ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাইকো টাইম

২০তম পর্ব

লেখক: রিয়াজ রাজ

#সাইকো_টাইম ( পর্ব-২০)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ

----------------------------

রিয়াজ শান্ত গলায় বলে," তারমানে সাইকো যে কেও হতে পারে। হয়তো আমাদের সাথেই চলাফেরা করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু দিনের আলোয় সে আমাদের আপন হলেও,রাতে সে ভয়ংকর সাইকো। এই সাইকো মানুষকে ব্যবহার করে যাচ্ছে শুধু। নিজে বেরিয়ে আসেনা"। কথাগুলো বলার মাঝেই সুফিয়ানের নাম্বারে একটা মেসেজ আসে। সুফিয়ান মেসেজটা ওপেন করতেই দেখে,সিনিয়র অফিসারের পুরো পরিবারের মাথা কাটা লাশের ছবি।

সুফিয়ান এমন ছবি দেখেই স্ক্রিনের আলো অফ করে দেয়। হটাৎ সুফিয়ানের মুখে ভয়ের চাপ দেখতে পেয়ে সিনিয়র অফিসার সন্দেহজনক প্রশ্ন করে বসে," এই তুমি কি লুকালে? দেখাও আমাকে? দেখাও বলছি?"। সুফিয়ানের হাত পা কাপতে শুরু করে। রিয়াজও উপায় না পেয়ে সিনিয়র অফিসারকে বলে," যতদিন না সাইকো ধরা পড়ছে।আপনি এই রুমেই বন্দি থাকবেন স্যার। আপনাকে সময় মতো মুক্তি করা হবে"। রিয়াজের মুখে এই-সব কথা শুনে সিনিয়র অফিসার রাগে গজগজ করে বলতে শুরু করে," তোমার কি মাথা খারাপ? আমি একদিন ডিউটি না করলে সাইকো আমার পুরো পরিবারকে মেরে ফেলবে। আমাকে আমার পরিবারের কাছে উপস্থিত থাকতে হবে রিয়াজ? বুঝো তুমি?"। রিয়াজ এইবার একটু ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকায়।এরপর বসা থেকে উঠে সুফিয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষিপ্তস্বরে বলে," আপনি নিজের পরিবারকে বাচানোর জন্য অনেক পরিবারকে হত্যা করতে হেল্প করেছেন,আপনার ডিউটির জন্য একটা মেয়ের শরীরের অংশ আলাদা হচ্ছে। আপনার পরিবার আপনার কাছে প্রিয়। আর অন্যদেরটা..? আপনার তো ভয়ানক শাস্তি হওয়া উচিৎ। এই মুহুর্তে আপনার পরিবার যদি খুন হয়। তবে আমি মনে করি উচিৎ বিচার হবে। কারণ আইনের লোক হয়ে আপনি অপরাধীর সঙ্ঘ দিয়েছেন। আমাদের দেখুন,নিজেদের সব হারিয়ে আজও সাইকোকে ধরতে ব্যস্ত। আর আপনি? আপনার তো শাস্তি হবার'ই উচিৎ। এই শুনো,অফিসারকে কেও ছাড়বে না। খাবার হাতে খাইয়ে দিবে।যাতে সাইকো ধরা না পড়া অব্দি উনি বন্দিই থাকে"।

কয়েকজন গার্ডকে সিনিয়র অফিসারের দেখাশুনা করার জন্য রেখে যায় রিয়াজ। এরপর সোজা চলে আসে ড্রইংরুমে। সুফিয়ান ভয়ার্ত গলায় রিয়াজকে বলে,

- উনার তো পুরো পরিবার মারা গেছে। ছাড়া পাওয়ার পর তো মনে হচ্ছে উনি সত্যিই সাইকো হয়ে যাবে।

- ততদিনে উনার মাথায় অন্তত এইটা ঢুকুক যে,তার সিলেক্ট করা পথটা ভুল। তাছাড়া উনি এখন ভালোর করেছে বা কি। সাইকোরা যে অপরাধ করেছে। উনিও তো সেম অপরাধ করেছে। উনি সাইকোর চেয়ে কম কিসে।

- ঠিক আছে বুঝলাম। কিন্তু এখন সাইকোকে ধরবো কিভাবে। সে তো এতক্ষণে জেনে গেছে যে আমরা তার বাইকের গ্যারেজ আটক করেছি।

- হুম,সাইকো এখন তার দিক-বদলাবে। তবে সে জানেও না,তার দিক-নির্দেশনা আমাদের দিকেই। খুব তাড়াতাড়ি সাইকোর কাছে পৌছাবো আমরা।

- প্ল্যান কি।

- সময় অনুযায়ী বলবো। আপাতত এইটা বল বউ বাজারের সব ঠিক আছে?

- হ্যাঁ, পুরো বাজারের চারপাশে পুলিশ ফোর্স নিয়োজিত আছে।

- হুম,প্রমাণ একমাত্র এই বাইকগুলাই আছে আমাদের কাছে। তুই বউ বাজারে চলে যা,আমি বাড়ি থেকে আসতেছি।

- আর সিনিয়র অফিসারের পরিবারের বিষয়ে কি করবো?

- ওটা আপাতত হাইড রাখ। এখন সকাল হয়ে গেছে। আজকের দিনের ভিতর সাইকোর কাছে আমাদের পৌছাতে হবে। তুই সিক্রেট মিশনে লাশগুলোকে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠিয়ে দে।কিন্তু হ্যাঁ, মিডিয়ার কানে যেনো এই নিউজ ভুলেও না আসে।

- ঠিক আছে। আমি তাহলে বউ বাজারে যাচ্ছি।

- হুম ওকে

কথোপকথন শেষ করে সুফিয়ান চলে যায় বউ বাজারের উদ্দেশ্যে। আর রিয়াজ রওনা করে নাজমুলের বাড়ির উদ্দেশ্যে। সব ঠিক আছে কিনা গিয়ে দেখবে।

অন্যদিকে সিনিয়র অফিসারের বাড়িতে সিক্রেট মিশন চালিয়ে তার পুরো পরিবারের লাশ উদ্ধার করা হয়। সুফিয়ানের নাম্বারে আসা মেসেজ এবং সিনিয়র অফিসারের ফোনে থাকা সাইকোর নাম্বার সংগ্রহ করে যখন লোকেশন বের করা হচ্ছে,তখন সাইবার সিকিউরিটি অফিসের হ্যাকার'রাই অবাক হয়। কারণ লোকেশন প্রতি ৫ সেকেন্ডে বদলাচ্ছে। অর্থাৎ সাইকো নিজেও একটা প্রোফেশনাল হ্যাকার। অথবা তার আন্ডারে কিছু হ্যাকার কর্মী রয়েছে। এইভাবেই সাইকোর কেস নিয়ে ঘাটতে থাকে পুরো ডিপার্টমেন্ট।

এদিকে রিয়াজ বাড়িতে গিয়ে দেখে,বাড়ির চারপাশে কড়া সিকিউরিটি দেওয়া। রিয়াজ বাসায় ঢুকে দেখে, নাজমুল, রিয়াজের মা আর ফাহিম ড্রইংরুমে বসে আছে।রিয়াজকে দেখেই নাজমুল উঠে দাঁড়ায়। এরপর তার ফোন রিয়াজের হাতে দিয়ে বলে," মায়া এবং রিমার ভয়াবহ খুনের ফুটেজ সুফিয়ান পাঠিয়ে দিয়েছে। এই নে"। রিয়াজ নাজমুলের হাত থেকে ফোনটা নেয়। এরপর কাওকে কিছু না বলে,বেডরুমে প্রবেশ করে। আর দরজাটা লক করে দেয়।

কাপা কাপা পায়ে রিয়াজ ধীর গতিতে বিছানায় গিয়ে বসে। এরপর ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে ভিডিও প্লে করে দেয়। প্রথম এক মিনিটের ফুটেজ দেখেই রিয়াজ ফোনটা হাত থেকে ফেলে দিয়ে এক চিৎকার মারে। যে চিৎকার শুনে বাহিরে থাকা গার্ড এবং নাজমুল নিজেও ভয়ে লাফিয়ে উঠে। সবাই বুঝে যায়,রিয়াজ ফুটেজ দেখেই চিৎকার মেরেছে। চিৎকারের পর রিয়াজের রুম থেকে কান্নার শব্দ শুনা যায়। বাহিরে থাকা সবার চোখেও, জলের স্রোত বইতে থাকে।

কিছুক্ষণ পর দরজা খোলার শব্দে সবাই রিয়াজের দিকে তাকায়। রুম থেকে বেরিয়ে আসে রিয়াজ। চোখ মুখ লাল আর রাগে ফুলে আছে। সবাই ব্যাপারটা বুঝতে পারলেও,কিছু জিজ্ঞেস করেনা। রিয়াজ সোজা এসে নাজমুলকে বলে," আজ রাতটা সাইকোর শেষ রাত"।

এরপর আর কিছু বলেনা রিয়াজ। ফোন নাজমুলের হাতে দিয়ে বেরিয়ে যায় বাসা থেকে। গাড়ি নিয়ে সোজা রওনা করে,বউ বাজারের উদ্দেশ্যে।

এদিকে সুফিয়ান বউ বাজারের সব মানুষকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যেহেতু এইটা একটা বাজার। মানুষের ব্যাবসা পুরোপুরি বন্ধ এখন। এ নিয়ে ব্যাবসায়ীদের মাঝে একটা ঝগড়া বিবাদ শুরু হচ্ছে। কেও বলছে সাইকোকে ধরার ক্ষেত্রে তাদের বাজার একদিনের জন্য বন্ধ রাখা যেতেই পারে। আবার কেও তার বিপক্ষে আওয়াজ তুলে যাচ্ছে। তারা বলে বেড়ায়,"এই সব কাজ রিয়াজের। রিয়াজ নিজেই সাইকো। আসামি থেকে তাকে মুক্তি দিয়ে সাইকো ধরার কাজে লাগিয়েছে। সাইকো কি কখনো নিজেকে নিজে ধরবে?"। এইরকম নানান অযুক্তিক কথাবার্তা চলছে বাজারে। কেও কেও তো পুরো ডিপার্টমেন্টকেই দোষি বানিয়ে দিচ্ছে। যেহেতু রাতে নাইট গার্ড দেখেছিলো ডিপার্টমেন্ট এর অফিসারকে গ্রেপ্তার করেছে। আর সে এই কথাটা রটিয়ে দেয় বাজারে। সিক্রেট মিশনটা ধীরে ধীরে পাবলিশ হয়ে যায়। মিডিয়া অব্দি কথাটা জেতেই,টিভিতে লাইভ শুরু হয় এ নিয়ে। সবার মাঝে আলোচনা শুরু হয়," সিনিয়র অফিসার কোথায়! "।

এইসব চলাকালীন রিয়াজ গাড়ি নিয়ে বাজারে উপস্থিত হয়। আর রিয়াজের সাথে গাড়ি থেকে নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। এই দৃশ্য দেখে সুফিয়ান নিজেই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে রিয়াজের দিকে। অর্থাৎ রিয়াজ ঘটনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা করেই এসেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে দেখে সবাই নিমিষেই সাইলেন্ট হয়ে যায়। এদিকে মন্ত্রী নেমে সবার উদ্দেশ্যে বলে," এই বাজার যতদিন না, সিসি টিভি ক্যামেরার আওয়াতায় আসে। ততদিন এই বাজারে বেচা-কেনা বন্ধ। কোনো দোকান খোলা হবেনা"। মন্ত্রীর কথার মাঝে হুট করে কয়েকজন ব্যবসায়ী হকচকিয়ে উঠে। অর্থাৎ কয়েকজন মানতে নারাজ। আর এইসব দেখে রিয়াজ চিৎকার মেরে বলে," তোরাই সাইকো"। কথাটা মুখ থেকে বের হতে না হতে রিয়াজ দৌড়ে এসে একটা পুলিশের হাত থেকে লাঠি কেড়ে নেয়। এবং এলোপাতাড়ি কয়েকজনকে ইচ্ছেমতো লাঠিচার্জ শুরু করে। সুফিয়ান নিজে তো অবাক হয়,সাথে মন্ত্রীও অবাক। হটাৎ রিয়াজের এমন আচরণ দেখে। সুফিয়ান দৌড়ে গিয়ে রিয়াজকে শান্ত করলে রিয়াজ বলে," সাইকোর সব বাইক থানায় নিয়ে আয়। আর এই দোকানের কোনায় কোনায় চেক দে কোনো ক্লু পাওয়া যায় কি না "। কথাটা বলে রিয়াজ মন্ত্রীকে ডিপার্টমেন্ট এর একটা গাড়িতে উঠিয়ে দেয়। আর উনাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলে। এদিকে রিয়াজ সুফিয়ানকে ডাক দিয়ে বলে," তুই চল আমার সাথে"। সুফিয়ান অন্যান্য অফিসারদের কাজ বুঝিয়ে দিয়ে রিয়াজের সাথে গাড়িতে উঠে।

মাঝরাস্তায় রিয়াজের গাড়ি অচেনা গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছে। অনেক্ষণ নিরবতা পার করে সুফিয়ান রিয়াজকে প্রশ্ন করে," মন্ত্রীকে পাইলি কোথায়। তাও তোর কথামতো এনাউন্সমেন্ট করে গেলো?"। রিয়াজ এক গালে হেসে বলে,

- মন্ত্রীর মেয়েও সিনিয়র অফিসারের সাথে তোর বাড়িতে বন্দি।

- হোয়াট..? তোর কি মাথা খারাপ? এতে কতটা বিপদ হতে পারে জানোস তুই.?

- ব্যবস্থা করেই সব উপস্থাপন করেছি।মন্ত্রী জানে তার মেয়েকে সাইকো নিয়ে গেছে। আমার কথা জানেনা। আমি উনার গোবর ভর্তি মাথায় ঢুকাইলাম যে সাইকো তার মেয়েকে কিডন্যাপ করেছে। আর এতে উনি হেল্প করলে আমি তার মেয়েকে বাচাবো।এরা নেতা হয় কিভাবে আমি জানিনা। উনিও কিছু না ভেবে আমার কথামতো এনাউন্সমেন্ট করেছে।

- কিন্তু এইটা করলি কেন।

- পুরো সোস্যাল মিডিয়ায় সিক্রেট মিশন সম্মন্ধে আলোচনা চলছে। তা বন্ধ করার জন্যেই।

- তোকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এখন এইটা বল যাচ্ছিস কোথায়।

- শহরের দক্ষিণে যে জঙ্গল আছে। সেখানে।

- ওখানে কি।

- সাইকোদের আড্ডা।

- মানে..?

- কন্ট্রোল রুমে সেদিন একটা বিষয় খেয়াল করেছি যে,সাইকোরা বউ বাজারে এসে গায়েব হয়। অর্থাৎ যাতে সাইকো অব্দি আমরা পৌছানোর পর যেনো বউ বাজারে আটকে থাকি। এইটা হচ্ছে সাইকোর প্ল্যান-এ। কিন্তু সাইকোর প্ল্যান- বি সম্মন্ধে আমরা জানতামও না।

- কিসব বলে যাচ্ছিস। মাথায় কিছুই ঢুকছেনা। বুঝিয়ে বল।

- আমরা দেখেছি, কালো জ্যাকেট পড়া সাইকো আর বাইক শুধুমাত্র বউ বাজারে গিয়ে গায়েব হয়।কিন্তু এরা বের হচ্ছে অন্য কোনো স্থান থেকে। বউ বাজারে গায়েব হচ্ছে ভেবে আমরা বউ বাজারেই আটকে থাকবো। এইটা সাইকোর উদ্দেশ্য। কারণ সে জানে এই বিষয়ে কোনো সময় আমরা ক্লু বের করেই নিবো।কিন্তু সাইকোর প্ল্যান-বি হচ্ছে অন্যটা। অর্থাৎ সে কিছু সংখ্যক মানুষকে বউ বাজারে গায়েব করলেও,অন্য সাইকোরা অন্য রাস্তায় পারাপার করে। মনে করে দেখ,মাবিয়ার খুনের সময় একটা মাইক্রো দেখেছিলাম আমরা।ওটা কোথায়? তা তো বউ বাজারে নেই।

- সত্যিই তো? ওটা কোথায়।

- রহস্য এখানেই। সাইকো আমাদের মাইন্ড নিয়ে খেলেছে। কালো বাইক,কালো জ্যাকেট আর হেলমেট দিয়ে। যাতে আমরা শুধু বাইকের পিছনে সময় নষ্ট করি। কিন্তু সাইকোর প্ল্যান- বি ছিলো মূল।অর্থাৎ বাইকের দিকে আমাদের আকৃষ্ট রেখে সে অন্য গাড়ি গোপন রেখেছে।

- তো তুই কিভাবে বুঝলি ওরা শহরের দক্ষিন পাশের রাস্তা ব্যাবহার করে।

- কারণ ওটা মাঠ এবং জঙ্গল এরিয়া। যেখানে সিসি টিভি ক্যামেরা নেই। আমরা সিসি টিভি ক্যামেরা নেই ভেবে বউ বাজারে যাতে আটকে থাকি। এইটা সাইকোর প্ল্যান-এ। এবং আমাদের সেদিকে আকৃষ্ট রেখে দক্ষিণ পাশের রাস্তা ব্যাবহার করে অপহরণ করা সাইকোর প্ল্যান- বি।

- এইবার বুঝলাম।অর্থাৎ বাইক আর জ্যাকেট দিয়ে আমাদের এতোদিন বোকা বানানো হয়েছে।

- শুধু বোকা নয়। বোকা ম্যাক্স প্রো বানিয়েছে। আমরা যে সাইকোর বাড়ি বের করেছি। ওটাও সাইকোর প্ল্যান ছিলো। ওখানে আমাদের কেও সাহায্য করেনি। সাইকো নিজেই ৭ নাম্বার পৃষ্টায় ৭ লাইনের ইঙ্গিত এবং ৬ নাম্বার পৃষ্টায় ৬ লাইনের বাক্য লিখে আমাদের বোকা বানিয়েছে।

- সেটা কেনো করবে। এতে সে জানতো তার ক্ষতি হতে পারে।

- সাইকো কখনো উত্তেজনার বশে কাজ করেনা। সে যা করে ঠান্ডা মাথায় করে। সাইকো আমাদের এইজন্যই সেই বাড়ির ঠিকানা দিয়েছে,যাতে আমরা ঐ বাড়িতে যাই। এবং কিছু ক্লু বের করি। এতে আমরা শহরের মাঝেই তাকে খুজে বেড়াবো। ঐ বাড়ি আর সেই অদ্ভুত মেয়েকে নিয়ে ভাবতে থাকবো। আমাদের মাথায় এতোদিন শুধু হেলমেট, কালো জ্যাকেট, আর বাইক শব্দগুলো ঘুরেছে। এইটা সাইকো নিজেই করেছে। যাতে এইসব ফালতু কাজে রহস্য খুজতে খুজতে আমরা তার আসল ঠিকানায় না পৌছাতে পারি।হতে পারে আমরা আজ অব্দি সাইকোর মুখোমুখি'ই হইনি। সে আড়াল থেকেই সব কাজ চালাচ্ছে।

- অর্থাৎ সিনিয়র অফিসারের মতো কয়েকজন মানুষকে পরিবারের ভয় দেখিয়ে সে ব্যাবহার করেছে। যে সাইকো নিজের গলায় নিজে ছুরি মেরে খুন হয়েছে। সেও জানতো না সাইকো কে। শুধুমাত্র তার পরিবারকে বাচানোর জন্য সে নিজের খুন নিজে করেছে..? আর তার মতোই প্রতিটি সাইকো টিম শুধু নিজের পরিবারের জন্য সাইকোর হয়ে কাজ করে.? এবং তারা কেওই সাইকোকে দেখেনি।কারণ সাইকো কখনো শহরে আসেও না। যারা কিডন্যাপ করে,তারাও সাইকোর ভয়ে এই কাজ করে।যারা খুন করে,তারাও সাইকোর ভয়ে খুন করে। এবং যারা নতুন পরিবারে এট্যাক করে নতুন সাইকো সৃষ্টি করে,তারাও সাইকোর ভয়ে একটা নির্দোষ ব্যাক্তিকে সাইকো বানায়?

- রাইট। সিনিয়র অফিসারের কথামতো ফোন কলে কেও হুমকি দিয়েছে। হতে পারে মূল সাইকো সে। মানে সাইকো কখনো কারো সামনে আসেই নি। যাদের আমরা দেখতাম,ওরা সবাই নিজের পরিবারকে রক্ষা করার জন্য সাইকোর বেশে ঘুরতো আর কাজ করতো। নয়তো এক রাতে শহর থেকে ২৬ জন মেয়ে কিডন্যাপ হয়েছে কিভাবে।

- শালার এইটা সাইকো নাকি বুদ্ধির বস্তা। আমাদের মস্তিষ্ক সে যেমনে চালিয়েছে সেভাবেই চলছে..?

- হুম।আগেই বলেছিলাম।সাইকো ঠান্ডা মাথায় কাজ করে। তার ভুল হয়না সহজে।

- কিন্তু এইটা তো ভুল।দক্ষিণ জঙ্গলে হয়তো সে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। এইটাও তার একটা চালাকি হতে পারে।

- হতে পারে। না হবার মতো কিছুই নেই। এই ঘটনায় কোনো ভূত নেই। কিন্তু হরর মুভির মতোই সব ভয়ংকর। যেকোনো সময় যা কিছু হতে পারে।

- কাল তো ভূত ভূত বলে চিৎকার দিয়েছিলি? হরর ঘটনাও আছে মনে হয়।

- ওটা স্বাভাবিক। সেদিন সাইকো ঠিকি এসেছিলো। কিন্তু অন্য কেও। আমার বোনের লাশ রাখার জন্য। অতিরিক্ত মদ খাওয়ায় হয়তো আমি সেই সাইকোর চেহারা খুন হওয়া সাইকোর মতো কল্পনা করেছি। যেহেতু নিজের চোখে একটা সাইকোর ফেস মুখোমুখি দেখেছি। তাই নেশারঝোঁকে অন্য সাইকোর চেহারা একই রকম কল্পনা করেছি।

- এইটা তুই শিওর কিভাবে বলতে পারিস?

- কজ ভূত বলতে কিছু নেই। আছে শুধু জ্বীন।

- যদি সাইকোটা জ্বীন হয়?

- প্রশ্ন করতে করতে আমাকেও পাগল বানাচ্ছিস আর পাঠক/পাঠিকাদেরকেও বলদ বানাচ্ছিস। জঙ্গলের কিনারায় এসে গেছি। নেমে পড়।

সুফিয়ান আর কিছু জিজ্ঞেস না করে গাড়ি থেকে নামতে যাবে,তখনি রিয়াজ বলে," পিছনের সিটে ৪ টা পিস্তল আছে। ওগুলো নিয়ে নে"। সুফিয়ান পিছনে তাকিয়ে দেখে ৪ টা মেশিন গান।অবাক হয়ে সুফিয়ান কিছু বলতেই যাবে,তখনি রিয়াজ বলে," মন্ত্রীকে নিজের গাড়িতে এনেছি। একটু সুযোগ কামাই না করলে কি হয়? মন্ত্রীকে দেখে কেও গাড়ি চেক করেনি"। সুফিয়ান ভ্যাবাচেকা খেয়ে পিস্তলগুলো নিয়ে নেয়। এরপর রিয়াজও গাড়ি থেকে নেমে বলে,

- আমার কাছে ৩ টা দে। তোর কাছে দুইটা রাখ।

- এখনি ফাইট শুরু করবি নাকি।

- মাটির দিকে তাকিয়ে দেখ। সামনের চিপা রাস্তায় গাড়ির চাকার দাগ। এই রোডে গাড়ি আসে,কিন্তু রেগুলার গাড়ি নিয়ে জঙ্গলে ঢুকে কে। দাগ দেখে মনে হচ্ছে দিনে ২-৩ বার এখানে গাড়ি নিয়ে যাওয়া-আসা করা হয়।

- হ্যাঁ, তাই তো?

- পিস্তল দে। আর প্রস্তুতি নে। ইট'স টাইম টু এট্যাক।

তখনি জঙ্গলের ভিতর থেকে, কিছু বাইকের শব্দ ভেসে আসে রিয়াজ এবং সুফিয়ানের কানে। রিয়াজ মুচকি হেসে বলে," ইয়াহ,ইট'স টাইম টু এট্যাক"।

চলবে............

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন