#সাইকো_টাইম ( পর্ব-১৭)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
-----------------------
বিজলী চমকাচ্ছে। বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি। চারপাশে অন্ধকার। এমন পরিস্থিতিতে বিজলির আলোতে একটা অবয়বকে দেখা যায় নাজমুলের বাসায়। তার হাতে একটা ছুরি,গায়ে কালো জ্যাকেট এবং মাথায় হেলমেট। বাড়িতে ঘুমাচ্ছে রিয়াজের মা,বোন,আর ফাহিম। রিয়াজরা রাস্তায়।যেনো রাত্রিটা একটি ভয়ানক রুপ ধারণ করে নিয়েছে।
রিয়াজ মৃত সাইকোটাকে রাস্তায় ফেলে গাড়িতে উঠে বসে। এদিকে নাজমুলও গাড়িতে এসে বসে। দুজনেই ভিজে একাকার। বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি। তার পাশাপাশি বিজলী চমকানো বাদ যাচ্ছেনা। নাজমুল ধীর স্বরে রিয়াজকে বলে," এখন কি করবি"। রিয়াজ কিছুক্ষণ চুপ থেকে কিছু ভাবে। এরপর নাজমুলকে বলে," সাইকোটাকে আরো কড়াভাবে মারা উচিৎ ছিলো। সে ছুরি মেরেছে তিনবার। আমিও আঘাত করেছি। কিন্তু তাকে উলঙ্গ করে,এরপর লিঙ্গ কেটে ফেলে রাখা উচিৎ। তবেই এদের দলরা বুঝতে পারবে তাদের কপালে কি অপেক্ষা করছে"। রিয়াজের কথা শুনে নাজমুল বলে," সাইকোদের কোনো নির্দিষ্ট গুষ্টি বা মানুষ থাকেনা। এরা জাত/জাতী বিবেচনা করে হত্যা চালায়। আপাতত যা বুঝলাম তারা মেয়েদের আক্রমণ করে। এবং মেয়েদের হত্যা করে শান্তি পায়। কেনো করে বা এর পিছনের রহস্য আমরা জানিনা। কিন্তু এরা সহজে কারো পিছু নিলে ছাড়েনা এইটা শিওর। আপাতত সাইকোর টার্গেট মেয়েরা।এইখানে এই সাইকোকে, তাদের মতোই যন্ত্রণা দিয়ে খুন করলে বিপদ হতে পারে বেশি। যদি ওদের টার্গেট তুই হয়ে যাস। তবে তো তোকে সহ তোর পরিবারকে খুন করেই ছাড়বে"। কথাটা শুনেই রিয়াজ চমকে উঠে। এরপর বলে," ওয়েট, বাসায় এখন কে আছে?"। নাজমুলও অবাক হয়ে যায়। বাসায় যে রিয়াজের মা,বোন আর ফাহিম একা। এইটা ওদের মাথায় মোটেই ছিলো না। রিয়াজ নাজমুলকে আবার বলে," সাইকোর টার্গেট তো আমি হয়ে গেছি হয়তো। মায়া আর রিমাকে খুন করা,অন্যদিকে একটা সাইকোকে দিয়ে আমার উপর নজর রাখার অর্থ তো সাইকো আমাকেই টার্গেট করেছে। তাছাড়া তার বাড়ি আমি ফাস করে দিয়েছি।তাড়াতাড়ি বাড়িতে যা। আমার পরিবারের বাকিদের খুন করে দিবে সাইকো"। নাজমুল আর এক মুহুর্ত অপেক্ষা করেনি। বাতাসের বেগে গাড়ি স্টার্ট করে বাড়ির উদ্দেশ্যে যেতে থাকে।
এদিকে ছুরি হাতে, অন্ধকার রুমে সেই অবয়বটা হেটে হেটে একটা দরজার সামনে দাঁড়ায়। এরপর সেই দরজার বাহির থেকে ঢক ঢক আওয়াজ করতেই,ভিতর থেকে রিয়াজের বোন উত্তর দেয়," কে..?"। বাহির থেকে কারো শব্দ না শুনে রিয়াজের বোন এসে দরজা খোলে। আর তখনি দেখে,হাতে ছুরি,গায়ে কালো জ্যাকেট আর হেলমেট পরিহিত সেই সাইকো।
রিয়াজ আর নাজমুল দ্রুত এসে বাড়ির সামনে গাড়ি ব্রেক করে। যেনো গাড়ির চাকা থামার আগেই রিয়াজ কারের দরজা খুলে বেরিয়ে আসে। এরপর দৌড়ে বাড়ির দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। এতেই রিয়াজের চোখ কপালে উঠার অবস্থা। নাজমুলও পিছন পিছন এসে দেখে মেইন দরজা খোলা। রিয়াজ নাজমুলকে বলে," তোকে বলেছিলাম বাড়িতে থাকতে। বের হবার সময় দরজা বন্ধ করিস নি। "। নাজমুল কিছু না বলে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। রিয়াজ আবার দৌড়ে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে। কারেন্ট নেই,বিজলি চমকানোর আলোয় যা দেখা যায়,সেই অনুযায়ী দৌড়াচ্ছে। রিয়াজ তার মায়ের রুমে গিয়েই তার মা'কে জোরে জোরে ডাকতে থাকে। রিয়াজের মা তাড়াহুড়ো করে দরজা খোলে।এতে স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে রিয়াজ। এরপর রিয়াজ দৌড়ে যায় ফাহিমের রুমে। নাজমুল পিছন পিছন মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে আসে। রিয়াজের ডাকাডাকিতে ফাহিমও দৌড়ে এসে দরজা খোলে। এইটাও নিশ্চিত হয়ে রিয়াজ দৌড়ে যায় তার বোনের রুমে। আর দেখে,দরজা খোলা। রুমের দরজা খোলা দেখে রিয়াজের যেনো শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। রুমের ভিতর আর ঢুকার সাহস করেনা রিয়াজ। নাজমুল ধীরে ধীরে ফ্ল্যাশের আলোয় রুমে ঢুকে। এরপর পুরো রুম চেক করে রিয়াজের দিকে তাকায়। রিয়াজ দরজার বাহির থেকে নাজমুলের দিকে তাকিয়ে থাকে। নাজমুল মাথা নাড়িয়ে বুঝিয়ে দেয় যে," তার বোন রুমে নেই"।
রিয়াজ মুখে হাত দিয়ে ধীরে ধীরে পিছনে আসতে থাকে। এরপর জানালার সাথে হেলান দিয়ে ধীরে ধীরে ফ্লোরে বসে পড়ে। আর বসার সময় রিয়াজ দেখে,জানালার বাহির থেকে লাইটের আলো আসছে। মানে অন্যান্য সব বাড়িতে কারেন্ট আছে। শুধুমাত্র রিয়াজদের বাড়িতেই নেই। রিয়াজ আইডিয়া করে নেয়,ওরা বাড়ি থেকে বের হতেই সাইকো এই বাড়িতে প্রবেশ করে।আর গাছ থেকে ঐ সাইকো ভুল করে পড়েনি। সে ইচ্ছাকৃত পড়েছে। যাতে রিয়াজ তাকে ধাওয়া করে। আর এই সুযোগে আরেকটা সাইকো তাদের বাড়িতে ঢুকেছে। এবং এই বাড়ির কারেন্টের লাইন কেটে দিয়ে রিয়াজের বোনকে নিয়ে যায়। রিয়াজ ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এদিকে রিয়াজের মা আর ভাই এসে দাঁড়ায়। তারা সব ঘটনা বুঝতে পারে। এরপর কি হবে, তা তো বুঝেন। অর্থাৎ কান্নার আভাস।
ধীরে ধীরে রিয়াজ তার পরিবার থেকে সবাইকে হারিয়ে ফেলতেছে। নিজের স্ত্রী, নিজের সন্তান,নিজের বাবা। এবং এখন নিজের বোন। যেনো তাদের জীবনে একটা অভিশাপ নেমে এলো।সাইকোটাকে একটা অভিশাপ হিসেবেই ধরে নিতে হচ্ছে। রিয়াজের এখন আর চোখের জলটা'ও বের হচ্ছেনা। যেনো তার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। একটা হতাশা ভাব তার মুখে লেগেই থাকে। রিয়াজ নাজমুলকে ধীর স্বরে বলে," তোর মোবাইলটা দে"। নাজমুল এসে রিয়াজকে ফোনটা দেয়। রিয়াজ ফোন হাতে নিয়ে সোজা সুফিয়ানের নাম্বার তুলতেই যাবে। কিন্তু কল দেবার আগে সুফিয়ান নিজেই রিয়াজকে কল দেয়। রিয়াজ কল রিসিভ করতেই সুফিয়ান বলে," একটা পেন ড্রাইভ পাওয়া গেছে রিয়াজ। এখানে যতজনকে সাইকো খুন করেছে। সবার ভিডিও ফুটেজ আছে"। রিয়াজ কথাটা শুনেই মাথা উঁচু করে নেয়। সুফিয়ান আবার বলে," হ্যাঁ, আমি জানি এখন তুই কি বলবি। ভাবি আর রিমার ভিডিওটা কাওকে দেখতে দেইনি। ভাবির হাত পা বাধা দেখেই, ভিডিওটা অফ করে দিছি। তোর কি পেনড্রাইভটা লাগবে?"। রিয়াজ কিছুক্ষণ চুপ মেরে থাকে। চোখ থেকে এইবার একটা জলরাশি গড়িয়ে পড়ে। রিয়াজ হাত দিয়ে পানিটা মুছে বলে," পেনড্রাইভ লাগবেনা। শুধু মায়া আর রিমার ফুটেজটা হোয়াটসঅ্যাপে দে"। সুফিয়ান রাজি হবার পর রিয়াজ আবার বলে," আর হ্যাঁ, কালুর মোড়ে একটা লাশ আছে। সাইকোর লাশ। ওটা পোস্টমর্টেমের জন্য নিয়ে যা"। কথাটা শুনে সুফিয়ান অবাক হয়ে বলে," সাইকোকে মেরে দিয়েছিস?"। রিয়াজ আবার জবাব দেয়," মাত্র একজনকে মেরেছি। আরো অনেকজন আছে। ওরা আমার বোনকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে। তুই আ''''''''''"""..।কথা শেষ না করতেই নাজমুলের ফোন অফ হয়ে যায়। চার্জ নেই। এদিকে সাইকো তো কারেন্টের লাইনও কেটে দিলো। নাজমুল ব্যাপারটা বুঝতে পারে।এরপর সে যায় কারেন্টের লাইনটা ঠিক করার জন্য। সম্ভবত মেইন সুইচে কোনো ঝামেলা করেছে সাইকো।
ভোর ৫ঃ৪১ মিনিট। রিয়াজের ঘুম ভাঙ্গে। ঝাপসা চোখে রিয়াজ কোনোভাবে চোখ খোলে। আর দেখে,রিয়াজের মা আর ফাহিম সোফায় বসে আছে। এখনো তাদের চোখেমুখে কান্নার চাপ।কিচিং রুম থেকে ঠুকঠাক শব্দ। অর্থাৎ নাজমুল খাবার বানাচ্ছে। রিয়াজ এখনো সেই জানালার পাশে বসে আছে। রাতে চিন্তা করতে করতে এখানেই ঘুমিয়ে গেছে। আর দ্বিতীয়ত সে মদ খেয়েছিলো। যার ইফ্যাক্ট দেরিতে হলেও,রিয়াজের ঘুম বাড়িয়ে দেয়। রিয়াজ কোনোভাবে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। রিয়াজকে উঠতে দেখে রিয়াজের মা আরো জোরে কেদে দেয়। এরপর উনিও সোফা থেকে উঠে, রিয়াজকে ধরে কান্না শুরু করে। রিয়াজও আবার ভেঙ্গে পড়ে। এইভাবে কিছুক্ষণ থেকে রিয়াজ সুফিয়ানকে কল দেওয়ার জন্য রান্না ঘরে যায়। কারণ ফোন নাজমুলের কাছে। রিয়াজ কিচিং রুমের দরজার কাছাকাছি যেতেই বুঝে,ভিতরে কারো গুনগুন কান্নার শব্দ শুনা যাচ্ছে। রিয়াজ ধীরে ধীরে দরজার কাছে গিয়ে উঁকি মেরে দেখে,রিয়াজের বোনের ছবি দেখে দেখে, নাজমুল কান্না করে যাচ্ছে। এক হাতে ফোন থাকলেও,অন্য হাতে নাজমুল চামচটা শুধু শুধু পাতিলে নাড়াচ্ছে। যাতে বাহির থেকে সবাই বুঝে নাজমুল রান্না করছে। উল্টো দরজা থাকায়, নাজমুল রিয়াজকে এখনো দেখেনি রিয়াজ নাজমুলের ফোনের দিকে আবার তাকাতেই দেখে,নাজমুল আর রিয়াজের বোনের এক সাথে তোলা কাপল ছবিও আছে। রিয়াজ বুঝে যায়,নাজমুল আর তার বোনের রিলেশন চলছিলো। তাও অনেক আগ থেকেই। কারণ ছবিগুলো ৩ বছর আগের। রিয়াজ গলা ঝাকিয়ে উঠতেই নাজমুল তাড়াহুড়ো করে ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে নেয়। এরপর চট করে চোখ মুছে রিয়াজকে হাসিখুশি বলে," কিরে। উঠেছিস? রান্না হয়ে গেছে।যা রুমে"। নাজমুলের কথা শুনে রিয়াজ ধীর স্বরে বলে,"কদিন থেকে চলছে"?। নাজমুল বুঝে যায় রিয়াজ সব দেখে নিয়েছে। এরপর নাজমুলও ধীরে স্বরে বলে,
- সেই ৬ বছর থেকে। যখন তুই আর আমি আমেরিকায় জব করতাম।
- আমাকে জানাস নি কেনো।
- তোর বোন মানা করেছিলো। ওর পড়াশুনা শেষ করেই সে নিজে তোকে জানাতো।
রিয়াজ দৌড়ে এসে নাজমুলকে ঝড়িয়ে ধরে এইবার হুড়হুড় করে কান্না করে দেয়। গলা ছেড়ে এইবার রিয়াজ কান্না শুরু করে। এই কান্নার শব্দগুলো সাধারণ কান্নার নয়।অনেক ভিতর থেকে আসে এই কান্না। অনেক আঘাতের প্রতিফলন শুনা যায় এই কান্নায়। যদি আপনার কোনো প্রিয় মানুষ মৃত্যু বরণ করে। তখন আপনি বুঝতে পারবেন,এই ধরণের কান্নাটা কোথা থেকে আসে।
কিছুক্ষণ পর রিয়াজ নাজমুলকে ছেড়ে ওয়াশরুমে যায় ফ্রেশ হবার জন্য। নাজমুল কান্না করতে করতে রান্না শেষ করে।আর ড্রইংরুমে খাবার নিয়ে আসে। ততক্ষণে রিয়াজও চলে আসে। রিয়াজের মা খাবার খেতে কোনোভাবে রাজি নয়। এই অবস্থায় কে বা খেতে চায়। তবুও রিয়াজ জোর করে একটা রুটির অর্ধেক খাইয়ে দেয়। তখনি সেখানে চলে আসে সুফিয়ান। সুফিয়ান এসেই রিয়াজকে বলে,
- কি ব্যাপার। কাল রাতে কথা শেষ না করেই ফোন কেটে দিলি কেন। এরপর এতো কল দিলাম ফোনই বন্ধ।
- চার্জ শেষ হয়েছিলো।
- ওও আচ্ছা বুঝলাম।কিন্তু কোনো একটা সাইকোর লাশের কথা বলেছিলি। কালুর মোড়ের মধ্যে নাকি?
- হ্যাঁ, ওটা উদ্ধার করিস নি?
- ওখানে কোনো লাশ থাকলে তো উদ্ধার করতাম। কোনো লাশ নেই ওখানে।
- মানে? একটা গলায় আঘাত পাওয়া সাইকো,ভাঙ্গা বাইক। আবার একটা মরা কুকুর। কিছুই নেই।
- হ্যাঁ, মরা কুকুরটা পেয়েছি। কিন্তু বাইক আর লাশ আসলো কোথা থেকে।ওসব তো কিছুই ছিলো না।
রিয়াজ আর নাজমুল কথাটা শুনে অবাক হয়। সুফিয়ানও অবাক হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এইভাবেই চিন্তা করতে করতে সেই দিনটাও পার হয়ে যায়।কারণ এখন তাদের কাছে কোনো ক্লু নেই। কোনোভাবে সাইকোর কাছে যাবার রাস্তাও নেই।
বিকেল ঘনিয়ে আসে।রিয়াজের বোনের কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি। রিয়াজ ড্রইংরুমে বসে মদ খাচ্ছে। অন্যরুমে রিয়াজের মা কান্না করছে,আর শান্তনা দিচ্ছে ফাহিম এবং নাজমুল। রিয়াজ ডিপ্রেশনে মদ একের পর এক খেতেই থাকে। আর ঠিক তখন,রিয়াজ দেখে।
জানালার বাহিরে সাইকো দাডিয়ে আছে। হেলমেট আর কালো জ্যাকেট পড়া। রিয়াজ বসা থেকে উঠতেই যাবে,তখনি সাইকোটা হেলমেট খুলে নেয়। আর তা দেখেই,রিয়াজ আবার সোফায় বসে যায়। রিয়াজের চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
ভূত...ভূত... ভূত....
রিয়াজের চিৎকার শুনেই নাজমুল, ফাহিম আর রিয়াজের মা দৌড়ে আসে ড্রইংরুমে।নাজমুল দৌড়ে এসে বলে," কই ভূত"। রিয়াজের সারা দেহ থরথর করে কাপছে। ভয়ের কন্ঠে রিয়াজ বলে," কাল রাতে যে সাইকোকে আমরা খুন করেছি। সেই সাইকো জীবন্ত অবস্থায় জানালার বাহিরে এসেছে। আমার চিৎকার শুনেই আবার সরে গেছে"।
রিয়াজের কথা শুনে নাজমুল দৌড়ে মেইন দরজার বাহিরে যায়। দেখে কেও নেই।
চলবে..........