ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের দিনগুলি

১৩তম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া জাহান

#বসন্তের_দিনগুলো

#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)

#পর্বঃ১৩

চারদিকে শুনশান নিরবতা বিস্তার করছে ৷ সাজিদ বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে এক হাত মাথার নিচে রেখে অন্য হাতে সিনুর দেওয়া কাপকেকটা ধরে আছে ৷ অপলক চাহনিতে সাজিদ সেটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে ৷ কাপকেকের উপরে সিনু ক্রিম দিয়ে 'জাযাকাল্লাহ' লিখে দিয়েছে ৷ লেখাটার নিচে ছোট করে একটা লাভও এঁকেছে ৷

ওই লাভটার দিকে তাকিয়ে সাজিদের ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি ফুটে উঠল ৷ বিরবির করে বলল,,,

বিয়ের আগেই স্বামীকে লাভ দিচ্ছো সিনুপাখি? বড্ড রোমান্টিক বউ পাব মনে হচ্ছে! তবে আমার থেকে বেশি রোমান্টিক হতে পারবে না ৷

এমন সময় মেহমেত হুড়মুড় করে সাজিদের রুমে প্রবেশ করল ৷ ওকে দেখে সাজিদ কাপকেকটা বেড সাইড টেবিলে রেখে শোয়া থেকে উঠে বসল ৷ তারপর গম্ভীর গলায় বলল,,,

কি চাই? এতো রাতে চুরি করতে এসেছিস আমার রুমে?

মেহমেত ভ্রু কুঁচকে বলল,,, আমাকে দেখে তোর চোর মনে হয়?

সাজিদ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,,, চোর না ডাকাত মনে হয় ৷

মেহমেত শুকনো মুখে সাজিদের পাশে এসে বসে অভিমানী কন্ঠে বলল,,, তুই আমার ভাই হতে পারিস না! Whatever এতো রাতে মুচুর মুচুর করে হাসতেছিলি কেন? এসব তোর স্বভাবের সাথে একদম যায় না , পুরো বেমানান ৷

আমার হাসি নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না ৷ যা গিয়ে ঘুমা ৷

আমি জরুরি একটা কাজে এসেছি ৷

সাজিদ ভ্রু কুঁচকে বলল,, তোর জরুরি কাজও থাকে?

মেহমেত ভাব নিয়ে বলল,,তা নয় তো কি? আমার অনেক অনেক জরুরি কাজ থাকে ৷ whatever তোকে বলি না জন্য তুই জানিস না ৷

হয়েছে নিজের গুণগান গাইতে হবে না ৷ যেটার জন্য এসেছিস সেটা চট জলদি বলে ফেল ৷

মেহমেত বেড সাইডে রাখা কাপকেক টার দিকে তাকিয়ে বলল,,, ওটা না খেলে আমার আজ ঘুম ধরবে না ৷ whatever তুই তো নিজেও খাচ্ছিস না ৷ তো আমাকে দিয়ে দে ৷

সাজিদ কাপকেক টা দ্রুত নিজের পিছনে লুকিয়ে কর্কশ কন্ঠে বলল,,, তোকে বলেছি না এটার প্রতি নজর দিবি না! তোকে কাল অন্য আরেকটা কিনে দিব ৷

না না আমি এটাই খাব ৷ whatever এটা না খেলে আমার শরীর অসুস্থ হয়ে যাবে ৷ প্লিজ দিয়ে দে ভাই আমি খাব ৷

আমাকে রা'গাবি না মেহমেত ৷ বলেছি তো তোকে কাল আমি নিজে অনেকগুলো কিনে দিব তবুও এটা না ৷

আমার অনেকগুলো চাই না ৷ আমার এই একটাই চাই ৷ whatever না দিলে আম্মুর কাছে গিয়ে অভিযোগ দিব কিন্তু!

সাজিদ ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,, যা বল ৷ এটা তোর ভাবীর থেকে পাওয়া প্রথম উপহার ৷ এটা কোনো শর্তেই আমি তোকে দিব না ৷

দিলি না তো?

না ৷

দিলি না তো?

না ৷

দিলি না তো?

না ৷

দেখে নিস আমার না মেনে নেওয়া ভাবীর কানে আমি তোর নামে বি**ষ ঢালব! বলব যে তুই ভার্সিটিতে থাকাকালীন প্লে বয় ছিলি ৷ প্রতি মাসে মাসে গার্লফ্রেন্ড চেঞ্জ করতি ৷ whatever মাঝে একটা বিয়েও করেছিলি তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছিস যৌতুক দেয়নি বলে ৷ আর আর এক্স শ্বশুড়-শ্বাশুড়িকে কথায় কথায় অপমানও করতি ৷

সাজিদ শান্ত চোখে মেহমেতের দিকে তাকাল ৷ তারপর অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল,,, আই থিংক আমার এই মুহূর্তে বক্সিং করার মুড এসেছে ৷ কিন্তু পান্চিং ব্যাগ টা কোথায় যে রেখেছি ঠিক মনে করতে পারছি না ৷ সো ভাবছি....

সাজিদ হাত মুষ্টিবদ্ধ করে মেহমেতের দিকে এগোতে এগোতে আবারও বলতে লাগল,,, সো ভাবছি তোকেই আপাতত পান্চিং ব্যাগ মনে করে বক্সিং করা শুরু করে দেই, কি বলিস?

মেহমেত তড়াক করে লাফিয়ে উঠে সাজিদের রুম থেকে দৌঁড়ে পালাতে পালাতে বলল,,, ও আম্মু গো বাঁচাও আমাকে ৷

সাজিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানা থেকে নেমে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে আসল ৷ তারপর বিছানায় শুয়ে দুহাত মাথার নিচে রেখে উপরে ঝোলানো সিলিং ফ্যানটার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,,,

তোমার প্রতি দিনদিন মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে যাচ্ছি সিনুপাখি অথচ তুমি আমাকে এখনও নিজের শত্রু মনে করো! কিভাবে তোমাকে নিজের করে পাব? আর ওই ছেলেটার সাথে তোমার কি সম্পর্ক সিনুপাখি? আমাকে কষ্ট দিও না ৷ তোমাকে আমার চাই ৷ ওই ছেলেটার হাবভাব তো আমার ভালো লাগছে ই না সাথে তোমার মনের কথাও বুঝতে পারছি না ৷ তুমি কোনোভাবে ওই ছেলেকে প...

সাজিদ আর বলতে পারল না ৷ মনটা বি*ষিয়ে উঠল ৷ এই ভাবনা যদি সত্যি হয় তাহলে কিভাবে সিনুকে নিজের করে পাবে ও? ভবিষ্যতে বড্ড খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে ওকে!

সাজিদ আর ঘুমাতে পারল না ৷ বিছানা থেকে নেমে বেলকনিতে চলে গেল ৷ চাঁদের আলো এসে বেলকনিটা উজ্জ্বল করলেও সাজিদের মনের অন্ধকার দূর করতে সক্ষম হলো না ৷ ও অস্থিরভাবে বেলকনি ময় পায়চারি করতে লাগল ৷ নির্জীব মুখে অর্ধচন্দ্র টার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

ঘড়ির কাঁটা এগারোটা পেরিয়েছে ৷ কিন্তু রাইশা বর্তমানে শুনশান রাস্তা দিয়ে একলা হেঁটে যাচ্ছে ৷ আসলে হঠাৎ করে ওর বাবার বুকের ব্যা'থা ওঠায় ওকে ওষুধ কিনতে বাইরে বের হতে হয়েছে ৷ বাড়িতে যেসব ওষুধ ছিল সব গতকালকেই শেষ হয়ে গিয়েছে ৷

রাইশা ওর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ৷আর বাড়িতে ওরা তিনজন ছাড়া আর কেউ থাকে না ৷ অগত্যা মাকে বাবার পাশে রেখে রাইশাকেই ওষুধ কেনার জন্য বাইরে আসতে হয়েছে ৷ বাজারে লোকজন থাকলেও কিছুদূর পর হাতেগোনা দু একজন লোক ছাড়া আর কেউ নেই ৷ সেখানে রিক্সার আশা করা বিলাসিতা মাত্র ৷

আশেপাশে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে তাকাতে রাইশা সামনে এগোতে লাগল ৷ হঠাৎ সামনে দুটো ছেলেকে দেখতেই ওর কদম থেমে গেল ৷ ওদেরকে দেখে রাইশার একদম ই ভালো ছেলে মনে হচ্ছে না ৷ সম্ভবত ছেলে দুটো ম'দ খাচ্ছে ৷ রাইশা বুকে কিছুটা সাহস সঞ্চার করে বোরকটা ঠিকঠাক করে নিয়ে দ্রুতপদে হাঁটতে লাগল ৷

ছেলে দুটোকে পাশ কাটাতেই ওরা রাইশার দিকে তাকিয়ে বি*শ্রিভাবে হেসে ওর পিছন পিছন আসতে লাগল ৷ এতে করে রাইশার ভয়ে অন্তরাত্মা শুকিয়ে গেল ৷ ও আরো জোরে হাঁটতে লাগল ৷ ওর দেখাদেখি ছেলে দুটোও নিজেদের হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিল ৷

আশেপাশে কোনো মানুষের চিহ্ন পর্যন্ত নেই ৷ রাইশা কি করবে বুঝতে না পেরে সর্বশেষে আল্লাহর শরণাপন্ন হলো ৷ রাইশা বিরবির করে আয়াতুল কুরসি পড়তে শুরু করে দিল ৷ তিন-চারবার বলার পর রাইশাকে অবাক করে দিয়ে ছেলে দুটো আচমকা ভয়ে চিৎকার করে উঠল ৷

রাইশা পিছু ঘুরে দেখল ছেলে দুটো চোখ বড় বড় করে ওর পিছনের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ তারপর এলেমেলো পায়ে উল্টো ঘুরে দৌঁড়াতে লাগল ৷ ওদের নেশা একদম ছুটে গেছে ৷ প্রাণ বাঁচানোর ভয়ে ওরা দিক বিদিক হারিয়ে শুধু ছুটতেই লাগল ৷ রাইশা আশ্চর্য হয়ে ওদের পালিয়ে যাওয়া দেখল তারপর আশেপাশে পর্যবেক্ষণী নজরে তাকাল কিন্তু ও কিছুই দেখতে পেল না ৷ অস্ফুট স্বরে বলল,,,

ওরা কি দেখে ভয় পেল? কাকে দেখে ভয় পেল? এখানে তো কেউ নেই ৷

উত্তর না পেয়ে রাইশা আবারও হাঁটতে শুরু করল ৷ হঠাৎ একটা বাইক ওকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল তারপর পুনরায় ঘুরে ওর সামনে এসে থামল ৷ রাইশা ভয় পেয়ে দু কদম পিছিয়ে গেল ৷ তানজিদ হেলমেট টা খুলে ভ্রু কুঁচকে বলল,,,

রাইশা না?

রাইশা নিজেকে ধাতস্থ করে বলল,, জ-জ্বি ৷

আপনি এতো রাতে এখানে কি করছেন?

বাবার জন্য ওষুধ কিনতে এসেছিলাম ৷ হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তো তাই ৷

বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না? আপনি কেন আসতে গেলেন? যদি কোনো বিপদ হতো!

আসলে বাড়িতে আম্মু আব্বু আর আমি ছাড়া কেউ নেই ৷ আমি উনাদের একমাত্র সন্তান তাই দায়িত্ব তো আমাকেই পালন করতে হবে ৷

তানজিদ শান্ত দৃষ্টিতে ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,, আশেপাশের কাউকে সাথে নিয়ে আসা উচিত ছিল ৷ একলা মেয়ে এভাবে রাতে বের হওয়া একদম নিরাপদ নয় ৷ একটু আগে দেখলাম দুটো ছেলে ভয় পেয়ে ছুটে পালাচ্ছে ৷ ওদেরকে জিজ্ঞেস করলাম , 'কি জন্য পালাচ্ছ?' ওরা বলল এদিকে নাকি বড় বড় কয়েকটা সাদা পোশাকের ছায়ামূর্তি দেখেছে ওরা একটা মেয়ের পিছনে ৷

রাইশা হতভম্ভ হয়ে বলল,, কি! তার মানে আমার পিছনে ছায়ামূর্তি দেখেছিল ওরা?

তানজিদ ভ্রু কুঁচকে বলল,, মানে? কি হয়েছিল? ওরা আপনার কোনো ক্ষ'তি করার চেষ্টা করেনি তো?

করতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ আমাকে সাহায্য করায় কিছু করতে পারেনি আলহামদুলিল্লাহ্ ৷ ওরা যখন আমার পিছু নিয়েছিল আমি আয়াতুল কুরসি পড়েছিলাম যার কারনে আল্লাহ আমার সাহায্যের জন্য ফেরেশতা পাঠিয়েছিলেন সুবহানআল্লাহ যাদের দেখে ওরা ভয় পেয়ে পালিয়েছে ৷

তানজিদ হা হয়ে রাইশার সমস্ত কথা শুনল ৷ খুশিতে রাইশার চোখ চিকচিক করতেছে ৷ তানজিদ নিজের হতভম্ভ ভাব কাটিয়ে বলল,,,

মহান আল্লাহকে শুকরিয়া জানাই ৷ হ্যাঁ আর কখনো একা রাতের বেলা বাইরে বের হবেন না ৷ চলুন আপনাকে বাসায় পৌঁছে দিই ৷

লাগবে না ৷ আর অল্প একটু গেলেই আমার বাড়ি ৷

আমারও ৷ ভুলে যাবেন না আমাদের বাড়ি একইদিকে ৷ শুনুন সামনেও বিপদ থাকতে পারে ৷ সো আপনি দ্রুত আমার বাইকে উঠে পড়ুন ৷

রাইশা ইতস্তত করে বলল,, আমি কোনো ছেলের বাইকে উঠব না ৷

তানজিদ সামান্য হেসে বলল,,, আমি তো কোনো ছেলে না ৷ আমি তানিয়ার ভাই ৷

রাইশা হতভম্ভ হয়ে গেল সাথে প্রচন্ড হাসিও পেল ৷ কোনোমতে নিজের হাসি আটকে ও বলল,,,

তো তানিয়ার ভাই কি মেয়ে?

তানজিদ নিজের বলা গা'ধামো কথাটা বুঝতেই থতমত খেয়ে গেল ৷ এসব কি ভুলভাল কথা বলছে ও! আসলে ওইদিন রাইশার কথাগুলো শোনার পর থেকে তানজিদের ওকে দেখলে ল'জ্জা লাগে, নিজের কর্মকান্ডের জন্য অনুতপ্ত বোধ হয় ৷

তানজিদ লজ্জিত ভঙ্গিতে মাথা চুলকে বলল,, কাজের চাপ মনে হয় মস্তিষ্কে পড়েছে তাই ভুলভাল বলে ফেলেছি ৷

রাইসা মুচকি হেসে বলল,,, ঠিক আছে সমস্যা নেই ৷ একচুয়েলি আমি আমার স্বামীর বাইক ছাড়া অন্য কারো বাইকে উঠব না ৷

তানজিদ কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল ৷ চাঁদের আলোয় রাইশার হাস্যজ্জ্বল মুখটার দিকে কয়েক মূহুর্ত একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল ৷ ওকে চুপ থাকতে দেখে রাইশা ওর সামনে চুটকি বাজিয়ে বলল,,,

কোথায় হারিয়ে গেলেন মিস্টার চিরকুমার ভাইয়া?

তানজিদের ঘোর কেটে গেল ৷ কিছুক্ষণ আগে নিজের করা কর্মকান্ডের কথা ভেবে নিজের প্রতি প্রচন্ড বিরক্তবোধ করল ৷ নিজেকে সামলে নিয়ে তানজিদ বলল,

ঠিক আছে আপনার যা ইচ্ছা তবে এতো রাতে আপনাকে আমি একা ছাড়ছি না ৷ তানিয়া যদি জানতে পারে ওর বেস্ট ফ্রেন্ডকে আমি রাতের বেলায় শুনশান রাস্তায় একলা ছেড়ে এসেছি তাহলে আমার সব হাড়-হাড্ডি ভেঙে ফেলবে!

ওর কথা শুনে রাইশা হেসে উঠল ৷ তানজিদ বাইক থেকে নেমে বলল,,,

চলুন হাঁটতে হাঁটতে যাই ৷

রাইশা এবার আর কোনো আপত্তি করল না ৷ দুজনে নির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে পাশাপাশি চুপচাপ হাঁটতে লাগল ৷ নিরবতা ভেঙে রাইশা বলে উঠল,,,

একটা প্রশ্ন করতে পারি মিস্টার চিরকুমার ভাইয়া? শুধুমাত্র একটা ৷

তানজিদ শীতল চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, জ্বি করতে পারেন ৷

আচ্ছা আপনি আজকে এতোটা ডিসেন্ট আচরণ করছেন কেন আমার সাথে মানে একটা মেয়ের সাথে? মেয়েদের সাথে আপনার আচরণ তো এমনটা নয় ৷

তানজিদ সামান্য হেসে বলল,,, আপনার বলা কথাগুলো সেদিন সারারাত ভেবেছি ৷ আপনি ঠিকই বলেছেন ৷ আমি মেয়েদের থেকে দুরুত্ব বজায় রাখতে গিয়ে অজান্তেই তাদের অসম্মান করে ফেলছিলাম ৷ তাই নিজেকে শুধরে নিয়েছি ৷ আমার ভুল ভাঙানোর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ৷

রাইশা মুচকি হেসে বলল,, ধন্যবাদ দিতে হবে না মিস্টার চিরকুমার ভাইয়া ৷

আবারও দুজনে চুপ হয়ে গেল ৷ রাইশা তারায় ভরা অপরুপ সৌন্দর্যের ভান্ডার আকাশের দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থেকে হাঁটতেছে ৷ তানজিদ আড় নয়নে সেটা লক্ষ্য করল ৷ বারবার চোখ শুধু রাইশার মুখমন্ডলের উপরে গিয়ে নিবদ্ধ হচ্ছে ৷ দূর থেকে একটা পেঁচার ডাক ভেসে আসল ৷ সেই ডাকে তানজিদের হুশ ফিরল ৷ ও নিজেকে ধি'ক্কার দিয়ে মনে মনে বলল,,,

স্টপ ইট ৷ কি করছিস? ভুলে যাস না তুই চিরকুমার থাকার পণ করেছিস ৷

চলবে,,,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন