়ে দিলো ওকে,,,
" এখনই সব জানতে হবে না। শুধু মনে রাখো… তুমি রুমি আমার .......শুধুই আমার।"
রুমি হৃদস্পন্দন যেন বেড়ে গেছে। জায়ানের কণ্ঠে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা, আর তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা রহস্য যেন আরও বড় হয়ে দাঁড়ালো।। জায়ানের হাত এখনো ওর গালে, কিন্তু সেই ছোঁয়া যেন শরীরের প্রতিটা শিরা ছুঁয়ে যাচ্ছে।
জায়ান ধীরে ধীরে ওর কানের কাছে ঝুঁকে এল। উষ্ণ নিশ্বাসে রুমির শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা শিহরণ নেমে গেলো।কণ্ঠে নরম কিন্তু অদ্ভুত দৃঢ়তা নিয়ে বললো,,,
"রুমি...."
"হুমম"
"আমি প্রেমে পড়তে চাই না, আমি প্রেমে উঠে দাঁড়াতে চাই। আমি তোমার সাথে হাঁটতে চাই,,,যখন সমস্ত সূর্যমুখী ম্লান হয়ে যাবে, তখন আমি আমার একমাত্র সূর্যমুখীকে নিয়ে অনন্তের দিকে ছুটে যাব।"
রুমি স্তব্ধ। জায়ান এর এরকম আবেগঘন কথায় যেনো নিজেকে হারিয়ে ফেলল রুমি। ছলাৎ ছলাৎ বুক মেয়েটার। অন্তরে ঢেউ খেলে গেলো। অস্থির,মায়াময় একটা অনুভূতিতে ছেয়ে গেল হৃদয়।। রুমি ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই জায়ান ওর ঠোঁটে নিজের বৃদ্ধা অঙ্গুন চেপে বললো,,,
"কথা বললেই নির্ভুল ভুল হয়ে যাবে।।"
রুমি ভ্রূ কুচকে বলে,,,"নির্ভুল ভুল!!"
এই কথাই যেনো রুমির ভুল। মুহূর্তেই মধ্যেই নিজের চিকন কোমরে জায়ান এর বৃহৎ হাতের থাবা অনুভব করে। জায়ান ওর চুলের একপাশ সরিয়ে হাত রুমির গালে রেখে ওকে নিজের দিকে টেনে এনে মেয়েটার নিচের ঠোট ঠোট বসালো। পরপর আবার উপরের অধরে। এইভাবে একের পর এক ঠোঁটের উপর বিশ্রাম হীন চুম্বনে মাতয়ারা করে মেয়েটাকে।। এদিকে রুমি বরফ। যেনো কোনো স্বপ্নের মাঝে মেয়েটা।। জীবনের প্রথম এরকম স্পর্শে রুমি গ্রেপ্তার। শরীর অবশ হয়ে এলো মেয়েটার।।
হৃদস্পন্দন লাগামহীন ছুটে চলেছে। গাল জুড়ে
উত্তাপ,,, ললিমায় রঙ্গা। ঠোঁটের উপর প্রতিটি স্পর্শ যেন গভীর সমুদ্রের ঢেউ। বারবার আছড়ে পড়ে, আবার টেনে নিয়ে যাচ্ছে অজানা নিরাপদ স্থানে।।
জায়ান কখনোই তাকে এইভাবে ছুঁয়ে দেয়নি। কিন্তু আজ ছেলেটার প্রতিটা স্পর্শে প্রেমের নীরব স্বীকারোক্তি লুকিয়ে।।
শ্বাস আটকে আসার পূর্বে জায়ান ওকে ছাড়ে। নিজেও হাঁফায়। রুমির ঠোঁট লাল টকটকে। মেয়েটা কেমন মৌন।। জায়ান ওর কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলে,,
" এটা নির্ভুল ভুল.....ভুল করেছি কিন্তু মানিনা,,,"
রুমি চোখ বন্ধ করে। কথা বলে না। লজ্জায় চোখ বন্ধ করে রেখেছে মেয়েটা। জায়ান ঠোঁটের ওপরে আঙুল দ্বারা স্লাইড করে বলে,,,
"এতো সেনসেটিভ লিপস্! এইটুকুতেই এরকম হলো!"
জায়ান এর কন্ঠে চিন্তা। রুমি মাথা নিচু করেই শুঁকনো ঢোক গিলে।। জায়ান মেয়েটার ললাটে আদুরে চুমু এঁকে দিলো বললো,,,,
"তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়,,,, অতি সান্নিধ্যে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা,,,তোমার হৃদয়ে নিয়ে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হতে দেখা,,,তোমার চোখের জল মুছে দেওয়া,,, তোমার ঠোটের হাসির কারণ হ্ওয়া,, তোমার দিকে ওঠা নজর আমার বুকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া,,,,এই সমস্ত কিছু যদি তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা বোঝায়। তাহলে বলবো,,,আমি তোমাকে ভালোবাসি।"
রুমি এবার ফট করে তাকালো তার দিকে। হৃদ মাঝারে শীতল পরশ বুলিয়ে দিলো কেউ। পেটে প্রজাপতিরা ডানা মেলে উড়ে বেড়ালো।। আকুলিবিকুলি অনুভূতিতে ভরে উঠলো চিত্ত। জায়ান আবারও বেকায়দায় পড়ে। মেয়েটার এহেন তাকিয়ে থাকা ওকে উস্কানি দিচ্ছে। জায়ান মেয়েটার দুই গালে হাত রেখে আরো একবার সেই লাল ঠোঁট দুটো আয়ত্তে আনে। এবার চুমুর বন্যা বয়ে গেলো। রুমি কেঁপে উঠলো পীড়ায়। ব্যাথা হচ্ছে। জায়ান দুই মিনিট পর মাথা তোলে। রুমির ভেজা চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলে,,,,
"তোমার প্রতি আমার সম্পূর্ণ অধিকার আছে।"
শেষে মেয়েটার মাথায় চুমু দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। চলে যাওয়ার আগে বলে,,,
"ভালোবাসা একটা প্যারাডক্স। আমরা এটা সমাধান করতে পারি না।। তুমি শুধু অনুভব করো,,, my sunflower."
রুমি কে একদম হতচকিত রেখে জায়ান কক্ষ ত্যাগ করে।। সে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল। চোখ দুটো ফাঁকা দৃষ্টিতে দরজার দিকে।। এদিকে রুমি ধীরে ধীরে হাত উঠিয়ে আঙুল গুলো নিজের ঠোটে ছুঁইয়ে দিতেই একটা মৃদু ব্যথা অনুভব করে অতঃপর শরীর জুড়ে ছড়িয়ে যায় লজ্জার শিহরণ।। এই অধর গুলিতে যেন এখনো সেই মানুষটার স্পর্শের উষ্ণতা লেগে আছে।।
রুমি চোখ বন্ধ করে নিলো। এক গভীর নিঃশ্বাস ফেলল। আর মনে মনে স্বীকার করল, সে প্রেমিকা। কার!! জায়ানের।।
---------------
আসিফার দুই হাত একত্রে বাঁধা। মেয়েটা সোফায় বসে বসে কাদঁছে।
(বি দ্রঃ-পরের পর্বে জায়ান রুমি এবং আয়াজ আসিফার রোমান্টিক পর্ব পেতে চাইলে 1k লাইক করে দাও,,,ফটাফট)
#জটিল_প্রেম সমস্ত পর্ব একত্রে লিংক কমেন্টে ।(পড়ে পেজ ফলো দেবেন)
ক্রমশ
---------------(বেশি বেশি করে লাইক এবং কমেন্ট করুন আপনাদের কাছ থেকে 1k লাইক আশা করাটা কোন বড় কথা নয় কারণ আপনারা অনেক অনেক মানুষ যারা গল্প পড়েন।। ইনশাল্লাহ এবার থেকে রেগুলার গল্প দেওয়ার চেষ্টা করব,,, এটলিস্ট তিনদিন পর,,,,)