ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাইকো টাইম

৭ম পর্ব

লেখক: রিয়াজ রাজ

#সাইকো_টাইম ( পর্ব-০৭)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ

----------------------

সকাল ৯ টা। কারো চিল্লাচিল্লি শুনে রিয়াজ লাফিয়ে উঠে ঘুম থেকে।আর দেখে, মায়া ফ্লোরে বসে চিল্লাচ্ছে ( কাদছে জোরে জোরে)। রিয়াজের পুরো রুমে র‍্যাব,পুলিশ এসে বন্দুক রিয়াজের দিকে ধরে রেখেছে। পিছন থেকেই সুফিয়ান পিস্তল রিয়াজের দিকে ধরে বলে," ইয়ু আর আন্ডার এরেস্ট মিঃ সাইকো রিয়াজ"।

রিয়াজের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা। এদিকে মায়া আর রিমা ফ্লোরে বসে কান্না করে বলছে," আমার রিয়াজ কিছু করেনি। আপনারা তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন।সুফিয়ান,আপনি এইটা করতে পারেন না।আমার রিয়াজ নির্দোষ " । কিন্তু মায়ার কথা কেও শুনেনা। একটা মহিলা পুলিশ মায়াকে ধরে রেখেছে। ফ্লোরে মায়ার চিৎকারে সুফিয়ান মায়াকে বলে," সমস্থ প্রমাণ রিয়াজের বিরুদ্ধে। আপনি কোর্টে প্রমাণ করুন রিয়াজ নির্দোষ "। রিয়াজ শুধু হা করে সব দেখে যাচ্ছিলো। এদিকে সুফিয়ান হ্যান্ডকাফ এনে রিয়াজের হাতে পড়িয়ে দেয়। গতকাল ইন্টার্ভিউ দেওয়ার জন্য যে পোষাক ছিলো গায়ে। এখনো সেটি পড়া।ওমন অবস্থাতেই সুফিয়ান রিয়াজকে টেনে বিছানা থেকে তুলে নেয়। মায়া চিল্লাচ্ছে। ছোট বাচ্চা মেয়ে রিমাও কান্না করছে। রিয়াজের মা- বাবা দৌড়ে এসে পুলিশদের আটকানোর চেষ্টা চালায়। সুফিয়ান আবার কড়া গলায় বলে," কোর্টে এসে প্রামাণ করুন"। রিয়াজ একটা কথাও বলেনা। দুনিয়া যেনো তার কাছে ঝাপসা হতে যাচ্ছে। কি থেকে কি হচ্ছে রিয়াজ নিজেও জানেনা। এদিকে চারপাশ ঘিরে সবাই রিয়াজের দিকে বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছে। রিয়াজ অবলার মতো সবার দিকে তাকাচ্ছে,আর সুফিয়ান রিয়াজকে টেনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ির বাহিরে বের করতেই রিয়াজ দেখে,রিয়াজের বাড়ির সামনে কম হলেও ৪০ টার বেশি গাড়ি । সব গুলাই পুলিশ,র‍্যাব,গোয়েন্দা সহ সাংবাদিকদের গাড়ি। সাথে আছে জনগণ। সাংবাদিকরা ক্যামেরার সামনে আওয়াজ করে বলছে," এই সেই সাইকো। যে নির্মভাবে এক এক করে খুন করেছে মেয়েদের। এই হিংস্র সাইকোর বিচার কি হওয়া উচিৎ, তা আপনারা বলুন"। এরকম নানান কথাবার্তা বলে যাচ্ছে সাংবাদিক। রিয়াজ তাদের কথাগুলো নিশ্চুপ থেকে শুনে যাচ্ছে। এদিকে জনগনরা ইট,পাথর ছুড়ে মারছে রিয়াজের দিকে।রিয়াজের বাসার চারপাশেই হাজার হাজার লোক ভিড় জমিয়েছে। কেও এসেছে সাইকো দেখার জন্য,আবার কেও এসেছে রিয়াজকে আঘাত করার জন্য। পুলিশরা জনগনকে ঠেলে রিয়াজকে গাড়িতে তুলতে চাচ্ছে। কিন্তু ব্যার্থ হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে হটাৎ একটা ইটের টুকরো রিয়াজের মাথায় পড়ে। সাথে সাথে মাথা ফেটে রক্ত গড়ায় রিয়াজের কপালে। কিন্তু,রিয়াজ একটা আঁউচ শব্দও করেনি। এদিকে সুফিয়ান বিরক্ত হয়ে হ্যান্ড মাইক হাতে নিয়ে বলতে শুরু করে," আপনারা সবাই কোর্টে যান। নিশ্চয়ই ওর শাস্তি আদালত দিবে। আমাদের সুন্দরভাবে কাজ করতে দিন। নয়তো আমরাও এট্যাক করতে বাধ্য হবো"। কিন্তু এসব কথায় জনগণ থেমে থাকতে রাজি নয়। র‍্যাব বাহিনী তখনি রবার বুলেট আকাশে ছুড়তে থাকি। ভয়ে জনগণ একটু আতঙ্ক হলে,সুফিয়ান সুযোগে রিয়াজকে গাড়িতে তুলে নেয়।

গাড়িতে তোলার সাথে সাথেই জনগণ বাহির থেকে, উচ্চস্বরে আওয়াজ দেওয়া শুরু করলো। সবাই যেন প্রচুর হিংস্র হয়ে উঠেছে। রিয়াজকে এখনই তারা খুন করতে চায়। নিজেদের হাতে। এদিকে সুফিয়ান রিয়াজকে গাড়িতে তুলে, দরজা বন্ধ করে দেয়। চারপাশে র‍্যাব পুলিশদের গাড়ি দিয়ে, ঘিরে ধরে আছে রিয়াজকে। রিয়াজকে একটা কভার ব্যান্ড সিস্টেম গাড়িতে তুলে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। গাড়ির ভিতরে রিয়াজের হাতকড়া লাগানো, রিয়াজ নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। সুফিয়ান রিয়াজের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "সমস্ত প্রমান তোর বিরুদ্ধে। তোকে হয়তো ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হবে"। রিয়াজ কিছুই বলেনা। নিশ্চুপ হয়ে চলে যাচ্ছিল। যেন রিয়াজ পুরো একটা মস্তিষ্কে হিন মানব হয়ে গেছে।

অন্যদিকে টিভি চ্যানেলে নিউজ হচ্ছে। রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই খুশিতে পুরো শহরে যেন আনন্দে উল্লাসে মেতে ওঠে।সাইকো ধরা খেয়েছে,জনগণের আজ ঈদের দিন।

সুফিয়ান রিয়াজকে নিয়ে, অবশেষে কারাগারে গিয়ে পৌঁছায়। কারাগারের সামনে রিয়াজকে নামিয়ে, সোজা জেলখানায় বন্দি করে ফেলে। কারাগারের সামনেও হাজার হাজার মানুষের ভিড় ছিল। তারাও এসেছিল রিয়াজকে মারতে, নয়তোবা দেখতে। একটা ভয়ঙ্কর সাইকো কে ধরা হয়েছে, এইটা জেনে পুরো শহরের মানুষ যেন সাইকোর চেয়েও হিংস্র হয়ে গেছে।

এদিকে রিয়াজের বাড়িতে সবাই কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। তাদের মনে হচ্ছিলো এটা রিয়াজ না। রিয়াজ কখনো খুন করতে পারে না। যেখানে রিয়াজ রক্ত দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠে, সেখানে রিয়াজ কিভাবে এতগুলো মেয়েদের খুন করবে। আর যতবারই খুন হয়েছিল, ততোবারই রিয়াজ বাসাতেই ছিল। এইটা তো রিয়াজের কাজ না। কান্নাকাটির মাঝে হঠাৎ রিয়াজের আব্বু সবাইকে ডাক দেয়। টিভির মধ্যে দেখাচ্ছিলো, গতকাল রাতে যে মেয়ের শরীর থেকে মাথাটা আলাদা হয়েছে। সে মেয়ের সামনের রাস্তায় রিয়াজ ছিলো। গভীর রাতে এই নির্জন স্থানে রিয়াজকেই দেখা গেছে। সিসি টিভি যেখানে নেই,সেখানে রিয়াজ মেয়েটিকে খুন করেছে। এইজন্য তা ভিডিওতে আসেনি। কিন্তু তার পরের রাস্তাতেই রিয়াজকে দেখা গেছে। সে খুন করে পালিয়ে যাচ্ছে। এবং রিয়াজের হাতে একটা ব্যাগ ছিলো। যা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়,সেই ব্যাগে অস্র ছিলো। ঠান্ডা মাথায় খুন করে, রিয়াজ সোজা বাসায় গিয়ে ঘুমিয়েছে।যা সিসি টিভির ফুটেজে স্পষ্ট বুঝা যায়। আর ওই রাস্তায় রিয়াজ ব্যাতিত অন্য কাওকে দেখাও যায়নি।

যাক,এই নিউজের জন্যেই রিয়াজ গ্রেপ্তার। সাংবাদিক সুফিয়ানকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সুফিয়ান বলে," রিয়াজ আমাকে এই কেসের ব্যাপারে হেল্প করেছে কিছুটা। কিন্তু আমি বুঝতেই পারিনি,আসল সাইকো সে। রিয়াজের কথামতো আমি প্রতিটি সিসি টিভি ক্যামেরা চেক দিয়েছি। আর দেখি, কিছু ভুলের জন্য সে নিজে তার ফাঁদে পড়েছে।বিকেলে আদালতে তোলা হবে রিয়াজকে। রায় তখনি জেনে নিবেন"।

সুফিয়ানের এই কথায় রিয়াজের বাসা ব্যাতিত, পুরো শহরের মানুষ ধরেই নিয়েছে রিয়াজ খুনি। সাইকো রিয়াজ ছাড়া কেও নয়। আন্দোলন, মিছিল হতে হতে বিকেল ঘনিয়ে আসে। রিয়াজকে আদালতে তোলা হয়। ভিতরে রিয়াজের পক্ষে কোনো সাক্ষী না থাকায়,জজ রায়ও শুনিয়ে দেয়। আর টিভিতে নতুন নিউজ শুরু হয়ে যায়," প্রমাণ অনুসারে সাইকো রিয়াজকে আদালত ফাঁসির রায় শুনিয়ে দিয়েছে"।

চলবে..........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন