ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিকুঞ্জ কাহন

১৯তম পর্ব

লেখক: নুজহাত আদিবা

‎#নিকুঞ্জ_কানন

‎#নুজহাত_আদিবা

[পর্ব ১৯]

‎(কপি ও অন্যত্র ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ❌)

রুমির আজ প্রথম কলেজ যাওয়ার দিন। সকাল থেকেই উল্লাস আর উৎফুল্লতার অন্ত নেই। কলেজের ড্রেস পড়ে মাজদাকের হাত ধরে প্রথমবারের মতো কলেজ গেল সে। আহসান আজকে প্রথম কলেজ যাওয়ার উপলক্ষে রুমিকে একশো টাকার দু'টো নোট দিয়েছে। সেগুলো দিয়ে আজকে বেলপুরি, ফুচকা আর ঝালমুড়ি খাবে সে। কলেজে যাওয়ার পথেই ফাইল নিয়ে হেঁটে বলা রঙ্গনের সঙ্গে দেখা হলো তাঁর। রঙ্গন লক্ষ্য করলো সাদা ধবধবে কলেজ ড্রেস; পরিহিত বিনুনি বাঁধা একটা মেয়ে মাজদাকের হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে। রুমির কথা মাথায় আসতেই রঙ্গন দ্রুত হেঁটে গিয়ে মাজদাককে সালাম দিয়ে বললো,

"কেমন আছেন খালুজান?"

মাজদাক হেসে সালামের জবাব নিয়ে বললেন,

" ভালো বাবা। এত তৈরি হয়ে ফাইল নিয়ে কোথায় যাচ্ছো?"

রঙ্গন চুলে হাত বুলিয়ে ফাইলটা শক্ত করে ধরে বললো,

" দোয়া করবেন চাচা। চাকরির পরীক্ষা দিতে চাচ্ছি। চাকরিটা হলে আপনার মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে চলে যাবো।"

শেষের কথাটা বিরবির করে বলায় মাজদাক শুনতে পেলেন না। রুমি অবশ্য রঙ্গনকে দেখে মনে মনে তাঁকে ভেংচি কেটে বললো,

" তুই শা'লা ফেল করবি ফেল!"

★

আজ মনোয়ারা আর গুনগুন এসেছে তরীকে দেখতে। গুনগুন এখন ক্লাস ফাইভে পড়ে। তাঁর এখন দশ বছর হয়েছে। তরীকে মা আর বোনের আকষ্মিক আগমনে বেজায় খুশি। মনোয়ারা শোভাকে অনুরোধের সূরে বললেন,

" তরীকে আমার সঙ্গে নিয়ে যাই? এই অবস্থায় থাকুক না আমার কাছে কয়েকটা দিন। ওর বাবা বেঁচে থাকলে কী যে খুশি হতেন! মেয়েকে মাথায় তুলে রাখতেন।"

শোভা গুনগুনকে কোলে বসিয়ে বললেন,

" আসলে প্রথম বাচ্চা তো আমরা চাইছিলাম আমাদের কাছেই থাকুক। আপনার ভাই তো তরীকে এখনই চোখে হারায়। আপনি বলেছেন যেহেতু আমি অবশ্যই তরীকে পাঠাবো। কিন্তু আজ নয়। এখনই সন্ধ্যা নেমে গেছে। আপনাদের যেতে যেতে রাত হয়ে যাবে। কাল সকাল সকাল আহসান গিয়ে দিয়ে আসবে। একটু খেয়াল রাখবেন ওর। আর তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দেবেন। ওকে ছাড়া বাড়ি ফাঁকা ফাঁকা লাগে।"

মনোয়ারা মুচকি হেসে শোভার সঙ্গে গল্পে মেতে উঠলেন। হায়দারের মৃত্যুর পর এই বাড়িতে এই প্রথম তাঁর আসা। হায়দার বেঁচে থাকাকালীন অনেকবার তাঁর সঙ্গে এসেছে সে। মানুষটা নেই আজ কতটা দিন হয়ে গেল!

গুনগুন তরীর কাছে চুপটি করে বসে বললো,

" মা ঝর্না খালামনিকে বলছিল তোমার পেটে নাকি একটা বাবু আছে। কোথায় সেই বাবুটা? আমাকে দেখাও!"

তরী গুনগুনের গাল টেনে দিয়ে বললো,

" এখন না। আরো অনেকগুলো দিন যাক। তারপর আমি বাবু আর তুমি একসঙ্গে পুতুল খেলবো। ঠিক আছে?"

গুনগুন মাথা দুলিয়ে বললো,

" বাবুটাকে রাতে আমাদের মাঝখানে রেখে ঘুমাবো হ্যাঁ? আমাদের খাটটা উঁচু না? যদি পরে যায়?"

তরী সায় দিয়ে বললো,

" হ্যাঁ। ও খুব ছোট্ট এখনও। বাবু তোমার কথা সেদিন বলেছে জানো?"

গুনগুন বড়বড় চোখে চেয়ে বললো,

" কী বলেছে বুবু? ও খেলবে আমার সঙ্গে? "

তরী গুনগুনের গালে চুমু বসিয়ে বললো,

" হুম। ও বলেছেন গুনগুন খালামনি কোথায়? গুনগুন খালামনি কোথায়? পঁচা খালামনিটা কেন দেখতে আসে না আমায়?"

গুনগুন ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,

" কোথায়? আমি তো এলাম আজকে। বাবুটাকে বলে দেবে আমি ওর সঙ্গে কাট্টি নিয়েছি। ও পঁচা বলেছে আমাকে!"

তরী জবাবে বললো,

" বাবু তো তাহলে অনেক কাঁদবে! গুনগুন খালামনিকে ও অনেক ভালোবাসে। গুনগুন খালামনি কাট্টি নিলে ও কার সঙ্গে পুতুল খেলবে?"

গুনগুন মুখ ভার করে কী যেন ভাবলো। অতঃপর বললো,

" না থাক বাবুর সঙ্গে কাট্টি শেষ। ওর সঙ্গে ভাব ভাব ভাব! ওকে বলে দেবে ও যেন না কাঁদে। আমি ওর সঙ্গে পুতুল খেলবো।"

তরী হেসে গুনগুনের ফোলা গালে আবারও চুমু বসালো। রুমি এসে গুনগুনকে তাঁর ঘরে নিয়ে সাজিয়ে দিলো। এই বয়সেই সাজগোজের প্রতি কী দূর্বলতা! ও বাড়িতে থাকাকালীন তরীর পিছু পিছু চিরুনি নিয়ে শুধু ঘুরতো। সুন্দর করে চুল বেঁধে দেওয়ার জন্য।

★

আজ সকালে তরীর জন্য ঔষধপত্র, ফলমূল কিনতে গিয়ে সৌম্যর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে আহসানই দিলশানের প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছিল। সৌম্য নতমুখে দিলশানের ব্যাপারটা খুলে বললো। দিলশান সৌম্যর সঙ্গে নতুন একটা জীবন শুরু করতে রাজি নয়। বারবার করে সৌম্যকে বলেছে সৌম্য যেন বিয়ে করে নেয়। স্ত্রী, সন্তান নিয়ে সুখে থাকে। সৌম্য যাওয়ার পথে আহসানকে দিলশানের নাম্বারটা দিয়ে বলেছে,

" সময় করে ওকে ফোন করে একটু বুঝিয়ে বলিস বন্ধু। দিলশান ছোট বাচ্চা নয়। একটু হলেও তোর কথা বুঝবে।"

কাজের ফাঁকে সৌম্যর দেওয়া নাম্বারটায় কল করলো আহসান। দু'বার রিং হলো; তৃতীয় বারের বেলায় দিলশান কলটা ধরে বললো,

" হ্যালো, কে বলছেন?"

আহসান শান্ত গলায় বললো,

" আহসান। পলাশনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তোমার ব্যাচমেট বলছি।"

দিলশান বিষ্মিত হয়ে বললো,

" আরে আহসান! কেমন আছো আহসান? কতবছর পর তোমার সঙ্গে কথা। পুষ্পিতার কাছে শুনেছিলাম বিয়ে করেছো। তোমার ওয়াইফ কেমন আছে?"

আহসান তপ্ত শ্বাস ফেলে বললো,

" আমি আমার ওয়াইফ দুজনেই ভালো আছি। তুমি কেমন আছো দিলশান? জীবনকাল কেমন চলছে?"

দিলশান মৃদু হেসে বললো,

" ছোটখাটো প্রাইভেট স্কুলের মাস্টারনির জীবন আর কেমনই হতে পারে? তোমার কেমন চলছে তাই বলো।"

আহসান হেলান দিয়ে বসে বললো,

" কিছুদিনের মধ্যেই প্রাইমারী স্কুলের জয়েনিং। বাবা হচ্ছি দোয়া করো দিলশান।"

দিলশান আফসোসের সূরে বললো,

" তুমি কী সুন্দর নিজের জীবনটাকে সাজিয়ে নিয়েছো আহসান। বিয়ে করেছো, বাবা হচ্ছো। সৌম্য যদি একটু নিজের দিকটা দেখতো! ও কী পারতো না সবকিছু ভুলে গিয়ে নতুন করে শুরু করতে?"

আহসান ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,

" সেটাই তো করতে চাচ্ছে দিলশান। একবার ভেঙ্গে গুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দিয়েছো মানুষটাকে। সবকিছু ভুলে তোমার সঙ্গে একটা নতুন কিছুর সূচনা করতে চেয়েছিল। তুমি আগের বারের মতোই হেলায় হারিয়ে দিচ্ছো। তুমি খুব কঠিন দিলশান। একটা মানুষকে কয়বার ভাঙ্গবে দিলশান?"

দিলশানের চোখে জল চলে এলো। ভেজা গলায় আহসানকে বললো,

" আমি ডিভোর্সি আহসান। একটা মিসক্যারেজ হয়েছিল। নানারকম মেয়েলী সমস্যায় এখনও ভুগছি। ইউটেরাস এতটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যে, ভবিষ্যতে মা হতে পারবো কিনা তাও জানি না। আমি কীভাবে সৌম্যর মতো একটা আনম্যারেড ছেলেকে নিজের সঙ্গে জড়াই?"

আহসান নির্বিগ্নে বললো,

" তাই বলে এবারও খালি হাতেই ফিরিয়ে দেবে?"

দিলশান কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

" আমার যে দেওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই আহসান! কী দেবো সৌম্যকে আমি?"

আহসান প্রত্যুত্তরে বললো,

" তোমার চেয়ে বড় পাওনা সৌম্যের কাছে আর কী হতে পারে দিলশান?"

দিলশান কান্না সামলে বললো,

" সৌম্যকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে জলদি একটা বিয়ে দিয়ে দাও। সংসারের চাপে আমাকে ভুলে যাবে। আমি একটা ডিভোর্সি মেয়ে। সন্তান সুখও দিতে পারবো না। তাছাড়া সমাজ কী বলবে আহসান? সৌম্য আনম্যারেড ছেলে। বিয়ে করলে ওর সব হবে। আমি তো ওকে ওর প্রাপ্য কিছুই দিতে পারবো না।"

আহসান নরমসূরে বললো,

" ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেই এক কথা দিলশান। তুমি দুইদিন না খেয়ে থাকো সমাজ কিছু বলবে না। কিন্তু খিদের তাড়নায় একটা রুটি চুরি করে দেখো? দেখবে তোমার বিচারে কত বীরপুরুষদের আগমন! সমাজের কথা ভুলে যাও দিলশান। নিজেকে নিয়ে ভাবো। নিজের জন্য স্বার্থপর হওয়াটা মন্দ কিছু নয়। তোমার জীবনেও তো কম কিছু ঘটেনি। অতীতটাকে না ঘাটিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে একটু ভাবো। তোমার একটা ছোট্ট সংসার হলো সৌম্যের সঙ্গে। একটু ভেবে দেখো না দিলশান? খুব মন্দ হবে কী এমনটা হলে?"

দিলশান চোখ বুঁজে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। এমনই তো একটা স্বপ্ন ছিল তাঁর। সৌম্যের সঙ্গে ছোট্ট একটা সংসারের। সেটা তো হলোই না! যাকে বিশ্বাস করে ঘর করেছিল। সেটাও নিভৃতে ভেঙ্গে গেল!

★

মনোয়ারা গুনগুনকে নিয়ে সন্ধ্যার পরপরই আহসান আসার আগে চলে গেছেন। শোভা বারবার করে বলেছিল খেয়ে যেতে। গুনগুন ছোট মানুষ আবার সঙ্গে কোনো পুরুষ মানুষ নেই বিধায় তাড়াতাড়িই চলে গেছেন। আহসান মনোয়ারার আসার কথা শুনে দ্রুতই বাড়ি ফিরলো। তবুও তাঁদের দেখা পেলো না। মনোয়ারা ততক্ষণে বেরিয়ে গেছেন। আহসান ঘরে ফিরলে এখন আর সঙ্গে সঙ্গেই তরীর কাছে তাঁকে যেতে দেননা মধুবিবি। আহসান সন্ধ্যার পরপরই বাড়ি ফেরে। পাছে আহসানের পিছু ধরে খারাপ জিনিষ না তরীর কাছে যায় সেই ভয়ে; আহসানকে চুলোর কাছে নিয়ে হাত গরম করে সূরা-কারাত পড়িয়ে গায়ে ফু দিয়ে তারপর তরীর কাছে পাঠান। আহসান প্রথম প্রথম বিরক্ত হলেও এখন আর কিছু বলে না। রুমির পরে এতবছর পর বাড়িতে বাচ্চা আসছে তাই সবার বাড়াবাড়িটা একটু বেশি। এখন রুমিকেও ডাক দিলে আগের মতো আর খুঁজে পাওয়া যায় না। মধুবিবির সঙ্গে বসে বসে রুমিও এখন কাঁথা সেলাই করে। আহসান ঘরে গিয়ে দেখলো তরী বিছানায় শুয়ে আছে। আহসানকে দেখে দ্রুত উঠে বসে বললো,

" জানেন আজ গুনগুন এসেছিল! গুনগুন বলেছে আমাদের বাবুর সঙ্গে পুতুল খেলবে। হিহি!"

আহসান তরীর পাশে গিয়ে বসলো। তরীকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে বললো,

" তা খেলুক। আমার পুতুল তো আমার তুলতুল।"

তরী আহসানের পাঞ্জাবির বোতাম ঘোরাতে ঘোরাতে লজ্জায় মুখ গুঁজলো। আহসান কয়েক মিনিট নীরব থেকে বললো,

" বাবুর বয়স কতদিন হলো? কথা বলতে পারে সে?"

তরী মাথা তুলে বললো,

" দেড় মাস একদিন। আমার সঙ্গে অনেক গল্প করে বাবু। কিন্তু, আপনার সঙ্গে রাগ করেছে তাই কথা বলবে না।"

আহসান তরীর চুলে বিলি কাটতে কাটতে বললো,

" উম ভাবার বিষয়! আমাদের বাবুর একটা নাম রেখেছি জানো?"

তরী উৎসাহী হয়ে বললো,

" কী নাম?"

আহসান মুচকি হেসে বললো,

" তুবা! নামের আগপিছু কী হবে তা এখনও ভাবিনি। ডাকনাম হবে তুবা। সুন্দর না?"

তরী আহসানের বুক থেকে সরে গিয়ে বললো,

" কীসের তুবা? এটা তো মেয়েদের নাম। আমার তো আপনার মতো একটা ছেলেবাবু চাই!"

আহসান তরীকে ফের বুকে টেনে নিয়ে বললো,

" উহুম! আমাদের মেয়ে বাবুই হবে। তুলতুলের মতো অভিমানী, কাঁদুনি একটা মেয়ে বাবু। তুমি আমার তুবার আম্মু!"

তরী ভ্রু কুঁচকে বসে রইলো। এই লোক সবসময় বেশি বোঝে! বাবুটা তাঁর সঙ্গে সারাদিন কথা বলে। সে বুঝি জানে না বাবু ছেলে নাকি মেয়ে? তরীর তো একটা ছেলেবাবু চাই। আহসানের মতো ঠোঁট টিপে মুচকি হাসা ছেলে বাবু।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘরে এসে; আহসান বিছানায় তরীকে জড়িয়ে ধরে বললো,

" কালকে নাকি তুবার নানুবাড়ি যাচ্ছেন তুবার আম্মু? কয়দিন থাকবেন?"

তরী উৎফুল্ল হয়ে বললো,

" মা বলেছে কমপক্ষে একমাস যেন থাকি। অনেকদিন পর যাচ্ছি তো।"

আহসান মৃদু চিৎকার করে বললো,

" একমাস?"

তরী আহসানের আপত্তি আছে বুঝতে পেরে বললো,

" আচ্ছা পনেরো দিন থাকবো তাহলে।"

আহসান নিরাশ হয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,

" পনেরো দিন? আমার তোমাকে আর বাবুকে ছাড়া ঘুম আসবে বলো তুলতুল? আমার দিকটাও একটু বিবেচনা করা দরকার। পনেরো দিন অনেক বেশিদিন। আমি তোমাদের ছাড়া থাকতে পারবো না!"

তরী কয়েক লহমা ভেবে ভেবে বললো,

" আচ্ছা এক সপ্তাহ থাকবো। আপনি কিন্তু আর রাগ করতে পারবেন না। বাবু বলেছে বাবু নানাবাড়ি ঘুরতে চায়। আমার কী দোষ?"

আহসান আর আপত্তি করলো না।কথামতো তরীকে ঠিকই পরদিন সকালে বাড়িতে রেখে এলো আহসান। মনোয়ারা মেয়েকে দেখে ভেবেছিলেন কমপক্ষে একমাস তো কাছে রাখবেনই! আহসানের কাছে তরীর থাকার মেয়াদ এক সপ্তাহ শুনে মনটা খারাপ হলো। কিন্তু কীসের এক সপ্তাহ? দিনে ত্রিশবার করে তরী-ই মনোয়ারার ফোন থেকে আহসানকে কল করে। রাতে ঘুমোতে গিয়েও বাদ নেই। ফিসফিস করে মাঝরাত অবধি আহসানের সঙ্গে গল্প করে। শেষ অবধি না থাকতে পেরে চারদিনের দিনই তরীকে বাড়ি নিয়ে গেল আহসান। মনোয়ারা এসব কীর্তিকলাপ দেখে বেজায় হাসলেন। বিয়ের কথা শুনে যে মেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই নাকোচ করে দিয়েছিল।বিয়ের দিনও মুখ গোমড়া করে বসেছিল। সে আজ বরকে ছাড়া এক সপ্তাহও থাকতে পারছে না। কী ভয়ংকর সুন্দর ব্যাপার-স্যাপার! এই জীবনে ম'রে গিয়েও শান্তি এক জায়গায়ই।তরীকে তিনি ভুল কারো হাতে তুলে দেননি। সারাজীবন যেন এভাবেই সুখে থাকে মেয়েটা।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন