ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাইকো টাইম

২৫তম পর্ব

লেখক: রিয়াজ রাজ

#সাইকো_টাইম ( পর্ব-২৫)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ

-------------------------------------

বিজলি চমকাতে থাকে। বিজলির আলোয় নাজিফা একটু খেয়াল করে দেখে,অবয়টার মাথায় একটা হেলমেট আছে,আর হাতে একটি কুড়াল।

ঠিক সেই মুহুর্তে রিয়াজও মাটি খুড়ে মাটির উপর উঠে আসে। অনেকদিন পর প্রকৃতির ঘ্রাণ পেয়ে রিয়াজ মাটির উপর শুয়ে হাসতে শুরু করে৷ এদিকে বৃষ্টির কারণে রিয়াজ আরো বেশি খুশি হয়ে যায়। তার এখন পানি লাগবে। খুব জরুরি।

আকাশ থেকে হটাৎ চনচন করে বৃষ্টির ফোটা পড়তে শুরু করে।রিয়াজ হা করে বৃষ্টির পানির সাথে,তীব্র ঠান্ডা শীতল বাতাস গ্রহণ করে নিচ্ছে। আজ অনেকদিন পর এই অনুভূতি।মুখে এক গুচ্ছ দাড়ি-মোচ বৃষ্টির পানিতে ভিজার সাথে সাথে ল্যাপ্টে যায়৷ চারপাশে ঘনকালো অন্ধকার।বিজলীর আলোয় বড় গাছের ডাল গুলো চমকে উঠে। রিয়াজ হটাৎ হেসে উঠে৷ এই হাসির পিছনে অনেক রহস্য আছে। এই হাসিতে অনেক কারণ লুকিয়ে আছে। আবার এই হাসিটা বিজয়ের কারণেও দেখা যায় মানবসভ্যতার মাঝে।

এদিকে নাজিফা ভয়ে ভয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। কারণ এই বাড়িতে তার বাবা ছাড়া কোনো পুরুষ থাকেনা। আর এই সময়ে তার বারন্দায় কারোর উপস্থিত থাকা তো অসম্ভব। নাজিফা বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়াতে দাড়াতে, হুট করে কারেন্ট চলে যায়। পুরো রুম অন্ধকার হবার সঙ্গে সঙ্গে বিজলী চমকে উঠে। নাজিফা দেখতে পায় বারান্দায় থাকা সেই অবয়বটা তার দিকেই এগিয়ে আসতেছে।

দৃশ্য বদলায়।

শাহরিয়ার সাহেব গাড়ি নিয়ে চলে আসে তার বাড়ি। গেটের সামনে অনেক্ষণ হর্ণ বাজানোর পরেও, রেজিয়া বেগম( এই বাড়ির মালি।যে গেটের সাথেই থাকেন) গেট খুলছে না। শাহরিয়ার সাহেবের গাড়িতে ছাতাও নেই। বের হয়ে দেখতে পারছেনা। উনি বিরক্ত হয়ে বার বার হর্ন বাজাতে থাকে। এদিকে প্রচুর বৃষ্টি আর বিজলীর রুপ তীব্র গতিতে বেড়ে যাচ্ছে। শাহরিয়ার সাহেব শেষমেশ উপায় না পেয়ে গাড়ি থেকে নামে। আর সোজা চলে যায় গেটের কাছে। এদিকে বৃষ্টির পানি শাহরিয়ার সাহেবকে পুরো ভিজিয়ে দেয়। শাহরিয়ার সাহেব গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ এদিকে সেদিক উঁকি দেয়। কিন্তু হাত গেটে রাখার কারণে শাহরিয়ার সাহেব বুঝতে পারে,গেট নিজে থেকে খুলে যাচ্ছে। শাহরিয়ার সাহেব অবাক হয়ে গেটে হালকা ধাক্কা দিতেই গেট খুলে যায়। তারমানে গেট ভিতর থেকে লক খোলা। এতে শাহরিয়ার সাহেব বেশ রেগে যান। কারণ বাড়িতে তার মেয়ে আছে,এইভাবে গেট খুলে রাখাটা উনার কাছে রাগের'ই বিষয়। রাগের মাথায় উনি গেট লাথি মেরে খুলে ফেলেন। এরপর গাড়ি বাহিরে রেখেই,উনি গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেন। আর এরপর যা দেখেন,তা দেখার জন্য উনি হয়তো প্রস্তুত ছিলেন না।

শাহরিয়ার সাহেব দেখেন রেজিয়া বেগম গেটের সাথে শুয়ে আছেন। বাহিরে থাকা গাড়ির আলোয় উনি আরো খেয়াল করেন,রেজিয়া বেগমের মাথার দিক থেকে রক্তের স্রোত বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানিও যেনো উনার রক্ত মুছতে সক্ষম হয়নি।

এমন দৃশ্য দেখে শাহরিয়ার সাহেবের মুখে আতঙ্কের চাপ সৃষ্টি হয়। তিনি এক দৌড়ে প্রবেশ করেন নিজের ঘরে। ড্রইংরুমে এসেই ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট অন করে। আর দেখে,ড্রইংরুমে বাসার কাজের মেয়ের লাশ পড়ে আছে। তার ঠিক পূর্ব দিকে সোফার পাশে পড়ে আছে নাজিফার দেখাশুনা করা মেয়ে দুইটা। তাদের হাতেই ফোন,এবং ফোনে টিকটক ভিডিও এর একটা সাউন্ড শুনা যাচ্ছে। যা বার বার রিপিট হচ্ছে। শাহরিয়ার সাহেব আর কিছু না ভেবে দৌড়ে যায় উপরের রুমে।নাজিফার রুমে গিয়ে শাহরিয়ার সাহেব দেখেন,উনার মেয়ে রুমে নেই। কিন্তু বারান্দায় থাকা কাচগুলো ভেঙ্গে ফ্লোরে পড়ে আছে।

ব্রেকিং নিউজ- বাংলাদেশ সিটি ব্যাংকের মালিক মিস্টার মির্জা শাহরিয়ারের একমাত্র মেয়ে কিডন্যাপ। শাহরিয়ার সাহেব কিডন্যাপারের উদ্দেশ্যে জানাতে চান যে, যত টাকা লাগে দিবে।তবুও তার মেয়েকে দিয়ে যাওয়ার জন্য। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হচ্ছে পুরো ডিপার্টমেন্টে।

এদিকে কেস হাতে আসে অন্তর সাহেবের। অন্তর সাহেব শাহরিয়ার সাহেবের ম্যানেজারের কাছ থেকে কেসটা লিখে যাচ্ছিলো। সেই মুহুর্তে থানায় হাজির হয় শাহরিয়ার সাহেব নিজেই। ইন্সপেক্টর অন্তর সাহেব হুট করে চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে যান। এতো বড় একজন বিজনেসম্যান তার থানায় আসলো,এতে অন্তর সাহেবের রুপ বদলানোর কথা'ই। অন্তর সাহেব কিছু বলতেই যাবেন,তখনি শাহরিয়ার সাহেব টেবিলের উপর একটি ব্যাগ রাখেন। ব্যাগের চেইন খোলা মাত্রই অন্তর সাহেব দেখেন,সব এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিল। অন্তর সাহেব টাকার দিকে তাকিয়ে যেনো আধমরা হয়ে গেলো। এদিকে শাহরিয়ার সাহেব জানালেন," যত টাকা লাগবে আমাকে বলবেন। এখানে কম হলে তাও আমাকে জানাবেন। তবুও আমার মেয়েকে খুজে বের করুন স্যার"। অন্তর সাহেবের মুখে যেনো হাসির উল্লাস ফুরফুরে উঠে৷ উনি চোখ আড়িয়ে জাহিদ সাহেবের দিকে তাকান। জাহিদ সাহেব মুখটা ভেংচি কেটে অন্যদিকে নজর দেয়।

এদিকে রিয়াজ তার বাসার সামনে চলে আসে। মুখ ভর্তি দাড়ি নিয়ে যেনো একটা পাগল আসলো। দরজার গেট খুলতেই যাবেন,তখনি রিমা " আব্বু" বলে দৌড়ে আসে। রিয়াজ পুরোপুরি অবাক। তার বিশ্বাস'ই হচ্ছেনা তার মেয়ে রিমা দৌড়ে আসতেছে। রিয়াজ বেকুবের মত দাঁড়িয়ে আছে। ততক্ষণে রিমা রিয়াজকে জড়িয়ে ধরে বলল," এতোদিন কোথায় ছিলে আব্বু??"। রিয়াজ আর সইতে না পেরে তার মেয়েকে কোলে নিয়ে চোখে মুখে চুমু খেতে লাগলো।

( পর্ব ছোট হবার কারণ কমেন্টে)

চলবে...........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন