#সাইকো_টাইম ( পর্ব-১৮)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
----------------------------
ভূত...ভূত... ভূত....
রিয়াজের চিৎকার শুনেই নাজমুল, ফাহিম আর রিয়াজের মা দৌড়ে আসে ড্রইংরুমে।নাজমুল দৌড়ে এসে বলে," কই ভূত"। রিয়াজের সারা দেহ থরথর করে কাপছে। ভয়ের কন্ঠে রিয়াজ বলে," কাল রাতে যে সাইকোকে আমরা খুন করেছি। সেই সাইকো জীবন্ত অবস্থায় জানালার বাহিরে এসেছে। আমার চিৎকার শুনেই আবার সরে গেছে"।
রিয়াজের কথা শুনে নাজমুল দৌড়ে মেইন দরজার বাহিরে যায়। দেখে কেও নেই।
আরেকটু চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখে কেও নেই। তাই নাজমুল আবার দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর আবার রিয়াজের কাছে ফিরে আসে। টেবিলের উপর পড়ে থাকা মদের বোতল দেখে, নাজমুল আইডিয়া করে নেয় রিয়াজ নেশার ঘোরে ভুল দেখেছে। তাই কিছু না বলে রিয়াজের পাশে এসে বসে। রিয়াজ ভয়ার্ত চাহনিতে সোফার কোনায় বসে কাপছে। নাজমুলের চোখের ইশারায় রিয়াজের মা'ও কিছু বলেনা। রিয়াজকে ঘুমানোর কথা বলতেই যাবে নাজমুল, তখনি কারো কলিং বেল বাজানোর শব্দ ভেসে আসে। সবার চোখ সোজা দরজা বরাবর। এদিকে মাতাল চোখে রিয়াজের ভয় যেনো আরো বেড়ে যায়। নাজমুল আবার সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায়। সবার চোখে ভয়ের আভাস। নাজমুল ধীরে পায়ে হেটে গিয়ে দরজা খোলে। এরপর দেখে, দরজার সামনে রিয়াজের বোনের লাশ পড়ে আছে।
নাজমুলের চোখ যেনো কপালে উঠে যায়। ভয়ে সেখানেই পড়ে যায়। আর সাথে সাথে জ্ঞান হারায় নাজমুল। এসব দেখে ফাহিম আর রিয়াজের মা দৌড়ে আসে দরজার সামনে। আর ওরাও এসে দেখে রিয়াজের বোনের কাটা দেহ দরজার সামনে পড়ে আছে। শুধু মাথাটার মধ্যে কোনো আঘাত নেই। বাকি পেট কাটা,হাত কাটা,পা কাটা। প্রতিটি অঙ্গ আলাদা আলাদা। শুধু মুখটায় কোনো আঘাত করেনি। যাতে চিহ্ন করতে পারে। যখন রিয়াজের বোনের লাশ দেখে,রিয়াজের মা'ও চিৎকার মেরে কান্না শুরু করে। রিয়াজের আর বুঝতে বাকি রয়নি এইটা তার বোনের লাশ।
রিয়াজ আর নাজমুল সামনে। পিছনে এলাকার কিছু মুরুব্বি। রিয়াজের বোনের লাশকে নিয়ে যাচ্ছে কবর দেওয়ার জন্য। এইবার রিয়াজের পাশে মোটামুটি এলাকার মানুষ সাপোর্ট দেয়। যেহেতু রিয়াজ নির্দোষ প্রমাণ হয়েছে। কবরস্থানে গিয়ে রিয়াজের বোনকে সুন্দর ভাবেই জানাযা পড়ে কবর দেওয়া হয়। রিয়াজের বুক ফেটে কান্না বের হচ্ছে ঠিকি,কিন্তু এখন আর উপরে প্রকাশ করেনা। রিয়াজের ভিতরে কষ্টের আঘাত এতোটাই ঘায়েল করে নিয়েছে যে,এখন সেটি কন্ট্রোল করার ক্ষমতা রিয়াজের আছে। চুপচাপ বোনের কবরে মাটি দিয়ে নাজমুল সহ আবার ফিরে আসে বাসায়। নাজমুলের বাড়িতেই তারা। রিয়াজ বাসায় এসে নাজমুলকে বলে," দুই মিনিট নিচে দাড়া। আমি আসতেছি"। কথাটা বলেই রিয়াজ নাজমুলের রুমে চলে যায়। রিয়াজের মা সোফায় বসে এখনো কান্না করে যাচ্ছে। ফাহিম আর নাজমুল ড্রইংরুমে দাঁড়িয়ে আছে রিয়াজের অপেক্ষায়। দুই মিনিট পর রিয়াজ উপর থেকে নেমে আসে। রিয়াজের লুক দেখে সবাই হতভম্ব। পায়ে বুটজুতো,পরনে কালো প্যান্ট, গায়ে একটি কালো জ্যাকেট, এবং মুখে একটা মাস্ক। হটাৎ রিয়াজের এই লুক দেখে নাজমুল বলে," কিরে। এরকম সেজেগুজে আসার মানে কি"। রিয়াজ কিছুই বলেনা। সোজা এসে দরজার কাছে চলে আসে। এরপর নাজমুলকে বলে," বাড়িতে ফাহিম আর আম্মুর সাথে থাক। আমি ফিরে আসতেছি। আর হ্যাঁ, তোর রুমের আলমারিতে একটা পিস্তল রাখা আছে। প্রয়োজনে ওটা ব্যাবহার করবি"। এইটা বলেই রিয়াজ দরজা খুলে বেরিয়ে আসে। এরপর গাড়ি নিয়ে সোজা বেরিয়ে যায় মেইন রোডে। এখন সময় রাত ৮ঃ২৫ মিনিট।
গাড়ি চালিয়ে রিয়াজ সোজা চলে যায় থানায়। থানার সামনে গাড়ি পার্কিং করে, রিয়াজ নেমে যায় গাড়ি থেকে। এরপর সোজা থানায় ঢুকে সুফিয়ানের কেবিনে যায়। সুফিয়ান হটাৎ রিয়াজকে দেখে অবলার মতো দাঁড়িয়ে যায়। তার উপর আবার রিয়াজের লুক পরিবর্তন। বিষয়টা চিন্তা করার বটেই।
রিয়াজ সোজা সুফিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বলে," সিসি টিভি কন্ট্রোল রুমে যাওয়া লাগবে এই মুহুর্তে। সময় হাতে খুব কম। তাড়াতাড়ি "। রিয়াজের কথা অনুযায়ী সুফিয়ান আর ছয়-নয় ভাবেনি। তাড়াতাড়ি টেবিল থেকে পিস্তলটা কোমরে নিয়ে বেরিয়ে আসে। রিয়াজ সহ আবার গাড়িতে উঠে,দুজনেই রওনা দেয় কন্ট্রোল রুমের দিকে।
১০ মিনিটের মাথায় কন্ট্রোল রুমে পৌছায় তারা। পুরো রাস্তায় সুফিয়ান রিয়াজকে শুধু প্রশ্ন করেছে প্ল্যান কি। রিয়াজ কোনো জবাব দেয়নি। সুফিয়ান এইটার অর্থ বুঝেও নি। একটা কথাও না বলে রিয়াজ কি বুঝাতে চেয়েছে। তা শুধু সুফিয়ানের অজানা। কন্ট্রোল রুমে এসে রিয়াজ সোজা কর্মীদের কেবিনে যায়। এরপর সুফিয়ানকে বলে," প্রত্যেকটা সাইকো বাইক নিয়ে কোথায় যায়। তা খোজা লাগবে। যত সিসি টিভি ক্যামেরায় সাইকোকে দেখা গেছে। সব ফুটেজ বের করতে বল" । রিয়াজের কথানুযায়ী প্রথম ফুটেজটা আনা হয়। যেখানে সাইকোর প্রথম শিকার মাবিয়া নামের মেয়েটি হয়েছিলো। সেই রাস্তার অপর প্রান্তের সিসি টিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সাইকো মসজিদের সামনে যায়। এরপর বাইক রেখে অন্য গাড়িতে লোহাগড়া এলাকা পৌছায়। তারপর কেরানিগঞ্জের পথ বেয়ে সোজা বউ বাজার। যেহেতু বউ বাজারে আর কোনো সিসি টিভি ক্যামেরা নেই। তাই সাইকোকে আর চিহ্নিত করা যায়নি।রিয়াজ আবার সবার উদ্দেশ্যে বলে," এইবার দুই নাম্বার সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখাও"। রিয়াজের কথানুযায়ী আবার দ্বিতীয় রেকর্ড প্লে করে। এখানেও সাইকো আসাদ মোড়ের দোকান পেরিয়ে কেরানীগঞ্জ যায়। তারপর বউ বাজারে গিয়ে অদৃশ্য। এরপর প্লে হয় ৩য় ফুটেজ। সেম ঘটনা। বউ বাজারে গিয়ে তারা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে সব ফুটেজ চেক করে তারা। আর সব ফুটেজেই এক স্থানে গিয়ে সাইকো গায়েব হয়। সেটি হচ্ছে বউ বাজার। অল ফুটেজ দেখার পর রিয়াজ মাথা ঘুরিয়ে এইবার সুফিয়ানের দিকে তাকায়। সুফিয়ানও রিয়াজের দিকে তাকিয়ে বলে, " হ্যাঁ বুঝেছি। মিশন বউ বাজার"।
রিয়াজ আর সুফিয়ান রিয়াজের গাড়িতেই,আর তাদের পিছনে আছে দুইটা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের গাড়ি।গাড়িতে উঠার সময় ডিপার্টমেন্টের দুইটা গাড়ির মধ্যেই ১২ টা চাদর নিয়ে নেয়। কেনো চাদর নিতে বলেছে রিয়াজ,এইটাও সুফিয়ানের কাছে অজানা। গাড়ি রানিং অবস্থায় রিয়াজ সুফিয়ানকে বলে, " নাজমুলের বাড়িতে ১০-১৫ জন পুলিশের কর্মীকে পাঠিয়ে দে। ওখানে আমার মা আর ভাই আছে"। সুফিয়ান আর দেরি করেনি। থানায় কল দিয়ে নাজমুলের বাড়িতে ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তা পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সুফিয়ান ভয় পাচ্ছে সিনিয়র অফিসারের কথা ভেবে। উনি তো এই বিষয়ে কিছুই জানেনা। এইভাবে মনগড়া মিশন করলে আবার যদি তার চাকরি চলে যায়।কিন্তু রিয়াজকেও ভয়ে কিছু বলতে পারেনা। তখনি রিয়াজ নরম গলায় বলে উঠে," চিন্তা করিস না। সিনিয়র অফিসার কিছুই করবেনা।এইটা সিক্রেট মিশন। আমরা বাদে যাতে কেও না জানে এই বিষয়ে "। কথাটা শুনেই সুফিয়ান অবাক দৃষ্টিতে রিয়াজের দিকে তাকায়। কথাটা শুনতে অদ্ভুত লাগার'ই কথা। কারণ সুফিয়ান তো রিয়াজকেও বলেওনি যে সে কি নিয়ে ভয় পাচ্ছে। নিরবতার মাঝে রিয়াজ আবারো বলে," অবাক হবার কিছু নেই। আমি কোনো জৈতিষী না। এই মুহুর্তে একটা ইন্সপেক্টরের মুখে ভয়ের চাপ মানেই চাকরি হারাবার। এইটা চেহারা দেখলেই বুঝা যায়। ফোকাস শুধু মিশনেই কর"। এই কথাটা শুনেও সুফিয়ান রিতীমত অবাক হয়। এরপর অবাক দৃষ্টিতেই রিয়াজকে বলে," তবুও পারমিশন দিক বা না দিক। স্যারকে বিষয়টি বলে রাখা ভালো হবে"। রিয়াজ কথাটা শুনে বলে," চাকরি হারাবার এতোই ভয়। ঠিক আছে,কল দে। কিন্তু উনি ছাড়া যাতে কেও না জানে"।
সুফিয়ান অনেক্ষণ ট্রাই করে। কিন্তু সিনিয়র অফিসারের ফোন অফ। এইটা দেখে রিয়াজ বলে,
- শুনেছি সিনিয়র অফিসার ইদানীং নাইট ক্লাবে গিয়ে মদ খেয়ে বাসায় ফিরে। কদিন আগেই তো মেয়ে মরলো। আর এই কদিন যেতে না যেতেই ফুর্তি করে বেড়াচ্ছে?
- আরেহহ এইভাবে বলিস না। মেয়ে মরার পর উনি মদ বেশি করেই খাচ্ছে। হয়তো কষ্ট ভুলার জন্য।
- হতে পারে। আমার মতো আরকি। স্ত্রী, কন্যা,বাবা,বোনকে হারানোর পর মদের পরিমাণ বেড়ে গেছে।
- আর আমার জান্নাতের কথা কি বলবি। যদিও প্রকাশ করিনা। জান্নাতের মৃত্যুর পর আমি এখনো ঘুমাইনি। সাইকোকে ধরার ক্লু বের করেই যাচ্ছি।
- অনেক ক্লু বের করা হয়েছে। চল নেমে যাই। বউ বাজার চলে এসেছে।
কথাটা বলে, রিয়াজ বাজারের একটা গলিতে গাড়ি পার্কিং করে। পিছনেই দাঁড়ায় আরো দুইটি পুলিশের গাড়ি। সবাই গাড়ি থেকে নামার পর রিয়াজ তাদের উদ্দেশ্যে বলে," সবার গাড়ির লাইট অফ করে দাও। এবং বাজারের প্রতিটি কোনায় কোনায় সাথে নিয়ে আসা চাদর দিয়ে ভিখারি সেজে শুয়ে থাকো। আমি না বলা অব্দি কেও বের হবানা। আর হ্যাঁ, আমার হাতে একটা পিস্তল দাও। যদি কেও কোথাও ইঙ্গিত পাও। তবে পুরো টিমকে জয়েন কলে জানিয়ে দিবে"। কথাটা শুনার সাথে সাথে পুরো টিম সেট হয়ে যায়। পুরো বাজারের কোনায় কোনায় টিমরা ভিখারি সেজে লুকিয়ে পড়ে। রিয়াজ আর সুফিয়ানও এক সাথে একটা মুদি দোকানের সামনে,সিগারেট বক্সের পিছনে লুকিয়ে বসে থাকে। পুরো বাজার স্তব্ধ। রাত ১১ টা বাজে । সব দোকান বন্ধ। যেহেতু এই বাজারে সিসি টিভি ক্যামেরা নেই। তাই সবাই তাড়াতাড়িই দোকান অফ করে চলে যায়। অনেক্ষন বসে থাকার পরেও কারো আসার ইঙ্গিত নেই। চাতক পাখির মতো সবাই তাকিয়ে আছে বাজারের উপর।
কিছুক্ষণ পর একটা মানুষ লাঠি হাতে নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। গায়ে একটি চাঁদর। রিয়াজ দেখার সাথে সাথেই পুরো টিমকে জয়েন কলের মাঝে এলার্ট করে দেয়। সবার নজর সেই লোকটার উপর। লোকটা বৃদ্ধ।রিয়াজ জয়েন কলে ফিস ফিস করে বলে," এলার্ট হও সব। আমি না বলা অব্দি কেও বের হবেনা। সবাই কি এলার্ট?"। রিয়াজের কথা শুনে অপর প্রান্ত থেকে কানে থাকা ব্লুটুথের মাঝে সবাই এলার্টের ইঙ্গিত দেয়। এদিকে বৃদ্ধ এসে একটা টেবিলের উপর বসে। এরপর চাদরের নিচে হাত ঢুকিয়ে কিছু একটা বের করতে যায়। রিয়াজ আবার জয়েন কলে বলে," এলার্ট থাকো সবাই। সে কিছু একটা বের করছে। তবে কেও বেরিয়ে আসবেনা। আমার অনুমতি ছাড়া"।টিমকে সতর্ক করার পর সবাই আবার সেই বৃদ্ধ লোকের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। এদিকে বৃদ্ধ চাদরের নিচ থেকে একটা কয়েল বের করে আগুন জ্বালায়। আর সেটি পায়ের কাছে রেখে,টেবিলে ঘুমিয়ে যায়।সবাই এইটা দেখে যেনো একটু স্থীর হয়। রিয়াজ আবার জয়েন কলে বলে" এইটা এই বাজারের নাইট গার্ড হবে। আর সাইকোর কোনো গুপ্তচরও হতে পারে। তাই কেও বেরিয়ে আসবেনা। যতক্ষণ সাইকো সামনে আসবেনা। ততক্ষণ সবাই এক ইঞ্চিও নড়বেনা।"।
সবাই আবার যে যার পজিশনে এলার্ট হয়ে যায়। তখনি জয়েন কলে রহমত আলীর ভয়েজ ভেসে আছে।তিনি বলছেন," স্যার, এখানে প্রচুর মশা। কামড়িয়ে ছাল তুলে নিচ্ছে"। কথাটা শুনে রিয়াজ দাতে দাত কামড়িয়ে বলে," কিন্তু নড়াচড়া করার ফলে কোনো গোলমাল হইলে আমিই সাইকো হয়ে তোমার ছাল তুলে নিবো"। রহমত আলী কথাটা শুনেই চুপ হয়ে যায়।
এদিকে পাক্কা ৩ ঘন্টা পেরিয়ে যায়। অনেকে ঘুমে হেলেদুলে যাচ্ছে। একি স্থানে,একি জায়গায় মূর্তির মতো বসে থাকা যদিও মুখের কথা নয়। বাকিদের কথা বাদ দিলাম,সুফিয়ান নিজেই বলে উঠে," মিশনে এনেছিস নাকি শাস্তি দিচ্ছিস বুঝতেছিনা"। রিয়াজ গম্ভীর স্বরে বলে," চুপচাপ মিশনে ফোকাস কর। প্রয়োজনে সকাল পর্যন্ত এইভাবেই বসে থাকবে সবাই"। এই কথাটা যেনো সব পুলিশের কলিজা শুকিয়ে দিলো। অসহায়ের মতো পুরো টিম ডিউটিতে মন দেয়।কেটে যায় আরো এক ঘন্টা। অর্থাৎ এখন রাত ৩ টা ০৭ মিনিট।
এরমাঝেই দূর থেকে একটা গাড়ির শব্দ ভেসে আসে। রিয়াজ টিম চেক করার জন্য বলে," এলার্ট অল। একটা গাড়ির শব্দ শুনা যাচ্ছে"। রিয়াজের ডাকে সবাই এলার্ট হবার ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ কেও ঘুমায়নি।
গাড়ির শব্দটা ক্রমাগত বেড়েই যাচ্ছে। সবাই চাতক পাখির মতো সেই শব্দকে অনুসরণ করে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে শব্দটার মালিক সবার নজর বন্দি হয়।
সেই কালো বাইক।
কালো জ্যাকেট।
মাথায় হেলমেট।
বাইকটা ধীরে ধীরে এসে বউ বাজারের একটা মুদি দোকানের সামনে দাঁড়ায়। বাইকের লাইট অফ করেই সাইকো বাইক থেকে নেমে যায়। রিয়াজ জয়েন কলে আবার এলার্ট করে," সবাই সাবধান। সাইকো চলে এসেছে। আমি অর্ডার দেবার আগে কেও একটুও নড়বেনা"।
এদিকে সাইকো বাইক থেকে নেমে সেই মুদি দোকানের সামনে যায়। এরপর হুট করে পিছনে তাকিয়ে চেক করে নেয় কেও আছে কিনা। ওর উল্টো ঘুরা দেখে সবাই মনে মনে ভয়ে আৎকে উঠে। কিন্তু সাইকো তো কাওকেই দেখেনি। কারণ সবাই চিপায় আর ভিখারির বেশ ধরে পড়ে আছে। সাইকো আবার সামনে ঘুরে মুদি দোকানের তালা খোলে।এইটা দেখে সবাই অবাক। অর্থাৎ এই দোকানের তালা চাবি সাইকোর কাছে থাকে। সবাই সাইকোর কান্ড দেখে যাচ্ছে। সাইকো দোকানের তালা খুলে সাডার উল্টায়। সবাই বাহির থেকে খেয়াল করে,এই দোকানের ভিতর কোনো মুদি মাল নেই।বাহিরে সাইনবোর্ড আছে মুদি দোকানের। কিন্তু ভিতরে ফাকা।
সাইকো ভিতরে ঢুকে একটা বাইক বের করে। বাইকটা দেখেই সুফিয়ান জয়েন কলে বলে," সর্বনাশ, এইটা তো সিনিয়র অফিসারের বাইক। সাইকো তাকেও মেরে দিলো নাতো?"। সুফিয়ান কথা শেষ হতে না হতেই সাইকো হেলমেট খোলে। আর হেলমেটের আড়ালে থাকা মুখটা দেখে,কয়েকজন ইন্সপেক্টর প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে। সাইকো অন্য কেওই নয়, সিনিয়র অফিসার।
রিয়াজ সহ সবাই অবাক হয়ে সাইকোর দিকে তাকিয়ে আছে। এদিকে সিনিয়র অফিসার তার কালো বাইক,কালো জ্যাকেট আর হেলমেট দোকানে ঢুকিয়ে ফেলে। আর ঐ পোষাকের ভিতর নরমাল জামাকাপড় শো করে, এবং তার ডিপার্টমেন্টের বাইকটা বাহিরে নিয়ে আসে। যখনি আবার সাডার আটকাতে যাবে,সেই মুহুর্তে রিয়াজ জয়েন কলে চিৎকার মেরে বলে," এট্যাক...."।
চলবে............