ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ২)

৮৫তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥(সিজন-টু)

#পর্ব-৮৫♥

#আয়ানা_জাহান_নুসরাত♥

"ভালোবাসা"। চারটে অক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত একটি ক্ষুদ্র শব্দ মাত্র। অথচ এই ক্ষুদ্র শব্দটাই একটা মানুষকে নিজের ইশারায় নাচাতে পারে। ভালোবাসা মানুষকে হাসায়, ভালো লাগায় ভরিয়ে দেয়, বুক জুড়ে নামিয়ে আনে প্রশান্তির ঝর্ণা। আবার এই ভালোবাসাই কখনো কখনো মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে মনটা বিষাদময় করে তোলে। সময়টাকে করে তোলে তিক্ত, বিষাক্ত। সহ্য করা সম্ভব হয় না তবু সহ্য করে যেতে হয়। কারণ হাতে যে করার কিছুই থাকে না। আমার জীবনেও হয়তো সেই বিষাক্ত, অসহ্যকর সময়টা এসেছে। ভালোবাসার বিনিময়ে দিয়েছে পাহাড় সমান বেদনা।

নীবিড় আইসিইউ-তে কাতরাচ্ছে। শ্বাস নিতে পারছেন না বলে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে রাখা হয়েছে মুখে। পা বাজেভাবে জখম হয়েছে। ডক্টরেরা ক্লিন করে ব্যান্ডেজ করে নিলেও পা'য়ের একই জায়গায় দ্বিতীয় বার মোচড়ে গেছে। নীবিড় অসুস্থ, যন্ত্রণায় ছটাফট করছে। চোখের সামনে ভালোবাসার মানুষটা এমন কঠিন একটা সময়ের মাঝ দিয়ে যাচ্ছে অথচ আমি দর্শকের ভূমিকা ছাড়া আর কোনো ভূমিকাই পালন করতে পারছিনা। ধরুন, ভালোবাসার মানুষটার আপনার সামনে কাতরাচ্ছে। কিন্তু আপনি পারছেন না তাকে সুস্থ করে তুলতে, পারছেন না চোখের পলকেই তার ক্ষতগুলো সারিয়ে তুলতে, পারছেন না তাকে সুস্থ করে নিজের বাহুডোরে বেঁধে রাখতে। পৃথিবীতে এর থেকে বেশি কষ্টের আর কিছু হতে পারে বলে মনে হয়না আমার।

আমার কোনো আধ্যাত্মিক শক্তি নেই, ফ্যান্টাসি মুভির নায়িকাদের মতো কোনো সুপার পাওয়ার নেই। আমিও আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই রক্তে-মাংসে গড়া একজন মানুষ। আমি ডাক্তারও নই, যে নিজের ভালোবাসার মানুষটার চিকিৎসা করিয়ে সারিয়ে তুলব। বর্তমানে উপরওয়ালার নিকট প্রার্থনা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই আমার হাতে। যন্ত্রণা হচ্ছে, ভেতরটা জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে চলেছে কিন্তু তার থেকে মুক্তির পথ বিরল। চোখ বেয়ে নেমে যাওয়া অশ্রুধারা'রাও বিরতি নিয়েছে। পাথর বানিয়ে রেখেছে আমায়।

আমি আইসিইউর গেইট থেকে সরে এসে দূর্বল শরীরটা ছেড়ে দিয়ে ধপ করে বসে পড়লাম। নিত্য আপু কেঁদেকেঁটে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। রাত্রির অবস্থাও বিশেষ ভালো নেই। রুশো ভাইয়া যেখানে নিজের নীবিড় ব্রোর জন্য কেঁদে নাক লাল বানিয়ে ফেলেছে সেখানে একটা মেয়ের পক্ষে চোখের জল আটকিয়ে রাখা অসম্ভব প্রায়। বর্তমানে তারা তখনকার ঘটে যাওয়া বিষয়টা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছে। এতো নজরে নজরে রাখার পরও কিভাবে কি হলো সেই প্রশ্নেরই উদ্ধার পর্ব চলছে তাদের মাঝে।

------ "আমাদের আরো সতর্ক থাকা উচিত ছিলো। নয়তো এরকম একটা ঘটনা কিছুতেই হতো না।"

----- "এখন এসব ভেবে লাভ নেই রাত্রি। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা। নীবিড়ের জুতোয় যেহেতু কাচের টুকরো লুকিয়ে রাখা ছিলো সেহেতু হাঁটার সময় কেনো টের পেল না ও?"

নিত্য আপু চুপ করে বাকিদের আলোচনা শুনছিল। অগ্নি ভাইয়ার উক্ত প্রশ্নে কাঠ কাঠ গলায় বলল,

----- "আগে থেকেই যদি টের পেত তবে কাচ রেখে লাভ কি হতো? তোমার কি মনে হয় ম্যাট এতোটাই বোকা? হাহ! বুটের ভেতরে খুব কৌশলে ছোট্ট ছোট্ট টুকরোগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন অমানুষটা। হাঁটার সময় না বোঝাটাই স্বাভাবিক। ড্যান্স মুভের জন্য একটা সময় গিয়ে কাচের টুকরো গুলো উপরে উঠে এসেছিল আর ভাইয়ার পায়ে লেগে গিয়েছিল। ভাইয়া চাইলেই পারত সেখানে নাচ থামিয়ে দিতে কিন্তু ভাইয়া তা করেনি। সেভাবেই আরো কিছু স্টেপ তুলে তারপর ড্যান্স মুভের মাঝেই কৌশলে জুতো খুলে ফেলেছে।"

অগ্নি ভাইয়া ফুস করে শ্বাস ফেলল পুরো কথাটা শুনে। তারপর আরো কিছুক্ষণ চলল নীরবতার পর্ব। রুশো ভাইয়া দু'হাতে মুখ ঢেকে বসেছিল। নিজ মনে ভাবছিল অনেক কিছু, খেলার ছক কাটছিলো, কল্পনাতেই হয়তো শত্রুর পরাজয় ঘটাবার ফাঁদ পাতছিল। হঠাৎ নীরবতার পর্দা ছিন্ন করে চেঁচিয়ে উঠে বলল,

------ "ব্রো, আমার আর সহ্য হচ্ছেনা। ওই পিগির পু'টাকে শেষ করে ফেলব আমি!"

রাত্রি আড়চোখে তাকাল রুশো ভাইয়ার পানে। ধমকের সুরে বলল,

----- "শেষ যদিও করতে পারবেন না অন্তত গালি'টাতো ঠিকঠাক দিতে শিখুন।"

রুশো ভাইয়া মুখ ফুলিয়ে ঠোঁট বাঁকাল। অগ্নি ভাইয়া রুশো ভাইয়ার কাঁধে হাত রেখে তাকে শান্ত থাকতে বলে বলল,

----- "চিন্তা করিস না রুশো, ওই জানোয়ারটাকে এমনি এমনি ছেড়ে দেব না আমরা। আমার কাছে ওর প্রত্যেকটা কুকর্মের প্রুফ আছে৷ শুধু ইন্সপেক্টরকে আসতে দে।"

রুশো ভাইয়া অগ্নি ভাইয়ার কথায় মাথা ঝাঁকিয়ে চুপ করে রইল। আমি একইভাবে বসেছিলাম এতক্ষণ। মুখ ফুটে একটা 'টু' শব্দও করিনি। না চাইতেও চোখের সামনে বারংবার নীবিড়ের রক্তাক্ত পায়ের ছবি ভেসে উঠছে আমার। উনার গা বেয়ে টপটপ করে ঘাম ঝরছে। চোখে ভেসে উঠছে উনার দাঁড়াতে না পেরে বারবার হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাওয়ার মুহুর্তগুলো। অগ্নি ভাইয়া ওপাশের সিট থেকে উঠে এসে পাশে বসলো আমার। মাথায় আলতো করে হাত রেখে ডেকে উঠল,

------ "আয়ু?"

আমি জবাব দিলাম না। পূর্বের ন্যায়ই মূর্তি সেজে রইলাম। ভাইয়া আবারও ডেকে উঠল,

------ "আয়ু? বোন...এই বোন?"

আমি ভাবনা জগৎ থেকে বেরিয়ে চোখ তুলে তাকালাম এবার। হাল্কা স্বরে বললাম,

------ "বলো।"

------ "আমি বাইরে যাচ্ছি। কি খাবি বল।"

মাথাটা ডানে-বামে নাড়িয়ে বললাম আমি,

------ "কিছু না।"

অগ্নি ভাই বুঝল এতো সহজে পেটে কিছু চালান করানো যাবে না আমার। যার দরুন আমার ডান হাতটা নিজের দু'হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,

----- "কিছু খাবো না বললে তো হবে না। সেই যে দুপুরে একটু খেলি তারপর থেকে এখন পর্যন্ত না খেয়ে আছিস। আচ্ছা যা বলতে হবে না, আমি যা আনব তাই খাবি।"

কথাটা বলেই উঠে যেতে ধরলো অগ্নি ভাই। আমি তৎক্ষণাৎ হাত টেনে ধরলাম ভাইয়ার। কঠিন গলায় বললাম,

----- "নীবিড় সুস্থ হওয়ার আগে আমার গলা দিয়ে খাবার নামবে না আমার ভাইয়া। অহেতুক আমার জন্য কিছু এনো না।"

অগ্নি ভাইয়া কয়েক সেকেন্ড চুপ করে আমার পানে চেয়ে রইল। তারপর নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,

------ "আমি কার জন্য কি আনব তা তোর ভাবতে হবে না।"

কথাটা বলেই বড়বড় পা ফেলে দৃষ্টিসীমার বাহিরে পৌঁছল অগ্নি ভাইয়া। আমি সেদিক পানে স্থির হয়ে চেয়ে রইলাম। ভারী বুকটা থেকে বেরিয়ে এলো তীক্ষ্ণ দীর্ঘশ্বাস।

------ "ভাবিইইইইইইই......ভাইইইইই! নিত্যওওও বোন আমারররর....."

একপ্রকার গগন ফাটানো চিৎকার ছেড়ে হঠাৎই দৌড়ে

আসতে দেখা গেলো রাহিত ভাইকে। আমি সহ সবাই অবাক হয়ে তার আসার পানে তাকালাম। দৌড়াবার পথে হঠাৎ এক নার্সের থেকে ধমক খেল রাহিত ভাই,

------ "এইযে আপনি, এমন ষাঁড়ের মতো চেঁচাচ্ছেন কেনো? হসপিটালে অহেতুক চেঁচামেচি এলাউড নয় জানেন না?"

রাহিত ভাই থতমত খেয়ে ব্রেক কষলো। মাথা চুলকে সেই নার্সের উদ্দেশ্যে বলল,

------ "দুঃখিত ম্যাডাম। আসলে উত্তেজনায় চেঁচিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমি একটা জিনিস বুঝলাম না। আমি তো মানুষ, মানুষ আবার ষাঁড়ের মতো চেঁচায় কিভাবে? একটু বুঝিয়ে দেবেন?"

রাহিত ভাই আবারও এক ধমক খেল নার্সের থেকে। 'পাগল ছাগল' উপাধি পেয়ে অবশেষে আমাদের কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। নিত্য আপু বসা থেকে উঠে জিজ্ঞেস করল,

------ "কি হয়েছে রাহিত ভাই? দেখছেন এমন একটা বাজে পরিস্থিতি চলছে তবু আপনার এক্সাইটমেন্ট যাচ্ছে না!"

রাহিত ভাই জিহ্বে খচাৎ করে কামড় বসিয়ে বলল,

------ "অপরাধ নিও না বোন। আগে আমার কথাটাতো শোনো। বিশ্বাস করো, আমি যা বলব আর যা দেখাব তা দেখার পর তোমরাও এক্সাইটমেন্টে লাফাতে শুরু করবে।"

রাহিত ভাইয়ার কথার মাঝেই রুশো ভাইয়া ঠোঁটে উলটে হাতের ইশারায় তার পেছন দেখিয়ে প্রশ্ন ছুড়লো,

------ "তোমার হাতে ওটা কি রাহিত ব্রো? কি বলতে এসেছ তুমি?"

রাহিত ভাই লম্বা করে দাঁত কেলিয়ে দিয়ে তার বা হাতে থাকা বস্তুটাকে আমাদের সামনে নিয়ে এলো। ভ্রু নাচিয়ে বস্তুটিকে দেখিয়ে গদগদকণ্ঠে বলল,

------ "কি? এবার বুঝলে কেনো এতোটা এক্সাইটেড হয়ে আসছিলাম আমি?"

রাত্রি চট করে সিট থেকে উঠে পড়ল। রাহিত ভাইয়ের হাত থেকে বস্তুটা ছিনিয়ে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে থামাথামা গলায় বলতে লাগল,

------ "ও মাই গড! এটাতো...এটাতো কম্পিটিশনের উইনিং গোল্ডেন ট্রফি!"

রাহিত ভাই পলক ঝাপটে বোঝালো রাত্রি যা বলছে তা ঠিক। রুশো ভাইয়া-নিত্য আপু হঠাৎ করেই চমকে উঠে ট্রফিটা দেখল। রুশো ভাইয়া অবাক হয়ে বলল,

------ "দ্যট মিনস নীবিড় ব্রো কম্পিটিশনের ট্রফিটা জিতেছে?"

রাহিত ভাই হেসে বলল,

------ "নাহ! ভাই ট্রফিটা জেতেনি বরং ট্রফিটাই ভাইকে জিতেছে। বিজয়ী ঘোষণার সময় ভাই বা ভাইয়ের বাড়ির লোক কেউ ছিল না তাই আমাকেই ট্রফিটা নিতে হয়েছে।"

নিত্য আপু চোখ বেয়ে দু'ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল মেঝেতে। ট্রফিটাতে আলতো করে হাত বুলিয়ে ধরা গলায় বলল সে,

------ "আমি জানতাম। ভাইয়া ছাড়া এই ট্রফিটা ওই কুলাঙ্গারটার হাতে যাবে না। সে ওই অমানুষটা যতই ফাঁদ পাতুক, সত্যের জয় হবেই।"

কথাটা বলেই ট্রফিটা নিয়ে আমার পাশে এসে বসল নিত্য আপু। আমি তখনও একইভাবে স্থির হয়ে বসে। আমায় এমন অনুভূতিশূণ্য আবিষ্কার করে চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো আপু,

------ "অনন্যা, দেখো ভাইয়া উইনার হয়েছে। ভাইয়ার এতো পরিশ্রম বিফলে যায়নি। বিজয়ের ট্রফিটা ভাইয়ার কাছেই এসেছে চেয়ে দেখো অনন্যা!"

আমি আড়চোখে এক পলক ট্রফিটার দিকে তাকালাম। পর মুহুর্তেই নজর সরিয়ে গম্ভীর গলায় বললাম,

------ "তাতে আমার কিছু এসে যায়না নিত্য আপু।"

নিত্য আপু সহ সবাই অসম্ভব রকম অবাক হলো আমার উক্ত কথায়। কপালে দৃঢ় ভাঁজ ফেলে বলল নিতু আপু,

------ "কি বলছ এসব অনন্যা? ভাইয়া যে ট্রফিটা জিতেছে তাতে তুমি খুশি হও নি?"

------ "এই ট্রফিটার জন্যই তো এতকিছু হলো নিত্য আপু। নীবিড় এখন আইসিইউতে শুয়ে। এতো বেশি পরিশ্রম করার জন্য শরীরে একফোঁটা শক্তি অবশিষ্ট নেই। শ্বাস নিতে পারছেন না। জীবনের সাথে যুদ্ধ করছেন। ইঞ্জুর্ড পা'টা আবারও বাজেভাজে ইঞ্জুর্ড হয়েছে। শরীর থেকে না জানি কতটা রক্ত ঝরেছে! এতকিছুর পর আমি এই ট্রফি, এই কম্পিটিশন জেতার উল্লাসে মেতে উঠব? কিভাবে বলতে পারো? এই কম্পিটিশন, এই ট্রফি আমার কাছে মূল্যহীন যদি না আমার নীবিড় আমার পাশে সুস্থ হয়ে, ঠিক আগের মতো দাঁড়িয়ে থাকেন।"

কথাটা বলেই কান্না চেপে রেখে সিট থেকে উঠে ছুট লাগালাম আমি। পেছন থেকে বহুবার ডাকা হলো আমার নাম ধরে। কখনো নিত্য আপু ডাকল, কখনো রুশো ভাইয়া, কখনো বা রাত্রি তো কখনও রাহিত ভাই। কিন্তু আমার আর দাঁড়ানো হলো না। ভেতরটা অদ্ভুতভাবে জ্বলছে। চোখ থেকে কান্না নয় যেনো রক্ত ঝরছে। আমি গিয়ে থামলাম হপিটালের শেষ মাথায়। এপাশটায় মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে। একটা ওয়াশরুম আছে। তাতে প্রয়োজনে রোগীর বাড়ির লোকেরা আসেন। বাহিরে আছে একটা বেসিন। আমি সেই বেসিনের আয়নায় এলোমেলো আমিটাকে আবিষ্কার করলাম। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। চোখদুটো ফুলে রক্তাক্ত বর্ণ ধারণ করেছে। ঠোঁট কামড়ে ধরে কাঁদায় ঠোঁটের মাঝ বরাবর দাগ বসে গেছে। গোছালো আমিটা আজ বিধ্বস্ত, অগোছালো হয়ে গেছে। আমি ট্যাপ ছেড়ে ইচ্ছেমতো হাত ঘষতে শুরু করলাম। ভেতরের যত রাগ আছে তার সবটা ঝেড়ে বের করে চললাম হাতের ওপর। সম্ভবত টয়লেটে কেউ ছিলেন। বেরিয়ে এসে আমায় এভাবে অনবরত হাত ধুতে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

------ "ও মেয়ে, কি করছ এসব? হাতের চামড়া খারাপ হয়ে যাবে তো।"

আমি জলে ভরা চোখে ভদ্রমহিলার দিকে তাকালাম। গম্ভীর গলায় বললাম,

------ "আপনার কোনো সমস্যা না হলে আসতে পারেন আন্টি। আমায় নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই।"

ভদ্রমহিলা কিছু বলতে চেয়েও বললেন না। মুখ বাঁকা করে নিজ মনে বিড়বিড় করতে করতে চলে গেলেন। আমি আরো পাঁচ মিনিটের মতো হাতের বিরুদ্ধে অত্যাচার চালিয়ে থামলাম। চুলগুলো দু'হাতে চেপে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলাম।

হঠাৎ নিকটে কারো পদধ্বনি শুনতে পেয়ে চুল ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম আমি। সামনে কেউ নেই। কিন্তু আমি তো স্পষ্ট কারো উপস্থিতি টের পেয়েছিলাম। আমার কপালে দৃঢ় ভাঁজ পড়ল আবারও যখন খুব কাছেই কোনো মানুষের অস্বস্তি অনুভব করলাম। সন্দেহের বশে উল্টোদিকে ফিরে তাকালাম আমি। আর ঠিক সেই সময়ই আমার নাকে-মুখে চেপে ধরা হলো একটি রুমাল। আমি চোখ বড়বড় শ্বাস আটকে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালাম। যখন সামনে থাকা আগুন্তকঃ দেখল আমায় এভাবে অজ্ঞান করা সম্ভব হচ্ছেনা ঠিক তখনই হাতে থাকা শক্ত কিছু দিয়ে মাথার পেছনে সজোরে আঘাত করে বসলো আমার। আমি আর শেষ পর্যন্ত পেরে উঠলাম না। অচেতন শরীরটা ছেড়ে দিয়ে লুটিয়ে পড়লাম মেঝেতে। জ্ঞান হারাবার পূর্বে খুব করে চিৎকার করতে চাইছিলাম। কিন্তু আফসোস সেই চিৎকারটুকু করাবার ভাগ্যও হলো না আমার! চোখদুটো ঝাপসা দেখতে দেখতে একটা সময় বন্ধ হয়ে এলো। আমি পা রাখলাম অন্ধকার এক দুনিয়ায়। নিকষকালো অন্ধকারের চাদরে ঢাকা দুনিয়ায়। সেথায় একবিন্দু পরিমাণেও আলো নেই। নেই কোনো ফেরার আশা।"

#চলবে______________

[ পর্বের অর্ধেক ডিলিট হয়ে গেছিল। দিবো না দিবো না করেও এইটুকুই দিতে হলো। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন