ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাইকো টাইম

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: রিয়াজ রাজ

#সাইকো_টাইম ( পর্ব-০৬)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ

-----------------------------

রিয়াজ তার অতীতটা মনে করলো এতক্ষণ। চোখ থেকে পানি পড়ে টিপটিপ। রিয়াজ সেদিনি চাকরিটা ছাড়ে৷ আর বাংলাদেশে চলে আসে।

পিছনেই মায়া দাঁড়িয়ে ছিলো। রিয়াজের চোখে পানি দেখে মায়া বুঝে যায়। এরপর মায়া রিয়াজের কাছে এসে বসে৷ রিয়াজ মায়াকে দেখেই,চোখ মুছে সোজা হয়ে বসে৷ মায়া রিয়াজকে শান্ত গলায় বলে,

- চোখের পানি মুছে লাভ নেই। আপনার হাতের সিগারেট পুরো জ্বলে গেছে।

( রিয়াজ হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে সিগারেট জ্বলে আগুনও নিভে গেছে। এরপর তাড়াহুড়ো করে সিগারেটটা ফেলে দেয়। মায়া রিয়াজকে আবার বলে)

- অতীতে যা হয়েছে তা এখন ভেবে লাভ কি বলুন?

- না মানে বাচ্চাগুলোর জন্য মন কাদছিলো। তাই তাদের কথাগুলো মাথায় চেপে বসলো।

- রিয়াজ। আপনি এমনিই রক্ত,খুন দেখলে ভয় পান। আর এটি আপনার তখন থেকেই শুরু হয়। তবুও কেন সেই ভয়ানক অতীতটা মনে করেন। আপনি যত সেই অতীত ভুলতে চাইবেন। তত আপনার ভিতরের ভয়টা কাটবে। প্লিজ, অতীতটা ভুলতে চেষ্টা করুন।

( মায়ার কথাটা শুনে রিয়াজের চোখে আবার পানি নেমে আসে। রিয়াজ কান্নার স্বরে বলতে শুরু করে)

- কিভাবে মায়া? তুমিও বা কিভাবে ভাবছো আমি নিজের চোখে দেখা সেই নির্মাম হত্যাকান্ড ভুলতে পারবো? তারা আমার পরিবারের মতো ছিলো।আমার পরিবারের সেই রক্তাক্ত দৃশ্য আমাকে শান্তি দিচ্ছেনা।

- সেই খুনিদের তো ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তবুও এইটা ভেবে শান্ত হোন,যে আপনি খুনিদের শাস্তি দিতে পেরেছেন। আজ আপনার ঘরে দেখুন। আপনার বেকারত্ব নিয়ে কতজন কতভাবে কথা শুনাচ্ছে। আমি সহ্য করতে পারিনা এসব। আপনি দয়া করে সব ভুলে যান। শক্ত হয়ে যান। আপনার বাচ্চার কসম।

রিয়াজ মায়ার কথাগুলো শুনে আরো ফুফিয়ে কাদতে শুরু করে। মায়া রিয়াজের কান্না দেখে,রিয়াজের পাশে এসে বসে। এরপর রিয়াজকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিচ্ছে। অন্যদিকে রিয়াজও মায়াকে শক্ত করে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

পরেরদিক সকাল...

সুফিয়ান রিয়াজের সিম অফ পেয়ে সোজা রিয়াজের বাড়িতে আসে। সারারাত সিনিয়র অফিসারের মেয়ের মৃত্যুতে ছিলো। সিনিয়র অফিসারের মেয়ের মৃত্যুতে আরো সিরিয়াস হয় এই কেস। সাথে সুফিয়ানকে বলেও দেয় যে,এই খুনিকে ধরতে পারলে তাকে সিনিয়র অফিসার বানিয়ে দিবে।সুফিয়ান খুব কৌতুহলের সাথে রিয়াজের বাড়ি আসে। ড্রইংরুমে এসে দেখে সবাই বসে নাস্তা করছে। কিন্তু রিয়াজ নেই। সুফিয়ান মায়াকে জিজ্ঞেস করে,

- ভাবি, রিয়াজ কোথায়? কাল রাত থেকে কল দিচ্ছি। ফোন অফ ওর।

- কাল রিয়াজ জ্ঞান হারায় টিভিতে রক্ত দেখে। তাই ফোনে চাপ খেয়ে অফ হয়েছিলো। সকাল সকাল বের হয়েছে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য।

- ফোন টা তো চালু রাখবে।

- কে জানে চালু করেনি কেন।

- কোন অফিসে গেছে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য।

- তা বলে যায়নি। তবে বলেছে দুপুরের দিকে চলে আসবে।

- আচ্ছা সে আসলে বলবেন একটু থানায় আসতে। কথা ছিলো।

- আচ্ছা।

সুফিয়ান আবার চলে যায়। অন্যদিকে রিয়াজ ইন্টার্ভিউ দিতে গিয়ে দেখে,আজ ইন্টার্ভিউ অফ। অথচ তারিখটা আজকের ছিলো। রিয়াজ ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করলে, সে বলে, " দেশে যেভাবে খুন শুরু হয়েছে। এতে পুরো অফিসের লোক ভয়ে আছে। তাই নতুন কোনো সদস্য নেওয়া হচ্ছে না। আপনি পরে আসুন। বস ডাক দিবে আপনাকে"। রিয়াজ হতাশ হয়। এরপর অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসে। প্রচুর রৌদ। রিয়াজ একটা চায়ের দোকানে গিয়ে চা অর্ডার করে। হাতে কাগজের ফাইলটা। দোকানদার চা বানাতে বানাতে রিয়াজ পকেট থেকে ফোন বের করে। আর দেখে ফোন অফ হয়ে আছে। অর্থাৎ সকাল থেকে রিয়াজ চেক করেও দেখেনি ফোন। এরপর ফোন চালু করতেই রিয়াজ দেখে, সুফিয়ানের অনেকগুলো মেসেজ। লাস্ট মেসেজে ছিলো, " সিনিয়র অফিসারের মেয়েও খুন হয়ে গেছে। প্রচুর চাপ যাচ্ছে আমার উপর। তোর বাড়িতে গেছিলাম।তুই বাড়িতে নেই। ফোনটাও অফ। ইন্টার্ভিউ শেষ করে একটু থানায় আসিস। বা আমাকে কল দিস"। রিয়াজ মেসেজটা পড়ে ফোন পকেটে রাখে। এরপর চায়ের কাপ হাতে নিয়ে একটা টান দেয়। আর সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলে।

সুফিয়ান থানায় সিকিউরিটি কড়া করছে আর সবাইকে সাবধান করতেছে। সেই মুহুর্তে থানায় প্রবেশ করে রিয়াজ। সুফিয়ান রিয়াজকে দেখে সবাইকে কেবিনের বাহিরে যেতে বলে। আর রিয়াজকে বসতে বলে৷ রিয়াজ সুফিয়ানের সামনে গিয়ে বসলো।হাতের ফাইলটা টেবিলে রেখে,সুফিয়ানকে বলে," বল"। এরপর সুফিয়ান রিয়াজকে বলা শুরু করে,

,"সিসি টিভি ক্যামেরা চেক করেছি। আমি তো রীতিমতো অবাক। তুই একবার চেক দেখ। এই নে"। সুফিয়ান টেবিলের ল্যাপটপটা রিয়াজের দিকে ঘুরায়। আর সেখানে রিয়াজ দেখে,সেই কালো জ্যাকেট পড়া বাইকারটা থানার সামনে বাইক নিয়ে আসে। এবং খুশির মাথা রাখা একটা পলিথিন থানার গেটের বিপরীতে রাখে।হ্যান্ড গ্লাভস থাকে সবসময় খুনির হাতে। এইজন্য কোথাও কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যায়নি। অবাক করার বিষয় হচ্ছে,খুনি যাবার আগে সিসি টিভি ক্যামেরার দিকে তাকায়। আর ডান হাত তুলে মধ্যের আঙ্গুল দেখায়। যেনো সে ডিপার্টমেন্টকে চুনকালি মাখানোর উৎসব পালন করেছে। এরপর সে বাইক নিয়ে আবার চলে যায়।লাস্ট আকর্ষণ যা ছিলো,তা হচ্ছে খুনির কাছে এখনো সেই বাইকটাই আছে। যেটা বর্তমানে পুলিশের হাতে বন্দি।

সিসি টিভির ফুটেজ শেষ করে সুফিয়ান ল্যাপটপ তার দিকে ঘুরায় আবার। এরপর রিয়াজকে বলে,

- আমি এই ফুটেজ কাওকে দেখাইনি৷ প্রথমদিন আমি আমার কিছু অফিসারদের নিয়ে হাসাহাসি করলেও,আমার মনে হচ্ছে এইটা আসলেই কোনো সাইকো।

- কখন থেকে মনে হচ্ছিলো।

- এই ফুটেজ দেখার পর থেকেই।

- আমার তো সেই প্রথমদিনই সন্দেহ হয়েছে এইটা সাইকো। একি রকম খুন,এবং তা প্রকাশ্য করে শুধুমাত্র সাইকোরা।

- কিন্তু তার এসব করে লাভ কি।

- বিভিন্ন আর্টিক্যাল দেখে নিতে পারিস। আমার জানামতে সাইকো একটা মানুষিক রোগী। তার প্রচুর রাগ,এবং সে তার কর্মের জন্য কখনো অনুতপ্ত প্রকাশ করেনা। বরং তার পরের ধাপের জন্য সে আরো হিংস্র হয়ে যায়।

- রাগটা কি শুধুই খুন করে মেটায়?

- সাইকো অনেকধরনের হয়। কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে,যে মানুষটা কোনো ঘটনা নিয়ে বেশি আঘাত পায়। তার জীবনের একটা কিছুকে সে হারিয়ে তার বিপরীতে ক্ষোভ ধরে বসে। সে শুধুমাত্র ঐ বিষয়ের সাইকো হবে। কেও শুধু খুন করে। কেও খুনের সাথে মানুষের কান্না পছন্দ করে। কেও যাকে দেখে,তাকেই অপরাধী মনে করে। অর্থাৎ সাইকো কখনো সঠিক বিচার করতে পারেনা।কিন্তু তার মাথায় প্রচুর ক্রিমিনালী বুদ্ধি থাকে। তার ভিতরে ভালোবাসা, আবেগ এসব থাকেনা। কিন্তু সে সাইকো হবার আগে এসব ছিলো।

- অর্থাৎ এই সাইকোটা মেয়েদের খুন করার পিছনে বড় কারণ আছে। যার ফলে সে শুধু মেয়েদেরকেই অপরাধী মনে করে।

- তা তো জানিনা। কিন্তু গতকাল সেই সাইকোটা আমার বাড়িতে এসেছিলো।আর আমাকে হুমকিও দিয়ে গেছে।

- এ..? কি বলছিস কি তুই।

- ঠিক শুনেছিস। আর এই ব্যাপারে আমি কাওকে কিছু বলিনি। একমাত্র তুই জানিস। এখন শুন। আমি যা বলি তা কর। ঐ সাইকোটা যে স্টাইলে শহরে ঘুরছে। তা আমাদের জানা হয়ে গেছে। তুই এখনি সাইকোটার ছবি একে শহরের প্রত্যেক কোনায় কোনায় লাগিয়ে দে। যাতে সাইকো তার রুপ বদলাতে বাধ্য হয়।

- তখন তো আরো ঝামেলা। পরবর্তী রুপ আমরা চিহ্নিত করবো কিভাবে।

- এইটাই তো চাচ্ছি আমি। সে নিজেই তার রুপ বদলাবে। এবং আমরা তাকে নয়,সে আমাদের তার নতুন রুপ সম্পর্কে জানাতে চাইবে। আমার ধারণা যদি সঠিক হয়,তবে সে নতুন রুপে কোনো সিসি টিভি ক্যামেরার সামনে,আরেকটা খুন করবে। আমরা যেনো তাকে খুজি,তার পিছু নিতে থাকি। সে এইটাই চায়।

- তুই কিভাবে শিওর হইলি?

- যদি সে ডিপার্টমেন্টকে দৌড়াতেই না চাইতো,তবে বারবার সিসি টিভি ক্যামেরার সামনে নিজেকে শো করতো না। এইবার তোকে একেবারে মধ্যাঙুলি দেখিয়ে দিলো।

- তো সে নতুন রুপে আবার খুন করবে। চেহারা তো ঢেকেই আসবে। এরপরেও বা তাকে খুজবো কিভাবে।

- এরপর তার সুযোগ তো থাকা লাগবে। শহরের প্রত্যেক নির্জন স্থানে ডিপার্টমেন্টর পুলিশকে ভিক্ষুক সেজে শুয়ে থাকতে বল। তবে সব নির্জন স্থানে নয়। যে নির্জন স্থানগুলোয় সিসি টিভি ক্যামেরা আছে। সেখানেই। এখন সকাল ১১ টা বাজে।বিকেল ৩ টার ভিতরেই সাইকোর ছবি পোষ্টার আকারে শহরে ছড়িয়ে দিতে বল। যে ধরিয়ে দিবে,তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে,এইভাবেও লিখে দিবি।

- পরে?

- সাইকো সেটি অবশ্যই জানবে। এবং সে তোদের সাথে মজা করার জন্য তার রুপ বদলাবে। রুপ বদলিয়ে আবার একটা নির্জন স্থানে সিসি টিভির সামনে খুন করবে। সাইকো কিন্তু আমাদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে।আমরা কি করবো না করবো।সে এইটা আগেই ভেবে নেয়। এবং খুন করে। কিন্তু সে কি করবে, তা যদি আমরা আগে করি। তবে সে আমাদের ফাঁদে পড়বে।

- গুড আইডিয়া। আচ্ছা আমি পোষ্টারের জন্য সব থানায় বলে দিচ্ছি। কিন্তু সাইকোটা তোর বাসায় কেনো গেলো তা বুঝিনি।

- সাইকো আমার ব্যাপারেও সব তথ্য বের করে নিয়েছে।সে জানে আমি রক্ত ভয় পাই। তাই রক্ত দেখিয়ে আমাকে অলরেডি একবার মানুষিক আঘাত করেছে। এতেও সে মজা পাচ্ছে।সে নিজেকে অনেক চালাক,এবং সাহসী মনে করে। আর আমাদের বোকা বানিয়ে অনেক মজা পায়।

- আচ্ছা বুঝলাম। তুই কি করবি এখন।

- বাসায় যাবো।

- আচ্ছা। ফোন খোলা রাখিস। আমি জানাবো কখন কি হয়।

- হুম। আর শুন। সাইকো কোনো সাধারণ মানুষ না। তার বুদ্ধির লেভেল প্রবল। খুশির দুলাইভাইয়ের গ্যারেজ চেক করেছিস?

- না।কেনো।

- কারণ খুশির দুলাভাইয়ের বাইক ওদের বাড়িতেই। সাইকো হুবহু কয়েকটা বাইক বানিয়েছে।সবগুলোর নাম্বার এক। আর সব দেখতেও সেম।

- কি বলছিস।

- থানার সামনে কিন্তু সে যে বাইক এনেছে। এইটা খুশির দুলাভাইয়ের বাইকের মতোই। অর্থাৎ সে এরকম আরো অনেক বাইক বানিয়ে রেখেছে।

- আরে তাই তো? এইটাকে মানুষিক রোগী বলে কে। এ তো একটা মারাত্মক বুদ্ধির অধিকারী।

- ওইজে বললাম? সাইকোরা ক্রিমিনালী জ্ঞান অর্জন করে বেশি। মানুষকে বোকা বানাবে, এতে মজা নিবে। আর কখনো নিজেকে অপরাধী ভাবেনা।

- হুম বুঝলাম।

- আচ্ছা আমি যাই।

- ঠিক আছে। আমি কল দিবো।

রিয়াজ থানা থেকে বের হয়। সুফিয়ান রিয়াজের কথামতো চারদিকে পোষ্টার লাগানোর কাজ চালাচ্ছে। অন্যদিকে রিয়াজ থানা থেকে বের হয়ে সোজা মার্কেটে যায়। রিমা কয়েকদিন আগে একটা খেলনা গাড়ি চেয়েছিলো। মনে থাকেনা তাই কিনতে পারেনি। আজ মার্কেটে গিয়ে রিমার জন্য খেলনা গাড়িটা কিনে নেয়। তখনি রিয়াজের টয়লেট চাপ দেয়। মার্কেটের ভিতরেই ওয়াশরুমের ব্যাবস্থা ছিলো। রিয়াজ সোজা ওয়াশরুমে যায়। টয়লেটে ঢুকে রিয়াজ কাজ সারছিলো। মার্কেটের ওয়াশরুম সম্মন্ধে আপনাদের নিশ্চয়ই ধারণা আছে।বহু মার্কেটে ওয়াশরুমের নিচে ফাকা থাকে অনেক। রিয়াজ নিচের দিকে তাকিয়েই পেট খালি করছিলো। আর তখনি টয়লেটের দরজার নিচ দিয়ে কেও একটা রক্তের ব্যাগ ছুড়ে মারে। রিয়াজ দেখে,একটা রক্তের ব্যাগ সোজা রিয়াজের পায়ের সাথে এসে ধাক্কা খায়। নিক্ষেপ এতো জোরেই করেছিলো যে,পায়ের সাথে ধাক্কা খেতে না খেতে ব্যাগটা ফেটে যায়। আর রিয়াজের চোখের সামনে রাখা রক্তগুলো ছড়িয়ে পড়ে। তো বলতে হবে না আর। অর্থাৎ রিয়াজের মাথা চক্কর দিতে শুরু করে। আর টয়লেটেই জ্ঞান হারায় রিয়াজ।

চারপাশে নিরব। কোনো শব্দ নেই। রিয়াজ ধীরে ধীরে চোখ খোলে। এখনো টয়লেটেই বসে আছে রিয়াজ। এইবার আর নিচের দিকে তাকায়নি । ভালো করেই জানে পায়ের কাছে রক্ত আছে। রিয়াজ কোনোভাবে পানি নিয়ে ফ্রেশ হয়। এরপর টয়লেট থেকে বের হয়ে যায়। ওয়াশরুম ত্যাগ করে রিয়াজ মার্কেটের ভিতরে আবার আসার ট্রাই করে। মাথা এখনো ঝিমঝিম করছে। ঘামে পুরো শরীর ভিজে একাকার। রিয়াজ কোনোভাবে ওয়াশরুম ছেড়ে বের হয়। আর দেখে, পুরো মার্কেটে রিয়াজ একাই দাড়িয়ে আছে। মার্কেটের বাহির থেকেও লক করা। এতক্ষণ রিয়াজ খেয়াল না করলেও,হাতের ঘড়ির দিকে তাকায় এইবার। দেখে, রাত ০১ঃ১৭ মিনিট।

রিয়াজ দৌড়ে এসে ভিতর থেকে গেটে পেটানো শুরু করে। আর কেও আছে কিনা বলে চিল্লাচ্ছে। সেই মুহুর্তে মার্কেটের গেট খোলে সিকিউরিটি গার্ড। রিয়াজকে দেখেই উনি বাশিঁতে ফুঁ দিবে। তখনি রিয়াজ গার্ডকে বলে," দেখুন আমি চোর নয়। টয়লেটে জ্ঞান হারিয়েছিলাম। উঠে দেখি সব ক্লোজ। প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন।"। কিন্তু নাইট গার্ড সন্দেহজনক রিয়াজের হাতের খেলনার দিকে তাকায়। রিয়াজ বুঝেও যায়। এরপর রিয়াজ গার্ডকে বলে," এইটা আমি দিনে কিনেছিলাম।এইজে রিসিট "। গার্ড এইবার বিশ্বাস করে।এরপর রিয়াজকে গেট খুলে দেয়। আর রিয়াজ মার্কেট থেকে বের হয়।হাতে ইন্টার্ভিউ এর ফাইল,আর বাচ্চার খেলনা হাতে রাস্তায় আসে। এতো রাত অব্দি বাড়িতে ফিরে যায়নি, তাতে নিশ্চয়ই পরিবারের সবাই পাগল হয়ে আছে।

রিয়াজ তাড়াহুড়ো করে ফোন বের করে। দেখে ফোন অফ। হয়তো যেটুকু চার্জ ছিলো। তা ওদের কল আসতে আসতে চলে গেছে। রিয়াজ আশেপাশে তাকায়,কোনো গাড়িও নেই। এখান থেকে ওর বাড়ি অব্দি হেটে যেতে ২৫ মিনিটের মতো লাগবে। রিয়াজ আর কিছু না ভেবে হাটতে শুরু করে( কারো নাম্বার মুখস্ত ছিলো না। নইলে নাইট গার্ডের ফোন থেকে কল দিতো)

হাটতে হাটতে রিয়াজ অনেকদূর আসে। নির্জন ফাকা রাস্তা। আশেপাশে কোনো মানুষও নেই। রিয়াজ ভয়ে ভয়ে দ্রুত হেটে যাচ্ছে। ল্যাম্পপোস্ট এর লাইট কিছুক্ষণ পর পর মিনমিন করছে। যেনো কেও ইচ্ছে করেই লাইটগুলো খারাপ করে দিচ্ছে। এইভাবে হাজারো চিন্তা মাথায় আনতে আনতে রিয়াজ এগিয়ে যাচ্ছিলো। ঠিক সেই মুহুর্তে রিয়াজ যা দেখে। তা হয়তো সে দ্বিতীয়বার দেখতে চায় নি।

একটা মেয়ের চুল ধরে টেনে টেনে কেও রাস্তার মাঝে আসছিলো।ভালো করে দেখে রিয়াজ,এইটা সেই সাইকো। মেয়েটিকে যেনো মাতাল করে রাখা হয়েছে। মেয়েটি মাতালের মতো নাড়াচাড়া করে পালাতে চাচ্ছিলো। রিয়াজের হাত থেকে ফাইল আর বাচ্চার খেলনাটা পড়ে যায়। সাইকোটা মেয়েটিকে রাস্তার মাঝে এনে শুইয়ে দেয়। রিয়াজ ঠিক তার ৪০ হাত দূরে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। সাইকোটা রিয়াজকে দেখিয়ে,মেয়েটির চুল ধরে আবার।তার হাতে একটা কুড়াল। রিয়াজের পা ভয়ে অবশ হয়ে গেছে। চাইলেও এখন রিয়াজ পালাতে পারছেনা। রিয়াজ থরথর করে কাপছে।রিয়াজের মনে পড়তে শুরু করে এতিম খানায় বাচ্চাদের জীবন্ত কেটে ফেলার দৃশ্য। আর ঠিক সেই মুহুর্তে, সাইকোটা মেয়েটির চুল ধরে, কপালে বরাবর কুড়াল তাক করায়। রিয়াজের মুখ দিয়েও যেনো কোনো শব্দ বের হচ্ছিলো না। রিয়াজ জোরে বলতে চাচ্ছিলো,কিন্তু সাহস হারিয়ে ফেলার কারণে রিয়াজের মুখ দিয়ে একেবারে আস্তে শুধু একটা শব্দ বের হয়," তাকে ( ২সেকেন্ড পর) মেরো ( ২সেকেন্ড পর) না"।

কিন্তু এদিকে সাইকোটা কুড়ালটি মেয়েটির কপাল বরাবর চালিয়ে দেয়। ঘ্যাচাং ঘ্যাচাং ঘ্যাচাং করে কোপ মারতে শুরু করে। মেয়েটির কপাল ফেটে মগজ বের হয়ে যায়৷ রিয়াজ ধীরে ধীরে আবারো সব ঝাপসা দেখতে লাগলো। এবং জ্ঞান হারাবার আগে রিয়াজ দেখেছে, সাইকোটা কপালে কোপানোর পর মেয়েটির গলায় কোপাতে শুরু করে।অর্থাৎ মাথা আলাদা করতে যাচ্ছে। এর আগেই রিয়াজ জ্ঞান হারায়।

সকাল ৯ টা। কারো চিল্লাচিল্লি শুনে রিয়াজ লাফিয়ে উঠে ঘুম থেকে।আর দেখে, মায়া ফ্লোরে বসে চিল্লাচ্ছে ( কাদছে জোরে জোরে)। রিয়াজের পুরো রুমে র‍্যাব,পুলিশ এসে বন্দুক রিয়াজের দিকে ধরে রেখেছে। পিছন থেকেই সুফিয়ান পিস্তল রিয়াজের দিকে ধরে বলে," ইয়ু আর আন্ডার এরেস্ট মিঃ সাইকো রিয়াজ"।

চলবে............

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন