ফন্ট সাইজ:
থিম:
Secret

১৮তম পর্ব

লেখক: Rosni Karim

#Secret—১৮

#Rosni_Karim

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

(এজেন্ট "রোজ কাট"🌹)

অভি বাসা থেকে চলে গিয়েছে আজ সাত দিন হলো। যাওয়ার সময় আমাকে বলে গিয়েছিল সে যে নির্দো'ষ তার প্রমাণ অবশ্যই সে আমাকে দেখাবে।

প্রচণ্ড রাগ উঠছে ছেলেটার উপর। এত ঢং করার কি আছে? সে যে আর আসবে না সেটা আমার ভালো করেই জানা আছে।কিন্তু তবুও,অভি এত কনফিডেন্সলি কথাগুলো বলছিল যে আসলেই মনে হয় সে নির্দোষ। কিন্তু আমি যে সেদিন রাতে ভুল দেখিনি সেটা আমি ভালো করেই জানি। কিন্তু অভি কি আসলেই নির্দোষ? মাথাটা জোরে ঝাঁকি দিলাম।আমি এমন দ্বিধাদ্বন্ধে কেন পড়েছি?এই ১৫ দিনে ছেলেটা আমার মাথা খেয়ে নিয়েছে।খুব অধিকার জমাচ্ছিল হবু স্বামী হওয়ার।

"অভিকে দোষ দেয়া বন্ধ করো।দোষ কি শুধু অভির? তোমারও তো দোষ ছিল"

লিলির কথায় আমি আতকে উঠলাম,

"তুমি কিভাবে বুঝলে আমি ওই ফেভিকলটার কথা বলছিলাম?"

"মুখে যে লাজুক লাজুক রেশ উঠেছে, তার সুগন্ধ আমি এখান থেকেই পাচ্ছি "

আমি বিরক্তি নিয়ে লিলির দিকে দেখলাম,

"আর তুমি এখনে কি বললে?আমারও দোষ আছে?কি দোষ আছে শুনি"

লিলি মুখে একটা শ'য়তানি হাসি আনলো,

"শুনো বেবি গার্ল, এই ১৫ দিন তোমরা আমার চোখের আড়ালে কি কি করেছ আমি কিন্তু একটু হলেও টের পেয়েছি।সেদিন ওয়াশরুমে শার্টের সাথে একটা স্যান্ডো গেঞ্জিও পেয়েছিলাম আমি"

আমি একটা ঢোক গিললাম,

"কি করেছি?! কিছুই করিনি!আর ওই স্যান্ডো গেঞ্জি আমারই ছিল!শার্টের নিচে ট্রায়াল দিচ্ছিলাম!"

লিলি আমার কথার উত্তর না দিয়ে বলা শুরু করল,

"মানুষ আবার আদর করে কাকে যেন রোজও ডাকে"

লিলির কথাটা শুনে আমার মনটা কেন যেন একটু খারাপ হয়ে গেল। অভির পড়ানো গলার চেইনটাতে আপনাআপনি হাত চলে গেল আমার।সেটা এখনো আমি কেন খুলিনি জানি না।

রুমের দরজায় নক করার শব্দ শুনতে পেলাম।

লিলি গিয়ে দরজা খুলে কার যেন সাথে কথা বলে আমার দিকে ঘুরলো।হাসি মুখে বলল,

"নিচে অভি এসেছে"

লিলির কথা শুনে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। অভি এসেছে মানে? অভি কেন আসবে? তার তো প্রমাণ নিয়ে আসার কথা। যে সারভেন্টটি বলে গেল অভি এসেছে সে নিশ্চয়ই ভুল দেখেছে। এটা সম্ভবই না! তার মানে কি অভি নির্দোষ?

"কি ভাবছো মিরা? নিচে চলো"

লিলির কথায় আমার ঘোর কাটলো। নিচে যাব কি যাব না চিন্তা করতেই লিলি আমার হাত ধরে টান দিল।

সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে দেখলাম বাবার সামনে দুটো ছেলে বসে আছে।ছেলে দুটোকে দেখে আমি দাঁড়িয়ে গেলাম।হাত দিয়ে চোখ দুটো ঘষে আবার দেখলাম।নাহ, আমার চোখ তো ঠিক আছে।

লিলির দিকে ঘুরলাম,

"লিলি নিচে দেখতো। আমি কি ভুল দেখছি না তুমিও সেটাই দেখছ?.."

লিলি উত্তর না দিয়ে চোখ বড় বড় করে নিচে দেখতে লাগলো।বুঝলাম, না আমি ঠিকই দেখছি।আমি যেন আবার আকাশ থেকে পড়লাম। এটা কেমন করে সম্ভব?!নিচের দুটো অভি বসে আছে!!

আমি ও লিলি একে অপরকে আষ্টেপিষ্টে ধরে নিচে নামলাম।

বাবা মুখে হাসি নিয়ে আমাদের দিকে ঘুরল,

"আরে তোমরা ভয় পেয়ো না।ওটা ভূত না। ওটা অভির চাচু।মিস্টার তাহিন আহমেদ"

"চাচু??!!"

আমি আর লিলি অনেক জোরেই বলে উঠলাম কথাটা।

আমি আর লিলি ভয়ে ভয়ে গিয়ে তাদের সামনের সোফায় বসি।আমি এখনো তাদের দুজনের থেকে চোখ সরাতে পারিনি।

আনবিলিভেবল!!! চাচা ভাতিজার চেহারার এত মিল থাকতে পারে কেমন করে??!!!জমজ ভাইও টক্কর দিতে পারবে না।

তাদের মধ্যে পার্থক্য শুধু আমি দুটোই লক্ষ্য করলাম। এক, তাদের কণ্ঠস্বর। অভির থেকে তার চাচুর কন্ঠটা একটু বেশি ভারী। অভির কণ্ঠও যথেষ্ট ভারী। যে কোনো মেয়ে শুনে লাল টপকাতে শুরু করবে। যেমন এখন মনে মনে আপনারা আর আমি টপকাচ্ছি। যাইহোক!! আমি মনে হয় অন্যদিকে যাচ্ছি। দ্বিতীয় যেটা বলছিলাম,তাদের চাপ দাড়ি। অভির দাড়িগুলো ভেদ করে সাদা গালটা দেখা যায়। কিন্তু অভির থেকে অভির চাচুর দাড়ির ঘনত্বটা একটু বেশি।

অভি গলা পরিষ্কার করল,

"মিরা। তুমি চাচুর কাছে কিছু জানতে চেয়েছিলে, সেজন্য আমি চাচুকে নিয়ে এসেছি"

অভির ডাকে আমার জ্ঞান ফিরলো।আমি অভির চাচুর কাছে কিছু জানতে চেয়েছি মানে? হঠাৎ আমার মাথায় একটা কারেন্ট শক লাগলো। অভি ও তার চাচু দেখতে একই রকম, তাই না?

ব্যাপারটা আমি এখন কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারছি।আমি উঠে দাঁড়ালাম,

"হ্যাঁ হ্যাঁ"

তাহিন আঙ্কেল আমাকে বললেন,

"তুমি যদি কিছু মনে না করো তাহলে এ ব্যাপারটা আমরা একাই ডিসকাস করতে পারি? তোমাকে বোঝাতে সুবিধা হতো"

বাবা আমার দিকে ঘুরল,

"কোন ব্যাপার মিরা?"

আমি কিছু বলার আগেই তাহিন আঙ্কেল হাসিমুখে বলে উঠলেন,

"অভির কাছে শুনলাম মিরা নাকি ফরেইন কান্ট্রিগুলোর কালচার নিয়ে খুব আগ্রহী। আমি তো প্রায় সব দেশেই ঘুরেছি। তো ওকে একটু বাহিরের কালচার সম্পর্কে ধারণা দিতে পারব"

বাবা আমার দিকে দেখল।তাহিন আঙ্কেলের কথায় আমার হ্যাঁ বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

"হ্যাঁ বাবা,অভির কাছে শুনেছিলাম যে আঙ্কেল নাকি ট্রাভেল করে। তাই একটু আমি শুনার জন্য আগ্রহী ছিলাম"

