#সাইকো_টাইম ( পর্ব-১৫)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
--------------------------
সাইকো কোমর থেকে একটা ছুরি বের করে সে কাটা পেটে আঘাত করতে শুরু করে। আর তখনি,পেছন থেকে রিয়াজ বলে উঠে," লিমিটের মধ্যে থাক"।
সাইকো পিছন ফিরে তাকালে,দেখে রিয়াজ দাঁড়িয়ে আছে। রিয়াজ মুচকি হেসে সাইকোর উদ্দেশ্যে বলে," আর কত খুন করবি। তোকে এতো সহজে ধরতে পারবো।তা আমি ভাবিও নি। তোর তো খেলা শেষ "। সাইকো পিছনে তাকানো অবস্থায় শুধু রিয়াজের কথাগুলো শুনেছে। অথচ সাইকোর কোনো রিয়েকশন নেই। সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রিয়াজ আবার বলে," এইবার তো হেলমেট খোল। দেখি তোর চাঁদ মুখ"। সাইকো এখনো রিয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে। রিয়াজের কথা শেষে, সাইকো আবার সামনের দিকে তাকিয়ে কাটা পেট'টা সাইডে রাখে। এরপর কোদাল দিয়ে গর্ত খুড়ায় মনযোগ বসায়। রিয়াজ অবাক হয়। কোনো রিয়েকশন নেই সাইকোর মধ্যে। যেনো রিয়াজকে দেখেও সে দেখেনি। রিয়াজ রাগে পাশে পড়ে থাকা একটা লাঠি হাতে নেয়। এরপর সাইকোর দিকে এগিয়ে আসতেই যাবে,তখনি নাজমুল পিছন থেকে ডাক দিয়ে বলে," রিয়াজ। সাইকো কোনো চালাকি করতেছে"। রিয়াজ নাজমুলের উদ্দেশ্যে বলে," আমি জানি। কিন্তু আজ সে যত চালাকি করবে করুক। ধরা তো খেয়েছে"। রিয়াজকে তবুও থামিয়ে দিয়ে নাজমুল সাইকোর দিকে পিস্তল টার্গেট করে। এরপর বলে," হেলমেট খোল।আর ধরা দে। তোর সময় শেষ "। অথচ সাইকো পিস্তলকেও ভয় পাচ্ছেনা।
নাজমুল ধীরে ধীরে সাইকোর দিকে এগিয়ে আসছে। সাইকো গর্ত খুড়ে এইবার লাশগুলো গর্তে ফেলা শুরু করে। নাজমুলের এতে প্রচুর রাগ হয়। আর সাইকোর পিঠে একটা গুলি মেরে দেয়।
পিঠে গুলি ঢুকার সাথে সাথেই সাইকো সেখানে বসে পড়ে। এবং সে বসে বসেই লাশগুলো গর্তে ফেলে যাচ্ছে। নাজমুল আর রিয়াজ এইবার পুরোপুরি অবাক। রিয়াজ রাগে নাজমুলের হাত থেকে পিস্তলটা কেড়ে নেয়। এরপর বলে," এই সাইকোকে আইনের হাতে তুলে দিলেও হয়তো বেচে যাবে। এইটাকে আমি খুন করে ফেলবো"। বলেই সাইকোর মাথা বরাবর রিয়াজ গুলি টার্গেট করে। তখনি সাইকো দুই হাত উপরে তুলে নেয়। রিয়াজ নাজমুলকে বলে," এতক্ষণে লাইনে এসেছে"। কথাটা শেষ হতে না হতে সাইকো হাতে থাকা ছুরিটা উল্টো ঘুরেই রিয়াজের দিকে মেরে দেয়। ছুরির গতি এতো বেশিই ছিলো যে,চোখের পলকে ছুরি রিয়াজের মুখের কাছে চলে আসে। এইটা দেখে নাজমুল রিয়াজকে বাচানোর জন্য ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। আর ছুরিটা ঢুকে যায় নাজমুলের বুকে।
এদিকে সাইকো একটা লাশের পেটে হাত ঢুকিয়ে একটা হাড্ডি বের করে ফেলে। রিয়াজ মাটিতে পড়ে যাওয়ায়,পিস্তল কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়ে। আর পিস্তল নিতেই যাবে,ততক্ষণে সাইকো দৌড়ে এসে রিয়াজের হাতে হাড্ডিটা ঢুকিয়ে দেয়। হাড্ডি রিয়াজের হাতের তালু ছেদ করে মাটিতেও ঢুকে গেছে। এদিকে রিয়াজ অন্য হাতে সাইকোর হেলমেটে ঘুষি মারতেই,সাইকো কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়ে। রিয়াজ অন্য হাত দিয়ে হাত থেকে হাড্ডিটা বের করে। এরপর সাইকোর কাছে এসে সাইকোর পা ধরে নেয়। সাইকো অন্য পায়ে লাথি মারতেই যাবে,তখনি রিয়াজ সাইকোর একটা পা মোচড় দেয়।ফলে রিয়াজও লাথি খায়,আর সাইকোর একটা পা মুচকে যায়। সাইকো তবুও শোয়া থেকে উঠে দাঁড়ায়। রিয়াজও সাইকোর সামনে উঠে দাঁড়ায়। সাইকো দেরি না করে রিয়াজের দিকে দৌড়ে আসতেই,রিয়াজ একটা লাফ মেরে সাইকোর পেটে লাথি মারে। লাথি খেয়ে সাইকো গর্তের কাছাকাছি চলে যায়। আর ওখান থেকে উঠেই, এক দৌড়ে তার বাড়ির দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। রিয়াজও দৌড় দিয়ে দরজার দিকে আসতে চাইলো,তখনি সাইকো মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দেয়। রিয়াজ দৌড়ের গতিতে দরজায় লাথি মারতেই,কাঠের দরজা ভেঙ্গে রিয়াজের পা দরজার অপর পাশে ঢুকে যায়। সুযোগ পেয়ে রুমের ভিতর থেকে সাইকো একটা রড নিয়ে রিয়াজের পায়ে সজোরে আঘাত করে। রিয়াজ চিৎকার মেরে পা বের করে নেয়। তখনি একটা শব্দ শুনে রিয়াজ। বাইকের শব্দ।
রিয়াজ আবার দরজায় লাথি মেরে দরজা ভেঙ্গে ফেলে। এরপর রুমে ঢুকতেই দেখে এইটা কোনো বাড়ি নয়। একটা হল রুম। অর্থাৎ বাহির থেকে এইটাকে একটা বাড়ির মতো দেখা গেলেও,ভিতরে কিছুই নেই। পুরো বাড়িতে উপরে উঠার কোনো সিড়ি নেই। সিড়ি বা আসবে কোথা থেকে।ফ্লোর থেকে উপরে একটা হল রুম মাত্র। রিয়াজ যে দরজা ভেঙ্গেছে,তার অপর প্রান্তে আরেকটা দরজা আছে। এবং দরজাটা খোলা। অর্থাৎ সাইকো বাইক নিয়ে পালিয়েছে। রিয়াজ " শিট "বলে ভাঙ্গা দরজায় আরেকটা লাথি মারে।রডের আঘাত পাওয়া পা, আবার ব্যাথায় টনটন করে উঠে।
ওদিকে ছুরির আঘাতে নাজমুল মাটিতে পড়ে আছে। রিয়াজ এক পায়ের প্রেশার দিয়ে, দৌড়ে গিয়ে নাজমুলকে ধরে। ছুরি প্রায় অর্ধেক নাজমুলের বুকে। রিয়াজ ছুরিটা এক টান দিয়ে বের করতেই,নাজমুল আৎকে উঠে। এরপর রিয়াজ নিজের গায়ের শার্ট খুলে,নাজমুলের বুক থেকে পিঠ পেছিয়ে রক্ত বন্ধ করে নেয়। এদিকে নাজমুল বলে," পালিয়েছে তাই না?"। রিয়াজ কিছুই বলেনা। নাজমুল আবার বলে,
-ওর বাড়িতে ক্লো থাকবে। চল প্রবেশ করা যাক।
- তোকে আগে হসপিটাল নেওয়া জরুরি।
- সমস্যা নেই। আমি মরে যাবো না। তোর হাত আর পা ঠিক কর আগে।
- এইটা কিছুই না। এরচেয়ে বড় আঘাত পাওয়া মানুষ আমি।
- ঠিক আছে। এখন চল। ভিতরে যাওয়া যাক।
রিয়াজ নাজমুলকে ধরে বাড়ির ভিতরে ঢুকে। কিন্তু এই হলরুমে কি খুজবে তারা। তখনি রিয়াজের চোখ যায়,ভিতরের কোনায় একটা ইট পড়ে আছে। পুরো বাড়িতে কিছুই নেই। এই একটা ইট যেহেতু আছে,তবে এখানে একটু সন্দেহ জাগে রিয়াজের। রিয়াজ ইটের কাছে এসে, ইট সরাতেই দেখে। ইটের নিচে একটা আংটা আছে। আংটা ধরে রিয়াজ টান মারতেই দেখে,ওটা কোনো আংটা নয়। মাটির নিচে একটা গোপন দরজা। এবং ভিতর থেকে লাইটের আলো আসছে। রিয়াজ নাজমুলের দিকে তাকালে,নাজমুল বলে" ভেবে লাভ কি। নেমে যাই"।
দুজনেই মাটির নিচে সেই রুমে সিড়ি দিয়ে নেমে আসে। এখানেও একটা হল রুম। তবে একটু ভিন্ন। রুমে কিছু না থাকলেও,দেওয়ালের সাথে অসংখ্যক দরজা আছে। তাদের মাথার উপরে শুধু একটা লাইট জ্বলে। রিয়াজ সাহস করে একটা দরজা খুলতেই দেখে,পুরো রুম ফাকা। এরপর একটা একটা করে সব দরজা খোলা শুরু করে রিয়াজ। সবগুলো রুম ফাকা।
রিয়াজ একটু অবাক হয়ে নাজমুলের দিকে তাকায়। নাজমুলও চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। রিয়াজ আবার কি মনে করে,প্রত্যেকটা রুম আবার চেক করা শুরু করে। এবং একটা রুমের সামনে গিয়ে নাজমুলকে বলে" পেয়ে গেছি"। নাজমুল এসে দেখে,একটা রুমের কোনায় আরো একটি ইট। উপরের মতো তারা এই ইট সরালে,সেম আংটা পায়। অর্থাৎ মাটির নিচে আরো একটি রুম।
রিয়াজ আর নাজমুল সিড়ি দিয়ে, ওটায় প্রবেশ করে।কিন্তু এইবার একটু ইউনিক দেখে। এখানে সোফা আছে। টিভি আছে।মদের গ্লাস আছে,মদ আছে। সিগারেট এর প্যাকেটও আছে। দুজনেই একটু ভালোভাবে তাকালে দেখে,পূর্ব পাশের দেওয়ালে একটা দরজা দেখা যায়। দুজনেই কিছু না ভেবে সেই দরজা খোলে। আর দেখে,লম্বা একটা গলি। গলির দুই পাশের দেওয়ালে, অনেকগুলো দরজা। দুজনেই গলিতে প্রবেশ করে নেয়। এবং প্রথম দরজাটা খুলে দেখে,রুমে নিম নিম করে একটা লাইট জ্বলছে। এবং কয়েকটি কাটা হাত-পা ফ্লোরে পড়ে আছে।কিন্তু রিয়াজের মাথা এইবার ঘুরায় না। জ্ঞানও হারাচ্ছেনা।রিয়াজ নাজমুলকে বলে," হয়তো পরিবার হারানোর রাগে আমার ঐ রোগটা ভালো হয়ে গেছে"। নাজমুল হ্যাঁ সূচক ইঙ্গিত দেয়।এরপর তারা ওটা বাদ দিয়ে পরবর্তী রুমে গেলে দেখে,এখানে একটা জীবিত মেয়ে চেয়ারে বসে ঘুমাচ্ছে। রিয়াজ আর নাজমুল দৌড়ে গিয়ে মেয়েটার কাছে যায়। এরপর কয়েকবার ডাক দিতেই মেয়েটা জেগে উঠে, আর ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে।রিয়াজ আর নাজমুল মেয়েটার হাতের বাধন খুলে দেয়। এরপর মেয়েটাকে নিয়েই পরের রুমে যায়। সেখানেও একটা জীবিত মেয়েকে পায় তারা। তাকেও সাথে নিয়ে পরের রুমে যেতেই,একটা মেয়ের কাটা দেহ দেখে। ঐ রুম ত্যাগ করে পরের রুমে গিয়ে দেখে,সুস্মিতার পোড়া দেহ ফ্লোরে পড়ে আছে। যদিও তারা কেও সুস্মিতাকে চিনেনা। এইভাবে তারা প্রত্যেকটা রুম চেক করতে শুরু করে। কিছু রুমে গ্যাসের বোতল,কিছু রুমে মেয়েদের কাটাছেঁড়া বডি,আর কিছু রুমে জীবিত মেয়ে। মোট ১৭ জন মেয়েকে উদ্ধার করে রিয়াজ এবং নাজমুল। খুজতে খুজতে তারা একটি আলাদা রুমে ঢুকে। সেখানে দেখে ৪ টা বক্স, আর অনেকগুলো অস্র। প্রত্যেকটা বক্সে তো অস্র ছিলোই। বক্স বাদে পুরো রুমেই কুড়াল,ছুরি,পিস্তল,তলোয়ার,কেচি ইত্যাদি পায়। ১৭ জন মেয়েকে নিয়ে রিয়াজ আর নাজমুল সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর একেবারে উপরের হল রুমে এসে নাজমুল থানায় কল দেয়। থানা থেকে পুলিশের এর লোকজন রওনা করেছে।
এদিকে বাড়ির সামনে সেই ১৭ জন মেয়েকে নিয়ে রিয়াজ আর নাজমুল বসে থাকে। নাজমুল বলে,
- একটা জিনিস বুঝলাম না। সাইকো এতো নিচে নিশ্বাস নিতো কিভাবে। আর টিভি চালাতো কিভাবে?
- প্রত্যেক রুমের উপরে একটা একটা পাইপ দেখেছি আমি। যেটা লাইটের তার সংযোগের জন্য লাগানো হয়েছে। কিন্তু সেটি লাইটের তারের জন্যেই নয়। ওটা অক্সিজেন সার্বাহ করে।
- মানে? কিভাবে
- প্রত্যেক রুমে ঢুকার সাথে সাথে আমি আলাদা রকমের বাতাস পেয়েছি। যেটা এতো নিচে থাকার কথা না। পাইপের মাথা গুলা হয়তো বাড়ির দেওয়ালের সাথে লাগানো। ছাদের দিকেও হতে পারে।
- তাও তো সম্ভব না। পাইপ দিয়ে এতো নিচে এইভাবে অক্সিজেন নেওয়া কি সম্ভব?
- অন্য পথ নিশ্চয়ই আছে। ডিপার্টমেন্ট এর লোক তা বের করবে। আপাতত ওখানে অস্র আর এদের ছাড়া কিছুই তো পাইনি।
কথা বলার মাঝে রিয়াজ একটা মেয়েকে ডাক দেয়। মেয়েটা রিয়াজের কাছে আসতেই রিয়াজ তাকে জিজ্ঞেস করে,
- তোমাকে কিভাবে আনা হয়েছে।
- ভাইয়া,আমি কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় খেয়াল করি একটা বাইক আমার পিছন পিছন ফলো করছে। আমার সন্দেহ হয়। তার মাথায় হেলমেট ছিলো,তাই চেহারা দেখিনি। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই আমি খেয়াল করি বাইকটা নেই আমার পিছনে। কিছুক্ষণ এদিক সেদিক তাকিয়ে যখন দেখি আসলেই বাইকটা নেই। তখন আর নজর না দিয়ে বাড়িতে চলে আসি।
কিন্তু বাড়ির সামনে এসে দেখি,বাইকটা আমার বাড়ির দরজায়। আমি অবাক হয়ে যাই। এরপর দৌড়ে বাড়ির দরজা খুলতেই, সেই হেলমেট পড়া লোকটা আমার কপালে একটা ঘুষি মারে। তার হাতে একটা লোহার কিছু ছিলো। এই দেখুন,ঘুষিতে আমার কপাল এখনো ফাটা।
- উহ,এইটা অনেকটাই ফেটেছে
- হ্যাঁ ভাইয়া। আমি পরে খেয়াল করি লোকটা আমাকে ভিতরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। আর আমি মাথার আঘাতে জ্ঞান হারাচ্ছিলাম। জ্ঞান হারাবার আগে আমি যা দেখি,সেটি আমাকে আরো দুর্বল করে দেয়। আমি খেয়াল করি আমার আব্বু আর আম্মুকে সে আগেই খুন করে দরজার পাশে ফেলে রেখেছিলো। হয়তো এতোদিনে আমার বাবা মার লাশ পচে গেছে। কেও জানেও না হয়তো।
কথাগুলো বলেই মেয়েটা কেদে দেয়। রিয়াজ মেয়েটাকে শান্তনা দিয়ে বসায়। এরপর একজন একজন করে সবাইকে জিজ্ঞেস করে রিয়াজ। রিয়াজ বুঝে নেয়,সাইকো সবাইকেই আগে টার্গেট করতো। হুটহাট কাওকে কিডন্যাপ করেনি। অনেক ভেবে,ইনফরমেশন নিয়ে তারপর কিডন্যাপ করেছে।
এদিকে ডিপার্টমেন্টের লোক এসে হাজির হয়। ওরা রিয়াজকে দেখেই পিস্তল সোজা করলে,সুফিয়ান বলে," রিয়াজকে কেও কিছু করবেনা"। এরপর সুফিয়ান রিয়াজের কাছে এসে বলে," আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি তোর ব্যাপারটা সামলাচ্ছি। আমি জানি সব আমার কারণেই হয়েছে। তুই নিশ্চিন্তে বাড়িতে যা। বাকিটা আমি সামাল দিচ্ছি।ফ্রী হয়ে তোর সাথে দেখা করবো"। রিয়াজ আর কিছুই বলেনা।সুফিয়ানের সামনে এসে,সুফিয়ানের পকেট থেকে ফোনটা বের করে। এরপর নাজমুলের নাম্বারটা তুলে সেভ করে। আবার তার ফোন হাতে দিয়ে বলে," ঝামেলা শেষ করে কল দিস"। পরে সব মেয়েদের সুফিয়ানের হাতে তুলে দিয়ে চলে আসে তারা।
বিকেল ৩ টা।
রিয়াজ আর নাজমুল ছাদে বসে সিগারেট খাচ্ছে। রিয়াজের হাতে আর পায়ে ব্যান্ডেজ। আবার নাজমুলের বুকেও ব্যান্ডেজ। দুজনেই দুজনের হাল দেখে হেসে যাচ্ছে। এতো কিছু করলো,অথচ সাইকোকে হাতের নাগালে পেয়েও ধরতে পারেনি। নাজমুল হেসে হেসে বলে,
- তবে একটা জিনিস বুঝলাম না। বইটা বাড়ির সামনে রেখে গেছে কে।
- এইটা তো আমিও ভাবছি। অন্য কেও কি আছে? যে আমাদের সাহায্য করতে চায়? সাইকোর বাড়ির ঠিকানা পুরোপুরি লিখে কে পাঠালো আমাদের। তাছাড়া ৭ নাম্বার পৃষ্টার ৭ লাইনের অর্থ সে ৭ নাম্বারের ইঙ্গিত দিয়েছে। সব ঘটনার সাথে ৭ সংখ্যাটার কোনো ক্লু দেয়নি তো?
- আমার মনে হচ্ছে আড়াল থেকে কেও আমাদের সাহায্য করতেছে। কিন্তু সে কে। আর আমার বাসার ঠিকানা সে জানে কিভাবে। এইটা আবার কোন নতুন প্যাচ বুঝলাম না। তবে সে আমাদের সাহায্য করেছে এইটা তো শিওর।
কথার মাঝেই সুফিয়ান রিয়াজকে কল দেয়। রিয়াজ কলটা রিসিভ করে, এবং লাউডস্পিকারে রাখে। ওপাশ থেকে সুফিয়ান বলে," ফ্রী হলাম।কল দিতে বলেছিলি"। রিয়াজ একটু চুপ থেকে বলে,
- কি কি কাজ করে ফ্রী হইলি।
- সব মেয়েদের ঠিকানা অনুযায়ী পাঠিয়ে দিয়েছি। একজনের মা - বাবা খুন হয়েছে,তাদের লাশ মর্গে এনেছি। সাইকোর বাসা থেকে সব অস্র উদ্ধার করেছি। একটা ক্যামেরা পেয়েছি,যেটার মেমোরি টিভির সাথে যুক্ত ছিলো। মেয়েদের লাশ মর্গে নেওয়ার ব্যবস্থা করলাম,একটা চোরা সুড়ঙ্গ বের করেছি।যার ভিতরে বড় একটা পাইপ ছিলো। ওটার দ্বারা সাইকো অক্সিজেন আনতো। আর বাড়ির পিছনে থাকা বাইকটাও আয়াত্তে এনেছি।অন্যা...
- ওয়েট ওয়েট, বাইক পেয়েছিস মানে?
- হ্যাঁ, সেই কালো বাইকটা। যেটা সাইকোর কাছে থাকতো।
- হোয়াট? ওটা কোথায় ছিলো?
- কেনো,বাড়ির পিছনে যে দরজা ছিলো। ওটার পাশে বাহিরে।
- অহ নো, যে ১৭ জন মেয়ে উদ্ধার হয়েছে,তারা কি সবাই চলে গেছে?
- হ্যাঁ, যার যার গার্ডিয়ান এসে তাদের নিয়ে গেছে। শুধু ২ টা মেয়ের গার্ডিয়ান আসেনি। তাদের মা বাবা দেশের বাহিরে থাকে।ওরা দারোগার সাথে গিয়েছিলো। দারোগা তাদের বাড়িতে পৌছে দিয়েছে।
- ওহ মাই গড। ওয়েট,থানায় থাক। আমি এক্ষুনি আসতেছি।
রিয়াজ আর নাজমুল দ্রুত বসা থেকে উঠে দৌড় লাগায়। নাজমুলের দামি গাড়িটা নিয়ে দুজনে রওনা করে থানার দিকে।
যেতে যেতে নাজমুল রিয়াজকে বলে,
- তারমানে ঐ ১৭ জনের মধ্যেই সাইকো ছিলো? সাইকো একটা মেয়ে?
- জানিনা। যেহেতু বাইকটা বাড়ির বাহিরে ছিলো। তারমানে সাইকো কোথাও যায়নি। আমাদের সাথে গেম খেলেছে। আগে থানায় যাই,এরপর বুঝে নিবো।
১০ মিনিট পর।
থানার সামনে রিয়াজ আর নাজমুল এসেই গাড়িটা হার্ডব্রেক করে। এরপর দৌড়ে থানায় প্রবেশ করে। সুফিয়ান কিছু বলার আগে রিয়াজ সুফিয়ানকে বলে," কোন দারোগাকে পাঠিয়েছিস"। সুফিয়ান তাড়াতাড়ি সেই দারোগাকে ডাক দেয়। রিয়াজ তাকে নিয়ে দ্রুত থানা থেকে বের হয়। ওদিকে সুফিয়ানও তাদের পিছনে গাড়ি নিয়ে রওনা করে।
দারোগার কথামতো ধনিয়া পাড়ার, ২ নং গলির মধ্যে ৫৩ নাম্বার বাসাটা ঐ দুইটা মেয়ের মধ্যে একজনের। তারা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেই বাড়ির সামনে আসে। আর এসে হতভম্ব হয়ে যায়। কারণ,এই বাড়ির মালিকের কোনো মেয়েই নেই।
তারা আবার রওনা করে দ্বিতীয় বাড়ির উদ্দেশ্যে। কিন্তু ওটা সঠিক ছিলো। ওর বাসায় মেয়ের মামা,চাচা,খালা,খালু সবাই চলে আসে। অর্থাৎ সাইকো সেই মেয়েটাই। যে মেয়ে ভুল তথ্য দিয়ে ডিপার্টমেন্টকে চুনকালি মাখিয়েছে। শুধু ডিপার্টমেন্টকেই নয়। রিয়াজ আর নাজমুলকেও চুনকালি মাখিয়েছে। রিয়াজ রাগে জোরে একটা লাথি মারে নাজমুলের গাড়িতে। নাজমুল এসে রিয়াজকে বলে," ব্যাপার না। আমাদের এখন তাকে খোজা উচিৎ, যে আমাদের সাইকোর ঠিকানা দিয়েছিলো"।
হতাশ হয়ে রিয়াজ আর নাজমুল বাড়িতে ফিরে আসে। আর এসেই তারা অবাক হয়ে যায়। বাড়ির সামনে একটা মেয়ের লাশ পড়ে আছে। রিয়াজ লাশের দিকে তাকিয়ে অবাক,মেয়েটার মাথা আর শরীর আলাদা। মৃতদেহের হাতে একটা বইও আছে। রিয়াজ দৌড়ে এসে বইটা হাতে নেয়। কিন্তু এইবার ৭ নাম্বার পৃষ্টায় নয়,৬ নাম্বার পৃষ্টায় ৬টা শব্দে লেখা," ভুলের মাসুল সে দিয়েছে,প্রস্তুত থাক"।
চলবে............