ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাইকো টাইম

১০ম পর্ব

লেখক: রিয়াজ রাজ

গল্প- #সাইকো_টাইম ( পর্ব-১০)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ

--------------------------

সুফিয়ান আমতা আমতা করে বলে," মায়ার লাশ কাঁচপুর ব্রিজের নিচে পাওয়া গেছে। নৃশংসভাবে খুন করেছে তাকে। বডি থেকে মাথা আলাদা করে ব্রিজের ওপাড়ে রেখে গেছে। আর রিমার লাশ পাওয়া গেছে নবীনগর ভার্সিটির সামনে।রিমার মাথাও আলাদা করে সাভারের ময়লার ড্রেনে ফেলে গিয়েছে"।

রিয়াজ কথাটা শুনতেই মাথা তুলে তাকায়। রিয়াজের চোখ রাগে লাল,এবং চোখে পানি টলমল করছে।

রিয়াজের চোখের দিকে তাকিয়ে সুফিয়ান খানিকটা ভয় পেয়ে যায়। রিয়াজের শ্বাস থেকে যেনো বের হচ্ছে একটি গরম উত্তাপ। ফসফস করে ফুলতে থাকে রিয়াজ। সুফিয়ান কি বলবে বা কি করবে তা ভেবে পাচ্ছিলো না,সেই মুহুর্তে রিয়াজের মুখ থেকে একটা ভয়ানক গর্জনের স্বরে বের হয়," আমি ছাড়া পাচ্ছি কবে"।

কথাটা শুনে নয়,রিয়াজের কন্ঠের ভয়ংকর স্বর শুনে সুফিয়ানের এইবার কাঁপুনি উঠে যায়। ভয়ে ভয়ে সুফিয়ান বলে," আমি চেষ্টা করবো দ্রুত বের করার। আদালতে তো তুলতে হবে,তুই এখন নির্দোষ। এইটা প্রমাণ করেই বের হবি"। রিয়াজ সুফিয়ানের চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে। সুফিয়ান যেনো চোখের সামনে বাঘ দেখছে। রিয়াজ কথাটা শুনে চোখ সরিয়ে নেয়। এরপর মাথা নিচুঁ করে আবার ভয়ংকর স্বরে বলে," আজ আমি আমার পরিবারের সাথে থাকলে,এমন হতো না"। রিয়াজের কথা শুনে সুফিয়ান কিছুটা অনুতপ্ত বোধগম্য করে নড়েচড়ে দাঁড়ায়। সেই মুহুর্তে একটা গার্ড এসে ইন্সপেক্টর সুফিয়ানকে বলে," স্যার,বাহিরে সবাই বলাবলি করছে এই সাইকো রিয়াজ তার দল দিয়ে নিজের পরিবার খুন করিয়েছে। যাতে সবাইকে বিশ্বাস দেখাতে পারে যে সে নির্দোষ। এবং ফাঁসি না হয়ে দ্রুত বের হবে।মনে হয়না উনি নিজের পরিবারের লাশও দেখতে পারবে"। কথাটা শুনে সুফিয়ান ঐ গার্ডের দিকে তাকায়। দেখে গার্ডের চোখ বড় বড়। সে ভয়ে কাপছে। তার চোখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে ভয়ংকর কাওকে দেখছে। সুফিয়ানের বুঝতে বাকি রইলো না। সে গার্ডের থেকে চোখ সরিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখে,রিয়াজ বসা থেকে কখন দাঁড়িয়ে গেছে।এবং চোখে ভয়ংকর রাগ।

সুফিয়ান কিছু বুঝার আগে রিয়াজ সুফিয়ানের গলা ধরে জোরে নিক্ষেপ করে সেলের দেওয়ালে। সুফিয়ান যেনো প্লাস্টিকের মতো উড়ে গিয়ে দেওয়ালের সাথে ধাক্কা খেলো। রিয়াজের চেহারায় যেনো ভেসে উঠেছে এক ভয়ানক চাহনি। এদিকে সুফিয়ান আহত হয়ে নিচে শুয়ে পড়ে। রিয়াজ সেল থেকে বের হতেই যাবে,এমন সময় গার্ড সেলে তালা মেরে দিতে যাচ্ছে। রিয়াজ দৌড়ে এসে সেলের লোহার দন্ডে এমন জোরেই লাথি মারে,গার্ড দরজার ধাক্কা খেয়ে,অপর পাশের সেলের দরজায় গিয়ে ছিটকে পড়ে।এতে সেলের দরজা ছুটে গিয়ে কয়েকটি লোহা ভেঙ্গে যায়। তখনি সেই কাল কুঠুরির জেলে যে ১০-১২ জন গার্ড ছিলো। তারা দৌড়ে আসে রিয়াজকে ধরার জন্য। রিয়াজ তাদের দেখে ভাঙ্গা দরজা থেকে একটা লোহার দন্ড হাতে নেয়। গার্ডরা এগিয়ে আসতেই,প্রথমজনের ঘাড়ে এমন জোরেই আঘাত করে। ঐ গার্ড ওখানেই মারা যায়। এইটা দেখামাত্র বাকি গার্ডরা ভয়ে উল্টো দৌড় মারে। যেনো এক ভয়ংকর মানুষ রুপের জন্তু তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।

এদিকে গার্ডগুলো দৌড়ে গিয়ে বাহিরে বাঁশি বাজানো শুরু করে। সাথে সাথে কয়েকজন পুলিশ এবং গার্ড পিস্তল,লাঠি,কারেন্টের শকড দেয়ার দন্ড নিয়ে আসে। রিয়াজ দৌড়ে বের হয়েই, সেই লোহার দণ্ড তাদের দিকে ছুড়ে মারে। এতে দুইজন আহত হলেও,বাকিরা পিস্তল রিয়াজের দিকে দাড় করায়। কিন্তু....

দন্ড মারার পরপরই রিয়াজ হাতে একটা ফায়ার এক্সটিংগুইসার নিয়ে নেয়।( আগুন নেভানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রকে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা ফায়ার এক্সটিংগুইসার বলা হয়। অতি প্রচলিত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোতে সাধারণত সিলিন্ডারে উচ্চচাপে রক্ষিত তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড, নজল দিয়ে স্প্রে আকারে বের করে আগুন নেভানো হয়।) সিলিন্ডারগুলা দরজার পাশেই ছিলো। রিয়াজ একটা সিলিন্ডারের মুখ খুলেই তাদের দিকে নিক্ষেপ করে। অর্থাৎ দন্ড মারার ৩ সেকেন্ডের মাথায় ফায়ার এক্সটিংগুইসারের সিলিন্ডার নিক্ষেপ হয় গার্ডদের উপর। পরপর রিয়াজ ৪ টা সিলিন্ডার নিক্ষেপ করে। এতে কার্বনডাই- অক্সাইড বের হয়ে যাওয়ায়,স্থান ধোয়াশায় পরিনত হয়। পুলিশরা চোখে কিছু দেখতে না পেরে এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করে। কিন্তু আপসোস,ঝাপসা করে দেওয়া ধোয়া সরে যেতেই,রিয়াজকে কেও দেখেনা। অর্থাৎ সে কোনোভাবে পালিয়ে গেছে।

ব্রেকিং নিউজ- সবে মাত্র সাইকো রিয়াজ জেল থেকে পালিয়ে গেছে। পালানোর সময় ৭ জন গার্ডকে আহত করেছে,এবং একজন গার্ডকে খুন করেছে। উপস্তিত ইন্সপেক্টর সুফিয়ানকেও আহত করে করেছে সাইকো রিয়াজ। সবাই সাবধানে থাকুন। কেও বের হবেন না ঘর থেকে। এবং যে যেখানেই সাইকো রিয়াজকে দেখবেন, সে নিচে দেওয়া নাম্বারে কল করুন - 016×××××××××

নিউজটা দেখামাত্র রিয়াজের বাবার বুক কেপে উঠে। উনি নিজের ঘরের বউ মা আর নাতনির মৃত্যুতে অলরেডি আপসেট। এই মুহুর্তে রিয়াজের এমন খবর দেখে উনি পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। সোফায় হুট করে বসে উনি কান্না করে দেয়। রিয়াজের মা সেই সকাল থেকেই কান্না করে যাচ্ছে। রিয়াজের বাবা সোফায় বসে কাঁদতে কাঁদতে হটাৎ চটপট করতে থাকে।রিয়াজের মা দৌড়ে এসে দেখে,উনার অবস্থা ভালো না। এমনিই হার্টের রোগী। অতিরিক্ত চাপ মেনে নিতে পারেনি তাই উনার হার্ট দুর্বল হওয়া শুরু করে। রিয়াজের ছোট ভাই বোন দৌড়ে এসে উনাকে হসপিটাল নেওয়ার জন্য তোলে।রিয়াজের ছোট ভাই ফাহিম তার বাবাকে কোলে নিয়ে দৌড়ে বাড়ির সামনে আসে। পিছন পিছন এগিয়ে আসে রিয়াজের মা আর ছোট বোন সুমি।

বাড়ির গেটের সামনে ফাহিম গাড়ির সিগন্যাল দিচ্ছে। কিন্তু কেও দাড়াচ্ছে না। কারণ একটাই। সবাই জানে এরা সাইকোর পরিবার। উল্টো সবাই ভয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। ফাহিম প্রায় ২-৩ মিনিট ডেকেও একটা গাড়ি দাড় করাতে পারেনি। এরপর তার বাবাকে কোলে নিয়ে হসপিটালের দিকে দৌড় দিতে যায়। কয়েক পা এগিয়ে যেতেই,রিয়াজের বাবা স্তব্ধ হয়ে যায়। মানে, উনি মারা যান।

এইসব দেখে রিয়াজের মা জ্ঞান হারিয়ে সেখানেই( রাস্তায়) পড়ে যায়। ফাহিম তার মৃত বাবাকে কোলে নিয়ে রাস্তায় বসে পড়ে।

রাত ১১ঃ০৫ মিনিট।

ময়লা ফেলার একটা জায়গায় বসে আছে রিয়াজ।অর্থাৎ একটা ব্রিজের নিচে নিরিবিলি স্থানে। চোখে ভয়ংকর রকমের রাগ। চোখের সামনে হটাৎ দেখতে পায়,উপর থেকে ( ব্রিজ থেকে) একটা ব্যাগ পড়েছে। রিয়াজ বসা থেকে উপরে তাকিয়ে দেখে, হেলমেট পড়ে একটা লোক ব্রিজের উপর থেকে রিয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে। এরপর মধ্যাঙুল দেখিয়ে সে ব্রিজের কিনারা থেকে উপরে চলে যায়। রিয়াজ সাথে সাথে বসা থেকে উঠে।এবং ময়লার ড্রেন থেকে একটা ভাঙ্গা কাচের বোতল নিয়ে ব্রিজের উপরে উঠতে শুরু করে। যেহেতু রিয়াজ ব্রিজের নিচে ছিলো। ময়লার ড্রেন পেরিয়ে উপরে উঠতে উঠতে প্রায় ২ মিনিট লাগে। এবং দেখে,হেলমেট পরিহিত ব্যাক্তিটা বাইক নিয়ে অনেকদূর চলে গেছে। রিয়াজ রাগে কাচের বোতলটা জোরে রাস্তায় আছাড় মারে। কাচ ভাঙ্গার শব্দের সাথে সাথে রিয়াজের চিৎকারও ভেসে যায় অনেকদূর।

এর পরক্ষণেই রিয়াজ খেয়াল করে দূর থেকে একটা পুলিশের গাড়ি আসছে। ধরা খাওয়ার ভয়ে রিয়াজ আবার ব্রিজের নিচে নেমে আসে।

আবার সেই স্থানে বসে রিয়াজ। সব এলোমেলো হয়ে গেছে তার। বাবার মৃত্যুর সংবাদ লুকিয়ে আসার সময় রাস্তায় শুনেছিলো।সবাই বলাবলি করছিলো সাইকোর বাবা মারা গেছে। রিয়াজ রাগে গজগজ করার মাঝে,চোখ যায় সামনে পড়ে থাকা ব্যাগের দিকে। মানে সাইকোর দেওয়া ব্যাগ।যেটা কিছুক্ষণ আগে উপর থেকে ফেলা হয়েছে। রিয়াজ উঠে এসে ব্যাগটা হাতে নেয়। এরপর ব্যাগ খুলেই দেখতে পায়, মায়ার কাটা আঙ্গুল। কারণ আঙ্গুলের মধ্যে সেই আংটি'টা রয়েছে, যেটা রিয়াজ রিমার জন্মের দিন মায়াকে পড়িয়েছিলো।

চলবে............

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন