ফন্ট সাইজ:
থিম:
অতৃপ্ত চাহনা

৪র্থ পর্ব

লেখক: তুরঙ্গনা

#অতৃপ্ত_চাহনা

#তুরঙ্গনা

পর্ব—||০৪||

🚫হ্যাশট্যাগ ব্যতীত গল্প কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

সারারাত নির্ঘুম কাটিয়ে,আজ অনেকটা বেলা হয়ে গিয়েছে। গত কয়েকদিন হতে তৃতীকার চোখে ঘুম নেই। সে রাতের ঘটনার পর তার কাকীমার সাথে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি তৃতীকার। নিজে থেকেই কয়েকবার ফোন করেও সাড়া পায়নি। এমনিতেই মন মেজাজ সব কেমন যেন বিগড়ে রয়েছে।

এদিকে দেখতে দেখতে শেষমেষ মাস ফুরিয়ে নতুন মাসের এক তারিখও চলে এসেছে। অথচ তৃতীকার সেদিকে তেমন খেয়াল নেই। এতোদিন মন খারাপের সাথী ছিল তার কাকীমা, অথচ সে নিজেই এখন তৃতীকাকে কষ্ট দিচ্ছে। তার সাথে কথা বলতে না পারার কষ্টটাই তৃতীকার সবচেয়ে বড় কষ্ট।

এসব চিন্তাভাবনা মাথা থেকে সরিয়ে, তৃতীকা অফিসের জন্য তৈরি হতে শুরু করে। সেদিন রফিক সাহেব ভালো করেই বলে দিয়েছিলেন যেন সকাল সকাল অফিসে আসে।অথচ আজ প্রথম দিনেই তার দেরি হবার সম্ভবনা। আর মাঝে যদি ট্রাফিক জ্যামে আঁটকে পড়ে...তবে আর আজ রক্ষা পায় কি করে?

তৃতীকা একটুও সময় নষ্ট না করে, ব্যাগে কিছু টাকা নিয়েই অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এবার অবশ্য পুরো রাস্তা হেঁটে যাবার মতো সিন্ধান্ত সে নিল না। হাতে টাকা-পয়সা বেশ ভালোই আছে।যথারীতি সে যাবার জন্য একটা রিকশা ভাড়া করল।

______

অফিসে আসামাত্রই আবারও রফিক সাহেবের সাথে তার দেখা। এবার অবশ্য তিনি তৃতীকাকে বেশি কিছু বলার সুযোগ দিলেন না। কারণ তৃতীকার আসতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশ অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। অথচ তার আরো অনেক আগেই আসার কথা ছিল। ফলাফলস্বরূপ তাকে নিয়ে যেন রফিক সাহেব নিজেই কিছুটা চিন্তিত। শুরুতেই সে তৃতীকার উদ্দেশ্যে বলল,

"সেদিন কতবার করে বলে দিলাম, সময় নিয়ে সকাল সকাল অফিসে এসো। স্যারের নিয়মানুবর্তিতা মারাত্মক। না জানি তোমার কপালে কি আছে। চাকরিটা পাওয়ার আগেই হারালেই কাহিনি বরবাদ।"

রফিক সাহেবের এহেন কথায় তৃতীকা কিছুটা ঘাবড়ে যায়। অবশ্য সে করবেই বা আর করি। তাকে কিছুটা ঘাবড়ে যেতে দেখে রফিক সাহেব ভারী শ্বাস ফেলে, খানিকটা মলিন হেসে বলে,

"চিন্তা করো না। ঘাবড়ানোর কিছু নেই। তোমার কপালে চাকরিটা থাকলে অবশ্যই হবে। না থাকলে....তবে তুমি কিন্তু বাকি সবার থেকে কিছুটা স্পেশাল। স্যার কিন্তু মানুষ দেখে মন গলে যাওয়ার মতো লোক না। অথচ তুমি সবার চেয়ে ছোট হয়েও, সে তোমাকে চাকরির জন্য অফার দিয়েছে। তোমার ভাগ্য আছে বলতে হয়।"

তৃতীকা মনোযোগ দিয়ে চুপচাপ রফিকের কথাগুলো শুনলো। মনে কিছু প্রশ্ন জাগলেও সেসব জিজ্ঞেস করার মতো আর সময় হলো না। বরং তার আগেই রফিক সাহেব তাকে সিও-র চেম্বারে যাবার জন্য উদ্বেগের সহিত পাঠিয়ে দিলেন।

_____

উচ্চতর একটি ভবনের শেষপ্রান্তে, কাচঘেরা এক বিশাল কক্ষে স্থাপিত সেই অফিসরুম যেন আধুনিকতাকে সযত্নে জড়িয়েছে আভিজাত্যের চাদরে। চারদিকের দেয়ালজুড়ে শোভা পাচ্ছে ধূসর ও নেভি ব্লু রঙের সংযমী সংমিশ্রণ। যার প্রতিটি ইঞ্চিতে ছড়ানো একধরনের কঠোর সৌন্দর্য। সংহত এবং নিয়ন্ত্রিত—একেবারে যেন তা নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিত্বরে মতোই।

কক্ষের মাঝখানে, কালো-অ্যাশ রঙের উডে তৈরি একটি বিশাল ডেস্ক। যার উপর রাখা সিগনেচার স্টাইলের মারবেল-পেপারওয়েট, লেদার কভারড ডায়েরি এবং একটি কম্পিউটার।

ডেস্কের পিছনে আছে একটি হাই-ব্যাক লেদার চেয়ার। একে চেয়ারের চেয়ে রাজকীয় সিংহাসন বলাই শ্রেয়।ডানদিকে বিশাল কাচের জানালাটি—খোলা শহরের দিকে মুখ করে আছে। নিচে মানুষের ভিড়, যানবাহনের জট, আর দূরের দিগন্ত—সবই যেন তার পায়ের নিচে।

এছাড়া মিনিমাল সোফাসেট ও সেন্টার টেবিল...ব্যবসায়িক অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত।টেবিলের উপরে কিছু ম্যাগাজিনের স্তুপ। এবং তার পাশে রাখা এক বোতল ভিনটেজ স্কচ আর দু'টি ক্রিস্টাল গ্লাস।

বাম দিকের বুকশেলফে গুছিয়ে রাখা রয়েছে ফাইনান্স, সাইকোলজি ও স্ট্র্যাটেজির, বিজনেস রিলেটেড বই সহ আর কিছু পুরনো নোটবুক। হয়তো যেখানে লেখা আছে এর.আর.সি কোম্পানির সিও ওরফে আধীর রায়ান চৌধুরীর প্রথম উদ্যোগের না-পড়া সকল অধ্যায়গুলো। শেলফের উপর এক কোনায় সযত্নে রাখা কয়েকটি চকচকে ট্রফি। কেবল এটুকুই যেন এই ঠান্ডা, প্রফেশনাল ঘরে এক বিন্দু উষ্ণতা যোগ করেছে।

ঘরের সর্বত্র জুড়ে রয়েছে শীতল এক নীরব আধিপত্য। যেখানে কেউ উচ্চস্বরে কথা বলে না, কেবল সকলেই সম্মান করে। কারণ, এ কেবিন শুধুই একটি অফিসের নয়, এটি ARC সাম্রাজ্যের হৃদয়কেন্দ্র।

তৃতীকা দরজা ঠেলে দিয়ে চারপাশটা দেখতে দেখতেই যেন বেশম খেল। তার সম্মূখে যে কেউ বসে থেকে তার ভাবগতিক পর্যবেক্ষণ করছে, তা সে কুলক্ষণেও টের পাচ্ছে না।

প্রায় অনেকটা সময় পর কারো গলা খাকানো শব্দে তৃতীকার ধ্যান ভাঙে। তৎক্ষনাৎ সামনের দিকে তাকাতেই নজরে পড়ে গম্ভীর অভিব্যক্তির সেই আধীর রায়ান চৌধুরীকে। হাই-ব্যাক চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে কঢ়া দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে। আর আধির রায়ানের এমন চাহনিতেই তৃতীকার চোখমুখ চুপসে গিয়ে গলা শুঁকিয়ে গেল। এ যেন চাহনি নয়, বরং নিঃশব্দে কাউকে গিলে খেয়ে ফেলার বার্তা আভাস।

তৃতীকা কি করবে না করবে, কিছু বুঝে ওঠার পূর্বেই আচমকা সে দেখতে পায়,আধীর রায়ান তার গম্ভীর দৃষ্টি নিচে নামিয়ে নিয়েছে। তার নজর এখন কিছু ফাইলের দিকে। এদিকে তৃতীকা নিজেকে দ্রুত সামলে নিয়ে,ভাবতে লাগে এইমূহূর্তে তার কি করা উচিত।

তৃতীকা খেয়াল করে দেখে, সে এখনো দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে। আর সে এক মারাত্মক আহাম্মকের মতো দরজা খুলে ভেতরে আসার পারমিশন না চেয়েই রুমে প্রবেশ করে ফেলে। এমন অবস্থায় সে আরো বেশি ঘাবড়ে যায়।তবুও নিজেকে যথাসাধ্য চেষ্টায় সামলে নিয়ে ইতস্ততস্বরে আওড়ায়,

"স্যার আসব?"

---"ভেতরে যখন চলেই এসেছেন, তবে কিসের পারমিশন চাইছেন?"

এমন শীতল গম্ভীর কন্ঠে তৃতীকা অকস্মাৎ চমকে উঠল। আধীর রায়ান এখনো তার দিকে মুখ তুলে তাকায়নি। বরং সে না তাকিয়েই তৃতীকাকে এহেন কথা বলে দেয়।

এদিকে তৃতীকা সাহস করে, চুপচাপ তার দিকে এগিয়ে যায়। এরইমাঝে ভিজিটর চেয়ারের সামনে এসে চুপটি করে দাঁড়ায়। তৎক্ষনাৎ আধীর রায়ান ওরফে গম্ভীরমুখো লোকটি বলে ওঠে,

"প্লিজ, সিট ডাউন।"

আধীরের কথায় তৃতীকা মুখ তুলে একপলক তাকে দেখে নেয়। পরক্ষণেই আলতোভাবে ভারী শ্বাস ফেলে, চুপচাপ চেয়ার টেনে গুটিসুটি হয়ে বসে পড়ে।

তৃতীকা বসা মাত্রই আধীর রায়ান মাথা উঁচিয়ে তার দিকে তাকায়। নিমিষেই তৃতীকা কিঞ্চিৎ ঢোক গিলে মাথা নিচু করে।

---"সো, ইউ'র লেইট অন ইউর ফাস্ট ডে?"

তৃতীকা মাথা তুলে আধীরের দিকে তাকায়৷ গম্ভীর, তীক্ষ্ণ এক চাহনি তার দিকে নিক্ষিপ্ত। আধীরের এ কথার উত্তরে তৃতীকার কি বলা উচিত, বুঝতে পারল না। সে শুধু ধীর স্বরে আওড়াল,

"সরি স্যার, আর কখনো দেরি হবে না।"

তৃতীকার কথায় আধীর রায়ান কিঞ্চিৎ বাঁকা রুক্ষ হাসে। সে হাসিতে তৃতীকা খানিকটা ঘাড়বে যায়। মন বলছে আজই তার এই অফিস থেকে বিদেয় হয়ে যাবে। এরইমাঝে আধীর তার উদ্দেশ্যে বলে,

"মিস তৃতীকা!...দেরি করা এক জিনিস,আর দেরি করে এসে পারমিশন না নিয়েই সরাসরি রুমে প্রবেশ করা—তা একেবারেই ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না।"

আধীরের কণ্ঠে রাগ কিংবা ক্ষো'ভ নেই। কিন্তু রুক্ষতার স্বরে একধরনের শীতল তাচ্ছিল্য জড়িয়ে আছে।যেন প্রতিটি শব্দ ছুরি হয়ে এসে তৃতীকার আত্মবিশ্বাসে ঘা দিচ্ছে।

তৃতীকা আবার একবার মুখ নিচু করে। চোখের পলকে নিজের অস্থিরতা ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা। অথচ গলার স্বর এখনো কাঁপছে।

সে ধীরে ধীরে বলে,

"আমি… আমি সত্যিই খুব নার্ভাস ছিলাম, স্যার। আপনার সময় নষ্ট করার জন্য দুঃখিত।"

আধীর এবার তার আঙুলের ডগায় রাখা কলমটা হাতে তুলে নেয়। তারপর তা ব্যালেন্স করে একবার ঘুরিয়ে আবার নামিয়ে রাখে। এরপর হঠাৎ বলে ওঠে,

