#সাইকো_টাইম ( পর্ব-০৯)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
-------------------------
এদিকে সাইকো এইবার সেই ছুরি দিয়ে জীবন্ত মায়ার পেট কাটতে শুরু করে। মায়া যন্ত্রণায় চিল্লাচ্ছে। কিন্তু সাইকো ঠান্ডা মাথায় মায়ার পেট কেটে কেটে নাড়িভুড়ি বের করতে শুরু করে। মায়ার কাতরানি আর চটপট করা বন্ধ হয়ে গেলো।
রিয়াজ জেলের একটা সেলে বন্দি। চারপাশে দেওয়াল,আর সামনে লোহার দন্ডের গেট। আশেপাশে আরো অনেক সেল আছে। আর এক একটা সেলে বন্দি আছে ভয়ংকর সব কয়েদি। আপাতত দুনিয়ার চোখে রিয়াজ একজন সাইকো। তাই এই ভয়ংকর কয়েদিদের সাথে সাথে,রিয়াজকেও বন্দি করা হয়েছে। এখানে রিয়াজকে যেমন আর ২ ঘন্টা পর ফাঁসির দড়িতে ঝুলানো হবে। ঠিক তেমনি অন্যান্য কয়েদিদেরকেও,কয়েকদিন বা কয়েক ঘন্টার মধ্যে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হবে। আশেপাশের সেলে যে কয়েদিরা আছে,তারা কেও নিজের হাতে নিজের স্ত্রী কন্যাকে খুন করেছে। কেও ছিনতাই করতে গিয়ে খুন করেছে,আবার কেও ঝগড়ার মাঝে শত্রুকে আক্রমণ করে খুন করেছে। অর্থাৎ বুঝাই যাচ্ছে এই কারাগারে কোনো চোর ডাকাত নেই। সবগুলো খুনি,এবং সবগুলোই ভয়ানক।
রিয়াজ সেলের এক কোনায় বসে বসে ভাবছে। আর দুই ঘন্টা পরেই তার ফাঁসি। এইটা নিয়ে রিয়াজের কোনো আপসোস নেই। কিন্তু ঘটনা কি ঘটেছে,তা নিয়ে রিয়াজ আপসেট। রিয়াজ রাস্তায় জ্ঞান হারালো,এরপর তাকে হাটতে কেনো দেখা গেলো। রিয়াজ একবার ভাবে,তার হয়তো কোনো জমজ ভাই আছে,এবং সে সাইকো। আবার ভাবে, রিয়াজের জমজ ভাই আসবে কোথা থেকে। এতো বছর রিয়াজের খোজ কেও নেয়নি। এখন কেও কেনো আসবে। আর আসলেও বা সে সাইকো কেন। রিয়াজের মাথায় কিছু ঢুকেনা। তাছাড়া এখন ঢুকলেও কোনো লাভ নেই। সকাল ৮ টা বাজে। আর ২ ঘন্টা পর রিয়াজের ফাঁসি। পুরো দুনিয়ার কাছে রিয়াজ সাইকো। ফাঁসির অবস্থানে দাঁড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার কোনো উপায়ও নেই ।
এরই মাঝে কারাগারে কারো ঢুকার ইঙ্গিত। রিয়াজ সেলের এক কোনে গুজে বসে ভাবছে সব। মৃত্যুর আগে জীবনের সবকিছু যেনো মানুষকে একবার হলেও বিরক্ত করে।কারো পায়ের ঢকঢক শব্দ শুনা যাচ্ছে। শব্দটা ধীরে ধীরে রিয়াজের সেলের দিকে আসছিলো। অন্যান্য সেলে থাকা কয়েদিরা হাউমাউ করছে। হয়তো সকালের নাস্তার জন্য । কিন্তু পায়ের শব্দটা রিয়াজের সেলের সামনে এসে থামে। ৫ জন গার্ড এসেছে রিয়াজের কাছে। এরা কয়েদিদের দেখাশুনা করে। রিয়াজ নিশ্চুপ হয়ে আছে। পুলিশ গার্ডরা রিয়াজের সেলের তালা খুলে সেলের ভিতরে আসে। এরপর রিয়াজকে উঠতে বলে। রিয়াজ ধীরে ধীরে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। সেই মুহুর্তে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা রিয়াজের হাতে হ্যান্ডকাফ লাগায়। তারপর রিয়াজের ঘাড় ধরে সেল থেকে বের করে নিচ্ছে। কোথায় নিচ্ছে তা বলেনি,কিন্তু ওদের কথোকপথন শুনে রিয়াজ বুঝে যায় যে,গোসল করাতে নিচ্ছে তাকে। হয়তো কয়েদিদের ফাঁসির আগে গোসল করানো হয়। পাঁচজন পুলিশ যখন রিয়াজকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো। তখন আশেপাশের সেলে থাকা কয়েদিরা হাসাহাসি কারছিলো। কেও কেও মজা করে বলছিলো," কিরে শালা,তোর কপালও আমাদের মতো নাকি। দেখতে তো ভদ্র ঘরের ছেলের মতো দেখাচ্ছে। তুই শালা আবার কোন পাপ করলি"। এরই মাঝে আবার আরেকটা কয়েদি বলে," কিরে কারে খুন করলি আবার। আমাদেরকেও শেয়ার কর। আমরা তোর মতোই খুনি"। রিয়াজ মাথা নিচুঁ করে হেটে যাচ্ছে।
চারপাশে এতো এতো প্রশ্ন আসায় একজন পুলিশ তাদের উত্তর দেয়," এইটা একটা সাইকো। যে মেয়েদের দুই টুকরা করে খুন করে। আজ ওর ফাঁসি"। কথাটা শুনতেই ভয়ে সব কয়েদি সেলের লোহার দন্ড ছেড়ে পিছনে চলে যায়। ভয়ে যেনো সব কয়েদি কাঁপছে। কারণ সাইকোর ব্যাপারে এখানকার সবাই জানে। কিন্তু কিভাবে জানে।
এখানের নাইট গার্ড প্রতিদিন কয়েদিদের সাথে গল্প করতো। কে কিভাবে কারাগারে বন্দি হলো,কার লাইফে কয়টা প্রেম ছিলো। এসব নিয়েই গল্প করে নাইট গার্ড কয়েদিদের সাথে রাত কাটাতো। আর সেই গার্ডের মুখেই সব কয়েদি শুনেছিলো সাইকোর কথা। গতরাত সেই গার্ড আসেনি। ছুটিতে গেছে। কিন্তু কারণ ছিলো,সাইকো এই কারাগারে আসছে তাই পুরান গার্ড ছুটি নিয়েছে। আর এদিকে গার্ডের মুখে সাইকোর ব্যাপারে জানার পর, সব কয়েদির অবস্থা খারাপ।
এ ছিলো সাইকো সম্মন্ধে কয়েদিদের ভয়।কিন্তু অশ্চর্যের একটা বিষয় হচ্ছে,সব কয়েদি সেলের ভিতরে সরে এলেও,একটা কয়েদি লোহার দন্ড ধরে দাঁড়িয়েই আছে। সে রিয়াজের দিকে এক মনে তাকিয়ে আছে। রিয়াজ তো মাথা নিচুঁ করে হাটছে,কিন্তু একটা পুলিশ কর্মকর্তা সেই কয়েদিকে প্রশ্ন করে," কিরে তুই ভয় পাস নি? এই সাইকোরে এইভাবে কেন দেখছিস। তোর মেয়েকেও এই সাইকো মেরেছে নাকি"। লোকটা অনেক্ষণ রিয়াজের দিকে তাকানোর পরে রিয়াজের উদ্দেশ্যে বলে," এইটা সাইকো নয়। আমি নিজের চোখে দেখেছি ঐ সাইকোকে। এইটা সেই সাইকো নয়"।
কথাটা শুনতেই রিয়াজ মাথা তুলে তাকায়। এরেস্ট হবার পর এই প্রথম রিয়াজ মাথা তুলে তাকিয়েছে। লোকটার দিকে তাকানোর পর লোকটা আবার বলে," এইটা সাইকো নয়। এইটা সাইকো হতেই পারেনা"। রিয়াজ কথাটা শুনেই লোকটাকে জিজ্ঞেস করে বসে," আপনি দেখেছিলেন তাকে? সে কেমন?"। লোকটা কিছু বলার আগেই পুলিশ কর্মকর্তারা লোকটাকে ধমক দিয়ে বলে," তুই শালা চুপ কর? আদালতে সম্পূর্ণ প্রমাণ হয়েছে এইটা সাইকো"। লোকটাকে চুপ করিয়ে দিয়ে গার্ডরা রিয়াজকে নিয়ে যাচ্ছিলো। রিয়াজ এইবার চটপট করতে শুরু করে । সেই লোকটাকে জোরে জোরে চিৎকার মেরে বলতে থাকে," ভাই প্লিজ বলুন সেই সাইকো কেমন। আপনি কিভাবে দেখেছিলেন তাকে"। কিন্তু ততক্ষণে টেনেহিঁচড়ে গার্ডরা রিয়াজকে বাহিরে নিয়ে যায়।
রিয়াজকে বাহিরে এনে একটা লোহার সাথে শক্ত করে বাধে ওরা । এরপর মোটর ছেড়ে পাইপ দিয়ে রিয়াজকে ভিজানো হচ্ছে। রিয়াজের নাকে মুখে পানি ঢুকে যাচ্ছিলো। কিন্তু কারাগারে সে সাইকো হিসেবে আছে। এসব সহ্য করতেই হবে। কিছুক্ষণ পানি মেরে একটা লোক রিয়াজের মুখে বুকে সাবান মেরে দেয়। এরপর আবার পাইপ দিয়ে পানি।
গোসল শেষে রিয়াজের আসল জামা খুলে উলঙ্গ করে ওরা।এরপর কয়েদিদের পোষাক পড়িয়ে আবার সেলে নিয়ে আসে। রিয়াজ ঐ লোকটাকে আসার সময় খুজে যাচ্ছিলো। কিন্তু সেলে তাকে দেখতে পায়নি। এদিকে গার্ডরা এসে ধাক্কা মেরে রিয়াজকে সেলে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর তালা মেরে চলে যায়। রিয়াজ শেষ একটা আশা পেয়েছিলো। অন্তত একজন তো ছিলো,যে সাইকোকে দেখেছে। রিয়াজ দৌড়ে আবার লোহার দন্ডের কাছে আসে। এরপর চিৎকার দিয়ে সামনের সেলে থাকা কয়েদিকে জিজ্ঞেস করে," আমাকে নেওয়ার সময় যে কয়েদির সাথে কথা হয়েছে,সে কোথায়"। সামনের সেলে থাকা কয়েদি রিয়াজকে বলে," মাত্রই তার ফাঁসির সময় ছিলো। তাকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে"।
রিয়াজ কথাটা শুনে হতাশ হয়ে যায়। শেষ ভরসাটাও শেষ। যার দ্বারা কোনোভাবে সাইকোকে চিহ্ন করা যেতো।তারও ফাঁসি হয়ে গেছে। এখন আর কোনো ক্লু নেই। রিয়াজ হতাশ হয়ে আবার সেলের এক কোনে গুজে বসে।
সময়-০৯ঃ০৫ মিনিট।
অর্থাৎ আর ৫৫ মিনিট পর রিয়াজের ফাঁসির সময় হবে। তৎক্ষনাৎ আবার কারো পায়ের ঢকঢক শব্দ রিয়াজের সেলের সামনে এসে থামে। রিয়াজ মাথা তুলে তাকিয়ে দেখে সুফিয়ান। রিয়াজ আবার মাথা নিচুঁ করে ফেলে। এদিকে সুফিয়ান সেলের ভিতর ঢুকে।রিয়াজের সামনে দাঁড়াতেই রিয়াজ বলে," আমার শেষ ইচ্ছে জানতে এসেছিস? আমার কিছুই চাওয়ার নেই। তুই শুধু আমার মেয়ে রিমা আর আমার বউকে একবার কারাগারে নিয়ে আয়। তাদের শেষবারের মতো একবার দেখতে চাই আমি"। রিয়াজের প্রশ্নে সুফিয়ান আমতা আমতা করে বলে," মায়ার লাশ কাঁচপুর ব্রিজের নিচে পাওয়া গেছে। নৃশংসভাবে খুন করেছে তাকে। বডি থেকে মাথা আলাদা করে ব্রিজের ওপাড়ে রেখে গেছে। আর রিমার লাশ পাওয়া গেছে নবীনগর ভার্সিটির সামনে।রিমার মাথাও আলাদা করে সাভারের ময়লার ড্রেনে ফেলে গিয়েছে"।
রিয়াজ কথাটা শুনতেই মাথা তুলে তাকায়। রিয়াজের চোখ রাগে লাল,এবং চোখে পানি টলমল করছে।
চলবে............