#বসন্তের_দিনগুলো
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান (সিনু)
#পর্বঃ২১
সাজিদ লাজুক হেসে সিনুর পিছন পিছন যেতে লাগল ৷ শপের ভিতরে ঢুকতেই সিনুর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল, বিরক্তিতে চোখমুখ ছেঁয়ে গেল ৷ ও অত্যন্ত ক'র্কশ কন্ঠে বলে উঠল,,,
আস্তাগফিরুল্লাহ! ছিহ! মারিয়া এসব কি হচ্ছে?
সিনুর চিৎ'কারে মারিয়া আর ছেলেটা ধড়পড়িয়ে একে অপরের থেকে ছিটকে গেল ৷ দুজনেই বেশ বি'ব্রত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে ৷ সিনু পুনরায় বলে উঠল,,,
এসব হারাম রিলেশনে জড়াতে তোমার ভয় করেনি? পা'পের কথা না হয় পরে বলি , নিজের সম্মান অন্তত রক্ষা করার কথা ভাবা উচিত ছিল তোমার ৷ পাবলিক প্লেসে এসব জিনাহ করতে একটুও ল'জ্জা করেনি? জিনাহ র শা'স্তি কতটা ভ'য়াবহ তুমি জানো না? ছিহ! আমি প্রচন্ড হতাশ ৷
সিনু রাগে গজগজ করতে লাগল ৷ মারিয়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে আর ছেলেটা সিনুর দিকে রা'গী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ সিনু বড় একটা শ্বাস ফেলে রাগ নিয়ন্ত্রণে এনে কন্ঠটা নরম করে বলল,,,
মারিয়া খারাপ ভেবো না আমাকে ৷ আমি তোমার ভালোর জন্যই বলেছি ৷ এতে আমার কোনো স্বার্থ নেই বরং এখানে তোমার স্বার্থ জড়িত ৷ সময় থাকতে এসব হারাম সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসো ৷
মারিয়া মৃদু স্বরে বলল,, আফওয়ান আপু ৷ বুঝতে পেরেছি ৷
ছেলেটা খেকিয়ে উঠে বলল,,, বুঝতে পেরেছি মানে? এই মেয়ের আজগুবি কথা শুনে তুমি আমার সাথে সম্পর্ক ভাঙবে? এই তোমার ভালোবাসা?
সিনু ওর কথার পিঠে বলে উঠল,, আর এটা আপনার ভালোবাসা? যদি সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতেন তাহলে বিয়ের আগেই অ'ন্তরঙ্গ হওয়ার কথা মাথাতেও আনতেন না!
আমার প্রেমিকার সাথে আমি যা ইচ্ছা করব তোর তাতে কি?
সাজিদ গুরুগম্ভীর ভারী নিরেট গলায় বলল,, ভাষা ঠিক করে কথা বলুন নয়তো এমন কিছু করব যেটা আপনাকে ল'জ্জায় ফেলে দিবে ৷
সাজিদের দিকে একপলক তাকিয়ে ছেলেটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে সিনুকে ব্যঙ্গ করে বলল,,, এতো যে জ্ঞান দিচ্ছিস তাহলে এতো রাতে একটা ছেলেকে ধরে এনেছিস কেন? নিজের চরিত্র খুব ভালো?
সাজিদের রাগে শিরা উপশিরা দপদপ করে জ্ব'লে উঠল ৷ ও চোখ বন্ধ করে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রা'গ সংবরণ করার চেষ্টা করতে লাগল ৷ সিনুর মেজাজ খারাপ হলেও ভদ্রভাবে উত্তর দিল,,,
পাশের শপের একজন হাত কেটে য'ন্ত্রণা পাচ্ছে , তাকে সাহায্য করা আমার একান্ত কর্তব্য ৷ অন্যের বিপদে তাকে সহায়তা করা মানবীয় গুণ ৷ তাছাড়াও মারিয়া আর নুসরাত শপে উপস্থিত আছে জন্যেই আমি উনাকে নিয়ে এসেছি নয়তো আমি একা থাকলে কখনো নিয়ে আসতাম না ৷উনাকে অন্যভাবে সাহায্য করার কথা চিন্তা করতাম ৷
মারিয়া এবার ক্ষু'ব্ধ চাহনিতে তুশের দিকে তাকিয়ে সিনুকে উদ্দেশ্য করে বলল,, আপু আপনাকে এতো কৈফিয়ত দিতে হবে না এই বে'য়াদবকে ৷ আপনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ , এর আসল রুপ আজ দেখতে পারলাম ৷ যে একটা মেয়েকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে পারে না সে আমাকে কিভাবে সুখে রাখবে? ভবিষ্যতে যে আমাকে বিয়ে করবে তার গ্যারান্টি কি?
তুশ ক্ষি'প্ত হয়ে মারিয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর গায়ে হাত তুলতে ধরতেই সাজিদ এসে ওর হাত ধরে ফেলল ৷ তারপর অত্যন্ত গম্ভীর কন্ঠে বলল,,,
অনেক স'হ্য করেছি তোর ঔ'দ্ধত্য আর না!
তোর সাহস তো কম না! এই মেয়েকে মা'রার অধিকার আমার আছে , তুই বাধা দেওয়ার কে?
বলে ও সাজিদকে মা'রতে ধরলে সাজিদ ওর নাক বরাবর একটা ঘু'ষি মা'রল যার দরুন ওর নাক দিয়ে র'ক্ত ঝড়তে লাগল ৷ তুশ ওর নাক চেপে ব্যা'থায় কা'তরাতে লাগল ৷ সাজিদ গর্জে উঠে বলল,,,
এক সেকেন্ডের মধ্যে বেরিয়ে যাবি নয়তো আরো ঘুষি তোর মুখে পরপর পড়বে ৷ আর মারিয়ার থেকে ১ কিলোমিটার হাত দুরে থাকবি নয়তো তোর মুখের মানচিত্র বদলে দিব! বেরিয়ে যাহ ৷
তুশ সবার দিকে ক্ষু'ব্ধ চাহনিতে কয়েক পলক তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে গেল ৷ ও চলে যেতেই মারিয়া চেয়ারে ধপ করে বসে কাঁদতে লাগল ৷ সিনু ওর পিঠে হাত রেখে শান্ত স্বরে বলল,,,
হয়েছে শান্ত হও ৷ দেখলে তো হারাম কাজে লিপ্ত থাকার ফল? কখনো আর এসব কাজে নিজেকে জড়িও না ৷ অযথা পা'পের পাল্লা ভারী করার কোনো প্রয়োজন নেই ৷ আল্লাহ তোমার জন্য যাকে ঠিক করে রেখেছেন সঠিক সময় হলে সে আপনাআপনি তোমার কাছে চলে আসবে ৷ অযথা হা'রাম রিলেশনে জড়িয়ে পা'প বাড়ানোর দরকার নেই ৷
মারিয়া এখনও ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতেছে ৷ ওর অবস্থা দেখে সিনু বলল,,,
আচ্ছা কাঁদো ৷ কেঁদে কেঁদে নিজের মনটা হালকা করে ফেলো ৷
বলে ও সাজিদের দিকে তাকিয়ে শুকনো হাসল , সাজিদ এতোক্ষন ওর দিকেই তাকিয়ে ছিল ৷ ঘু'ষি মা'রার কারনে সাজিদের হাত থেকে আরো বেশি র'ক্ত গড়িয়ে পড়ছে ৷ সেদিকে চোখ যেতেই সিনু ব্যস্ত হয়ে বলল,,,
এসবের মাঝে আপনার হাতের কথা তো ভুলেই গিয়েছিলাম ৷ আপনি বাইরে বসুন, আমি ফাস্ট-এইড-বক্স নিয়ে আসছি ৷
সাজিদ তৎক্ষণাৎ বাধ্য ছেলের মতো বাইরে গিয়ে বসে পড়ল ৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই সিনু ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে বাইরে চলে আসল ৷ সিনু ওর দিকে সেটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,,,
নিন ব্যা'ন্ডেজ করে নিন ৷ আপনার কি কি দরকার বলুন আমি বের করে দিচ্ছি ৷
সাজিদ আহাম্মক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,আমি এক হাত দিয়ে ব্যা'ন্ডেজ করব কিভাবে? তোমার আক্কেল কোথায় বেড়াতে গেছে?
সিনু অপ্রস্তুত হেসে বলল,, তাই তো ৷ আপনি এক হাত দিয়ে কিভাবে করবেন? এখন কি করি?
সিনু বেশ অ'স্বস্তিতে পড়ে গেল ৷ হঠাৎ সামনে তাকাতেই ও অবাক হয়ে কাউকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
আরে বল্টু এতো রাতে বাইরে কি করছিস?
১০ বছরের ছেলেটা সিনুর দিকে তাকিয়ে বলল,, আপু ঘুম আসছিল না তাই ভাবলাম একটু বাইরে থেকে মনটা শীতল করে নিয়ে আসি ৷
বল্টুর বাড়ি সিনুদের শপের সাথেই ৷ সবার সাথেই ওর ভালো সম্পর্ক ৷ সাজিদের দিকে চোখ যেতেই ও ভ্রু কুঁচকে বলল,, ভাইয়া তুমি এখানে কি করছো?
সিনুর মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি আসল ৷ সাজিদ কিছু বলার আগেই ও উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলল,,, তোকেই তো দরকার রে বল্টু ৷ এদিকে একটু আয় তো ৷ উনার হাত কে'টে গেছে ৷ আমি যেভাবে যেভাবে বলছি সেভাবে সেভাবে তুই উনার ব্যা'ন্ডেজ করে দে ৷
বল্টু সায় জানিয়ে ওদের কাছে চলে গেল ৷ সিনুর ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী বল্টু ব্যা'ন্ডেজ করে দিতে লাগল ৷ সাজিদ অবিচল দৃষ্টিতে সিনুর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ৷ আশেপাশে কি হচ্ছে সেদিকে ওর কোনো খেয়াল নেই ৷ হঠাৎ হাতে ব্যা'থা অনুভূত হতেই সাজিদ মৃদু আ'র্তনাদ করে উঠল ৷ ওর আর্তনাদে সিনু আর বল্টু দুজনেই চকিতে ওর দিকে তাকাল ৷ সিনু বিচলিত কন্ঠে বলল,,,
ব্যা'থা পেয়েছেন?
একটু ৷
বল্টুকে সাবধান করে দিয়ে সিনু সাজিদের ক্ষ'তে ফু দিতে লাগল ৷ সাজিদের ইচ্ছা করছে মুহূর্ত টাকে এখানেই থামিয়ে দিতে ৷ কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব নয় তাই কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যা'ন্ডেজ করা সম্পূর্ণ হয়ে গেল ৷ বল্টু হাই তুলতে তুলতে বলল,,,
ব্যা'ন্ডেজ করার কারনে আমার এখন প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে ৷
সিনু মুচকি হেসে বলল,, যা গিয়ে ঘুমিয়ে পড় ৷
বল্টু চলে গেল ৷ তখনই মারিয়া আর নুসরাত বাসায় যাওয়ার জন্য বেরিয়ে গেল ৷ ওদের বাড়ি অন্যদিকে নয়তো সিনু ওদের সাথেই যেতে পারত ৷ ওরা চলে যাওয়ার পর সিনু শপ বন্ধ করল ৷ সাজিদ তখনও দাঁড়িয়ে ৷ ওকে দেখে সিনু বলল,,,
আপনি এখনও যাননি?
তোমাকে এতো রাতে একা রেখে কিভাবে যাই?
সমস্যা নেই আপনি বাইক নিয়ে চলে যান ৷ আমি যেতে পারব ৷
সাজিদ নিজের ব্যান্ডেজ করা হাত উপরে তুলে বলল,, এই হাত দিয়ে বাইক চালাব?আজ মনে হচ্ছে হেঁটে যেতে হবে, এতো রাতে গাড়ি পাওয়ার কথা না ৷ তোমার থেকে লিফট নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম ৷
আমার স্কুটি বর্তমানে গ্যারেজে আছে তাই লিফট দেওয়া সম্ভব না ৷ অবশ্য থাকলেও আপনাকে লিফট দিতাম না ৷
সাজিদ বিরবির করে বলল,, কিন্তু আমি দিতাম ৷
সিনু ভ্রু কুঁচকে বলল,, কিছু বললেন?
সাজিদ মাথা ঝাকিয়ে বলল,, না তো ৷
সিনু হতাশার শ্বাস ফেলে বলল,, আমাকেও মনে হচ্ছে আজ হেঁটেই যেতে হবে ৷
সাজিদ মনে মনে বিজয়ীর হাসি হাসল কিন্তু উপরে গাম্ভীর্যতা বজায় রেখে বলল,, চলো তোমাকে পৌঁছে দেই ৷
যতদূর জানি আপনার বাসা তো এ পথে না প্রতিদ্বন্দ্বী সাহেব ৷
ঠিক জানো৷ তবে তোমাকে এতো রাতে একা ছাড়তে পারব না আমি ৷ তাই কোনো আপত্তি করে লাভ নেই ৷ চুপচাপ হাঁটা ধরো ৷
সিনু আর সাজিদ নির্দিষ্ট দুরুত্ব বজায় রেখে পাশাপাশি হাঁটতে লাগল ৷ দুজনেই নিশ্চুপ হয়ে আছে ৷ শুধু থেমে থেমে ওদের পায়ের শব্দ ভেসে আসছে ৷ সিনুদের বাসায় যাওয়ার পথে একটা জঙ্গল আছে ৷ দিনের বেলা অত্যন্ত মোহনীয় দৃশ্য মনে হলেও রাতে পুরো ভুতের রাজ্য বলে মনে হয় তবে সেটা শুধু সিনুর মনে হয় ৷ তানিয়াদের একটুও ভয় লাগে না এই জঙ্গলকে ৷
জঙ্গলের কাছাকাছি আসতেই সিনুর ভয়ে গলা শুকিয়ে যেতে লাগল,পায়ের গতি মন্থর হয়ে গেল ৷ সাজিদ ওকে ধীরে হাঁটতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল,,,
কি হলো পায়ের গতি কমিয়ে দিলে কেন?
সিনু কাচুমাচু মুখ করে বলল,, ওই জঙ্গলের সামনে দিয়ে যেতে আমার খুব ভয় করে ৷
সাজিদ এক পলক জঙ্গলটার দিকে তাকিয়ে বলল,, এই জঙ্গলকে কেউ ভয় পায়? এর চেয়েও কত ঘন আর গহীন জঙ্গলে মেহমেত আর আমি ক্যাম্পেইন করেছি, রাতের বেলা থেকেছি , একটুও ভয় লাগেনি ৷
সিনু হা হয়ে সাজিদের দিকে তাকিয়ে বলল,, আপনারা এতো সাহস কোথায় পান? তানিয়া, রাইমা , রাইশাও ভয় পায় না ৷ তাহলে আমার এতো ভয় করে কেন? আমার সাহসগুলো কোথায় লুকিয়ে আছে?
সাজিদ বাকা হেসে মনে মনে বলল,, বউ ভীতু হলে আমার ই লাভ ৷ যাক তুমি আমার বউ হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলে ৷
কিন্তু মুখে বলল,, তোমার ভয় পাওয়ার কারন টা কি?
সিনু পর্যবেক্ষণী নজরে আশেপাশে তাকিয়ে বলল,,, যদি কোনো জ্বীন এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায় তখন?
আমি থাকতে দেখি কিভাবে তোমাকে নিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায়!
সিনু চকিতে অদ্ভুত দৃষ্টিতে সাজিদের দিকে কিছুক্ষণ তাকাল ৷ ওর বলা কথাটা সিনুর মনে ক্ষণিকের জন্য অজানা এক অনুভূতির সৃষ্টি করল ৷ পর মুহূর্তে হারিয়েও গেল ৷ জঙ্গলের সামনে আসতেই সাজিদের মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি আসল ৷ ও জঙ্গলের দিকে আঙুল তাক করে ভয় জড়ানো কন্ঠে বলল,,,,
ও-ও-ওটা কি? কে জানি এদিকে আসছে ৷
সিনু ভয়ে জমে গেল ৷ কয়েক সেকেন্ড বাকরুদ্ধ হয়ে ও জঙ্গলের দিকে তাকাল ৷ তারপর বি'কট আওয়াজে 'ভুত' বলে ও বোরকা খানিকটা উচু করে সাজিদকে রেখেই সামনের দিকে খুব জোরে দৌঁড়াতে লাগল ৷ সাজিদ পুরো আ'হাম্মক হয়ে ওর দৌঁড় দেখতে লাগল ৷ প্রায় অনেক দূর যাওয়ার পর সিনু দৌঁড় থামিয়ে পিছু ঘুরে চেঁচিয়ে বলল,,,
প্রতিদ্বন্দ্বী সাহেব দাঁড়িয়ে আছেন কেন? দ্রুত দৌঁড়ান নয়তো জ্বীনে ধরে নিয়ে যাবে ৷
সাজিদ হাসবে না অবাক হবে বুঝতে পারছে না ৷ নিজের হতভম্ভ ভাব কাটিয়ে ও ধীর গতিতে দৌঁড়ে সিনুর কাছে চলে গেল ৷ তারপর মৃদু হেসে বলল,,,
তুমি এতোটা ভয় পাবে জানলে এভাবে ভয় দেখানোর কথা ভাবতাম না! বিশ্বাস করো তোমার চিৎ'কার আর দৌঁড় দেখে জ্বীন বেচারাই হয়তো ভয়ে পালিয়েছে! আর হ্যাঁ উসাইন বোল্ট কে হারানোর সক্ষমতা তোমার আছে ৷ এতো জোরে দৌঁড়ানো কোথায় শিখেছো?
পিছনে ভুত থাকলে যে কারোর ই দৌঁড়ের গতি তরতরিয়ে বেড়ে যাবে ৷
কেউ নেই ওখানে ৷ আমি মজা করেছি ৷
সিনু কটমট দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,, রাত জন্যে বেঁচে গেলেন নয়তো আপনাকে গাছের ডালে বেঁধে রাখতাম!
সাজিদ চোখ বড় বড় করে বলল,, ভ'য়ঙ্কর পরিকল্পনা!
সিনু কোনো জবাব না দিয়ে পুনরায় হাঁটা শুরু করল ৷ সাজিদও ওর পাশাপাশি হাঁটতে লাগল ৷ বাড়ির কাছাকাছি আসতেই সিনু থেমে গেল ৷ সাজিদ ভ্রু কুঁচকে বলল,,,
থামলে যে? আবারও কোনো জঙ্গল আছে নাকি?
সিনু সামান্য হেসে বলল,, নাহ ৷ আমার বাসা চলে এসেছে ৷
সাজিদ উত্তেজিত হয়ে বলল,, কেন চলে এসেছে? কি কারনে চলে আসল?
সিনু অবাক হয়ে বলল,, কি বলছেন প্রতিদ্বন্দ্বী সাহেব? মাথা ঠিক আছে তো আপনার?
সাজিদ নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,, কিছু না ৷ ভিতরে যাও ৷
আসুন এক কাপ চা খেয়ে যান ৷ আমাকে এতো কষ্ট করে পৌঁছে দিলেন ৷
সাজিদ মনে মনে বলল,, ডাইরেক্ট জামাই হিসেবে তোমার বাড়িতে প্রবেশ করব ৷ তার আগে না ৷
মুখে বলল,, আজ না অন্য একদিন ৷ অনেক রাত হয়েছে ৷ গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো ৷
আপনিও সাবধানে যাবেন ৷ আর হ্যাঁ ওই জঙ্গলটা তাড়াতাড়ি পার হবেন নয়তো জ্বীন এসে যেতে পারে ৷
সাজিদ হেসে উঠে বলল,, আমাকে জ্বীন ধরবে না ৷ তুমি নিশ্চিন্তে বাসায় যাও ৷
জাযাকাল্লাহ আজকের জন্য ৷ ফি আমানিল্লাহ সাবধানে যাবেন ৷
ফি আমানিল্লাহ ৷
সিনু চলে গেল ৷ ও বাসার ভিতরে প্রবেশ না করা পর্যন্ত সাজিদ দাঁড়িয়ে থাকল ৷ তারপর মাথা চুলকে বলল,,, পথটা আর একটু দীর্ঘ হলে তো ক্ষতি ছিল না ৷
চলবে,,,,,,,