ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিকুঞ্জ কাহন

২৩তম পর্ব

লেখক: নুজহাত আদিবা

‎#নিকুঞ্জ_কানন

‎#নুজহাত_আদিবা

[পর্ব ২৩]

‎(কপি ও অন্যত্র ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ❌)

আহসানের আজকে থেকে স্কুলের জয়েনিং। তরীর সেটা নিয়ে খুশির অন্ত নেই। বাড়িতে সবাই খুব খুশি। বাবু চলে যাওয়ার পর সবার মন বিষন্নতায় ছেয়ে গিয়েছিল। এখন সবাই একটু একটু করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। আজ ভোরে আহসান যখন গোসল করে ঘরে এলো; সহসাই আহসানের দু'বাহু পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো তরী। আহসান ভেজা শরীরের সঙ্গে অকস্মাৎ লেপ্টে যাওয়াতে তরী বেশ খানিকটা ভিজেও গেল। তাতেও তাঁর কোনো হেলদোল নেই। আহসানই তরীর হাত চেপে ধরে বললো,

" সকাল সকাল ম্যাডামের এত আদর ভালোবাসা? মতলব কী হ্যাঁ? চরিত্র হনন করতে চাও নাকি?"

তরী ওসব কিছুই শুনলো না। আহসানের ঘাড়ে চুমু খেয়ে তাঁকে আরো শক্ত করে চেপে ধরলো। আহসান কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পিছু ফিরলো। তরীকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সহসাই কোলে তুলে নিলো। বিছানায় তরীকে রেখে ঠোঁটের ভাঁজে চুমু খেয়ে বললো,

" ম্যাডামের মুড আজকে খুব ভালো দেখছি? নতুন চাকরি প্রথম দিনই ছুটি নিলে;চাকরি টিকবে বলে মনে হচ্ছে না।"

আহসানের দুষ্টু ইঙ্গিত বুঝতে পেরে তরী লাজে লাল হয়ে "যাহ" বলে তাঁর বুকে মুখ গুঁজলো। আহসান কয়েক মিনিট সেভাবেই রইলো। তারপর করুন হয়ে বললো,

" রেডি হতে হবে ম্যাডাম। আপনার এসব ব্যাপার-স্যাপার রাতে এসে দেখবো। তখন পালাই পালাই করলেও আমি ছাড়ছি না!"

বলেই তরীর দিকে তাকিয়ে চোখ মারলো। তরীর লজ্জায় গুটিয়ে পরলো। আহসান আলমারি থেকে কাপড় বের করতে ব্যস্ত। তরী আহসানের অগোচরে একটা প্যাকেট বের করলো। আহসানের সামনে গিয়ে সেটা তুলে ধরে বললো,

" আপনার জীবনের এই বিশেষ দিনে আমার তরফ থেকে একটা ছোট্ট উপহার। যদিও আমি এখনও আয় করি না। যদি কখনো করি তাহলে আরো দামীটা দেবো। বলতে খুব লজ্জা হচ্ছে কিন্তু আপনার টাকা দিয়েই আপনার জন্য উপহার কিনেছি।"

আহসান কেমন যেন স্তম্ভিত হয়ে গেল। চোখ বড় বড় করে বললো,

" তুমি আমার জন্য কিছু কিনেছো তরী? সত্যি?"

তরী চোখ নামিয়ে বললো,

" হ্যাঁ। একটা শার্ট আছে ভেতরে। আমি শার্টের মাপ-টাপ বুঝি না। তাই রুমিকে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি পছন্দ করেছি রুমি মাপ বলে দিয়েছে। কেমন হয়েছে একটু খুলে দেখুন না?"

আহসান শার্টের প্যাকেটটা খুলে দেখলো ভেতরে আকাশী রঙের ফুল হাতার একটা চমৎকার শার্ট! তরীর পছন্দ এত সুন্দর? এত যত্ন নিয়ে কী করে পছন্দ করে কিনলো সে? আহসান শার্ট হাতে বললো,

'' টাকা কোথায় পেলে তরী?"

তরী আঁচল ঘোরাতে ঘোরাতে বললো,

'' আমাকে একটা ব্যাংক কিনে দিয়েছিলেন। মনে আছে আপনার? ওটা ভেঙ্গে ফেলেছি! বিশেষ দিনে একটা বিশেষ উপহার না দিলে হয়?"

আহসান তরীর আরো কিছুটা কাছে এলো।কপালে গভীর চুম্বন এঁকে দিয়ে বললো,

''কোনো বিশেষ উপহারের প্রয়োজন নেই তরী। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার আমার তুলতুলে বউ।"

তরী লজ্জায় আরেক দফা লাল হলো!আহসান সেদিন আর আলমারি থেকে কিছু বের করে পরলো না। তরীর দেওয়া শার্টটাই পড়ে স্কুলে গেল। চুলগুলো সুন্দর করে আঁচড়ে ঠিক যেন সাহেবদের মতো। যাবার সময় বাড়ির বড়দের সালাম দিয়ে যেতে ভুললো না। এখন থেকে আহসানকে কী বলে ডাকবে তরী? আহসান মাস্টার? তাহলে তরী কী? মাস্টারের বউ মাস্টারনি? হতে পারে! হিহি!

★

আহসানের স্কুল ছুটি হবার কথা একটার দিকে। সবকিছু গুছিয়ে সে আসলো আনুমানিক দেড়টার দিকে। প্রথম দিন বিধায় আসতে একটু দেরিই হলো। আহসান স্কুল থেকে ফিরতেই তরী তাঁকে ঘিরে ধরলো। খুব উৎফুল্ল হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

" কেমন গেল শিক্ষক জীবনের প্রথম দিন আহসান মাস্টার?"

আহসান শার্ট খুলতে খুলতে তাঁর পেশীবহুল শরীরখানা তরীর নিকট উন্মুক্ত করে বললো,

" ভালোই। তবে, প্রথমদিন তো এই নতুন জীবনে। অন্যরকম একটা পরিচয়;অপরিচিত একটা জায়গা। একটু নার্ভাস ছিলাম। বাচ্চা সামলানো আসলেই বেশ ধৈর্যের কাজ। একদিনেই কেমন হাঁপিয়ে উঠেছি। যদিও বাচ্চা সামলানো আমার পুরনো অভ্যাস। ছোট বাচ্চা বউটাকে তো আমিই বড় করলাম। যদিও এখনও অনেক কিছু বোঝে না মেয়েটা। কিছু হলেই ভ্যা ভ্যা করে কাঁদে!"

তরী মুখ ভার করে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো,

" কে বাচ্চা আমি বাচ্চা? রাতে কাছে এসে দেখবেন একদম কামড়ে দেবো! এসেছে আমাকে বাচ্চা বলতে!"

তরী ফোঁস ফোঁস করতে ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলো। আহসান পেছন থেকে তরীর হাত ধরে টান দিতেই তরী তাঁর বুকে হুমড়ি খেয়ে পরলো! আহসান তরীর ঘাড়ে নাল ঘষতে ঘষতে বললো,

" আলমারির তাকে একটা শাড়ি আছে। তোমার শার্টটার সঙ্গে মিল করে আকাশি রঙেরই কিনেছি। সন্ধ্যায় ওটা পড়ে তৈরি থাকবে একটা বিশেষ জায়গায় যাবো। কোথায় যাবো সেটা বরং তোলা রইলো। গেলেই দেখতে পাবে।"

তরী আর কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পেলো না। আহসান দুপুরে খেয়ে ব্যবসার কাজের জন্য বের হয়ে গেল। চাকরি করলেও ব্যবসা সে ছাড়বে না। সকালে চাকরি আর বিকেলে বাবার সঙ্গে ব্যবসা। এটাই আপাতত তাঁর জীবন।

.

তরী সন্ধ্যায় আলমারি থেকে আহসানের রেখে যাওয়া শাড়িটা পড়ে তৈরি হলো। বিয়ের পরদিন আহসান তাঁকে যে-ই চুড়িগুলো এনে দিয়েছিল। দু'হাতে সেগুলোও পরলো। সেজেগুজে পরিপাটি হয়ে বসে রইলো। আহসান সময় মতোই তরীকে নিতে এলো। আসার সময় হাতে করে বেলীফুলের গাজরা নিয়ে এলো। তরী সেটা মাথায় পরলো। কী সুন্দর ঘ্রান বের হচ্ছে বেলি ফুলের। কী মিষ্টি ঘ্রান! খুব ফুরফুরে মেজাজে তরী আহসানের সঙ্গে বাইকে বসলো। শক্ত করে চেপে ধরে আহসানের বুকে এক হাত। কাঁধে অপর হাত রাখলো।

আহসান একটা বাড়ির নিচে এসে বাইকটা থামালো। তরীকে সঙ্গে নিয়ে সেই বাড়িটার দোতলায় উঠলো। তরী সবকিছু ঘুরেফিরে দেখে বোঝার চেষ্টা করছে; আসলে ঠিক কোথায় এসেছে সে। অবাক করে দিয়ে বাড়ির দরজা খুললো অর্ক। তরীকে নিয়ে আহসান ভেতরে ঢুকতেই তরী দেখলো ভেতরে সৌম্য আর রঙ্গনও আছে। অবাক করা বিষয় সৌম্যর সঙ্গে ভেতরে একটা মেয়ে বসা। দুজনেই সোফায় বসে আছে বউ আর বরের বেশে। পাশে বিয়ের পড়ানোর জন্য কাজী সাহেব বসা। তরী বিস্মিত হয়ে আহসানকে বললো,

" সৌম্য ভাইয়ার বিয়ে আজ?"

আহসান মাথা দুলিয়ে সায় জানালো। তরী ফিসফিস করে বললো,

" মেয়েটা কে? আপনি তো আমাকে আগে কিছু বলেননি?"

আহসান প্রত্যুত্তরে বললো,

" সে এক বিরাট লম্বা কাহিনী। বাড়ি গিয়ে সবটা বলবো।"

তরী চুপচাপ দাঁড়িয়ে সবটা দেখতে লাগলো। রঙ্গন, অর্ক আর সৌম্য ব্যাতীত এখানে কাউকেই সে চেনে না। অপরিচিত পরিবেশ মানুষের মাঝে তাই বেশ ইতস্তত বোধ নিয়েই সে দাঁড়িয়ে রইলো। সৌম্য আর দিলশান যখন একে অপরকে কবুল করে নিজেদের মাঝে জড়িয়ে নিচ্ছিলো। তরী তখন নিজের বিয়ের স্মৃতিচারণ করছিল। বিয়ের দিন আহসানকে তাঁর মোটেও সহ্যই হচ্ছিলো না। ফিরে অবধি তাকায়নি একবার তাঁর দিকে। মন খারাপ করে গোমড়ামুখে বসে ছিল। সেই লোকটার সঙ্গেই বিয়ের ঠিক কতগুলো দিন কেটে গেল। কী অদ্ভুত বিষয়! সে কখনো ভাবেইনি আহসানের সঙ্গে তাঁর ভাব হতে পারে। পরিবারের চাপে পড়ে বিয়েতে রাজি হয়েছিল। সম্পর্কটা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতেও পারেনি শুরুতে। কিন্তু আজ কী হলো? আহসান কখন তাঁর মনের গভীরে আবাস্থল গেঁথে বসলো?

দিলশান কাঁপা হাতে সাইন করলো। সৌম্যের ভেতরে সে-সব কিছুই নেই। মনে মনে সে বিজয়ীর হাসি হাসছে। দিলশানের পরিবারকে রাজি করাতে গিয়ে তাঁর আর আহসানের যে কত কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে! আহসান না থাকলে বিয়েটা হয়তো হতোই না। দিলশানকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করা গেলেও তাঁর পরিবারকে রাজি করানো একটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল। সৌম্যের বাবা মা বেঁচে নেই বিধায় তাঁর কোনো অভিভাবক নেই। থাকার মধ্যে আছে শুধু ছোট একটা ভাই। অভিভাবকহীন ছেলেদের কাছে মেয়ের পরিবাররা সচারাচর মেয়েকে তুলে দিতে দ্বিধাবোধ করেন। আহসানই সবটা কীভাবে যেন সামলে নিলো। শুরুতে ঝামেলা করলেও শেষে আহসানের কথায় দিলশানের পরিবার ঠিকই রাজি হলো। স্বপ্নের দিলশান হায়াত সত্যি সত্যি আজ সৌম্য শিকদারের হলো।

বিয়ের পর্ব শেষ হতেই সৌম্য খেজুর ছিটালো। খাওয়া দাওয়ার ছোট খাটো একটা পর্ব হলো। খেয়ে আহসান দিলশানের হাতে একটা উপহারের বক্স দিয়ে বললো,

" তোমার জীবনের নব প্রারম্ভে আমার এই ছোট্ট উপহার দিলশান। আমার বন্ধুকে সুখী রেখো এবং নিজেও সুখী হও সেই দোয়াই করি।"

দিলশান মুচকি হেসে তরীকে ইঙ্গিত করে বললো,

" তোমার বউ বুঝি? ভারী মিষ্টি দেখতে!"

নিজের প্রশংসা শুনে লাজে তরী মাথা নিচু করে ফেললো। আহসান আর দাঁড়ালো না। অনেক রাত হয়ে গিয়েছে তাই তরীকে নিয়ে সে বাড়ি ফিরে এলো।

বাড়ি ফিরতেই তরী প্রশ্নের ভান্ডার খুলে বসলো। সৌম্যের বিয়ে কখন ঠিক হলো। কীভাবে হলো আরো কত কী প্রশ্ন তাঁর! আহসান ধীরে ধীরে তাঁকে সব বুঝিয়ে বললো। তরী সবকিছু শুনে "থ"! সৌম্য ভাইয়া আপুকে এত ভালোবাসেন? ভালোবাসা যদি হতেই হয় তাহলে এমনই হওয়া উচিত। তরী চমকিত হয়ে বললো,

" সৌম্য ভাই দিলশান আপুর জন্য এত বছর অপেক্ষা করেছেন? এত ভালোবাসেন আপুকে?"

আহসান পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বললে,

" সৌম্যকেই বুঝি শুধু প্রেমিক পুরুষ মনে হয়? আমাকে দেখছি তোমার চোখেই পরে না! দিলশান কী সুন্দর করে সৌম্যর দিলে তাকিয়ে ছিল দেখেছিলে? তুমি পাজি মেয়ে বিয়ের দিন ফিরে অবধি তাকাওনি!"

তরী ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,

" তখন আপনার সঙ্গে আমার ভাব হয়েছিল বুঝি?"

আহসান সব জেনে বুঝেও তরীকে প্রশ্ন করলো,

" তা এখন ভাব হয়েছে নাকি তুলতুল?"

তরীকে প্রশ্নটা সত্যি সত্যি ভাবালো। হয়েছে কী ভাব আহসানের সঙ্গে তাঁর? হয়েছে হয়েছে! কখন হয়েছে তা তরী সত্যিই জানে না!

মিনিটখানেক পরে তরী বিছানায় আহসানের বুকের ওপর হাতটা রেখে অপর হাত গালে রেখে বললো,

" আচ্ছা বিয়ের আগে আপনি আমাকে দেখেছিলেন আগে? মানে ভালো করে লক্ষ্য করেছিলেন? আপনি তো কয়েকবার আমাদের বাড়ি এসেছিলেন বাবার সঙ্গে। কখনোই দেখেননি?"

আহসান বেশ ভেবে বললো,

" সেভাবে ঠিক মনে পরছে না। তবে, একটা ঘটনা খুব মনে পরছে। বাবা একটা কাজে তোমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে ছিলেন। সেদিন আকাশ মেঘলা ছিল। আর তখন আমার বাইকও ছিল না। ফেরার পথে সেকি বৃষ্টি। তোমার মা আমাকে বসতে বললেন। আমি তোমাদের বসার ঘরে বসে বাইরে বৃষ্টি দেখছিলাম। বৃষ্টি থামলেই চলে যাবো এমন ভাবনাই ছিল মাথায়। ওমা হঠাৎ দুম করে আওয়াজ হওয়ায় বাইরে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ে বৃষ্টির পানিতে আছাড় খেয়ে পড়ে ভ্যা ভ্যা করে কাঁদছে। আমাকে দেখে লজ্জা পেয়ে চোখ মুছে ছুটে পালালো!"

তরী মিনমিন করে বললো,

" ওটা গুনগুন ছিল! আমি আছাড় খেয়ে পড়ে ভ্যা ভ্যা করে মোটেও কাঁদিনি!"

আহসান ঠোঁট টিপে হেসে বললো,

" ওমা তাই? তখন আমার বয়স ছিল একুশ বছর। নব্য ভার্সিটির স্টুডেন্ট তাই বয়সটা বেশ ভালোই মনে আছে। হিসেব মতে তোমার বয়স তখন এগারো। আর গুনগুন তখন ছিল কিনা তাও আমার সন্দেহ। থাকলেও বৃষ্টির দিনে দৌড়ঝাঁপ করার মতো বড় ছিল না।"

তরী আহসানের বুকে এলোপাতাড়ি কিল দিতে দিতে বললো,

" সব মিথ্যে! আমি মোটেও বৃষ্টির দিনে আছাড় খেয়ে পড়িনি!"

আহসান হা হা করে অট্টহাসি হাসতে লাগলো। তরী রেগে মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। আহসান তাঁকে আদরের ছলে কাছে টেনে নিয়ে বললো,

" তুমি আমাকে কখনো দেখোনি তরী?"

তরী এবার স্বাভাবিক হয়ে বসলো। টিপ্পনী কেটে বললো,

" আপনার বোধ হয় বৃষ্টি রাশি! আপনি আরো একদিন আমাদের বাড়িতে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমার বাবার সঙ্গে এসেছিলেন। মা আপনাকে চুল মোছার জন্য বেছেবুছে আমার গামছা খানাই দিয়েছিল। সেটা নিয়ে রাগ করে দুপুরে সেদিন ভাতই খাইনি। আমার গামছা আমি কাউকে ধরতে দিতাম না। একটু হিংসুটে ছিলাম! তবে, শুধু গুনগুনকে দিতাম। আপনি যখন মাথা মুছে নিচ্ছিলেন আমি আর গুনগুন লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছিলাম।"

আহসান বাঁকা হেসে বললো,

" সামান্য গামছা নিয়ে এত বাড়াবাড়ি? এখন যে প্রতিদিন বাসি ঠোঁটে চুমু খেতে হচ্ছে? সে বেলায়? "

তরী তেঁতে উঠে আহসানের দিকে এগোতেই আহসান তাতে এক ঝটকায় কাছে টেনে নিলো। অভিমান রাগ সব জলে গেল। মাঝরাত অবধি ভাব-ভালোবাসার এক বিশাল পর্ব চললো। শেষে না পারতে মাঝরাতে তরী তাঁকে শরীর থেকে টেনে সরালো। তাও সরলো কোথায়? তরীর দিকে মুখ করে পাশ ফিরে শুয়ে কেমন নেশালো দৃষ্টিতে তরীকে বারবার দেখছিল। আবছা আলোয় সেটা টের পেতেই তরী বললো,

" ঘুমোচ্ছেন না কেন? এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?"

আহসান হাই তুলে বললো,

" তুমি ডানোর ডিব্বা খুলে রাখলে দোষ নেই। আমি একটু তাকালেই দোষ?"

তরী নিজের দিকে তাকাতেই জিহ্বায় কামড় পরলো! শাড়িটা কোথায় ছুঁড়ে ফেলেছে আহসান কে জানে! উন্মুক্ত বক্ষস্থল ঢাকতে কোনো রকমে বালিশের; নিচ থেকে একটা পাতলা কাঁথা বার করলো তরী। গলা অবধি ঢেকে তারপর শুয়ে পরলো। আহসানকে দিয়ে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই। সকালে ওসব বাজে বাজে কথা বলে পিষে মা'রবে তরীকে!

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন