গল্প: প্রেমের আলোড়ন
লেখক: সুহান জয়
পর্ব: ২৮
(Note – এটি একটি প্রণয় ও জীবনবোধের মিশ্রণ সম্বলিত গল্প। যেখানে তীব্র রোম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।)
মেঝেতে বসে আছে তুহিনা। তার চুলগুলো এলোমেলো, গালের একপাশে আঘাতের লাল আভা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঠিক তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন এলাকার প্রভাবশালী এমপি রিয়াজ রহমান। দীর্ঘদেহী, বলিষ্ঠ গড়নের এই যুবকটি পরে আছেন একটি কালো পাঞ্জাবি।
পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে রিয়াজ ধীর পায়ে তুহিনোর দিকে এগিয়ে গেলেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপের শব্দে তুহিনা আতঙ্কিত হয়ে পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু খুব বেশি দূর যাওয়ার সুযোগ তার ছিল না। নির্দয়ভাবে তুহিনার চুলের মুঠি ধরে নিজের দিকে টেনে আনলেন রিয়াজ। ব্যথায় ও অসহায়ত্বে তুহিনা তার হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে কোনোমতে টিকে রইল।
“মা*গী বাইরের দেশে ছিল শুদ্ধ তো তুই নয়, তবে তোকে একটু ছুইলেই এমন মরিস কেনো হ্যাঁ?”
তুহিনা যন্ত্রণায় চোখ দুটি শক্ত করে বন্ধ করে নিল। এসব তার জন্য আর নতুন কিছু নয়। গত এক মাস ধরে, অর্থাৎ এই লোকটার সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকেই তাকে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আগে কথা দিয়ে আঘাত করত, আজ সরাসরি গায়ে হাত তুলল। চুলের গোড়ায় প্রচণ্ড টানে মাথাটা ঝিমঝিম করছে তার, চোখের কোণে নোনা জলরাশি উপচে পড়তে চাইছে।
দাঁতে দাঁত চেপে তুহিনা পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল,
"আমি না হয় অপবিত্র, কিন্তু আপনি তো শুদ্ধ পুরুষ ! তবে বিয়ের আগে কেন আমাকে এভাবে স্পর্শ করতে চাইছেন?"
কথাটা শোনা মাত্রই রিয়াজের মেজাজ চড়ে গেল। তুহিনার চুলের মুঠি আরও শক্ত করে চেপে ধরল সে। আক্রোশে ফেটে পড়ে সে বলল:
"একবার হাতের নাগালে পেয়ে নিই তোকে, তারপর তোর এই সব তেজ আর অহংকার আমি কীভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দেই!"
প্রচণ্ড আক্রোশে রিয়াজ তাকে মেঝেতে আছাড় দিয়ে ফেলে দিল। এরপর গট গট শব্দে দম্ভভরে দরজা খুলে বেরিয়ে গেল সে। তুহিনা যে অবস্থায় ছিল, সেখানেই স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। যেখানে রিয়াজ চুলের মুঠি ধরে টেনেছিল, সেখানে হাত দিতেই তুহিনার বুকটা কেঁপে উঠল; মুঠো ভর্তি চুল উঠে এসেছে তার হাতে, মাথার চামড়া প্রায় বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম। সেখানে এখন তীব্র চিনচিনে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ছে। তার শরীরে আর এতটুকু শক্তি অবশিষ্ট নেই যে উঠে গিয়ে বিছানায় শোবে, পা দুটো যেন অবশ হয়ে গেছে।
সিঁড়ি দিয়ে হিঁচড়ে টেনে আনার সময় তুহিনার পায়ের নখ উল্টে গিয়েছিল। এখন সেখানে জমাট বাঁধা রক্ত শুকিয়ে কালচে হয়ে আছে। নিজের ক্ষতবিক্ষত পায়ের দিকে তাকিয়ে তুহিনার হঠাৎ বিষণ্ণ হাসি পেল—তার মনে হলো, এই পুরো বংশটাই যেন জুলুমবাজিতে অভ্যস্ত।
দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তুহিনা। আজ তার বড় দুর্দিন। নিজের বাপের ভিতে একজন পরপুরুষ তাকে এভাবে প্রহার করে গেল, অথচ কারো কোনো হেলদোল নেই। নিচে হয়তো এখন লোকটির জামাই আদর চলছে। নিচে বসে এখন দামি সব খাবার গিলছে ওই হারামজাদা।
অনেক দিন পর আজ সুহানার কণ্ঠস্বর কানে এল তুহিনার। সুহানার কথা মনে পড়তেই এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর আফসোস দানা বাঁধে তার মনে। বিশেষ করে যখন সে তানিকে দেখে—তানি এক আস্ত বা**। তানির জায়গায় আজ কেন সুহানা হলো না? বিপদ থেকে বাঁচানো তো দূরের কথা, উল্টো তানি তাকে ছোট করে কথা বলে ।নিজে সুযোগ পেলেই রিয়াজের ভাইয়ের গায়ের ওপর ঢলে পড়ে।
আজ সকালেই রিয়াজের পরিবার আর তানি মিলে সবাই শপিংয়ে গিয়েছিল। সারাদিন তুহিনার মুখটা বিষণ্ণ ছিল বলে রিয়াজ তাকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে চড়াও হয়। আসলে হয়েছে কী, রিয়াজের মা লক্ষ্য করেছেন যে তুহিনা খুশি নয়। তিনি ছেলের কাছে বেশ নাটকীয়ভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে হবু বউমা বোধহয় তাকে পছন্দ করছে না। আর তার সেই আজ্ঞাবহ 'ভেড়া' ছেলে মায়ের কথা শুনে বিচার-বিবেচনা না করেই তুহিনাকে প্রহার করল। অথচ তুহিনা তখনো আত্মপক্ষ সমর্থনে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি।
ট্রায়াল রুমের ভেতর তখন আর কেউ ছিল না। তুহিনা যখন লেহেঙ্গাটি পরে দেখছিল, দোকানের একজন নারী কর্মী তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন। সে ভয়ে ভয়ে ওই কর্মীর দৃষ্টি আকর্ষণ করল—
“শুনুন...”
কর্মীটি বিনয়ের সাথে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ বলুন, কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে? ফিটিং কি ঠিক হয়নি?”
তুহিনা ব্যাকুল হয়ে ফিসফিস করে বলল, “না না, ওসব কিছু নয়। আমাকে আপনার ফোনটা কি একটু দেওয়া যাবে? খুব দরকার!”
কর্মীটি কিছুটা সন্দেহ নিয়ে তুহিনার দিকে তাকালেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তুহিনা চট করে তার হাতটা চেপে ধরল। আকুতিভরা কণ্ঠে বলল, “দোহাই আপনার, আমাকে একটু সাহায্য করুন! ওরা আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। আমার বোন জার্মানিতে থাকে, তাকে কোনোভাবে এই খবরটা জানাতে হবে। সে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবে। ওই লোকটা আমার ফোন কেড়ে নিয়েছে। আমি তাকে বিয়ে করতে পারব না, আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি।”
তুহিনার সব কথা শুনে শপিং মল এর সেই কর্মী মেয়েটি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ল। সে নিজের পকেট থেকে ফোনটা বের করে তুহিনার হাতে দিয়ে বলল, “আপনি কথা বলে নিন, আমি বাইরে আছি; কেউ আসছে কি না দেখছি।”
তুহিনা কৃতজ্ঞতাভরা কণ্ঠে বলল, “Thank You !”
“ঠিক আছে ম্যাম, আপনার কষ্ট আমি বুঝি।”
তুহিনা কাঁপা হাতে দ্রুত আফ্রিদিকে ফোন করল, কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া পেল না। উপায়ান্তর না দেখে সে সুহানাকে ফোন দিল। ওপাশে সুহানার কণ্ঠস্বর শোনামাত্রই তুহিনার দীর্ঘদিনের চেপে রাখা কান্না বাঁধ ভাঙল। সে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে দ্রুত সব ঘটনা সুহানাকে জানাল।
হঠাৎ করেই বাইরে রিয়াজের মায়ের কণ্ঠস্বর শোনা গেল। মুহূর্তের মধ্যে সতর্ক হয়ে গেল তুহিনা। সে তড়িঘড়ি করে কলটি কেটে দিয়ে নম্বরটি এবং কল রেকর্ডটি ডিলিট করে দিল।
বাইরে সেই কর্মী মেয়েটি দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক তখনই রিয়াজের মা পান চিবোতে চিবোতে দম্ভভরে সেদিকে এগিয়ে এলেন।
রিয়াজের মা পান চিবানো মুখে কর্কশ স্বরে কর্মী মেয়েটিকে প্রশ্ন করলেন, "কিরে ছেমরি, তুই বাইরে এভাবে দাঁড়িয়ে আছস ক্যান? আমার ব্যাটার বউ কোথায়?"
কর্মীটি মুখে একটি মেকি হাসি ফুটিয়ে বিনীতভাবে উত্তর দিলেন, "ম্যাডাম, উনি ভেতরে পোশাক পরিবর্তন করছেন। আমি সবকিছু গুছিয়ে দিয়েছি।"
"ওহ, এখনো শেষ হয়নি!"
ঠিক তখনই ট্রায়াল রুমের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল তুহিনা। পরনে তার হালকা গোলাপি রঙের লেহেঙ্গা। তুহিনার ধবধবে ফর্সা গায়ের রঙে পোশাকটি অন্য রূপ ধারণ করেছে। তাকে দেখতে অপূর্ব সুন্দর লাগছে। মহিলা তার পান খাওয়া লাল দাঁতগুলো বের করে কুৎসিতভাবে হাসলেন। তারপর তুহিনার আপাদমস্তক দেখে বললেন, "বাহ! তোমারে তো মেলা সুন্দর দেখাচ্ছে গো। আমার পোলা বিয়ে পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে তো?"
এমন কুরুচিপূর্ণ কথা শুনে তুহিনা লজ্জায় ও ঘৃণায় কুঁকড়ে গেল। নিজের ছেলের চরিত্র নিয়ে তার মা কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন, ছিঃ । পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মী মেয়েটিও অবাক হয়ে তাকাল। , চাঁদের মতো সুন্দর এই মেয়েটি শেষ পর্যন্ত কোন অসভ্য পরিবারে গিয়ে পড়ল! মেয়েটির মনে তুহিনার জন্য ভীষণ মায়া হলো।
"এইটাই আমাদের পছন্দ, দিয়ে দাও।"
কর্মীটি সংক্ষেপে উত্তর দিল, "জি, আচ্ছা।"
তুহিনা পুনরায় ট্রায়াল রুমের ভেতরে চলে গেল। সেই কর্মী মেয়েটিও তার পিছু পিছু ভেতরে ঢুকল তাকে লেহেঙ্গাটি খুলতে সাহায্য করতে। লেহেঙ্গাটি খুলে তুহিনা সযত্নে ফোনটি মেয়েটির হাতে ফিরিয়ে দিল। ক্ষীণ স্বরে বলল,
"আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।"
মেয়েটি ফোনটি পকেটে রাখতে রাখতে করুণ স্বরে বলল, "আমি আপনার জন্য মন থেকে দোয়া করি ম্যাম। আপনি যেন দ্রুত আপনার ভালোবাসার মানুষের কাছে ফিরে যেতে পারেন আর এই জালেমদের হাত থেকে মুক্তি পান।"
সে দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে কোনোমতে নিজের হাহাকার চেপে রাখল। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে দ্রুত চোখের জল মুছে নিয়ে নিজেকে সামলে নিল। তারপর দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে এল।
ডাইনিং টেবিলে বসে আছে রিয়াজ। তার গায়ের রঙ শ্যামলা, চোখের কোণ দুটি ঈষৎ ছোট আর ঠোঁটের একপাশে একটি পোড়া দাগ রয়ে গেছে। নাকটা খুব একটা তীক্ষ্ণ নয়, কিছুটা চাপা। সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তানির দিকে তাকিয়ে আছে। তানির পাশে বসে আছে তার ভাই রিফাত। রিয়াজ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, তানি আর রিফাতের মধ্যে ইশারায় কথা চলছে এবং তাদের চোখাচোখি হচ্ছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে দুই গিন্নির প্রবেশ ঘটল। রিয়াজের হবু শাশুড়ি মোহনা মাংসের একটি বড় বাটি নিয়ে রিয়াজের সামনে এসে দাঁড়ালেন। গরমে তার শরীরের কাপড় ভিজে গেছে। হাসি মুখে গরম ভাত বেড়ে দিলেন তুহিনার ছোট চাচি, অর্থাৎ তানির মা। টেবিল জুড়ে সাজানো রয়েছে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবারের পদ।
তাদের দেখে তানি চট করে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিল। কাঁধের ওড়নাটা মাথায় টেনে দিয়ে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালো। মোহনা তানিকে দেখে মনে মনে বিরক্ত হলেন। এই মেয়েটাকে তিনি একদম সহ্য করতে পারেন না; যারা গায়ে পড়ে কথা বলতে আসে, তাদের প্রতি মোহনার আজন্ম অনীহা। কিন্তু একই পরিবারে থাকার কারণে তাকে দাঁতে দাঁত চেপে সব সহ্য করতে হয়। মোহনা জোর করে মুখে মৃদু হাসি ফুটিয়ে তানিকে ডাকলেন—
"তানি...”
তানি বিনীত স্বরে উত্তর দিল, "জি বড়মা?"
মোহনা তানিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "একটু তুহিনাকে ডেকে আন তো মা। বাবু একলা খাচ্ছে, একা একা কেমন লাগে না লাগে! ওকে ডাক।"
তানি অনিচ্ছাসত্ত্বেও "আচ্ছা" বলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে এল। তুহিনার ঘরের দরজা খোলা দেখে সে নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকে পড়ল। দেখল তুহিনা মেঝেতে বসে আছে। তানি এগিয়ে গিয়ে তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। তুহিনা তাকে দেখেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না, পাথরের মতো স্থির হয়ে রইল। তানি নিবিড়ভাবে তুহিনার মুখের দিকে তাকাতেই দেখল, গালে আঙুলের দাগ স্পষ্ট হয়ে লাল হয়ে আছে। রিয়াজ যে তাকে মেরেছে, সেটা বুঝতে তানির বাকি রইল না।
তানি হাত বাড়িয়ে তুহিনার গাল স্পর্শ করতে যেতেই তুহিনা ঝট করে তার হাতটা ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিল। তানির মনে এক মুহূর্তের জন্য মায়ার উদয় হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তুহিনার এমন রূঢ় ব্যবহারে সেই মায়া মুহূর্তেই উবে গিয়ে রাগে পরিণত হলো। সে মুখ বাঁকিয়ে বিদ্রূপের সুরে বলল:
"নাটক করার আর জায়গা পাও না? এইসব ন্যাকামি করে কী পাচ্ছ? আমাকে অন্তত তোমার ওই তেজ দেখিও না। নিজের ভালো পাগলেও বোঝে,সেটা মানুষ , আর তুমি বুঝতেই চাইছ না!"
তুহিনা তপ্ত স্বরে পাল্টা জবাব দিল:-"তোর যদি এতই কাণ্ডজ্ঞান থাকে, তবে তুই গিয়ে কেন করছিস না?"
তুহিনার কথার জবাবে তানি তাচ্ছিল্যভরে বলল, "আমাকে পছন্দ করলে অবশ্যই করতাম, তোমাকে তখন আর বলতে হতো না।"
তুহিনা তখন ঘেন্নায় বলে উঠল, "তাহলে তো বিয়ের আগেই শুয়ে পড়তিস, তাই না?"
তানি রাগে ফেটে পড়ল, কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে মুখে বিষাক্ত হাসি ফুটিয়ে বলল, "তোমার বাবা-মাই যেখানে তোমার ওপর দয়া করে না, সেখানে আমি আর কী বলব? সে যাই হোক, বড়মা তোমাকে নিচে ডাকছেন।"
তুহিনা সাফ জানিয়ে দিল, "আমি যেতে পারব না।"
তানি যাওয়ার সময় বলে গেল, "ঠিক আছে, আমি বড়মাকেই গিয়ে এটাই বলছি।"
তানি নিচে নেমে মোহনা বেগমের কাছে গিয়ে নিচু স্বরে তুহিনার অসম্মতির কথা জানিয়ে দিল। মোহনা বেগম তাকে সামলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে নিজেই উপরে উঠে গেলেন। তানি গিয়ে তার মায়ের পাশে দাঁড়ালো, আর রিয়াজ খাবার খেতে খেতে আড়চোখে সবটা দেখে নিল। আয়শা বেগম ফিফিসিয়ে বললেন
"কী রে, এলো না তোর ওই একই নাটক চলছে ?"
নিচে তানি মুখ কুঁচকে বলল, “রাখো তো ওর ন্যাকামি, আর ভালো লাগে না। শুধু বড় আব্বুর মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে আছি। চল ওদিকে যাই, ওরা খাচ্ছে দেখি।”
এদিকে মোহনা বেগম বেশ রাগ নিয়েই তুহিনার ঘরে ঢুকলেন। কিন্তু মেয়ের বিধ্বস্ত চেহারা দেখা মাত্রই তার ভেতরের রাগ জল হয়ে গেল। তিনি হন্তদন্ত হয়ে মেয়ের সামনে বসলেন। তুহিনার ফোলা মুখ আর চোখের অবস্থা দেখে তার বুকটা ধক করে উঠল। মোহনা যখন নিচু হয়ে তুহিনার পায়ের ক্ষতে আলতো করে হাত দিতে গেলেন, তুহিনা যন্ত্রণায় পা সরিয়ে নিল।
আতঙ্কিত কণ্ঠে মোহনা জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে রে মা তোর?”
তুহিনা শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে উত্তর দিল, “কী হবে আর? নতুন করে কিছু হওয়া কি আর বাকি আছে?”
“এমন করে কেন বলছিস মা? তোকে কি ও...”
তুহিনা কথা কেড়ে নিয়ে তপ্ত স্বরে বলল, “হ্যাঁ, ও আমাকে মেরেছে। কিন্তু সেই মারের চোটে আমার অতটা লাগছে না মা, তার চেয়েও বেশি ব্যথা তো তোমরা আমায় দিয়েছ। তোমাদের বাবা-মা বলে পরিচয় দিতেও আজ আমার ঘৃণা হচ্ছে। ছি!”
তুহিনা….
তুহিনা শান্ত অথচ কঠিন স্বরে বলল, “চিৎকার কোরো না মা, আমার এসবে আর কিছুই যায় আসে না।”
মোহনা বেগম স্তব্ধ হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার চঞ্চল, প্রাণোচ্ছ্বল মেয়েটার এই জীর্ণ দশা তিনি নিতে পারছেন না। তুহিনা শূন্য দৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। মোহনা কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, “কেন মেরেছে ও তোকে?”
তুহিনা বিদ্রূপের হাসি হেসে উত্তর দিল, “হয়তো আমারই কোনো দোষ ছিল, তাই মেরেছে। তার তো কোনো দোষ থাকতেই পারে না, সব দোষই আমার। এবার দয়া করে যাও এখান থেকে।”
মোহনা বেগম আর কোনো কথা বাড়ালেন না, ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। মনে মনে স্থির করলেন, এই বিষয় নিয়ে আজই তুহিনার বাবার সাথে কথা বলবেন। মেয়েকে এভাবে তিল তিল করে শেষ হতে তিনি আর দেখতে পারছেন না। তুহিনা তার একমাত্র সন্তান; মেয়ের ভালোবাসায় কেউ ভাগ বসাবে বলে তিনি আর কোনো সন্তান নেননি, অথচ আজ সেই মেয়েটাই……
নিচে নেমে মোহনা বেগম তীক্ষ্ণ ও কঠোর দৃষ্টিতে রিয়াজের দিকে তাকালেন। রিয়াজ তখনো নির্লিপ্তভাবে খেয়ে যাচ্ছে। মোহনা কিছুতেই মেলাতে পারছেন না—কেন তার স্বামী এই ছেলের সাথেই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য এত উম্মাদ হয়ে উঠেছেন!
রাদিফ ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ডাকল, "ভাইয়া..."
আতিফ ফাইলের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে নিরাসক্তভাবে বললেন, "বল।"
"আমি তোমার সাথে যাব।"
আতিফ এবার কাজ থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। শীতল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, "কোথায় যাবি?"
"জার্মানিতে।"
"হঠাৎ কেন রে?"
রাদিফ আমতা আমতা করে কিছু একটা বলতে চাইল, "আমি আসলে..."
কিন্তু তাকে কথা শেষ করতে দিলেন না আতিফ। ব্যঙ্গাত্মক হাসি হেসে তিনি বলে উঠলেন, "বুঝতে পারছি আমি। আসলে আমার ওপর তোর বিশ্বাস নেই, তাই তো? তুই ভাবছিস আমি হয়তো উইলটা নিজের নামে করে নেব, সেই ভয়েই আমার সাথে যাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিস!"
রাদিফ ঘাবড়ে গিয়ে বলল, "না না ভাইয়া, বিষয়টা মোটেও তেমন নয়।"
"তাহলে কী?"
তিনি ভাইয়ের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন। রাদিফ অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল। সে খুব ভালো করেই জানে, তার ভাই কতটা ধূর্ত। এতদিন অত্যন্ত চতুরতার সাথে আতিফ সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। শুধু একটি ভুলের কারণে তারা ফেঁসে গিয়েছিল, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই ভুলটাই এখন তাদের জন্য লাভের পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আতিফ কিছুটা শান্ত স্বরে বললেন, "আচ্ছা যাস, তবে আগে মেয়েটার বিয়েটা দিয়ে নিই। বিয়েটা না হওয়া পর্যন্ত রিয়াজ আমাদের কোনো সাহায্য করবে না। ডিলের কথা কি তুই ভুলে গেলি? এমনিতেও আমাদের সব কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়ে আছে। রিয়াজ ওনার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছে, এমনকি ছবিও দেওয়া হয়ে গেছে। শুধু বিয়েটা সম্পন্ন হলেই হলে,আমাদের পথের কাঁটা চিরতরে সরে যাবে।"
আতিফ কুটিল হাসিতে মেতে উঠে বললেন, "হ্যাঁ, আর মাত্র দুই দিন। ওদিকে তুহিনার বিয়ে সম্পন্ন হবে, আর এদিকে আমাদের উদ্দেশ্যও সফল হবে। ঝামেলা মিটলেই আমরা মুক্ত।"
দুই ভাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে এক পৈশাচিক হাসি বিনিময় করলেন। আতিফ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, "চল এবার।"
রাদিফও সায় দিয়ে বলল, "হ্যাঁ, চলো।"
তারা দুজনে এডভোকেটের কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলেন। মূলত একটি ওয়ারিশন সার্টিফিকেট তৈরি করাতেই তারা এখানে এসেছিলেন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কাগজটা হাতে পেলেই কাজের নব্বই শতাংশ সম্পন্ন হয়ে যাবে। বাকিটা কেবল সময়ের অপেক্ষা।
জাহিরের পুরো পরিবার তাদের সমস্ত কাজ স্থগিত রেখে জাহিরের দাদুর বাড়ি সূর্যনগর গ্রামে এসে উপস্থিত হয়েছে। জাহিরের চাচারা সবাই মিলে গ্রামের বড় হাটে গিয়েছেন বাজারের ফর্দ হাতে। জাহিরের কাজিনদের প্রায় সবাই এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে, আর যারা বাকি আছে তারা পথে রয়েছে দ্রুত এসে পড়বে। জাহিরের ফুফুরাও তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে চলে এসেছেন।
আসলে এই সব আয়োজন জাহিরের দাদীর কড়া হুকুমে। তিনি বর্তমানে বেশ অসুস্থ। দাদী বুঝতে পারছেন তার আয়ু আর বেশি দিন নেই, শেষ সময় তিনি স্বামীর কক্ষেই থাকতেচান।
জাহিরের দাদু হাজী মুহাম্মদ সুলেমান উদ্দিন সূর্যনগরসহ আশেপাশের আরও আটটি গ্রামের জমি সেখানকার মানুষদের দান করে গেছেন। তার বাবা ছিলেন এই অঞ্চলের এক অত্যন্ত সুনামধন্য ও প্রজাবৎসল রাজা। দেশভাগের সেই চরম অস্থিরতার সময়ে যখন মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করছিল, তখন তিনি নিজের ব্যক্তিগত কোষাগার উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। প্রায় পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষের অন্ন ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। সেইসব মানুষেরাই পরবর্তীতে এই জনপদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
রাজার রাজত্ব বিলীন হয়ে গেলেও তাদের বংশের প্রভাব ও ভূমিকা আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। এমনকি ব্রিটিশ শাসনামলেও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন; ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই শোষক গোষ্ঠী তার বংশের প্রদীপ নেভাতে পারেনি। সেই মহান ঐতিহ্যের ধারা আজও সগৌরবে বহমান রয়েছে।
জাহিরের দাদাও ছিলেন তৎকালীন সময়ের এক কিংবদন্তি ব্যবসায়ী। সেই আমলেই তিনি কাঁচামাল আমদানি-রপ্তানির বিশাল কারবার গড়ে তুলেছিলেন, যার পাশাপাশি ছিল আরও নানাবিধ ছোট-বড় ব্যবসা। সেই সাথে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বিপুল ধন-সম্পদ তো ছিলই। আজ অবধি সেই ব্যবসার চাকা সচল রয়েছে। জাহিরের দুই চাচা সেই পারিবারিক ব্যবসাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন; কাঁচামালের সাথে এখন যুক্ত হয়েছে ওষুধের বিশাল সাম্রাজ্য।
বর্তমানে তারা দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে সুপরিচিত, দেশের আনাচে-কানাচে তাদের নামডাক ছড়িয়ে পড়েছে। সেই মানদণ্ডে জাহিরকে অনায়াসেই বর্তমান 'রাজা' হিসেবে গণ্য করা যায়। তার সম্পদের হিসাব করলে তা সীমানা ছাড়িয়ে যাবে। আর এই রাজকীয় ঐতিহ্যের কারণেই জাহিরের চালচলন এবং ব্যক্তিত্বে এক আলাদা আভিজাত্য ফুটে ওঠে— রাজার বংশধর বলে কথা!
জাহির আর আফ্রিদি এরই মধ্যে গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। ফিনা এখন বিছানার ওপর চুপচাপ বসে আছে, আর সুহানা ব্যস্তভাবে ব্যাগ প্যাক করছে। ফিনা সাথে নেওয়ার জন্য দুটো বড় ট্রলি নিয়েছে, কিন্তু তার মনে হচ্ছে এতেও জায়গা কম পড়ছে। এই নিয়ে সে অভিযোগ করতেই সুহানা একটা কড়া ঝাড়ি দিয়ে তাকে থামিয়ে দিল।
ফিনা এখন একমনে দেখছে সুহানা ব্যাগে কী কী ভরছে।সুহানা যদি একটা জিনিসও বাড়তি নেয়, তবে সেও পাল্টা ঝাড়ি দেবে যেন সুহানা ভবিষ্যতে আর তাকে কথা শোনানোর সুযোগ না পায়। কিন্তু প্যাকিং প্রায় শেষের দিকে হলেও সে সুহানার কোনো খুঁত খুঁজে পাচ্ছে না।
তার একটু দেরি হয়ে গেল কারণ নিচের কাজগুলো বন্ধ ছিল, যা সে আর নতুন করে শুরু করেনি; ফিরে এসে দেখা যাবে। ব্যাংক থেকে যে টাকাটা এনেছিল, তার একটা অংশ সাথে নিচ্ছে। এই মাসে ওষুধপত্রসহ আনুষঙ্গিক খরচ গত তিন মাসের সমান হয়েছে। হিসাব করতে গিয়ে সে দেখল, সুহানা রেস্টুরেন্টের লভ্যাংশ থেকে একটি টাকাও নেয়নি; সবটাই আপদকালীন সময়ের জন্য জমা রাখা হয়েছে। মূলত স্কলারশিপের টাকা আর মেইনটেন্যান্সের পুরোটা দিয়েই খরচ মেটাতে হয়েছে। সামনেই ব্যাংক লোন পরিশোধ করতে হবে, তাই হিসেবটা মেলাতেই হবে। এদিকে বোর্ড পরীক্ষার রেজাল্টও খুব দ্রুত দিয়ে দেবে, এ ব্যাপারে সে একদম নিশ্চিত।
মনে মনে সব হিসেব মেলাতে মেলাতেই সুহানা প্যাকিং শেষ করল। ট্রলির চেইন টেনে সে সেটা নিচে নামিয়ে রাখল, ফিনা দেখে অবাক হয়ে গেল। সুহানার প্যাকিংয়ের ধরন দেখে সে বিস্ময় প্রকাশ করল—এমন গোছানো সে আগে কখনো দেখেনি। সুহানার ব্যাগে কেবল তিনটি জিন্স, তিনটি টি-শার্ট, দুটো শার্ট, দুই জোড়া জুতো, একটি সোয়েটার আর একটি মাফলার। একটি ছোট পাউচে কেবল ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন, বডিলোশন আর একটি ‘থ্রি-ইন-ওয়ান’ সিরাম; ব্যাস, তাতেই তার সব প্রয়োজন শেষ। নিজের পরনের জন্য সে বেছে নিয়েছে একটি আরামদায়ক ট্র্যাকপ্যান্ট ও ফুলস্লিভ টি-শার্ট, সাথে আগে থেকেই পরা সেই সোয়েটার, স্কার্ফ, একজোড়া মোজা আর স্লিপার।
অন্যদিকে ফিনাকে দেখে মনে হচ্ছে সে যেন কোনো বড় উৎসবে বা পার্টিতে যাচ্ছে। সে পরেছে একটি নজরকাড়া ‘মাস্টার্ড ইয়েলো’ বা সরষে হলুদ রঙের টু-পিস পশমি সেট। ওপরের অংশে রয়েছে আকর্ষণীয় ‘কেবল নিট’ ডিজাইনের একটি হাই-নেক ক্রপড সোয়েটার, যার ঢিলেঢালা বেল-স্লিভ হাতাগুলো বেশ স্টাইলিশ। নিচের অংশে রয়েছে একই রঙের একটি বডি-হাগিং বা শরীর-ঘেঁষা লম্বা রিবেড স্কার্ট, যা গোড়ালি পর্যন্ত নেমে এসেছে এবং তাকে বেশ মার্জিত দেখাচ্ছে। এই পোশাকের সাথে সে ম্যাচিং করে পরেছে অফ-হোয়াইট রঙের অ্যাঙ্কেল বুট। মাথায় একটি ধবধবে সাদা টুপি আর গলায় জড়িয়ে নিয়েছে সাদা ভাল্লুকের পশমের মতো নরম ও আরামদায়ক একটি মাফলার।
সুহানা ফিনাকে আর নতুন করে কিছু বলল না। সব সত্যি বললে ফিনা এখন অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে পড়বে, তাই অল্প কথাতেই তাকে চুপ করিয়ে রেখেছে। হঠাৎ গাড়ির হর্ন শুনতে পেয়ে ফিনা জানলার পর্দা সরিয়ে দেখল গাড়ি চলে এসেছে। সুহানা তড়িঘড়ি করে সব মালপত্র গুছিয়ে নিল এবং একজন স্টাফকে ডাকল সাহায্যের জন্য। জিনিসপত্র নিচে নামাতেই নিকি বেরিয়ে এল এবং সুহানাকে সরিয়ে দিয়ে সে নিজেই সব যত্ন করে গাড়িতে তুলে দিল। সুহানা সবাইকে শেষবারের মতো বিদায় জানিয়ে সব কাজ বুঝিয়ে দিল এবং গাড়িতে গিয়ে বসল।
গাড়িতে বসার পর সুহানার বুকটা কেমন যেন কেঁপে উঠল। ওই জায়গায় যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তার কোনোদিনই ছিল না, কিন্তু কঠিন পরিস্থিতি আর নিষ্ঠুর সময় আজ তাকে সেখানেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সে তুহিনাকে ভালোবাসে অনেক বেশি । এই স্বার্থপর দুনিয়ায় ফিনা আর তুহিনা ছাড়া তার আপন বলতে আর কেউ নেই। সে কোনোভাবেই তার এই দুই প্রিয় মানুষকে হারাতে চায় না। বরফে ঢাকা শহরের রাস্তা দিয়ে তাদের গাড়িটি দ্রুত গতিতে ছুটে চলল। পুরো শহর বরফে থাকা চারিদিকে বরফের চাদর বিছিয়ে আছে। সুহানা সাইড ব্যাগে দেখে নিলো পাসপোর্ট, কার্ড সমস্ত ডকুমেন্ট আছে কি! সব যাচাই করে চোখ বন্ধ করে গা এলিয়ে দিলো।
চলবে…….
(গল্পের সমস্ত চরিত্র,কাল সবই কাল্পনিক সকলে সেই ভাবেই নেবেন, লেখার মাঝে কোনো বানান ভুল থাকলে মাফ করবেন)
#প্রেমের_আলোড়ন
#suhan_joy
#midnight_tales_by_joy
Thank You🍀
(Don’t copy without permission)
Enjoy your reading 🎀