"নার্ভাস? এই তো শুরু। আপনি কী জানেন না, নার্ভাসনেস এখানে একটা বিলাসিতা মাত্র? আমাদের এই ফ্লোরে—যেখানে প্রতিটি সেকেন্ড মানে লক্ষ টাকার প্রোজেক্ট, সেখানে আপনি এক মিনিটও হারানোর সুযোগ পাবেন না। বিশেষ করে আপনার মতো নতুনদের জন্য, এখানে ‘নার্ভাস’ শব্দের কোনো জায়গা নেই।

পরেরবার নার্ভাস থাকলে, আগে গায়ে পানি দিয়ে আসবেন। এটা অফিস, স্কুল নয়। আর এখানে কাউকে ‘সরি’ বলে রক্ষা পাওয়া যায় না। সময়, ভদ্রতা আর প্রফেশনালিজম—এই তিনটে জিনিসে কারো জন্য কোনো ছাড় নেই।"

একসাথে এতোকিছু শুনে তৃতীকা সম্পূর্ণ হতভম্ব। এবার যেন সে জবাব দিতে গিয়েও হোঁচট খায়। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বলে,

"আমি বুঝতে পারছি, স্যার। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি আমার সর্বোচ্চটা দেবো।"

আধীর এবার একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখজোড়া যেন এক্স-রে এর ন্যায়—চোখ দিয়ে মানুষকে ভেদ করে তার মেরুদণ্ড অব্দি পড়ে ফেলতে পারে।

আধীর রায়ান এক দৃষ্টিতে তৃতীকার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর, হঠাৎ করেই চেয়ার থেকে হেলান দিয়ে একটু পিছনে যায়। এবং আবারও গম্ভীর্যের সহিত বলে ওঠে,

"গুড! আমি অতিরিক্ত কথা পছন্দ করি না, মিস তৃতীকা। কাজ দেখলেই বুঝতে পারব, আপনি এখানে থাকার উপযুক্ত কিনা।"

এই বলে আধীর খানিটা সময়ের জন্য থেমে যায়। এবং পরক্ষণেই এক মুহূর্ত থেমে আবার বলে ওঠে,

"প্রেজেন্টেশন রুমে যান। ২০ মিনিটের মধ্যে প্রথম ক্লায়েন্টের ব্রিফিং শুরু হবে। আপনি ওখানেই থাকবেন, শুনবেন, এবং নোট নেবেন। দেখা যাক, আপনি কতটা শিখতে আগ্রহী।"

তৃতীকা সোজা হয়ে বসে পড়ে। তার চোখে তখন ভয় আর কৌতূহলের মিশ্র প্রতিচ্ছবি।

---"ইয়েস স্যার,"

সে এইটুকু বলে থমকায়। এবং ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়। আধীর রায়ান আর কিছু না বলে ফাইলের দিকে চোখ ফেরায়, যেন তৃতীকা এখন কেবল এক টুকরো বাতাস। যা রুমে এসেছিল এবং চলে যাবে।

তবে এরইমাঝে হঠাৎ আধীর পেছন হতে তৃতীকার উদ্দেশ্য বলে,

"মিস তৃতীকা!"

তৃতীকা বের হতেই নিয়েছিল। তবে আচমকা আধীরের কথা শোনামাত্রই সে উল্টো ঘুরে পেছনে ফিরে তাকায়। তখনই দেখতে পায় আধীর পাশের উপর পা তুলে, ফাইলের উপর থেকে নজর সরিয়ে তার দিকে তাকিয়েছে।

তৃতীকা কিছুটা ইতস্ততস্বরেই বলতে চায়,

"স্যার আরো কিছু কি বলবেন..."

তৃতীকার কথা পুরোপুরি শেষ হয়না বরং তার পূর্বেই আধীর রায়ান তার গম্ভীর কন্ঠে, তৃতীকার দিকে তীক্ষ্ণতার সহিত প্রশ্ন ছুঁড়ে বলে,

"আপনার হোম টাউন কোথায়?"

আচমকা এহেন কথা শুনে তৃতীকা অকস্মাৎ ভড়কে যায়। যেন এমন পরিস্থিতিতে এহেন প্রশ্ন একদমই বেমানান। সে নিজেকে তটস্থ করতে, আধীর রায়ানের উদ্দেশ্যে বলে,

"জ্বী, স্যার...?"

---"আপনার হোম টাউন... কোথায়?"

আবার সেই একই স্বরে তীক্ষ্ণ গম্ভীর প্রশ্ন। তৃতীকা আড়ালে খানিকটা ভারী শ্বাস ফেলে বলে,

"আ... নারায়ণগঞ্জ।"

তৃতীকার কথায় আধীরের কপালে কিঞ্চিৎ ভাজ পড়ে। সে তৎক্ষনাৎ খানিকটা সন্দিহান স্বরে আওড়ায়,

"নারায়ণগঞ্জ?"

---"জ্বী, স্যার।"

আধীর কপাল কুঁচকে এক দৃষ্টিতে তৃতীকার দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন কিছু একটা তার মনমতো হয়নি। এখানে যেন বিশেষ এক 'কিন্তু' রয়ে গিয়েছে। তৃতীকার সিভিতেও সে নারায়ণগঞ্জ এর ঠিকানাই দেখেছিল। কিন্তু এটা যেন তার চিন্তাভাবনার সাথে, সামঞ্জস্য ভাবে ঠিক খাপ খাচ্ছে না।

ওদিকে তৃতীকা যেন কিছুই বুঝতে পারছে না, এখানে আদতে হচ্ছেটা কি? হঠাৎ এত্ত বড় অফিসের সিও তার হোম টাউন নিয়ে পড়ে আছে। বিষয়টা কেমন যেন অদ্ভুত। তবুও সে নিজেকে যথাসাধ্য স্বাভাবিক রাখল।

ততক্ষণে আধীর তার খেয়াল থেকে বেড়িয়ে, গম্ভীর স্বরে আচমকা বলল,

"আপনি এখন যেতে পারেন।"

তৃতীকা তার কথায় ভারী শ্বাস ফেলে। লোকটি সুদর্শন হলেও, বয়সে তার কত্ত বড়। এতো বড় মানুষের কাছ থেকে বারবার আপনি শুনতেও অদ্ভুত লাগছে। কিন্তু এটা তো আর তার গ্রামের বাড়ি নয় যে,গ্রামের চাচা-মামাদের মতো আধীরও তাকে তুই,তুমি সম্মোধন করবে। এসব ভাবতে ভাবতেই তৃতীকা খানিকটা মুচকি হেসে ফেলল। তার চিন্তাভাবনা তার কাছে কিছুটা হাস্যকর ঠেকেছে।

তৃতীকা ধীর পায়ে দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। তবে বুকের ভেতরে যেন এক অজানা ঝড় শুরু হয়ে গিয়েছে।এটাই ছিল তার প্রথম দিন... এবং তার প্রথম সংঘর্ষই আধীর রায়ানের সঙ্গে।তবে এটুকু সে এখনই বুঝে যায়—এই মানুষটা সহজ কেউ না। ফলে সে এই মস্তবড় অফিসের গম্ভীরমুখো সিও ওরফে আধীর রায়ান চৌধুরীর একটা বিশেষ নামও দিয়ে ফেলে। রুম থেকে বের হওয়া মাত্রই সে বিড়বিড়ি করে আওড়ায়,

"মিস্টার খারুস...খারুস রায়ান চৌধুরী।"

এই বলেই সে নিস্পৃহে হেসে ফেলে। আর তার এই হাসি,রুমের ভেতর থেকে সিসিটিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে, একজোড়া চোখ দেখতে দেখতেই কপাল কুঁচকে ফেলে।

আধীর তৃতীকার বলা কথাগুলো না শুনলেও, স্ক্রিনে তাকিয়ে তৃতীকাকে দেখতে দেখতেই আচমকা তার হাসিতে সে অবাক হয়। এই মেয়েটা তার কাছে বেশ অদ্ভুত। কেননা সামান্য ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েকে তো আর সে,এমনি এমনি এই অফিসে জব দেওয়ার জন্য সিলেক্ট করেনি। এর পেছনে অবশ্যই কিছু কারণ রয়েছে। যা সম্পূর্ণ স্পষ্ট না হলেও কিছুটা রহস্যজনক।

আর এই অফিস হলো তৃতীকার চেনা জগতের বাইরে কোনো এক শীতল, রুক্ষ গ্রহ।যেখানে এই অফিসের বস হলো তার চেয়েও বেশি রহস্যজনক। যে রহস্যের সমাধান কেবলমাত্র সময়ের প্রতীক্ষাতেই জানা সম্ভব।

চলবে..........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন