#বসন্তের_দিনগুলো
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)
#পর্বঃ১৪
রাস্তা যেন আজ খুব দ্রুতই ফুরিয়ে গেল ৷ তানজিদের কাছে অন্তত এমনটাই মনে হলো ৷ রাইশাদের বাসা থেকে তানজিদদের বাসা আধাঘন্টার ব্যবধানে অবস্থিত ৷ বাড়ির সামনে আসতেই রাইশা আর তানজিদ থামল ৷ দুজনেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ৷ নিরবতা ভেঙে তানজিদ বলল,,,
আঙ্কেলের সাথে একটু দেখা করে যেতে পারি?
রাইশা তৎক্ষণাৎ জবাব দিল, কেন নয়? আসুন আমার সাথে ৷
রাইশার বাবা রমজান ইকবালের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে তানজিদ যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল ৷ রাইশা ওকে ইতোমধ্যে এক কাপ কফি বানিয়ে খাইয়েছে ৷ রাত বেশি হওয়ায় ওকে আর কেউ জোর করল না ৷ উনাদের থেকে বিদায় নিয়ে তানজিদ সদর দরজার দিকে চলে গেল ৷ রাইশাও গেল ওকে গেইট পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার জন্য ৷
গেইটের কাছে এসে তানজিদ পিছু ঘুরে রাইশার দিকে তাকিয়ে মুচকি এসে বলল,,, আসছি ৷ আবারও বলছি দ্বিতীয়বার একা বের হবেন না ৷ তানিয়া বা আমাকে ডেকে নিবেন ৷
রাইশা প্রতি উত্তরে সামান্য হেসে বলল,, জ্বি ৷ সাবধানে যাবেন তানিয়ার ভাই ৷ আপনি তো আবার কোনো ছেলে না ৷
তানজিদ হেসে উঠে বলল,, আপনি এখনও ওটা নিয়ে পড়ে আছেন?
কি করব বলুন? এমন কথা আপনার মতো মানুষের থেকে আশা করিনি তাই এই কথা আজীবন মনে থাকবে আমার ৷
তানজিদ মাথা চুলকে ল'জ্জিত ভঙ্গিতে হেসে বলল,, আচ্ছা ফি আমানিল্লাহ ৷
আরো একবার রাইশার মুখটা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে তানজিদ বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরল ৷ ওকে যতক্ষণ দেখা গেল ততক্ষণ রাইশা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকল ৷ তানজিদ অদৃশ্য হতেই রাইশা বিরবির করে বলল,,,
আজকে নতুন রুপ দেখলাম আপনার ৷ এই রুপে আপনাকে ঠিক কতটা শুদ্ধ পুরুষ লাগে সেটা কি আপনি জানেন? এতোদিন তো খারাপ ছেলে সাজার ভং ধরে ছিলেন!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
মানে দুটো ছেলে তোর পিছু নিয়েছিল কালকে!
সিনুদের উত্তেজিত হয়ে বলা কথাটা শুনে রাইশা বলল,, হ্যাঁ ৷ চিন্তার কোনো কারন নেই আয়াতুল কুরসির ম্যাজিকে আমি বেঁচে গেছি আর বাকি পথটা তো মিস্টার চিরকুমার ভাইয়া আমার সাথেই ছিলেন ৷
তানিয়া তৃপ্তির শ্বাস ফেলে বলল,, আমার ভাইটা ভালো হয়ে গেছে ৷ যদিও আগে থেকেই ভালো ছিল তবে এখন পুরো জ্যান্টলম্যান হয়ে গেছে ৷
ওর কথা শুনে তিনজনই মুচকি হাসল ৷ তানজিদের পরিবর্তনে সবাই বেশ খুশি ৷ হঠাৎ কিছু একটা খেয়াল হতেই সিনু হাসিহাসি মুখটা গম্ভীর করে রাইশার কান টেনে ধরে কর্কশ গলায় বলল,,,
আমরা কি ম'রে গিয়েছিলাম? আঙ্কেল অসুস্থ হয়েছে এটা আমাদের ফোন করে বলতে পারিসনি বে'আক্কল? সবাই মিলে একসাথে যেতাম ওষুধ কেনার জন্য তা না উনি নিজেকে হাই লেভেলের সাহসী প্রমাণ করার জন্য একা বেরিয়েছিলেন!
রাইশা বহুকষ্টে নিজের কান ছাড়িয়ে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল,,, তখন আমার মাথা কাজ করছিল না ৷ তাই ওই মুহূর্তে যা মনে হয়েছিল তাই করেছি ৷
রাইমা ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, তোর তো মাথাই নেই ৷ আর যেটা নেই সেটা কাজ করার কথা আসছে কোথা থেকে?
রাইশা কঠিন দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,মজা নিচ্ছিস আমার সাথে রাইমার বাচ্চা!
রাইমা হাই তুলে বলল,, কোনো সন্দেহ নেই ৷
তানিয়া হাত উচিয়ে ওদের থামিয়ে দিয়ে বলল,, হয়েছে বাদ দে ৷ যা হওয়ার হয়ে গেছে তবে রাইশা শোন দ্বিতীয়বার এমন ভুল করবি না ৷ সাথে সাথে আমাদের ফোন দিবি, বুঝতে পেরেছিস?
রাইশা মাথা ঝাকাল ৷ তারপর যে যার কাজে লেগে পড়ল ৷ তানিয়া বুকেট গুলো সুন্দর করে সাজিয়ে রাখছে ৷ হঠাৎ বাইরে চোখ যেতেই ওর মুখ ঝলমলিয়ে উঠল ৷ কাউকে কোনো কিছু না বলে ও দৌঁড়ে বাইরে চলে গেল ৷ রাইশা , রাইমা, সিনু হতভম্ভ হয়ে কয়েক মুহূর্ত ওকে দেখল ৷ হুশ হতেই ওরাও তানিয়ার পিছু পিছু গেল ৷
তানিয়া জোরে জোরে হাঁটতে হাঁটতে সামনের একজনকে ডাকতে লাগল, প্রেগনেন্ট আঙ্কেল? ও প্রেগনেন্ট আঙ্কেল? এই যে প্রেগনেন্ট আঙ্কেল শুনছেন?
শপ মালিক রিজাদ আলি চোখ বড় বড় করে পিছনে তাকালেন ৷ তানিয়াকে দেখতেই উনি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন ৷ প্রতিদিন বাড়ি থেকে দোয়া করে বের হন যে 'এই মেয়ের সাথে যেন কোনো মূল্যেই দেখা না হয়' ৷ এতোদিন দোয়া কাজে লাগলেও আজ সেটা কবুল হলো না ৷ রিজাদ আলি দ্রুত পালাতে ধরতেই তানিয়া উনার সামনে গিয়ে উপস্থিত হলো ৷ তানিয়া দাঁত কপাটি বের করে দারুন একটা হাসি দিয়ে বলল,,,
প্রেগনেন্ট আঙ্কেল কতদিন পর দেখা হলো আপনার সাথে! আর হ্যাঁ আমাকে দেখে ওভাবে পালাচ্ছিলেন কেন?
পালাচ্ছিলাম কি আর সাধে? আপনার থেকে গা**লি শোনার হাত থেকে বাঁচার জন্য পালাচ্ছিলাম ৷ আমাকে রেহাই দিন ৷
তানিয়া উনার কথাকে পাত্তা না দিয়ে বলল,, চুপ করুন ৷ আপনি এখন আমার সাথে আসুন তো ৷
রিজাদ আলি বি'স্ফোরিত চোখে তানিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,, কেন? আমাকে মে'রে গুম করে দিতে চান?
সেটা গেলেই দেখতে পারবেন ৷ এখন চলুন তো আমার সাথে প্রেগনেন্ট আঙ্কেল ৷
সিনুরা ওখানে গিয়ে পৌঁছাল ৷ রিজাদ আলির দিকে এক নজর তাকিয়ে সিনু বলল,, উনি কে তানি?
তানিয়া উনাকে টেনে সামনে নিয়ে যেতে যেতে বলল,, প্রেগনেন্ট আঙ্কেল ৷
সিনুরা আহাম্মক হয়ে একে অপরের দিকে তাকাল ৷ তারপর অদম্য কৌতূহল নিয়ে তানিয়ার পিছু পিছু নিজেরাও হাঁটতে লাগল ৷ তানিয়া রিজাদ আলিকে বেকারি শপে নিয়ে গিয়ে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল ৷ তারপর উনার বিপরীত পাশে একটা চেয়ার টেনে তানিয়া সেখানে বসে পড়ল ৷
সিনু, রাইমা, রাইশা কপাল কুঁচকে তানিয়ার গতিবিধি লক্ষ্য করতে লাগল ৷ তানিয়া শান্ত গলায় রিজাদ আলিকে বলল,,
আপনার সাথে কিছু জরুরি কথা ছিল আমার ৷ কথাগুলো না বললে হাশরের ময়দানে গিয়ে আমাকে হিসাব দিতে হবে ৷
রিজাদ আলি ভ্রু কুঁচকে বললেন, কি কথা?
তানিয়া লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে বলল,, আপনাকে এভাবে ব্যঙ্গ করে 'প্রেগনেন্ট আঙ্কেল' বলা আমার একদম ই উচিত হচ্ছে না ৷ যে সম্বোধনে বিপরীত পাশের মানুষটা কষ্ট পায় , বিব্রতবোধ করে তাকে সে নামে ডাকা কখনোই আমাদের উচিত না ৷ তাছাড়াও আপনার সাথে সেদিন আমি অনেক রুড ব্যবহার করে ফেলেছিলাম তার জন্য আফওয়ান আঙ্কেল ৷
রিজাদ আলি খানিকটা হতভম্ভ ই হয়ে গেলেন ৷ এমন কিছু উনি আশা করেননি ৷ তানিয়া পুনরায় বলা শুরু করল,,,
আসলে ওইদিন আপনি আমার মুড খারাপ করে দিয়েছিলেন ৷ দেখুন আঙ্কেল একটা কথা বলি , সাধারণ মানুষের হক নষ্ট করার পাপ প্রচুর তাই দ্রব্যের নায্যমূল্য নেওয়ার চেষ্টা করবেন সর্বদা ৷ অধিক মুনাফা লাভের আশায় কখনোই দাম বাড়াতে যাবেন না ৷ খেটে খাওয়া মানুষের জীবন দূর্বিষহ করে তুলছেন! খেতে বসে তাদের এক একটা দীর্ঘশ্বাস হাশরের ময়দানে আপনার পাপের পাল্লা ভারী করবে! তাই এখন থেকে নিজেকে শুধরে নিন ৷
রিজাদ আলির মুখটা অনুতপ্ততায় ছেঁয়ে গেল ৷ উনি এতোদিন লাভের আশায় চড়া দামে সবকিছু বিক্রি করতেন যা মোটেই করা উচিত ছিল না ৷ উনি অনুতাপের স্বরে বললেন,,,
বুঝতে পেরেছি মামুনি ৷ তোমার বলা কথাগুলো মাথায় রাখব ৷ তোমাকে প্রথমে ভ'য়ঙ্কর মনে হলেও তুমি আসলে অনেক ভালো একটা মেয়ে ৷
সিনুরা পাশ থেকে গর্ব করে বলল,, দেখতে হবে না বান্ধবীটা কার?
ওদের কথা শুনে রিজাদ আলি আর তানিয়া সামান্য হাসল ৷ রাইমা গলা খাকারি দিয়ে বলল,,
অনেক হয়েছে নীতি কথা ৷ আমাদের শপে আঙ্কেল প্রথমবার এসেছে খালি মুখে তো যেতে দিব না ৷
বাকিরাও ওর সাথে তাল মিলাল ৷ কেক, পেস্ট্রি, কাপকেক আরো যত কিছু ছিল সবকিছুর ই একটু একটু করে ওরা রিজাদ আলিকে খেতে দিল ৷ উনি বেশ তৃপ্তি ভরে সবকিছু খেলেন ৷ খাওয়া শেষে উনি বললেন,,,
বিল কতো হয়েছে মামুনিরা?
সিনু কপট রাগ দেখিয়ে বলল,, এসব ফর্মালিটি করতে হবে না আমাদের সাথে ৷ এটা আমাদের তরফ থেকে আপনার জন্য ছোট্ট গিফট ৷
রাইশা আরো কিছু খাবার প্যাক করে উনার হাতে দিয়ে বলল,, এই নিন এগুলো আন্টি আর আপনার বাচ্চার জন্য ৷
রিজাদ আলি নিতে না চাইলেও রাইশা জোর করে উনার হাতে দিয়ে দিল ৷ তানিয়া একটা বুকেট এনে মুচকি হেসে বলল,,,
এটা আন্টিকে দিবেন আঙ্কেল ৷ একদম ফিদা হয়ে যাবে আপনার উপর ৷
রিজাদ আলি মুচকি হেসে বুকেটটা নিয়ে নিল ৷ তারপর ওদের সাথে আরো কিছুক্ষণ গল্প করে চলে গেল ৷
মেহমেত রিজাদ আলির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে সাজিদকে বলল,, এরা কি এই লোকটাকে জিম্মি করেছিল নাকি?Whatever ভাই এখনও সময় আছে নিজের অনুভূতি পরিবর্তন কর ৷ আমার না মেনে নেওয়া ভাবী শেষে কিডন্যাপার না বের হয়!
সাজিদ গম্ভীর গলায় বলল,, লোকটাকে হাসতে হাসতে যেতে দেখার পরও এমন কথা তোর মাথায় আসল কিভাবে?
কারন ওই বে'য়াদপী মহিলা ওখানে আছে ৷
সাজিদ কোনো জবাব দিল না ৷ মেহমেত সুক্ষ্ম নজরে কিছুক্ষণ সাজিদকে দেখে বলল,, whatever তোর কি হয়েছে ভাই? সকাল থেকে দেখছি মুখটা অমাবস্যার চাঁদের মতো করে রেখেছিস ৷
কিছু না ৷
নির্জীব কন্ঠে কথাটা বলে সাজিদ কাস্টমারগুলোর দিকে এগিয়ে গেল ৷ মেহমেত ওর দিকে তাকিয়ে চিন্তিত স্বরে বলল,,,
আমার না মেনে নেওয়া ভাবীও কি ভাইকে মেনে নিল না?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
রিজাদ আলিকে বিদায় জানিয়ে তানিয়া বুকেট শপের দিকে যেতে ধরতেই রাইশা ওকে পিছু ডেকে বলল,,,
তোর মনে হয় আরো একজনের থেকে মাফ চাওয়া বাকি আছে ৷
সিনু আর রাইমাও রাইশার কথার সাথে সায় জানাল ৷ তানিয়া কিছু একটা ভেবে বলল,,,
আমিও ভেবেছি ৷ ওই ডং মানে উনার থেকেও আমার মাফ চাওয়া উচিত নয়তো হাশরের ময়দানে গিয়ে হিসাব দিতে হবে ৷
রাইমা ভাব নিয়ে বলল,, যা শুভ কাজটা সম্পন্ন করে আয় ৷ আমরা তোর পিছনে আছি ৷ তুই ওদের শপে যা আর আমরা আমাদের শপ থেকে তোর উপর নজর রাখছি ৷
তানিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল,, পিছনে কেন? আমার সাথে চল , আমি একা যেতে পারব না ৷
সিনু বলল,, আহা তানি তুই একা যা ৷ আমরা এখানে আছি তো ৷
তানিয়া কিছুক্ষণ দোনা-মোনা করে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে ওদের শপের দিকে পা বাড়াল ৷ সিনুরা ইচ্ছুক নজরে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ তানিয়া ধীর পায়ে মেহমেতের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল ৷ ও তখন কাউন্টারে কিছু হিসাব করছিল হঠাৎ তানিয়াকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে মেহমেত ভ্রু কুঁচকে মনে মনে বলল,,,
Whatever এই কালো ভুত আমার দিকে এগিয়ে আসছে কেন? ঘাড় ম'টকে দেওয়ার মতলব নেই তো আবার!
তানিয়া খুব কাছাকাছি চলে আসল ৷ মেহমেতের থেকে ওর দুরুত্ব আনুমানিক দশ হাত হবে ৷ এমন সময় অপ্রত্যাশিত ভাবে তানিয়া নিজের বোরকার সাথে উষ্টা খেয়ে ধড়াম করে মেহমেতের সম্মুখে পড়ে গেল ৷ এই ঘটনায় দুজনেই হতভম্ভ হয়ে গেল ৷ পরিস্থিতি বুঝে উঠতেই মেহমেত মনে মনে বলল,,,,
কন্ট্রোল মেহমেত কন্ট্রোল ৷ হাসিস না, এটা ব্যাড ম্যানার্স ৷ Whatever কেউ পড়ে গেলে হাসতে নেই ৷ পাপ হবে তোর ৷ হাসিস না খবরদার ৷ না হেসে উনাকে উঠতে সাহায্য কর ৷
তানিয়া নিজের কান্ডে আহাম্মক হয়ে গেল ৷ তারপর তাড়াহুড়ো করে উঠতে ধরে পুনরায় চিৎপাটাং হয়ে পড়ে গেল ৷ এবার আর মেহমেত হাসি আটকাতে সক্ষম হলো না ৷ ঘর কাঁপিয়ে পেটে হাত চেপে জোরে জোরে হাসতে লাগল ৷ তানিয়া ল'জ্জা পেয়ে দ্রুত উঠে বোরকা ঝাড়তে লাগল ৷
ওদিকে ওরা তিনজন চোখ বড় বড় করে সামনে তাকিয়ে আছে ৷ রাইমা আর রাইশা মুখে হাত চেপে হাসি আটকানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ৷ সিনু ওদের দেখে ধমকে উঠে বলল,,,
হাসছিস কেন? কেউ পড়ে গেলে হাসতে নেই জানিস না?
কথাটা ধমকের স্বরে বললেও সিনুও হাসি আটকানোর চেষ্টায় ব্যস্ত ৷ ওর কথা শুনে রাইমা হাসতে হাসতে বলল,,,
তো তুই হাসছিস কেন?
সিনু হাসি আটকে বলল,, আচ্ছা ২ মিনিট হাসি কেমন? ২ মিনিট হাসলে কিছু হবে না পরে তানিয়ার থেকে মাফ চেয়ে নিব ৷
কথাটা শেষ হওয়া মাত্র তিনজনই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল ৷ অন্যদিকে মেহমেতও এখনও হেসেই চলেছে ৷ হাসতে হাসতে ওর চোখে পানি চলে এসেছে ৷ তানিয়া কটমট দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,,
হাসি থামান বলছি ৷ হাসি থামান ৷
মেহমেত হাসি থামাতে পারছে না ৷ তানিয়া এবার গ'র্জে উঠে বলল,,, বে'য়াদব ছেলে হাসি থামান ৷ আপনি এতোটা অ'সভ্য কেন? অনেক ছেলে দেখেছি কিন্তু আপনার মতো একটাও দেখিনি!
মেহমেত হাসি থামিয়ে সুর তুলে বলল,, আকাশে তে লক্ষ তারা, চাঁদ কিন্তু একটাই রেএএএএএএএএএ ৷ Whatever ওই চাঁদটাই আমি ৷ সো আমার মতো অন্য কাউকে দেখার কথাও না ৷
তানিয়া টিটকারি মে*রে বলল,,, আপনার তথ্যে কিছুটা ভুল থেকে গেছে mr.whatever ৷ ওটা চাঁদ না, চাঁদের গায়ে যে ক'লঙ্কটা থাকে সেটাই আপনি ৷
মেহমেতের কৌতুকময় মুখটা মুহূর্তেই গম্ভীর হয়ে গেল ৷ ও ক'র্কশ কন্ঠে বলল,, প্রথমত হোয়াট ইজ mr. Whatever? দ্বিতীয়ত আপনি আবারও আমাকে অ'পমান করলেন!
প্রথমত whatever বলা আপনার মুদ্রাদোষ সো আপনার নাম তার সাথে মিলিয়ে রাখলাম ৷ দ্বিতীয়ত হ্যাঁ করলাম কারন আপনি ওটার ই যোগ্য mr. Whatever ৷
দেখুন মিস ত্যানাত্যানা আমার খারাপ সত্ত্বাকে বাইরে আনার চেষ্টা করবেন না!whatever আপনার সাথে আমি যথেষ্ট ভালো ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি কিন্তু বারবার আপনি ই আমাকে রা'গিয়ে দিয়েছেন ৷
কি! মিস ত্যানাত্যানা! আমার নাম তানিয়া ৷
তো আমারও নাম মেহমেত নট mr.whatever ৷ আপনিও নাম দিয়েছেন তাই আমিও দিলাম ৷ শোধবোধ হয়ে গেল ৷ whatever আমি কারো ঋণ রাখতে পছন্দ করি না ৷
চলবে,,,,,