#সাইকো_টাইম ( পর্ব-১৪)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
---------------------------
অন্যদিকে,,,,,
বন্ধ রুম। নিম নিম করা মাথার উপরে একটা লাইট। সামনে একটি ক্যামেরা, এবং সেই ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ড চলছে। চেয়ারে হাত পা বাধা অবস্থায় বসে আছে আনিশা।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে একটা লোক আসে। তার মাথায় হেলমেট, গায়ে কালো জ্যাকেট, এবং হাতে একটা কাঠের বক্স।
আনিশা লোকটার দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারে। এইটা সাইকো।
ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া আনিশা গিয়েছিলো বিয়ের কেনাকাটা করার জন্য। সাথে ছিলো আনিশার পুরো পরিবার। মার্কেটে কেনাকাটা অবস্থায় আনিশার নাম্বারে কল দেয় তার হবু স্বামী আরিফ। আরিফের কল পেয়ে আনিশা পরিবার থেকে সাইডে এসে ফোনে কথা বলে যাচ্ছিলো। তখন তাদের কথোপকথন,
- হ্যালো আনিশা।
- কি ব্যাপার আরিফ সাহেব। এতো তাড়া কিসের। আর কদিন বাদেই তো নিজের কাছে পাবেন। একটু ধৈর্য ধরতে শিখুন।
- যার সাথে সারাজীবন কাটাতে যাচ্ছি। তার খবর না নিলে কি মন শান্ত হয়?
- ওকে বাবা,আপনার স্ত্রী এখন শপিং এ এসেছে। তাকে কি একটু ভালোভাবে শপিং করতে দিবেন?
- শপিং এ? এইজন্যই এতো চেচামেছি। তা কোন মার্কেটে গিয়েছো শপিং করতে।
- এইতো,সাভার নিউ মার্কেটে।
- কি কি কিনলা?
- কিহ,বুঝিনি।
- বললাম কি কি কিনলা।
- দাড়াও এখানে মানুষের চিৎকার চেচামেচি বেশি।
- তো সাইডে যাও?
- হ্যাঁ যাচ্ছি তুমি বলো।
- কি কি নিলা।
- এখনো চয়েজ করতেছে।
- ওহ,ঠিক আছে।আমাকে ছবি দিও।যদিও তোমাকে সুন্দর জামা ছাড়াও ভালো লাগে।
- তো কি জামা ছাড়া ছবি দিবো?
- লাইভ টেলিকাস্টে যা দেখবো,তা ছবিতে দেখে মন ভরবে?
- যাহ দুষ্টু।
- ঠিক আছে যাও। কেনাকাটা করো।
- আচ্ছা।
আনিশা কলটা কেটে একটা মুচকি হাসি দেয়। এরপর সামনে তাকিয়ে দেখে আনিশা ফোনে কথা বলতে বলতে মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড চলে এসেছে। অর্থাৎ যেখানে গাড়ি পার্কিং হয়।আনিশা সিড়ির দিকে আবার যাচ্ছিলো,তখনি দেখে,সিড়িতে হেলমেট পরিহিত, কালো জ্যাকেট এবং হাতে বক্স নিয়ে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। আনিশা কিছু বুঝার আগেই সেই লোকটা দৌড়ে এসে হাতে থাকা বক্স দিয়ে আনিশার মাথায় আঘাত করে। আনিশা জ্ঞান হারায়। এরপর চোখ মেলে নিজেকে আবিস্কার করে এই বন্ধ রুমে।
আনিশার হাত পা বেধে রাখা। লোকটা বক্স হাতে আনিশার সামনে আসে। এরপর বক্সটা আনিশার সামনে রেখে আবার উল্টো যেয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। আনিশা ভয়ে চিৎকার শুরু করে। আনিশার চিৎকার শুনে পাশের রুমে থাকা ববিতা ভয়ে আৎকে উঠে। ববিতার হাত পা বাধা। ববিতা বুঝে নিলো,তার পাশের রুমে কোনো মেয়েকে টর্চার করা হচ্ছে। ববিতার ডান পাশের রুমে অহনা মাটিতে শুয়ে আছে,মৃত।অহনার হাত পা কাটা,পেটের নাড়িভুড়ি বের করা। শরীর থেকে মাথা আলাদা করা।
অহনার ডান পাশের রুমে সুস্মিতা ঝুলে আছে। অর্থাৎ পা উপরের দিকে বেধে দিয়ে,মাথা নিচের দিকে ঝুলানো। সমস্ত শরীর উলঙ্গ। মুখে কালো প্লাস্টার দিয়ে পেছানো। তাই চিৎকার দিতেও পারেনা। উল্টো ঝুলে থাকার কারণে,ধীরে ধীরে শরীরের রক্ত সুস্মিতার মাথায় এসে জমাট বেধে নিচ্ছে। সুস্মিতার চোখ রক্তে লাল হয়ে আছে। যেনো সব রক্ত সুস্মিতার নাক, মুখ, দিয়েই বেরিয়ে আসবে।
সুস্মিতার পাশের রুমে নিলিমার দেহ ছাড়া মাথা পড়ে আছে। সাইকো দেহকে কোথায় নিয়েছে কে জানে,তবে মাথাটা কাটা অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে। এভাবে ওখানে যত রুম আছে,প্রত্যেক রুমেই একটা না একটা মেয়ে আটকে আছে। সাইকো ধীরে ধীরে জীবিতদের কেটে টুকরো করবে।
অন্যদিকে আনিশার পরিবার থানায় রিপোর্ট লিখতে আসে। ইন্সপেক্টর সুফিয়ান হসপিটাল তাই থানা সামাল দিতে পারেনা মহেশ চক্রবর্তী। অনেক লম্বা সিরিয়াল থানায়। কারো মেয়ে ৩ দিন যাবত গায়েব। কারো মেয়ে সকাল থেকে নিখোঁজ। কারো মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।এইভাবে অহরহ কিডন্যাপ এবং মাডার কেসের রিপোর্ট লিখে যাচ্ছে মহেশ চক্রবর্তী। উনি কোনোভাবে রিপোর্ট লিখে যাচ্ছে শুধু। কিন্তু ডিপার্টমেন্ট কিছুই করতে পারেনা। এবং সবার এইটাও জানা আছে,একমাত্র সাইকো এইসব করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সাইকোকে কেও ধরতেই পারেনা। হেলমেট পরিহিত এই মানুষটাকে কোথায় খুজবে,তা নিয়ে চিন্তিত পুরো ডিপার্টমেন্ট।
সিনিয়র অফিসার নিজেও ডিপ্রেশনে। উনার মেয়েকেও সাইকো খুন করেছে। তিনি সকাল সকাল একটা মিটিং করার জন্য ডিপার্টমেন্ট এর সব অফিসারদের ডাকেন।
সুফিয়ান হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে। আচমকা সুফিয়ানের হুশ ফিরে আসাতে সুফিয়ান লাফ মেরে উঠে বসে। চোখের সামনে যেনো জান্নাতের মৃত্যুর দৃশ্য ভাসছে। সুফিয়ানের চিৎকার শুনে নার্স আর ডাক্তার ছুটে এলে সুফিয়ান রাগ দেখায় তাদের। হাত থেকে স্যালাইন এর সুই বের করে নেয়। ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও সুফিয়ান রুম থেকে বেরিয়ে আসে। সুফিয়ানকে যারা সিকিউরিটি দিচ্ছিলো তারা এসে বলতে থাকে," স্যার স্যার। আপনার শরীর ভালো না। প্লিজ রেস্ট নিন"। সুফিয়ান রাগে হন হন করে হসপিটাল থেকে বের হচ্ছে, আর তাদের বলে," গাড়ি বের করো। এক্ষুনি থানায় যেতে হবে"।
অন্যদিকে সিনিয়র অফিসারের নির্দেশে মিটিং শুরু হয়। সিনিয়র অফিসার সবার উদ্দেশ্যে বলে," আমি আর কিছু শুনতে চাচ্ছিনা। কারো মুখ থেকে কোনো অজুহাত বা কোনো আইডিয়া চাচ্ছিনা। শহরে নিউজ করে দাও যাতে হেলমেট পড়ে আর কেও বের না হয়। যাকেই হেলমেট পড়া অবস্থায় দেখা হবে,তাকেই গুলি করা হবে। সব মেয়েদের ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করো। রাস্তাঘাটে কোনো গাড়ি যেনো চেক না হয়ে যেতে না পারে।প্রত্যেকটা রাস্তায়, গলিতে,মোড়ে চেক-পোষ্ট বসাও। আমি দেখতে চাই আর একটা মেয়েও কিভাবে কিডন্যাপ হয়"। সিনিয়র অফিসারের কথা শুনে ইন্সপেক্টর জহির বলে," স্যার, সরকারের আদেশ ছাড়া এইভাবে শহর লক-ডাউন করা যাবে?"। সিনিয়র অফিসার রেগে উত্তর দিলেন," উপর থেকে অনুমতি নিয়েই আমি আদেশ দিয়েছি। এইটা একটা গোপন আদেশ। হুট করে কাজে নেমে পড়ো। সাইকো যদি রাস্তায় থাকে,তবে নিশ্চিত আজই ধরা পড়বে"। সিনিয়র অফিসারের কথা শেষ হতে না হতে মিটিং এ সুফিয়ান প্রবেশ করে। সুফিয়ান রুমে ঢুকেই সিনিয়র অফিসারের কপাল বরাবর পিস্তল ধরে। এ দৃশ্য দেখে সবাই সুফিয়ানের দিকে পিস্তল টার্গেট করে নেয়। সুফিয়ান কড়া গলায় বলে," সাইকো,তোর খেলা শেষ "।
সুফিয়ানের কথা শুনে সবার পায়ের নিচের মাটি যেনো নিমিষেই সরে যায়। সিনিয়র অফিসার ভয়ে সুফিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। সুফিয়ান কথাটা বলে আবার পিস্তল নামিয়ে নেয়। এরপর সবার উদ্দেশ্যে বলে," এটাই করবো আমরা। যে সাইকো নয়,তাকে সাইকো বানিয়ে দিবো। কিন্তু সাইকো সবার আড়ালে তার উদ্দেশ্য চালিয়ে নিচ্ছে। রিয়াজকে ডাকা হোক। রিয়াজ ছাড়া সাইকোকে কেও ধরতে পারবে না। সিনিয়র অফিসারের কাছে আমি রিকুয়েষ্ট করবো। রিয়াজকে এই কেসের দায়িত্ব দেওয়া হোক। আমি জানি সে পারবে"। সুফিয়ানের কথা শুনে সিনিয়র অফিসার আবারো রেগে যায়। উনি রেগেমেগে বললেন," ডিপার্টমেন্ট এর ইজ্জৎ শেষ করতে চাও নাকি। ডিপার্টমেন্ট এর লোকেরা একটা বাহিরের মানুষের সাহায্য নিচ্ছে। এইটা শুনলে ডিপার্টমেন্ট এর ইজ্জৎ কোথায় নামবে জানা আছে? আমি যা বলেছি তা করো। সবাই কাজে লেগে পড়ো। আর সুফিয়ান। তুমিও তোমার থানায় সিকিউরিটি বাড়াও। নয়তো আমি তোমাকে বান্দরবান ট্রান্সফার করতে বাধ্য হবো। "। সুফিয়ান দাঁড়িয়ে থাকে। মিটিং শেষ করে যে যার মতো চলে যায়। সুফিয়ান চেয়ারে বসে ভাবছে," কেনো যে রিয়াজের প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করেনি। ওরকম করলে আজ এই দিন দেখা লাগতো না।জান্নাতের মৃত্যুর দৃশ্য আবার সুফিয়ানের চোখে ভেসে উঠে। সুফিয়ান কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
আনিশার কাটা শরীর ফ্লোরে পড়ে আছে। সাইকো খুব যত্নসহকারে আনিশার দেহের প্রতিটি অংশ কেটে আলাদা করে নিয়েছে। এরপর সাইকো যায় সুস্মিতার রুমে। উলঙ্গ শরীর নিয়ে উল্টো ঝুলে আছে সুস্মিতা।
সাইকো সুস্মিতার রুমে এসে দরজা লক করে দেয়। এরপর ডান পাশে লেগে থাকা একটা চাকা ঘুরায় উল্টো। অর্থাৎ এই চাকা থেকে দড়ি গেছে রুমের উপরে একটা আংটার সাথে। আর আংটা ঘুরে দড়ি যায় সুস্মিতার পায়ে। চাকা উল্টো ঘুরালে দড়ি বড় হবে।এতে সুস্মিতার দেহ নিচের দিকে নামবে। এবং চাকা সামনে ঘুরালে দড়ি চাকাতে পেছিয়ে ছোট হবে। তাতে সুস্মিতার দেহ উপরের দিকে উঠবে। সাইকো দড়িটা উল্টো ঘুরিয়ে সুস্মিতার দেহ নিচে নামায়। অর্থাৎ সুস্মিতার মাথা ফ্লোরের সাথে হালকা করে লাগায়। এরপর আবার চাকা সামনে ঘুরায়। এতে আবার সুস্মিতার দেহ উপরে উঠতে শুরু করে। আবার চাকা উল্টো ঘুরায় সাইকো। অর্থাৎ সুস্মিতার দেহ একবার উপরে নিচ্ছে,একবার নিচে নামাচ্ছে। এতে সুস্মিতার পায়ে দড়ির আঘাতে প্রচুর ব্যাথা পাচ্ছিলো। তা দেখে সাইকো মজা নিচ্ছে। এইভাবে কয়েকবার উপর নিচু নামিয়ে সাইকো সুস্মিতার দেহ শেষমেশ উপরে তুলে নেয় আবার। এরপর দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। সুস্মিতার যেনো প্রাণ ফিরে আসে। এতক্ষণ পা যেনো তার ছিড়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু এই স্বস্থির নিশ্বাস বেশিক্ষণ থাকেনা।
আবার সাইকো দরজা খোলে,এবং এইবার সাথে নিয়ে আসে একটা বিশাল পাতিল( বিয়ের অনুষ্টানে যে বড় পাতিল ব্যাবহার করা হয় রান্নার কাজে। ওরকম বড় একটা পাতিল)।তবে ওসব পাতিলের নিচে লেভেল( সমতল) থাকলেও,সাইকোর হাতে থাকা পাতিলের নিচে তিনটা খুটি ছিলো।মানে পাতিল বসালে পাতিলের নিচেরটা ফ্লোর স্পর্শ করবেনা। শুধু খুটির উপরেই থাকবে পাতিল।এসব দেখে সুস্মিতা চটপট শুরু করে দেয়। উলঙ্গ দেহ নিয়ে চটপট করায় সুস্মিতার বুক ভারি বিশ্রী দেখাচ্ছিলো।
সাইকো পাতিলটা এনে সুস্মিতার মাথা বরাবর নিচে রাখে।এরপর রুম থেকে আবার বেরিয়ে যায়।সুস্মিতা কিছুই বুঝেনা। আবার প্রায় ১ মিনিট পর সাইকো সেই ভিডিও ক্যামেরা এবং স্ট্যান্ড আনে। এনে সুস্মিতার দিকে স্ট্যান্ড রেখে ভিডিও অন করে। সুস্মিতা আবার চটপট শুরু করে।এতে বুকের,থাক। বুঝতেই পারছেন।
বরাবরের মতো আবার সাইকো বেরিয়ে যায়। সুস্মিতা ভাবতেছে এইবার যানি কি নিয়ে আসে। ভাবতে ভাবতে সাইকো একটা ড্রাম নিয়ে আসে ( বড় ড্রাম গুলা,যেগুলো তৈলের দোকানে থাকে)। সুস্মিতা সাইকোর কাজ দেখে যাচ্ছে। সাইকো রুমে এসে ড্রামের মুখ খোলে। এরপর সেই পাতিলে ড্রামে থাকা সয়াবিন তৈল ঢালতে শুরু করে।
সুস্মিতা চটপট শুরু করে।এতে.. হ্যাঁ, ওটাই বলতাম।
সাইকো ড্রামের সব তৈল ঢেলে আবার বেরিয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে গ্যাসের চুলা আর গ্যাসের টাংকি নিয়ে আসে। আপনারা যা ভাবছেন ওইটাই। গ্যাসের চুলা পাতিলের নিচে দিয়ে চালু করে দেয়। খুটি থাকায় গ্যাসের চুলাটা অনায়াসে পাতিলের নিচে জায়গা পায়।আর তৈল গরম হওয়া শুরু করে। সাইকো তৈল গরম করতে দিয়ে চেয়ারে বসে সুস্মিতার শরীরের দিকে তাকিয়ে থাকে। সুস্মিতা পায়ের যন্ত্রণার পাশাপাশি নিচ থেকে উঠে আসা গরমের তাপে যেনো অর্ধমৃত হয়ে যাচ্ছে। এদিকে তৈল ধীরে ধীরে গরম হয়ে যায়।তৈলের বুদবুদ শব্দ সাইকোর কানে আসতেই সাইকো সেই চাকার কাছে যায়। এবং চাকা উল্টো ঘুরায় ধীরে ধীরে। সুস্মিতার দেহ ধীরে ধীরে পাতিলে থাকা গরম তৈলের দিকে নামছিলো। সুস্মিতা চিৎকার দিতে পারেনা। কারণ মুখে কালো প্লাস্টার দিয়ে পেছানো।
সাইকো সুস্মিতার দেহ নামাতে নামাতে গরম তৈল থেকে মাত্র ২ হাত উপরে স্টপ করে। সুস্মিতার চুলের কিছু অংশ গরম তৈলে চলে আসে। গরম তৈলের তাপে সুস্মিতার ঐ অংশের চুল পুড়ে পাতিলে হারিয়ে যায়। সাইকো ঐ অবস্থায় বক্স থেকে একটা ছুরি হাতে নিয়ে সুস্মিতার কাছে আসে। এরপর ঠান্ডা মাথায় সুস্মিতার নাভি বরাবর ছুরি নেয়। সুস্মিতা চটপট করা বন্ধ করে দেয়। কারণ নাড়াচাড়া করলে ছুরি অনায়াসে তার পেটে ঢুকে যাবে। সাইকো এসব দেখে ছুরিটা ধীরে ধীরে সুস্মিতার বুক বরাবর নিয়ে আসে। এরপর একটা স্তনের বুনি কেটে নেয়।
সুস্মিতা চিৎকার দিতে চেয়েও পারেনা। বুনি কাটা অংশটা তৈলের মধ্যে পড়তেই তৈলের বুদবুদ শব্দ বেড়ে যায়। যেনো গরম তৈলটা খাবার চাচ্ছে,মানুষের দেহ।
সাইকো ধীরে ধীরে ছুরিটা এইবার সুস্মিতার চোখ বরাবর আনে। সুস্মিতা ভয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। এইটা দেখে সাইকো ঘ্যাচাং ঘ্যাঁচ করে সুস্মিতার একটা চোখে ছুরির আঘাত করে বসে। ছুরির আঘাতে সুস্মিতার একটা চোখ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। সুস্মিতা চিৎকার দিতে পারেনা। কারণ তার মুখে কালো প্লাস্টার দিয়ে পেছানো।
এরপর সাইকো ছুরিটা ফ্লোরে ফেলে দেয়। আবার উল্টো ঘুরে বক্সের কাছে আসে। এবং বক্স থেকে একটা হাতুড়ি বের করে। সুস্মিতা এক চোখে দেখে,সাইকো হাতুড়ি নিয়ে তার দিকে আসছে। সুস্মিতা কিছু বুঝার আগেই, সাইকো সুস্মিতার হাটুতে হাতুড়ির আঘাতে, হাটুর হাড্ডি ভেঙ্গে ফেলে। সুস্মিতা চিৎকার দিতে চেয়েও পারেনা, কারণ তার মুখে কালো প্লাস্টার দিয়ে পেছানো।
এরপর সাইকো হাতুড়ি দিয়ে সুস্মিতার পেটে আঘাত করতে শুরু করে। সুস্মিতা চিৎকার দিতে চেয়েও পারেনা, কারণ তার মুখে কালো প্লাস্টার দিয়ে পেছানো।
এরপর সাইকো হাতুড়ি ফ্লোরে ফেলে দেয়। আবার উল্টো হেটে এসে চাকার কাছে আসে। এবং চাকাটা উল্টো ঘুরিয়ে সুস্মিতার বুক অব্দি গরম তৈলের মাঝে ঢুকিয়ে দেয়।
৫ সেকেন্ড।
বরাবর ৫ সেকেন্ড পরে সাইকো সুস্মিতার বুক অব্দি তৈলে থাকা দেহ উপরে তুলে নেয়। গরম তৈলে সুস্মিতার মুখে পেছানো প্লাস্টার পুড়ে যায়। শুধু প্লাস্টার নয়,গালের কিছু মাংস সহ,গলা, বুক পুড়ে যায়। কিন্তু সুস্মিতা মরেনি। এতোক্ষণ পরে মুখ খোলা পেয়ে সুস্মিতার মুখ থেকে একটা গলা ফাটানো চিৎকার ভেসে আসে। আর চিৎকারটা বের হতে না হতেই,সাইকো আবার চাকা উল্টো ঘুরায়। আর সুস্মিতার পুরো দেহে গরম তৈলের মাঝে ঢুবিয়ে দেয়।গরম তৈলের বুদবুদ শব্দ বেড়ে যায়। গরম তৈলে পা থাকা দড়ি পুড়ে যায়। সুস্মিতা সিদ্ধ হতে থাকে পাতিলে। সাইকোর মুখে এক চিমটি হাসি ফুটে উঠে।
নাজমুলের ডাকে রিয়াজ ঘুম থেকে উঠে। কয়েকদিন ভালো বিশ্রাম নিতে পারেনি। তাই মন মতো ঘুমিয়েছে রিয়াজ। এদিকে নাজমুল রিয়াজের হাতে একটা বই দেয়। রিয়াজ বইটা হাতে নিয়েই বলে," কি আছে এই বইয়ে"। নাজমুল বলে," পড়ে দেখ"। রিয়াজ বই খুলে দেখে পাতা পুরো সাদা। কোনো কিছুই লেখা নেই। অবাক দৃষ্টিতে নাজমুলের দিকে তাকাতেই নাজমুল বলে," ৭ নাম্বার পৃষ্টা দেখ"। রিয়াজ ৭ নাম্বার পৃষ্টা বের করতেই একটা ৭ লাইনের লেখা পায়। লেখাটা পড়েই রিয়াজের মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠে।
অন্যদিকে সাইকো বাড়ির সামনে একটা গর্ত খুড়ে। বিশাল একটা মাঠ। মাঠের এক পাশেই সাইকোর বাসা। আর এই বাড়ি ছাড়া আশেপাশে কোনো বাড়ি নেই।চারদিকে দূ-দূ মাঠ,আর জঙ্গল। গর্ত খুড়ে সাইকো কয়েকটা লাশের টুকরো গর্তে ফেলা শুরু করে। সেই মুহুর্তে একটা লাশের পেট নড়ে উঠে। অর্থাৎ শরীর কাটার পরেও রুহ যায়নি এখনো। সাইকো কোমর থেকে একটা ছুরি বের করে সে কাটা পেটে আঘাত করতে শুরু করে। আর তখনি,পেছন থেকে রিয়াজ বলে উঠে," লিমিটের মধ্যে থাক"।
চলবে........