ফন্ট সাইজ:
থিম:
সাইকো টাইম

২৮তম পর্ব

লেখক: রিয়াজ রাজ

#সাইকো_টাইম ( পর্ব-২৮)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ

----------------------------------------------

- আমার আম্মুকে তোমার থানায় আনতেছি। সারা রাত পুরো সিকিউরিটি দিয়ে আম্মুকে পাহারা দিবে। ব্যস এইটাই কাজ।

- ভাই আমি রাজি।

- ঠিক আছে। তোমার বউকে সাইকোর হাত থেকে আমি নিয়ে আসবো। আমরা থানায় আসতেছি।

কলটা কেটে নাজমুল বলল," কিরে,এইটা কিভাবে সম্ভব হলো"। রিয়াজ মুচকি হেসে বলে," ওর আশ্চর্য ডায়লগ আজ আশ্চর্য হয়ে গেছে। হাহাহা,চল সবাই বেরিয়ে পড়ি। নাজমুল, তুই গাড়ি বের কর৷ সাইকোকে একটু আশ্চর্য করে দিয়ে আসি"।

কথাটা বলে নাজমুল,ফাহিম,রিয়াজের মা আর রিয়াজ। বের হয় থানার উদ্দেশ্যে। যদিও এখনো নাজমুল এবং ফাহিমকে তেমন কিছু বলেনি রিয়াজ৷ কিন্তু এইটা সবার জানা যে,সাইকোকে তারা এইবার জব্দ করেই ছাড়বে। গাড়ি চলছে থানার দিকে। ততক্ষণে ঘুরে আসি সাইকোর বাড়ি থেকে।

নাজিফা অপেক্ষা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে যায়। নিজেও জানেনা। এদিকে দরজার খটখট শব্দে নাজিফা আবার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়। এখনো তার শরীর উলঙ্গ এবং হাত পা বেধে রাখা। নাজিফা খেয়াল করে,খট খট শব্দ করে সাইকো দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। তবে সাইকো একা নয়। সাইকোর হাতে একটি দড়ি। এবং সেই দড়িতে একটা মহিলার পা বেধে রাখা। নাজিফা খেয়াল করে,মহিলাটি অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। এবং মহিলার পায়ে দড়ি বেধে সাইকো,তাকে টেনে টেনে রুমে ঢুকাচ্ছে। নাজিফা অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সেদিকে। এদিকে টেনে হিচড়ে সাইকো মহিলাকে নাজিফার রুমে নিয়ে আসে। নাজিফা ধীর স্বরে সাইকোকে জিজ্ঞেস করে," উনি কে?"। সাইকো কোনো কথার উত্তর না দিয়ে সেই মহিলাকে নাজিফার সামনে এনে রাখে। এরপর আবার রুম থেকে চলে যায়। নাজিফা কিছু বুঝতে পারেনা। একটা মহিলাকে বেধে টেনে এনে তার সামনে কেনো রাখলো। ভাবনার মাঝে সাইকো এক হাতে একটা বক্স আর অন্য হাতে একটা চেয়ার নিয়ে আবার রুমে ঢুকে। এবং আলতো করে সেই মহিলাকে চেয়ারে বসিয়ে দেয়। মহিলা তো অজ্ঞান। এদিকে সাইকো ধীরে ধীরে মহিলার গায়ের সব জামাকাপড় খোলে। আর মহিলাকে নাজিফার মতো পুরো উলঙ্গ করে নেয়। নাজিফা শুধু এক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে আছে। সাইকো নাজিফাকে উলঙ্গ করার পর, হাত পা লোহার শিকল দিয়ে বেধে ফেলে৷ আর পরক্ষণেই নাজিফার কাছে সাইকো এসে দাঁড়ায়। নাজিফা সাইকোর দিকে তাকিয়ে আছে। যদিও উলঙ্গ থাকায়,নাজিফার বেশ লজ্জা লাগছিলো। সাইকো নাজিফার হাতেও শিকল বেধে দেয়। এরপর সেই শিকলের আরেক মাথা দেওয়ালের একটি লোহার সাথে তালা মেরে রাখে। যাতে নাজিফা পুরো রুমের অর্ধেকে হাটাহাটি করতে পারে। এবং এটি করার পর সাইকো নাজিফাকে চেয়ার থেকে মুক্তি দিয়ে দেয়। নাজিফার হাত পা চেয়ার থেকে খুলে দিলেও,উলঙ্গ থাকায় নাজিফা উঠতে লজ্জা পাচ্ছে। তাই সাইকো নাজিফার হাতে একটা ছুরি দিয়ে বলে," আমি বাহিরে যাচ্ছি। এই মহিলাকে যত ভয়ংকর মৃত্যু দিবে,তুমি তত বেশি আমার আপন হবে"। কথাটা বলেই সাইকো বক্সটা হাতে নিয়ে,চলে যায় বাহিরে। আর যাওয়ার আগে করে দেয় দরজা বন্ধ।

সাইকো রুম ত্যাগ করার সাথে সাথে নাজিফা চেয়ার থেকে উঠে সেই লোহার শিকলে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। কিছুক্ষণ আঘাত করার পর নাজিফার জানা হয়ে যায়, এই ছুরি দিয়ে লোহার শিকল কাটা মোটেও সম্ভব না। কারণ সাইকো এমন ছুরি দিয়ে গেছে,যা দিয়ে শুধু মানুষ মারা যায়। কোনো লোহাকে ক্ষত করার মতো না। নাজিফা আর উপায় পায় না৷ মহিলার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। আর মনে মনে ভাবে,এই মহিলাকে খুন করলে হয়তো সাইকো তাকে ছেড়ে দিবে। ভাবনার মাঝে হটাৎ সেই মহিলাও জেগে যায়। উনি চোখ মেলেই চিৎকার শুরু করলে নাজিফা বলে উঠলো," আরে চুপ করুন। বাহিরে সাইকো আছে। সে শুনলে আমাদের মেরে ফেলবে।"। মহিলা নাজিফার কথা শুনলেও,অন্য এক অদ্ভুত চাহনিতে নাজিফার দিকে তাকায়। নাজিফা কিছু বুঝার আগেই মহিলা বলে," আপনি নাজিফা না? শাহরিয়ার সাহেবের মেয়ে?"। নাজিফা বুঝতে পারে তার বাবা পুরো দেশে তার হারানোর নিউজ ছড়িয়েছে। তাই উনি দেখতেই চিনে ফেললো। ভাবনার মাঝে মহিলা আবার বলে," আমি ইন্সপেক্টর অন্তরের স্ত্রী। আমাকে বাচান আপু। প্লিজ"। নাজিফা এইবার বুঝে নেয়,সাইকোর উদ্দেশ্য। সাইকো চিন্তাভাবনা করেই এই মহিলাকে তার সামনে এনেছে। কারণ একটাই, এই মহিলার স্বামী নাজিফাকে বাচাতে চায়। আর সাইকো সেই ইন্সপেক্টর এর স্ত্রীকেই,নাজিফার হাতে মার‍তে চায়। অর্থাৎ যে তাকে বাচাতে চাচ্ছে,তার স্ত্রীকে খুন করতে হবে। এর মাঝে নাজিফা এইটাও বুঝে যায় যে,এই মহিলাকে খুন না করলে,সাইকো নাজিফাকেও মেরে ফেলবে।

এক বিভৎস চিৎকার ভেসে আসতেই সাইকো একটা মুচকি হাসি দেয়। এরপর ধীরে ধীরে হাসির শব্দ বাড়াতে থাকে। বাড়াতে বাড়াতে সাইকো এইবার ফ্লোরে গড়াগড়ি শুরু করে দেয়৷ যেনো সাইকো মন ভরে তৃপ্তি নিচ্চে। কিছুক্ষণ এইভাবে হাসাহাসি করে সাইকো দৌড়ে আসে নাজিফার রুমে। আর দেখে, ইন্সপেক্টর অন্তর সাহেবের স্ত্রীর দেহ থেকে মাথাটা আলাদা করার পর। সেই মাথাকেও ৪ টুকরো করেছে নাজিফা। অন্তর সাহেবের স্ত্রীর হাত পা টুকরো টুকরো করে রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে৷ সাইকো এইসব দেখে খুশিতে নাচতে থাকে দরজায়৷ নাজিফার চোখেমুখে সব রক্ত।অনেক ভয়ংকর ভাবে হত্যা করেছে সে। সাইকো খুশিতে দরজার সামনে হাসছে আর লাফিয়ে লাফিয়ে নেচে যাচ্ছে৷ বাচ্চাদের মতো হাত তালিও দিচ্ছে। নাজিফা সাইকোর দিকে তাকিয়ে একটু শান্ত হয়। এরপর ছুরিটা পাশে রেখে সাইকোর দিকে তাকিয়ে বলে," বিশ্বাস হয়েছে?"। সাইকো কথাটা শুনে দৌড়ে আসে নাজিফার কাছে। নাজিফা সাইকোকে জড়িয়ে ধরে। সাইকোও নাজিফাকে জড়িয়ে ধরে৷ নাজিফার গায়ে লেগে থাকা রক্তগুলো সাইকো তার হেলমেটে ঘষে ঘষে লাগিয়ে নিচ্ছে। যেনো এইগুলা রক্ত না,কোটি টাকা। আর সেই টাকার ঘ্রাণ নিচ্ছে সাইকো। এই সুযোগে নাজিফা ফ্লোর থেকে ছুরিটা গোপনে নিয়ে নিলো। সাইকোর পিঠে ঢুকানোর জন্য৷ এবং যে ভাবা সেই কাজ। ঘ্যাচাং করে সাইকোর পিঠে ছুরি ঢুকিয়ে দেয় নাজিফা৷

না, ঘটনা অন্য কিছু। সাইকো চট করে নাজিফাকে ছেড়ে দিয়ে,তার হাত দুইটা ধরে ফেলে৷ আর সজোরে শূন্যে তুলে যত শক্তি আছে,তত শক্তি দিয়ে ফ্লোরে আছাড় মেরে দেয়। নাজিফা বুঝতেও পারেনি কিছু৷ হুট করে যেনো কেও তাকে বাতাসে ভাসিয়ে ফ্লোরে ছুড়ে মারলো। নাজিফা আছাড় খেয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই,সাইকো নাজিফার হাত থেকে ছুরিটা নিয়ে নেয়। এরপর নাজিফার হাতে বেধে রাখা শিকল দিয়ে নাজিফার দেহটা পেছিয়ে ফেলে।তখনি নাজিফা ছুটার জন্য ধস্তাধস্তি করলে,সাইকো তার পকেট থেকে একটি ইনজেকশন বের করে। আর নাজিফার ঘাড়ে ঢুকিয়ে দেয়৷ ধীরে ধীরে স্থীর হয়ে যায় নাজিফা।

থানার সামনে গাড়ির ব্রেক কষলো রিয়াজ৷ গাড়ি থেকে নেমে রিয়াজ তার মা" কে বের করে। অন্তর সাহেব থানার সামনেই রিয়াজের জন্য অপেক্ষা করছিলো। রিয়াজ অন্তর সাহেবের সামনে যেতেই,অন্তর সাহেব দৌড়ে এসে রিয়াজের পা ঝাপ্টে ধরে। এরপর কান্না করতে করতে বলতে লাগলেন," স্যার আমার স্ত্রীকে এনে দিন স্যার। আমি আপনার পা ধরে ক্ষমা চাচ্ছি সব কিছুর জন্য। স্যার আমাকে সাহায্য করুন স্যার"। রিয়াজ অন্তর সাহেবকে ধরে দাড় করালেন। এরপর অন্তর সাহেবের বাহুতে দুই হাত রেখে বললেন," আমি আমার সমস্ত চেষ্টা দিয়ে আপনার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো"। অন্তর সাহেব কথাটি শুনে চোখমুখ মুছে রিয়াজকে জড়িয়ে ধরে। কিছুক্ষণ এইভাবে থাকার পর রিয়াজ অন্তর সাহেবকে ছাড়িয়ে তার মা কে অন্তর সাহেবের কাছে আমানত রেখে বললেন," আমি সকালের মধ্যে ফিরে আসবো। সকাল অব্দি আমার মায়ের সব দায়িত্ব আপনার। কড়া সিকিউরিটি দিবেন"। কথাটা বলে রিয়াজ নাজমুল এবং ফাহিমকে বলল," চল"। এরপর তারা তিনজন গাড়িতে উঠে,ছুটে যায় বাতাসের গতিতে।

এদিকে নাজিফা টিপটিপ শব্দে চোখ খোলে৷ এবং চোখ মেলার পর নাজিফা সেই টিপটিপ শব্দের কারণ দেখে ভয়ে একটি চিৎকার দিয়ে উঠে। এই শব্দ অন্য কিছুর নয়,নাজিফার হাত থেকে ঝরে পড়া রক্তের টিপটিপ শব্দ। যে হাত দিয়ে সাইকোর পিঠে ছুরি মেরেছে নাজিফা। সেই হাতের একটা আঙ্গুল কেটে নেয় সাইকো। এদিকে আবার মাথাটাও হালকা লাগছিলো তার। আর সাথে সাথে নাজিফা এইটাও বুঝতে পারে,নাজিফার মাথায় কোনো চুল নেই। পুরো মাথা টাক করে ফেলেছে সাইকো। নাজিফা এখন নিজের ভুলের জন্য নিজের উপরেই রেগে যাচ্ছিলো। কারণ সাইকোর শরীরে থাকা কালো জ্যাকেটটি কোনো সাধারণ জ্যাকেট না। এটি লোহা জাতীয় একটা জ্যাকেট। আর নাজিফার হাতে সাইকো এমন ছুরিই দিয়েছিলো। যা দিয়ে লোহাকে ক্ষত করা অসম্ভব। এইজন্য ছুরি সাইকোর পিঠে ঢুকেনি৷ ছুরি দিয়ে আঘাত করার ফলস্বরূপ নাজিফাজে আবার বন্দি হতে হয়েছে৷ এই বোকামির কথা ভেবে,নাজিফা কান্না করে যাচ্ছিলো।

এদিকে রিয়াজ সোজা চলে যাচ্ছিলো শাহরিয়ার সাহেবের বাড়ির দিকে। কিন্তু মাঝ রাস্তায় রিয়াজ গাড়ি ব্রেক করে নেয় । নাজমুল যখন এর কারণ জানতে চায়,তখন রিয়াজ বলে," কিছুক্ষণ পরেই বুঝবি"। কথাটা শেষ হতে না হতে, ৪ জন পুলিশ সদস্য এবং সিনিয়র অফিসার রাস্তার কিনারা থেকে রাস্তায় উঠে। নাজমুল সিনিয়র অফিসারের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়। সিনিয়র অফিসার সোজা এসে গাড়িতে উঠলে,নাজমুল জিজ্ঞেস করে" উনি তো সেই এক মাস আগেই নিখোঁজ । রিয়াজ কিভাবে বের করলি উনাকে। সবাই আরো ভেবে নিয়েছে সিনিয়র অফিসার সাইকোর হাতে খুন হয়ে গেছে"। রিয়াজ নাজমুলের কথা শুনে বলল," সেদিন সিনিয়র অফিসারকে আমরা সুফিয়ানের বাড়িতে বন্দি রেখে এসেছিলাম। কিন্তু সিনিয়র অফিসার একটু চালাক ছিলো,তাই হয়তো আজ বেচে আছে। নয়তো সেদিনি মরতো। উনার পকেটে একটা ছুরি ছিলো৷ যা সাইকোর দলে কাজ করা অবস্থায় উনার কাছে থাকতো৷ সেই ছুরি দিয়ে উনি চেয়ার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে,এই বাকি ৪ সদস্যকে নিজের দলে নিয়ে নেয়৷ আর সেদিন সেই বাড়ি থেকে পালায়। কিন্তু সিনিয়র অফিসারকে আমি স্যালুট জানাতে চাই এইজন্য, তিনি এই এক মাস শুধু সাইকোকে ধরার কাজে ছিলেন৷ কারণ সাইকো সুফিয়ানের বাড়িতেও গিয়েছে,সিনিয়র অফিসারকে খুন করার জন্য। তখন আমি ছিলাম পাতালে বন্দি। আর ভুতুড়ে স্টাইলে কিভাবে যেনো সাইকো সুফিয়ানকে পাতাল থেকে বের করে নিয়েছে। এই এক মাসে সিনিয়র অফিসার সাইকোর ঠিকানা বের করার অনেক চেষ্টা চালিয়েছে। পাবলিকের সামনেও ভয়ে আসতে পারেনি কারণ উনি যে সাইকোর দলে কাজ করতো। সেটা সবাই জানতো৷ প্রকাশ্যে এলে হয়তো উনি গণপিটুনি খেতো"। কথাগুলো বলার মাঝে সিনিয়র অফিসার একটু মুচকি হাসে। নাজমুল আবার জিজ্ঞেস করলো," কিন্তু তুই উনাকে পাইলি কোথায়"। রিয়াজ মুচকি হেসে জবাব দিতে শুরু করে," আমি আজ সকালে থানা থেকে বের হচ্ছিলাম যখন,তখন উনি পথে একটা বোরকা পড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি বাসায় প্রবেশ করার আগেই সিনিয়র অফিসারের সাথে আমার মিট হয়েছে"। নাজমুল এইসব শুনে আকাশচুম্বী অবাক হয়। রিয়াজ আর সিনিয়র অফিসার নাজমুলের চেহারা দেখে হেসে উঠে। এরপর রিয়াজ আবার বলে," এতে কি এমন অবাক হইলি। আরো একটা চমক আছে"। নাজমুল কথাটা শুনে বলল," আরেকটা চমক? সেটি আবার কি"। রিয়াজ বলল," সামনে দেখ"।

নাজমুল এইবার গাড়ির ভিতর থেকে বাহিরে তাকিয়ে দেখে,ইন্সপেক্টর অন্তর সাহেবের স্ত্রী হেটে আসছেন।এইবার নাজমুল থ হয়ে যায়,আর বলল,

- তারমানে উনাকে তুই কিডন্যাপ করেছিস?

- না, উনাকে সাইকো কিডন্যাপ করেছে।

- ধুরু সব আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। সাইকো উনাকে কিডন্যাপ করলে,উনি এখানে কেনো৷

( কথাটা শেষ হতে হতে অন্তর সাহেবের স্ত্রীও গাড়িতে উঠে বসে। এরপর রিয়াজ আবার নাজমুলকে বলে)

- যখন ইন্সপেক্টর অন্তর সাহেব আমাকে জঙ্গলের কিনারার রাস্তা থেকে ধরেছে। তাও টোকাই বলে, তখন আমি জঙ্গলের ভিতর থেকে একটা বাইকের শব্দ শুনেছি। আর বুঝে যাই আশেপাশে সাইকো আছে। তাই অন্তর সাহেবকে সেখানেই হিট না করে,উনার কথামতো সোজা গাড়িতে এসে বসলাম। যখন গাড়ি চালু করে আমাকে নিয়ে যাচ্ছিলো। তখন আমি খেয়াল করি,কালো হেলমেট আর কালো জ্যাকেট পরিহিত একটা মানুষ জঙ্গলের ভিতর থেকে আমাকে দেখছে। আমি বুঝে যাই ওটা সাইকো। সে আমার পালানোর বিষয়ে জেনে গেছে৷ তাই একটু নরমাল ভাবে বসেছি,যাতে বুঝতে না পারে আমাকে ইন্সপেক্টর ধরে নিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবে বসে সাইকোকে এইটা বুঝিয়েছি,যাতে সাইকো মনে করে অন্তর সাহেব আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছে। আর এতে অন্তর সাহেবের উপর সাইকোর রাগ হবে৷ এবং সেই রাগে সে অন্তর সাহেবের স্ত্রী বা কন্যাকে নিয়ে যাবে। এইটা আমি তখনি বুঝে ফেলি। আর যখন সিনিয়র অফিসারের সাথে আমার দেখা হয়। তখন আমি উনার থেকে জানতে পারি অন্তর সাহেবের বাড়িতে শুধু তার স্ত্রী রয়েছেন। অন্তর সাহেবের বিয়ের এতো বছর হলেও,তাদের এখনো কোনো বাচ্চা হয়নি। আর আমার প্ল্যান মতোই,অন্তর সাহেবের স্ত্রীকে সিনিয়র অফিসার আমাদের আয়ত্তে নিয়ে আসে। আর অন্তর সাহেবের বাড়িতে রাখা কাজের বুয়াকে অন্তর সাহেবের স্ত্রী সাজিয়ে রেখে আসে। সেই কাজের বুয়া একটু খারাপ ছিলো। মানে বুঝছিস তো।

- না বুঝিনি। বুঝাই বল।

- আরেহ ঐ যে,টাকার বিনিময়ে।

- টাকার বিনিময়ে কি।

- ছোট ভাই পাশে,বুঝে নে না চুল।

- ও আইচ্ছা বুঝলাম।

- হ্যাঁ ওটাই৷ সিনিয়র অফিসার তাকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে তার গোপন পথে( যৌনাঙ্গ) একটি ট্রেকার বসিয়ে দেয়। আর এখন সেই ট্রেকার যেখানে সিগন্যাল দিবে। আমরা সেখানেই যাবো। কারণ সাইকো সেই কাজের বুয়াকে সত্যিই কিডন্যাপ করেছে। আর এতক্ষণে হয়তো তার বাড়িতেও নিয়ে গেছে। কাজের বুয়াকে এইটাও শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে,সাইকো যদি উনাকে কিডন্যাপ করে। তাইলে যেনো উনি বলে যে সে অন্তর সাহেবের স্ত্রী। তাহলে সাইকো তাকে ছেড়ে দিবে।

- বলিস কি। এইটা বললে তো আরো খুন করে নিবে।

- তা জানিনা৷ তবে অন্তর সাহেবের সাথে ঐ কাজের বুয়ার গোপন সম্পর্ক আছে। ইন্সপেক্টর প্রিতম কুমার সিনিয়র অফিসারের সাথেই গোপনে ছিলেন। আর প্রিতম কুমারের কাছে অন্তর সাহেব আর ঐ কাজের বুয়ার কিছু আপত্তিকর ভিডিও আছে৷ যেটা প্রিতম কুমার অন্তর সাহেবের ল্যাপটপ হ্যাক করে নিয়েছে৷

- আরেকজনের পার্সোনাল জিনিস তিনি হ্যাক করলো কেনো?

- অন্তর সাহেব যেভাবে থানায় কুকর্ম শুরু করেছে,সেইজন্য তাকে এই থানা থেকে বের করার প্ল্যান চলছিলো। অথচ হয়ে গেলো উল্টো। ওটার জন্যেই আজ অন্তর সাহেবের স্ত্রীকে বাচাতে পারলাম। নয়তো উনি সাইকোর হাতে যেতো।দেখলি তো,ইন্সপেক্টর অন্তর সাহেব শুধু তার স্ত্রীকে বাচানোর জন্যেই ধড়পড় করেছে। কাজের বুয়ার নাম মুখেও নেয়নি। এর শাস্তি হিসেবেই তার নাকে দড়ি লাগিয়ে এখন কাদাচ্ছি।

- এতো কিছু হয়ে গেলো, আর আমি জানিও না৷

- এইবার তো জানলি। তাহলে রওনা করা যাক শাহরিয়ার সাহেবের বাড়িতে। সিনিয়র অফিসার, আপনি কি উনাকে মেইল করে দিয়েছেন?

( কথাটা শুনে সিনিয়র অফিসার জবাব দিলেন)

- হ্যাঁ রিয়াজ ভাই। আপনার প্রয়োজনীয় সব অস্র উনি রেডি করে রেখেছেন। আপনি শুধু চোখের পলকে এট্যাক করবেন।

রিয়াজ কথাটা শুনে মুচকি হেসে গাড়ি স্টার্ট দেয়৷ আর রওনা করে শাহরিয়ার সাহেবের বাড়ির উদ্দেশ্যে।

এদিকে সাইকো কাজের বুয়ার কাটা লাশ বের করার সময় সেই ট্রেকার খুজে পায়৷ ট্রেকারটা হাতে নিয়ে সাইকো চোখের সামনে আনে। আর খিলখিল করে হেসে উঠে। এই ভয়ংকর হাসির পিছনেও যেনো,অনেক রহস্য লুকায়িত।

চলবে..........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন