#পর্ব_৪৪
#জটিল_প্রেম
----------------------☞
(গল্প কপি করা নিষেধ। রোমান্টিক পর্ব নিজ দায়িত্বে পড়বেন।)
.
আসিফার দুই হাত একত্রে বাঁধা। মেয়েটা সোফায় বসে বসে কাদঁছে। ওর ফুপানির শব্দ নিস্তব্ধ কক্ষে রেশ ছড়াচ্ছে। অভিমানে টইটুম্বুর মেয়েটা এখন কারোর বন্দি।।
.
রুমির টি শার্ট আর প্লাজু পরিহিত আসিফা। নিচে রাজিয়া বেগম এর রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে নেয় সে,,,অতপর বেশ গল্প লাগায় দাদীর সাথে। আসিফা আসার আগে বুঝেছিল যে রুমে জায়ান আছে,,,ওদের প্রাইভেসি দেওয়া উচিত ভেবে রুমির কাপড় নিয়ে সোজা নিচে চলে আসে।। আসিফা কিছু পূর্বে আগে দেখেছে জায়ান কে চলে যেতে তাই সেও ঘুমানোর জন্য দাদি কে বিদায় জানিয়ে উপরে উঠে আসে। রুমির রুমে যাওয়ার আগেই কেউ ওর হাত টেনে ধরে। আসিফা চমকে পিছনে তাকিয়েই দেখে আয়াজ।। মেয়েটা এইবার ফুঁসে উঠলো। হাত ছাড়াতে চেষ্টা করলে আয়াজ বোঝানোর সুরে বলে,,,,
"আসু প্লিজ... কথা শোনো..."
আসিফা ওর দিকে না তাকিয়েই তীব্র কন্ঠে বলে,,,"হাত ছাড়ুন...আমি কিছু শুনতে চাই না।।"
আয়াজ ধীরে ধীরে আসিফার নিকটে যায়। মেয়েটাকে এক প্রকার পিছন থেকেই আগলে ধরে বলে,,,
"হৃষ্টপাখি...এত অভিমান! একটা বার ফিরেও তাকাবে না!! আমার আদুরে,,,প্লিজ কথা বলো,,,"
আসিফা চোখ বন্ধ করে ভারী নিশ্বাস ফেলে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে আয়াজ এর সেই কাঙ্ক্ষিত ব্যবহারের কথা।। মনটা বিষিয়ে ওঠে মুহূর্তেই। আপন মানুষদের দেয়া ছোটো একটা আঁচড় ও অনেক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।। আসিফা কেঁদে দেবে এমন ভাব,,,তাও নিজেকে ধাতস্ত করে আয়াজ এর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে নিতে বলে,,,,
" এইভাবে ধরবেন না,,, কেউ দেখে ফেলবে,,,সরে যান,,, আমি আপনার সাথে কোন কথা বলতে চাই না,,,আমায় যেতে দিন।।"
আয়াজ এইবার মেয়েটাকে ঘুরিয়ে নিল। চোখে চোখ রেখে বলল,,,,
"সরি তো,,,,কি করলে রাগ ভাঙবে!"
"রেগে নেই আমি,,,, জাস্ট আপনি দূরে থাকুন। ছাড়ুন আমায়,,,"
আসিফার কঠিন সুর।। মেয়েটা তার থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে ধীরে ধীরে,,, এই কথাটা মস্তিষ্কে পাচার হতেই আয়াজের হৃদয় জ্বলে উঠলো,, চোয়াল শক্ত হলো।। রাগ ভাঙ্গাতে এসে নিজেই যেন ক্রোধিত হলো।। তাও তাহ ঢোগ গিলে বললো,,,
"আসু প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো।। সেদিন রেগে ছিলাম আমি,,, রুমির ব্যাপারে অনেক পজিটিভ। তুমি জানো সেটা।। তখন এত বড় একটা কিছু দেখে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি।। তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি। আই এম সরি,,, আই এম রিয়েলি সরি।"
আসিফার গলার মাঝে ব্যথা অনুভব করে।। কান্না চেপে রাখার জন্য এমন হচ্ছে তারপরেও অশ্রু বাঁধ মানলো কোথায়!! চোখে এসে ভিড় জমালো।। সেই নয়নেই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল,,,
"আপনি কেন সরি বলছেন! সরি তো আমার বলার কথা।। তখন নিজের ভাইয়ের সাপোর্ট নিয়েছি আমি।। আপনি তো নিজেই বলেছেন,, আপনার চোখের সামনে না আসতে,আপনার থেকে দূরে থাকতে। দূরেই আছি।।
আর কি জানেন আয়াজ মানুষ রাগে সবসময় সত্যি কথাটাই বলে। আপনিও বলেছেন।। আমার একটা ইয়ার্কি আপনার ইগোতে লেগেছিল তাই জন্য জেদে পরে বিয়ে করেছেন,,,,এখন আমার মত ভিলো'অ্যাভারেজ মেয়েকে আপনার পছন্দ না হওয়ার কথা।। আর প্লিজ সরি বলে আমায় ছোটো করবেন না,,,আমাকে শুধু ছেড়ে দিন।।"
আসিফার বলা প্রতিটা কথা আয়াজ এর মাঝে বিস্ময়ে উৎপন্ন করে।। ছেলেটা অবাক নজরে তাকিয়ে দেখতে থাকে আসিফাকে।। মেয়েটার কঠিন বাক্যগুলি যেন ওকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। এতটা অভিমান করল মেয়েটা!এতটা রাগ? আয়াজের কপাল কুঁচকানো চোখে মুখে কেমন অবাকতা।। আয়াজ নিজের দুই হাত দিয়ে আসিফার গালের দুইপাশ চেপে ধরল,,,অনুনয় সুরে বলল,,,
"এতক্ষণ ধরে তুমি কি বলেছ তুমি জানো! কোন আইডিয়া আছে কতটা কঠিন তোমার শব্দগুলো!
এতটা অভিমান আমার প্রতি!!"
আসিফা ফ্লোরে চোখ রেখেই ওর হাত নিজের গাল থেকে সরিয়ে নিয়ে বলে,,,
"গত চার দিনে আমি বুঝে গিয়েছি আমার অভিমানে আপনার কোন যায় আসে না।। তাই তো এই কদিনে আমার হাত টা পর্যন্ত ধরে দেখেননি আর এখন যেই না আমি আপনাদের বাড়ি, আপনার চোখের সামনে তখন স্বামী হওয়ার অধিকার নিয়ে এসেছেন আমার কাছে।। আপনি বললে আমি চলে যাব,,,"
আসিফা আবল তাবোল চিন্তা করে নিজের মস্তিষ্ক বিকৃত করে ফেলেছে।। সে কিছুই শুনতে চায় না,বুঝতে চায় না।। এদিকে আয়াজ কিংকর্তব্য বিমূঢ়।। কি করবে বা বলবে বুঝে উঠতে পারছে না।। মেয়েটাকে বোঝানোর উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। এলোমেলো লাগছে।। আয়াজ চোখ বন্ধ করে আবার খোলে,,,ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে বলে,,,
"এতটা গভীর ভাবলে! এই চার দিনে আমার উপর থেকে কি প্রেসারে গিয়েছো তুমি জানো!! এদিকে তুমি আমার সাথে কথা বলছো না, রুমির অবস্থা খারাপ, অফিসের টেনশন আর সাথে অজানা শত্রু।। এই চারদিনে আমার মানসিক শান্তি টুকু ছিল না,,, আর আমার মানসিক শান্তি কে জানো! 'তুমি'।। এতটা ভুল তুমি আমাকে ভাবতে পারলে!!
আর কি বললে! মানুষ রাগে সবসময় সত্যি কথা বলে!! তাহলে বলবো তুমি ভুল.... রাগ একটা মানসিক বিপর্যয়,,,যেখানে সে কি বলছে বা করছে সেটা সে জানে না।।"
আসিফা কথা বলে না।। আয়াজ এর কথা শোনে চুপচাপ।। অতপর নিজেকে ছাড়িয়ে নিল আলতো করে।। ধীরে ধীরে পা ফেলে চলে গেলো। আয়াজ ওকে আটকাতে চেয়েও পারলো না।। তাও কোনো রকম বলে,,,,
"আসু.... তিক্ততা বাড়িও না।।"
আসিফা ঠোঁট কাঁপিয়ে পিছে ফিরে বললো,,,
"আমাদের সম্পর্কে তো প্রথম থেকেই তিক্ততা।। যখন আমি প্রথম নিজের ভালোবাসার কথা আপনাকে জানিয়েছিলাম তখন থেকেই আপনি আমায় দুর ছেই করেছিলেন!! আপনি কখনোই আমায় চাননি মন থেকে।"
আয়াজ এইবার ফুঁসে উঠলো। মেয়েটা তখন থেকে যা নয় তাহ বলেই যাচ্ছে।। সে চপল পায়ে আসিফার নিকটে গিয়েই ওর কোমড় টান দিয়ে নিজের সহিত একদম মিশিয়ে নিলো। চোখে চোখ রেখে চোয়াল শক্ত করে বললো,,,
"তখন থেকে যা মুখে আসছে বলেই যাচ্ছ। এই,,, কি ভেবেছো! আমি চুপচাপ আছি বলে কি মাথা কিনে নিয়েছো!! আর একটা বাজে কথা বললে,,,"
"কি করবেন!! কি আর করবেন....স্বামীর অধিকার ফলাবেন জোর করে।।"
আসিফার এই কথা যেনো আগুনে ঘি ঢালার সময়।। চেতিয়ে উঠলো আয়াজ। রাগে অগ্নিশর্মা রূপে ধরা দিল ওর চেহারা।। ছেলেটার সমস্ত সংযম টুটে গেলো,,, মড়মড় করে।। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলে,,,
"জোর করে!! কেনো সেদিন বুঝি তোমার সম্মতি ছিলো না!! জোর ফলানো কাকে বলে জানো তুমি!! আমি যদি তোমার উপর শুধু জোর ফলতাম তাহলে তুমি আর সোহিসালামত থাকতে পারত না।।..."
আসিফা মুছড়া মুছড়ি করছে, কাদঁছে। কি এক নাজেহাল অবস্থা।। আয়াজ আরও ক্ষেপে উঠলো।। আসিফা কে সোজা কোলে তুলে নিজের রুমে নিয়ে দরোজা জোরদার শব্দে বন্ধ করেতেই আসিফার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো। সে খামচে দিলো আয়াজ এর কাঁধ,গলা,কান।। ছেলেটা কিছুই বলে না। চোখ মুখ দৃঢ় ছেলেটার।। মেয়েটাকে বিছানায় শুইয়ে দিতেই আসিফা পালাতে চায়।। চিৎকার করে উঠলেই আয়াজ ওর দুই হাত বিছানার সহিত চেপে ধরে ওর মুখের দিকে ঝুঁকে পড়ে দাঁত পিষে বলে,,,,
"এই ভাবে চিল্লাচিল্লি করলে কেউ এই রুমে প্রবেশ করা তো দূরের কথা,,,এই রুমের আশেপাশেও কেউ আসবে না।।"
আসিফা নাক টেনে বলে,,,"আমি সবাইকে ডাকবো।।"
আয়াজ ভাবলেশহীন কণ্ঠে জবাব দেয়,,,"ডাকো! একটা ম্যারিড কাপেল দের রুম থেকে এরকম আওয়াজে সবাই লজ্জা পাবে।। সকালে তোমারই মাথা কাটা যাবে।।
আর এমনিও আমি এতটাও হার্ড কিছু এখনও করিনি আসু।। কিন্তু করবো না তার গ্যারান্টি নেই।। কি বলেছিলে! জোর ফলানো!"
বলেই আয়াজ এর হাতের স্পর্শ যায় রমণীর কাপড়ের আড়ালে।। সেথায় পীড়াদায়ক ছোঁয়ায় স্বস্তির করে মেয়েটাকে।। বক্ষ স্থলে চিনচিনে ব্যাথাটা তিরতির করে বাড়লো। মেয়েটার আখিদ্বয় টইটুম্বুর হলো। কিন্তু সেদিকে আয়াজের মন কথায়। সে মাতোয়ারা অন্য কোথাও। গতি বৃদ্ধি করে সে তাকালো মেয়েটার পানে।। কাদঁছে রমণী।। আয়াজ শক্ত কন্ঠে বলল,,,,
"জোর ফলানো একে বলে,,,যেখানে তুমি ব্যথায় কাতরাচ্ছ আর আমি নিজের মতোই ব্যাস্ত।।"
আসিফা উত্তর দেয় না। ছেলেটা ওর দুই হাত উপর দিকে তুলে নিজের এক হাত থাবা বসিয়ে চেপে রেখে আর অন্য হাতে তাকে অতিষ্ঠ করছে।। আয়াজ এই বার কুটিল হেসে ওর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,,,,
"Should i create a little more pressure?"
আঁৎকে উঠলো আসিফা।। ত্বরিত মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো।। আয়াজ এবার মেয়েটাকে দেখলো মন ভরে। এই কয়দিন মেয়েটাকে নিজের সান্নিধ্যে না পেয়ে যেনো পাগল লাগছিল। মেয়েটার মাঝে তার সুখ লুকিয়ে আছে।। আয়াজ ওর গালে হাত রেখে মুখটা সোজাসুজি করে। আসিফা জ্বলজ্বল চোখে তাকায় ছেলেটার দিকে।। আয়াজ চোখে মুখে কেমন অভিলাষ।। আসিফা শুঁকনো ঢোক গিলে। যেই না কিছু বলতে যাবে অমনি ওর ঠোঁটের মালিকি কেড়ে নিলো আয়াজ। দুই অধরের মেল ঘটে সাথে দুই জিহ্বার ও।। যেনো ছেলেটা নিজের সমস্ত ক্ষিপ্ততা এই দুই নরম,কোমল ওষ্ঠাধর এর মাঝেই জাহির করে।।
এদিকে আসিফা ললাট কুঁচকে ফেললো।। ব্যাথায় সিক্ত হলো সেই কাঙ্খিত স্থান।। আজ ছেলেটার চুম্বনের মাঝে কিছু আছে! এই কিস্ সফট নয় বরং পাথরের মত শক্ত।। দম ফুরিয়ে আসলেই আসিফা তীব্র নড়াচড়া শুরু করে। শব্দ বের করে মুখ থেকে।। আয়াজ উপায় না পেয়ে ওকে ছাড়লো।। মেয়েটা হাঁপানি রোগীদের ন্যায় নিশ্বাস ছাড়ছে। ওঠা নামা করছে মেয়েটা উরঃস্থল। আয়াজ ভারী শাস ছেড়ে ওর গালে নাক গেঁথে হ্যাস্কি সুরে বলে,,,
" আর কি যেনো বলেছিলে! জেদ! আমি জেদ নিয়ে তোমায় বিয়ে করেছি!! তাহলে এই মুহূর্তে আমি আরো একটা জেদ দেখাবো আর তুমি থামাতেও পারবে না।।"
কথার শেষেই কাজের শুরু।। ছেলেটা টেনে হিঁচড়ে মেয়েটির পরণের টি শার্ট খুলে ফেললো। সহসা আসিফা ভিমড়ি খেলো,পুলক লাগলো শরীরে।। নিজেকে উন্মুক্ত দেখেই লাজে টালমাটাল হলো।। আয়াজ এর তীক্ষ্ম,গভীর দৃষ্টি তার দিকেই প্রতিৎ হয়েই ঘন স্বরে কেঁদে উঠলো মেয়েটা।। নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলেই আয়াজ ওর হাত দুটো বেঁধে দিল। অতপর ওকে তুলে সোজা সোফার মাঝখানে বসিয়ে দিলো। যেনো কোনো অমুল্য শো পিস্। দুই হাত দিয়ে নিজেকে লুকাতেও পারলো না আসিফা।। শুধু চুল খোলা,,,তাই একটু হলেও স্বস্তি।। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।।
আয়াজ ওর চুল যত্ন করে বেঁধে দিল। শুধুই ছোটো ছোটো চুল মুখের উপর হাজির হলো।। আয়াজ ওকে কুঁকড়ে যাওয়া থেকে আটকে বললো,,,,
"একটু নিজেকে আড়াল করার ট্রাই করো,,,,ট্রাস্ট মি আমার নামে বলা তোমার এক একটা কথা ফিরিয়ে দেবো।।
এই ভাবেই সারা রাত তুমি বসে থাকবে। আমি দেখবো।। খুব ডিসেন্ট ছেলে আমি,,,কিন্তু তোমার বেলায় অভদ্র।। তখন থেকে তোমার অযৌক্তিক সমস্ত কথা শুনেছি,,,,এবার তোমার পালা।।"
আসিফা মাথা নিচু করে কেঁদে উঠলো। ফুঁপিয়ে বলে,,,,"তাহলে আপনার উপর অভিমান করতে পারবো না,,,তাই তো!!?'
"অবশ্যই পারবে,,,কিন্তু অভিমান এর ঠেলায়,,,অপ্রাসঙ্গিক কথা মানবো না।। তুমি নিজেকে ছোটো করেছো,মানে আমার অস্তিত্ব কে ছোটো করেছো,,,,আমার ভালবাসা কে অসন্মান করেছো,,,এটা তার শাস্তি।।"
আয়াজ এর নিরেট বাক্য।। ছেলেটা সোজা বিছানার মাঝে আদো শোয়া হয়ে বসে।। বুকের দামামা বাজলো আসিফার।। ঝা চকচকে আলোর মাঝে আয়াজ গভীর দৃষ্টি রাখে বরাবর সোফায় বসে থাকা মেয়েটার দিকে। ওর দৃষ্টি এতো ধারালো যে, মনে হচ্ছে সেই দৃষ্টি দিয়েই মেয়েটাকে গভির ছুঁয়ে দিচ্ছে।। এদিকে আসিফা লজ্জায় অবস।। তারউপর আয়াজ এর চাহনিতে,,,নাজেহাল।। একটা সময় লজ্জায়, কুণ্ঠায় আর শ্রান্ত হয়ে মেয়েটা ঢলে পড়ল সোফায়,,,,ঘুমিয়ে পড়ে ধীরে ধীরে।। আয়াজ এই অপেক্ষায় ছিলো।।
আজ আয়াজ আসিফা কে বোঝালো যে,,,না ছুঁয়েও কতটা গাঢ় ও নিবিড় ভাবে স্পর্শ করা যায়।আয়াজ মেয়েটাকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিলো।। লাইট অফ করে,,,ওকে বুকের মাঝে নিয়ে ঘুমন্ত প্রেয়সীর কপালে চুমু এঁকে বলে,,,,
"রাগ, অভিমান করার অধিকার তোমায় দিয়েছি,,,কিন্তু আমার থেকে দূরে যাওয়ায় নয়।।"
(আজ বেশি কিছু বলব না। কারণ আমার বলা আর না বলা সমান।। শুধূ 1 k লাইক না হলে আমি গল্প আর দেবো না। ইতি টানবো।।)
----------
দুই দিন কেটেছে। এখন রুমি অনেকটাই সুস্থ। ওষুধ চলছে এখনও।। সেই রাতের পর আসিফা উঠে নিজেতে একই রকম দেখে,,, ফাঁকা রুম পেয়ে মেয়েটা নিজের টি শার্ট পড়েই ভোঁ দৌড় দিলো। সোজা নিজের বাড়ি। খান বাড়ি।। তারপর মেয়েটিকে খুঁজে না পেয়ে সবাই যেন চিন্তিত। পরে জানা গেল আসিফা সকাল-সকালই বাড়ি চলে গিয়েছে।। এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে মেয়েটার চুপ রয় কিছু বলে না। আয়াজ শুধুই ওকে দেখে। মনে মনে হাসে।। এই দুই দিন জায়ান,আসিফা নিয়মিত রুমিকে দেখতে আসে, গল্প করে,সময় কাটায়।
জায়ান এর খুনসুটি অনেকখানি বেড়েছে রুমির প্রতি। রুমি বোঝেনা ছেলেটার বিহেভিয়ার এতটা চেঞ্জ কি করে হলো!! কথার সাথে তাকে আদুরে স্পর্শ করে, চোখে চোখ রাখে, চুমু দেয়। রুমি কে লজ্জা দেয়।। রুমি ও লাজে রাঙা হয়।। সময় গুলো যেনো কল্পনার থেকেও বেশী সুন্দর।।
------------
ঘড়িতে সকাল দশটা।। রুমি ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসলো।। ড্রয়িং রুমে নজর যেতে দেখল আসিফা, জায়ান এবং আয়াজ এর সাথে একটা অপরিচিত মেয়ে বসে আছে।। রুমি দৃষ্টি তীক্ষ্ম করে দেখলেই বুঝতে পারে মেয়েটি জায়ানের গা ঘেঁষে একদম বাহুতে বাহু ঠেকিয়ে হেসে গল্প করছে।। জায়ান এর চোখেও হাসির রেখা।। মেয়েটার চুল জায়ান এর কাঁধে ঠেকছে। মেয়েটার হাতের কনিষ্ঠ আঙুল জায়ান এর উরুতে স্পর্শ করছে। সবটা যেনো রুমির বুকে বিধছে।। চোয়াল শক্ত হয় মেয়েটার। ঈর্ষার ঝলকানির দেখা মেলে ওর মাঝে।।
এদিকে কথার ফাঁকে সেই মেয়েটি রুমির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলল,,,
"If I am not wrong এই পুঁচকি টা তোর বোন আয়াজ! আমি ফটোতে দেখেছিলাম,,,"
মেয়েটার কথায় সবাই রুমির দিকে তাকালো সাথে জায়ান। রুমির সরু, ধারালো চোখ ওর দিকেই।। জায়ান গলা কেশে সরে বসতে নিলেই রুমি দাতে দাঁত পিষে বললো,,,
"আসিফা,,একটু সরে বসলেই তোর খেল খতম।"
জায়ান সরে না। মেয়েটার রাগ বোঝে। এদিক সেদিক তাকিয়ে রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ে। এদিকে আসিফা,,,যেকি না পরোটা মিষ্টি গিলতে ব্যাস্ত সে রুমির এহেন কথায় বিভ্রান্ত হয়ে,পরোটা ঢোক গিলে বলল,,,,
"আমি কি করলাম,,,!!"
রুমি এইবার বিটকেল হেসে বলে,,,"তুই খা,,,"
এদিকে আয়াজ বলে ওঠে,,,"বনু,,, ও হলো লিজা। এ্যব্রোড থাকে। আমরা একসাথেই পড়াশোনা করেছি। দুই দিন আগে দেশে এসেছে,,,তোর অসুস্থতার কথা শুনে তোর সাথে দেখা করতে এসেছে।।"
আয়াজ এর কথায় রুমি মনে মনে ভাবলো,,,"ওরে জোঁক দেখা করে ফুটে যা....ওর সাথে চিপকাচ্ছিস কেনো! হুর হুর,,,দূরে যা,,,সরে যা।"
এদিকে রুমিকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে লিজা নিজেই উঠে এলো।। ওকে আলতো জড়িয়ে,মিষ্টি হেসে বলল,,,,
"nice to meet you Dear.... আশা করি তুমি এখন সুস্থ!"
রুমি হাসার চেষ্টা করে বলে,,," জ্বী,,,অনেকটাই।"
"যাক শুনে ভালো লাগলো।।"
রুমি আবারও একই ভাবে হাসে। লিজা ওকে টেনে সোফায় বসে। আয়াজ কে বলে,,,
"তোর বোনতো অনেক মিষ্টি!!"
আয়াজ হেসে বলে,,," ধানী লঙ্কা "
রুমি দাঁত চেপে একটা কুশন ছুঁড়ে দিলো ওর দিকে। আসিফার এই সবে কোনো ধরনের গ্রাহ্য নেই। সে খাচ্ছে। তার আজ শুধুই খেতে ইচ্ছে করছে।।
এটা তার শ্বশুর বাড়ি,,,,এটা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।। লিজা ভ্রু কুঁচকে আয়াজ এর উদ্দেশ্যে বলে,,,
"ওহহ শাট আপ আয়াজ।।"
সেই মুহূর্তেই আসমা সুলতানা সহ জারিন তাদের সবাইকে খেতে ডাকে।। লিজা আগেই সবার সাথে কুশল বিনিময় ঘটিয়ে নিয়েছে তাই সে হাসি মুখে জারিন এর নিকট গেলো।। এই সব দেখে যেনো রুমি রাগে জ্বলে যাচ্ছে।।
"এই আসুর বাচ্চা! তোর ভাইয়ের সাথে কোনো এক অজানা মেয়ে চিপকে চিপকে কথা বলছে আর তুই রাক্ষসীর মত গিলেই যাচ্ছিস!!"
আসিফা নজর বাঁকিয়ে বলে,,,"হ্যাঁ তো কি করব! তারা কি বাচ্চা নাকি যে আমি ওদের সরাবো!"
রুমি কিছুটা ভ্যাবাচেকা খেলো।। কি ভাবে বোঝাবে যে তার অন্তর খানখান হচ্ছে! আসু যদি কারণ জিজ্ঞাসা করে! তখন কি বলবে! বলবে,তোর ভাইকে আমি ভালবাসি! নাহ নাহ,,,,এই কথা মুখে বলতে পারবে না।। এদিকে লিজার কল আসে।সে বারান্দায় যায়। রুমি দেখে জায়ান ও ওকে ডাকার জন্য সেখানে গেছে।। রুমির মন চনমন করে। সেও চুপি চুপি তাদের পিছে যায়।।
"জায়ান ডু ইউ রিমেম্বার! কলেজে কি ভাবে আমরা রাতে হ্যাং আউট করতাম!! It was an amezing day.... খুব মিস করি। সাথে তোমাকেও,,,কতবার যে তোমাকে আমার মনের কথা বলেছিলাম,,,কিন্তু তুমি!! but now we are settled..........you know what I mean."
কথা গুলি শেষ করার সাথে সাথেই মেয়েটি জায়ান কে শক্ত করে হাগ করে।। সেই দৃশ্য দেখার সাথে সাথেই রুমির হৃদপিণ্ড থমকে যায়।। গাল হা করে জোরে নিশ্বাস ফেলতে তার শব্দ জায়ান এর কান পর্যন্ত পৌঁছায়। রুমি কে দাড়িয়ে থাকতে দেখেই স্তব্ধ হয়ে গেলো ছেলেটা।। লিজা মেয়েটা অবশ্য নিজ থেকেই ছেড়ে দিলো ওকে।। সেও দাড়িয়ে থাকা রুমি কে দেখে মিঠা সুরে বলল,,,
"আরে আসো,,,ওখানে দাঁড়িয়ে কেনো!!"
জায়ান এর দৃষ্টি এখনও রুমির দিকে।। গলার মাঝে শব্দ আটকে গেলো ছেলেটার।। এদিকে রুমি মাথা নিচু করে রুদ্ধ শ্বাস টেনে মৃদু হেসে এগিয়ে আসে। বলে,,,
"নাহ....আপনাদের ডিস্টার্ব করলাম মনে হয়। আসলে টেবিলে আপনাদের ডাকছে।।"
মেয়েটা মুচকি হেসে রুমির গালে হাত রেখে বলে,,,
"তুমি অনেক কিউট।।"
"আর আপনি সুন্দরী...."
মেয়েটা খানিক উদাস গলায় জায়ান এর দিকে এক নজর তাকিয়ে বলল,,,,
"সুন্দরী হয়ে কি লাভ!! কেউ তো আমার দিকে ঠিক ভাবে তাকায় না।"
"এবার তাকাবে আপি।"
রুমি কথাটি বলে দাঁত বের করে হাসে। মেয়েটা ওর কথায় বেশ পুলকিত হলো। বলল,,,
"ইসস কি সুন্দর বললে তুমি,,,i like you...."
রুমি একবার জায়ান এর দিকে তাকিয়ে চলে যায়।। ছেলেটা তখন একই অবস্থায়।। মেয়েটার কথা একদম সাধারণ ছিল,,,,যেনো কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস।।
লিজা আয়াজ এবং জায়ান এর বিদেশে পড়া কালিন বান্ধবী।। মেয়েটা তাকে পছন্দ করে। কিন্তু জায়ান এর সাথে কখনোই সেটা নিয়ে খোলা মেলা কথা বলেনি।।
জায়ান আর লিজা টেবিলে যায়।। খাওয়া দাওয়া করে একত্রে। এই সময় জুড়ে রুমি জায়ান এর দিকে ফিরে তাকাইনি।। এক পর্যায়ে লিজা সবার সাথে কুশল বিনিময় ঘটিয়ে অবশেষে শেষে জায়ান এর সহিত হাত মিলিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল,,,,
"Why you don't come to my place!"
"I will try..."
লিজা বিদায় নেয়। এদিকে জায়ান মনে মনে বলে,,,"ওরে লিজা,,,আমাকে পিজা বানিয়ে চলে গেলি,,,,সে তো আমাকে অরিগ্যানো, চিলি ফ্লেক্স ছাড়াই চিবিয়ে খেয়ে নেবে।।"
-----------
সময়টা তখন সন্ধ্যা। কমলা আলোয় আকাশ ঝিলমিল করছে। ভালোই লাগে রুমির এই সময়টা।। কোনো রকম উদাসীনতা নেই।। সকালে আয়াজ, জায়ান তাদের বাড়ি থেকেই অফিস চলে যায়।। আসিফাও কিছুক্ষন থেকে চলে যায়।। আজ নাকি মেয়েটা তার খালার বাড়ি যাবে।। রাফাজ আর জারিন গেছে ঘুরতে। আসমা বেগম, আয়নাম সাহেব আর রাজিয়া বেগম এক আত্মীয়ের অসুস্থতার খবর শুনে সেখানেই হন্তদন্ত হয়ে ছুটেছেন। ওরা রুমি কে নিয়ে যেতে চাইলেও মেয়েটা গেলো না।। আসমা বেগম এর মন চাইলো না মেয়েটাকে একা রেখে যেতে। কিন্তু খুব নিকট আত্মীয়,,,সেখানে না গেলেও কথা খারাপ। তার দুশ্চিন্তা দেখে রুমি আশ্বাস দিয়ে বলে,,,
"আমি এখন সুস্থ মাম্মা,,,, তোমরা যাও। আর এমনিও ভাইয়া চলে আসবে কিছুক্ষন পর।।"
"কিন্তু এইভাবে একা রেখে যাবো!! মেয়েদের নিয়ে যে চিন্তার শেষ নেই।"
"উফফ তাই বলে কি মেয়েরা একা থাকবে না! আর আমার যেতে ইচ্ছে করছে না,,,নাহলে আমি যেতাম।"
"শোন,,,গেট খুলবিনা সবার জন্য।। আসু কে ভিডিও কলে রাখবি। দারোয়ান চাচা আছে,,,,"
রুমি মাথা নাড়ালো।। আসমা সুলতানা মেয়ে কে জোর করতে চাইলেন না।। মেয়েটা কিছু দিন আগে অসুস্থতা কাটিয়ে উঠেছে।।
পরিবেশ উদাস না হলেও আজ রুমির উদাস। বারবার লিজা আর জায়ান এর জড়িয়ে ধরার মুহূর্তের কথা মাথায় আসছে।। মুহূর্তটা দুই সেকেন্ড এর হলেও রুমির কাছে অসহ্য পীড়াদায়ক।।
সন্ধ্যার পরপর রুমি ছাদ থেকে নেমে এলো।। নামাজ পড়ে নিয়ে..........ড্রয়িং রুমে বড় টিভি তে টম অ্যান্ড জেরি চালালো।। কিচেন থেকে স্পাইসি নুডুলস বানিয়ে এনে সোফায় বসলো। সময়টা ভালই কাটে। মাঝে মধ্যে একাকীত্ব ও শান্তি দেয়।। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো।। রুমি দ্রুত দরোজা খোলার আগে একবার ভাবলো,কে আছে বাহিরে জিজ্ঞাসা করবে! হ্যাঁ করা দরকার। পিপহোল থেকে দেখার চেষ্টা করেও পেলো না কাউকে।। এইবার রুমি হাঁক ছেড়ে বলে,,,
"কে বাহিরে!"
ওই পাশ থেকে গমগমে সুর ভেসে আসে....."ডাকাতি করতে এসেছি! দরোজা খোলো ।"
এটা সেই কাঙ্ক্ষিত পুরুষের শব্দ যে আজ সকালে তাকে সূক্ষ্ম ভাবে কষ্ট দিয়ে চলে গেছিলো।। রুমির অভিমান গাঢ় রঙ ধারণ করে।। সে তেজি কন্ঠে বলে,,,
"খুলবো না.....চলে যান।"
জায়ান ঠোঁট কামড়িয়ে হেসে বলল,,,,"আমি তো দরোজা খুলতে বলেছি ফ্লাওয়ার,,,,তুমি কি ভাবলে!!"
এইবার রুমির কান গরম হয়।। জায়ান এর ডবল মিনিং কথা সে বুঝতে পেরেছে।। রুমির এইবার রাগ হয়। ঠাস করে দরোজা খুলে দাতে দাঁত পিষে বললো,,,
"সমস্যা কি!!"
জায়ান ভাবলেশহীন কণ্ঠে বলে,,,"আগে বলো তোমার সমস্যা কি!!"
"আমার কোনো সমস্যা নেই।"
"আমারও নেই।"
"চলে যান।"
"যাবো না,,,কি করবে! আচ্ছা আসো পাঞ্জা লড়ি,,,,যে জিতবে সে সামনের মানুষটাকে যা ইচ্ছে করার জন্য বলতে পারে।"
রুমি তীব্র দৃষ্টিতে জায়ানকে তাকিয়ে দেখে বলে,,,"আমি কোনো ফালতু খেলা খেলব না!"
জায়ান ধীরে ধীরে এক পা সামনে বাড়ায়, চোখের গভীরে অদ্ভুত এক চ্যালেঞ্জের ঝিলিক নিয়ে রুমিকে বলে,,,,
"ভয় পেলে!! কারণ আমার সাথে শর্তের খেলায় ঢুকে কেউ কখনও বেঁচে যায়নি।"
রুমি দৃঢ় কন্ঠে বলে,,," আমি কেনো! আপনার অনেক মানুষ আছে,,,তাদের কাছে যান।।"
ইসস,,,কথাটি বলেই রুমি অন্তরে অন্তরে জিভ কাটে।। নিজের মন কে হাজার শাসন করার পরেও সেই মেয়েদের টিপিক্যাল ঈর্ষান্বিত বাক্য বলেই ফেলল!! এদিকে জায়ান ঠোঁট কামড়িয়ে হেসে দরোজা ছেড়ে ভিতরে এগিয়ে আসে। পা দিয়ে ঠেলে দরোজা বন্ধ করে দিলো।। এইদিকে জায়ান কে এগিয়ে আসতে দেখে রুমি পিছিয়ে যায়।। জায়ান এক ভ্রু নাচিয়ে বলে,,,
"কিছু পুড়ছে!! কেমন জেলাসির স্মেল আসছে।"
রুমি থমথমে খায়। বলে,,,,"জেলাসি!! মোটেও না।"
"তাই নাকি!!"
"হ....হ্যাঁ"
"পিছে সরছো কেনো?"
"আপনি এগিয়ে আসছেন কেনো!!"
"সাহস থাকলে দাড়িয়ে যাও..."
সাহসের প্রসঙ্গ টানতেই রুমি জেদ দেখিয়ে দাড়িয়ে পড়লো। জায়ান মনে মনেই হাসে।। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে একদম রুমির সান্নিধ্যে দাঁড়ায়।। যেখানে কোনো দূরত্ব নেই। জায়ান রুমির দিকে তাকিয়ে হাস্কি কন্ঠে বলে,,,,
"তোমার এই হৃদয় কাড়া নিশ্চুপতা চিৎকার করে বলছে,,,,আমি ছাড়া কেউ আপনার নয় জায়ান।"
রুমি এইবার কেঁপে উঠলো। নিজের মাঝে অস্থিরতা লুকানোর প্রয়াস চালিয়ে কোনো রকম বলে,,,
"আপনার ভুল ধারণা হচ্ছে।"
জায়ান এইবার হাত উঁচিয়ে মেয়েটার গালে রাখে। বৃদ্ধা আঙ্গুল ওর নরম ঠোঁটের ওপরে রেখে বেশ শক্ত ভাবে ডলা দেয়। গভির কন্ঠে বলে,,,
"পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি কি জানো! যখন দেখব তোমাকে হারানোর ভয়ে সামনের মানুষটা…নিজের সমস্ত শক্ত খোলোস ভেঙে ফেলে,শুধু তোমাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইবে।"
রুমির নিঃশ্বাস থেমে যায়। এক মুহূর্তে তার বুকের ভেতর যেন সবকিছু হালকা হয়ে আবার ভারী হয়ে পড়ে। চোখে একটা অদ্ভুত অনুভূতি, যা সে জোর করেও লুকাতে পারছে না। তারপর ছেলেটার এহেন স্পর্শ। বুকটা কেমন দুরদুর করছে।
জায়ান আবার একই রকম ভাবে বলে,,,
"আমার থেকে দূরে যাওয়ায় সমস্ত পথ অনেক আগেই মুছে গেছে,,,,রুমি। এখন শুধুই,,,রাগ,অভিমান এর পালা।। আর আমার কাজ সেগুলি মুছে ফেলা।"
রুমি জায়ান এর দিকে চেয়ে রইলো। ছেলেটা তাকে কোনো ভাবেই দূরে রাখে না।। এদিকে জায়ান এর মন চাইছে মেয়েটার সেই নরম অধরে চুমু দিতে একটা দুটো তিনটে পরপর অনেকগুলি চুমু একদম লাল করে ফেলতে সেই দুই গোলাপের পাপড়িকে। কিন্তু আপাতত নিজেকে দমালো।। পিছে তাকিয়ে টিভি দেখতে হেসে ফেলল ছেলেটা। টম এন্ড জেরি চলছে।
রুমিকে আরো উত্যক্ত করতে নিজের আঙুল গাল বেয়ে,থুতনি অতপর কাঁধ,গলা।। গলা থেকে নীচে নামার আগেই রুমি ঘপ করে ওর হাত ধরে ফেলে। রুমির হাতের তালু গরম। জায়ান এই রিয়েকশন এর অপেক্ষায় ছিলো।। ঠোঁটের কোণে খুনসুটি ভরা হাসি নিয়ে মেয়েটার দিকে ঝুঁকে,নিচু গলায় বলল,,,
"এটুকু নিতে ভয় পেলে!! তুমি না সাহসী মেয়ে,,, হাত ছাড়ো।"
রুমি এক ইঞ্চিও নাড়লো না। চোখে যেন হালকা আগুন, আবার কোথাও গভীর অনুভূতিও লুকিয়ে আছে। ছেলেটা তাকে মুহূর্তে মুহূর্তে শক দেয়।। তাও অভিমানের অজুহাতে নিরেট কন্ঠে বলে,,,,
" সীমা ছাড়াচ্ছেন।"
"আমার সীমা কোথায়, কতদূর পর্যন্ত সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি, রুমি।"
জায়ান ইচ্ছে করেই আরেকটু ঝুঁকে এল। দু’জনের নিঃশ্বাসের ফাঁকা জায়গাটা যেন শূন্যে মিলিয়ে গেল। নাকের সাথে নাক ঠেকলো,হয়তো কোন এক অকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে ঠোঁটের সাথে ঠোঁট ও ঠেকে যেতে পারে।। রুমির গলায় কেঁপে ওঠে,,,
"দূরে থাকুন…"
"আমি তোমার থেকে দূরে থাকি, সেটা তুমি কখনোই চাওনি।"
ওর কথায় রুমি একটু কেঁপে উঠলো, কিন্তু হাতের চাপ ছাড়লো না। জায়ান সেই সুযোগে মেয়েটার হাতের মাঝে নিজের আঙুলগুলো গেঁথে দিলো, পরপর। যেন পুরো দখল নিয়ে নিলো মুহূর্তটা।
তারপর এক অদ্ভুত শান্ত গলায় বলল,,,
"তুমি যতোই পিছিয়ে যাও, কিন্তু আমার দিক থেকে তোমার এই চোখ, এই হাত… কোনো কিছুই দূরে নিতে পারবে না।"
রুমির বুকের ভেতর যেন ঢেউ খেললো। নিজের মুঠো সরিয়ে নিতে চাইলেও, পারলো না। কারণ জায়ানের ধরে রাখা হাতের বন্ধন অতি দৃঢ়,যেন এই হাত সে কখনোই ছাড়বে না, কখনোই না।।
জায়ান এবার ওর হাত টেনে সোজা কিচেনে নিয়ে গেল সেখানে দাড় করিয়ে দিয়ে আদেশ সুরে বলল,,,
" টি উইথ আউট সুগার... দেখি মেয়েটা শুধু সাহসী নাকি চাও ভালো বানাতে পারে।। আর টিভিতে এখন তুমি টম এন্ড জেরি দেখছ!! আর ইউ কিডিং উইথ মি? এগুলো এখন তোমার বাচ্চাদের দেখার বয়স,,,"
কথাটি শেষ করে জায়ান খুবই আফসোস নিয়ে একটা রুদ্ধশ্বাস ছাড়লো,,, যেন রুমির বাচ্চাদের বিষয়ে তার ও হাত আছে।। রুমি ছোটো ছোটো চোখ করে তাকিয়ে রইলো।। ছেলেটার অধিকার সূচক কথায় সে কাহিল। ওর অভিমান মুছড়ে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে ছেলেটা।। বুঝিয়ে দিয়েছে,,,,সে তার কাছে সব। আর কেউ কোথাও নেই। কখনও ছিলো ও না।।
রুমি চা করে নিয়ে আসে। দেখে ছেলেটা ফোন দেখছে। টিভিতে তখনো কার্টুন চলছে।। রুমি চায়ের প্লেট টা তার দিকে এগিয়ে দিয়ে চুপচাপ সোফায় বসে দূরত্ব বজায় রেখে।।
কিছুর একটা অপেক্ষা করছে রুমি। কখন জায়ান চায়ের চুমুক দিয়ে মুখ বিকৃত করে তার দিকে তাকাবে এবং শুরু হবে ঝগড়া। কিন্তু এমন কিছুই হচ্ছে না।কেনো? সেকেন্ড যায়, মিনিট যায়।। একটা সময় রুমি কৌতূহলী হয়ে যখন ঘাড় ফিরিয়ে জায়ান কে দেখে বুকটা থরথর করে কেঁপে ওঠে।।
ছেলেটার কানের পাশ বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে। সারা মুখমন্ডল ঘামে লেপটে, এবং লালচে। চোখ রক্তিম আভায় পূর্ণ, চোয়াল শক্ত। ঠোঁট আলতো ফাঁকা। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ফেলছে মৃদু আঁচে। ছেলেটা একদম শক্ত হয়ে বসে আছে।
রুমি শুকনো ঢোক গিলে চায়ের কাপের দিকে তাকাতেই ধাক্কা খেলো। দেখল সেটা পুরোই খালি।। রুমি তৎক্ষণাৎ বৃহৎ আঁখি মেলে ছেলেটার দিকে তাকালো। তবে কি সে একটু বেশি করে ফেলেছে!!
চায়ে দুই চামচ ভরে লঙ্কা মিশিয়ে ছিল।। ভেবেছিল ছেলেটাকে একটু চ্যাতাবে। আবার একটু ঝগড়া, খোঁচাখুঁচি হবে। কিন্তু এই ছেলে তো বিষ!! এত ঝাল খেয়ে একটা শব্দ পর্যন্ত করলো না! রুমির মায়া হলো সাথে অপরাধবোধ।। সে এক হাত বাড়িয়ে ওর বাহুতে রেখে বলে,,,,,
"জা.......য়া"
জায়ান রুমির দিকে রক্তিম চোখে তাকালো,,, নিজের নামটাও পুরো উচ্চারণ করতে দিল না রুমি কে। ছেলেটা মেয়েটার ওকে স্পর্শ করার আগেই হাত ধরে সোজা সোফায় ফেললো। লামহায় রুমির দুই হাত চেপে ধরলো সোফার সাথে,,,,যেনো মেয়েটার হাতের কব্জিতে রাখা তার আঙুল লোহার শিকল। রুমি চমকে উঠলো। বুকের মধ্যে ছলাৎ ছলাৎ করছে। কিছু বলার পূর্বেই ওর নিম্ন অধর নিজের দন্ত দ্বারা টেনে ক্ষুদ্র ফাঁকা করে এবং সেই ফাঁকা পথেই নিজের অধরের স্থান করে নিলো জায়ান। একদম দৃঢ় ভাবে। কোনো শূন্যতা নেই।।
রুমির চোখ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্ধ হয়ে এলো। পরিবেশ ঘন। বাতাস কেমন ভারী। কাপছে ওর চিকন দেহ খানা। তার হাত দুটো এখনো জায়ানের আঙুলের ফাঁদে আটকে।
ঠোঁটের প্রতিটি স্পর্শ হৃদস্পন্দন শত গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।। তার শরীর অবশ হতে চাইছে। চুমুর তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বৈ কমছে।। এটা চুমু নয়,,,, জায়ান নিজের ঝাল কমাতে এই মেয়েটার ঠোঁট চিবাচ্ছে মনে হয়।।
এদিকে ব্যথায় কাতরাচ্ছে মেয়েটা।। রুমি অনুভব করতে পাচ্ছে নিজের জিভে ঝালের স্বাদ। এইবার মেয়েটা ছাড়া পেতে চাইলো।। এই ভাবে নিজের ফাঁদে নিজেই ফেঁসে যাবে জানা থাকলে ও কোনো জনমেই এমন কাজ করতো না।
প্রায় দশ মিনিট পর জায়ানের ঠোঁট এক মুহূর্তের জন্য সরে গেল। বিশ্রাম হীন চুম্বনে কাহিল করলো মেয়েটাকে।। তার রক্তিম অস্থির মেয়েটার পানে।
রুমির বুক ভরে শ্বাস টেনে টেনে মিনমিন সুরে বলে,,,
“জা...য়া....ন…”
শব্দটা উচ্চারণ হতেই ছেলেটা আবার ঝুঁকে এল। কানের লতিতে আদর করে, ঠোঁট বুলাতে বুলাতে ফিসফিস করে বলল,,,,
"এইরকম কিস্ টলারেট করার ক্ষমতা থাকলে তবেই ওইরকম মজা করবে।। আমার ঝাল খেতে সমস্যা নেই যদি সেটা কাটানোর উপায় হিসেবে তোমার এই মধুর ঠোঁট দুটো পাই।।"
বলেই রুমির রক্তিম ঠোঁট জোড়ায় আবার ঠোঁট ডুবালো।। পরপর তিনটি চুমু খায়।। রুমি গ্রেফতার হয়েছে অনুভূতির শিকলে।। ওর চিকন শরীর তখনও থরথর কাপছে।
---------------
দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত সুন্দর সময় কেটেছে রাফাজ জারিন এর।। কিন্তু হঠাৎ জারিন এর এনজিও থেকে ডাক আসে। রাফাজ এর মন না চাইলেও জারিন কে এনজিও তে ড্রপ করে অফিস চলে যায়।। কিন্তু হঠাৎ রাফাজ এর ফোন কল আসে,,,, জানা যায় জারিন এর হঠাৎ করেই অনেক বেশি বমি শুরু হয়,মাথা ঘুরে পড়ে গেলে ওকে সবাই হাসপাতাল এ নিয়ে যায়।।
এই কথা শোনা মাত্র রাফাজ পাগল প্রায় হয়ে গাড়িতে বসে।। দুরু দুরু বক্ষে এবং অতি টেনশনে গাড়ি ছুটায় মানুষটা। শুনশান হাইওয়ে।
প্রিয় প্রেয়সীর এহেন অবস্থার কথা শুনে সে মোটেও ঠিক নেই।।
কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। গাড়ির হলদেটে হেডলাইট রাস্তার কালো পিচে লম্বা ছায়া ফেলে রেখেছে।সেই আলোর মাঝেই হঠাৎ, সাত-আট বছরের এক বাচ্চা রাস্তার ওপার থেকে দৌড়ে এসে ঠিক রাফাজের গাড়ির সামনে হাজির! রাফাজ এর চোখ কপালে,,,সে চিৎকার করে বাচ্চাটিতে সরে যেতে বলার আগেই গাড়ির ধাক্কায় বাচ্চাটির ছোট্ট শরীরটা কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়ে। চাকার শব্দে বাতাস চিরে যায়, ব্রেকের কড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। রাফাজের নিঃশ্বাস যেন বুকেই আটকে যায়,,,,,
ক্রমশ
---------------
এদিকে ইয়ানা ছাদের একপাশ থেকে অন্য পাশে দৌড়াতে ব্যস্ত। শাড়িখানেক উঁচু করে সোজা যায় গোলাপ ফুলের গাছটার কাছে বিস্তার হেসে বলে ওঠে,,,
"আলু,,,, এই ফুল চুলে গুজলে কেমন লাগবে!?"
"অসাধারণ,,,,"
কাঁধের কাছে গরম নিশ্বাস আর হৃদয় গাঁথা পুরুষালি কন্ঠে ইয়ানা চমকে উঠে পিছন ফিরে তাকালো। মেয়েটা ভয়ে শেষ। ভারিক্কি নিঃশ্বাস ত্যাগ করে নিজেকে সামলে সামনে তাকাতেই দেখে বৃষ্টিতে জুবুথুবু রিফাত দাড়িয়ে। একদম ওর সান্নিধ্যে।। ইয়ানা এইবার বেজায় লজ্জা পেলো।।
নিজেরা অবস্থার কথা মালুম হতেই মেয়েটা পালিয়ে যেতে চায় কিন্তু রিফাত তার বৃহৎ হাতের থাবায় ওর কোমড় জড়িয়ে ধরে শাড়ি ভেত করে। ইয়ানা কুঁকড়ে ওঠে। শোনে রিফাত এর ফিসফিসিয়ে বলা কিছু বাক্য,,,,
"কেউ তার রূপ দিয়ে আমাকে আহত করার চেষ্টা করছে,,, তাকে বলে দিও আমি রিফাত আহত হয়েছি।"
পড়ুন এই রোমান্টিক ই-বই "এক প্রেমময় নিশি" শুধূ মাত্র বইটই • Boitoi এ্যাপ থেকে। লিংক সমূহ কমেন্টে।
#জটিল_প্রেম সমস্ত পর্ব একত্রে পর্বের লিংক সমূহ কমেন্টে।