গল্প: প্রেমের আলোড়ন
লেখক:এমডি সুহান জয়
পেজ: Midnight Tales by Joy
পর্ব: ৩৯
( একটু একটু 18+ পর্ব 💭)
(Note – এটি একটি প্রণয় ও জীবনবোধের মিশ্রণ সম্বলিত গল্প। যেখানে তীব্র রোম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।)
আফসার বলতে শুরু করলেন, "আফ্রিদি আমার আর মুসকানের সন্তান। মুসকান ছিল আমার প্রথম স্ত্রী। আফ্রিদি হওয়ার পরে কয়েক বছর ভালই চলছিল হঠাৎ, এক মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মুসকান আমাদের ছেড়ে চলে যায়। আফ্রিদি তখন বড্ড ছোট। বাচ্চা কীভাবে সামলাতে হয় বা ওর দেখাশোনা কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তাই আমার বোন সাবেরা ওকে নিজের কাছে নিয়ে যায়; সেই থেকে ও ওর ফুফুর কাছেই বড় হচ্ছে।"
সবটা শোনার পর আতিফ বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। একটি বিষয় তাকে ক্রমাগত ভাবাচ্ছিল, তাই শেষমেশ প্রশ্ন করেই বসলেন, "আপনি বললেন ‘প্রথম স্ত্রী’, তার মানে আপনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, তাই তো?"
প্রশ্নটি শুনে আফসার কিছুটা ঘাবড়ে গেলেন। এই দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তাকে কম কথা শুনতে হয়নি। তিনি মাথা নেড়ে নিঃশব্দে স্বীকার করলেন যে আতিফের ধারণা সঠিক।
আতিফ হালকা হেসেই বললেন, "তাহলে এটাই সত্যি? নিজের ছেলেকে অবহেলা করে অন্যের হাতে ছেড়ে দিলেন? বাবার কোনো দায়িত্বই পালন করেননি আপনি, যার সবটুকু আমার বন্ধু একা হাতে সামলেছে!"
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে জাহাঙ্গীর সাহেব আতিফকে থামিয়ে দিলেন।
আতিফ মির্জার তিক্ত সত্যগুলো শুনে আফসার লজ্জায় মুখ নিচু করে থমথমে হয়ে বসে রইলেন; দেওয়ার মতো কোনো উত্তর তার কাছে ছিল না। এটা ঠিক যে, তিনি সজ্ঞানেই ছেলেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় যখন তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, আফ্রিদির বয়স তখন বড়জোর সাত কি আট বছর। নতুন স্ত্রীর আপত্তিতেই তিনি ছেলেকে বোন সাবেরার কাছে রেখেদিলেন। নতুন বউ নিয়ে বনের বাড়িতে প্রথম যেদিন গেছিল,আফ্রিদিকে সামনে নিয়ে এসে বলেছিলেন, "এটি তোমার নতুন মা," তখনও ছেলেটি কেবল নির্বাক হয়ে বাবার মুখের দিকে চেয়ে ছিল কোনো কথা বলেনি।
ঠিক সেই মুহূর্তে জাহির কোথা থেকে দৌড়ে এল। সে এসেই নতুন বউয়ের ঘোমটা টেনে খুলে ফেলল। তারপর বড়দের মতো বিজ্ঞ ভঙ্গিতে বউয়ের থুতনি ধরে এদিক-ওদিক মুখ ঘুরিয়ে দেখে আফসারকে বলল, "মামু, এই বউ একদম ভালো হয়নি, আমার মামী একটাই ছিল, যে এখন আল্লাহর কাছে। তাই এই নতুন মামীকে আমি রিজেক্ট করলাম, এ চলবে না!"
ছোট্ট জাহির দৌড়ে আফ্রিদির কাছে গিয়ে ওর হাত ধরে টানতে টানতে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে লাগল। যেতে যেতে ও আফ্রিদিকে ধমকের সুরে বলল, "তোর আলাদা মা লাগবে না, আমার মাকেই তোকে দিয়ে দিলাম। আমার চেয়ে তোরই মা বেশি। এখন আর একদম ঘ্যানঘ্যান করবি না, নইলে তোকে খেলতে নেব না!"
সাত-আট বছরের এক শিশুর মুখে এমন কথা শুনে সেদিন উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় আফ্রিদি শেষবারের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে বাবার দিকে তাকিয়েছিল। সেই শেষ—এরপর সে আর বাবার মুখ দেখেনি, এমনকি 'বাবা' বলে সম্বোধনও করেনি কোনোদিন।
ওদিকে আতিফদের আলোচনা চলতেই থাকল, কিন্তু আফসার আর একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না। আজ প্রথম তার মনে হলো, বাবা হিসেবে তিনি চরম ব্যর্থ; বড় ছেলের জীবনে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। ছেলে তার বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়, সারা বিশ্বে তার নামডাক, সেই সন্তানের জন্য তিনি কিছুই করতে পারেননি। কখনো টিভিতে আফ্রিদিকে নিজের বাবার কথা বলতে শোনা যায় না। জাহির যেখানে সারাক্ষণ হাসি-ঠাট্টা আর মজার গল্পে মেতে থাকে, সেখানে আফ্রিদি নিজের সম্পর্কে টু শব্দটি পর্যন্ত করে না। এমনকি জাহির যখন তাকে নিয়ে কিছু বলে, সে কেবল মৃদু হাসে।
স্মৃতিগুলো মনে পড়তেই হুট করে আফসারের চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এল। সবার অলক্ষ্যে তিনি চোখ মুছে নিলেন, কিন্তু বিহানের তীক্ষ্ণ নজর এড়াতে পারলেন না। তবে এই কান্না দেখে বিহানের মনে বিন্দুমাত্র সহানুভূতির উদয় হলো না, বরং সে আরও বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল।
কথার ফাঁকে জাহাঙ্গীর সাহেব বারবার তানিকে লক্ষ্য করছিলেন। শান্ত স্বভাবের মেয়েটিকে তার বেশ মনে ধরেছে। তানির ডাগর ডাগর চোখ আর মায়াবী চেহারায় এক অদ্ভুত সরলতা; সারাক্ষণ দৃষ্টি নিচু করে রেখেছে সে। মা যা বলছেন, মুখ বুজে কেবল মাথা নেড়ে সায় দিয়ে যাচ্ছে, একটি শব্দও উচ্চারণ করছে না। রূপের দিক থেকেও মেয়েটি মাশাআল্লাহ্ অত্যন্ত সুশ্রী। সব মিলিয়ে তানিকে প্রথম দেখাতেই তার পছন্দ হয়েছে ভীষণ তার একটা মেয়ে হলে বোধহয় এমন হতো।
সবাই যখন নাস্তা নিয়ে ব্যস্ত, তখন জাহাঙ্গী আতিফ সাহেবকে একপাশে ডেকে নিলেন। সেখানে তারা নিভৃতে কিছু জরুরি আলাপ সেরে নিলেন। কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীর সাহেব ফিরে এসে সবার সঙ্গে নাস্তায় যোগ দিলেন। এরপর আতিফরা দুইভাই নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা বললেন এবং তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি দুই গৃহিনীকেও জানানো হলো।
খবরটি শুনে মোহনা বেগমের মনটা কিছুটা ভার হয়ে গেল। মেয়ের সংসারে বাড়তি কোনো আপদ সৃষ্টি হোক—সেটি তিনি কিছুতেই চাইছিলেন না। তবে মনে দ্বিধা থাকলেও মুখে সরাসরি কিছু বললেন না; শুধু এটুকুই বললেন, "যা ভালো মনে হয় করো।" এরপর আর বাক্যব্যয় না করে তিনি নিজের কাজে চলে গেলেন।
জাহাঙ্গীর সাহেব এবার সবার সামনে আসল কথাটি তুললেন। আতিফের দিকে তাকিয়ে বললেন, "আমার ছেলে যা করেছে, তার জন্য ও তোর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবে আতিফ। তোরা এখন আমাদের সাথেই চল। আমাদের বাড়ি থেকেই সোজা বউ নিয়ে ফিরব, তোরা পরে না হয় সময় করে ধীরে-সুস্থে আসিস।"
আতিফ তার প্রস্তাবে সায় দিয়ে মাথা নাড়লেন।
জাহাঙ্গীর সাহেব আরও যোগ করলেন, "আমাদের বাড়িতে তোদের এক আত্মীয়ও আছে, তুহিনার কাজিন রিলেটেড কিছু একটা হয় সে।"
কথাটি শুনে উপস্থিত কেউ ঠিক বুঝতে পারল না তিনি কার কথা বলছেন। তবে মোহনা বেগম মনে মনে ভাবলেন, হয়তো তার ভাইয়ের মেয়ে রূপসার কথাই বলা হচ্ছে। তিনি আর কথা না বাড়িয়ে নিজের মালপত্র গোছানোর জন্য ঘরে চলে গেলেন। একে একে সবাই যার যার প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে নিতে শুরু করল।
জাহাঙ্গীর সাহেব মনে মনে পরিকল্পনা করছেন, হুট করেই জাহিরের বিয়েটা দিয়ে দেবেন। নইলে তার ছেলে বড্ড সেয়ানা, আগে জানলে নির্ঘাত কোনো না কোনো বাহানা জুড়ে দেবে। তাই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাকে আটকে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নিজের এই জল্পনা-কল্পনার মাঝেই তিনি আপনমনে মৃদু হেসে ফেললেন।
"চাচু... ও চাচু..."
কারও একটানা ডাকে বিহানের ভাবনায় ছেদ পড়ল। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখলেন পিলারের আড়ালে দাঁড়িয়ে রামিম তাকে ডাকছে। বিহান সবার দিকে একবার তাকিয়ে উঠে এলো রামিমের কাছে।
"কী হয়েছে রে?" বিহান জিজ্ঞেস করল।
রামিম মুখিয়ে ছিল, "বলো কী হয়নি! এসব কী হচ্ছেটা কী?"
"আমার ভাইয়ের পাকামি আর কী!" বিহান বিরক্তি নিয়ে উত্তর দিল।
রামিম এবার আসল খবরটা জানাল, "মেজদা আর দাদাভাই তোমাকে উপরে ডাকছে। সবাই ওখানেই আছে। কিন্তু বড়দা তো দাদীর ঘরে ফেঁসে আছে, সবার সামনে বেরোতে পারছে না। বড় আব্বা যদি সবার সামনেই ক্যালানি শুরু করে দেয়!"
বিহান গজগজ করতে করতে বলল, "ঠিক করেছে। ওকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বল।"
"কেন?" রামিম অবাক।
"পরেই দেখতে পাবি। চল ওদিকে যাই।"
রামিম কৌতূহলী হয়ে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল, "ওরা কি ভাবিকে নিয়ে চলে যাবে?"
বিহান আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিল, "না না, বিয়ে দিতেই নিয়ে এসেছে। আমাদের ছেলের মতো ছেলে ওরা হারিকেন দিয়ে খুঁজলেও পাবে না!"
জাহির আর সুহানা ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে। সুহানা বাইরে কিছুই দেখতে পারছে না, লম্বা হওয়ার সুবাদে জাহির ঠিকই সব দেখতে পাচ্ছে। সুহানা ওকে বারবার জিজ্ঞেস করছে কী হচ্ছে, কিন্তু জাহির কোনো উত্তর না দিয়ে কেবল মজা করে যাচ্ছে।
সুহানা আতিফের কথা জানতে পারে যদি এখান থেকে চলে যেতে চায়, তখন কী হবে? এই দুশ্চিন্তা জাহিরের পিছু ছাড়ছে না। আজ না হোক কাল তো সব জানাজানি হবেই, তখন সুহানা কী করবে? উফ্, এই সব ঝামেলা যেন আর শেষ হতে চাইছে না!
এদিকে দাদী সবার সাথে গল্পে মেতে উঠেছেন, নানা রকম কথাবার্তা বলছেন। জাহির উঠে গিয়ে জানালাটা টেনে দিয়ে পর্দা ফেলে দিল। সুহানা সেখান থেকে সরে এল, আর জাহির ধপ করে খাটের ওপর হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল। সুহানা চারিদক দেখে ওয়াশরুমের দিকে গেল; দরজা খুলে দেখল ভেন্টিলেটর দিয়ে পালানোর কোনো পথ নেই, কারণ সেখানে শক্ত কাঁচ লাগানো। আর কতক্ষণ এভাবে বন্দি হয়ে থাকবে সে? এখান থেকে বেরোনো এখন তার জন্য ভীষণ জরুরি।
সুহানা চারদিকে নজর বুলিয়ে দেখল বেডের ঠিক উপরে চৌকো মতো একটা জায়গা কাটা আছে; সেখানে কোনো গ্রিল নেই, কেবল একটা টিন দিয়ে ঢাকা। সে ঘর থেকে একটা কাঠের চেয়ার টেনে নিয়ে এল। জাহির খাটে একপাশে কাত হয়ে শুয়ে মাথায় হাত দিয়ে কৌতূহল ভরে সুহানার কাণ্ড দেখছিল।
সুহানা চেয়ারে উঠে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু নাগাল পেল না। পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে উঁচিয়েও কাজ হলো না। শেষমেশ সে চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে লাফালাফি শুরু করে দিল, তবুও সেই টিন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারল না। সুহানার এমন অবস্থা দেখে জাহির আর হাসি চেপে রাখতে পারল না, সে হো হো করে হেসে উঠল।
সুহানা নিজের চশমাটা নাকের ওপর ঠেলে দিয়ে ভুরু কুঁচকে কড়া চোখে তাকাল। রাগত স্বরে বলল, "হেল্প তো করছেনই না, উল্টো বেহায়ার মতো হাসছেন কেন?"
জাহির নির্লজ্জের মতো উত্তর দিল, "আমি তো বিশ্বসেরা বেহায়া, তাই হাসছি!"
সুহানা বিরক্ত হয়ে শুধু বলল, "ছি!"
জাহির পা দিয়ে চেয়ারে আলতো চোট মারতেই সুহানা টাল সামলাতে পারল না। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো ও মেঝেতে আছাড় খাবে, কিন্তু ঠিক তখনই সে নিজেকে সামলাতে গিয়ে সোজাসুজি বিছানায় শুয়ে থাকা জাহিরের ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ল।
হঠাৎ এই পতনে দুজনেরই নিঃশ্বাস থমকে গেল। সুহানার এলোমেলো চুলগুলো জাহিরের মুখের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। জাহির দুহাতে সুহানাকে জড়িয়ে ধরল কিনারা তে আছে যাতে সে বেড থেকে পড়ে না যায়। সুহানার হৃৎপিণ্ড তখন কামারের হাপরের মতো ওঠানামা করছে, আর সেই স্পন্দন স্পষ্ট টের পাচ্ছিল জাহির তখনি তার হাসি উবে যায় মূলত সুহানা কে ভয় দেখাতে সে চেয়ারে নাড়া দিয়েছিল আলতো এমন টা হবে সে বুঝতে পারেনি।
সুহানা থতমত খেয়ে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করতেই জাহির তার হাতের বাঁধন আরও শক্ত করে নিল। এক অদ্ভুত মাদকতা খেলা করছিল জাহিরের চোখে। সুহানার কানের কাছে মুখ নিয়ে সে খুব নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল, “পালাই পালাই বললেই কি আর পালানো যায়? আটকে তো গেলে আমারই কাছে”।
সুহানার সারা শরীরে শিহরন বয়ে গেল। সে লজ্জায় আর আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল। ঘরের স্তব্ধতার মাঝে কেবল দুজনের ঘন হয়ে আসা নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। জাহিরের হাতের স্পর্শে এক ধরণের তপ্ত আকাঙ্ক্ষা সুহানাকে অবশ করে দিচ্ছিল, যা সে আগে কখনো অনুভব করেনি।
সুহানার দুই হাত জাহিরের চওড়া বুকের ওপর ভাঁজ হয়ে আটকে আছে। জাহিরের চোখের দৃষ্টিতে তখন এক আদিম অবাধ্যতা; সে আজ সবটুকু ভদ্রতার খোলস ঝেড়ে ফেলেতে চাইছে।
সুহানা থরথর করে কাঁপছিল। অস্ফুট স্বরে ও বলল, “ছাড়ুন..... কেউ চলে আসবে আমাকে যেতে ...।”
জাহির ওকে ছাড়ল তো না-ই, বরং এক হাত সুহানার টিশার্ট এর মধ্যে ঢুকিয়ে সুহানার মখমল কোমরের বাঁধন আরও শক্ত করে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিল। ওর তপ্ত নিঃশ্বাস তখন সুহানার গলার ভাঁজে আছড়ে পড়ছে। চরম এক অসভ্যতায় মেতে উঠে জাহির সুহানার কানের লতি আলতো করে কামড়ে ধরল। তারপর ফিসফিস করে বলল, “কেউ আসুক না, তাতে তো আমারই সুবিধা! শুনেছি এখানে ছেলে-মেয়েকে এই অবস্থায় একসঙ্গে দেখলে সবাই মিলে পাকড়াও করে বিয়ে দিয়ে দেয়।”
জাহিরের এমন বেপরোয়া কথা শুনে সুহানার সারা শরীরে এক তীব্র শিহরন বয়ে গেল। ওর হাতের শক্ত স্পর্শ আর গায়ের পুরুষালি ঘ্রাণে সুহানা ক্রমশ অবশ হয়ে আসছিল জাহিরের চোখের দিকে তাকাতে পারে না সুহানা বাদামী মণি বিশিষ্ট চোখ জোড়ায় তাকালেই দেখা মেলে জাহিরের বেহায়া দৃষ্টির এমন জায়গায় তাকায় সুহানা কেউকে বলতে পারবে না। সুহানা জানে জাহির কতটা বেহায়া, দুঃসাহসী, তবুও অদ্ভুত এক কারণে ও জাহিরকে কিছুই বলতে পারে না। শেষ বার এক খানা থাপ্পড় মেরেছিল জাহিরের চরম দোষ থাকা সত্ত্বেও সুহানা ভিতরে ভিতরে অনুশোচনা করেছিল কেনো করেছিল ?এই মহাবিশ্বের বুকে জাহিরই বোধহয় একমাত্র মানুষ, যার কাছে এলে সুহানা ঝিলের শান্ত পানির মতো স্বচ্ছ আর স্থির হয়ে যায়।
জাহির এবার পরম আবেশে সুহানার চিবুক ধরে মুখটা আরও একটু উঁচিয়ে ধরল। অন্য হাত দিয়ে সুহানার চোখের চশমাটা খুলে সযত্নে পাশে রেখে দিল। জাহিরের সেই নেশাতুর চাউনির আদিম আকর্ষণের সামনে সুহানার সমস্ত প্রতিরোধ মুহূর্তেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো
সুহানা অস্ফুটে বলল, “আপনি বলেছিলেন….. এর পরে আমি ক্ষমা করবো না আপনার ইন্সিভিলিটি... ডার্টিমাইন্ড…”
জাহির এক বাঁকা হাসি হেসে সুহানার ঠোঁটের খুব কাছে মুখ নিয়ে এল, “অসভ্যতা তো কেবল শুরু ষোলোআনা আগে আগে দেখো হোতা হ্যায় কিয়া?, এখনো তো অনেক কিছু বাকি!”
মেয়েমানুষ নিজেকে যতই শক্ত বা কঠোর করে রাখুক না কেন,পুরুষের স্পর্শের কাছে সেই কাঠিন্য মুহূর্তেই ফিকে হয়ে যায়; ঠিক যেমন আগুনের উত্তাপে বরফ গলে জল হয়ে যায়। সুহানার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ইস্পাতের মতো কঠিন হৃদয়ের অধিকারী সুহানা যে কারোর কাছে নত হয়না সেই রমণী শেষ পর্যন্ত ‘বেহায়া নম্বর ওয়ান’ জাহিরের কাছে নতি স্বীকার করল। সে আবেশে চোখ বন্ধ করে নিল, তার বুকের ওপর রাখা হাত দুটো দিয়ে জাহিরের শার্ট শক্ত করে মুঠো করে ধরল।
জাহির এবার এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটিয়ে বসল। হুট করেই সে সুহানার ওপর চড়ে বসল ওর পরনে থাকা ঢিলেঢালা ওভারসাইজ টি-শার্টটি এক টানে কাঁধের নিচ পর্যন্ত নামিয়ে দিল। সুহানার শরীরের মাতাল করা সুগন্ধ আবেশি ঘ্রাণ নাক ঘষে গভীর নিঃশ্বাসের সাথে নিজের ভেতর টেনে নিল।
জাহির এবার সবটুকু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুহানার গ্রীবায় মুখ ডুবিয়ে গভীর চুম্বনে মেতে উঠল। সুহানা তীব্র শিহরনে শিউরে উঠে চোখ দুটি শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল। সে ছটফট করে জাহিরকে সরাতে চাইল, কিন্তু বাধা পেয়ে জাহির আরও বেপরোয়া হয়ে উঠল। সে সুহানার দুই হাত বিছানার সাথে শক্ত করে চেপে ধরে ওকে স্থবির করে দিল।
আত্মনিয়ন্ত্রণ শব্দটা জাহিরের অভিধানে কোনোকালেই ছিল না, আর আজ এই নিভৃত মুহূর্তে তো প্রশ্নই ওঠে না। আগে পাওয়া থাপ্পড়ের ব্যথা ও লোকলজ্জা—সবই সে বিস্মৃত হয়েছে। একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে সে জেনেও সময়, কাল আর পরিস্থিতির জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। বাইরের লিভিং রুমে কী ঘটছে তা বোঝার হিতাহিত জ্ঞান এখন তার নেই; তার অবদমিত সত্তা আজ অন্য কিছুর তৃষ্ণায় কাতর।
আফ্রিদির আশঙ্কাই আজ সত্যি হলো। নিজের পার্সোনাল লাইব্রেরিতে অন্ধকার সব 'নিষিদ্ধ' বই পড়ে পড়ে জাহিরের ভেতরটা সত্যিই এক অসভ্য ও বেহায়া রূপ নিয়েছে। গত সাত আট বছর ধরে মনের গহিনে পুষে রাখা জাহিরের আদিম অন্ধকার কামনা, তার ডার্টি থটস, 'ডার্ক ডিজায়ার'-এর বাঁধ আজ বোধহয় ভেঙেই গেল।
চলবে….
(গল্পের সমস্ত চরিত্র,কাল সবই কাল্পনিক সকলে সেই ভাবেই নেবেন, লেখার মাঝে কোনো বানান ভুল থাকলে মাফ করবেন)
#প্রেমের_আলোড়ন
#md_suhan_joy
#midnight_tales_by_joy
Thank You🍀
(Don’t copy without permission)
Enjoy your reading 🎀