#সাইকো_টাইম ( পর্ব-২১)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
-------------------------
তখনি জঙ্গলের ভিতর থেকে, কিছু বাইকের শব্দ ভেসে আসে রিয়াজ এবং সুফিয়ানের কানে। রিয়াজ মুচকি হেসে বলে," ইয়াহ,ইট'স টাইম টু এট্যাক"।
কথাটা বলেই রিয়াজ এবং সুফিয়ান জঙ্গলের পথ বেয়ে হেটে যেতে শুরু করে। আশেপাশে বাইকের আওয়াজ তো শুনা যাচ্ছে,কিন্তু কোনো বাইক দেখা যাচ্ছেনা। রিয়াজ আর সুফিয়ান চারপাশে বেশ ভালো করে নাজর রেখে,সেই গাড়ির চাকা ফলো করছে। ধীরে ধীরে চাকার দাগ জঙ্গলের গভীরে পৌছাচ্ছে। রিয়াজ আর সুফিয়ান যত এগুচ্ছে,তত অবাক হচ্ছে। কারণ তারা অলরেডি ১০ মিনিটের পথ পার করে নিয়েছে। কিন্তু রাস্তা গভীরে যেতেই থাকে। চারপাশে ইয়া বড় বড় গাছ,আশেপাশে কোনো পাখির শব্দও নেই। অনেক নির্জন স্থান। এইটা সাইকোর জন্য পারফেক্ট, কিন্তু বাড়ি কোথায়। হাটার মাঝে সুফিয়ান রিয়াজকে বলে,
- আর কতদূরে।
- আমি এখানে আগেও এসে জামাই আদর খেয়ে গেছিলাম। তাই আমার আইডিয়া থাকবে আর কতদূর।
- ও সরি,কিন্তু রাস্তা থাকা শর্তেও তুই গাড়ি বাহিরে রেখে এসেছিস কেন। আমরা তো গাড়ি নিয়েই আসতে পারতাম।কে জানে কত কিলোমিটার হাটা লাগবে।
- সতর্কতা বুঝোস? এইটা সতর্কতা। এতোদিনে সাইকোকে তোর কি মনে হয়েছে। সে একটা বলদ..? সে তার পথের মাঝে হাজার ফাঁদ রাখতে পারে। গাড়ি নিয়ে হুট করে আসলে যদি সে ফাঁদে পড়তাম? তাই হেটে যাচ্ছি। যদি কোনো বাধা আসে,তবে চোখে দেখবো।
- বুঝলাম। কিন্তু..
- কোনো কিন্তু না।ঐজে সামনে দেখ। সাইকোর বাড়ি চলে এসেছে।
(বিরতি, - নতুন ধামাকা এখানে। এখন থেকে এখানে আমার ভয়েজে আমার লেখা সব গল্পই আপলোড হবে- https://www.facebook.com/100085708164140/posts/113751458158459/?app=fbl)
- কোনো কিন্তু না।ঐজে সামনে দেখ। সাইকোর বাড়ি চলে এসেছে।
সুফিয়ান রিয়াজের থেকে চোখ সরিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখে,জঙ্গলের গাছ গাছালির ফাঁকে একটা বাড়ির ছাদ দেখা যাচ্ছে। সুফিয়ান সাথে সাথে রিয়াজকে বলে," সর্বনাশ। উপরে দেখ"। রিয়াজ উপরের দিকে তাকিয়ে দেখে,একটা সিসি টিভি ক্যামেরা তাদের দিকে মুখ করে আছে। অর্থাৎ এতক্ষণে সাইকো জেনে গেছে রিয়াজ আর সুফিয়ান চলে এসেছে। এমন দৃশ্য দেখে রিয়াজ সুফিয়ানকে বলে," সর্বনাশ এইবার সাইকোর হবে।সে যেহেতু জেনেই গেছে,তো আর অপেক্ষা কিসের। ওর পালানোর আগেই দৌড়ে যাই"।
সাথে সাথে রিয়াজ আর সুফিয়ান সেই বাড়ির সামনে দৌড়ে যায়। গিয়ে দেখে,অনেক পুরোনো একটা বাড়ি। যার দেওয়ালে লতা বেয়ে, তাজা লতার পাতা ফুটেছে। রিয়াজ আর সুফিয়ান তাড়াহুড়ো করে দরজার সামনে যায়। এরপর দরজা ঠেলা দিতেই,দেখে দরজা খুলে গেলো। মানে ভিতর থেকে লক করা নেই। ওরা দুজনেই সেই বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে নেয়। আর তখনি দেখে, এইটাও একটা হল রুম। ফ্লোর থেকে ছাদ অব্দি পুরো ফাঁকা। সুফিয়ান রিয়াজের দিকে তাকালে,রিয়াজ বলে," আশেপাশে কোনো ইট আছে কিনা দেখ। গুপ্ত দরজা থাকবে নিশ্চয়ই "। কথাটা বলেই দুজনে ইট খুজতে শুরু করে। আর গতবারের মতো,এইবারও তারা বাড়ির কর্নারে একটা ইট দেখতে পায়। রিয়াজ দৌড়ে গিয়ে সেই ইট সরাতেই দেখে, সেম ভাবে নিচে একটা গোপন দরজা। এরপর সুফিয়ানকে বলে," পিস্তল রেডি রাখ। আর সিড়ি বেয়ে নামি চল"।
গতবারের মতো দুজনেই ইট সরিয়ে সেই ঢাকনা খোলে। আর সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে,সব পুরোপুরি সেম। আগের বাড়িটা যেমন ছিলো,এইটাও তেমন। আশেপাশে অনেকগুলো রুম। রিয়াজ মনে করে,গতবারে সে ১৯ নাম্বার রুমের দরজা খুলে,পরবর্তী গুপ্ত দরজা পায়। এখানেও রিয়াজ সোজা গিয়ে ১৯ নাম্বার দরজা খোলে। আর দেখে,মেঝেতে একটা ইট পড়ে আছে। ধারণা বরাবর। ইট সরাতেই নিচে আরো একটি গোপন দরজা পায় তারা। সেই গোপন দরজা খুলে নিচে নেমে এসে দেখ,এখানেও সেম সব। একটা সোফা,একটা টেবিল। টেবিলে রাখা একটা সিগারেটের অংশ এবং রিমোট । তার সামনে সেম একটা টেলিভিশন। রিয়াজ আর সুফিয়ান এইবার পুরোপুরি অবাক হয়। একই রকম সব কিভাবে হতে পারে। কোনোভাবে তারা ভুলে সেই আগের বাড়িটাতে চলে এলো নাকি। এইরকম প্রশ্ন তাদের মনে গেথে যায়। এইটা স্বাভাবিক। একই রকম কোনো স্থনে যদি আপনি বার বার ফিরে যান। তবে অবশ্যই আপনার মনে হবে আপনি একই স্থানে বার বার এসেছেন। এখানেও রিয়াজ আর সুফিয়ানের এই হাল। লোকেশন আলাদা,কিন্তু স্থান একই রকম। তখনি সুফিয়ান রিয়াজকে বলে,
- সাইকো কোথায়।
- দেখে তো মনে হচ্ছেনা সাইকো এখনে আছে। এক কাজ কর, সামনের দরজাটা খুলি। নিশ্চয়ই অপর পাশে কোনো একটা গলি পাবো।আর সেখানে বন্দি থাকবে অনেক মেয়ের মর-দেহ এবং জীবন্ত কিছু মেয়ে।
- চল দেখি।
(বিরতি, - নতুন ধামাকা এখানে। এখন থেকে এখানে আমার ভয়েজে আমার লেখা সব গল্পই আপলোড হবে- https://www.facebook.com/100085708164140/posts/113751458158459/?app=fbl)
- দেখে তো মনে হচ্ছেনা সাইকো এখনে আছে। এক কাজ কর, সামনের দরজাটা খুলি। নিশ্চয়ই অপর পাশে কোনো একটা গলি পাবো।আর সেখানে বন্দি থাকবে অনেক মেয়ের মর-দেহ এবং জীবন্ত কিছু মেয়ে।
- চল দেখি।
আগের মত রুমের পাশে যে গলিওয়ালা দরজাটা আছে।সেই দরজা খুলে নেয়। সেম একটা গলি। এবং দুই পাশে অনেকগুলো রুম। রিয়াজ সুফিয়ানের দিকে তাকায়,আর সুফিয়ান রিয়াজের দিকে। তারা বুঝে যায়,এইবার তাদের কি করতে হবে। সুফিয়ান গিয়ে প্রথম দরজাটা খোলে। সেখানে যা দেখে,এইটা দেখেই সুফিয়ান বমি করে দেয়। রিয়াজ সুফিয়ানকে সরিয়ে নিজেও যখন দেখতে যায়,দেখে একটা উলঙ্গ মেয়ের কাটা দেহ। দেহটা এমন,নাভি থেকে উপরের অংশ নেই,আর হাটু থেকে নিচের অংশ নেই। শুধু মাঝের অংশটা।এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে,কাটা এই অংশের মল ( পায়খানা) বের হচ্ছিলো। মৃত অবস্থাতেও। রিয়াজও বমি করার উপক্রমে চলে আসে। এরপর বমি আসার আগেই হুট করে দরজা বন্ধ করে দেয়। এদিকে সুফিয়ান বমি করেই যাচ্ছে। রিয়াজ সুফিয়ানকে কোনোভাবে শান্ত করে বলে,
-শালা তোর বমি দেখে এখন আমারি বমি চলে আসবে।
- আর বলিস না। সাইকোর কথা ভাবতেছি আমি। ব্যাটা এতো নিষ্টুর হয় কেমনে।
- এইজন্যই সে সাইকো। চল পরের রুম দেখি।
- তুই দেখ।আমি এখানেই আছি।
- তোরে কে দিছে পুলিশের চাকরি আমি শুধু ভাবতেই থাকি।
- রিয়াজ...
- ওকে ওকে সরি। তুই দাড়া আমি দেখি। কোনো জীবন্ত মেয়ে আছে কিনা।
রিয়াজ সুফিয়ানকে ওখানে রেখে পরবর্তী রুমের দরজা খোলে। সুফিয়ান জিজ্ঞেস করে," কি দেখলি"। রিয়াজ শান্ত গলায় বলে," এই রুমে শুধু রক্ত দেখা যাচ্ছে। অন্য কিছুই নেই"। কথাটা বলে রিয়াজ পরের রুম চেক করে। আবার সুফিয়ান বলে" ওখানে কি"। রিয়াজ শান্ত গলায় বলে," একটা মেয়ের উলঙ্গ লাশ। চেয়ারের সাথে বেধে রাখা। মনে হচ্ছে গরম পানি ঢেলে তার চামড়া পুড়ে ফেলেছে। জ্বলন্ত দেহ"। রিয়াজ আবার পরের রুম চেক করে,এরপর বলে," এখানে একটা মেয়ের কাটা লাশ। খাটের উপর শুইয়ে তার দেহের প্রতিটি অংশ আলাদা আলাদা করে কেটেছে"। সুফিয়ান বলে," সাইকো কি শুধু কেটেই যায়। আর কিছু করেনা?"। রিয়াজ মুচকি হেসে পরের রুমে যায়। সেই রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলে," এইবার অন্য কিছু করেছে সুফিয়ান। এই মেয়ের শরীর কাটেও নি,আর পোড়াও না। এই মেয়ের শরীরে ১০০ এর মতো লোহা ঢুকিয়ে মেরেছে।যাক একটা অন্যরকম খুন"। এরপর রিয়াজ পরবর্তী রুম চেক করে বলে," ধ্যাত, সেম কাটা লাশ"। ধীরে ধীরে রিয়াজ পরের ১৬ টা রুম চেক করে নেয়। সবি একি। রিয়াজ শেষ রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলে," এখানে তো একটা মেয়েও জিন্দা নেই।সবি মৃত। আচ্ছা শুন" বলেই রিয়াজ সুফিয়ানের দিকে তাকায়। দেখে,সুফিয়ান ওখানে নেই। রিয়াজ হতভম্ব হয়ে যায়। এরপর নরম গলায় বলে," সুফিয়ান? কই তুই। সুফিয়ান?"। কোনো জবাব আসেনা।
রিয়াজ ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। আর হুট করে দেখে,গলির দরজাটা অটোমেটিক ধুপ করে বন্ধ হয়ে গেছে। দরজা বন্ধ হবার সাথে সাথে রিয়াজ থমকে দাঁড়ায়। মাথার উপর কয়েকটা নিম নিম করে লাইট জ্বলছে। রিয়াজ কোমর থেকে পিস্তল হাতে নিয়ে চিৎকার করে বলে," সুফিয়ান কই তুই"। আর দৌড়ে এসে দরজায় সজোরে লাথি মারতেই দরজা খুলে যায়। রিয়াজ চলে আসে সোফার কাছে। দেখে সোফা এবং টেবিলে কিছু রক্তের ফোটা। রিয়াজ আশেপাশে পিস্তল তাক করে দেখে,রুমে কেও নেই। রিয়াজের চোখ তখনি যায় সিড়ির দিকে। দেখে,সিড়িতেও কিছু রক্ত। রিয়াজ আবার দৌড়ে সিড়ি বেয়ে উঠে।এবং সিড়ির উপরে যে ঢাকনা ছিলো,সেটি ধাক্কা মারতেই দেখে, ঢাকনা বন্ধ। রিয়াজ জোরে জোরে ঢাকনাটা ধাক্কাতে থাকে। কিন্তু ঢাকনা উপর থেকে বন্ধ করা। রিয়াজ হতাশ হয়ে এইবার ঢাকনাটা ভালোভাবে স্পর্শ করে। আর বুঝে যায়,এইটা লোহার ঢাকনা। রিয়াজ সিড়ি বেয়ে আবার নিচে নেমে এসে ঢাকনা বরাবর পিস্তল টার্গেট করে। এবং ঢাকনার মধ্যে গুলি করতেই,বুকেট উল্টো রিপিট কিরে নিচে পড়ে যায়। অর্থাৎ এই ঢাকনা বুলেট দিয়ে ভাঙ্গা সম্ভব না। এইবার রিয়াজ আবার ফিরে যায় সেই গলিতে। যেখানে মেয়েদের লাশ পড়ে আছে । এবং যে রুমে সাইকোর অস্র রাখা হয়েছে,সেই রুমে চলে যায়। রিয়াজ রুমে ভালোভাবে তাকিয়ে একটা কুড়াল দেখতে পায়। এবং সেই কুড়ালটা হাতে নিয়ে রিয়াজ দৌড়ে আসে আবার। পরে সিড়ির মাথায় উঠে ঢাকনাটার কাছে যায়। আর সজোরে সেই লোহার ঢাকনায় আঘাত করতে থাকে। কিন্তু... এইটাও বিফলে যায়। কুড়ালের মাথা ভেঙ্গে চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। রিয়াজ বুঝে যায়,এই কুড়ালটা দিয়ে লোহা কাটা যাবেনা। শুধু মানুষের মাংস আর হাড্ডি আলাদা করা যাবে। উপায় না পেয়ে রিয়াজ রাগে সেই কুড়ালের ডান্ডা দিয়ে ঢাকনায় আঘাত করতে থাকে।
কিন্তু,এখানেও ঘটে যায় আরো একটি দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত নড়াচড়া করার কারণে রিয়াজ যে সিড়িতে দাঁড়িয়ে ছিলো। সেই কাঠের সিড়ি ভেঙ্গে মেঝেতে পড়ে যায়।
একটা বন্ধ ঘরে আটকা পড়ে রিয়াজ। এইটাকে বন্ধ ঘরও বলা যায়না। রিয়াজ আটকে যায় পাতালে। মাটির নিচে দুই তলার রুমে আটকে থাকে। বের হবার একটাই পথ আর সেটি বন্ধ। রিয়াজ হাপাতে শুরু করে। রক্ত দেখলে যেভাবে তার মাথা ঘুরাতো। ঠিক সেইভাবে রিয়াজের মাথা চক্কর দিতে শুরু করলো। আর চোখ ঝাপসা হতে হতে,রিয়াজ মেঝেতেই জ্ঞান হারায়।
শহরের দক্ষিণে একটা জঙ্গল, সেই জঙ্গলের গভীরে একটা পুরোনো বিল্ডিং এর মাটির নিচে পাতালে পড়ে আছে রিয়াজ।যেখানে মানুষের নাম ডাকও নেই। এদিকে তার পাশের রুম গুলোতে পড়ে আছে কাটা,পোড়া,ছেড়া মেয়েদের লাশ। এতোগুলা কাটা লাশের মাঝে পাতালে বন্দি রিয়াজকে উদ্ধার করবেও বা কে। সুফিয়ানকে নিয়ে কি করেছে সাইকো,সেটাও রিয়াজের অজানা।কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, রিয়াজ নিজেই তো আটকে গেলো।
ব্রেকিং নিউজ- ইন্সপেক্টর সুফিয়ানের লাশ পাওয়া গেছে ময়লার ড্রেনে। তার শরীরে পুতে রাখা হয়েছে শ-খানেক লোহার দন্ড। সবার ধারণা, সাইকোর হাতে শিকার হয়েছে ইন্সপেক্টর সুফিয়ান। এদিকে রিয়াজকেও খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। সুফিয়ানকে হত্যা করে কি রিয়াজ পালিয়েছে? তবে কি সাইকো রিয়াজ? আর এইবারের খুনটা সাইকো অন্যভাবে করেছে। অন্যান্য খুন থেকে আলাদা।কেনো করেছে এই আলাদা খুন। এবং সাইকো রিয়াজ, নাকি অন্য কেও। জানতে চোখ রাখুন MY TV তে।
চলবে............