ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ২)

৪র্থ পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥(সিজন-টু)

#পর্ব-০৪♥

#আয়ানা_জাহান_নুসরাত♥

ছাদের এক কোণায় চুপটি করে বসে ফর্সা ত্বকের মাঝে জ্বলজ্যান্ত টমেটো নিয়ে পর্যবেক্ষণে নেমেছি আমি। ব্যস্ততম প্রহরখানি চরম বিরক্তির পর্যায়ে নিয়ে চলেছে কারো হাসির তীব্র আওয়াজ। রুশো ভাইয়ার থমথমে মুখে হতাশার চূড়ান্ত পরিহাস! সরু চোখদুটোয় হাজারো অভিযোগের ছড়াছড়ি। তবু বর্তমানে চুপিসারেই তার বসবাস।

প্রায় ১০ মিনিট যাবৎ ম্যাসাজ করে অবশেষে হাতে থাকা আইসব্যাগটা নামিয়ে টুলের ওপর রাখলাম আমি। রুশো ভাইয়ার লাল টকটকে নাকটা যতোবারই নজরে পড়ছে ততোবারই ভেতরে ভেতরে "টমেটো" শব্দটিরই আলোড়ন হয়ে চলেছে আমার। অগ্নি ভাইয়া এখনও ননস্টপ হেসে চলেছে। ঠিক কি কাহিনী হয়েছে তা এখন পর্যন্ত অজানা হলেও খুব একটা সুবিধের কান্ড যে রুশো ভাইয়া ঘটায়নি তা স্পষ্ট ভীষণ! রাত্রির হাতের সুপার পাঞ্চ খেয়ে নাক টমেটো বানানো মার্কা ঠিক কোন অঘটন ঘটিয়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এক পর্যায়ে হাসি থামিয়ে খানিক দম নিলো অগ্নি ভাইয়া। ঠোঁট চেপে হাসিটা দমিয়ে রাখবার তাগিদে দৃষ্টি রুশো ভাইয়ার ঠোঁট উল্টে রাখা অসহায় ফেইস থেকে সরিয়ে অন্যদিকে নিক্ষেপ করে বসলো সে। বার কয়েক গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,

----- "জানি যা করেছিস তা মোটেও ভালো করিসনি, বাট কি করেছিস সেটা এখন সাফ সাফ বলে ফেল। বহুত কিউরিওসিটি থামায় রাখছি, আর না!"

রুশো ভাইয়া নিজের উল্টে রাখা ঠোঁটটা আরো দ্বিগুণ পরিসরে ফুলিয়ে হাঁফ ছাড়লো। একবার আমার দিকে অতঃপর আবারও অগ্নি ভাইয়ার পানে করুন চোখে চেয়ে বলল,

---- "বলবো বাট....ছুটকি আছে ব্রো!"

---- "সো হোয়াট? ছুটকি আছে তো কি গেছে? একটা চুটকি বাজিয়ে বলে ফেল বাপ! বাই দ্য ওয়ে অনুর ফ্রেন্ডের সাথে আবার প্রাঙ্ক ট্রাঙ্ক করতে যাসনি তো?"

রুশো ভাইয়া চোখমুখ কুঁচকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে "না" শব্দটি উচ্চারণ করে বসলো। অগ্নি ভাইয়া ভ্রু বাঁকিয়ে, "তো?" বলতেই এক তীব্র শ্বাস টেনে আহত কন্ঠে বলে উঠলো,

----- "আমার চাড্ডি....আই মিন আন্ডি ছাদ থেকে হাত ফসকে উড়ে গিয়ে ভুলভাল জায়গায় ল্যান্ডিং করে বসলে তাতে আমার কি দোষ ব্রো?"

মুহুর্তেই লজ্জায় দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে উল্টোদিকে ফিরলাম আমি। অগ্নি ভাইয়ার মুখের ভাবমূর্তি ঠিক স্পষ্ট রূপে বোঝা হয়ে উঠলো না। আগের মতোই দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসা অবস্থায় ভাইয়া বলল,

----- "ইউ মিন তোর আন্ডু সরি মানে আন্ডি ওরফে চাড্ডি রাত্রির ওপর গিয়ে ল্যান্ড করে বসেছিলো? আর চাড্ডির পাইলটেরা বুঝি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিলো? নাহ! এই এ তো মানা যায় না। এ তো রীতিমতো অন্যায়!"

এতোক্ষণে বুঝলাম অগ্নি ভাইয়ার নিরলস ভাবমূর্তির প্রকৃত উদ্দেশ্যটা। হাসির ওপর হোলকিউব করবার তাগিদে ঝড়ের পূর্বে থমথমে পরিবেশ সৃষ্টির মতোই নিরবতা পালনের পর হঠাৎ করেই যে হাসির বন্যা বইয়ে বান বানিয়ে ফেলা হবে তা এবার স্পষ্ট বোধগম্য হলো আমার। সাথে পেট ফাটা হাসির কড়া নাড়ার অনুভূতিও হলো পেটে। এখন শুধু ঠোঁট চেপে রাখা দৃঢ়বল খানি দূর্বল হবার অপেক্ষায়। এরপর যা হবে তা রুশো ভাইয়া কিংবা আমার পেট, দুজনের কারো জন্যই মঙ্গলকর হবে না ঠিক। রুশো ভাইয়া কিছুক্ষণ বোকার মতো চেয়ে থেকে অগ্নি ভাইয়ার বলা কথাটার অর্থ নিজ মনেই বুঝবার চেষ্টা চালালো। ভাইয়া যে তার আন্ডারওয়্যারটাকে প্লেনের সাথে তুলনা করে মজা নিয়েছে ব্যাপারখানা বুঝতে পেরেই চোখ বড়বড় করে ঠোঁট কুঁচকালো সে। অগ্নি ভাইয়া এতোক্ষণে হাসতে হাসতে দেয়াল ছেড়ে মেঝেতেই শুয়ে পড়েছে প্রায়। হয়তো আমার মতো ভাইয়ারও চোখের সামনে বারবার রাত্রির উঠে এসে সোজা রুশো ভাইয়া নাকে ঘুষি মেরে দেওয়ার মর্মান্তিক দৃশ্যটিই ফুটে উঠছে, যার দরুন হাসির পরিমাণ কমার বদলে বেজায় বেড়ে গিয়েছে তার। রুশো ভাইয়া আমাদের দু'ভাইবোনকে এভাবে গলা মিলিয়ে হাসতে দেখে আফসোসের সাগরে ডুব দিলো। মিনমিন করে ভাইয়ার উদ্দেশ্যে বলল,

----- "আর দুটো মিনিট লেইট করে কেনো এলে না ব্রো? নাহয় শুধু লাল হয়ে যাওয়া নাকুটাই দেখতে, কে লাল বানালো না দেখলে কি লাঞ্চ একেবারেই হজম হতো না?"

----- "এক...দম না!"

আবারও ফ্লোরে গড়াগড়ি খাওয়ায় মত্ত হলো অগ্নি ভাইয়া। আমি কিছুক্ষণ মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে ভেতরেই চেপে রাখা হাসিগুলোর বিস্ফোরণ ঘটালাম। হাসি থামিয়ে পরিস্থিতির সামাল দিতে বললাম,

----- "টমেটো ভাইয়া....থুক্কু রুশো ভাইয়া, চ..চলো লাঞ্চ করতে হবে তো! শুধু টমেটো নিয়ে পড়ে থাকলেই চলবে? চলো চলো!"

রুশো ভাইয়া চোখমুখ কুঁচকে ঠোঁট উল্টালো। কাঁদো কাঁদো মুখ করে বললো,

----- "ছুটকি তুইও!"

আবারও ফিক করে হেসে ফেললাম আমি। রুশো ভাইয়া ঠোঁট ফুলিয়ে ফ্লোরে ধুলোয় গড়াগড়ি খাওয়া নিজের আন্ডারওয়্যারটার দিকে করুন চোখে তাকালো। রাত্রির রেগেমেগে ছাদে উঠে এসে ঘুষি মারবার পূর্ব মুহুর্তে বলা বাক্যটি আবারও বেজে উঠলো মনে,

----- "জায়গার জিনিস জায়গায় না থেকে মাথায় উঠলে, আমার হাতও হাতের জায়গায় থাকতো না ধলা ইন্দুরের তিন নম্বর বাচ্চা!"

__________________________________

"তোমার জন্য নীলচে

তারার একটুখানি আলো,

ভোরের রং রাতে মিশে কালো...

কাঠগোলাপের সাদার মায়া

মিশিয়ে দিয়ে ভাবি.....

আবছা নীল তোমার লাগে ভালো।"

কানে হেডফোন গুঁজে গুনগুন করে গানের প্রথম অংশ আওড়ে চলছিলো নিত্য। বারান্দার ধারে রকিং চেয়ারটায় এলিয়ে রাখা শরীরটা ভীষণ ফুরফুরে লাগছে তার। লম্বা চুলগুলো মেঝে অবধি ছড়িয়ে আছে। কপালে পড়ে থাকা অবাধ্য চুলগুলাও থেকে থেকেই উড়ে পুরো মুখ জুড়ে বিচরণ করছে। ইশশশস! এই ভ্যাপসা গরমের তপ্ত বাতাসটাও ভীষণ কি মিষ্টি লাগছে তার। শিরা-উপশিরায় বইছে এক শীতলতায় সিক্ত স্রোত! কি আছে এই কন্ঠে? কেনো এতো টানে তাকে মানুষটার মধুর গলার আওয়াজ? জানা নেই নিত্যর। অদ্ভুত এক কারণে মানুষটির গলায় মুখরিত গান, সুশ্রাব্য সুর কিংবা মধুময় কিছু বার্তা সবেতেই প্রশান্তি খুঁজে পায় সে। চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও তার গলার একটি মাত্র বয়ানই মনটা ঠান্ডা করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নিত্যর।

নিত্য রকিং চেয়ার থেকে অলসতায় ভরা শরীরটা টেনে তুললো। ফোনটা হাতে নিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে চোখ বুলালো। এখন সময় ৩ টে বেজে ১৬ মিনিট। এখনও ভাই আসছেনা কেনো ব্যাপারটা নিয়ে কপালে সুক্ষ্ম চিন্তার ভাঁজ ফুটে উঠলো তার। ব্যস্ত মানুষ, দেরি হতেই পারে। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য কিছু নিয়ে। ভাইটা দুপুরে লাঞ্চ করেছে তো? গরম গরম খাবার গুলো যে জুড়িয়ে পানি হবার উপক্রম। যদি না খেয়েই থাকে তবে ফিরে কি ঠান্ডা খাবারগুলোই জুটবে কপালে?

এসব ভাবতে ভাবতেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও গানটা বন্ধ করলো নিত্য। এমন সময়ই গেইটে "খট" করে আওয়াজ হলো। নিত্য কান খাঁড়া করে দু'ধাপ এগোতেই দরজাটা বেশ শব্দ করে লাগিয়ে সোজা সোফায় এসেই ক্লান্ত শরীরটা ছুড়ে মারল নীবিড়। কপাল বেয়ে টপটপ করে পড়ছে ঘাম। সচারাচর ফ্রেশ না হয়ে সোফায় কিংবা বিছানায় বসার অভ্যেস নেই তার। আজ হঠাৎ ভাইয়ের ভিন্নধর্মী আচরণ দেখে ভ্রু কুঁচকালো নিত্য। নীবিড়ের পাশে চুপটি বসে ঠোঁট বাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

----- "কি হয়েছে ভাইয়া? তুই এভাবে হাপিয়ে এলি কোথায় থেকে?"

নীবিড় ঘনঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে বোনের দিকে তাকালো। আবারও বার কয়েক তীব্র শ্বাস টেনে হাঁফ ছেড়ে বলল,

----- "বুঝলি নিত্য, লাইফটা আর জীবন নেই। জীবনটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তেজপাতা। আবার তেজপাতার রয়েছে বহুরকম ব্যবহার। তেজপাতাটা যদিও ঠিক ছিলো কিন্তু বাঁধলো আরেক বিপত্তি। তেজপাতা রূপ বদলে হলো মসলা! আর এই মসলা ব্যাবহার করে মানুষ কি বানাচ্ছে জানিস?"

----- "কী?"

----- "হালুয়া!"

নিত্য পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ হারে ভ্রু কুঁচকালো। কথাটার আগামাথা কিছুই বুঝতে না পেরে আবারও প্রশ্ন ছুড়লো,

----- "মানে কি? কিছুই তো বুঝলাম না ভাইয়া!"

নীবিড় শীতল চোখে তাকালো। ক্লান্ত গলায় বলল,

----- "ঠিক! বুঝবি না, বোঝার কথাও না। আর বুঝবি না বলেই বোঝাতে চাইছি, লাইফ মিনস এন 'এক্সেপশনাল হালুয়া'।"

নিত্য বেকুব সেজে বোকা চোখে তাকালো। ভাইকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবথেকে জটিলতম সমীকরণ বলে মনে হচ্ছে তার। যেই সমীকরণ নিজে থেকেই সমাধান খানা বলে দিলেও উত্তর মেলাতে পারছে না সে। নিত্যকে এভাবে বোকাবোকা ফেইস বানিয়ে নিজের দিকে চেয়ে থাকতে দেখে উঠে বসলো নীবিড়। জুতোর ফিতা খুলতে খুলতে বলল,

----- "হয়েছে, নিজের ব্রেইনে আর এতো চাপ দেবার দরকার নেই। খেয়েছিস?"

নিত্য উত্তর দিলো না। পুনরায় ভাইয়ের পানে পূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,

----- " ক্লিয়ার করে বল না ভাইয়া, কি হয়েছে আবার?"

নীবিড় জুতো জোড়া খুলে সোজা হয়ে বসলো। এসির টেম্পারেচার আরো কিছু কমিয়ে বলল,

----- "এইযে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফ্যান ফলোয়ার প্লাস মিডিয়া, এদের কি কোনোই সেন্স নেই? একটা মানুষ হতে পারে সেলিব্রিটি, সুপার স্টার। বাট একটা নিজস্ব পার্সোনাল প্রাইভেসি তো থাকবে নাকি? মিডিয়াদের যদিও অনেক বলে সামলে নিয়েছি আমি। ওরা জানে আমার লাইফ স্টাইল কেমন। দ্যটস হোয়াই, যখন তখন যেখানে সেখানে দেখলেও হামলে পড়তে দু'বার ভাবে বাট এই মহিলাগুলো? মানে আমাকে কি আলু বলে হয়, যে যখন ইচ্ছে তখন ভর্তা বানাতে চলে আসবে?"

নিত্য গোলগাল চোখ করে তাকালো। ভাইয়ের গায়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে দুষ্টুমির ছলে বলল,

----- "এমা! কি বলছিস তুই ভাইয়া? শেষ মেশ আন্টিগুলো কি-না তোকে ভর্তা বানিয়ে ছাড়লো?"

নীবিড় সরু চোখে তাকালো বোনের পানে। নিত্য ঠোঁট চেপে হেসে বলল,

----- "আচ্ছা আচ্ছা সরি, তা কোথায় আলুর ভর্তা বানাতে এসেছিলো মহিলারা?"

----- "জারা সুপারমার্কেটের পাশে রেস্টুরেন্টে ডেকেছিলো, কিসব মডেলিং এ এটেন্ড করতে বলছে আমায়। এতো বার বারণ করলাম তাও তার একই কথা। ও মডেলিং করছে করুক, আমাকে কেনো করতে হবে? স্ট্রেঞ্জ!"

"জারা" নামটা কানে অবধি পৌঁছোতেই চোখ-মুখ কুঁচকে ঠোঁট ফোলালো নিত্য। চাপা গলায় মিনমিন করে বললো, "পেত্তান্নি একটা!"

---- "কিছু বললি নিত্য?"

----- "আব....না না কিছু না। এই এই ওয়েট ওয়েট ভাইয়া তোর গালে কিসের দাগ এটা? দেখি দেখি, ওমা এ তো কারো আঙুলের ছাপ বলে মনে হচ্ছে!"

নীবিড় তৎক্ষণাৎ গালে বা হাত চেপে ধরলো। কপালে ভাঁজ ফেলে মুখ ঘুরিয়ে দাগটা আড়াল করবার উদ্দেশ্যে বলল,

----- "আহ নিত্য! তুইও না...অন্য কারো হাত হতে যাবে কেনো? আমারই হাতের ছাপ। অনেকক্ষণ একই ভাবে গালে হাত রেখে বসে ছিলাম তাই আরকি ছাপ বসে গেছে মেইবি।"

নিত্য গোয়েন্দা গোয়েন্দা ভাব নিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। গম্ভীর গলায় জেরা করবার উদ্দেশ্যে বলল,

----- "আমার থেকে মিথ্যে বলে তুই পার পাবি নাকি ভাইয়া? তোর কি মনে হয় আমি বোকা? ওটা তোর হাতের ছাপ হলে দাগটা লুকোতে যে চোরের মতো হাত দিয়ে ঢাকতি না, তা কি আমি বুঝবো না ভেবেছিস?

এখন সোজাসাপ্টা বল তো, এই মারাত্মক সাহসিকতার কাজখানা কোনো লিজেন্ড সম্পাদন করেছে। ট্রাস্ট মি, আমি তাকে বাটুল দিয়ে নোবল ছুড়ে মারবো!"

নীবিড় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে শুকনো কাশিতে ভেঙে পড়লো। নিত্য চটজলদি টেবিল থেকে স্বচ্ছ পানি ভর্তি গ্লাস এগিয়ে দিতেই ঢকঢক করে পুরো গ্লাস ফিনিশ করে হাঁফ ছাড়লো সে। নিত্যর ভাবমূর্তিতে এখনও আগের মতোই কিউরিওসিটির ছোঁয়া। প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর না দিলে যে তার থেকে পার পাওয়া সম্ভব নয় তা বুঝেই দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। নীবিড়ের নরম ভঙ্গিমা দেখে উদ্বিগ্ন চোখে চেয়ে নড়েচড়ে বসলো নিত্য। নীবিড় বলতে শুরু করলো,

----- "ভার্সিটিতে একটা স্টুপিড মার্কা মেয়ে এডমিট হয়েছে বুঝলি। তোর মনে আছে ওইদিন ঢাকা থেকে শো শেষে ফেরার পথে একটা মেয়ে আমার জ্যাকেটের ওপর....."

পুরোটা শেষ হবার আগেই মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানালো নিত্য। যার অর্থ "শুধু মনে নেই, একদম এ টু জেড মুখস্থ আছে তার।" নীবিড় আবারও বলতে শুরু করলো,

----- "ইয়াহ, ওই মেয়েটাই দেখি আজ আমাদের ভার্সিটির একজন নিউ কামার হয়ে এসেছে। তো যাই হোক তাতে কোনো প্রবলেম নেই আমার। এতো বড় একটা ক্যাম্পাসে ওর মতো আরো হাজার হাজার মেন্টাল থাকলেও কোনো কেয়ার করি না আমি। বাট শি ইজ টোটালি অন্য লেভের স্টুপিড ম্যান! মানে আজ যখন ফুল দিয়ে জুনিয়রদের ওয়েলকাম করার প্রোগ্রাম চলছিলো তখন হঠাৎ করেই কোথায় থেকে যেনো উদয় হয়ে সোজা গালের ওপর ঠাস করে চড় মেরে বসলো মেয়েটা। দেন ভুল করে মেরেছে বুঝতে পেরে কি যুক্তি দাঁড় করালো জানিস?"

----- "কী?"

----- "এই যে, দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। গালে নাকি এডিস মশা বসেছিলো আমার, দ্যটস হোয়ায় তিনি মানব দরদী হয়ে মশাটাকে মারতে যেয়ে সোজা আমার গালে মেরে দিয়েছে!"

নিত্য মুখ ফুলিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলো। তীব্র হাসিটা গিলে নেবার চেষ্টা চালানোর মাঝেই, নীবিড় কপালে বিরক্তির ভাঁজ তীব্রভাবে প্রকট করে বললো,

----- "লাইক সিরিয়াসলি! মানে ভাবা যায় কি যুক্তি দাঁড় করিয়েছে স্টুপিডটা! আমিও কি ছাড় দেওয়ার পাত্র নাকি? দিয়েছি ওর ধাঁচেরই পানিশমেন্ট! নিজের হাত দিয়েই নিজের গালে পুরো ১০০ টা থাপ্পড় মারবার শাস্তি দিয়েছি ওকে। বেশ ভালো করেই বুঝেছে 'সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়ে'র সাথে লাগার মজা...!"

কথাটা ঠিকঠাক ভাবে শেষ করবার মুহূর্তেই নিত্যর পেট ফাঁটা হাসির শব্দে ভড়কে গেলো নীবিড়। অতঃপর তার হাসির কারণ আন্দাজ করতে পেরে নিজেই অবাক হলো নিজের ওপর। কোনো মেয়েকে নিয়ে জীবনে এই প্রথম এতোগুলা বাক্য আওড়েছে সে। জারাকে নিয়েও হয়তো এতোটা ভাবেনি কিংবা তাকে নিয়ে এতো অভিযোগ হোক কিংবা হোক তার ব্যাপারে আলোচনা, কোনোটাতেই অহেতুক সময় অপচয় করেনি সে। তবে দুদিনের পরিচয়ের মেয়েটাকে নিয়ে এতো ভাবতে হচ্ছে কেনো তাকে?

নীবিড় ঠোঁট বাঁকিয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাবার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ালো। বড়বড় ধাপ ফেলে যেতে যেতে বলল,

----- "নিত্য, খেতে বস। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।"

নিত্য বেশ ভালো করেই বুঝলো তার ভাইয়ের এরকম চোরের মতো পালাতে চাইছে। বোনের থেকে মুখ লুকোতেই বর্তমানে দেখানো হচ্ছে অপ্রাসঙ্গিক ব্যস্ততা। ফলস্বরূপ হাসতে হাসতে সেও পাছে জবাব দিলো,

----- "ভাইয়া, তুই কিন্তু মেয়েটাকে পানিশমেন্টটা দিয়ে বড্ড ভুল করেছিস, এতো বড় একখানা সাহসিকতার পরিচয় দেবার জন্য আমি তাকে একটা নয়, পুরো দু দুটো নোবেল ছুড়ে মারতাম, সিরিয়াসলি!"

#চলবে___________________

(প্রতিদিন গল্প দেওয়া ভীষণ ডিফিকাল্ট হয়ে যাচ্ছে। কারণ মনে হয় না আপনাদের অজানা, আগেও বলেছি। মাঝে মাঝে গ্যাপ পড়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি!)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন