ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ২)

৪৩তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥(সিজন-টু)

#পর্ব-৪৩♥

#আয়ানা_জাহান_নুসরাত♥

কনকনে শীতের মৌসুমে কেঁপে উঠছে শহর, প্রান্তর থেকে পুরো দেশ। আকাশের উত্তাপ ছড়ানো সূয্যিমামাটা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। থেকে থেকে এই একটু করে দেখা দিচ্ছে তো আবারও হচ্ছে বিলীন। আমরা মানুষেরা এই শীতে এত্তগুলো সুয়েটার গায়ে জড়িয়ে লেপ মুড়িয়ে উষ্ণতা অনুভব করছি। তবু একেক জনের কাঁপুনি দেখে ঠান্ডার তীব্রতা স্পষ্ট অনুমান করা যায়। এই সামান্য শীতই আমাদের কাছে এতোটা অসহনীয় ঠেকছে অথচ প্রকৃতিতে মিশে অবলম্বনহীন পশু-পাখিরা যেমন-তেমন ভাবেই জীবন কাটাচ্ছে। চিপাগলি, ফুটপাত কিংবা ঝোপঝাড়ের আড়ালে গুটিসুটি মেরে শীতে কাঁপছে। অথচ ওদের নিয়ে ভাববার কেউ নেই। কোনো একজনের পক্ষে সব পশু-পাখিদের আশ্রয় দেওয়ারও সামর্থ্য নেই। প্রকৃতির নিয়মেই ওরা বড় হয়, ভবঘুরে জীবনটাকে বিদায় জানিয়ে হঠাৎ করেই ঝড়ে পড়ে। মানুষেরা খোঁজ রাখেনা। পথভ্রষ্ট পশু'রা অসতর্ক ভাবে রাস্তায় চলে এলে এই সো কল্ড বিবেকবান মানুষেরা ব্রেক কষে না। গাড়ি চালিয়ে দেয় তাদের ওপর দিয়েই। এমন যে কতশত কুকুর রাস্তায় পিষে গেছে এর কোনো হিসেব রাখা সম্ভব নয়। আশ্চর্য! আজও যেখানে প্ল্যাটফর্মে গুটিসুটি মেরে সম্বলহীন মানুষদের শুয়ে থাকতে দেখা যায় সেখানে এই প্রাণীগুলোর প্রতি আর কতটুকু সহানুভূতিই বা আশা করা যায়?

আমি বারান্দায় চাদর মুড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে। ভাবছিলাম, আঁকছিলাম, কল্পনার স্বচ্ছ পাতায় কতকিছুই না ফুটিয়ে তুলছিলাম। রেলিং-এর হাত রাখায় শীতল স্পর্শটুকু আনমনেই উপভোগ করছিলাম। রুশো ভাইয়ার ডাক এক মুহুর্তের জন্য কানে তুলতে ভুলে গিয়েছিলাম। ভাইয়া যখন দূর থেকে ডাকতে ডাকতে অবশেষে ঘাড়ে এসে হাত রাখল ঠিক তখন এসে ভ্রম কাটলো আমার। ফ্যালফ্যাল করে জিজ্ঞাসুক চোখে তাকালাম আমি। রুশো ভাইয়া চিন্তিত ভঙ্গিমায় বলে উঠলো,

------ "ছুটকি রে! কাম সারছে!"

আমি অবাক হয়ে ভাইয়ার হাত থেকে ফোনটা ছিনিয়ে নিলাম। ভিডিও ক্লিপটা ততোটা স্পষ্ট নয় তবু তাতে দৃশ্যমান দুটো চেনা মুখ চিনতে অসুবিধে হলো না আমার। যেই আশংকাটুকু করেছিলাম তা যে রাত না পেরুতেই বাস্তবে পরিণত হবে এমনটাই বিশ্বাস ছিলো। তাই ততটা অবাক হলাম না। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বিতীয় বারের মতো ভাইরাল হলাম আমি। প্রশ্ন জাগতে পারে, কেনো ভাইরাল হলাম! যেখানে আরো অনেক প্রতিযোগিই পারফর্ম করলো সেখানে শুধু আমিই কেনো? উত্তর খুব সহজ। কারণটা শুধুমাত্র সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়। কাল এই মানুষটা আমার পারফরম্যান্সের মাঝপথে এসে স্টেজে না উঠলে নিশ্চয় এমনটা হতো না। উনি না এলে হয়তো তাল কেটে নাচটা পরিপূর্ণ করতে পারতাম না। তাও উনার কোলে উঠতে হতো না নিশ্চয়। উঠত না এই নিয়ে শত মানুষের মনে প্রশ্ন। হেডলাইনে সেই মানুষটার পাশে আমার নাম জুড়ে দিয়ে সন্দেহের খাতাটা খোলা হতো না। গোপনে গোপনে চলা অ্যাফায়েরের মতো নোংরা ওয়ার্ডটায়ও মিশতে হতো না।

আমি ফোনটা রুশো ভাইয়ার হাতে ফেরত দিয়ে তীক্ষ্ণ দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। রুশো ভাইয়ার চোখে যখন আকাশ সমান বিস্ময় আমার চোখে তখন স্বাভাবিকতা, ব্যাস সবসময়ের হাসিটুকু ঠোঁটে রইল না।

------ "ছুটকি, কাল এতো কিছু হয়েছে তা তুই আমাদের বলিস নি কেন? এখন কি হবে ভাবতে পারছিস?"

আমি বারান্দা ছেড়ে ঘরে এসে বিছানায় বসলাম। পা থেকে মোজা খুলতে খুলতে বললাম,

------ "বলে আর কি লাভ হতো ভাইয়া? তাছাড়া অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। এসব বলে আর তোমাদের চিন্তায় ফেলতে চাইনি।"

রুশো ভাইয়া হতাশ চোখে তাকালো। আমার পাশে বসে মাথায় হাত রাখলো। নরম গলায় বলল,

------ "লাভ ক্ষতির বিচার পরেও করা যেত। নেক্সট টাইম আর কিছু লুকবি না বলে দিলাম।"

ঘাড় কাঁত করে মৃদু হাসলাম আমি। রুশো ভাইয়া হঠাৎ করেই হাসিহাসি মুখ করে নড়েচড়ে বসলো। গদগদ কন্ঠে বলল,

------- "যাই বল না কেনো, আমি তো ভাবছি তোর চকচকে লাক নিয়ে। নীবিড় ব্রোর সাথে আজ পর্যন্ত যেখানে কোনো লেডি আর্টিস্ট পারফর্ম করতে পারেনি সেখানে তুই আমার ছুটকি কি-না লাইভ পারফরম্যান্স করেছিস উইথআউট এনি প্ল্যানিং! ও মাই গড! ভাবা যায়? তোর ভাই হিসেবে ভীষণ প্রাউড প্রাউড ফিলিং আসতেছে ছুটকি! আমি এক্ষুনি স্ট্যাটাস দিবো, ক্যাপশনে লিখবো " এইযে এই কিউটিটা আমার বোন, সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়ের সাথে পারফর্ম করেছে সে আর কেউ নয় আমার মনির পেটের বোন!" আহ তারপর আমিও প্রাঙ্ক কিং এর পাশাপাশি ভাইরাল সিস্টার'স ব্রাদার হিসেবে পরিচিত হয়ে যাবো। উফফফ! ভাবতেই গর্বে বুকটা ফুলে উঠছে।"

গম্ভীর চোখমুখ করে রুশো ভাইয়ার দাঁত কেলিয়ে রাখা মুখটায় তাকালাম আমি। ভেবেছিলাম এই নিয়ে ভাইয়ার দুঃখ দুঃখ ফিলিংস আসার কথা, আমায় সান্ত্বনা দেওয়ার কথা অথচ তাকিয়ে দেখ ভাই কি-না আমায় নিয়ে প্রাউড ফিল করছে। ওই সাদা বিলাইটার প্রতি এতো ভালোবাসা আসে কোথায় থেকে? ওহ গড! ইটস টু মাচ!

------ "ফুলতেছ ঠিক আছে, তবে খেয়াল রেখো আবার ফেটে টেতে যেনো যেও না।"

কথাটা বলে উঠে দাঁড়ালাম আমি। ড্রেসিংটেবিলের সামনে গিয়ে এলোমেলো করে রাখা চুলগুলো ব্রাশ করতে ব্যস্ত হলাম। রুশো ভাইয়া মাথা চুলকে প্রসঙ্গ এড়াতে চাইলো। হেসে বলল,

------ "হেহে! আপাতত ওসব ছাড়। ভার্সিটি যাবি না? চল তোকে পৌঁছে দিয়ে আসি!"

------ "আজ নয়, শরীরটা ভালো লাগছে না ভাইয়া। আমি রিকশায় চলে যাবো। চিন্তা করো না!"

রুশো ভাইয়া উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লো হঠাৎ। চট করে উঠে এসে কপালে বা হাত ছুঁইয়ে উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল।

------ "শরীর খারাপ লাগছে আগে বলবি না? কিন্তু জ্বর তো নেই। তাহলে?"

ভাইয়ার হাতদুটো মুঠোয় নিয়ে শান্ত হবার জন্য পলক

ঝাপটালাম আমি। মিষ্টি হেসে বললাম,

------ "আহা শান্ত হও ভাইয়া। তুমি যেমনটা ভাবছ তেমনটা নয়, কালই নীবিড় ভাইয়ার গাড়িতে করে এলাম তো তাই আর আজ গাড়িতে উঠতে ইচ্ছা করছে না। তুমি তো জানোই....!"

আমায় মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে রুশো ভাইয়াই বলে উঠলো,

------ "হু জানি, আর নতুন করে বলতে হবে না। সাবধানে যাস!"

হাল্কা করে মাথা নাড়ালাম আমি। ব্যাগে বাড়তি দুটো বই ঢুকিয়ে ঘাড়ে তুললাম। উল্টোদিকে দিকে ফিরে হাঁটা ধরলাম ভার্সিটির উদ্দেশ্যে।

------ "ছুটকি....!"

ঘর ছেড়ে বের হবার পূর্ব মুহুর্তে রুশো ভাইয়ার পিছু ডাকায় থমকালাম আমি। ঘাড় ঘুরিয়ে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

------ "কিছু বলবে রুশো ভাইয়া?"

রুশো ভাইয়া প্রথমে খানিকটা ইতস্তত বোধ করছিলো। জড়তা কাটিয়ে কোনোমতে বলল,

------ "আব...বছিলাম ও কেমন আছে রে?"

------ "ও!" এই ও টা কে? ওয়েট আ মিনিট! রুশো ভাইয়া, তোমার কবে থেকে এসব 'ও' 'টো' হতে গেলো? সামথিং ফিশি! ব্যাপার কী হুম?

বাম সাইডের ভ্রুটা উঁচু করে সন্দেহপ্রবন গলায় কথাটা বললাম আমি। রুশো ভাইয়া বোকা হেসে উত্তর দিলো,

------ "বুঝেও না বোঝার ভান করছিস কেনো ছুটকি? ইউ নো না আম আ শাই পার্সোন!"

------ "হয়েছে হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না। ও ভালো আছে। তা বলো, তোমার হয়ে তোমার এটমবোম্বকে কোনো মেসেজ পাঠাতে হবে বুঝি?"

রুশো ভাইয়া মাথাটা ডানে-বামে নাড়িয়ে "না" বলল। তারপর পেছনে ঘুরে টেবিলে রাখা ছোট্ট একটা বক্স হাতে নিয়ে বলল,

------ "মুখে কিছু বলতে হবে না। ব্যাস, এই বক্সটা ওকে দিস। ফার্স্টেই আমার নাম বলবি না কিন্তু। ও নিলে তারপর বলিস। কেমন?"

রুশো ভাইয়ার হাত থেকে র‍্যাপিং পেপারে মোড়ানো বক্সটা নিয়ে ব্যাগে ঢোকালাম আমি। মাথা ঝাঁকিয়ে বাম চোখটা টিপে দিয়ে বললাম,

------ "ডোন্ট টেক টেনশন! কাজ হয়ে যাবে, তোমার ছুটকি সব সামলে নেবে, চিল। আর তুমি কিন্তু সময় করে ট্যানিকে খাইয়ে দিও। কেমন?"

------- "যথা আজ্ঞা ছুটকি!"

______________________________________

প্রতিদিনকার মতো আজও কপাল পোড়া আমি, রিক্সার অভাবে মোড়ে পুতুল সেজে দাঁড়িয়ে, বিরক্তিতে পিষ্ট মন নিয়ে একের পর এক গালি-গালাজে ঠোঁট বাঁকাচ্ছি নিজের। কিছুক্ষণ আগে কপাল করে এক খালি রিক্সা যদিও পেতে নিয়েছিলাম তাতেও বা হাত ঢুকিয়ে আমার পূর্বেই দৌড়ে উঠে গিয়েছে এক বজ্জাত মহিলা। ঢং দেখে বাঁচা যায় না! আরে ভাই আমি রিক্সা ডাকলাম তুই উঠতে যাবি কেনো। এতোই তাড়া তাহলে আমায় বলতি, আমি কি তোরে ফেলায় দিয়ে চলে যেতাম? বললে বরং এতো সুন্দর সুন্দর গালিও খেতি না, দৌড়ে হাঁটু না মচকে আরামে আরামে কেটে পড়তে পারতি। অদ্ভুত মানুষজন! আজকাল রিক্সা পর্যন্ত ছিনিয়ে নিতে চায়! উফফফ! আমি রাগে-দুঃখে এগোলাম আরো কিছুদূর। ফুটপাতের ধার ঘেঁষে হেঁটে চলার পথে চোখ আটকালো মোটা বটগাছটার শেকড়ের পানে। ধুলোয় লুটুপুটু হয়ে শুয়ে আছে কয়েকটা কুকুর। মা'য়ের শরীর জীর্ণ-শীর্ণ, কিচ্ছুটি নেই যেনো। অনাহারে ভুগতে ভুগতে দূর্বল শরীর নিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেনা আর। তার বাচ্চাগুলোও তো ক্ষুদার্থ। এই সময়টায় যেখানে মা'য়ের দুধ খাওয়া অপরিহার্য যেখানে দুধের অভাবে ছটফট করছে ওরাও। আমার মায়াভরা চোখদুটোয় নিমিষেই নোনাজলের অস্তিত্ব আবিষ্কার করলাম। চট করে ফোনটা বের করে রাত্রিকে কল করলাম,

------ "হ্যালো দোস্ত, বল! আর কত টাইম ওয়েট করবো? রিক্সা পেলি?"

------ "রাত্রি, তুই আমার জন্য ওয়েট করিস না। রিক্সা নিয়ে রওনা হ। আমার একটু দেরি হবে। আসছি আমি। তুই যা!"

----- "আরে! কিন্তু....!"

প্রতিউত্তরে রাত্রি কোনো কিন্তু আমার পছন্দ হবার নয়। যার ফলস্বরূপ মাঝ পথে ফোনের লাইন কেটে রাস্তার ধারের ছোট্ট দোকানটায় গিয়ে দাঁড়ালাম আমি। বৃদ্ধ এক চাচা পান সাজাচ্ছেন। তার হয়তো স্ত্রী হবে তিনি কেটলি হাতে গ্লাসে ঢালছেন চা। আমি স্মিথ হেসে দুজনের উদ্দেশ্যেই বললাম,

------ "আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন আপনারা?"

দোকানদার চাচা নিজের ঘোলা হওয়া চশমাটা মুছে আমার মুখের পানে তাকালেন। খানিক চেহারা চিনবার চেষ্টা চালিয়ে ব্যার্থ হয়ে বললেন,

------ "ওয়ালাইকুম আসসালাম! আমরা ভালাই আছি। কিন্তু তুমি কে আম্মা? তোমারে তো চিনবার পারলাম না!"

------ "আমিও আপনাদের চিনতাম না। আজ থেকে চিনছি। এই সামনেই আমার বাসা।"

চাচি-চাচা দুজনেই নিজেদের আধভাঙা দাঁত বের করে মিষ্টি হাসলেন। আমি মুগ্ধতা ভরা চোখে চেয়ে সেই হাসির সার্থকতা খুঁজে চললাম। চাচি চা'য়ের কাপটা খরিদ্দারকে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

------ "ভারী মিষ্টি মাইয়া তো তুমি! দোয়া করি অনেক বড় হও। তা কি নিবা কও?"

------ "ওহ, চাচি আমায় দুটো পাউরুটি দিন তো। ওইযে ওই বড় প্যাকেটেরটা!"

চাচি মাথা ঝাঁকিয়ে দুটো পাউরুটি আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। আমি সৌজন্যের হাসি ফুটিয়ে পকেটে হাত ডোবালাম। জিজ্ঞেস করলাম,

------ "কত হলো চাচা?"

------ "ত্রিশ টাকা আম্মাজান।"

আমি বিল মিটিয়ে দৌড়ে এলাম বট গাছটার নিচে। আমায় দেখে ভয় পেয়ে হয়তো পালিয়ে যেতে পারে ভেবে খুবই সাবধানে পাউরুটি দুটো প্যাকেট থেকে বের করে মা'টার সামনে রাখলাম। এখন শুধু অপেক্ষা তার গন্ধ শুকে চোখ খোলবার।

নীবিড় নিজেকে যথাসম্ভব কভার করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলো। রাস্তার ধারে হঠাৎ এক চেনা মুখ দেখতে পেয়ে ব্রেক কষলো। গাড়ির কাচ নামিয়ে গম্ভীর চোখদুটো বের করলো। অনন্যা হেসে কুকুরগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে। মা কুকুরটি পাউরুটিতে কামড় বসিয়ে পেটে চালানে বস্ত। বাচ্চাগুলো ছোট, মায়ের দুধ ছাড়া অন্যকিছু খাওয়ার সময় হয়নি এখনও বিধায় গুটিগুটি পায়ে দাপিয়ে বেরোচ্ছে তারা। অনন্যা ওদের সাথে নিজেও বাচ্চাদের মতো লাফাচ্ছে। খিলখিল করে হাসছে! ওর ঠোঁটেই যে শুধু হাসির রেশ আছে এমনটা নয়, নীবিড়ের কাছে মনে হলো ওর ঠোঁটের সাথে চোখদুটোও হাসছে। স্বচ্ছ চোখদুটো উৎফুল্লতা ছড়াচ্ছে। নীবিড় ভুলে যায় প্রেস-মিডিয়ার কথা, নিজেকে যতোই কভার করে রাখুক না কেনো ওর গাড়ি সবাই চেনে। যেকোনো মুহুর্তে যে কেউ ছবি তুলে প্রচার করতে পারে। সবটা জানা সত্ত্বেও নীবিড় সেসব উটকো চিন্তা ফেলে পলকহীন চেয়ে রইলো। রাস্তায় আরো দুটো কুকুর খাবারের সন্ধানে এদিক-ওদিক ঘুরছিল। অনন্যাকে অন্য কুকুরদের খেতে দিতে আবিষ্কার করায় ভীড় জমাল ওরাও। মেয়েটার কপালে বিন্দুমাত্র ভাঁজ পড়লো না। বরং একগুচ্ছ শুভ্র গোলাপের ন্যায় মুগ্ধতা ছড়াল চোখদুটো। ও আবারও পাশের দোকানটায় গিয়ে দুটো পাউরুটি কিনে আনল। নিউ কামারদেরও খেতে দিয়ে অবশেষে হাঁটা ধরলো নিজ গন্তব্যে। নীবিড়ের হুশ ফিরল অনন্যা দৃষ্টিসীমা পাড় করার মুহুর্তে। চট করে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে রওনা হলো সে-ও। ভাবলো, অনন্যা তো ভার্সিটিতেই যাচ্ছে। ওকে কি লিফট দেওয়া যায়? নাকি সামনে গিয়ে রাত্রির সাথে রওনা হবে ও? নীবিড় ঘড়ি দেখলো। ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস তো শুরু হয়ে গেছে। ওহ নো! ও তো লেইট করে ফেলবে অনেক। নীবিড় দ্রুত স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে অনন্যার পাশে গিয়ে ব্রেক কষলো।

এতো ফাঁকা জায়গা থাকতে এই বেক্কেল মার্কা ড্রাইভার আমার পাশে গাড়ি থামালো কেনো ব্যাপারটা বুঝে উঠতে ব্রেইনে চাপ প্রয়োগ করতে কিছু। আমি চড়ামেজাজ নিয়ে হাঁটা থামালাম। কঠিন একটা গালি দেবার জন্য প্রস্তুত হয়েছি সবে তার পূর্বেই জানালা নামানো হলো। মুখে মাস্ক, চোখে গ্লাস পড়ে বসে থাকা ভদ্র মানুষটিকে চিনতে খুব বেশি বেগ পেতে হলো না। বরং অবাক হয়ে 'হা' করে থাকতে হলো কিছুক্ষণ। নীবিড় ভাই মাথা বের করে করে বলে উঠলেন,

------ "ভার্সিটি যাচ্ছিলে?"

বিস্ময় কাটিয়ে উত্তর দিলাম,

------ "এই সময় ভার্সিটি ছাড়া আর কোথায় যাবো? তা আপনি ব্রেক মারলেন কেনো? কিছু বলবেন?"

------ "নাহ, একচুয়ালি বলছিলাম আমিও ভার্সিটিতেই যাচ্ছি। চাইলে আসতে পারো, তোমায় নামিয়ে দেই।"

আমার চোখেমুখে হঠাৎ করেই কাঠিন্য ভাব ফুটে উঠলো। ভাইরালের বিষয়টা মনে পড়তেই আবারও এক বিশ্রী অনুভূতি জান্মালো। দৃঢ় গলায় বলতে হলো,

------ "আমায় নিয়ে আপনার এতো না ভাবলেও চলবে মি. সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়। আমার দুটো হাত দুটো পা সহ সবই আছে। আমি একা যেতে পারবো!"

একথা বলেই আবারও হাঁটা ধরলাম আমি। নীবিড় ভাই তৎক্ষণাৎ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আমার পাশাপাশি চালাতে লাগলেন। উঁচু গলায় চেঁচিয়ে বললেন,

------ "হেই স্টপ! সাহস কি করে হয় তোমার আমার সাথে এভাবে কথা বলার? ভালোর জন্য বলছি উঠো। তোমার ক্লাস শুরু হয়ে গেছে অলরেডি, উই উইল বি লেইট ফর শিওর!"

আমি দাঁড়ালাম। নীবিড় ভাইয়া হয়তো ভেবেছিলেন গাড়িতে উঠতেই উল্টোদিকে ফিরবো তবে আমার ইন্টেনশন ছিলো একেবারেই ভিন্ন। ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে ছোট্ট করে শ্বাস ফেললাম আমি। বললাম,

------ "সাহস! ঠিকই বলেছেন, আমার আসলে সাহসটা হয়না দেখেই বারবার ভুল করে ফেলি। আজ সাহস করে বলছি, আমায় নিয়ে আপনার এতো চিন্তা একসময় নির্ঘাত বড় কোনো বিপদ ডেকে আনবে নীবিড় ভাই। জানেনই তো কিসব নিউজ বেরিয়েছি আজ। আমি চাইনা আবারও এসব মিথ্যে নিউজের শিরোনামে নিজের নামটা থাকুক। আসছি!"

আর এক মুহুর্ত দাঁড়ালাম না আমি। সামনেই একটা রিক্সার দেখা মিলেছিল ভাগ্যক্রমে। তাতে চেপে বসেই রওনা হলাম। উনার রিয়াকশন দেখবার জন্য ফিরেও তাকালাম না। নীবিড় ভাই হয়তো আজও নিজের বন্ধুর বোনের প্রতি দায়িত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চাইছিলেন কিন্তু তাতে সায় দেওয়ার মতো ভুলটা আর করতে চাইনি আমি। ডিসট্যান্ট মেইনটেইন করাটা জরুরী। নয়তো সাধারণ আমিটা লোকমুখে বাজে কিছু নামে পরিচিত হব। সত্যের পাতা ঢেকে মিথ্যে কিছু অপবাদে গা ভাসাব। যা আমি চাইনা, অন্তত স্বাভাবিক জ্ঞান থাকাকালীন কক্ষনও না!

____________________________________

ভার্সিটি পৌঁছতে পৌঁছতে বেজে গেলো ১০ টা ২০ মিনিট। দ্যট মিনস পুরো ২০ মিনিট লেইট করে এসেছি আমি। এখন যেনো কার ক্লাস ছিলো? ওহ শিট মোস্তাক স্যার! ইনি তো সময়ের ব্যাপারে ভীষণ স্ট্রিক্ট! না জানি ক্লাসে ঢুকতে দিবেন কি-না! হে আল্লাহ এবারের মতো বাঁচিয়ে দাও। আমার তো দোষ নেই, প্রথমত রিক্সা পাচ্ছিলাম না দ্বিতীয়ত ওই অসহায় কুকুরগুলো খাওয়ালাম। এগুলো তো কোনো অপরাধ না তাইনা? মোস্তাক স্যার যেনো ক্লাসে ঢুকতে দেয় আল্লাহ! দেখো!

মনে মনে দোয়া-দরুদ পড়তে পড়তে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম আমি। মোস্তাক স্যার লেকচার দিচ্ছিলেন, না জানি সেবারের চেইন খোলা বিষয়টা মনে ধরে রেখেছেন কি-না। অনিশ্চয়তা বুক জড়িয়েই হাঁক ছাড়লাম আমি।

------ "মে আই কাম ইন স্যার?"

স্যার লেকচার থামিয়ে কপালে দৃঢ় ভাঁজ ফেললেন। ঘাড় কাঁত করে আমায় দেখেই চোখমুখ কঠিন বানিয়ে ফেললেন। জিজ্ঞেস করলেন,

------ "হোয়াট টাইম ইজ ইট মিস আয়ানা?"

------ "আব...আই এম এক্সট্রিমলি সরি স্যার! আই প্রমিজ, আর কখনো লেইট করবো না!"

------ "আই আস্কড 'হোয়াট টাইম ইজ ইট?"

স্যারের ধমকে খানিকটা কেঁপে উঠে ঘড়ির দিকে তাকালাম আমি। আমতা-আমতা করে বললাম,

------ "ইটস টেন টুয়েন্টি ফাইভ এ.এম স্যার।"

------ "গুড! ক্লাস শুরু হয়েছে কখন জানেন? ইউ আর লেইট বাই টুয়েন্টি ফাইভ মিনিটস! ইজ ইট আ জোক টু ইউ? তুমি জানো না আমি টাইমের প্রতি কতটা পাংচুয়াল? গো, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকো। ক্লাস শেষ হবে তারপর ভেতরে ঢুকবে। তার আগে নয়!"

------ "বাট স্যার আপনি আমার কথাটা তো একটু শুনুন....!

------ "শাট আপ! স্যারেদের মুখে মুখে কথা বলো, ভদ্রতা শেখায় নি পরিবার থেকে? বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছি, দাঁড়িয়ে থাকো৷ কোনোরকম নয়েজ ক্রিয়েট করলে পানিশমেন্ট বাড়িয়ে দিবো। গট ইট?"

ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে জলে সিক্ত চোখদুটোর বর্ষণ থামাবার চেষ্টা চালালাম আমি। মাথা ঝাঁকিয়ে "ওকে স্যার!" বলে দরজা থেকে খানিকটা চেপে এসে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালাম। স্যার এই সামান্য ব্যাপারটা নিয়ে আমায় এভাবে বলবে ভাবিনি! শুধু আমাকে নয়, আমার পরিবার তুলে কথা কিভাবে বললেন উনি?

ছিঃ ক্লাসের ওই ছেলে-মেয়েগুলো কি বিশ্রীভাবে হাসছিল আমায় নিয়ে! কানেকানে কিসব বলছিল! তাদের মধ্যে থেকে একজনের কথা তো কানেই এসেছিল যে, "সারাদিন সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়কে পটানোর ধান্দা করলে লেইট তো হবেই!" কথাটা পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও যেটুকু বোঝা দরকার সেটুকু বেশ বুঝেছি আমি। আমার নামে এখন থেকেই আজেবাজে রটনা শুরু হয়ে গেছে। জানিনা কোথায় গিয়ে থামবে এসব। জীবনটার প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছি দিনদিন।

নীবিড় ভাইয়া গাড়ি পার্ক করে শুভ ভাইকে কিছু একটা বোঝাতে বোঝাতে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ আড়চোখে আমায় আবিষ্কার করতেই থমকালেন। উনার কপালে মোস্তাক স্যারের মতো ভাঁজ পড়লেও অর্থ ছিলো ভিন্ন। স্যারের কপালে ছিলো বিরক্তির ভাঁজ আর উনার চিন্তার! নীবিড় ভাই শুভ ভাইকে হাতের ইশারায় যেতে বলে এগিয়ে এলেন। আমার সামনা-সামনি এসে দাঁড়াতেই চোখ নামিয়ে নিলাম আমি।

------ "কোন প্রফেসরের ক্লাস চলছে?"

নীবিড় ভাইয়ার কন্ঠে স্পষ্ট রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটলো। আমি জিহ্ব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কোনোরকমে উত্তর দিলাম,

------ "মো..মোস্তাক স্যার!"

নীবিড় ভাইয়া উত্তপ্ত শ্বাস ফেলে হঠাৎ করেই আমার ডান'হাতটা চেপে ধরলেন। ছোট্ট করে, "ক্লাসে চলো" কথাটা বলেই টেনে রুমের ভেতরে নিয়ে গেলেন আমায়। মোস্তাক স্যার চমকে উঠে অবাক চোখে তাকালেন। ক্লাসের স্টুডেন্টরা তাড়াহুড়ো করে যে যার সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। নীবিড় ভাই স্যারের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়িয়ে আমার হাত ছাড়লেন। স্যারের উদ্দেশ্যে ঠোঁটে সৌজন্যের হাসি ফুটিয়ে বললেন,

------ "সরি প্রফেসর, পারমিশন না নিয়ে ক্লাসে ঢোকায় কিছু মনে করবেন না।"

একথা বলেই স্টুডেন্টদের হাতের ইশারায় বসতে বললেন উনি। মোস্তাক স্যার চরমভাবে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। আমতা-আমতা করে বললেন,

------ "আ...আরে নী...নীবিড় সরি বলছ কেনো? আমি তো তোমায় আগেই বলেছি, তোমার কোনো পারমিশন নেওয়ার দরকার নেই। যখন ইচ্ছা ক্লাসে ঢুকতে পারো তুমি।"

নীবিড় ভাইয়া তাচ্ছিল্যের হাসিতে ঠোঁট রাঙালেন।

------ "শুধুমাত্র আমি একজন সুপরিচিত স্টার আর ও সাধারণত একজন স্টুডেন্ট সেইজন্য এতো পার্থক্য?"

মোস্তাক স্যারের কপালে ঘাম। পরিস্থিতির সামাল দিতে কোনোরকমে বললেন,

------ "আরে না না কি বলছ? তুমি হয়তো এক্সাক্ট কারণটা জানো না। এইযে মেয়েটা ক্লাস শুরুর ২৫ মিনিট পর এসেছে। আর আমি লেইট করা পছন্দ করি না। এটা জাস্ট সামান্য একটা পানিশমেন্ট নাথিং এলস!"

------ "পানিশমেন্টই যদি হবে তবে আমার জন্য ভিন্ন কেনো? আমিও তো মোস্ট অফ দ্য টাইম লেইট করে আসি। তখন তো আমায় কোনো পানিশমেন্ট দেওয়া হয়না। এমনটা কেনো?

------ "ইয়ে আসলে...!"

স্যারকে থামিয়ে দিয়ে উঁচু গলায় চেঁচিয়ে উঠলেন নীবিড় ভাই,

------ "ব্যাস! আর কোনো এক্সকিউজ দিতে হবে না প্রফেসর। আপনি জানেন এটা এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে প্রতিটি স্টুডেন্টকেই সমান নজরে দেখা হয়। অথচ আপনি আমায় যেভাবে ট্রিট করেন অন্যদের সেভাবে করবেন না এমনটা তো হবেনা। ভুলে যাবেন না ওরা এখন স্কুলে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী নয়। লেইট করেছে ফাইন! ফার্স্ট টাইম ভুল করেছে আপনি ওকে বুঝিয়ে বলতে পারতেন। অভদ্রতা করলে পানিশমেন্ট দিতেই পারতেন কিন্তু আপনি কি করলেন? ওর থেকে লেইট হওয়ার রিজনটুকুও কী শুনেছেন?"

------ "রিজন শুনে কি হবে? ও যে অযুহাত দিবে তা তো জানা কথা!"

------ "বাহ, আপনি একজন স্টুডেন্টের মুখ দেখে বলে দিলেন ও মিথ্যে এক্সকিউজ দিবে? এক্সিলেন্ট! কিন্তু আমার তো তেমনটা মনে হচ্ছে না প্রফেসর। পার্সোনাল ইস্যু নিয়ে স্টুডেন্টদের জাজ করলে যে আপনার জবটা চলে যেতে পারে একথা জানেন তো?"

মোস্তাক স্যার আমার দিকে এক পলক গরম চোখ করে তাকালেন। ক্লাসে উপস্থিত স্টুডেন্টদের ফিসফাস শুনে লজ্জায় মাথাটা সামান্য নোয়ালেন। নিচু গলায় বললেন,

------ "নীবিড় তুমি ভুল বুঝছ, লেট মি এক্সপ্লেইন। এভাবে স্টুডেন্টদের সামনে সিনক্রিয়েট করো না!"

------ "আহা, ভুল বললেন। আমি সিনক্রিয়েট করছিনা! আমি জাস্ট আপনাকে ভদ্র ভাষায় ওয়ার্নিং দিচ্ছি। নেক্সট টাইম ডিটেইলস না জেনে যদি কোনো স্টুডেন্টদের পানিশমেন্ট দিয়েছেন তবে উপরমহলে কমপ্লেইন করতে কিন্তু আমি দু'বারও ভাবব না।"

এভাবে ক্লাসে সম্মুখে অপমানিত হয়ে চোখ তুলে তাকাবার মতো পরিস্থিতিও রইল না মোস্তাক স্যারের। নীবিড় ভাই ছোট্ট করে শ্বাস ফেললেন। ঘাড় ঘুরিয়ে আমার উদ্দেশ্যে বললেন,

------ "যাও সিটে গিয়ে বসো। এন্ড ওয়ান মোর থিংক, তোমায় যতোটা অপদার্থ ভেবেছিলাম ততটা অপদার্থ তুমি নও। ইউ আর আ সৌল মেইড উইথ আ পিওর হার্ট!"

আমার চোখে তখন সুখের জল। নীবিড় ভাই আমার জন্য এতোটা করবেন তা কল্পনাতেও ভাবিনি আমি। এতো ভালো কেনো মানুষটা? কেনো এতোটা পারফেক্ট পার্সোনালিটির মানুষ উনি? জানা নেই আমার। উনার নতুন নতুন রূপগুলোর অর্থ আমি বুঝিনা। শুধু অবাক হয়ে দেখি। প্রতিউত্তরে বলার মতো কোনো শব্দ কিংবা বাক্য কিছুই খুঁজে পাইনা। কিচ্ছুটি না!

#চলবে_____________

[ দেরি হওয়ায় ক্ষমাপ্রার্থী। ভুল বুঝবেন না প্লিজ।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন