গল্প: প্রেমের আলোড়ন
লেখক:এমডি সুহান জয়
পেজ: Midnight Tales by Joy
পর্ব: ৬০
[বিশেষ দ্রষ্টব্য-"এই গল্পটি মূলত গভীর প্রণয় ও সূক্ষ্ম জীবনবোধের এক অনন্য সংমিশ্রণ। এখানে যেমন ফুটে উঠেছে হৃদয়ের তীব্র রোমান্টিক অনুভূতি, তেমনি সমান্তরালভাবে উঠে এসেছে কঠোর সামাজিক বাস্তবতা এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন ও নিরন্তর সংগ্রামের চিত্র। আশা করি, অনুভূতির এই বিচিত্র রঙ আপনাদের স্পর্শ করে যাবে।"]
হামদান জানালার বাইরে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, কিন্তু তার চোখের মণি কোনো দৃশ্যপট নয়, বরং উন্মাদনায় থমকে দাঁড়িয়েছে। আজ আরও একবার তাকে দেখা হলো। সেই দৃষ্টি, যা তীরের ফলার মতো হামদানের পাজর চিরে সোজা হৃদপিণ্ডে বিঁধে গেছে। এই যে তীব্র দহন, হামদান তা মেটাতে চায় না; বরং এই নীল বিষে নিজেকে তিলে তিলে নীল হতে দেওয়াটাই তার স্বভাব। জাহিরের সাথে এই বিষয়ে খুব দ্রুত তাকে মুখোমুখি হতে হবে—হিসাব চুকিয়ে নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে।
মেয়েটির মুখচ্ছবি মনে পড়তেই হামদানের ঠোঁটের কোণে এক পৈশাচিক অথচ তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। দুবাই এয়ারপোর্টের সেই ভিড়ে প্রথম দেখা। হাজারো মানুষের মাঝে কেবল এক জোড়া চোখ হামদানকে স্থাণু করে দিয়েছিল—সুহানার হালকা সবুজ-বাদামী চোখ। যে চোখে তাকালে পথ হারানো সহজ, অথচ ফিরে আসা অসম্ভব।
হামদান সাধারণ কেউ নয়। দুবাইয়ের প্রতাপশালী শেখের উনিশতম সন্তান সে। আভিজাত্য আর রক্তের উত্তরাধিকার তার ধমনীতে বইলেও, তার ভেতরে বাস করে এক অন্ধকার সত্তা। সে এক ‘অধৈর্য সত্তা’। সৌন্দর্যের প্রতি তার আকর্ষণ যতটা তীব্র, তার প্রকাশ ততটাই বীভৎস। প্রিয় কোনো বস্তুর বা মানুষের অঙ্গহানি করে নিজের সংগ্রহে রাখা তার এক গোপন বিলাসিতা। নারীসঙ্গ তার জীবনে অগুনতি, কিন্তু সুহানা তার কাছে কোনো রক্ত-মাংসের মানবী নয়; সে এক দুর্লভ শিল্পকর্ম, যাকে নিজের সংগ্রহশালায় বন্দি করতে হামদান মরিয়া।
জাহির তাকে বাধা দেবে তার কাজে এটা সে খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছে কিন্তু হামদান তো সেই শিকারি, যে শিকারের আগে বাঘকেও খেলাতে ভালোবাসে। ওই মায়াবী চোখের মণি সমেত তার শরীর যদি একবার তার হাতের তালুতে থাকত! ভাবতেই হামদানের ঘামভেজা কপালে উত্তেজনার শিরাগুলো জেগে উঠল। পূর্ণিমার চাঁদটা আজ বড্ড উজ্জ্বল, ঠিক মেয়েটির গায়ের রঙের মতো।
গাড়ির কাঁচের প্রতিফলনে নিজের বিধ্বংসী সুন্দর চেহারাটা একবার দেখে নিল হামদান। মনে মনে অস্ফুট স্বরে আওড়াল— “ আপনি কি জানো আপনার ওই চোখ দুটো উপড়ে এনে হীরের বাক্সে সাজিয়ে রাখার জন্য আমার হাত দুটো কতটা নিশপিশ করছে? জাহির আপনাকে আগলে রাখতে চাইছে, আর আমি চাইছি আপনাকে ধ্বংস করে অমর করে দিয়ে আমার বুকে সাজিয়ে রাখতে।”
হামদান জানালার বাইরে তাকিয়ে মৃদুস্বরে একটি নাম উচ্চারণ করল, যা বাতাসের সাথে মিশে এক রহস্যময় ধ্বনি তৈরি করল— “আল-যুমুররুদ”।
সে তার লম্বা আঙুল দিয়ে গ্লাসের ওপর কাল্পনিক এক জোড়া চোখের অবয়ব আঁকল। তার চোখে তখন এক পৈশাচিক মুগ্ধতা। সে বলল— “ দুনিয়া আপনাকে যে নামেই ডাকুক, আমার কাছে আপনি হলেন আমার সবুজ পান্না। আপনাকে কোনো মাটির পৃথিবীতে রাখা সাজে না, আপনার জায়গা হবে আমার হীরের বাক্সে, আমার চোখের ঠিক সামনে। আমার এই বিষাক্ত ভালোবাসার নাম আজ থেকে আল-যুমুররুদ।”
রাতের নিস্তব্ধতায় হামদানের এই ভয়াবহ ভালোবাসা আর এক নিষ্ঠুর পরিকল্পনার নীল নকশা তৈরি হতে লাগল।
___________________________
জাহির চলে যাওয়ার আজ এক সপ্তাহ পূর্ণ হলো। বাড়িটা এখন নিঝুম পুরী, যেখানে বাতাসের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে জাহিরের সেই দাপুটে অস্তিত্বের অভাব টের পাওয়া যায়। মাঝে কয়েকবার কথা হয়েছে তার…
ফোনের স্পিকারে জাহিরের মখমল মসৃণ কণ্ঠস্বরটা বেজে উঠল—
— "সুহু..."
সুহানা ঘরের নির্জন দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সে ধীরস্বরে উত্তর দিল— "হম..."
— "খেয়েছো?"
— "হ্যাঁ।" এক মুহূর্ত থেমে সুহানা পুনরায় যোগ করল— "আপনি?"
জাহির ওপার থেকে একটু হাসল। এই সামান্য পাল্টা প্রশ্নটুকুই তার তৃষ্ণার্ত মনের জন্য এক ফোঁটা বৃষ্টির মতো। সে কোমল স্বরে বলল—
— "হ্যাঁ, খেয়েছি। আমি তোমাকে বড্ড মিস করছি সুহু। প্রতিটি মুহূর্ত এক একটা যুগের মতো মনে হচ্ছে।"
সুহানা ফোনটা কানের কাছে শক্ত করে চেপে ধরল। সে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে ধীরে ধীরে নিচে স্লাইড করে বসে পড়ল। জাহির এই কথাটা তাকে প্রথম বলছে না, আগেও বহুবার বলেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যতবার জাহির এই বাক্য উচ্চারণ করে, সুহানার হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন ঠিক ততবারই নতুন করে স্তব্ধ হয়ে যায়। এক অদ্ভুত শিহরণ তার মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে যায়।
সে মুখে কিছু বলতে পারে না। সে শুধু অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে জাহিরের কণ্ঠস্বরের উষ্ণতা অনুভব করে। ফোনের ওপারে জাহির হয়তো তখনো তার উত্তরের আশায় শ্বাস আটকে বসে আছে, আর এপারে সুহানা তার না বলা ভালোবাসার জালে নিঃশব্দে বন্দি হয়ে যাচ্ছে। এই মৌনতা হাজার শব্দের চেয়েও বেশি মুখর, যা কেবল একজন প্রেমিক হৃদয়ের কান দিয়েই শোনা সম্ভব।
রাত তখন গভীর। ফোনের ওপার থেকে জাহিরের কণ্ঠস্বর ম্লান হয়ে এল, তাতে মিশে ছিল বিদায়ের বিষণ্ণতা আর এক চিলতে অধিকারবোধ। সে মৃদু হেসে বলল—
— “ঘুমাও ষোলোআনা, অনেক রাত হয়েছে। আমি রাখি। কাল যদি বেঁচে থাকি, তবে আবার কল করে তোমাকে জ্বালাব।”
শেষ কথাটিতে এক অদ্ভুত প্রশ্রয় মাখিয়ে জাহির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল। সুহানা হাতের ফোনটা রেখে দিয়ে দেয়ালের সাথে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইল। লাইব্রেরির টেবিলে অনেকগুলো বই ছড়ানো-ছিটানো, সে এতক্ষণ ওগুলো নিয়েই ঘাঁটাঘাঁটি করছিল। কিন্তু এখন আর পড়ায় মন নেই। জাহিরের সেই শেষ বাক্যটি—‘বেঁচে থাকলে আবার জ্বালাবো’—সুহানার বুকের ভেতর কেমন এক অজানা আশঙ্কার জন্ম দিল। সে শূন্য দৃষ্টিতে বইয়ের পাতাগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল, ওগুলোর কালো অক্ষরে জাহিরেরই ছায়া দেখতে পাচ্ছে।
অনেক দূরে একটি বিলাসবহুল ভিআইপি হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে জাহির। ফোনের স্ক্রিনের আলো নিভে যেতেই অন্ধকার তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল। হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের আপ্যায়নে কোনো ত্রুটি রাখেনি; সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আর আতিথেয়তা তাদের ঘিরে ব্যস্ত। কিন্তু এই ঝকঝকে ঐশ্বর্যের মাঝেও জাহিরের মনটা বড্ড একা।
জাহির হাতের ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে ব্যালকনির রেলিংয়ে দুই হাত চেপে ধরল। রাতের ঠান্ডা বাতাস তার উত্তপ্ত মস্তিষ্ককে শীতল করতে পারছে না। সুহানা—তার বিবাহিত স্ত্রী, তার বৈধ অধিকার—অথচ এক সপ্তাহ ধরে এই দূরত্বের প্রতিটি মুহূর্ত জাহিরের কাছে বিষের মতো মনে হচ্ছে।
শহরের কৃত্রিম আলো আর আকাশের প্রাকৃতিক অন্ধকারের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে জাহির এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই এক সপ্তাহ তার জীবনের দীর্ঘতম এক সপ্তাহ। সুহানার থেকে দূরে থাকাটা যতটা কষ্টের, তার চেয়েও বেশি কষ্টকর ওই মেয়েটির মনের গহীনে নিজের জায়গাটা খুঁজে পাওয়া। জাহির বিড়বিড় করে নিজের মনেই বলল— “তোমাকে ছাড়া আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস নিতেও বড্ড কষ্ট হয়”।
ফোনটা কাটার পর থেকেই জাহিরের চোখের সামনে সুহানার সেই শান্ত, নির্লিপ্ত মুখখানা ভেসে উঠছে। জাহির বড্ড জেদি, বড্ড একরোখা; যা সে একবার নিজের বলে ঠিক করে নেয়, তার ওপর পৃথিবীর আর কারো ছায়া পড়াও সে সহ্য করতে পারে না। কিন্তু সুহানার প্রতি তার এই আকর্ষণ কেবল ভালোবাসায় সীমাবদ্ধ নেই, তা এক তীব্র নেশায় পরিণত হয়েছে।
সে রাতের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে নিজের অবাধ্য কল্পনাগুলোকে শাসন করার চেষ্টা করল। কিন্তু তার মস্তিষ্ক তখন সুহানার শরীরের প্রতিটি ভাঁজ, তার গায়ের সুবাস আর তার ওষ্ঠাধরের সেই অবাধ্য কম্পন নিয়ে মেতে উঠেছে।
— “ষোলোআনা, তুমি কি জানো এই মুহূর্তে আমার বুকের ভেতরে কেমন অগ্নিকুণ্ড জ্বলছে? এই দূরত্ব আমাকে মানুষ রাখছে না, জানোয়ার বানিয়ে দিচ্ছে। তোমাকে আমার দুহাতের পিষণে পিষে ফেলতে ইচ্ছে করছে। তোমার ওই মৌনতাকে আমি নিজের ঠোঁট দিয়ে চূর্ণ করে দেব, যেদিন তোমাকে আমার নরম বেডে পাব”।
জাহিরের ভাবনায় তখন এক তৃষ্ণার্ত পুরুষের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। সে কল্পনা করছে সুহানার সেই অবিন্যস্ত চুল, তার কঠিন অবয়েব এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা যৌবন—যা কেবল জাহিরের জন্যই সংরক্ষিত। তার ভিতরে আওয়াজ আজ তাকে বলছে, সুহানার ওই শীতলতাকে সে নিজের গায়ের তাপে গলিয়ে জল করে দেবে। সে সুহানাকে ভালোবাসতে চায়, সে তাকে গ্রাস করতে চায়; এমনভাবে অধিকার করতে চায় যাতে সুহানার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসে কেবল জাহিরের নাম লেখা থাকে।
সে আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসল। তার শিরায় শিরায় তখন লালসার তীব্র স্রোত। জাহির জানে, সে সুহানার ওপর কতটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। এই বিবাহিত তকমা তাকে যে লাইসেন্স দিয়েছে, জাহির তার প্রতিটি বিন্দু উশুল করে নিতে চায়। তার অশ্লীল কামনার সংমিশ্রণে সুহানা নামের ব্যক্তিগত রমণী এক নিষিদ্ধ ফল, যা সে আস্বাদন না করা পর্যন্ত তৃপ্ত হতে পারছে না।
রাতের নিস্তব্ধতায় জাহিরের দীর্ঘশ্বাসগুলো বড্ড ভারী হয়ে এল। সে মনে মনে আওড়াল— “ফিরে আসি একবার সুহু, তারপর দেখাব এই জেদি অসভ্য লোকটা তোমাকে ঠিক কতটা কুৎসিতভাবে ভালোবাসতে জানে। তোমার কাঠিন্য— আমার এই তৃষ্ণার কাছে হার মানতে বাধ্য”।
হোটেল রুমের দামী আসবাব জাহিরের এই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা শরীরী চাহিদার কাছে তুচ্ছ মনে হতে লাগল। সুহানার অস্তিত্বকে তছনছ করে দেওয়ার দিন গুনছে।
_______________________________
সুহানা নিজেকে ব্যস্ততায় ডুবিয়ে রাখতে চায়; তাই প্রস্থানের পরদিন থেকেই সে রেস্টুরেন্টের কাজে নিজেকে সঁপে দিয়েছে। ইদানীং ফিনার শরীরটা বড্ড ভেঙে পড়েছে, মেয়েটা কেন জানি দিন দিন বড্ড ফ্যাকাশে আর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সুহানা যখন ছিল না, তখন ব্যবসার সবটুকু ধকল ফিনার ওপর দিয়েই গিয়েছিল, সেই ক্লান্তিই এখন ডালপালা মেলছে।
রেস্টুরেন্টের পাশের সম্প্রসারণের কাজগুলো আবার নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন এসেই আঙ্কেলের কাছে বেশ খানিকটা বকুনি খেতে হয়েছে সুহানাকে। সে কোনো প্রতিবাদ করেনি, মাথা নিচু করে সব শুনেছে আর হেসেছে সে জানে, এই শাসনের আড়ালে নিখাদ ভালোবাসা লুকিয়ে আছে।
আজ কিচেন শিফট করার পালা। ডাইনিং এলাকায় তিল ধারণের জায়গা নেই। কলেজ আর অফিসের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মীদের। সুহানা মনে মনে তার নানাকে একবার থ্যাঙ্ক ইউ জানায়।বুড়ো বহু বছর আগে জহুরীর চোখ দিয়ে এই জায়গাটা নির্বাচন করেছিলেন বলেই আজ তারা সাফল্যের মুখ দেখছে। এই পুরনো কিচেনটাকে ভেঙে ডাইনিংয়ের সাথে জুড়ে দিয়ে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি বসানো হবে, আর কিচেন চলে যাবে রেস্টুরেন্টের পেছনের অংশে।
কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে ফাঁকে সুহানার অবাধ্য মনটা বারবার জাহিরের দিকে ছুটে যাচ্ছে। এই সাতটি দিন সে নিজেকে ভুলিয়ে রেখেছে। জাহিরের চিরচেনা সুবাস মাখা রুমে সে একদিনও ঘুমাতে যায়নি মন চাইনি সেখানে থাকতে উল্টোপাল্টা ভাবনা আসে; পড়ার বাহানায় লাইব্রেরিতে রাত কাটিয়েছে, নয়তো তুহিনার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়েছে, দুইবোনের গল্পে কেটেছে । জাহিরকে মিস করার যন্ত্রণাটুকু সে নিজের বুকের অতল গহ্বরে সযত্নে লুকিয়ে রেখেছে সে নিজেকেও বুঝতে দিচ্ছে না।
কিচেনের বড় লোহার মাইক্রো ওভেনটা যখন চারজন কর্মী মিলে অনেক কষ্টে চাগিয়ে তুলে নিয়ে গেল, তখন মেঝের ওপর এক বিশ্রী কালো দাগ বেরিয়ে পড়ল। বহু বছরের তেল আর কালচে চটচটে আস্তর জমে জায়গাটা এক কদর্য রূপ নিয়েছে। সুহানা হাতে গ্লাভস পরে জায়গাটা পরিষ্কার করতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তার নজর কাড়ল সেই চটচটে তেলের ভেতরে অর্ধেক ডুবে থাকা একটি ছোট ছবি।
সুহানা ভ্রু কুঁচকে নিচু হলো। বহুদিনের জমাট বাঁধা তেলের প্রলেপ লেগে ছবিটির ওপর এক অদ্ভুত আস্তরণ পড়েছে। সে পরম সাবধানে গ্লাভস পরা হাত দিয়ে সেটি তুলে নিল। ঝাপসা আবছায়ার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল একটি মুখ। সুহানা দ্রুত ধুলো আর তেলের আস্তরণটুকু মুছে ফেলল।
ছবিটা চোখের সামনে আনতেই সুহানার বুকের ভেতরটা হিম হয়ে এল। ছবির সেই মানুষটিকে সে চেনে, বড্ড চেনা সেই চোখ! কিন্তু কিচেনের এই পরিত্যক্ত কোণে, তেলের আস্তরণের নিচে এই ছবিটা এল কোত্থেকে?
বিকেলের ম্লান আলো কিচেনের জানলায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে, কোনো এক অজানা রহস্যের সাক্ষী হতে চাইছে সে। সুহানা এক মুহূর্ত দেরি করল না; হাতের কাজ ফেলে গায়ের অ্যাপ্রনটা ঝটপট খুলে ফেলল। চটচটে তেলের আস্তর মাখা সেই রহস্যময় ছবিটা অতি সন্তর্পণে নিজের পকেটে গুঁজে নিল সে। দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখল সময় পাঁচটা ছুঁইছুঁই।
সুহানা দ্রুত কিচেন থেকে বেরিয়ে এল। হাতের অ্যাপ্রনটা এক স্টাফের দিকে ছুড়ে দিয়ে সে ফিনার রুমের দিকে পা বাড়াল। দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখল ফিনা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন; মেয়েটার ফ্যাকাশে মুখটা দেখে মায়া হলো তার। নিঃশব্দে দরজাটা টেনে দিয়ে সে নিজের ঘর থেকে হালকা রঙের একটা ফুলস্লিভ টিশার্ট আর কোল্ড প্যান্ট পরে তৈরি হয়ে নিল। ফোনের স্ক্রিনটা একবার দেখে নিয়ে সেটা পকেটে চালান করে দিয়ে সে বেরিয়ে এল ফুটপাথ থেকে মেইন রোডের দিকে।
বাইরে বিকেলের শেষ রোদে এক ধরনের বিষণ্ণতা মাখানো। সুহানা বাস স্টপের দিকে ধীর পায়ে এগোতে লাগল। সেই দুর্ঘটনার রাতে তার শখের স্কুটিটা দুমড়ে-মুচড়ে শেষ হয়ে গেছে, আর সারানো যায়নি নষ্ট হয়েগেছে। আজ তাই গণপরিবহনই ভরসা। স্টপেজে মিনিট দুয়েক দাঁড়ানোর পরই কাঙ্ক্ষিত বাসটা এসে থামল।
বাসে ভিড় নেই বললেই চলে। সুহানা কার্ড সোয়াইপ করে একদম জানালার ধারের একটা ফাঁকা সিটে গিয়ে বসল। বাইরের চলন্ত শহরটা তার চোখের সামনে দিয়ে ঝাপসা হয়ে ধেয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তার মনের ভেতরের ঝোড়ো হাওয়া থামছে না। মাথার ভেতর হাজারো প্রশ্ন মৌমাছির মতো গুঞ্জন করছে।
সুহানা ক্লান্তিতে চোখ দুটো বুজে সিটের ওপর মাথা রাখল। সে জানে, এই গোলকধাঁধার উত্তর দেওয়ার মতো মানুষ এই শহরে একজনই আছে।বাসের ইঞ্জিনের একটানা শব্দ আর বাইরের বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজের মাঝে সুহানা কেবল নিজের হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি শুনতে পাচ্ছিল। পাঁচটা স্টপেজ—তারপরই হয়তো খুলে যাবে কোনো এক অজানা রুদ্ধ দুয়ার।
জার্মানির মখমল মসৃণ রাস্তায় বাসটি যখন ধীরলয়ে চলতে শুরু করল, বিকেলের ধূসর আলো জানালার কাঁচ চিরে সুহানার ওপর এক মায়াবী আস্তর তৈরি করল। সুহানা জানালার ধারে মাথা হেলিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে, কিন্তু তার অবচেতন মন তখনো রহস্যে আচ্ছন্ন। ঠিক সেই মুহূর্তে বাসের পেছনের দরজা দিয়ে একজন দীর্ঘদেহী পুরুষ ভেতরে প্রবেশ করল।
তার পরনে একটি কালো ওভারকোট, মাথায় নিচু করে পরা টুপি আর চোখে ডার্ক গ্লাস। কোনো সাধারণ যাত্রী মনে হলেও তার চলন-বলনে এক রাজকীয় আভিজাত্য আর শিকারি নেকড়ের মতো সতর্কতা।ছদ্মবেশের আড়ালে সে আজ এক সাধারণ পথিকের বেশে সুহানার পিছু নিয়েছে। সে ধীরপায়ে এগিয়ে এসে সুহানার ঠিক দুই সিট পেছনে গিয়ে বসল।
আগন্তুক ঘাড় কাত করে একদৃষ্টিতে সুহানার দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখের সেই পৈশাচিক ছলাকলা আজ আরও তীব্র। বাসের হালকা ঝাঁকুনিতে সুহানার কয়েক গাছি অবাধ্য চুল তার কপালে এসে আছড়ে পড়ছে চশমা ঢেকে গেছে। “আল-যুমুররুদ! আপনি কি জানেন আপনার এই শান্ত অবয়ব দেখার জন্য আমি কতটা ক্ষুধার্ত হয়ে ছিলাম?”
সুহানা চোখ বন্ধ করে থাকলেও তার শরীর হঠাৎ শিরশির করে উঠল। তার ষষ্ঠেন্দ্রিয় তাকে জানান দিচ্ছে যে, কেউ একজন অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে তাকে পর্যবেক্ষণ করছে। সেই দৃষ্টির দহন সুহানা তার বন্ধ চোখের পাতার ওপরেও অনুভব করতে পারছে। বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে এল, আর সেই বাসের ভেতরে কোনো এক দামী বিলিতি পারফিউমের কড়া ঘ্রাণ সুহানার নাকে এল। জাহিরের সুবাস এটা নয়, সে এখানে আসবে কিভাবে তার মস্তিক জাহিরের কেনো আটকে আসছে?
ছদ্মবেশের আড়ালে থাকা সেই দানবীয় প্রেমিক আর কেউ নয়, স্বয়ং হামদান আল-মনসুর। হামদানের চোখের মণি দুটো তখন ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো জ্বলজ্বল করছে। বাসের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম ঠান্ডার মাঝেও তার বুকের ভেতর এক আদিম লাভাস্রোত বয়ে যাচ্ছে। তার স্থির দৃষ্টি সুহানার প্রতিটি নিঃশ্বাসের ছন্দ মেপে নিচ্ছে। হামদান মনে মনে সুহানার অস্তিত্বকে যেন টুকরো টুকরো করে আস্বাদন করছে।তার মনের গহীন অরণ্যে তখন এক ভয়াবহ কামনার উৎসব চলছে।
“আপনি কি জানেন আল-যুমুররুদ, আপনার এই শান্ত হয়ে বসে থাকা আমার ভেতরের রাক্ষসটাকে কতটা তৃষ্ণার্ত করে তুলছে? আমি চাইছি এখনই আপনার ওই পিনপতন নীরবতা ভেঙে আপনার প্রতিটি কোষে আমার অধিকার স্থাপন করতে। আপনাকে আমি কেবল রক্ত-মাংসের মানবী হিসেবে দেখি না; আপনি আমার সেই দেবী, যাকে আমি নিজের হাতে ধ্বংস করে আবার গড়ে তুলব”।
হামদান তার সিটে কিছুটা ঝুঁকে বসল, তার দৃষ্টি সুহানার গায়ের পোশাক ভেদ করে তার আত্মা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে চায়। — “আপনার ওই গ্রীবার ভাঁজে যখন বিকেলের আলো পড়ে, তখন আমার ইচ্ছে করে ওই আলোটুকুকেও বন্দি করে ফেলি। আপনি আমার কতখানি, তা যদি একবার বুঝতে পারতেন! আমি আপনাকে এমনভাবে গ্রাস করতে চাই যাতে আপনার অস্তিত্বের প্রতিটি অণু-পরমাণু আমার ভেতরে বিলীন হয়ে যায়। আপনার ভয়, আপনার ঘৃণা, আপনার চোখের জল—সবই আমার প্রাপ্য। আমি আপনাকে মুক্তি দেব না, কারণ আপনি আমার সেই পরম আকাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খল”।
হামদান চোখ দুটো ঈষৎ সরু করল। সুহানা ছটফট করে উঠল। তার মনে হলো, কেউ একজন যেন তার নিঃশ্বাসের শব্দও গুনে নিচ্ছে। সে চোখ খুলতে চাইল, কিন্তু এক অদ্ভুত আশঙ্কায় তার চোখের পাতা যেন আঠা দিয়ে লেগে আছে। সে বুঝতে পারছে, বাসের গতির সাথে সাথে তার দিকে ধেয়ে আসা সেই অদৃশ্য নজরটিও ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। জার্মানির আধুনিক বাসের ভেতরে এই শীতল নীরবতা কোনো এক ভয়ঙ্কর ঝড়ের পূর্বসংকেত।
হামদান সোজা হয়ে বসল, তার ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা বাঁকা হাসি। সে দেখছে কীভাবে তার ‘আল-যুমুররুদ’ অস্থির হয়ে উঠছে। শিকার যখন শিকারির উপস্থিতি টের পেয়ে ছটফট করে, তখনই তো শিকারের আসল আনন্দ। বাসের স্টপেজ ঘনিয়ে আসছে, আর হামদানের চোখের সেই স্থির দৃষ্টি সুহানার অস্তিত্বকে প্রতিটি পলকে গিলে খাচ্ছে।
সুহানা চোখ খোলার আগেই সে নিঃশব্দে বাসের অন্য দরজা দিয়ে নেমে গেল, কেবল রেখে গেল এক অস্থিরতা আর তার সেই তীব্র পারফিউমের রেশ। সুহানা যখন চোখ মেলল, সামনে কাউকে দেখল না, নেক্সট তার গন্তব্য সে সোজা হয়ে বসলো ঘেমে পড়েছে কি হচ্ছে এই সব জাহির যাওয়ার পর থেকে এমন হচ্ছে তার। বাস থামতেই নেমে পড়লো..
_______________________________
বিকেলের পড়ন্ত আলো তখন ম্লান হয়ে এসেছে। সুহানা যখন বাড়ির ভেতরে পা রাখল, বিশাল লিভিং রুমটা খাঁ খাঁ করছে। কেউ কোথাও নেই, কেবল দু-একজন কেয়ারটেকার নিজেদের কাজে ব্যস্ত। সে সোজা এগিয়ে গেল জাহাঙ্গীর সাহেবের ঘরের সামনে। দরজায় আলতো করে টোকা দিতেই ভেতর থেকে গম্ভীর অথচ স্নেহমাখা স্বরে উত্তর এল—
— "ভেতরে আয় সুহানা।"
সুহানা দরজার হাতলে হাত দিয়ে থমকে দাঁড়াল। সাবেরা বেগম জানলেন কী করে যে দরজার ওপাশে সে-ই দাঁড়িয়ে আছে? সুহানা তো একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি! এক মুহূর্ত দ্বিধা কাটিয়ে সে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। সাবেরা বেগম তাকে দেখে একগাল হাসলেন, কিন্তু পরক্ষণেই সুহানার মলিন মুখশ্রী দেখে চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
— "ভেতরে আয় সোনা। কী হয়েছে তোর? মুখটা এমন শুকিয়ে আছে কেন?"
সুহানা ওসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করল— "আঙ্কেল কোথায়?"
সাবেরা বেগমের মুখটা মুহূর্তেই ভার হয়ে গেল। সেই একদিন সুহানা তাকে মনের ভুলে 'মা' বলে ডেকেছিল, তারপর আর কোনোদিন ডাকেনি। মেয়েটা বড্ড চুপচাপ, স্থির। আজ আবার 'আঙ্কেল' সম্বোধন শুনে সাবেরার মনে একটু অভিমান জমল। তিনি কিছু বলার আগেই ব্যালকনির পর্দা সরিয়ে জাহাঙ্গীর সাহেব ঘরে ঢুকলেন। মূলত সুহানার গলার স্বর শুনেই তিনি ভেতরে এসেছেন।
— "আঙ্কেল বলে কাকে ডাকছিস মা?"
সুহানা তার হাস্যোজ্বল চেহারার দিকে তাকাল। কোনো ভণিতা না করেই বলল— "আমার কিছু জানার আছে।"
জাহাঙ্গীর সাহেব মৃদু হাসলেন— "জানাব তো অবশ্যই। তবে তার আগে একবার বল তো... আব্বু?"
সুহানা এবার আর দ্বিধা করল না। ঝটপট বলে উঠল— "আব্বু..."
জাহাঙ্গীর সাহেব থমকে গেলেন। তিনি স্থির দৃষ্টি মেলে সুহানার দিকে তাকালেন। মেয়েটাকে আজ কেমন যেন অন্যরকম লাগছে—তার চোখের হাশেল গ্রিন মণি দুটোতে আজ কেবল প্রশ্ন নয়, এক গভীর আর্তি খেলা করছে। তিনি সুহানার হাত ধরে পরম মমতায় নিয়ে গিয়ে ছোট সোফাটায় বসালেন। সাবেরা বেগমও এসে বসলেন জাহাঙ্গীর সাহেবের পাশে। সুহানা মাঝখানের সিঙ্গেল সোফায় বসে জাহাঙ্গীরের চোখের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল।
— "আমার মা-কে কি আপনি চিনতেন?" সুহানার কণ্ঠস্বর কাঁপছে।
জাহাঙ্গীর সাহেব ধীরলয়ে মাথা নেড়ে জানালেন— "হ্যাঁ, চিনতাম।"
সে সোফা ছেড়ে নিচে মেঝের ওপর হাঁটু গেড়ে বসল। বড় বড় চোখ মেলে জাহাঙ্গীরের মুখের দিকে তাকিয়ে ব্যাকুল স্বরে জিজ্ঞেস করল— "কী জানেন আপনি? কী জানেন আমার মায়ের বিষয়ে?"
জাহাঙ্গীর সাহেব বিষণ্ণ চোখে মেয়েটাকে দেখলেন। সুহানার চেহারায় আজ অদম্য এক কৌতূহল আর একরাশ না বলা হাহাকার। তিনি বুঝলেন, অনেক বছর ধরে চেপে রাখা ধুলোমাখা এক রহস্যের পর্দা আজ উন্মোচিত হওয়ার সময় এসেছে। ঘরের ভেতরের নিস্তব্ধতা যেন আরও ঘনীভূত হলো, বাইরের জানালার গ্রাস করে নেওয়া অন্ধকার এক অজানা ঝড়ের সংকেত দিতে লাগল।
জাহাঙ্গীর সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালার বাইরের অন্ধকার আকাশের দিকে তাকালেন। স্মৃতির জানলাগুলো এক এক করে খুলতে শুরু করেছে। তিনি সুহানার চোখের দিকে তাকিয়ে ধীরস্বরে বলতে শুরু করলেন—
— "তোর মা আগে বার্লিনে থাকত। তার পুরো পরিবার ওখানেই থিতু ছিল।"
অতীতের সেই ধূসর দিনগুলো জাহাঙ্গীরের চোখের সামনে ভেসে উঠল।
___________________________________
রাদিফ টেবিলের ওপর দুই হাত রেখে ঝুকে এসে আবদারের সুরে বলল—
— “আমার জন্য এখানে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দাও জাহাঙ্গীর ভাইয়া।“
জাহাঙ্গীর তখন নিজের মেধা আর অদম্য পরিশ্রমে বার্লিন সরকারি হাসপাতালের এক উচ্চপদে আসীন। দুই বছর আগেই তিনি কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এই সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছেন। এর মধ্যেই বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন জার্মানির এই নতুন শহরে, গড়ে তুলেছেন সুন্দর এক আবাসন একটা পুত্র সন্তান দিয়েছে আল্লাহ তাকে সে ভীষন সুন্দর। তার বাবার ব্যবসাও এখানে নতুন করে ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। জাহাঙ্গীর সাহেব রাদিফের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন—
— “আমি দেখছি। তবে তুই আগে কলেজটা তো শেষ কর। দেশে থাকলে তোকে আমি আমার ভাইয়ের মেডিসিন কোম্পানিতে অনায়াসেই ঢুকিয়ে দিতাম। কিন্তু এখানে ডিগ্রি আর যোগ্যতা ছাড়া কোনো কথা নেই। আর তার চেয়েও বড় কথা, তোকে পরিশ্রম করতে হবে”।
রাদিফ আড়চোখে তার বড় ভাই আতিফের দিকে তাকাল। আতিফ তখন জানালার বাইরে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে। সে নিজেও তখন জীবনযুদ্ধে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। জাহাঙ্গীর আর আতিফ বন্ধু হলেও আজ আতিফের মনে বন্ধুর এই সাফল্য দেখে চরম ঈর্ষা বাসা বেঁধেছে। নিজের ব্যর্থতা তাকে কুঁকড়ে দিচ্ছে। সে দেশ থেকে মিথ্যে খবর পাঠিয়েছিল যে সে এখানে খুব ভালো আছে, বিয়েও করে ফেলেছে। সেই মিথ্যে শুনেই রাদিফ হুট করে এখানে চলে আসে এবং এসেই আবিষ্কার করে তার ভাইয়ের শোচনীয় অবস্থা।
আতিফ আর জাহাঙ্গীর দুজনেই মেধাবী, কিন্তু রাদিফ বড্ড অলস আর লোভী প্রকৃতির। জাহাঙ্গীর ইতিপূর্বেই রাদিফকে পরিশ্রম করার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সে তখন গা বাঁচিয়ে চলেই অভ্যস্ত ছিল।
রেস্তোরাঁয় তখন বেশ ভিড়। চারপাশের কলকাকলি আর কাঁটাচামচের শব্দে পরিবেশটা বেশ সরগরম। আতিফের বিষণ্ণতা আর জাহাঙ্গীরের গাম্ভীর্যের মাঝেই হঠাৎ রাদিফ কর্কশ গলায় চিৎকার করে উঠল—
— “ওয়েটার!”
টেবিলের ওপর অহেতুক দাপট দেখাতে গিয়ে সে ভুলেই গেল যে সে রেস্তোরাঁয় বসে আছে। তার সেই ডাক শেষ হওয়ার মিনিট দুয়েকের মধ্যেই ধীর পায়ে এক তরুণী তাদের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। ম্লান আলোয় মেয়েটির অবয়ব অস্পষ্ট……
চলবে….
{“এই গল্পের সমস্ত চরিত্র, ঘটনা এবং কাল সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তব কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার সাথে এর কোনো মিল থাকলে তা নিতান্তই কাকতালীয় বলে গণ্য হবে। গল্পের প্রয়োজনে সৃষ্ট কোনো পরিস্থিতিকে বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে না নেওয়ার অনুরোধ রইল। এছাড়া, অনিচ্ছাকৃত কোনো বানান ভুলের জন্য অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আশা করি, আপনারা গল্পের মূল ভাবাবেগটুকুই গ্রহণ করবেন”}
সম্পূর্ণ উপন্যাসের লিংক 🖇️
https://www.facebook.com/share/p/1E8un1tWhL/
পেজ লিংক 🖇️ [Midnight Tales by Joy]
https://www.facebook.com/share/18DrFSvtcF/
আইডি লিংক 🖇️[MD Suhan Joy]
https://www.facebook.com/share/18Arx2QfVM/
#প্রেমের_আলোড়ন
#md_suhan_joy
#midnight_tales_by_joy
#উপন্যাস
Thank You🍀
(Don’t copy without permission)
Enjoy your reading 🎀