#crown_of_shadows
#sadiya_afrin
{কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ}
Part 23
রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। বিশালাকার মির্জা ভিলার রাজকীয় কোলাহল এতক্ষণে অনেকটাই শান্ত ও নিঝুম হয়ে এসেছে। সুবিশাল প্রসাদের মতো বাড়িটার নিচতলার প্রধান আলোর ঝাড়বাতিগুলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেবল বিশাল মার্বেলের করিডোর আর পেঁচানো সিঁড়ির ধারে নরম আলোর ক্যাজুয়াল ল্যাম্পগুলো মৃদু আভা ছড়িয়ে অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে রাখছে। দিনভর পারিবারিক গুঞ্জন আর ব্যস্ততায় ভরা পরিবেশটা এখন একদম নীরব।
নিজের চারতলার সুসজ্জিত আর সাজানো ঘরে ঢুকে নাইরা দরজার লকটা হালকা হাতে আটকে দিল। সে সোজা আলমারির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরনের ভারী ড্রেসটা বদলে একটি ঢিলেঢালা, আরামদায়ক সুতির পোশাক পরে ফ্রেশ হয়ে নিল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ক্লান্ত মুখটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে সে।
আজকের পুরো দিনটা যেন অদ্ভুত এক মানসিক টানাপোড়েন আর চরম ক্লান্তি দিয়ে কেটেছে। গতরাতের সেই ভয়ংকর আর জটিল ইমার্জেন্সি ট্রমা সার্জারি, সকালের দিকে আম্মুর উদ্বেগগ্রস্ত মুখ, বিকেলে বন্ধুদের আড্ডায় আলভীর সঙ্গে আচমকা দেখা হয়ে শৈশবের পুরোনো স্মৃতিগুলো নতুন করে ডানা মেলা, আর রাতে ভিলায় ফিরতেই নিচতলার লবিতে থমথমে পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা ইহানের সেই কঠিন ও সরাসরি জেরা, "কই গেসিলি?"
নাইরা ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কিছুটা এলোমেলো চুলের দিকে তাকিয়ে হালকা বিরক্তিভরা মুখে বিড়বিড় করে বলে উঠল, "লোকটা এমন বিহেভ করে যেন আমি ঘরের বাইরে এক পা ফেললেও তাকে আগে লিখিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে! অদ্ভুত স্বভাবের মানুষ একটা!"
মুখ ফুটে কথাটা ইহানকে নিয়ে কড়া সুরে বললেও, নাইরার চঞ্চল মন অন্য কথাই ভাবছিল। সে নিজের মনকে ফাঁকি দিতে পারছিল না। ইহানের সেই হঠাৎ রাগের পেছনে কি শুধুই কড়া নজরদারির শাসন আর পারিবারিক কর্তৃত্ব ছিল? নাকি তার বরফশীতল চোখের আড়ালে অন্য কিছু—এক গভীর ও না বলা উৎকণ্ঠা লুকিয়ে ছিল?
সেটা কি সত্যিই কেবল মির্জা পরিবারের মেয়ে হিসেবে কোনো দায়িত্ব ও সিকিউরিটির চিন্তা? নাকি তারও গভীরে লুকিয়ে থাকা এমন কোনো অজানা অনুভূতির নাম যা তারা দুজন আজও স্বীকার করতে পারেনি?
নাইরা হালকা মাথা ঝাঁকিয়ে এসব অনাহূত আর জটিল চিন্তা মন থেকে দ্রুত ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করল। এখন এসব ভাবার মতো শক্তি তার শরীরে নেই। সে ড্রেসিং টেবিল থেকে নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিন অন করল। তারপর বান্ধবীর মেসেঞ্জারে একটি দ্রুত টেক্সট পাঠাল, "Reached home."
মেসেজ পাঠানোর সাথে সাথেই ওপাশ থেকে রাইসা অনলাইনের নীল আলো জ্বালিয়ে যেন অপেক্ষাতেই ছিল। ব্যাকুল আর উৎসুক হয়ে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই দিল, "Finally! বল বল, এতগুলো বছর পর Alvi-এর সঙ্গে দেখা করে কেমন লাগল? একদম বদলে গেছে নাকি আগের মতোই আছে?"
নাইরা বেডের পাড়ে হেলান দিয়ে বসে ঠোঁটের কোণে হালকা ও স্বস্তির অমলিন হাসি ফুটিয়ে টাইপ করল, "Same old Alvi. একটুও change হয়নি। সেই আগের মতোই পাগলাটে আর চঞ্চল আছে।" বার্তাটা পাঠিয়ে সে ফোনটা পাশের নাইটস্ট্যান্ডের কাঁচের ওপর আলতো করে রেখে দিল।
অন্যদিকে নিচতলার সাউন্ডপ্রুফ স্টাডি রুমে ইহান তখন একা দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুরো ঘরটা আংশিক অন্ধকারে ডুবে আছে, কেবল তার পার্সোনাল এনক্রিপ্টেড ফোনের স্ক্রিনটি আবছায়ায় নীল আলো ছড়াচ্ছে। ইনবক্সে অপরিচিত একটা নম্বর থেকে পাওয়া সেই মারাত্মক থ্রেট বার্তাটি বারবার তার প্রখর চোখের সামনে ভেসে উঠছে, "তুই যাকে protect করতে চাস, সে ইতিমধ্যেই আমাদের নজরে আছে।"
ইহানের ফর্সা সুগঠিত মুখের রক্তাভ ভাব মুহূর্তের মধ্যে হিমশীতল ও মারাত্মক গম্ভীর হয়ে উঠল। চোখের চশমাটা এক আঙুলে একটু ঠিক করে নিয়ে সে ক্ষুরধার গতিতে নম্বরটির ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ট্রেস করার চেষ্টা করল। কিন্তু শত্রুপক্ষ অত্যন্ত চতুর। আগের বারের মতোই এনক্রিপশন প্রটোকলগুলো এত বেশি জটিল যে কোনো সুনির্দিষ্ট আইপি address বা মোবাইল টাওয়ারের সঠিক লোকেশন পাওয়া গেল না।
কয়েক সেকেন্ড গভীর চিন্তায় নীরব হয়ে থাকার পর ইহান স্থির করল এভাবে বসে থাকলে চলবে না। সে একটা বিশেষ গোপন এনক্রিপ্টেড নম্বরে কল মেলাল। ওপাশ থেকে খুব দ্রুত আর সামরিক কায়দায় সতর্ক কণ্ঠ ভেসে এলো, "জি, ভাই।"
ইহানের কণ্ঠস্বর এ মুহূর্তে গলে যাওয়া বরফের চেয়েও বেশি ঠান্ডা, সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত, "আজ বিকেলে নাইরা যখন বের হয়েছিল, তার বাইকের পেছনে যে কালো টিন্টেড স্পোর্টস কারটা ডিস্ট্যান্স মেইনটেইন করে ফলো করছিল, সেই গাড়ির নম্বর আর ওনারকে অবিলম্বে identify করতে হবে।"
ওপাশ থেকে অত্যন্ত মনযোগ দিয়ে নির্দেশ শুনে দ্রুত ইতিবাচক উত্তর দেওয়া হলো।
ইহান জানালার কাঁচের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আরও কঠোর ও হুংকার ভরা গলায় নির্দেশ দিল, "আমি exact tracking report চাই। আর কেউ যদি কাল থেকে আবার ওর বাইক বা গাড়ির পেছনে ছায়ার মতো ঘুরঘুর করার সাহস দেখায়, তবে সাথে সাথে আমাকে জানাবি। Action এবার আমি নিজে নেব।"
কলটা কেটে দিয়ে সে ধীরপায়ে চারতলার দিকের জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে নিঝুম রাতের ঘন আঁধার পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে ছড়িয়ে আছে। ইহানের নীলচে চোখের চাউনিতে এখন ফুটে উঠেছে মারাত্মক এক হিংস্র শিকারী সতর্কতা। কারো বিষাক্ত নজর যদি সত্যি সত্যি নাইরার ওপর পড়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে এই লড়াই আর মির্জা গ্রুপের কোনো সাধারণ আইনি স্ক্যাম বা ব্যবসায়িক ঝামেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর পেছনে অন্য কোনো নোংরা চাল কাজ করছে।
উপরে চারতলার নিজের ঘরের বিশাল ফ্রেঞ্চ উইন্ডো পেরিয়ে খোলামেলা বারান্দায় এসে দাঁড়াল নাইরা। রাতের নিবিড় আর মৃদু মিহি বাতাস তার কাঁধের ওপর ছড়িয়ে থাকা রেশমী এলোমেলো চুলগুলোকে হালকা দোলা দিয়ে যাচ্ছে। দূরের সুবিশাল শহরের কৃত্রিম সোডিয়ামের হলুদ আলো আলো-ছায়ায় ঝাপসা আর মায়াবী দেখাচ্ছে।
ঠিক তখনই অনাসক্তভাবে আর অনিচ্ছাসত্ত্বেও তার চোখ নিচে মির্জা ভিলার বিস্তৃত নিঝুম বাগানের দিকে চলে গেল। বাগানের গাঢ় আলো-ছায়ার সীমানায় ইহান একা একা নীরব এক মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। এক হাতে কানের কাছে সিক্রেট ফোনটা ধরা, অন্য হাতটা ট্রাউজারের পকেটে শক্ত করে ঢোকানো। অন্ধকারের মাঝখান থেকেও তার সুগঠিত ফর্সা মুখের চেনা গম্ভীর আর অত্যন্ত কঠিন ভাবটা দূর থেকেই খুব স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
নাইরা দুই ভ্রু হালকা কুঁচকে মনের অজান্তেই বিষাদ চোখ মেলে নিচে তাকিয়ে রইল। মনে মনে স্বগতভাষণের মতো বলে উঠল, "এত রাতে আবার কী নিয়ে লোকটা এত মারাত্মক গম্ভীর আর serious হয়ে আছে?"
কিছুক্ষণ সে একদম নীরব দৃষ্টিতে নিচের দিকে তাকিয়ে সেই নির্জন দৃশ্যটা দেখতে লাগল। তারপর নিজেই নিজের বোকামিতে মনে মনে একটু হালকা হেসে ভেবে নিল, "হয়তো আবার Mirza Group-এর বড় কোনো নতুন business problem অথবা জটিল কোনো legal case নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে… আমার এসব ভেবে লাভ কী!"
সে আর বিষয়টা নিয়ে বেশি না ভেবে ঘরের ভেতরে পা বাড়াতে চাইল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই নিচে বাগানে দাঁড়িয়ে থাকা ইহান যেন কোনো অলৌকিক ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের টানে হুট করে মাথা উঁচু করে চারতলার বারান্দার দিকে সোজা তাকাল!
রাতের সেই নির্জন ও নীরব আলোয় দুজনের বরফশীতল আর চঞ্চল দৃষ্টি কয়েক সেকেন্ডের জন্য সরাসরি মিলে গেল। নাইরা হঠাৎ এভাবে ধরা পড়ে গিয়ে সামান্য অপ্রস্তুত ও বিব্রত হয়ে চট করে বারান্দা ছেড়ে ঘরের ভেতরে চলে গেল। আর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ইহান ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে নিজের ফোনের আলো নিভিয়ে দিল।
পরদিন সকাল। মির্জা ভিলার স্বাভাবিক রাজকীয় আর বিলাসবহুল আমেজ আবার ফিরে এসেছে। সকালের হালকা মিষ্টি রোদ বিশাল ডাইনিং হলের বড় কাঁচের জানালা দিয়ে সোজা এসে পড়ছে বড় কাঠের টেবিলটার ওপর।
নাইরা ফ্রেশ হয়ে সুতির একটা হালকা কাজের ড্রেস পরে নিচে নেমে এলো। বিশাল ডাইনিং টেবিলের এক পাশে এসে বসতেই পাশে বসা ছোট ভাই আয়ান দুষ্টুমি ভরা চঞ্চল মুখে বলে উঠল, "আপু, কালকে অত গোপনে বিকেলে কোথায় বাইক হাঁকিয়ে যাওয়া হয়েছিল?"
নাইরা ডাইনিং টেবিল থেকে অরেঞ্জ জুসের গ্লাসটা হাতে নিয়ে আয়ানের দিকে আড়া চোখে তাকিয়ে শাসনের সুরে বলল, "তোর অত শত শত খবর জিজ্ঞেস করার কোনো দরকার নেই, আয়ান। নিজের পড়াশোনায় মন দে।"
আয়ান ও আরাফের যমজ ভাই আহান সঙ্গে সঙ্গে আয়ানের সাথে সুর মিলিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে উঠল, "আরে বুঝিস না কেন আয়ান, নিশ্চয়ই কোনো secret mission ছিল!"
তাদের সাথে মির্জা পরিবারের কাজিন আরাফও হাত নেড়ে আড্ডা জমিয়ে তুলতে রহস্যময় গলায় যোগ করল, "Doctor by day, biker by evening!"
ওদের এই নিষ্পাপ আর মিষ্টি কৌতুক ও তুচ্ছ কাণ্ডকারখানায় ডাইনিং টেবিলে উপস্থিত সবাই হালকা হাসিতে মেতে উঠল। কেবল টেবিলের এক কোণে বসে থাকা ইহান একদম চুপচাপ শান্ত ভঙ্গিতে নিজের নাশতা শেষ করে যাচ্ছিল। নাইরা আড়া চোখে সূক্ষ্মভাবে খেয়াল করল, আজ সকাল থেকেই ইহান অস্বাভাবিক রকম নীরব আর মারাত্মক গম্ভীর হয়ে আছে। তার মুখে কোনো প্রকাশ নেই।
ফারহান মির্জার পাশে বসে থাকা আফরোজা মির্জা মেয়ের দিকে তাকিয়ে স্নেহমাখা গলায় বললেন, "আজ কি তোর hospital-এ কোনো জরুরি operation বা ডিউটি আছে রে নাইরা?"
নাইরা জুসের গ্লাসে শেষ চুমুক দিয়ে স্বাভাবিক হালকা গলায় জবাব দিল, "না আম্মু, সকালে তেমন কোনো চাপ নেই। তবে দুপুরের পর চেম্বারে একটা স্পেশাল consultation আছে। কিছু ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট দেখতে হবে।"
ডাইনিং টেবিলের প্রধান আসনে বসে থাকা পরিবারের অভিভাবক শাহরিয়ার মির্জা গম্ভীরভাবে শুধু হালকা মাথা নেড়ে সাইন দিলেন।
সবকিছু মির্জা ভিলার চেনা ও স্বাভাবিক ছন্দেই এগোচ্ছিল। ঠিক তখনই টেবিলের ওপর রাখা ইহানের গোপন এনক্রিপ্টেড ফোনের স্ক্রিনে একটা ছোট সাইলেন্ট নোটিফিকেশন আলো পেয়ে জ্বলে উঠল।
ইহান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিবারের সবার চোখ এড়িয়ে ফোনটা হাতের তালুতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকাল। তার বিশ্বস্ত এজেন্টের পাঠানো অতি গোপন টেক্সট মেসেজ, "কালো গাড়ির number পাওয়া গেছে। Owner-এর গোপন তথ্য আর ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটাবেস বের করার কাজ চলছে।"
ইহানের প্রখর চশমার ওপারে থাকা দুটি নীলচে চোখ মুহূর্তের জন্য পাথরের মতো মারাত্মক হিংস্র, কঠিন আর বরফশীতল হয়ে উঠল। নাইরা ডাইনিংয়ের এত মানুষের মাঝে ইহানের এই সূক্ষ্ম আর বিপজ্জনক মানসিক পরিবর্তন বিন্দুমাত্র খেয়াল করেনি। সে তখন আয়ান আর ছোটদের সাথে হালকা কথা বলে হেসেই চলেছে।
ইহান পরম ধৈর্য আর নিয়ন্ত্রণে ফোনটা আবার সাইলেন্ট মোডে পকেটে রেখে দিল। তারপর শেষবারের মতো ডাইনিং টেবিলের অপর প্রান্তে বসে থাকা নাইরার চঞ্চল মুখের দিকে চোখ তুলে তাকাল। নাইরা পুরোপুরি স্বাভাবিক। একদম চিন্তাহীন, নিশ্চিন্ত, প্রাণবন্ত আর অবারিত হাসছে।
আর ঠিক তার এই নিষ্পাপ হাসির কারণেই ইহানের বুকের ভেতরের অজানা অস্বস্তি, ভয় আর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাটা আরও হাজার গুণ বেড়ে গেল। কারণ ইহান মির্জা খুব স্পষ্ট বুঝতে পারছে, নাইরা এখনও ঘুনাক্ষরেও জানে না, তার এই স্বাভাবিক আর নিটল জীবনের চারপাশে খুব নিঃশব্দে আর সুপরিকল্পিতভাবে এক প্রাণঘাতী ও বিষাক্ত অদৃশ্য জাল বোনা শুরু হয়ে গেছে!
আর সেই বিষাক্ত জালের শেষ প্রান্তে অন্ধকারের আড়ালে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এমন এক হিংস্র শত্রু, যে কেবল Mirza Group-এর গোপন রহস্য আর সাম্রাজ্যকেই ধ্বংস করতে চায় না—বরং নাইরাকেও নিজের এই ভয়ংকর আর নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় রক্তিম ঘুটি হিসেবে টেনে আনতে চাইছে!
(চলবে…)