#প্রেম_আমার♥(সিজন-টু)
#পর্ব-৮৬♥
#আয়ানা_জাহান_নুসরাত♥
----- "সাদমান শাহরিয়ার নীবিড়ের বাড়ির লোক কারা আছেন?"
রুশো বোনের কাছে যেতে নিয়েও থমকাল। নিত্য, রাত্রির সাথে সমসুরে জবাব দিলো,
----- "আমরা আছি ডক্টর। ব্রো, এখন কেমন আছে? আমরা কি এখন দেখা করতে পারবো?"
ডক্টর সকলকে এতোটা অধৈর্য্য হতে দেখে মৃদু হেসে পলক ঝাপটালেন। মিষ্টি করে বললেন,
----- "আপাতত চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনারা উনার সাথে দেখা করতে পারেন। তবে কয়েকদিন বেড রেস্টে থাকতে হবে উনাকে।"
নিত্য ডক্টরের দিকে এগিয়ে গেলো আরেক ধাপ তারপর চিন্তিত গলায় বলল,
----- "ডক্টর আমি একজন মেডিক্যাল স্টুডেন্ট। আমরা চাইছিলাম ভাইয়াকে বাসায় নিয়ে গিয়ে রেস্টে রাখতে। ভরসা রাখুন বাসায় যত্নের কোনো ত্রুটি হবেনা। এখন ভাইয়াকে হসপিটাল থেকে কবে রিলিস করানো যাবে বলতে পারেন?"
ডক্টর কয়েক সেকেন্ড ভাববার জন্য সময় নিয়ে বললেন,
----- "মিস, আপনার ভাইয়ের কন্ডিশন ততটাও ভালো নেই। অ্যাঙ্কেল স্রেপেইন এর জন্য কম করেও তিনদিন হসপিটালে থাকবে হবে উনাকে। এরপর আপনারা উনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন। তবে দেখে রাখবেন হাঁটাচলা ব্যতীত খুব বেশি দৌড়ঝাঁপ যেনো এক দু'দিনের মাঝেই না করেন।"
নিত্য মাথা ঝাঁকিয়ে দ্রুত জবাব দিলো,
----- "অবশ্যই ডক্টর, থ্যাংকিউ সো মাচ!"
কথাটা বলেই দ্রুত পায়ে আইসিইউতে প্রবেশ করলো নিত্য। তার পিছু পিছু রাত্রিও যেতে ধরলো। এমন সময় রুশো বলল,
----- "এটম বোম্ব, তোমরা যাও। আমি ছুটকিকে নিয়ে আসছি।"
রাত্রি মাথাটা কাঁত করে সম্মতি জানিয়ে নিত্যর পিছুপিছু আইসিইউতে ঢুকল।
নীবিড় চোখদুটো বুজে স্থির হয়ে শুয়ে। হাতের শিরাপথে স্যালাইন চলছে। মচকে যাওয়া পা'টায় ক্রেপ লাগানো। ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ব্যাথা উপশমের উদ্দেশ্যে। নীবিড়ের মুখটা বড্ড শুকনো লাগছে। নিষ্প্রাণ, নিস্তেজ লাগছে ছেলেটাকে। নিত্য চোখে জল নিয়ে নীবিড়ের পাশে চেয়ার টেনে বসলো। ভাইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে মৃদু গলায় ডাকল,
------ "ভাইয়া?"
নীবিড়ের কপালে কিঞ্চিৎ ভাঁজ পড়ল। ঘুমে টুইটুম্বুর চোখদুটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে অবশেষে মেলে তাকাল। নীবিড় তাকাতেই চওড়া হাসি ফুটে উঠল নিত্য-রাত্রির মুখে। ঠিক সেই সময়ই হাতে পলিথিন ব্যাগ নিয়ে এলো অগ্নি। নীবিড়কে দেখে প্রশান্তির হাসি হেসে ব্যাগটা পাশের টেবিলে রাখল। দুষ্টুমির ছলে বলল,
------ "যাহ শালা! তুই বাইচ্চা আছস? আমি তো ভাবলাম এতক্ষণে মইরা ভূত হয়া গেছস। আফসোস আমার আর তোর চল্লিশা খাওয়াটা হইলো না রে!"
কথাটার শেষ করার সাথেসাথেই নিত্যর হাতের শক্ত এক চিমটি খেল অগ্নি। "আউউউ" করে চেঁচিয়ে বলল,
------ "ভাই-বোন দুটোই বিচ্ছু! এতো জোরে কেউ চিমটি কাটে?"
নিত্য 'ফোস' করে উত্তপ্ত শ্বাস ফেলতে ফেলতে বলে উঠল,
------ "এমন সিরিয়াস মুহুর্তেও তোমার ফাজলামো যাবে না তাইনা? যাও ভাগো এখান থেকে। তোমার সাথে আর কথাই বলবো না।"
নিত্য ভেংচি কেটে কথাটা শেষ করল। নিত্যর রাগ ভাঙাতে অগ্নি মুখটা বাচ্চাদের মতো করে আবারও বলল,
------ "আরে আরে রাগ করো কেনো? আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম। এই বলদ তোর বোনকে বল আমি নির্দোষ, নিষ্পাপ এক..."
------ "পাঠা।"
অগ্নির কথার মাঝে বাম হাত ঢুকিয়ে বলল নীবিড়। অগ্নি আশাহত হয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
------ "ব্যাটা তুই আর ভালা হইলি না। অসুস্থ তাও তোর মুখ থেকে 'পাঠা' ডাকটা গেল না!"
নীবিড় দূর্বল হেসে বলল,
------ "এখন পাঠাকে পাঠা না বলে তো আর ছাগল বলা যায়না।"
অগ্নি পারে না সেখানেই নীবিড়কে টুপ করে গিলে খায়। তবে হাজার হোক ছেলে অসুস্থ। তাকে এমতাবস্থায় খেলে বদহজম হতে পারে। যার দরুন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখিয়েই চুপ করে গেল অগ্নি। নিত্য ধরা গলায় নীবিড়কে জিজ্ঞেস করল,
------ "এখন কেমন লাগছে ভাইয়া?"
নীবিড় পলক ঝাপটে বলল,
------ "এই পাগলি কাদিস না। ঠিক আছি আমি।"
কথাটা বলেই পুরো ঘরটায় চোখ বুলালো নীবিড়। কাঙ্ক্ষিত মুখটা খুঁজে না পেয়ে চিন্তিত গলায় প্রশ্ন ছুড়লো,
------ "অ..অনন্যা কোথায়? রুশোকেও তো দেখছিনা। ওরা কি এপার্টমেন্টে ফিরে গিয়েছে?
নীবিড়ের প্রশ্নে হুশ ফিরে এলো অগ্নির। নীবিড়ের মাঝে সম্পূর্ণ মনোযোগ ঢেলে দেওয়ায় এতক্ষণ লক্ষ্যই করা হয়নি অনন্যার সাথে রুশোও এখানে উপস্থিত নেই। অগ্নি কপালে ভাঁজ ফেলে বলে উঠল,
------ " আরে তাইতো! আয়ু, রুশো গেলো কোথায়? নিত্য-রাত্রি, কোথায় গেছে ওরা?"
মুহুর্তেই মুখ ছোট হয়ে এলো নিত্য-রাত্রির। রাত্রি ধীর গলায় বলল,
------ "নীবিড় ভাইয়া কম্পিটিশন জেতায় রাহিত ভাই উইনিং ট্রফি নিয়ে এসেছিল। আর ওটা দেখেই আরো ইমোশনাল হয়ে গেছিল অনু। এই ট্রফিটার জন্যই নাকি নীবিড় ভাইয়ার আজকে এই হাল বলে দৌড়ে চলে গেছে ওয়াশরুমের ওদিকটায়। চিন্তা করো না, রুশো ওকে নিয়ে আসছে।"
রাত্রির উক্ত বিবরণে বিচলিত হয়ে উঠে বসতে ধরল নীবিড়। তবে তাকে দ্রুত বাঁধা দিয়ে বলল নিত্য,
------ "ভাইয়া উঠিস না। তোর রেস্টের প্রয়োজন, একটু ধৈর্য্য ধর। রুশো ভাই অনন্যাকে নিয়ে এলো বলে।"
নিত্যর নীবিড়কে শান্ত করার প্রচেষ্টা চালানোর মাঝেই হন্তদন্ত হয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে এলো রুশো। ক্রমাগত ফেলতে লাগলো উত্তপ্ত শ্বাস। রুশোকে এভাবে হাঁফাতে দেখে চমকে উঠল সবাই। সবার চমকানোর মাত্রাটাকে আকাশ ছোঁয়াবার উদ্দেশ্যে বলতে লাগলো রুশো,
------ "বো..বো..ব্রো, ছুটকিকে কো...কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা। আমি পুরো ফ্লোর খু..খুঁজে ফেলেছি। কোথাও নেই ও!"
কথাটা বলে দু'হাতে হাঁটু চেপে ধরলো রুশো। প্রচুর ছোটাছুটি করার ফলে বৃষ্টির ন্যায় ঘাম ছুটছে তার শরীর থেকে। নীবিড়ের বুকটা মুহুর্তেই মোচড় দিয়ে উঠল। কোনো কিছু না ভেবেই উঠে বসলো সে। কাঁপাকাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল,
------ "অ..অনন্যা নেই মানে? কো...কোথায় গেছে ও?"
"অনন্যাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না" এমন একটা সংবাদে নীবিড় ঠিক কতটা পাগলামি করতে পারে তা অগ্নির খুব ভালো করে জানা। যার দরুন আবারও নিশ্চিত হবার জন্য জিজ্ঞেস করল অগ্নি,
------ "কিসব বলছিস! তুই কি ঠিক মতো খুঁজে দেখেছিস?"
মুখটা কাঁদোকাঁদো করে বলল রুশো,
------ "হ্যাঁ ব্রো, তা নাহলে এতো দেরি করে আসতাম বলো? এই ফ্লোরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুঁজেছি। ছুটকি কোত্থাও নেই।"
অগ্নি ভয়ার্ত চোখে নীবিড়ের দিকে তাকাল। নীবিড়ের ভাবসাব ভালো ঠেকছে না। যেকোনো মুহুর্তে অঘটন ঘটিয়ে ফেলবে সে। অগ্নি দ্রুত নীবিড়কে থামিয়ে রাখার জন্য নিত্যর উদ্দেশ্যে বলল,
------ "নিত্য, তুমি নীবিড়ের কাছে থাকো। আমি, রুশো, রাত্রি অন্যান্য ফ্লোরগুলো খুঁজে দেখছি। ও হসপিটালেই থাকবে চিন্তা করো না।"
কথাটা বলেই রাত্রিকে চোখের ইশারায় তাদের সাথে যেতে বুঝিয়ে ছুট লাগালো অগ্নি। আইসিইউতে ফেলে গেলো দুই ভাই-বোনকে। নিত্য নিজের অস্থিরতা'টা গোপন রেখে ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলল,
------ "ভা..ভাইয়া এতোটা অস্থির হোস না। অনন্যা হসপিটালেই আছে। এই রাতে আবার কোথায় যাবে বল!"
------ "সেটার উত্তর জানা নেই বলেই এখন যেতে হচ্ছে আমায়।"
কথা বলেই হাত থেকে স্যালাইনের নল ছুটিয়ে ফেলল নীবিড়। নিত্যর চোখ বড়বড় হয়ে এলো। নীবিড়ের বা হাতটা চেপে ধরে করুন গলায় বলল,
------ "ভাইয়া, কি করছিস তুই? স্যালাইন কেনো ছুটিয়ে ফেললি? দেখ ভাইয়া, প্লিজ পাগলামি করিস না। তুই এখনও সুস্থ নস!"
নীবিড় জবাব দিলো না। ঝুলিয়ে রাখা পা'টা নামিয়ে পেঁচিয়ে রাখা ক্রেপটাও খুলে ফেলল। নিত্য তাতে বাঁধা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েও লাভ করতে পারলো না। নীবিড় দূর্বল শরীর সাথে মোচকে যাওয়া পা'টা নিয়েই এলোমেলো পা ফেলে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
রাহিত হাতে ফুলের স্টিক নিয়ে হেলেদুলে আসছিলো। তার ভাইয়ের সাথে দেখা করবে বলে কত আয়োজন! নীবিড় কখনোই রাহিতকে নিজের পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট এর চোখে দেখেনি। কারণে অকারণে ধমক দিয়েছে তবে এসিস্ট্যান্ট বলে নয় বরং ভাই হিসেবে। রাহিতও নীবিড়কে নিজের ভাইয়ের চোখে দেখে এসেছে। অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে নীবিড়ের প্রতিটি কথা। এটা সত্য যে রাহিত নীবিড়কে যমের মতো ভয় পায় যেমনটা ভয় পায় কোনো বাধ্যগত ছোট ভাই তার বড় ভাইকে। আজ নীবিড়ের অসুস্থ। রাহিতকে এটা ওটা করতে বলার জন্য নেই সে। সে হিসেবে রাহিতের তো বেশ আরামেই থাকার কথা ছিলো। কিন্তু রাহিত সুখে নেই। খুব করে বুঝতে পারছে নীবিড় না থাকার শুণ্যতাটা। নীবিড় কম্পিটিশনে জিতিছে। এতো কষ্টের পর তাকে শুভেচ্ছা তো আর খালি হাতে দেওয়া যায় না। এমনটা ভেবেই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবার জন্য আসছিল রাহিত। হঠাৎ পথে কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে ফুলগুলো হাত থেকে পড়ে গেল তার। রাহিত চমকে উঠে অসহায় ফুলগুলোর দিকে তাকাল। তারপর এত সাধনার ফুলগুলো ফেলে দেওয়া ব্যক্তির দিকে রাগান্বিত চোখে তাকাতেই চোখদুটো বড়বড় হয়ে এলো তার। অস্ফুটস্বরে উচ্চারণ করল,
------ "ভা...ভাই তুমি!"
নীবিড় রাহিতের চিন্তামাখা মুখটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বলল,
------ "গাড়ির চাবি দে।"
------ "কি..কিন্তু"
রাহিতের কথাটা গলায় আটকে রেখেই ওর পকেট থেকে চাবি বের করে আবারও ধীর পায়ে দৌড়ে চলল নীবিড়। রাহিত হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকার মাঝেই আবারও জোরেশোরে ধাক্কা খেল। এবারের ধাক্কার অপরপক্ষ হলো নিত্য। নিত্য নিজেকে সামলে নিয়ে ব্যস্ত গলায় বলল,
------ "রাহিত ভাই, ভাইয়াকে দেখেছ? কোনদিকে গেছে ভাইয়া?"
রাহিত মুখে বলল না। হতভম্ব হয়ে থেকেই আঙুল দিয়ে লিফটের দিকে ইশারা করল। নিত্য চোখ বড়বড় করে চেঁচিয়ে উঠল মুহুর্তেই,
------ "মানেটা কি? তুমি ভাইয়াকে দেখেও আটকাও নি! কি করেছটা কি! ধ্যাত!"
নিত্য আর এক মুহুর্ত দাঁড়ালো না। লিফটে উঠে ধরলো নীবিড়ের পিছু। রাহিত ভ্যাবলাকান্ত হয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল। কি হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে যে। রাহিতের মনে প্রশ্ন জাগছে। এখানে কি কোনো সার্কাস চলছে? নাকি চলছে 'পাকরাম পাকরাই' কার্টুন?
রাহিতের ভাবনায় ছেদ ঘটল তৃতীয়বারের মতো ধাক্কা খাওয়ায়। এবারের ধাক্কায় অভাগা হুমড়ি খেয়ে পড়ল ফ্লোরে। ব্যাথায় কুঁকড়ে কোমড় চেপে ধরে ছাড়ল এক চিৎকার,
------ "ওবাবা রে গেছি রে!"
এবারেও একই ঘটনা ঘটল। রাহিতের ব্যাথাটাকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে সামনে পিলারের ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা অগ্নি প্রশ্ন ছুড়ল,
------ "রাহিত, নীবিড়-নিত্য কোথায়? আইসিইউ ফাঁকা কেনো?"
রাহিত দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাথাটা হজম করে নিয়ে কোনোরকমে বলল,
------ "নীবিড় ভাই, গাড়ির চাবি নিয়ে লিফট দিয়ে নেমে গেছে, ভাইয়ের পেছনে আবার গেছে নিত্য। আমি এর থেকে বেশি কিছু জানিনা। আর ধাক্কা খেলে জীবনটা থাকবে না।"
রাহিতের কথার পর একে-অপরের দিকে তাকাল অগ্নি-রুশো-রাত্রি। তার পরমুহুর্তেই ঝড়ের গতিতে রাহিতকে পাশ কাটিয়ে ছুটে চলল তারা। দূর্ভাগ্যবশত রাত্রির জুতো যাওয়ার পথে একটা ছোটখাটো লাথি মেরে দিয়ে গেল রাহিতের পায়ে। লাথিটা ঠোঁট কামড়ে সহ্য করে নিয়ে রাহিত মুখটা কাঁদোকাঁদো করে তার পাশেই পড়ে থাকা অসহায় ফুলগুলোর দিকে তাকাল। একমাত্র ফুলগুলোই যেনো হতভাগার কষ্টটা অনুভব করতে সক্ষম হলো। রাহিতের ফ্লোরে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে থাকার মাঝেই পাশে মস্ত এক ছায়া দেখতে পেল। খুব সম্ভবত আবারও একদল এসে লাথি মেরে যাবে তাকে। রাহিত ভয়ে আগে থেকেই দু'হাতে মুখ চেপে ধরে গুঙিয়ে উঠল,
------ "ভাই-বোন, আপনি যেই হন দয়া করে ব্রেক কষুন! নয়তো এবার কোমড় ভাঙার সাথেসাথে মানুষ ভর্তা হয়ে যাবো আমি।"
রাহিত ওভাবেই বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে রইল। যখন বিপরীত পক্ষ থেকে কোনো আক্রমণের আভাস পেলো না তখন মুখ থেকে হাত সরিয়ে পাশের ছায়াটায় তাকাল। রাহিতের চোখদুটো বিস্ময়ে ছেয়ে গেলো ছায়াটাকে স্থির হয়েই থাকতে দেখে। যার দরুন মুখ ঘুরিয়ে ওপরে তাকাল। তখনকার সেই বদমেজাজি নার্সটা সরু চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। রাহিতের মুখটা বিস্ময়ে 'হা' হয়ে যেতেই ধমকে উঠল সে,
------ "এইযে মিয়া, আপনি তখন হসপিটালের পরিবেশ নষ্ট করছিলেন এখনও তাই করছেন। এভাবে মরার মতো পড়ে আছেন কেনো? উঠুন!"
রাহিত কেঁপে উঠল নার্সের ধমকে। তার পরপরই করুন চোখে চেয়ে দুঃখী দুঃখী গলায় বলল,
------ "উঠতে পারলে কি আর এভাবে পড়ে থাকতাম ম্যাডাম? কোমড়টা যে আর কোমড় নেই। ভেঙে পাউডার হয়ে গেছে।"
নার্সের কপালে দৃঢ় ভাঁজ পড়ল এবার। রাহিত যে বাড়িয়ে বলছে তাতে সন্দেহ নেই তবু ব্যাথা পেয়েছে এটা সত্য ভেবেই হাত এগিয়ে দিল সে। রাহিতকে হাত ধরে উঠার বদলে রসগোল্লার মতো চোখ করে চেয়ে থাকতে দেখে আবারও ধমকে উঠল,
------ "কি হলো? ওমন গরুর মতো চেয়ে আছেন কেনো? হাতটা ধরে উঠুন!"
রাহিত তাই করল। নার্সের হাত ধরে কোনোরকমে দাঁড়িয়ে হাঁফ ছাড়ল। কৃতজ্ঞতা জানাতে গদগদ কণ্ঠে বলল,
------ "আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ম্যাডাম। আপনি বাইরে থেকে একটু রাগী হলেও আপনার মনটা কিন্তু অনেক নরম।"
নার্স রাহিতের মুখে একদিকে যেমন অপবাদ অপর দিকে প্রশংসা টাইপ কমপ্লিমেন্ট শুনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। সে দৃষ্টিকে সাক্ষী রেখেই রাহিত মাথা চুলকে বলে উঠল,
------ "তবে ম্যাডাম, আপনি যে আবারও আমায় প্রশ্নবিদ্ধ করলেন!"
নার্স মুখ বাঁকিয়ে পালটা প্রশ্ন করলেন,
------ "কি বলতে চাইছেন আপনি?"
------ "বলতে চাইছি যে, যেহেতু আমি তো একজন মানুষ সেহেতু বৈজ্ঞানিকভাবে আমি একজন মানুষের মতোই তাকিয়ে থাকব। কিন্তু আপনি বললেন আমি নাকি গরুর মতো চেয়ে আছি। এখন মানুষ হয়ে গরুর মতো তাকায় কিভাবে এর সাইন্সটা যদি একটু কষ্ট করে বুঝিয়ে দিতেন...!"
নার্স রেগেমেগে রাহিতকে পাশ কাটিয়ে নিজ রাস্তায় হাঁটা ধরল। যাওয়ার আগে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে গেলো,
------- "আস্ত একটা পাগল।"
#চলবে_________
[ এতদিন এসাইনমেন্ট না করে দিব্যি খিল্লি উড়িয়েছি। এবার একসাথে তিন তিনিটে এসাইনমেন্টের বড়সড় বাঁশ খেলাম। হাতে সময় নেই। তাই এটুকুই দিতে পারলাম। পরশু দিতে পারব কি-না সন্দেহ। ]