#নিকুঞ্জ_কানন
#নুজহাত_আদিবা
[পর্ব ২২]
(কপি ও অন্যত্র ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ❌)
" মা সকালে ফোন করেছিল। বললো শরীরটা ভালো হলে ঘুরে যেতে। মা নিতে আসতো কিন্তু গুনগুনের পরীক্ষা চলছে। তাই আমি নিষেধ করেছি। আপনি যেতে দেবেন আমায় ও-বাড়ি?"
আহসান তখন কাজে যাবে। সদ্য গোসল সেরে বাইরে এসেছে সে। তরীর কথা শুনে সে মাথা মুছতে মুছতে বললো,
" তোমার কী মতামত তুলতুল?"
তরী ইনিয়েবিনিয়ে বললো,
" আসলে মন-মেজাজ কোনোটাই সেভাবে ভালো নেই। যদি হাওয়া বদল হতো তাহলে খুব ভালো লাগতো। তাই ভাবছিলাম ক'টা দিন থেকে আসবো।"
আহসান তরীর কাছে এগিয়ে এলো। ভেজা চুলগুলো ঝাঁকিয়ে চুলের পানি গুলো তরীর মুখে ফেললো। তরীর গালের সঙ্গে নিজের গালটা মিশিয়ে নিলো। ছোট্ট ছোট্ট চাপা দাঁড়িগুলো তরীর গালে ঘঁষে দিলো। তরী সুরসুরিতে চোখ বন্ধ করে ফেললো। নরমসূরে বললো,
" কী করছেন? ভিজে যাচ্ছি তো!"
আহসান তরীর থুতনিতে চুমু খেয়ে বললো,
" বেশ যাও! তুমি ভিজে যাও, ডুবে যাও, ভেসে যাও। কিন্তু পানিতে না আমার প্রেমে!"
তরী লজ্জায় কোনো উত্তর দিতে পারলো না। কী করে সে লোকটাকে বলে? তরী যে বহুপূর্বেই মন হারিয়ে তাঁর প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে স্রোতের টানে ডুবতে চলেছে? আহসান আর ক্ষনকাল ও দেরি করলো না। তরীর লাজুক ঠোঁটে টুপ করে চুমু খেয়ে ফেললো! তরী লজ্জায় চোখ বুঁজে ফেললো।
দীর্ঘসময় পরও আহসানের কোনো হেলদোল নেই। তাঁর মতলব টের পেয়ে তরী নিজেকে কোনো রকমে ছাড়িয়ে নিতে নিতে বললো,
" আমি যাচ্ছি তৈরি হয়ে নিচ্ছি। আপনি যাওয়ার সময় আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসবেন। আমি কিন্তু কিছুদিন থাকবো।"
আহসান ভ্রু কুঁচকে বললো,
" আমি কী নিয়ে থাকবো তাহলে?"
তরী দুষ্টুমির ছলে বললো,
" কোলবালিশ! "
বলেই সে জামাকাপড় নিয়ে দ্রুত পালালো। আহসান তরীকে হাত দিয়ে টেনে ধরে নিজের কাছে আনতে চাইলো। তরী তাঁর আগেই চম্পট!
.
তরীকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সময় আহসান তরীর সঙ্গে ভেতরে গেল। মনোয়ারা আহসানকে বারবার করে দুপুরের খাবার খেয়ে যেতে বললেন। আহসান কাজের বাহানা দিয়ে চলে গেল। যাবার সনয় দরজার সামনে দাঁড়ানো গুনগুনকে উদ্দেশ্য করে বললো,
" ফোকলা! "
ব্যস আর গুনগুনের কান্না থামায় কে? সামনের দু'টো দাঁত নেই গুনগুনের। তা নিয়ে গুনগুনের রাগের শেষ নেই। স্কুল থেকে শুরু করে পাঁড়ার বাচ্চারা অবধি তাঁকে ফোকলা ডাকে। দাঁত দুটো একাই পড়ে গেছে। এতে গুনগুনের কী দোষ? গুনগুন মেঝেতে হাত, পা ছুঁড়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
" বুবু তোমার বর আমাকে ফোকলা বলেছে! কেন আমাকে ফোকলা বললো? তুমি ওনাকে বকে দাও বুবু! পঁচা লোক! সবসময় শুধু আমার বুবুকে নিয়ে যায়!"
আহসানের পাঞ্জাবীর নিচের অংশ ধরে টানতে টানতে সে ফের বললো,
" আপনি এরকম কেন? আমি তো আপনার বুবুকে নিয়ে যাই না। আপনি কেন আমার বুবুকে নিয়ে যান?"
গুনগুনের প্রশ্ন শুনে মনোয়ারা, তরীসহ আহসানের অবধি মাথায় হাত। এই ভয়ানক প্রশ্নের কী উত্তর দেবে সে?
★
রুমি আজ কলেজ থেকে একা একা বাড়ি ফিরছে। মাজদাক আর আহসান মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখন থেকে রুমি একা একা কলেজে যাবে। বাড়ি থেকে রুমির কলেজ অনেকটাই কাছে। তরীর মতো ওতোটা দূরে নয়। তাই রুমি এখন একাই কলেজে যাতায়াত করে। রুমি স্বভাবে একটু ভীরু। মাজদাক বলেছেন রুমিকে এখনই একা একা বের হতে দিলে একটু একটু করে সে বাইরে চলাফেরা করা শিখবে। দিনকয়েকই ধরেই তাই একাই যাতায়াত করে সে। আজ অদ্ভুত এক জিনিস ঘটলো। কলেজ থেকে ফেরার পথে রোজ রুমির অগোচরে রঙ্গন তাঁকে দেখে। তাঁর পিছুও নেয়! আগে না বুঝলেও আজ বিষয়টা গভীর ভাবে উপলব্ধি করতে পারলো রুমি। রঙ্গন আজ বেখেয়ালে রুমির কাছে বাজে ভাবে ধরা পরে গেল। রুমি প্রথমে প্রচন্ড চমকিত হলেও পরে রঙ্গনকে দেখে বললো,
" একি রঙ্গন ভাই আপনি এখানে?"
রঙ্গন সবকিছু আড়াল করে মিথ্যে অভিনয় করে বললো,
" রুমি তুমি এখানে? এখানে কী করছো?"
রুমি কলেজ ব্যাগটা কাঁধের ওপাশে নিয়ে বললো,
" কলেজ ড্রেস পড়ে আছি দেখছেন না রঙ্গন ভাই?"
রঙ্গন চোখমুখ কালো করে বললো,
" আমাকে এত ভাই ভাই বলে মাথা খাবে না রুমি।"
রুমি কিছু না বুঝতে পেরে বললো,
" তো কী ডাকবো তালোই? আপনি তো আমার ভাই-ই! ভাইয়ের বন্ধু তো ভাইয়েরই মতো।"
রঙ্গন মনে মনে বিরবির করে বললো,
" ভাইয়ের মতো আর ভাইয়ের মধ্যে তফাত আছেরে বউ! তোর অল্প মগজের মাথায় এই কথা ঢুকবে নারে! শুনতে চাই জামাই খোদায় শোনায় ভাই! কপালের মধ্যে আমার জুতার বারি!"
রঙ্গনকে বিরবির করতে দেখে রুমি আর দাঁড়ালো না। দুপুর হয়ে যাচ্ছে তাই সে বাড়ির পথে হাঁটা ধরলো। রঙ্গনই তাঁকে চলে যেতে দেখে দৌড়ে এসে বললো,
" কোথায় যাচ্ছো রুমি?"
রুমি দ্রুত পা চালাতে চালাতে বললো,
" বাড়িতে! আর কোথায় যাবো রঙ্গন ভাইয়া?"
রঙ্গন কপাল ঠোঁট কুঁচকে বললো,
" দরকার হইলে কলিজার মধ্যে উইঠা একটা ফাল মা'রো রুমি! তাও কানের কাছে আইসা ভাই ভাই কইরা চিল্লাইয়ো না। আমার মন নষ্ট! আমি তোমারে মোটেও ভাইয়ের চোখে দেখি না।"
কথাটা বলে রঙ্গন আর এক মিনিটও দাঁড়ালো না। রুমির ঠিক উল্টো পথে হাঁটা ধরলো। রুমি আক্কেলগুড়ুম হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। হলো কী এটা? পাগলা এত রেগে গেল কেন?
রঙ্গন তেড়েফুঁড়ে বাড়িতে ঢুকেই উঠোনের চাপ কলে মাথা দিয়ে বসে রইলো। হঠাৎ রঙ্গনের এই অবস্থা দেখে নাহার বেগম ছুটে এসে বললেন,
" কী হইসে বাপ?"
রঙ্গন ক্ষুদ্ধ কণ্ঠে বললো,
" কী আর হইবো কিছু হয় নাই! আমার কপালটাই হইসে একেবারে মার্কামা'রা! ভাল্লাগে না আর কিছু। জীবনডারে একেবারে তামা কইরা জ্বা'লায়া দিলো!"
নাহার বেগম চিন্তিত হয়ে বললেন,
"কী হইসে? কেউ কিছু কইসে বাপ?"
রঙ্গন দাঁত কিড়মিড় করতে করতে বললো,
" আপনার থাকতে আর কেউরে লাগে? আমার হাড়মাস কালি করার উপরে আপনে মাস্টার্স ডিগ্রি নিসেন। জিন্দেগীটা পুরা পাগলাগারদ বানাইয়া রাখসেন। সম্পর্ক এক নিমিষে বদলাইয়া যাইতাসে। যাঁর মুখ থেকে বাবুর বাপ শোনার কথা সে এখন ভাই ডাকে। সব হইসে আপনার লাইগা। সময়ের কাছ সময়ে করেন না। বিয়াশাদীর বয়সে বউয়ের বদলে বোন কোলে নিয়া ঘুরতাসি! আমার চান্দি জ্বলতাসে মাথায় পানি দেন আম্মা!"
নাহার বেগম উঠোন থেকে কচি চুোো জ্বালানোর লাকড়ি হাতে উঠিয়ে রঙ্গনকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
" খাওয়াইতাসি তোরে পানি ভালো কইরা। আয় পানি খাইয়া যা।"
এটুকু বলেই লাকড়ি হাতে রঙ্গনের পিছু ছুটলেন। রঙ্গন মা'রের ভয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিলো। নাহার বেগম পুকুরে পাড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললেন,
" উইঠা আয় গোলামের পোলা! আমি যদি পুকুরে নামি তো তোরে ডুবায়া ছাড়ুম! এখনই উপরে আয়!"
রঙ্গন গলা অবধি পানিতে বসে থেকে বললো,
" আমার বাপের নাম আবুল কাসেম ব্যাপারী। আপনি গোলামের পোলা ডাকেন কেন? নিজের জামাইর কথা ভুইলা খাইয়া ফালাইসেন? ও আব্বা আম্মা আপনারে ভুইলা গেসে! গোলাম না কার সাথে জানি আপনারে গুলায়া ফালাইসে!"
নাহার বেগমের মেজাজ আরো ভরকে গেল। মাটিতে অনবরত লাকড়ি দিয়ে আঘাত করতে করতে বললেন,
" তুই আজকে খালি ঘরে আয়! তোর কইলজা কাইট্টা গ্রামের ঘরে ঘরে বিলামু!"
রঙ্গন সে-সব কানেও তুললো না। মা'রের ভয়ে পুকুরে বসে রইলো টানা তিন ঘন্টা। আস্তে আস্তে যখন দেখলো শরীর কেমন গরম হয়ে আসছে। শীত শীত লাগছে তখন কোনোরকম সাঁতার কেটে পুকুর পাড়ে এলো। ভয়ে ভয়ে ঘরে ঢুকতেই নাহার বেগম পিঠে দু'ঘা দিয়ে বললেন,
" এতক্ষন কই ছিলি? কখন থেইকা ভাত বাইরা বইসা আছি। আমার মানুষ মনে হয় না তোর?"
রঙ্গন কাপড় ছেড়ে বিছানায় শুয়ে বললো,
" পরে খামু। প্লেটে উঠায়া রাখেন।"
রঙ্গন গরমের মধ্যেও কাঁথা মুড়ি দিয়ে জড়সড় হয়ে শুয়ে আছে। তিরতির করে ঠোঁটটা কেমন কাঁপছে। নাহার বেগম ঘরে এসে রঙ্গনকে অসময়ে ঘুমোতে দেখে আতংকিত হয়ে উঠলেন। ভীত হয়ে কপালে হাত দিয়ে দেখলেন জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। রঙ্গন জ্বরের ঘোরে বিরবির করে কী সব যেন বলছে। নাহার বেগম রঙ্গনের মাথায় জলপট্টি দিলেন। কপালে চুমু খেয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন,
" সব সময় পাগলামি করোস কেন বাপ? কত বুঝাই তাও গো ধইরা বইসা থাকোস। মা'রে বুঝোস না বাপ? তোর বাপ যাওয়ার পর থেইকা তোরে আকরাইয়া ধইরা কোনো রকমে বাইচা আছি। তুইও আমারে বুঝোস না!"
রঙ্গন জ্বরের ঘোরে কিছুই বুঝলো না। বিরবির করে বারবার সে 'রুমি' 'রুমি' বলে কী সব আকুতি মিনতি করছে।
★
গুনগুন তরীর সঙ্গে পুতুল পুতুল খেলার ছলে তরীকে বললো,
" বুবু বাবুটা তোমার কাছে কী আমার নামে আর কিছু বলেছে?"
তরীর বুকে যেন একটা ধাক্কা লাগলো। গলা দিয়ে কোনো স্বরই বের হলো না। মনোয়ারা চোখ রাঙ্গিয়ে গুনগুনের দিকে তাকাতেই গুনগুন থেমে গেল। তরী চোখের জল আড়াল করতে পাশের ঘরে চলে এলো। বিছানার বালিশে মুখ গুঁজে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। মনোয়ারা দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন। তরীর কষ্টে তাঁর মনে পুড়ে যাচ্ছে। মনোয়ারা তরীর মাথার কাছে এসে বসলেন। তরীকে আদর করতে করতে বললেন,
" আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নাও মা। সৃষ্টিকর্তার উপরে কী আর কথা চলে? আল্লাহ তোমার কোল আবার ভরিয়ে দেবেন। দুঃখ পেও না মা।"
তরী হেঁচকি তুলতে তুলতে বললো,
" আল্লাহ বাবুর জায়গায় আমার প্রাণটা নিয়ে নিতো! তাও তো হতো!"
মনোয়ারা তরীকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
" কখনো নিজের মৃত্যু কামনা করতে হয় না। যা হয় ভালোর জন্যই হয়। ভাগ্যকে মেনে নাও গো মা।"
তরী কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পরলো। রাতে মনোয়ারা তরীকে ঘুম থেকে তুলে তরী আর গুনগুনকে খাইয়ে দিলেন। তরী ঘুমু ঘুমু চোখে খাবারগুলো শেষ করলো। খেয়ে-দেয়েই আবার ঘুমোতে গেল। বিচ্ছিরি আয়রনের ঔষধগুলো খেয়ে সারাদিন কেমন ঘুম ঘুম পায় শুধু। তরী চেয়েছিল ঔষধগুলো খাওয়া বন্ধ করে দেবে। আহসানের বকুনিতে তা আর সম্ভব হয়নি।
গুনগুনও তরী দুজনেই খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। বাড়ির ফটক দরজা ভেতর থেকে তালা দেওয়ার সময়ই দরজায় করাঘাত পরলো। মনোয়ারা দরজা খুলে দাঁড়াতেই দেখলো আহসান দাঁড়িয়ে। মনোয়ারাকে দেখেই সালাম দিয়ে বললো,
" মা তরী আছে?"
মনোয়ারা আহসানকে বসতে বলেই তরীকে ডাকতে গেলেন। তরী তখন সবেমাত্র চোখটা বুজেছে। মনোয়ারার ডাকে কোনো রকমে চোখ খুলে বিরক্তি নিয়ে সে বললো,
" কী হয়েছে? খেয়েই তো শুয়ে এলাম। আবার ডাকছো কেন?"
মনোয়ারা ফিসফিস করে বললেন,
" আস্তে কথা বল।আহসান এসেছে; পাশের ঘরে বসে আছে।"
আহসানের কথা শুনতেই তরীর ঘুম লাটে উঠলো। আহসান এসেছে? এত রাতে? কেন এসেছে? কোনো বিপদ হয়নি তো? তরী শোয়া থেকে উঠে বসলো। দ্রুত শরীরের কাপড় ঠিক করে পাশের ঘরে গেল। সত্যি সত্যিই আহসান এসেছে! তরী হাই তুলতে তুলতে বললো,
" আপনি? এত রাতে কোথা থেকে এলেন? কী হয়েছে? সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো?"
আহসান তরীকে হাত বাড়িয়ে কাছে টেনে নিলো। কোমর জড়িয়ে ধরে বললো,
" বউকে দেখতে এলাম। যতই হোক আমার একটা মাত্র বউ বলে কথা।"
তরী আহসানের বুকে হেলে পড়ে বললো,
" কেন? আরো দুটো বিয়ে করার শখ আছে নাকি?"
আহসান মৃদু হেসে বললো,
" তুমি অনুমতি দিলে ভেবে দেখতে পারি। একটা বউকে খাওয়াতে পড়াতে পারলে; আরো দুটোকেও পারবো। আমার কোনো সমস্যা নেই।"
তরীর বড্ড রাগ হলো। আহসানের বুকে একখানা কামড় বসিয়ে দিয়ে সে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো,
" করে দেখুন একবার! চুল টেনে দেবো; কামড়ে র'ক্ত বার করে দেবো। ঝাঁটা দিয়ে মে'রে বিদায় করে দেবো। আপনাকেও সঙ্গে আপনার আরো দুই বউকেও!"
আহসান তরীকে আরো শক্ত করে চেপে ধরে বললো,
" তাই? এসো তোমাকেও একটু কামড়ে দিচ্ছি। "
বলেই তরীর তুলতুলে গালে কামড়ে দিলো। তরী ভোঁতা মুখে বললো,
" খেয়েছেন রাতে? নাকি ভাত মাখিয়ে খাইয়ে দেবো?''
আহসান নতমুখে বললো,
" খেয়ে এসেছি। কিন্তু, তুমি খাইয়ে দিলে আবারও খাবো।"
তরী আহসানকে ছেড়ে তাঁর জন্য ভাত আনতে গেল। রান্নাঘরের সামনে যেতেই মনোয়ারা এসে তরীকে বললেন,
" কী হয়েছে তরী? জামাই এত রাতে এলো? সবকিছু ঠিকঠাক আছে? কোনো বিপদ হয়নি তো?"
তরী সত্যটা চেপে গিয়ে আমতা আমতা করে বললো,
" এদিকে একটা কাজ ছিল তো। রাত হয়ে গেছে তাই আর এতরাতে বাড়ি ফেরেননি। সোজা এখানেই চলে এসেছেন।"
মনোয়ারা সবটা বুঝেও না বোঝার ভান করে চলে গেলেন। যে ছেলে মধ্যরাতে তরীকে এখান থেকে নিয়ে চলে যায়। সে করবে রাত-বারোটার পরোয়া? বউ পাগল ছেলে!
চলবে...