#সাইকো_টাইম ( পর্ব-২৯)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
-----------------------------------------
রিয়াজ কথাটা শুনে মুচকি হেসে গাড়ি স্টার্ট দেয়৷ আর রওনা করে শাহরিয়ার সাহেবের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
এদিকে সাইকো কাজের বুয়ার কাটা লাশ বের করার সময় সেই ট্রেকার খুজে পায়৷ ট্রেকারটা হাতে নিয়ে সাইকো চোখের সামনে আনে। আর খিলখিল করে হেসে উঠে। এই ভয়ংকর হাসির পিছনেও যেনো,অনেক রহস্য লুকায়িত।
রিয়াজের গাড়ি ছুটে যায় শাহরিয়ার সাহেবের বাড়ির দিকে। কিছুক্ষণ ড্রাইভ করে উনার বাড়ির সামনে অব্দি পৌছায়। এরপর সবাইকে গাড়িতে রেখে রিয়াজ বলল," আমি কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যাক করবো৷ থাকো সবাই"। কথাটা বলে রিয়াজ ঢুকে যায় শাহরিয়ার সাহেবের বাড়িতে। এদিকে গাড়িতে অপেক্ষা করে,নাজমুল,ফাহিম,সিনিয়র অফিসার এবং তার টিম,আর অন্তর সাহেবের স্ত্রী।
প্রায় ১৫ মিনিট পর রিয়াজ কাধে একটি ব্যাগ নিয়ে সেই বাড়ি থেকে বের হয়। সবার ধারণা ব্যাগে অস্র। রিয়াজ সেই ব্যাগ নিয়ে গাড়ির পিছনে রাখে৷ আর ড্রাইভিং সিটে চলে এসে,গাড়ি স্টার্ট দেয়৷ গাড়ি রান না করেই রিয়াজ সিনিয়র অফিসারকে বলল," লোকেশন ট্র্যাকিং করুন।কোথায় দেখাচ্ছে"। সিনিয়র অফিসার কিছুক্ষণ তার ডিভাইস চেক করে বললেন," এখান থেকে পূর্ব সাইডে৷ শহরের বাহিরে না৷ শহরের মধ্যেই লোকেশন দেখাচ্ছে৷ "। রিয়াজ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল," কত কিলোমিটার "। সিনিয়র অফিসার আবার ডিভাইস চেক করে জানালেন," এখান থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে"। রিয়াজ আবার কি যেনো চিন্তা করে বলল," ঠিক আছে আমাকে পথ ইঙ্গিত দিন"। কথাটা বলেই গাড়ির একটা ভৌ... সাউন্ড হয়। অর্থাৎ বাতাসের গতিতে রিয়াজ ছুটে যায় সাইকোর বাড়ির উদ্দেশ্যে।
তো ঘটনা কতটুকু এগিয়ে গেলো? এ যেনো এক সফলতার প্রভাব। অনেকগুলো মানুষ নিয়ে টিম হয়ে যায়। আর সেই টিম নিয়ে সাইকোকে ধরার মিশন হচ্ছে। অথচ সাইকোর হাতে সেই ট্রেকার ধরা খেলো। রহস্যটা যেনো চারপাশ ঘিরে গর্জন দিচ্ছে। পথটা অতি নিকটে হলেও রহস্য সেই পথকে যেনো টেনে লম্বা করে দিচ্ছে। যার অপর প্রান্তে পৌছে যাওয়ার পরেও বার বার প্রথম থেকে শুরু করতে হয়।
সাইকোর এমন মস্তিষ্ক শুধু শুধুও হয়নি। শহরের ডিপার্টমেন্টকে চুনকালি মাখিয়ে বিশাল একটা টিম সেও নিয়ে ফেলেছে। তাকে ধরার কাজটা কি আবার ব্যার্থ হবে? এই ভাবনার মাঝে এগিয়ে যাচ্ছে ঘটনা। চলুন, সাইকোর লোকেশনে রিয়াজরা পৌছে গেছে৷ এইবার ফিরে যাই ঘটনায়।
- রিয়াজ ভাই৷ চলে এসেছি। এখানেই লোকেশন থেমে যাচ্ছে।
- আপনি শিওর তো?
- হ্যাঁ, এইজে মাত্র বাম দিকে ১৫ গজ দূরে।
- আপনি ডিভাইস থেকে চোখ সরিয়ে একটু সামনে তাকান।
সিনিয়র অফিসার ডিভাইস থেকে চোখ সরিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখে, বাম পাশে একটা শপিং মল। সিনিয়র অফিসার চোখ থেকে তার সাদা চশমাটা সরিয়ে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখে, এইটা শহরের নামকরা মার্কেট। হাজার হাজার মানুষ ঢুকছে এবং বের হচ্ছে। এখানে সাইকো কেনো তার বাড়ি বানাবে। সিনিয়র অফিসার বেকুব হয়ে যায়। নাজমুল কিছু একটা ভেবে রিয়াজকে বলল,
- সাইকো কি কোনোভাবে সেই ট্রেকার পেয়ে যায় নি তো? হয়তো সাইকো ট্রেকারটি হাতে নিয়ে এই শপিং মলের কোনো একটি স্থানে রেখে দিলো। যাতে আমরা তার কাছ অব্দি যেতে না পারি।
( কথাটা শুনে রিয়াজ গম্ভীর গলায় সিনিয়র অফিসারকে প্রশ্ন করে বসে)
- আপনি নাজমুলের কথাটা শুনেছেন তো? সাইকো কি সেই ট্রেকার সরিয়েছে?
- না রিয়াজ ভাই৷ এখানেই তো দেখালো তখন।
- ওকে আমাকে এইটা বলুন। লাস্ট কবে এই ট্রেকার ব্রেক করেছে। মানে কিডন্যাপ করার পর।
- বিকেল ৫ টায় থেমেছে।
- এখানেই থেমেছে?
- হ্যাঁ এখানেই।
- আর নড়েনি?
- হ্যাঁ, কিন্তু বেশি না। ডানে বামে হিসেব করলে ২০-৩০ ফুট নড়েছে।
- হুম বুঝলাম। সবাই গাড়ি থেকে নামো।
রিয়াজ কথাটা বলেই গাড়ি থেকে নামে। এরপর সবার উদ্দেশ্যে বলল," সবাই নামো। সাইকো এখানেই৷"। রিয়াজের কথামতো সবাই গাড়ি থেকে নেমে যায়৷ এরপর রিয়াজ গাড়ির পিছন থেকে সেই ব্যাগ বের করে আনে। এবং গাড়ির সামনের স্থানে ব্যাগ রেখে রিয়াজ ব্যাগ থেকে কয়েকটি মাস্ক বের করে। এইটা করোনা ভাইরাস থেকে বাচার মাস্ক নয়৷ মাথার পিছন অব্দি ঢেকে রাখা মাস্ক। ওসব মাস্ক দেখে নাজমুল বলল," মাস্কের কি কাজ এখানে"। রিয়াজ একটা মাস্ক নিজের মুখে লাগাতে লাগাতে বলল," সাইকোকে ধরতে যাচ্ছি ম্যান। সে হেলমেট পড়ে ভাব দেখায়। আমরা মাস্ক পড়ে দেখাবো। মিশনে একটা ভাব আছেনা?"। নাজমুল কথা শুনে বলল," তোর শরীরে চর্বি বেড়ে গেলো কেমনে"। রিয়াজ মাস্ক মুখে লাগিয়ে নেয়৷ এরপর ব্যাগ থেকে একটা ছোট পিস্তল বের করে হাতে নিতে নিতে বলল," সাইকোকে আমি চিনে ফেলেছি। এখন শুধু তাকে ধরে তার সাইকো হবার কারণ জানা বাকি। সবাই মাস্ক পড়ে হাতে পিস্তল নিয়ে রেডি হও। আর জুঁই মেডাম( অন্তর সাহেবের স্ত্রী) আপনি গাড়িতে অপেক্ষা করুন৷ যদি মার্কেটের বাহিরে অনেকগুলো বাইক আসতে দেখেন। তবে আমাকে ইনফরমেশন দিবেন৷ বাহিরের সব খবর আপনি জানাবেন। মার্কেটের ভিতরে সব কন্ট্রোল করবে সিনিয়র অফিসারের টিম এবং সিনিয়র অফিসার। আর আপনাদের সাথে ফাহিমকেও রাখবেন। আমি এবং নাজমুল যাবো সাইকোকে আটকাতে"। কথাটা বলেই রিয়াজ মার্কেটের দরজায় একটা বুলেট ছুড়ে দেয়। মানে ট্রিগার চেপে মার্কেটের গ্লাসের দরজায় গুলি করতেই,গ্লাস ভেঙ্গে পড়ে গেছে। গ্লাস ভাঙ্গার শব্দ শুনে মার্কেটের ভিতর হৈচৈ শুরু হয়। মানুষজন সব এদিক সেদিক দৌড়ে বাহির হতে থাকে। রিয়াজ তার টিমকে বলল," পজিশন"।
সাথে সাথে জুঁই বেগম গাড়িতে উঠে বসে। মুখে মাস্ক পরিহিত রিয়াজ, নাজমুল,ফাহিম, সিনিয়র অফিসার এবং তার টিম দৌড়ে যায় মার্কেটের ভিতর। মানুষজন ছুটাছুটি করে সব বের হয়ে যাচ্ছে। মার্কেটের দোকানদার'রা দোকান অফ করেই যে যেমনে পারলো পালিয়েছে। শহরের নামকরা শপিং মলে এমন আক্রমণের কথা শুনে পুরো ডিপার্টমেন্ট খবর ছড়ায়। আর্মি,সেনাবাহিনী এবং পুরো পুলিশ ফোর্স রাস্তায় নেমে গেছে। সবাই মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওনা করে। এদিকে রিয়াজ সহ তার টিম মার্কেটে ঢুকার পর রিয়াজ ডাক দিয়ে বলে," সিনিয়র অফিসার, আপনি চার পাঁচজন লোককে আটক করে পিস্তল টার্গেট করে রাখুন। যাতে ডিপার্টমেন্ট এর কোনো লোক প্রবেশ করতে না পারে"। সিনিয়র অফিসার কথাটা শুনেই খাপ করে দুইটা মেয়েকে ধরে নেয়। এবং তাদের ফ্লোরে বসিয়ে হাত বেধে ফেলে। যদিও রিয়াজ ছাড়া সবাই অবাক হয়েই যাচ্ছে। রিয়াজের উদ্দেশ্য কি,তা এখনো কেও বুঝতে পারেনা। তবুও রিয়াজের কথানুযায়ী কাজ সবাই করে যাচ্ছে। ফাহিম সহ সিনিয়র অফিসারের টিম মার্কেটের মুখেই সেই দুইটা মেয়েকে আটক করে দাড়ায়।রিয়াজ লিপ্টে উঠার আগে সিনিয়র অফিসারকে বলে," যদি ডিপার্টমেন্ট থেকে কেও প্রবেশ করার চেষ্টা করে,তবে সেই মেয়ে দুটিকে মারার ভয় দেখিয়ে আটকে রাখবেন। যাতে কেও না ঢুকতে পারে"। কথাটা বলে নাজমুল সহ রিয়াজ লিপ্টে উঠে যায়। বাহিরের ডিভাইসে সিনিয়র অফিসার এক ঝলক দেখে নেয়। রিয়াজ এবং নাজমুল গোডাউনের দিকে নামছে। অর্থাৎ মার্কেটের নিচের তলায়। সিনিয়র অফিসার তার ডিউটি পালন করায় ব্যাস্ত হয়ে যায়। এদিকে রিয়াজ আর নাজমুল গোডাউনে নেমে যায়।
লিপ্ট থেকে নেমেই রিয়াজ নাজমুলকে বলে," আশেপাশে কোনো গোপন পথ আছে।খুজে বের কর তাড়াতাড়ি "। নাজমুল কথামতো আশেপাশের ইট খুজতে শুরু করে। কারণ গোপন দরজা হিসেবে সাইকো সবসময় ইট ব্যাবহার করেছে। রিয়াজও এদিক সেদিক খোজা শুরু করে। নাজমুল গোডাউনের মাঝে থাকা বিভিন্ন ভাঙ্গা টেবিল,চেয়ার সরিয়ে খুজে যাচ্ছে গোপন পথ। রিয়াজও গোডাউনের চারপাশে পথ খুজে যাচ্ছে। সেই মুহুর্তে সেখানে চলে আসে সিকিউরিটি গার্ড।
বাংলাদেশে সাধারণত মার্কেট সিকিউরিটি গার্ডের হাতে কোনো বন্দুক থাকেনা। তাই তিনি একটা লাঠি নিয়ে এসে রিয়াজকে বলল," এখান থেকে একটা গাড়ি চুরি করার আগে আমাকে মারতে হবে"। রিয়াজ সিকিউরিটি গার্ডের দিকে তাকিয়ে দেখে,একজন বৃদ্ধ লোক। গায়ে সিকিউরিটি পোষাক,এবং মাথায় একটা নামাজের টুপি। রিয়াজ উনার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল," চাচা, আমি আপনাকেই খুজছিলাম। আমরা এখানে পার্কিং এর গাড়ি চুরি করতে আসিনি। সাইকো এখানে লুকিয়েছে৷ তাকে ধরতে এসেছি। আপনি তো সবসময় এখানেই থাকেন। আশাকরি আপনি সাহায্য করবেন আমাকে"। সিকিউরিটি গার্ড রিয়াজের কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল," আমাকে দেখে কি বোকা মনে হয়?"। রিয়াজ বৃদ্ধের কথা শুনে বেকুব হয়ে যায়। কিভাবে বিশ্বাস করাবে সেটাই ভাবছে। তখনি সিকিউরিটি গার্ড আবার বলে উঠলো," কিন্তু সাইকোর ব্যাপারে যদি আমাকে বোকা বানাও। তবে আমি বোকা হতে রাজি। "। রিয়াজ সিকিউরিটি গার্ডের দিকে তাকিয়ে এইবার আরো বেশি অবাক হয়।সিকিউরিটি গার্ড কথাটা বলেই কান্না শুরু করে। রিয়াজ দৌড়ে এসে তার সামনে দাঁড়ায়। এরপর উনার কাধে এক হাত দিয়ে বলল,
- আমাকে বলুন কি হয়েছে।
- আমার একমাত্র মেয়ে সাদিয়া। মেরে ফেলেছে ঐ নিষ্ঠুর সাইকো। ছোটবেলা থেকে মেয়েটাকে একটা ফুলের আঘাত পেতে দেইনি। অথচ টিভি চ্যানেলে আমার মেয়ের উলঙ্গ লাশ প্রকাশ হচ্ছিলো। বার বার আমার মেয়ের দেহ দেখানো হচ্ছিলো। আমি কান্না করতে পারতাম শুধু। এর চেয়ে বড় কিছু করার ক্ষমতা আমার ছিলো না। অনেক প্রভাবশীল মেয়ের লাশের হুদিশ পাওয়া যাচ্ছিলো না,সেখানে আমি একটা সিকিউরিটি গার্ড হয়ে কি বা করতাম। তাই সেই সাইকোকে ধরার জন্য আমি আমার জীবনও দিয়ে দিবো। বলো বাবা,আমাকে কি করতে হবে।
- এখানে কতদিন আপনি ডিউটি করেন।
- কতদিন না,প্রায় ৪ বছর ধরেই নাইট গার্ড হিসেবে আছি।
- ঠিক আছে। আপনি একটু মনে করে দেখুন। এই গোডাউনে আপনি কোন জিনিসটা বেশি খেয়াল করেছেন। মানে কোন জিনিসটা আপনার কাছে সন্দেহজনক মনে হতো।
- তেমন কিছু তো নেই। কিন্তু হ্যাঁ
- কিন্তু কি।
- ঐজে লাল কালারের গাড়িটা। ওটা আমি প্রতিদিন ওখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। গত ২ বছর ধরেই এই গাড়িটা এখানে প্রতিদিন আসে।
- এই গাড়ির মালিককে চিনেন?
- না বাবা। একটা মেয়েকে দেখি বার বার।
- হুম তাহলে ঠিক আছে। এইটাই সাইকোর।
রিয়াজ আর কিছু না বলে নাজমুলকে ডাক দেয়। আর দুজন মিলেই সেই গাড়ির কাছে যায়। রিয়াজ গাড়িটা ধরে ধাক্কা দিতে থাকলে,গাড়িটা জায়গা থেকে সরে যায়। আর গাড়ির ঠিক নিচে ওরা দেখতে পায়,একটা আংটা। মানে গোপন দরজা। রিয়াজ আংটা খুলতেই দেখে,একটা সিড়ি নিচে নেমে গেছে। তবে অনেক অন্ধকার। রিয়াজ সিকিউরিটি গার্ডের দিকে তাকালে সে বলে," এ নিন স্যার। লাইট"। রিয়াজ গার্ডের থেকে লাইট নেয়।আর নাজমুল সহ প্রবেশ করে সিড়ি বেয়ে নিচে।
প্রথম সিড়ির ধাপ পেরিয়ে তারা একটাই গলি দেখে। এবং সেই গলির মুখেই একটা দরজা। রিয়াজ আর নাজমুল পিস্তল টার্গেট রেখে সেই দরজার কাছে যায়। আর দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলতেই দেখে, অনেক বড় একটা রুম। একটা হল রুম। দেওয়ালে অনেক বড় বড় টিভি লাগানো৷ সেই টিভিতে পুরো মার্কেটের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা যাচ্ছে। এবং সব ফুটেজ একমনে দেখে যাচ্ছে একটা মানুষ। তার মাথায় হেলমেট এবং গায়ে কালো জ্যাকেট। রিয়াজ আর নাজমুল তার দিকে বন্দুক টার্গেট করে। কালো হেলমেট পরিহিত লোকটা ফুটেজ থেকে মাথা ঘুরিয়ে রিয়াজের দিকে তাকায়। ওর হাতেও একটা পিস্তল আছে। খুব ঠান্ডা মাথায় সাইকো বসে আছে। নাজমুল কিছুক্ষণ সাইকোর দিকে তাকিয়ে বলল," কিরে রিয়াজ। এইটা তো এতক্ষণ আমাদের দেখছিলো ক্যামেরায়। কিন্তু পালালো না কেনো। ওর এইটাকে দেখে তো মনে হচ্ছেনা এইটা কোনো ছেলে"। নাজমুলের কথায় রিয়াজ মুচকি হাসে। এবং সাইকোর দিকে তাকিয়ে বলল,
- তাজকিয়া। তোর খেলা শেষ। তুই ধরা পড়ে গেছিস।
কথাটা শুনে সাইকো চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। এরপর ওর হাতে থাকা পিস্তলটি ফ্লোরে ফেলে দেয়। নাজমুল রিয়াজকে বলে," রিয়াজ,সাইকো কোনো চালাকি করতে যাচ্ছে। গুলি করে দেই"। রিয়াজও পিস্তল নামিয়ে নাজমুলকে বলল," না। এই মেয়েকে বলতে হবে তার গল্পটা। সে তার গল্প না বলা অব্দি মরতে পারবো না"। এদিকে সাইকো কথাটা শুনেই হাসতে শুরু করে। মেয়েলি কন্ঠে এতো জোরে জোরে হাসছে,যেনো কানের পর্দা ছিড়ে যাচ্ছে তাদের৷ এরপর তাজকিয়া( সাইকো) বলল," আমাকে গুলি করো। মেরে ফেলো"।
চলবে.........