বাবা হেসে উঠল,

"সেটা তো একটা ভালো দিক। তুমি যে কিছু জানতে আগ্রহী হয়েছ এটাই অনেক"

আমি বাবার পাশে এক দৃষ্টিতে দেখে আছি। বাবা যদি জানত আমি তার পিতার মৃ'ত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে যাচ্ছি তাহলে কখনোই এই হাসিটা তার মুখে থাকত না।

আমি তাহিন আঙ্কেলকে আমার রুমে নিয়ে এলাম।তাকে একটা সোফায় বসতে দিয়ে আমি বিছানায় তার মুখোমুখি হয়ে বসি।তাহিন আঙ্কেল হাঁটুতে তার দুই হাত ভর দিয়ে হাত দুটোর উপর থুতনিটার ভর দিয়ে আমার দিকে দেখছে।আমি একটু জড়োসড়ো হয়েই বসলাম।তাহিন আঙ্কেল হেসে উঠলেন,

"কিছু মনে করো না। আমি শুধু দেখছিলাম আমার ভাতিজা তোমার মধ্যে কি দেখেছে"

তাহিন আঙ্কেল চোখ বন্ধ করে মাথাটা নাড়াতে ধরে আবারো হেসে উঠলেন,

"জিনিস পেয়েছে আমার ভাতিজা!কোনো খুত ধরার অপশন নেই"

আমি মুখটা গম্ভীর করলাম। চাচা ভাতিজার আচরণেও কোনো তফাৎ নেই।

তাহিন আঙ্কেল মাথা তুলে আমার পাশে দেখলেন,

"আমার ভাতিজাটা খুব জ্বালায় ,তাই না?একটু টাচি টাচি সে। ওটা ওর লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ। নিজের পছন্দের জিনিসকে নিজের সাথে ঘেষে রাখতে পছন্দ করে"

হুট করে ইনি অভির লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ এর কথাটা কেন বললেন আমি বুঝলাম না।আমার ভাবনার জগৎ ভাঙ্গিয়ে দিয়ে তাহিন আঙ্কেল বললেন,

"কথাটা বলার কারণ আছে।তুমি যেন ওকে খারাপ না মনে করো তাই বললাম"

সমস্যাটা কি ভাই!অভি কি কি অকাজগুলো করেছে সব কি ঢোল পিটিয়ে বেরিয়েছে নাকি?!

"দেখেছো। কথা বলছি অথচ আমার নামটাই বলিনি। আমার নাম তাহিন আহমেদ"

তাহিন আঙ্কেল একটু থামলো,

"আর...আমার কোড নেম ফিনিক্স, এজেন্ট ফিনিক্স"

আমি তড়িঘড়ি করে তার দিকে মাথা তুলে চোখ বড় বড় করে দেখতে লাগলাম।তাহিন আঙ্কেল এখনে যে নামটা বলল সেটা সত্যিই সেটা ছিল?!

এজেন্ট ফিনিক্স।

"এস রেড কোড"- এ মোট ৫০ জন এজেন্ট আছে। আমার জানা মতে এজেন্ট ফিনিক্স 'চতুর্থতম রেড কোড' নামে পরিচিত।

স্পাই এজেন্সির মধ্যে 'এস রেড কোড' নামে একটি সংগঠন আছে। যেটা পুরো পৃথিবীতে একটাই।তাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো মিশনে গিয়েছে তাহলে এজেন্সির বাকি লোকেরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়। এই 'এস রেড কোড' এতই পারদর্শী।

আমার চিন্তার মাঝখানে তাহিনা আঙ্কেল বলে উঠলেন,

"মনে হয় তুমি চিনতে পেরেছ"

আমি জোরে জোরে মাথা হ্যা সুচকে নাড়ালাম।

তাহিন আঙ্কেল মুখ গম্ভীর করলেন,

"একমাত্র তোমার জন্য, তোমার জন্য আমাকে একটা ইম্পরট্যান্ট মিশন ক্যান্সেল করে আসতে হয়েছে!অভি আমার মাথা খেয়ে নিচ্ছিল!!"

সময় নিয়ে বললেন তাহিন আঙ্কেল,

"তুমি এজেন্ট থান্ডারের নাতনি?"

আমি মাথা নিচু করলাম,

"জি"

তাহিন আঙ্কেল একটা বড় নিশ্বাস ফেলে সোফায় হেলান দিয়ে বসে,

"এজেন্সির লোকদের আমি এত বলি ফ্যামিলিকে না জড়াতে"

তাহিন আঙ্কেল আবার একটা নিশ্বাস ফেললেন।

আমি ধীর আওয়াজে বললাম,

"ঐদিন রাতে কি আপনি এজেন্ট থান্ডারকে গু'লি করেছিলেন?"

"হ্যাঁ"

তাহিন আঙ্কেল নির্দ্বিধায় কথাটা বললেন।হাঁটুর কাছের জামাটা অনেক শক্ত করে ধরে আছি আমি।

"খুব রাগ উঠছে,তাই না? ইউ ক্যান শু'ট মি,ইফ ইউ ওয়ান্ট।ম্যাট্রেসের নিচের পিস্ত'লটা বের করে আমাকে শু'ট করতে পারো তুমি"

মাথা নিচু রেখে আমি একটু আতকে উঠলাম।এই লোক কেমন করে জানে আমার ম্যাট্রেসের নিচে পিস্ত'ল আছে?

শুধু পিস্ত'ল কেন?সোফার ফাঁকে সূক্ষ্মভাবে রাখা পয়জো'নাস চা'কুটা দিয়ে মারলেও আমার তৃপ্তি হবে না। কিন্তু আমার ভালো করে জানা আছে এই লোকের কাছে সব বৃথা। এমনি এমনি তো আর 'চতুর্থ রেড কোড' নাম অর্জন করেনি সে।

"কাম অন! সে সামথিং!"

বাক্য দুটো খুবই হেলাফেলায় বলল তাহিন আঙ্কেল।মনে হলো তার কিছু যায়ই আসেনা।খুবই স্বাভাবিক। আমি তার কাছে পিপড়ার সমানও নই।

আমি ধীরে ধীরে মাথাটা তুলে তাহিন আঙ্কেলের পাশে দেখলাম,

"এজেন্ট থান্ডারকে মা'রার কারনটা আমাকে কি বলা যাবে?"

আমি কোনো রিয়েক্ট না করে শান্তভাবে বলায় তাহিন আঙ্কেল হেসে উঠলেন,

"এজেন্ট থান্ডারের নাতনির কাছ থেকে আমি এটাই আশা করেছিলাম"

তাহিন আঙ্কেল মুখটা গম্ভীর করলেন,

"ইওর গ্রান্ডফাদার ওয়াজ আ ব্লাডি বিটট্রেয়ার!"

আমি আর তাহিন আঙ্কেলকে সম্মান দিতে পারলাম না। দাড় হয়ে একটা আঙ্গুল তার দিকে তাক করে ধরলাম,

"মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ!!"

"তো তুমি কি মনে করেছ? তোমার দাদুকে আমরা শখ করে মে'রেছি? আর একজন স্পাই এজেন্ট হয়ে আমি আশা করছি তোমার এটা অন্তত জানা আছে একজন বিশ্বাসঘা'তকতার পরিণাম মৃ'ত্যুই হয়"

"বিশ্বাসঘা'তকতা? কিসের কথা বলছেন আপনি?"

তাহিন আঙ্কেল আবার একটা নিশ্বাস ছাড়লো,

"মিরা। আমি এখন যেটা বলব সেটা মন দিয়ে শোনো। তাহলেই তুমি বুঝতে পারবে।পাঁচ বছর আগে দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ ছিল। তখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিজনেসম্যানগুলো আন্ডারওয়ার্ল্ড বাদ দিয়েও সাধারন মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের বিজনেস শুরু করে।যেটা দেশের জন্য অনেক ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।গভর্নমেন্ট স্পাই এজেন্সি খোঁজ নিয়ে দেখে দেশের বাহিরে অনেক দেশের সাথে তারা যোগাযোগ রেখে এসব করতে পারছে।গভর্নমেন্ট স্পাই এজেন্সি তাই একটা টিম গঠন করে সেই ঝামেলাটা শেষ করার জন্য।সেই টিমে তোমার দাদুও ছিল।টানা দুই বছর চোখের ঘুম হারাম করে দিয়ে সেই টিম আমাদের দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু হেড বিজনেসম্যানদের ব্যাপারে এমন কিছু ইনফরমেশন পায় যেটা দিয়ে আমরা তাদের ভাত-পানি বন্ধ করে দিতে পারি।তারা যে দেশগুলোর সাথে বিভিন্ন ডিল করছিল সেই দেশের গভর্নমেন্টকে যদি আমরা ওই ইনফরমেশনগুলো দেই তাহলে অন্তত আমাদের দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নাইনটি পারসেন্ট বিজনেসম্যানকে জেলে ঢোকানো যেত।তাই আমরা ভালো করেই জানতাম এই ইনফরমেশনগুলো চুরি করে নষ্ট করার জন্য আন্ডারওয়ার্ল্ডের অনেক লোক আমাদের পিছনে হাত ধুয়ে পড়বে।কিন্তু আমরা কখনো চিন্তাও করিনি যে আমাদেরই এজেন্সির এক পারদর্শী স্পাই তাদের সাথে থাকবে। আর সেটা তোমার দাদু ছিল মিরা।এজেন্ট থান্ডার যেন সে ইনফরমেশনগুলো আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাউকে দিতে না পারে তাই এজেন্ট থান্ডারকে মা'রার জন্য আমাকে সিলেক্ট করা হয়।সেটা আমাদের টপ সিক্রেট মিশন ছিল। হাতে গনা কয়েকজন ছাড়া কেউ জানতো না এজেন্ট থান্ডার আসলে কিভাবে মা'রা গিয়েছিল"

তাহিন আঙ্কেল একটু থেমে আবার বলা শুরু করল,

"এজেন্ট থান্ডার মা'রা যাওয়ার পরে আন্ডারওয়ার্ল্ড এর সেই বিজনেসম্যানগুলো একদম চুপ হয়ে যায়। দেশের পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। মনে হয় এজেন্ট থান্ডারের বিষয়টা দেখে তারা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তাই গভর্মেন্টও এই বিষয়টাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেনি। যদি ভবিষ্যতে আবার কোনো সমস্যা হয় তাহলে সেই ইনফরমেশন আমরা কাজে লাগাতে পারব"

তাহিন আঙ্কেল চুপ হয়ে গেলেন। তারমানে তার কথা বলা শেষ।আমার হাত দুটো থর থর করে কাঁপছে,

"তো আপনি বলছেন সব দোষ আমার দাদুর?"

তাহিন আঙ্কেল কোনো কথা বললেন না। আমার পাশে শুধু দেখে আছেন।আমি এবার গলা উচিয়ে বললাম,

"আমাকে কি আপনার পা'গল মনে হয়?!যেটাই বোঝাবেন সেটাই বুঝবো?!"

"মিরা আমি তোমাকে কিছু বোঝাচ্ছি না। তোমাকে সত্যটা বলছি"

"লজ্জা করে না?! একটা নির্দোষ মানুষকে এমন জালে ফা'সিয়ে আপনারা মে'রে ফেলেছেন!"

"মিরা তোমার দাদু নির্দোষ ছিল না!"

"আমি আমার দাদুর বিরুদ্ধে আর একটা কথাও শুনবো না! আপনি বের হয়ে যান এখান থেকে! প্লিজ!"

তাহিন আঙ্কেল উঠে দাঁড়ালেন,

"তোমাকে আমি সত্যটা বলার জন্য এসেছিলাম মিরা। তুমি সেটা এখন কেমন করে গ্রহণ করবে সেটা তোমার ম্যাটার। আর অভি এ ব্যাপারে কিছুই জানতো না। ওকে অযথা দোষারোপ করা বন্ধ করো"

তাহিন আঙ্কেল রুম থেকে বেরিয়ে গেল।আর আমি স্তব্ধ হয়ে দেখে থাকলাম সেদিকটায়।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন