ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের আলোড়ন

৩৩তম পর্ব

লেখক: এমডি সুহান জয়

গল্প: প্রেমের আলোড়ন

লেখক: সুহান জয়

পর্ব: ৩৩

(Note – এটি একটি প্রণয় ও জীবনবোধের মিশ্রণ সম্বলিত গল্প। যেখানে তীব্র রোম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।)

"গুলি তো করছি গো বাবু, কিন্তুক এইখানে আইসা দেহি খালি গাড়িটা চুব্পসা হয়া পইড়া আছে। ভিতরে নাই!"

"কী কইলি? কয়েক মিনিটের মইধ্যে হুদাই হাওয়া হয়া গেল? কেউ কি তাগো পিছে যায় নাই?"

"গেছিল তো, কিন্তুক হেরা মার খাইয়া ওইখানেই কাত হয়া পইড়া আছে। দুইটা পোলাপাইন পুরা শ্যাষ!"

শুনে রিয়াজ যা বোঝার বুঝে নিল। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে। ওদিকে জাহিরের দশা বেহাল। তার ডান কাঁধে গুলি লেগেছে; টি-শার্ট ছিঁড়ে ক্ষতস্থানটা কোনোমতে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে, তাও রক্ত থামার কোনো নাম নেই। ফর্সা শরীরটা রক্তে প্যাঁচপ্যাঁচ করছে। মাথার একপাশ ফেটে গেছে, আর খালি গায়ে কাঁচের ছোট ছোট কুচি বিঁধে আছে।

জাহিরের স্থির দৃষ্টি বুকের বাঁ-পাশে লেপ্টে থাকা রমণীটির দিকে। এক হাতে তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে সে। মাথাটা ঝিমঝিম করছে, নিঃশ্বাস আটকে আসছে বারবার। জ্ঞান হারানো রুখতে চেষ্টা করছে।

সুহানা অনেক আগেই বেহুঁশ হয়ে গেছে। কপাল ফেটে গেছে, নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে, হাতেও বাজে জখম। জাহিরের কলিজাটা ভয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে—কয়টা দিন আগেই তো মেয়েটা একটু সুস্থ হইলো, আবার এই বিপদ!

রিয়াজ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছালো, চারপাশ তখন নিস্তব্ধ। ডানে-বামে তাকাতেই দেখল রাস্তার পাশে গাড়িটা পড়ে আছে দুমড়ে মুচড়ে। ইঞ্জিনের দিক থেকে তখনো হালকা ধোঁয়া বেরোচ্ছে। রিয়াজ তার সাঙ্গপাঙ্গদের ইশারা দিয়ে এগিয়ে গেল।

রিয়াজ দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “আরে ল্যা*ওড়া! এই অবস্থা কেমনে হইলো? মানুষ কই?”

পেছন থেকে একজন আমতা আমতা করে বলল, “বাবু, পোলা মনে হয় আপারে নিয়া ভাইগা গেছে। আমরা আইসা দেহি দুইটা পোলা রক্তে ভাইসা পইড়া আছে, আর গাড়িটা এমনে চুরমার হয়া রইছে”।

"রামিম, স্পিড বাড়া! জলদি টান!"

আফ্রিদির কোথায় রামিম স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে এক্সিলারেটরে চাপ দিল। লুকিং গ্লাসে এক পলক তাকিয়েই ওর বুকটা ধড়ফড় করে উঠল। —পেছনে তার হাসমুখ বড়দা কে, তার মাথাটা অনেকটা ফেটে গেছে, সেখান থেকে গলগল করে রক্ত ঝরছে। সামির আর সাদিদও গাড়িতে আছে, তবে ভাগ্য ভালো যে ওরা বড় কোনো আঘাত পায়নি; বাচ্চা দুটো স্রেফ ভয়ে কুঁকড়ে আছে।

আফ্রিদি জাহিরের পাশেই বসে ছিল। সে চট করে পকেট থেকে রুমালটা বের করে জাহিরের মাথার ক্ষতস্থানে চেপে ধরল। রক্ত থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে সে, কিন্তু রুমালটা নিমিষেই ভিজে লাল হয়ে গেল।

জাহিরের দশা দেখে আফ্রিদির নিজেরই হাত-পা কাঁপছে। জাহির প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে ভাব চোখ দুটো ভেঙে আসছে ঘুমে—তবুও তার হাতের বাঁধন আলগা হয়নি। এক হাত দিয়ে সে সুহানাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে, সুহানার মাথাটা তার বুকের ওপর রাখা।

রামিমের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে, সে দাঁতে দাঁত চেপে ভেতর এর রাস্তা দিয়ে গাড়িটাকে ঝড়ের গতিতে ছুটিয়ে দিল। এখন যেভাবেই হোক বাড়ি পৌঁছাতে হবে। প্রথমে হসপিটাল যাওয়ার কথা উঠলেও বড়দা একদম রাজি হননি। তাই রামিম আগেভাগেই তাদের পরিচিত গ্রামের ডাক্তারকে সব জানিয়ে রেখেছে; চেনা-জানা বলে তিনি সব ব্যবস্থা করে রাখবেন বলে কথা দিয়েছেন। এখন শুধু একবার নিরাপদে দাদুর ভিটে অবধি পৌঁছানো যায়, তবেই রক্ষা! ভাগ্য সহায়, লুকিং গ্লাসে আপাতত পেছনের কোনো গাড়ির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না, তবু মন থেকে ভয় যাচ্ছে না—কখন যে আবার বিপদ হানা দেয়!

তুহিনা ভয়ে কুঁকড়ে একপাশে বসে আছে। সুহানার অবস্থা দেখে . সে নিজের কাছে নিতে হাত বাড়িয়েছিল, কিন্তু জাহিরের দিকে তাকিয়েই থমকে গেল। জাহিরের রক্তমাখা চোখ আর রুক্ষ চাহনি দেখে সে হাত সরিয়ে নিতে বাধ্য হলো।নিজের শরীর ভাঙলেও সুহানাকে অন্যের হাতে ছাড়তে জাহির নারাজ। জাহির গমগমে গলায় হুকুমের সুরে বলল, "সুহু আমার কাছে থাক, আমি আছি ওর জন্য, তুই নিশ্চিন্তে থাক, তোরে কিছু করা লাগবো না।"

জাহির বললেই কি আর দুশ্চিন্তা মন থেকে মুছে ফেলা যায়? সুহানার প্রতি তুহিনার কি কোনো মায়া নেই? এই যে মেয়েটার আজ এমন রক্তাক্ত দশা, তার পেছনে তো তুহিনাই দায়ী। সে-ই তো অতদূর থেকে সুহানাকে ডেকে নিয়ে এসেছে। অথচ সে কল্পনাও করতে পারেনি যে সুহানা সত্যি সত্যি সেখানে চলে আসবে। পুরোনো সব কথা মনে পড়তেই তুহিনা নিজের মুখ চেপে ডুকরে কেঁদে উঠল।

আফ্রিদি আড়চোখে তুহিনাকে দেখল। তার নিজের ভেতরটাও অপরাধবোধে দগ্ধ হচ্ছে। কীভাবে সে এতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হলো? আজকে সবথেকে বেশি প্রয়োজন ছিল তার উপস্থিতির, অথচ সেই সময়েই সে পাশে থাকতে পারল না। ছিঃ! নিজের ওপর নিজেরই ঘৃণা হচ্ছে তার।

জাহির আজীবন আফ্রিদির জন্য শুধু খালি করে গেছে। আফ্রিদি মাঝেমধ্যে মজা করে বলত, "একদিন তোকে সব পাওনা একবারে মিটিয়ে দেব, তখন সব শোধ হয়ে যাবে।" কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে হলো, এই ঋণের বোঝা বড্ড ভারী। নিজের আপন ভাই হলেও বোধহয় জাহিরের মতো কেউ করত না কেউ হতো না। জাহিরের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা ভেবে আফ্রিদির বুকটা হাহাকার করে উঠল।

কিছুক্ষণ আগের কথা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহিরের জিপটা সজোরে একটা পোস্টে গিয়ে ধাক্কা খেল। মুহূর্তেই চারপাশ ধুলো আর ভাঙা কাঁচের স্তূপে ঢেকে গেল। জাহির অতিকষ্টে আধবোজা চোখে তাকানোর চেষ্টা করল। কপাল ফেটে নোনতা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে চোখের ওপর, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। যন্ত্রণায় মনে হচ্ছে শরীরটা ছিঁড়ে যাচ্ছে, তবুও সর্বশক্তি দিয়ে পাশে তাকাল সে। দেখল, সুহানা পাশের সিটে নিস্তেজ হয়ে হেলে আছে।

"সুহু... সুহু, চোখ খোলো! শুনতে পাচ্ছ?" জাহির বিড়বিড় করে ডাকল। নিজের রক্তে ভেজা হাত দিয়ে অতি কষ্টে সুহানাকে টেনে নিজের বুকের কাছে আগলে নিল সে। মেয়েটা ততক্ষণে জ্ঞান হারিয়েছে।

পেছনের সিটে থাকায় সামির আর সাদিদ ছিটকে নিচে পড়ে গিয়েছিল। জাহির দেখল, ওরা কোনোমতে টাল সামলে উঠে দাঁড়াচ্ছে; ভাগ্যিস ওদের চোট খুব একটা গুরুতর নয়। কিন্তু জাহির নিজে পুরোপুরি আটকে গেছে। জিপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় তার পা ভেতর আটকা পড়ে আছে, নড়াচড়া করার বিন্দুমাত্র ক্ষমতাও যেন কেড়ে নিয়েছে এই ধাতব স্তূপ।

মুহূর্তের মধ্যেই ধাওয়া করে আসা বাইক থেকে দুই ঘাতক নেমে এল। জাহির দেখল ওরা সরাসরি তার দিকেই এগিয়ে আসছে। সে আরও শক্ত করে সুহানাকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল, নিজের দেহ দিয়ে তাকে আড়াল করতে চায় কারণ মাস্ক খুলে ফেলে দিয়েছে সে একটু আগে সুহানার মুখ খোলা।

নিচে পড়ে থাকা সামির চোখের পলকে এক টুকরো ভাঙা ধারালো কাঁচ তুলে নিল। ঘাতকদের একজন যখন সামিরকে ডিঙিয়ে জাহিরের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই চিতার বেগে সামির উঠে দাঁড়িয়ে লোকটার হাতে কাঁচটা আমূল গেঁথে দিল। যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল লোকটা।

অন্যজন সামিরের দিকে তেড়ে আসতেই ওপাশে থাকা সাদিদ এক মুহূর্তও দেরি করল না। সামনে পড়ে থাকা একটা ভারী লোহার পাইপ কুড়িয়ে নিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ছুড়ে মারল লোকটার মুখ বরাবর। অব্যর্থ লক্ষ্য! মুখ ফেটে রক্ত বেরোতেই ঘাতকের হাতের বন্দুকটা ছিটকে দূরে পড়ে গেল। সামির এক দৌড়ে গিয়ে বন্দুকটা লাথি মেরে আরও দূরে সরিয়ে দিল।

ছোট ভাইদের এই অভাবনীয় সাহস আর চতুরতা দেখে জাহিরের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। বরাবরের মতো শব্দ হলো না সেই হাসিতে শুধু রক্ত মাখা দাঁত গুলো দৃশ্যমান হলো।। সে নিজের মুখ থেকে মাস্কটা খুলে ফেলল।

ঠিক সেই মুহূর্তেই ঝড়ের বেগে সেখানে এসে পৌঁছাল রামিম আর আফ্রিদি। গাড়ি থেকে নেমেই আফ্রিদি জাহিরের দিকে ছুটে গেল। ওদিকে রামিম ছেলে দুটোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল; শালা কে এমনভাবে পেটাতে লাগল যে ওদের দম নেওয়ারও ফুরসত দিল না।

আফ্রিদিকে কাছে আসতে দেখে জাহির দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিটে গা এলিয়ে দিল তার বোঝ কমলো খানেকটা। জাহির আফ্রিদির দিকে তাকাল, দেখল আফ্রিদির চোখে পানি টলমল করছে। তার দৃষ্টি অস্থির হয়ে জাহিরের ক্ষতগুলোর ওপর ঘুরছে। আফ্রিদি কিছু একটা বলতে চাইছে, তার ঠোঁট কাঁপছে—কিন্তু এক অজানা বাধায় কথাগুলো গলায় আটকে যাচ্ছে।

হঠাৎ কানে এল নূপুরের রিনঝিন শব্দ। জাহির চোখ ঘুরিয়ে দেখল তুহিনা এই দিকেই ছুটে আসছে। তার সাজগোজ সব এলোমেলো, পরনে শুধু শাড়িটা জড়িয়ে আছে—গায়ে ওড়না নেই। অথচ গাড়িতে ওঠার সময় তো ওড়নাটা ছিল! তুহিনা ডুকরে কাঁদছে। জাহিরের এই রক্তাক্ত দশা দেখে সে "জাহির..." স্বল্প শব্দই উচ্চারণ করেমুখ চেপে কান্নায় ভেঙে পড়ল।

সে নিজের চোখের সামনে দেখল—তার অতি কাছের এই দুজন মানুষ শুধুমাত্র তার কারণেই আজ এভাবে রক্তাক্ত।

রামিম আর আফ্রিদি মিলে তুহিনার চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে তার জ্ঞান ফিরিয়েছিল। আফ্রিদির জ্ঞান অবশ্য তার আগেই ফিরেছিল; পাশে তুহিনাকে নববধূর সাজে দেখে সে চরম অবাক হয়েছিল। পরে রামিম তাকে সবটা খুলে বলে—পেছনে জাহির যে ওদের আগে পাঠিয়ে দেয়েছিল, রিয়াজ এর লোক তাদের ধাওয়া করছিল সেই দৃশ্যটাও সে নিজের চোখে দেখেছে।

রামিম পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আগেভাগে তুহিনাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে চেয়েছিল, বড়দার নির্দেশ ছিল তাই দ্রুত গাড়ি চালিয়ে তারা খানিকটা এগিয়ে আসে। কিন্তু জাহির একা পড়ে যাওয়ায় সেই সুযোগেই তার ওপর চড়াও হয় এবং গুলি চালায় ওরা। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও জাহিরকে আসতে না দেখে আফ্রিদি অস্থির হয়ে পড়ে এবং রামিমকে গাড়ি ঘুরিয়ে পেছনে যেতে বলে। রামিম প্রথমে ঝুঁকি নিতে রাজি না হলেও, শেষমেশ ভাইদের বিপদের কথা ভেবে গাড়ি ঘোরায়। আর অকুস্থলে পৌঁছাতেই তাদের চোখে পড়ে এই বীভৎস দৃশ্য।

জাহির অতি কষ্টে ঠোঁট নাড়িয়ে বিড়বিড় করে বলল, "দরজাটা সরা... আমার পা আটকে গেছে।"

কথাটা শোনামাত্র আফ্রিদি এক মুহূর্ত দেরি না করে দুমড়ানো দরজাটা সরিয়ে দিল। কিন্তু তবুও জাহিরের পা জিপের ভেতর শক্তভাবে আটকে ছিল। নিরুপায় হয়ে আফ্রিদি রামিমকে চিৎকার করে ডাকল। এরপর দুই ভাই মিলে গাড়ির পেছনের অংশটা ধরে সজোরে টান দিতেই সামনের দিকটা কিছুটা আলগা হলো। সেই সুযোগে আফ্রিদি অতি সাবধানে জাহিরের পা দুটো টেনে বের করে আনল।

এতক্ষণে আফ্রিদির নজর পড়ল নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা সুহানার দিকে। ওর রক্তাক্ত আর পাণ্ডুর মুখটা দেখে আফ্রিদি আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারল না। সে সুহানার দিকে হাত বাড়িয়েছিল ওকে কোলে তুলে নেওয়ার জন্য, কিন্তু জাহির বাধা দিল। সে ঝট করে সুহানাকে নিজেই পাজা কোলে তুলে নিল। এক পা জখম নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই সে গাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।রামিম কালক্ষেপণ না করে সামির আর সাদিদকে নিয়ে দ্রুত গাড়ির দিকে ছুটল। ওদিকে আফ্রিদিও তড়িঘড়ি করে গাড়িতে উঠে পড়ল।

রিয়াজ নিজের গাড়ির চাকা ঘুরিয়ে তুহিনাদের বাড়ির দিকে রওনা দিল। বাকি ছেলেদের সে হাসপাতালের দিকে পাঠিয়ে দিয়েছে। রিয়াজ নিজেও কম আঘাত পাইনি তো নয়; তবুও তার যাওয়া চাই। কিছু হিসেব-নিকেশ আর বোঝাপড়া এখনো বাকি রয়ে গেছে।

তুহিনাদের বাড়ির সামনে এসে গাড়িটা থামল, রিয়াজ ধীরপায়ে নিচে নামল। সামনেই বিয়ের সাজে সজ্জিত ঝলমলে গেট। সেদিকে তাকাতেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে এল, চোখের দৃষ্টিতে ফুটে উঠল হিংস্রতা। গেটের কাছে গিয়ে উন্মত্তের মতো থাবা দিয়ে সাজানো ফুলগুলো ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলতে লাগল সে। পাশে দাঁড়িয়ে রিফাত শুধু তাকিয়ে দেখল, বড় ভাইকে থামানোর সাহস ওর নেই। নিজের মনের ঝাল মিটিয়ে গোটা গেটটা তছনছ করে দিয়ে রিয়াজ বাড়ির ভেতরে ঢুকল।

সদর দরজার দিকে এগোতেই তার নাকে এল সুস্বাদু রান্নার সুঘ্রাণ। পাশেই রান্নার জায়গা, উনুনের আঁচ তখনো নেভেনি। রিয়াজ টেবিল থেকে একটা খালি প্লেট তুলে নিল। সামনেই সাজানো ছিল হরেক পদের খাবার। সেখান থেকে নিজের পছন্দমতো সব খাবার প্লেটে তুলে নিতে নিতে সে সামনে বাড়ল।

রিফাত অস্ফুট স্বরে একবার ডাকল, "ভাই..."

রিয়াজ সেই ডাকে সাড়াও দিল ঠিকই, কিন্তু নিস্পৃহ গলায় পালটা প্রশ্ন করল, "খাবি তুই?"

রিফাত কোনো উত্তর দিতে পারল না, রিয়াজের সামনে কথা বলার সাহসটুকু তার এই মুহূর্তে নেই। ওদিকে বাবা বারবার ফোন করে ওকে বাড়ি ফেরার জন্য চাপ দিচ্ছেন; বলছেন যা হয়েছে সেখানেই সব মিটমাট করে ফেলতে। কিন্তু রিয়াজ নাছোড়বান্দা, সে কারো কথাই কানে নিতে রাজি নয়। রিয়াজের সাথে আসা দুই গাড়ি ভর্তি ছেলেরাও একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছে—পুরো পরিস্থিতিটা কোন দিকে গড়াচ্ছে, সেটা আন্দাজ করা তাদের পক্ষেও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামীকাল রিয়াজের বাড়িতে বড় করে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা বা রিসেপশনের আয়োজন ছিল, যেখানে ঢাকার নামী-দামী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নামকরা সব তারকাদের নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তুহিনার বাবা আতিফ সাহেবের জেদেই বিয়েটা এখানে হচ্ছে; রিয়াজ চেয়েছিল কোনো বড় কমিউনিটি সেন্টারে জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠান করতে এবং সব খরচ সে নিজেই বহন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আতিফ সাহেব রাজি হননি বলে শেষমেশ এখানেই আয়োজন করা হয়। এখন রিয়াজের মাথায় একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে—কাল যখন আমন্ত্রিত অতিথিরা বউয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করবে, তখন সে তাদের কী জবাব দেবে?

রিয়াজ নিজের ইচ্ছেমতো প্লেটে মাংস তুলে নিয়ে ধীরপায়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল। তাকে ভেতরে ঢুকতে দেখে আতিফ সাহেব তটস্থ হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। রিয়াজের মাথায় রক্ত লেগে কিছুটা শুকিয়ে কালচে হয়ে আছে, সেই অবস্থায় তার হাতে খাবারের প্লেট দেখে আতিফ সাহেব থতমত খেয়ে গেলেন। রিয়াজ ঠোঁটের কোণে এক চিলতে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে আয়েশ করে সোফায় গিয়ে বসল। কোনো কথা না বলে সে ধীরস্থিরভাবে খাবারগুলো নেড়েচেড়ে খেতে শুরু করল।

রাদিফ আর আতিফ সাহেব দিশেহারা হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছেন। মোহনা আতঙ্কিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। আয়েশা আগেই তানিকে সাবধানে ওপরের ঘরে রেখে এসেছে। বাড়ির সবার মনে এখন একটাই হাহাকার—কী হতে চলেছে এবার?

প্লেট থেকে মাথা না তুলেই রিয়াজ শান্ত গলায় প্রশ্ন করল, "মেয়ে তো ভেগে গেছে, এখন কী করবেন?"

কারো মুখ থেকে কোনো শব্দ বেরোলো না। পিনপতন নীরবতা ভেঙে রিয়াজ আবার বলল, "আপনাকে বিনা পোশাকে সারা শহর ঘোরালেও আমার রাগ মিটবে না। তবে আপনার মেয়েকে..."

কথাটা শেষ না করেই রিয়াজ থামল। এক লোকমা ভাত মেখে মুখে পুরে দিয়ে গাল নাড়তে নাড়তে সে এক বিদঘুটে হাসি হাসল।

"ভয় পাচ্ছেন নাকি?" রিয়াজ শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল।

সে আবার বলতে শুরু করল, "আপনার কাজ তো হয়ে যাবে, তাই না? আমাকে যে দায়িত্বটা দিয়েছেন, সেটা তো পালন করতেই হবে। নইলে যে আমার জাত যাবে! তবে আপনাকে নিয়ে এখন কী করা যায় বলুন তো? আচ্ছা, মেয়ে কোন ছেলের সাথে ভাগল , সেটা বলেন দেখি।"

আতিফ সাহেব মিনমিন করে বললেন, "আমি জানি না..."

"বাহ!" রিয়াজ তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, "মেয়ে কোন না*ঙ্গ*রের সাথে পলাইছে, সেইটা বাপ হইয়া জানেন না?"

আতিফ সাহেব প্রায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন, "আমাদের ছেড়ে দাও বাবা, আমি সত্যিই কিছু জানতাম না।"

রিয়াজ এবার চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, "মেয়ে ঘরের ভেতর বইসা মা*গীবাজি করল, আর আপনি কিছুই টের পাইলেন না?"

রিয়াজের মুখে এমন কুরুচিপূর্ণ আর নোংরা ভাষা শুনে আতিফ সাহেব দুই হাত দিয়ে নিজের কান চেপে ধরলেন। তার মনে হতে লাগল, কেউ যেন জ্যান্ত অবস্থায় তার কানে ফুটন্ত গরম সিসা ঢেলে দিচ্ছে। যন্ত্রণায় আর অপমানে তার ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে, অবশ হয়ে আসছে মস্তিষ্ক। মনে মনে শুধু আল্লাহকে ডাকছেন তিনি।

ভাতের থালাটা সজোরে ছুঁড়ে ফেলে দিল রিয়াজ। চিৎকার করে হুকুম দিল, "বাড়ির যা আছে সব ভাইঙা গুঁড়া কর! সামনে কেউ আসলে ওরেও গুঁড়া কইরা দিবি!"

রাদিফ দিশেহারা হয়ে ছুটে গিয়ে রিয়াজের পা জড়িয়ে ধরল। আর্তনাদ করে বলল, "ছেড়ে দাও বাবা, আমাদের মাফ করো! আমাদের কী দোষ বলো? ও যে এমন কাজ করবে, আমরা তো তার কিছুই জানতাম না!"

রিয়াজের মনে বিন্দুমাত্র মায়ার উদ্রেক হলো না; বরং সে ঘৃণায় রাদিফের বুকে এক বিরাশি সিক্কার লাথি বসালো। রাদিফ ছিটকে গিয়ে অনেক দূরে আছড়ে পড়ল। রিয়াজের ইশারা পাওয়া মাত্রই তার সাঙ্গপাঙ্গরা পঙ্গপালের মতো বাড়িতে ঢুকে পড়ল। চোখের পলকে শুরু হলো তাণ্ডব—থালাবাসন, দামী কাঁচের শো-পিস থেকে শুরু করে ফার্নিচার, যা সামনে পেল সব ভেঙে চুরমার করতে লাগল তারা।

রিয়াজ আর রিফাত—দুই ভাই ঠায় দাঁড়িয়ে এই ধ্বংসলীলা দেখছে, যেন বড় কোনো বিনোদন চলছে। মোহনা আর আয়েশা বেগম কানে হাত দিয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছেন; ভাঙচুরের সেই বীভৎস শব্দ সহ্য করার ক্ষমতা তাদের নেই।

ওদিকে ওপর তলায় নিজের ঘরে তানি সব শব্দ শুনতে পাচ্ছে। ভয়ে নীল হয়ে সে দ্রুত দরজা আটকে ঘরের আলো নিভিয়ে দিল। অন্ধকার ঘরের এক কোণে কান চেপে কুঁকড়ে বসে রইল সে। তুহিনার ওপর তার প্রচণ্ড ঘৃণা হলো; নিজের মনেই তুহিনাকে বিশ্রী ভাষায় গালি দিতে লাগল। মেয়েটা নিজে তো গেছেই, যাওয়ার সময় পুরো পরিবারটাকে নরকের আগুনে ভাসিয়ে দিয়ে গেছে।

পুরো বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে রিয়াজের ছেলেরা ক্লান্ত হয়ে হাঁফিয়ে উঠেছে। রিয়াজ তাদের দিকে তাকিয়ে নির্লিপ্ত গলায় বলল, "বাইরে যা খাবার আছে সব খেয়ে নে।" ওদিকে ধ্বংসলীলার কাজ শেষ করে রিফাত কাছে আসতেই রিয়াজ ইশারা করল, "চল।"

দুই ভাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল। রিয়াজকে আসতে দেখে ড্রাইভার হাতের বিড়িটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে দ্রুত গাড়ির দরজা খুলে দিল।

গাড়িতে বসে রিফাত তার ফোনটা অন করে রিয়াজের দিকে এগিয়ে দিল। রিয়াজ অত্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সিসিটিভি ফুটেজগুলো দেখতে শুরু করল—শেষ থেকে শুরু পর্যন্ত সবটা। কিন্তু একে একে সবার মুখ ঢাকা ছিল, চেনার মতো কোনো উপায়ই রাখা হয়নি। এমনকি প্রতিটি গাড়ির নম্বর প্লেট পর্যন্ত সরানো ছিল। অনেকক্ষণ ধরে বারবার ফুটেজগুলো পরীক্ষা করার পরও যখন কোনো সূত্রই মিলল না, তখন রিয়াজের মেজাজ চরমে পৌঁছাল।

বিরক্তিতে ফোনটা সরিয়ে দিয়ে সে গালি দিয়ে উঠল, "বা*লের ফুটেজ! কিচ্ছু নাই এটাতে!"

রিয়াজ সেই জায়গাটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, যেখানে প্রথম জিপটা দাঁড়িয়ে ছিল। পাথরের মতো স্থির দৃষ্টিতে জায়গাটা মেপে নিয়ে সে ধীরপায়ে সামনে এগিয়ে গেল; রিফাতও কোনো কথা না বলে চুপচাপ ভাইয়ের পিছু নিল। রিয়াজ দাঁড়িয়ে ওপরের সিসিটিভি ক্যামেরাটার দিকে একবার তাকাল, যেখানকার শেষ ফুটেজটুকু সে একটু আগেই দেখেছে।

রিফাত আশেপাশে চোখ ঘোরাতেই দেখল ড্রেনের পাশে কতগুলো শপিং ব্যাগ আর প্যাকেটের স্তূপ পড়ে আছে। পা দিয়ে অবহেলায় প্যাকেটগুলো একটু সরাতেই সে অনেকগুলো একই শপিং মলের ব্যাগ দেখতে পেল। রিয়াজ আনমনেই সেদিকে তাকাল, কিন্তু পরক্ষণেই তার ভ্রু দুটো কুঁচকে গেল। অনেকগুলো দামী মাস্কের প্যাকেট পড়ে আছে সেখানে। প্যাকেটের উপরের ক্যাটালগ আর মলের নামটা দেখে রিয়াজের মাথায় বিদ্যুৎ খেলে গেল। সে দ্রুত শপ নম্বর ২৫-এর ওপর নজর বুলাল।

হঠাৎ করেই রিয়াজ এক পৈশাচিক অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। রিফাত কিছু একটা আন্দাজ করল—ভাই যখন এভাবে হাসে, তখন নির্ঘাত কোনো শিকারের খোঁজ মিলেছে। শুধু শুধু তো আর সে ভাইয়ের এত প্রিয় পাত্র হয়নি!

রিয়াজ দাঁত কিড়মিড় করে বলল, "এইবার কোথায় পালাবি কু*ত্তার বাচ্চা? একেকটারে ধইরা ধইরা ছিঁ*ড়মু!"

বাড়িতে হঠাৎ ডাক্তারবাবুকে দেখে বাড়ির সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। তিনি একা আসেননি, সাথে আরও দুজনকে নিয়েছেন এবং তাদের হাতে নানান চিকিৎসা সরঞ্জাম। এসব দেখে সবাই বুঝতে পারলেন যে বড় কোনো বিপদ ঘটেছে। জাহাঙ্গীর সাহেব এগিয়ে গিয়ে ডাক্তারকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবেন, ঠিক তখনই বাইরে গাড়ির শব্দ পাওয়া গেল। সবাই তড়িঘড়ি করে বাইরে বেরিয়ে এলেন। রামিম ঝটপট ড্রাইভিং সিট থেকে নেমে চিৎকার করে উঠল— "ডাক্তার!"

ডাক্তারবাবু ভিড় ঠেলে দ্রুত গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। পেছন থেকে সামির আর সাদিদ নেমে দ্রুত সামনে চলে এল। বাড়ির বড়রা এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না আসলে কী ঘটেছে। রামিম গাড়ির দরজা খুলে দিতেই আফ্রিদি আগে নামল। তখনো গাড়ির ভেতরের দৃশ্য বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে না। জাহাঙ্গীর সাহেব দ্রুত গাড়ির কাছে এলেন, তার পেছন পেছন বিহানও এল। ওপরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে মেয়েরা সব দেখছে, নিচে আসার সাহস তাদের নেই; ফিনা প্রচণ্ড অস্থির হয়ে ছটফট করছে।

আফ্রিদির হাতে রক্ত দেখে বিহান আঁতকে উঠে সামনে এগিয়ে এল, কিন্তু ততক্ষণে ডাক্তার তাকে সরিয়ে দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর সাহেবের পা ওখানেই থমকে গেল। ভেতর থেকে সাবেরা বেগম পাগলের মতো ছুটে এলেন, কিন্তু গাড়ির কাছাকাছি আসতেই হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন।

"হায় আল্লাহ!" দৃশ্যটি দেখে সবার মুখ দিয়ে কেবল এই আর্তনাদই বেরিয়ে এল।

জাহির পুরোপুরি জ্ঞান হারিয়েছে। তার সারা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে, মুখের ওপর জমাট বাঁধা রক্তের কালচে দাগ। ডাক্তার চিৎকার করে উঠলেন, "ওনাকে দ্রুত নামান!"

কিন্তু জাহিরের পাজা-কোলে থাকা সুহানাকে আগে বের করা প্রয়োজন। আফ্রিদি সেদিকে এগিয়ে গেল এবং তুহিনাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে সুহানার দিকে হাত বাড়াল। আফ্রিদি অত্যন্ত সাবধানে সুহানাকে বের করে আনতে চাইল, কিন্তু জাহিরের হাতের বাঁধন কিছুতেই আলগা করা যাচ্ছে না। রামিম পরিস্থিতি দেখে ডাক্তারকে সরিয়ে দিয়ে নিজেই জাহিরের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করল।জাহির অচেতন অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও সুহানাকে অমানুষিক শক্তিতে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।

আফ্রিদি আর রামিম দুজনেই বিস্ময় নিয়ে জাহিরের দিকে তাকাল। অজ্ঞান অবস্থায় কেউ কাউকে এতটা শক্তি দিয়ে ধরে রাখতে পারে, তা তাদের কল্পনার বাইরে ছিল। অনেক কসরত করে তারা সুহানাকে ছাড়িয়ে আনল। এরপর দুই ভাই মিলে সুহানাকে গাড়ি থেকে বের করার পর আফ্রিদি দ্রুত তাকে পাঁজাকোলে নিয়ে ভেতরে ছুটল। ব্যালকনি থেকে সুহানাকে দেখা মাত্রই ফিনা আর নিজেকে সামলাতে পারল না, সে দৌড়ে নিচে নেমে এল। আফ্রিদি সোজা নার্সদের কাছে গিয়ে সুহানাকে নিচের তলার একটা রুমে নিয়ে গেল। ওদিকে ডাক্তার জাহিরকে পরীক্ষা করতে শুরু করলেন।

ডাক্তারবাবু জাহিরের অবস্থা পরীক্ষা করেই চিৎকার করে উঠলেন, "ইমিডিয়েট অপারেট করতে হবে! দ্রুত ওনাকে ভেতরে নিন, মুভ!"

কথাটা শোনামাত্র সবাই মিলে ধরাধরি করে জাহিরকে ভেতরে নিয়ে গেল। ছেলের এই রক্তাক্ত দশা দেখে সাবেরা বেগম আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না, তিনি সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। বাকি চাচিরা দ্রুত তাকে আগলে ধরলেন।

উত্তেজনার মাঝেই রামিম একবার ওপরের দিকে তাকাল। দেখল রুহানি ব্যালকনি থেকে একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়ে আছে। রামিম সময় নষ্ট না করে চোখের ইশারায় তাকে নিচে আসার জন্য ডাকল। রুহানি দ্রুত নিচে নেমে রামিমের কাছে এসে দাঁড়াল। রামিম খুব নিচু স্বরে ওকে বলল, "নতুন বউকে নিয়ে যা।"

রুহানি একবার তুহিনার দিকে তাকাল। দেখল মেয়েটা মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। সে আবার রামিমের চোখের দিকে তাকালে রামিম ইশারা করল ওকে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য। রুহানি আর দেরি না করে ধীরপায়ে তুহিনার কাছে এগিয়ে গেল।

রুহানি আলতো করে তুহিনার কাঁধে হাত রাখল।রুহানি ওকে নিয়ে ভেতরের একটা নিরিবিলি ঘরের দিকে পা বাড়াল। ঘরে ঢোকামাত্রই তুহিনা দেয়াল ধরে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল। এই কান্নায় কোনো শব্দ ছিল না, ছিল শুধু বুক ফাটানো হাহাকার। রুহানি তাকে বিছানায় বসিয়ে দিল। তুহিনার সাজানো বিয়ের শাড়িটা এখন ধুলো আর রক্তে মাখামাখি। তুহিনার এই বিধ্বস্ত রূপ দেখে রুহানির নিজেরও চোখ ভিজে এল। সে পরম মমতায় তুহিনার হাত দুটো ধরল।

দরজার ওপাশে ডাক্তারদের ছোটাছুটি আর যন্ত্রপাতির শব্দ তুহিনার কানে বিষের মতো বিঁধছে। সে বারবার ভাবছে, তার একটা ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত আজ পুরো পরিবারটাকে এভাবে দিতে হচ্ছে। দুইজন কে একই রুমে অপারেট করা হচ্ছে।

রুহানি শান্ত গলায় বলল, “নিজেকে শান্ত করো নতুন ভাবি এখন ভেঙে পড়লে চলবে না। আল্লাহ ভরসা, বড়দা আর সুহানা ঠিক ফিরে আসবে, দুয়া করো”। বলে সে নিজেও কেঁদে উঠলো

চলবে…….

(গল্পের সমস্ত চরিত্র,কাল সবই কাল্পনিক সকলে সেই ভাবেই নেবেন, লেখার মাঝে কোনো বানান ভুল থাকলে মাফ করবেন)

#প্রেমের_আলোড়ন

#suhan_joy

#midnight_tales_by_joy

Thank You🍀

(Don’t copy without permission)

Enjoy your reading 🎀

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন